Breaking News

dy/dx কি

dy/dx
==========
আপনারা প্রায় সবাই এর সাথে পরিচিত। ডিওয়াই বাই ডি এক্স, রাইট? ক্যালকুলাস। কারো কাছে সে কুখ্যাত কারো কাছে বিখ্যাত….
সেটা যাই হোক, এই ক্যালকুলাসের ইম্প্লিমেন্টেশন নাই, এমন কোন ব্যাপার এই দুনিয়ায় মনে হয়নাই। কি সাইন্স, কি টেকনোলজি, কি ইঞ্জিনিয়ারিং, কি আর্টস, কি কমার্স, কি লীডারশীপ কি ম্যানেজমেন্ট ….. সব জায়গায়।
============
কিন্তু আজ আসুন দেখি কিভাবে ক্যালকুলাস আমাদের দেহের সাথে জড়িত, খুব সিম্পলে থাকবো কথা দিলাম। প্রসঙ্গ: মানুষের সুস্বাস্থ্য।
============
বাংলাদেশ সহ সারাদুনিয়ায় যত অসুখ বিসুখ মৃত্যু হচ্ছে, সবকিছুর জন্য মূলত দায়ী এই ‘dy/dx অব …..’ ক্যান ইউ ইমাজিন?
===========
ইভেন টেরোরিজম (!!) দ্বারা যত মানুষ মারা যাচ্ছে, তার চে কয়েক হাজারগুন বেশী মানুষ মারা যাচ্ছে ওই ‘dy/dx অব …..’ এর কারণে, চিন্তা করতে পারেন?
==============
‘dy/dx অব ….. কি? ‘
=============
তা বলার জন্যই এই পোস্ট।
মনে করেন, আমেরিকার শতকরা ২৫ ভাগ মানুষের মৃত্যু হয় হার্ট এটাক হয়ে…. চিন্তা করেন ৩০ কোটির মধ্য ৬-৭ কোটি মারা যায় হার্ট ব্লক হয়ে, আর বাকিরা ডায়াবেটিস-লিভার-কিডনী-ব্রেন ডিসিজ …. হয়ে। অথচ সবাই টেরোরিজম নিয়ে চিন্তিত ….ইদানিং বাংলাদেশেও শুরু হয়েছে।
==========
কিন্তু এর সাথে dy/dx এর কি সম্পর্ক?
সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতেই তো এই পোস্ট।
========
মনে করেন আপনি চর্বি বডিতে ইনপুট দিচ্ছেন। মানে খাচ্ছেন। চর্বির মধ্যে কোন ফাকে এলডিএল কোলেস্টেরল ঢুকে পড়ছে, আপনি হিসাব করতেছেন না।
”ডি (এলডিএল এন্ট্রি)/ ডি ( সময়)” যদি হিসাব করতেন, তাহলে দেখতে পেতেন, আপনার বডিতে আপনি বেশী এলডিএল ইনপুট দিচ্ছেন, অল্প সময়ে। মানে এক মাসেই মনে করেন ৫০০ গ্রাম।
বেশী এলডিএল ইনপুট দিলে কি হবে? ” ডি (এলডিএল জমা)/ ডি (টাইম)” বেড়ে যাবে। মানে এলডিএল, রক্তের মধ্যে ঘুরাঘুরি করবে , আর শরীরে জমবে। কারো শরীরে বেশী জমে, কারো কম জমে।
জমবে তো জমবে একদম হার্টের আর্টারীর মধ্যে গিয়ে জমবে, এই হলো প্রবলেম। মাত্র ১৫ – ২০ গ্রাম জমলেই হার্ট ব্লক হয়ে আপনি মরবেন, বুজ্ছেন? সামান্য একটু জমলেই ব্লক হবার জন্য হয়ে যায়। আর ভুড়ির কথা তো বাদ দিলাম।
=========
ধরেন ,
আপনি বডিতে সুগার ইনপুট দিচ্ছেন। “ডি(সুগার এন্ট্রি/ ডি(সময়) ” অনেক বেশী। মানে মাত্র ১ মিনিটে এক গ্লাস শরবত খেয়ে ফেললেন, ৪০০ ক্যালরী। ইমিডিয়েট তা রক্তের মধ্যে চলে গিয়ে আপনার ব্লাড সুগার ২৫ মিগ্রা/ডিএল করে দিলো, আপনি তো শেষ.. ..। শরীরের প্রতিটা কোনায় কোনায় সুগার জমে এখন আপনার প্রতিটা অর্গান নষ্ট হবে, হার্ট-লীভার-কিডনী-চোখ-কান-মাথা- চুল থেকে পা পর্যন্ত …. আপনি পঙ্গু। আল্লাহ না করুক।
তাই আপনাকে ভাত-রুটি এসব খেতে হবে। তাহলে ”ডি(সুগার এন্ট্রি)/ডি(সময়) ” অনেক কম হবে। কারণ এগুলো বডি হজম করতে দেরী করে, তাই আস্তে আস্তে বডি সুগার পায়। ব্লাড সুগার লেভেল ৬ মিগ্রা/ডিএল এই থাকে, যেটা নরমাল।
============
মনে করেন, আপনি মাংস বেশী খান, তাহলে “ডি ( ইউরিক এসিড) / ডি ( সময়) বেশী হয়ে যাবে, তাহলে আপনার কিডনীর বারোটা। হাতে পায়ের জয়েন্টে ইউরিক এসিড জমে আপনার হবে বাতের ব্যাথা। কিডনী নষ্ট….
=========
মনে করেন, আপনি ফলমূল-শাকসবজি বেশী খান, তাহলে “ডি (পটাসিয়াম ইনপুট)/ ডি(সময়) অনেক বেশী হয়ে যাবে। তখন পটাসিয়াম বডিতে বেশী জমবে। আপনার কিডনী এত পটাসিয়াম ছাকতে পারবেনা, কিডনী নষ্ট অথবা হার্ট বীট বন্ধ হয়ে আপনি মরবেন, আল্লাহ না করুক।
যদি লবণ (সোডিয়াম) বেশী খান? সোডিয়াম বেশী হয়ে প্রেসার বেশী হয়ে যাবে। তারপর আপনি শেষ।
=========
উপরোল্লিখিত খাবার গুলো কম খেলে আবার অপুষ্টিতে ভুগবেন। তবে নরমালী আমরা অনেক বেশী খাই, তাই অপুষ্টি নিয়ে চিন্তান্বিত হবার কিছু নেই।
আসলে আমরা সবাই বেশী খাবার জন্য হার্ট-কিডনী ড্যামেজ হয়ে মারা যাচ্ছি। আমরা আসলে বেশী খাই। বাইপ্রডাক্ট হিসেবে আল্লাহ হয়তো আমাদের ভুড়ি দান করেন। ভুড়ির থেকেও বড় কথা হল, আমাদের অর্গানগুলো কিন্তু ধীরে ধীরে নষ্ট হচ্ছে বেশী খাবার জন্য। আমরা কিন্তু দিন দিন অসুস্থ হচ্ছি, এফিশিয়েন্সী কমতেছে। কাজেই আসেন সিরিয়াস হই, খাবার কন্ট্রোল করেই সুস্থ থাকি, জাস্ট বাচ্চাদের মতন সুস্থ হয়ে যাই।
আসলে ক্যালকুলাসকে এমনিই আনছি। নতুনত্ব দেবার জন্য। আর কত ওই এক ‘মেদ-ভুড়ি কি করি’ বলবো? মানুষ ত্যক্ত হয়ে গেছে। আমি নিজেও একটু হইছি , সত্যী কথা।
বাই দ্য ওয়ে, মেদ ভুড়ি না হয়েও কিন্তু আপনি অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন, যদি ফুড মেইন্টেইন না করেন। সিক্স প্যাক নিয়েও হার্ট ব্লক হচ্ছে অনেকের, ডায়াবেটিস হচ্ছে, কিডনী নষ্ট হচ্ছে। কাজেই চিন্তার ব্যাপার আছে কিন্তু। মেদ ভুড়িই শেষ কথা না। সুস্থতা হল শেষ কথা।
সুতরাং আমাদের একটা ব্যালেন্সড ডায়েট মেইন্টেইন করতে হবে, সারাজীবন।
=========
সাধারণ ভাবে যদি ক্যালরী হিসাব করে খান, তাহলে আপনি কিছুটা সেইফ।
এখন এক্সাক্টলী হিসেব করে খেতে জাতি পারবেনা, কাজেই আনুমানিক কিছু হিসাব দিচ্ছি, একটা ব্যালান্সড ডায়েট করে। আসুন ডায়েট প্ল্যান দেখি। ব্যাখ্যা সহ।
যদি এই ডায়েট ফলো করেন, ইনশাআল্লাহ সুস্থ থাকবেন।
মনে রাখবেন, উদ্দেশ্য হল এমন বস্তু খাওয়া, যা পেটে অনেক ক্ষণ থাকবে , ক্ষুধা লাগবেনা, কিন্তু আবার ক্যালরীও কম হবে। আবার তা শরীরের জন্য ক্ষতিকরও হবেনা।
==========
ডায়েটের স্পেশাল কিছু বস্তু আগে দিতে চাই:
=========
ক. ডিম। আগের রিসার্চ বলতো যে ডিমের কুসুম খারাপ, ওতে নাকি কলেস্টেরল থাকে। বর্তমান রিসার্চ বলে ডিমের কুসুম খেলে কোন প্রবলেম নাই। কারণ ওই কলেস্টেরল হল ডায়েটারী কোলেস্টেরল, এলডিএল না, মানুষকে ডিম খাইয়ে টেস্ট করছে, এলডিএল বাড়ে না। কাজেই ডিম সিদ্ধ, কুসুম সহ খেতে অসুবিধা নেই। ইউএস, ইউকে, অসি – সব হেলথ জার্নালে দিনে ২-৩-৪ টা পর্যন্ত ডিম এলাউড বলা আছে।
খ. ভাত বা রুটি। আমরা যেই ভাত-রুটি খাই, সেটা কিন্তু অরিজিনাল না। মিলে ভাঙ্গা রাইস খাই আমরা। নাজিরশাইল-মিনিকেট বা অন্যান্য। ওরা মিলে রাইসের উপরের লাল কভারটা ফেলে রাইস গ্রেইন ( চালের দানা টা) খুব চিকন করে।
কাজেই আসলে আমরা চালের ভিতরের গোড়ার দিকটা খাই। উপরের পেরিমিটার এর অংশটা ফেলে দি। কিন্তু ওর মধ্যে ই আসল জিনিস আছে।
যদি আপনি পুরো ভাত, উপরের লাল কভার সহ খান, যেটা আমাদের বাপ-দাদা-নানা-নানী-দাদী রা খেতো, তাহলে আপনি বেশ কিছু ভিটামিন পাবেন এবং সুগার (স্টার্চ) কন্টেন্ট কম পাবেন ( প্রায় ৩০% কম)। কাজেই আপনি ৩০% বেশী খেলে সেই সুগার কন্টেন্ট পাবেন। আর এটা হজমে দেরী হয়, তাই ক্ষুধা দেরীতে লাগবে।
কাজেই লাল কভারের রাইস বা ব্রাউন রাইস খান। যদি পারেন, না পারলে আর কি হবে? পেটলা হতে দেরী নাই ভাই।
একই কথা আটার ক্ষেত্রেও। লাল আটা হল আসল আটা। ওই আটার রুটি ক্যালরী কম কিন্তু পেটে থাকে।
এগুলো সুপার শপে পাবেন হয়তো বাংলাদেশে। আর সুপার শপ বাদ দিলে, রাইস মিলে গেলেও পাবেন। ওদের বলবেন, যেন ধান পুরো না ভাঙ্গে, লাল অংশটা রেখে আপনাকে দেয়। ওরা খুশী হয়ে দেয়া উচিত, দাম কম হওয়া উচিত। বিভিন্ন রেশনের দোকানে ও পেতে পাবেন । এখনও বাংলাদেশে এভেইল্যাবল। দাম বেশী হবার কথা না।
লাল ভাত-লাল আটা : আমাদের বাপ দাদারা খেয়ে আসছে। খেতে একটু কম স্বাদ হতে পারে, কিন্তু পরে সয়ে যাবে। মনে রাখবেন, সুস্থতা হল আসল।
মিনিকেট নাজির শাইল ১০০ গ্রাম ভাত ১৩০ ক্যালরী, আর ব্রাউন রাইস হলে, ১০০ গ্রামে ১০০ ক্যালরী।
গ. শশা – গাজর : দুইটা চ্রম ফল। ক্যালরী খুব কম। কিন্তু পেটে দিলেই পেট ভরে যায়। মাথায় রাখুন। পেয়ারা, আামড়া, পানি ফল কেও বাদ দিবেন না। যেসব ফল-সবজি মানুষ খেতে চায়না, কমার্শিয়ালী বানায়না, সেগুলো ফরমালীন দেয়না কিন্তু। তাই এগুলা একটু সেইফ বাংলাদেশে।
ঘ. টোস্ট বিস্কুট। ( মিষ্টি গুলো না, নরমাল গুলো )। একটা টোস্ট বিস্কুট মাত্র ৫০ ক্যালরী, কিন্তু শক্ত হওয়ায় অনেক্ষণ পেটে থাকে।
ঙ. বর্জন করতে হবে: গরুর-খাসীর চর্বি, চিংড়ী মাছ। কোলেস্টেরলের মূল উৎস। চিটাগাঙ এর সবাই সমানে গরু খায়, সমানে হার্টের প্রবলেম। তবে গরু-খাসীর পিউর মাংস হলে খাওয়া যাবে। মাংসে সমস্যা না, চর্বিতে সমস্যা। ঝোল খাওয়া যাবেনা, কারণ ঝোলে সয়াবীন তেল আছে। তবে গরুর মাংসে কিন্তু ফাকে ফাকে চর্বি থাকে, কাজেই এভয়েড করাই বেটার। মুরগীর মাংসে সমস্যা নাই। কিন্তু মুরগীর চামড়া+গিলাকলিজা হল পিউর বিষ, কোলেস্টেরলে ভরা।
চ. খুব কমাতে হবে: সয়াবীন তেল। সবাই গরু-খাসীর চর্বির দিকে নজর দেয়। কিন্তু ভুলে যায় তেলের কথা। সয়াবীন তেলের ১৫% ই কিন্তু বাজে কোলেস্টেরল। যদিও উদ্ভিজাত, কিন্তু আসলে এটা খুব খারাপ বডির জন্য। কাজেই প্রতিটা তরকারীতে সয়াবীন তেল দিতে হবে খুব মেপে মেপে। আমার হিসাব হল প্রতি লিটার তরকারীর জন্য মাত্র ৫০ এম এল, এর বেশী দরকার নাই। আমরা ১৫০-২০০ দি , নরমালী , আসতাগফিরুল্লাহ।
যদি মাসে ১ লিটার সয়াবীন খান তার মানে তার থেকে কিন্তু ২৫০ গ্রাম খারাপ কোলেস্টেরল খেয়ে ফেলতেছেন আপনি, চিন্তা করেন।
এটা একটা হিডেন এনিমি। বাংলাদেশী দের জন্য। গরু র চর্বি সম্পূর্ণ বর্জন করে যদি সয়াবীন ইনপুট কমাতে না পারেন, তাহলে কিন্তু কোলেস্টেরল কমাতে পারবেন না।
কাজেই বাহিরে যখনই খাচ্ছেন, ,রেস্তাওরায়, তেলতেলা ঝোল জাস্ট ফেলে দিবেন। সবজি খেতে চাইলেও তেল যথাসম্ভব কম খাবেন। মনে রাখবেন এটা গরুর চর্বি থেকেও ভয়ংকর, কারণ প্রতিদিন খাওয়া হচ্ছে, আস্তে আস্তে কম কম করে ডিপোজিট হয়ে বেশী হয়ে যাবে।
ডিম ভাজি এজন্য খাওয়া ঠিক না, সিদ্ধ খেতে হবে।
আমি ডিম ভাজি করে পানিতে ৩ টা চুবানি দিয়ে তারপরে খাই, সব তেল ফেলে। কারণ আমার দৃষ্টিতে তেল একটা লিকুইড বিষ, গরুর চর্বি থেকেও খারাপ।
বাই দ্য ওয়ে, বাংলাদেশে সয়াবীনের নামে হয়তো পাম তেল বিক্রি হয়, যেটা আরও খারাপ হতে পারে। আর দোকানের খোলা সয়াবীন তেল কিন্তু ১০০% স্যাচুরেটেড ফ্যাট হয়, মানে ১০০% বাজে কোলেস্টেরল ইকু্যইভ্যালেন্ট, ১৫% ফ্যাট হয় যেসব সয়াবীন ব্র্যান্ডের কোম্পানী বেচে, সেগুলার ।
আর বাহিরে যখন খাচ্ছেন, ওরা কিন্তু ওই ১০০% স্যাচুরেটেড ফ্যাটে ওয়ালা সয়াবীন দিয়ে আপনার পরোটা-সিঙ্গারা ভাজে। মানে পুরোই বিষ খাচ্ছি আমরা বাইরে। ফ্রী দিলেও খাওয়া উচিত না।
কাজেই পলাউ, পরোটা, সিঙগরা, সামুচা আজকে থেকে বাদ , বা খুব কম।
ছ. বর্জন করতে হবে: চিনি। খুব পপুলার হলেও আসলে বিশাল কেমিক্যাল প্রসেস করে চিনি তৈরী করা হয়। সুগারকেইন থেকে। এটা এক ধরনের বিষ টাইপ বন্তু। আমাদের দেহ এটা আসলে চিনেনা। আমাদের দেহ চিনে
ফ্রূক্টোজ, যেটা সুগারের একটা রুপ, যেটা ফলমূলৈ থাকে। যদিও প্রমাণিত না, তবুও বলা হয়, বর্তমান বিশ্বের যত রোগ শোক , সেটা হয়তো এই দানাদার সাদা চিনির ফল। দানাদার সাদা চিনি বডিতে দিলেই হঠাৎ বডিতে সুগার লেভেল হাই হয়ে যায়। যারা ডায়াবেটিক, তাদের বারোটা বাজে। যারা ডায়াবেটিক না, তাদের বারোটা না হলেও ১১ টা বাজে।
তাহলে সাদা চিনিকে জাস্ট খাদ্যতালিকা হতে বাদ দিয়ে দেন। এটার কোন দরকার নাই। একান্ত বাধ্য না হলে, সামাজিক কারণে, এটা খাবেন না। চা-কফি? এক চামচ মধু দিয়ে দিন, যদি বাসায় বানান।
বিয়েতে মিষ্টান্ন? বাদ বাদ, বিষ বিষ। একটা মিষ্টি- ১৫০-৩০০ ক্যালরী, আর একটা খেজুর? ১৫-২০ ক্যালরী। মিষ্টির জায়গায় খেজুর খান।
জ. এড করতে হবে: ভিনেগার + লেবুর রস ( ইচ্ছে হলে এক চামচ মধুসহ) । দিনে ২-৩ চামচ, সাথে এক গ্লাস পানি। বডি ক্লীন করে। শরীরকে ছাড়া দেয়। রসূল(স) এর প্রশংসা করেছেন।
ঝ. দুধ এ কিন্তু এলডিএল থাকে। কাজেই কম খাবেন, প্রতিদিন না। মাঝে মধ্যে হলে, ওকে।
ঞ. ডায়াবেটিস হলে সব ফলই মোটামুটি খাবার যায়, খালী মিষ্টি আম আর তরমুজ বাদ। লো গ্লাইসেমিক্স ইনডেনক্স অলা ফল: বেশী খেলেও কিছু হবেনা। হাই গ্লাইসেমিক্স ইনডেক্স হলে, খাবার যাবে, কিন্তু কম কম।
আমাদের হুজুরদের প্রিয় ফল খেজুর? এক রিসার্চ বলছে এটা লো গ্লাইসেমিক্স, আরেক রিসার্চ বলছে উল্টা টা।
আমি সুন্নাহ এর পক্ষে। ইব্রাহীমের দুয়া এই ফল। সুতরাং যে বলছে খেজুর হাই, সে বাদ।
[হাই গ্লাইসেমিক্স ইনডেক্স মানে খেলে সুগার একটু বেশী বাড়ে, এবং বিপরীতক্রমে] খেজুর খাবেন, কম কম। ৪-৫ টার বেশী না একসাথে। সুন্নাহ কম কম, এজন্য। লো- হাই হুজুর রা ডরায়না।
========
তাহলে এবার ডায়েট প্ল্যান দিচ্ছি:
১. সকালে ঘুম থেকে উঠে: চা-কফি, চিনি ছাড়া, সবোর্চ্চ এক চামচ মধু। এরপর এক গ্লাস পানিতে ২-৩ চামচ ভিনেগার দিয়ে পেটে চালান। একটু কষ্ট হতে পারে, কিন্তু খুব ফ্রেশ লাগে কিন্তু। পার্থক্যটা দিন-রাত
২. এরপর সিদ্ধ ডিম, প্লাস লাল রুটি দুইটা। সবজি মিক্স থাকতে পারে, কিন্তু তাতে সয়াবিন থাকবে খুব কম। ভাজি ডিম হলে কিন্তু পানিতে চুবাইতে হবে। পরোটা খাইছেন মানে বুকে ব্লক হচ্ছে শিউর থাকেন, ৮০ ভাগ সম্ভাবনা।
৩. ১১-১২ টার দিকে ক্ষুধা লাগে? বেছে নিন: টোস্ট বিস্কুট/শশা/ গাজর/পেয়ারা/আমড়া/খেজুর বা লালরুটি-সবজি: এর থেকে যেকোন কিছু। সিঙ্গারা-সামুচা খাইছেন মানে বুকে ব্লক হবে, ৯৫ ভাগ সম্ভাবনা। ভুড়ি হবে বোনাস।
৪. দুপুরে? ব্রাউন রাইস (লাল মোটা ভাত)/লাল আটার রুটি + সবজি-শাক-মাছ-মুরগী । ঝোল কম হবে বা হবেইনা , কারণ তেল বেশী দেয় বাঙ্‌গালী। সয়াবীন তেল থেকে কিন্তু বুকে ব্লক হয়। সাবধান। ডালে কিন্তু সমানে তেল দেয়, সাবধান। কম খাবেন। ঘরণীকে বলবেন, প্রতি লিটারে মাত্র ৫০-৬০ এম এল তেল, তার বেশী না। তোল ডাবল দিলে, ঝোল অর্ধেক খাবেন, কাটাকুটি। রুটি খেলে ভাল, ঘুম আসেনা। ভাত খেলে কিন্তু ঘুম আসে। কিন্তু বাঙ্গালী মানবেনা, তাই ভাত লিখলাম। হালকা খেলে ভাল দুপুরে, কাজ করা যায়।
৫. বিকালে? টোস্ট বিস্কুট/শশা/ গাজর/পেয়ারা/আমড়া/খেজুর , এরকম কিছু বেছে নিন।
৬. ডিনার: ব্রাউন রাইস বা লাল ভাত-সবজি-শাক-মাছ-মুরগী ।
=========
ব্রাউন রাইস কে ওটসমীল (জই) দ্বারা রিপ্লেস করতে পারেন, ওটা আরও ভাল, তবে খেতে খারাপ।
========
শাক-সবজি সব মিলে দিনে যাতে ৪০০-৫০০ গ্রামের বেশী না হয়। কারণ ওতে পটাশিয়াম খুব বেশী থাকে। দিনে পটাসিয়াম লিমিট হল ৩৫০০-৪৫০০ মিলিগ্রাম, ইউএস স্ট্যান্ডার্ড। খালী ভারী পরিশ্রম করে ঘামালে বেশী খেতে পারবেন, কারণ তখন ঘাম দিয়ে বের হয়ে যাবে।
কাচা লবণ কম খাবেন, প্রসার বেশী হয়ে গেলে পরিহার করবেন। প্রসার কমে গেলে বাড়াবেন।
দিনে মাংস+ মাছ মিলে মোট ১৫০ গ্রাম এর বেশী খেলে সেটা অপচয়। তবে কিডনী দুইটা তো, একটু বেশী খেলে তেমন কিছু হয়না আবার; কিন্তু অপচয় কেন? তবে অতিরিক্ত বেশী খেলে কিন্তু কিডনী নষ্ট হবে।
======
এই ডায়েট যদি ফলো করতে পারেন, ইনশাআল্লাহ, ভাল থাকবেন।
সবোর্মোট ক্যালরী নীড যদি আপনার ২০০০ হয়, এর কম খেলে চিকন হবেন, মেদ ভুড়ি কমবে, বেশী খেলে বাড়বে।
=====
যদি ডায়াবেটিস না হয়ে থাকে, নিজেকে ক্ষুধার যন্ত্রণা দিন। এক সময় ক্ষুধার যন্ত্রণা নরমাল হয়ে যাবে। এক সময় ক্ষুধাকে এনজয় করবেন। যখন ক্ষুধাকে এনজয় করতে পারবেন, তখনই আল্লাহকে পাবেন। ক্ষুধা ছাড়া আল্লাহকে পাওয়া কঠিন, দ্বীনকে বুঝাও কঠিন।
জোর কইরা রোজা রাইখা ক্ষুধাকে এনজয় করুন। যদি ডায়াবেটিস না হয়ে থাকে। এনজয় করুন। রুহকে তাজা করুন ক্ষুধাই রুহকে তাজা করে। আর কেউ না বুঝুক , এট লিস্ট হুজুরদের তো বুঝা উচিত।
ডায়াবেটিস হয়ে গেছে? ইভেন এটা রিপের্টেড যে টাইপ টু ডায়াবেটিস মানুষের সেরেছে, বিশেষ ক্ষেত্রে, দীর্ঘকাল সবজি বেইজড ডায়েট মেইন্টেইন করার পরে। (যদিও রেয়ার কেইস )। দুয়া করলে ইভেন আল্লাহ আপনাকে ডায়াবেটিস থেকেও মুক্তি দিতে পারেন।
হার্টে ব্লক হয়েছে? বডিতে যদি
”ইন্টোগ্রেশন{ ডি(এলডিএল কোলেস্টেরল এন্ট্রি) } *ডি (সময়) = ”জিরো”
করে রাখেন সুদীর্ঘকাল, ব্লক পর্যন্ত খুলে যাবে, আর হবেনা। কারণ জমাকৃত এলডিএল কোলেস্টেরল বডি তখন খরচ করে ফেলবে। মেডিকেল জার্নালে এটা রিপোর্টেড। সম্ভব।
আর যদি আপনি বয়সে তরুন হন, মনে করেন, আমার হার্ট-কিডনী কখনও নষ্ট হবেনা, ইচ্ছামতন খাই। তাইলে ওয়েট করেন, ৪০ এর আগেই ইদানীং হচ্ছে, সবারই হচ্ছে। হবার আগেই সাবধান হতে হয়, একবার হয়ে গেলে ঠিক করা খুব কঠিন।
যাজাকাল্লাহ।
লেখা: রেজাউল করিম ভূইয়া

Please follow and like us:

About admin

Check Also

বইঃসহজে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা (লেয়ার,ব্রয়লার ও সোনালী)।বইটি কেমন জানতে ভিজিট করুন এবং সূচী দেখুন।

সহজে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা (লেয়ার,ব্রয়লার ও সোনালী) ডা মো সোহরাব হুসান (ট্রেইনার এবং পোল্ট্রি …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »
error: Content is protected !!