Breaking News

সোনালী,হাইব্রিড সোনালী ও স্যাচু

এটি একটি সংকর জাতের মুরগি।অনেকে একে দেশি জাতের মুরগি বলে মনে করে।সোনলি সব আবহাওয়ার জন্য উপযোগী।উত্তর বংগে বিশেষ করে জয়পুরহাট,বগুড়া,নওগা,সিরাজগঞ্জ,রংপুর জেলায় সবচেয়ে বেশি সোনালী পালন করা হয়।

১৯৮৬ সালে FAO ও UNDP এর আওতায় কেন্দ্রীয় মুরগির খামার মিরপুর এর উপ পরিচালক আব্দুল জলিল এর নেতৃত্বে  এবং কন্সাল্ট্যান্ট ডাক্তার ওস্কার ক্যাসারস এবং মি স্টিফেন ই সোয়ান এর তত্তাবধানে প্রজনন গবেষণা করা হয়।

গবেষণার উদ্দেশ্য

অল্প খাবারে অধিক উৎপাদন ,দেশীয় আবহাওহায় উপযোগী এবং রোধ ব্যাধি কম হয় এমন জাত তৈরি

গ্রামীণ পরিবেশে ছেড়ে পালন করা যায় এবং টেকসই মুরগি তৈরি।

দারিদ্রতা দূরীকরণে অল্প বিনিয়োগে অধিক উৎপাদনশীল জাত বানানোর জন্য

ডিম ও মাংস উৎপাদনে সক্ষম জাত তৈরি।

কিভাবে জাত তৈরি করা হয়েছে

আমেরিকার আই আর আই ও মিশরের ফাউমির সাথে ক্রস করে সোনালী ব্রিড করা হয়েছে।

১৯৮৬-১৯৮৭ সালে সোনালীকে পালনের সুপারিশ করা হয়।

১৯৯২-১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড আব্দুর রহমান ও ডেনমার্কের অরহুস বিশ্বিদ্যালয়ের অধ্যাপক পল সরেন্সেন ও এফ ডল্বার্গ  এবং হেন্স এস্কব জেন্স সোনালি মুরগি নিয়ে একটি এবং ১৯৯৫সালে বি  এল আর আই এর  মাহফুজুর  রহমান সোনালী সহ আরো ৮টি ক্রস ব্রিড নিয়ে গবেষণা করেন কিন্তু সোনালিকে সবাই সিলেক্ট করে।

সোনালি মুরগির পরিচিতি ও বৈশিষ্ট্য ঃ

উৎপত্তি ঃবাংলাদেশ ,কেন্দ্রীয় মুরগি খামার(১৯৮৬-১৯৮৭)ঃমিরপুর,ঢাকা।প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর।

নামঃসোনালি

বৈশিষ্ট্য ঃ

ডিম ও মাংস উৎপাদনের জন্য।লালচে -বাদামী বা সোনালী রং এর শক্ত জাত শঙ্কর জাতের মুরগি।

গ্রামীণ পরিবেশে আধানিবিড় পদ্ধতিতে পালন করা যায়।পালকের রঙ দেখে ১মদিনেই মেল ফিমেল বুঝা যায়।

মাঝারী আকারের মুরগি।প্রাপ্ত বরস্ক মুরগির ওজন ১৬০০গ্রাম আর মোরগের ওজন ২কেজি।ইন্সেন্টিভ(নিবিড়)পালন পদ্ধতিতে বছরে ১৯০-২০০(৫৫-৬০% ডিম পাড়ে)।ডিমের ওজন ৫৫-৬০গ্রাম এবং রঙ হাল্কা বাদামী।মুরগি কুঁচে হয় না.২০-২১ সপ্তাহে ১ম ডিম দেয় এবং ৩-০-৩৫ সপ্তাহে সর্বোচ্চ ডিম দেয়।

সোনালী মুরগির জনপ্রিয়তা

১৫ বছর ধরে প্রানী সম্পদ অধিদপ্তর এর হ্যাচারী থেকে সোনালী বাচ্চা খামারীদের মাঝে দেয়া হচ্ছে।এতে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ব্যাপকভাবে সাহায্য করেছে।বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ,ব্যাংল লোন ও খামারিদের নিজ ইচ্ছায় পুঁজি বিনিয়োগ করে ফার্ম গড়ে তোলেন।অব্যাহত বাচ্চা সাপ্লাই এবং প্রানী সম্পদ অধিদপ্তরের আন্তরিকতায় শহর এলাকায় দেশি মুরগি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে ,এমন কি গ্রামে ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এবং পছন্দের তালিকায় দেশি মুরগির বিকল্প হিসেবে সোনালি মুরগি চলতেছে।

রাজশাহী বিভাগের প্রানী সম্পদ বিভাগের প্রাক্তন  উপ পরিচালক ডা মো শাহজামাল  এর প্রত্যক্ষ সহায়তায় উত্তর বংগে সোনালীর ব্যাপক বিস্তারলাভ করে।এইসব জেলায় ১৫০০০  এর বেশি সোনালী ফার্ম আছে।হ্যাচারী ৮৭টি,প্যারেন্ট স্টোক ৪৭টি   হ্যাচারী। এগুলো ছাড়াও দেশের বিভিন্থেন জেলায় আরো ৪০০ প্যারেন্ট ফার্ম আছে সেখান থেকে  বছরে ১২কোটি সোনালী বাচ্চা বের হয়।

এতে ৩০০০কোটি টাকার বিনিয়োগ এবং বছরে প্রায় ৪লাখ মানুষের কর্ম স ংস্থান হচ্ছে।

সোনালী মুরগির উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাবার কারণ

সোনালী মুরগির ১ম জেনারেশনের রিজাল্ট ভাল কিন্তু পরের জেনারেশন কেম্ন হবে তা গবেষণা করা হয় নি।

বর্ত মানে বেসরকারি পর্যায়ে অনেক সোনালী হ্যাচারী সোনালী মুরগিকে আর আই আর বা অন্য মোরগ দিয়ে  ব্যাক ক্রস করে  ২য় এমন কি ৩য় জেনারেশন তৈরি করে হাইব্রিড বা মডিফাইড সোনালী নাম দিয়ে বাজারে ছেড়েছে।ফলে আসল সোনালীকে বিপন্ন করে তুলেছে এবং উৎপাদনশীলতা কমে গেছে।  অবৈজ্ঞানিক প্রজনন ব্যবস্থা ছাড়াও ক্রমাগত আন্তপ্রজনন বা ইন ব্রিডিং এর ফলে প্যারেন্ট স্টোকে ইনব্রিডিং  ডিপ্রেশন তৈরি হ ওয়ায় পিতৃ ও মাতৃ লাইনের মোরগ মুরগির দৈহিক বৃদ্ধি,ডিম উৎপাদন ,ডিমের উর্বরতা প্রভৃতি হ্রাস পেয়েছে।

সরকারী হ্যাচারী থেকে খামারীরা একবার বাচ্চা নেয়ার পর বছরের পর বছর এই বাচ্চা দিয়ে ইনব্রিডিং করে যাচ্ছে।

কোন ফার্মেই গুনগত মানের প্যারেন্ট লাইন সংরক্ষণ করা হয় না।

তাছাড়া অপরিকল্পিতভাবে মেল প্যারেন্ট লাইন ব্যবহার  করার ফলে যথাযথভাবে জেনেটিক লিংকেজ তৈরি না হ ওয়ায় ২য় ও ৩য় প্রজম্নের উৎপাদনশীলতা ক্মে যাচ্ছে।

ডা সাইদুল হক ভাই এর লেখা থেকে হেল্প নেয়া হয়েছে(কেয়ার ফিড)

হাইব্রিড সোনালী

সোনালী মুরগির সাথে স্যাচু বা ছোট সাইজের টাইগার বা সি এফ থ্রি মোরগের ক্রস করে খামারীরা দেশীর মত এক প্রজাতি বানিয়েছে যার নাম দিয়েছে হাইব্রিড সোনালী।তবে কালার দেখে আলাদা করা যায় না।তবে ওজন নিয়ে বুঝা যায় হাইব্রিডের বাচ্চার ওজন ৪-৫গ্রাম বেশি হয়।

সোনালীর বাচ্চার ওজন ২৫-৩০গ্রাম  আর লেয়ারের হয় ৩২-৩৭গ্রাম,ব্রয়লারের ৩৭-৪২গ্রাম।

হাইব্রিড ৫৫দিনে ৪০-৪২ বস্তা খেয়ে ৮০০-৯০০গ্রাম হয় আর সোনালী ৬০ দিনে ৩৮-৪০ বস্তা খেয়ে ওজন আসে  ৭০০-৮০০গ্রাম।

হাইব্রিডের চেয়ে সোনালীর চাহিদা বেশি এবং দাম ও বেশি

স্যাচু ঃ

দেখতে দেশী বা সোনালীর মত কিন্তু ওজন আসে ব্রয়লারের মত

৩০ দিনে  ৬০০-৭০০ গ্রাম ওজন আসে ।

একমাত্র আফতাব কোম্পানী বিক্রি করে,খুলনা,সাতক্ষিরার দিকে বেশি বিক্রি করে।

আগে কাজীতে ছিল,এখন নাই।

Please follow and like us:

About admin

Check Also

খামারীদের ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে অন্য খামারী বা ডিলারের কাছ থেকে চিকিৎসা নেয়া ঠিক না।

খামারীদের ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে অন্য খামারী বা ডিলারের কাছ থেকে চিকিৎসা নেয়া ঠিক না।এমনকি অফ্লাইনেও …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »
error: Content is protected !!