১০০০ মুরগি থেকে কিভাবে মাসে ২০-৫০হাজার টাকা বেশি লাভ করা যায়।খামারিরা ঘুরে দাড়ানোর জন্য যা করতে পারে।

১০০০ মুরগি থেকে কিভাবে মাসে ২০-৫০হাজার টাকা বেশি লাভ করা যায়ীই হিসাব টা ব্রয়লারের ক্ষেত্রে তবে লেয়ারের ক্ষেত্রেও প্রায় কাছাকাছি।

১। নগদে মুরগি পালন করতে হবেঃ

বাকিতে  পালন না করলে খাবার,বাচ্চা,মেডিসিনে মাসে ১৩হাজার টাকা সেভ হবে( বাকিতে আনলে প্রতি বস্তায় ২০০-২৫০টাকা বেশি নেয়,মেডিসিনে প্রায় ২০০০-২৫০০টা বেশি নেয়,বাচ্চা ও মুরগি বিক্রিতে ১০০০-২০০০টা নিয়ে নেয়। লেয়ারে প্রতি বাচ্চাতে অনেক সময় ৩-১০টাও বেশি নেয়।

শুধু তাই নয় ডিলাররা বাকিতে বিক্রি করলে লাভ বেশি কারণ এতে ডিলার ইচ্ছে অনুযায়ী সব করতে পারে।নগদ হলে পারেনা।

যদিও সব ডিলার এক রকম না কিন্তু অনেকেই এমন করে থাকে।

সেডটা(দিক ,দূরত্ব,সেডের চারদিকে বেড়া,দেশি মুরগি,হাস,কবুতর,টার্কি থেকে দূরে রাখা,উচ্চতা,টিনের বাড়তি অংশ,যদি ঠিক মত বানায়,পর্দার ধরণ,ফ্লোর,পাত্রের উচ্চতা,ভ্যাক্সিন সিডিউল ও লিটা্রের উচ্চতা ও ধরন(তুষ,কাঠের গুড়ি,দৈনিক কাজের সিডিউল) যদি ঠিক থাকে তাহলে

২।মেডিসিন  খরচ খামারীরা মাসে হাজারে ১০-১৫ হাজার খরচ সেটা আমরা ৪-৫ হাজারে নিয়ে আসতে পারি।

রানিক্ষেত,গাম্বোরু,ব্রংকাইটিস,মাইকোপ্লাজমা ও আমাশয় হবার সম্ববনা কমে যাবে এমন কি হলেও মর্টালিটি কম হবে এবং অতিরিক্ত চিকিৎসা খরচ লাগবে না।

৩।ওজন বেশি আসবে।প্রতি মুরগিতে ১০০ গ্রাম ওজন বেশি হলে হাজারে ১০০কেজি (১০০ টাকা কেজি হলেও ১০হাজার টাকা।মিনিমাল ৫ হাজার হবে যদি ৫০গ্রাম বেশি ওজন আসে)

৪।তাছাড়া নিজে পালন করলে ১০হাজার টাকা কম লাগবে।

৫।সেডের আশ পাশে বা অন্য কোথাও সজিনা,নিম গাছ,আদা,মরিচ,তেজপাতা,রসুন কালিজিরা,বিভিন্ন সিজনাল শাক সব্জি(লালশাক,পালংশাক,ডাটা শাক,ধনিয়াপাতা,কলমিশাক,ফুলকপি,বাধাকপি,পাটশাক,পুইশাক,মূলা শাক,পেপে,লেবু) লাগাতে হবে।যার যেটা সম্বব তাই করা উচিত।

এগুলো মুরগিতে দিলে রোগ ব্যাধি কম হবে,খাবার কিছুটা কম লাগে,তাছাড়া এগুলো দিয়ে চিকিৎসা করা যায়।মেডিসিন খরচ কম লাগে।

এর মাধ্যমে ১০০০-২০০০টাকা খরচ কম লাগবে।

৬।যদি নিজে ডাক্তারের মাধ্যমে নিযে ফিড বানাতে পারেন তাহলে প্রতি বস্তায় ৩০০-৪৫০টাকা কম লাগবে মানে প্রায় ১৫০০০টাকা খরচ কমে যাবে।

তাহলে দেখা যাচ্ছে আমাদের হাতে প্রায় ৩০হাজার টাকা আছে যা আমরা বেশি লাভ করতে পারি।

এমন কি বিক্রির আগেই ১৫ হাজার লাভ করতে পারি( যদি নগদ পালি ১০হাজার+মেডিসিন খরচ কম ৫হাজার+ ফিড নিজে বানালে ১৫জাহারঃ৩০হাজার)

সবাইত আর নিজে পালন করতে পারবে না তারা ৫০০০০-১০০০০ঃ৪০হাজার টাকা সেভ করতে পারবে।

খাবার নিজে না বানালেও ৫০০০০-১৫০০০ঃ৩৫হাজার টাকা

নিজে পালন ও খাবার না বানালেও ৫০০০০-২৫০০০ঃ২৫হাজার টাকা বাচাতে পারবে।

শুধু ব্যবস্থাপনা ভাল করলেও প্রায় ১০হাজার টাকা সেভ হবে।

যাদের সম্বব তারা নগদে পালন করলে ১০০০০-১২০০০হাজার টাকা সেভ করতে হবে।

যে কোন একটা সুযোগ নিয়ে দেখতে পারেন যার যেটা সম্বব।(সব কিছু করেও অনেক সময় ভাল ফল আসে না এরই নাম ভাগ্য)

একজন ভাল ডাক্তার দ্বারা পরিচালনা ও চিকিৎসা করলে মুরগি ভাল থাকবে,মেডিসিন কম লাগবে,মর্টালিটি কম হবে।

ডাক্তারের সাথে কথা বলে বাচ্চা নিতে হবে কারণ বাচ্চা যদি খারাপ হয় তাহলে রিজাল্ট ভাল হবে না।সব কিছু ডাক্তারের নির্দেশনা অনুযায়ী করতে হবে।

প্রতি সপ্তাহেই ডাক্তারের সাথে কথা বলে নিবেন বা যখন প্রয়োজন হবে তখন।

ফার্ম করার আগে খামারী যদি অনলাইনে বাসায় বসে ট্রেনিং নিয়ে ফার্ম করে তাহলে অনেক ভাল করবে।ট্রেনিং গ্রুপে ব্যবস্থাপনার সব শিখনো হয়।

ট্রেনিং এর জন্য পোল্ট্রি খামারী ট্রেনিং গ্রুপে জয়েন করা যাবে যেখান থেকে ট্রেনিং এর পাশাপাশি পরামর্শ ও চিকিৎসা ফি পাবে।

ভর্তি ফি ৭০০টাকা।

নোটঃমুরগি,খাদ্য ও ডিমের দামের উপর আমাদের হাত নাই কিন্তু উপরের বিষয়গুলোতে আমাদের হাত আছে।

যারা লোজ ফিড বানাবে তাদের  দেখে শুনে ভাল কোয়ালিটির খাদ্য উপাদানের ব্যবস্থা করতে হবে ,তাছাড়া স্টোরেজ করে ভুট্রা রাখার ব্যবস্থা করলে ভাল হবে যখন ভুটড়া দাম কম থাকে।বিশেষ করে যাদের বাড়ি উত্তরবঙ্গে তাদের ভুট্রা ম্যানেজ করা সহজ,দাম ও কম ।

ফিড ফর্মুলা ও ট্রেনিং এর জন্য আমার  নাম্বারে যোগাযোগ করতে পারেন ০১৭১৭৩০০৭০৬।

লেয়ার,ব্রয়লার,সোনালী,কোয়েেলের ফিড ফর্মুলার জন্য যোগাযোগ করতে পারেন।প্রতিটি ফর্মুলার জন্য ৫০০টাকা

স্টাস্টার ৫০০টাকা।গ্রোয়ার ৫০০টাকা।লেয়ার- লেয়ার ৫০০টাকা।যদিও এত কম টাকায় ফর্মুলা হয় না কিন্তু ছোট খামারীর কথা চিন্তা করে এটা করেছি।

কি করা যেতে পারেঃ

খাবারের দাম অনেক বেশি

ব্রয়লারের  দাম অনেক কম

রিজেক্ট লেয়ারের দাম ও কমে গেছে।

ডিমের দাম কমে গেছে

১হাজার লেয়ার মুরগি পালন করতে সেড ও পালন খরচ(পিক প্রডাকশন) প্রায় ৯-১০লাখ টাকা

মেডিসিন ও ভ্যাক্সিনের দাম বেশি

খামারী দি্ন দিন বসে যাচ্ছে,শুধু বেকার খেটে যায়/লাভ খুব কম হয় বা হয় না।এভাবে ১০% খামারই প্রতি বছর বসে যায় আবার ১০% নতুন আসে কিন্তু ডিলার, কোম্পানি ও ডাক্তার খামারীর মত এত ক্ষতি গ্রস্ত হয় না।

যদি সম্বব হয় ট্রেনিং নিয়ে নগদে মুরগি পালন করতে হবে।নিজেই খাবার বানাতে হবে।

সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া এন্টিবায়োটিক দেয়া যাবে না।

এখন বলতে পারেন সব সময় ডাক্তার পাওয়া যায় না,আমি সব সময় আছি আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন বা অন্য কোন ডাক্তারের সাথে কথা বলে চিকিৎসা করাবেন।

Poultry Doctors BD Plus এর মাধ্যমে চিকিৎসা নিতে পারেন অথবা পোল্ট্রি খামারী ট্রেনিং গ্রুপের মেম্বার হলে পরামর্শ ও চিকিৎসা ফি পাবেন।পাশাপাশি ট্রেনিংত আছেই।এমন কি ফিড ফর্মুলাও পাবেন

সম্বব হলে কয়েকজন খামারই মিলে এন্টিবায়োটিক মুক্ত(এন্টিবায়োটিকের প্রত্যাহারকাল মেনে) ডিম ও মাংস নিজেরাই দোকান দিয়ে বা কোন প্রতিষ্ঠানে বেশি দামে বিক্রি করতে পারেন।

Please follow and like us:

About admin

Avatar

Check Also

ফার্ম মালিকের কি কি বিষয়ের খেয়াল রাখতে হয়,রেজিস্টার খাতায় কি কি বিষয় থাকা উচিত।

ফার্ম মালিকের কি কি বিষয়ের খেয়াল রাখতে হয়: ১।প্রতিদিন খাবার ও পানির হিসাব নিতে হবে ...

Translate »
error: Content is protected !!