Breaking News

লেয়ার মুরগির পালন খরচ৫০% প্রডাকশন পর্যন্ত(২000),ব্যবস্থাপনা সহ

সেডের মাপ

দৈর্ঘ্য ৯২ -৯৫ ফুট,প্রস্থ ২৩ -২৪ ফুট,
উচ্চতা ৮.৫ -১০ফুট.

১*৩*৬*৪*৬*৩*১ ফুট:২৪ফুট,

৩ হল সেডের ২ পাশে চলাচলের রাস্তা

৬ হল খাচার নিচে ডেইনেজ যেখানে লিটার পড়ে

৪ হল ২ পিরামিড খাচার মাঝের রাস্তা

১ হল সাইড ওয়াল

সেডের ভিতর খাবার ও ডিম রাখতে হলে,সেডের সাথে লাগিয়ে ৮ফুটের মত করে অতিরিক্ত ঘর বানাতে হবে মানে ১০০ফুটের মত জায়গা লাগবে।

খাচার মাপ

১ খাচায় ৩ টি মুরগি,১ ইউনিটে৪ টি খোপ আর প্রতিটে খোপে ৩ টি করে মুরগি থাকে ফলে ১ ইউনিটে ১২ টি মুরগি,

১ইউনিট সমান ৩ ফুট,

১০০৮টি মুরগির জন্য ৮৪ ইউনিট খাচা লাগে

প্রতি ইউনিট খাচার দাম প্রায় ১৭০০ টাকা ফলে ১০০৮ টি মুরগির জন্য যে খাচা লাগে তার দাম  ১৪২০০০ টাকা

১টা পিরামিডের ২ পাশে ২ টি লাইনে ৩*৩ করে ৬টি লাইন থাকে।

১টি খোপের মাপ

৩টি মুরগি পাশাপাশি দাড়াতে ১ফুট জায়গা লাগে মানে প্রস্থ ১ফুট,উচ্চতা পিছনে ১৭ ইঞ্চি,সামনে ১৬ ইঞ্চি,মুরগি যেখানে দাড়িয়ে থাকে সেটা ১৪ ইঞ্চি,ডিম যেখানে গড়িয়ে যায় সেখানে ৪ ইঞ্চি(১৪+৪=১৮ ইঞ্চি)

সেডের খরচ

১. পিলার ৩২টি ২৭০০০ টাকা
২.মাটিকাটা ১৩০০০ টাকা
৩. এংগেল ১২০০কেজি ৬৬০০০টাকা
৪.স্কু,রড ৬০০০ টাকা
৫.টিন ৭৭০০০টা
৬.ইট (১১০০০) ৮৫০০০টা
৭.বালি ৮গাড়ি ১৪০০০ টা
৮.সিমেন্ট ৯০ব্যাগ ৩৫০০০টা
৯.পাইপ,মটর,সেটিং ১৪৫০০টা
১০ রাজমিস্ত্রি ৪০০০০টা
১১.নেট ৪৭০০০টা(ফুল নেট,উপর থেকে নিচ পর্যন্ত)
১ পর্দা ৯০০০টা
১৩.টিন মজুরী ২৪৫০০টা

১৪.বালব,তার,সুইচ+সেটিং ১০০০০টা
১৫.টিউব ওয়েল,বালতি,মগ ৩৫০০টা
১৬.রং,তারপিন,তালা ১০০০০টা

সেডের খরচঃ ৪৮১০০০ টাকা

১৭.খাচা ২৭০০০০টা

১৮.ব্রডার,খাবার,পানির পাত্র ২০৫০০টা

১৯.ফ্যান। ২০০০০টা

২০.ট্রে ৩৫০০ টাকা

খাচা,পাত্র,ফ্যান,ব্রুডার,ট্রে সহ ৭৯৫৫০০ টাকা

২১.জেনারেটর ২৫০০০টা(অনেকে জেনারেটর ব্যবহার করেনা ৯০% খামারী)

২০.স্টোর,কর্মচারী রোম। ৭০০০০টা(নিজে পালন করলে লাগবে না)

২১.ওয়েট মেশিন ২৫০০(আধিকাংশ ফার্মে নেই)
২২.স্পে মেশিন। ২০০০(আধিকাংশ ফার্মে নেই)

কেউ যদি জেনারেটর ,স্টোর রুম,ওয়েট মেশিন ,স্প্রে মেশিন কিনে তাহলে লাগবে
মোট ৮,৯৯,৫০০টাকা.

নোট: বাশের খাচা হলে ১ লক্ষ টাকা কম
লাগবে.

নোট: কেউ ইচ্ছে করলে ৬-৭ লাখ টাকায় করতে পারবে আবার বেশি দিয়েও করতে পারে.

## ## ##
লেয়ার মুরগির পালন খরচ ২১ সপ্তাহ পর্যন্ত  (৫০% ডিম).(২০০০ মুরগি)

১ ।বাচ্চা ২১০০০০টাকা( এখানে ১০৫ টাকা রেট দেখানো হয়েছে,রেট বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম)

(এখন রেট ৩৫-৪০টাকা)
২ মেডিসিন ৭০০০০টা
৩.টিকা ৮০০০০টা
৪.কর্মচারী বেতন( 2জন) ৭০হাজার
৫.পেট্রোল৭৫০০টা
৬.বিদ্যৎ বিল। ৪০০০টা

৭.তুষ ৭০০০টা
৮.ভ্যান ভাড়া ৪০০০টা
৯.খাবার ৩৬০বস্তা ৬১২০০০টা

মোট। ১০,০৬,৪০০টা.

নোট: কেউ ইচ্ছে করলে ৮-৯ লাখেও করতে পারবে

মোট খরচ ১৬-১৭ লাখ

২০০০ মুরগির দিনে লাভ কত:

প্রডাকশন ৮০ সপ্তাহ পর্যন্ত ৮৫ ধরে কারণ প্রথম দিকে ৩০-৫০ সপ্তাহ পর্যন্ত ৯০% ধরে.

গড়ে ৮৫% ডিম মানে ১৭০০ ডিম,রেট গড়ে ৬.৫ হলে মোট :১১০৫০টাকা
বস্তা বিক্রি দিনে ৫ টি*১০:৫০টাকা

তাহলে  দিনে লাভ ১১,১০০ টাকা

খরচ:

কর্মচারী মাসে ১০০০০ দিনে ৩৩০টাকা
মেডিসিন ( টিকা,কৃমি,ওষধ) মাসে
১০০০০টাকা হলে,দিনে ৩৩০
বিদ্যুৎ মাসে ১৫০০ হলে,দিনে ৫০
খাবার ৫ বস্তা*১৬৫০:৮২৫০

টোটাল দিনে খরচ ৮৯৬০ টাকা.

অতএব দিনে লাভ ১১১০০-৮৯৬০:২১৪০ টাকা.

মুরগির বয়স ৮৫ সপ্তাহ হলে প্রডাকশন পিরিয়ড কারণ ৬০ সপ্তাহ ১ম ২৫ সপ্তাহ ডিমের বাহিরে রাখা হয়েছে ৬০সপ্তাহ*৭:৪২০ দিন(৮৫-২৫ঃ৬০সপ্তাহের ডিম হিসেব করতে হবে।১ম ২৫ সপ্তাহ আর পরের ৫ সপ্তাহ বাদ দিয়েছি)
৪২০ দিন মানে ১ ব্যাচে  লাভ ৪২০*২১৪০:৯ লাখ(৮,৯৮,৮০০টাকা)

মুরগি বিক্রি সময়-১৮০০(২০০ মুরগি মৃত ধরা হয়েছে) বাদামি  মুরগি৩০০ টাকা ধরে ১৮০০ * ৩০০:৬ লাখ ৩০ হাজার( রিজেক্ট মুরগির দাম ৩৫০-৪২০টাকা)

গ্রান্ড টোটাল লাভ: ৬ লাখ ৩০হাজার+৯ লাখ:১৫লাখ

অনেক সময় মুরগি ১০০ সপ্তাহ রাখা যায় তাতে দিনে ১০০০ টাকা হলে ১১৪০০০ টাকা,

ডিমের রেট ০.৫০ পয়সা মানে ৭ টাকা হলে ১৭০০ ডিমে ৮৫০টাকা দিনে লাভ,তাহলে ৪২০*৮৫০:৩৫৭০০০টাকা.

আবার রেট .৫০ কম হলে মানে রেট ৫.৫০ হলে ৩৫৭০০০ টাকা কম লাভ হবে

১বছর যাবত রেট ৫-৬ টাকা ছিল যা এখন ৭.৫০ টাকা

লাভ আরো যোগ হবে ১১৪০০০+৩৫৭০০০:৪,৭১,০০০।

 ২ বছরে লাভের পরিমান দাঁড়ায় :১৫ লাখ+৪ লাখ ৭১০০০: প্রায় ২০ লাখ.

১ম ব্যাচে ব্যয় ১৬-১৭ লাখ,লাভ ২০ লাখ.এতএব ১ম ব্যাচে লাভ ৩-৪লাখ

২য় ব্যাচে(সময় প্রায় ২ বছর) লাভ হবে  ২০ লাখ কারণ সেডের খরচ ৯ লাখ লাগবেনা.

# প্রডাকশন আরো বেশি থাকে,৬০ সপ্তাহ পর্যন্ত ৯০% এবং ৪৫ সপ্তাহ পর্যন্ত ৯৫%থাকে,ব্যবস্থাপনা ভাল থাকলে.এতে লাভ বেড়ে যায়.
মেডিসিনের খরচ কমানো যায় ৩-৪ হাজার টাকা.

সহজ কথায় ২০০০মুরগি পালন করলে খরচ বাদ দিয়ে দিনে লাভ থাকে গড়ে ৩৫০০টাকা কিছু কম বেশি হবে।(ডিমের রেট ৭টাকা ধরে)

আরো সহজ করে বললে ডিমের রেট ৭টাকা হলে প্রতি ডিমে লাভ ২টাকা(স্থায়ী খরচ যদি না ধরি আর যদি ধরি তাহলে ডিমে লাভ হবে ৬টাকা ।স্থায়ী খরচের জন্য ১টাকা কম হবে।

এখন ডিমের রেট ৭.৭টাকা কিন্তু বর্তমানে রোগ ব্যাধি বেশি,মুরগি টিকিয়ে রাখা কঠিন।একব্যাচে ১০ লাখ লাভ করলে পরের ব্যাচে ১০ লাখ চলে যায়,তাছাড়া রোগ ব্যাধি ছাড়া ব্যাচ কমপ্লিট করা ভাগ্যের ব্যাপার।


কেন লস হয়
১. ব্যবস্থাপনা ভাল না হলে
২. ডিমের রেট ৬ টাকার নিচে হলে এবং প্রডাকশন খারাপ হলে
৩. রোগ বালাই হলে( আই বি,ই ডি এস,টাইফয়েড,মেরেক্স,রানিক্ষত,এ আই,কলেরা।এসব রোগের কারণে হাজার হাজার খামারী ধ্বংস হয়ে গেছে।২০০০ লেয়ার প্রডাকশনে আনতে যে ৯-১০ লাখ খরচ হয়েছে তা ৭ দিনে ৫-৬লাখ টাকা শেষ হয়ে যেতে পারে)

তাই লাভের দিকে না তাকিয়ে লসের দিকে ও তাকাতে হবে।তাছাড়া অনেক সময় মুরগি রোগে আক্রান্ত হবার পর ডিম কমে ৬০-৭৫% চলে আসে ফলে মুরগি বিক্রি করতে বাধ্য হয় মানে সব শেষ।
৪. রোগ বালাই দমন করতে না পারলে
৫. ঘর ঠিক ভাবে তৈরি না করলে
৬. বর্ষা, শীত এবং গীষ্মকালে সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকেল.
৭. দক্ষতা না থাকলে
৮. ভাল কর্মচারী না থাকলে
১০. দক্ষ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া  কোয়াক দিয়ে ফার্ম পরিচালনা করলে.
১১. বাচ্চার রেট বেশি থাকলে,আগে বাচ্চা ছিল ১০ টাকা,তারপর ৩০ -৪০,তারপর ৫০-৬০, এক লাফে ১০০-১২০ টাকা,তারপর  কমে ৮০,৬০,৫০,৪০,৩০,২৫ টাকা এখন আবার  বেড়ে ৩০,৩৫,৪০টাকা
১২.খাবারের দাম বেশি এবং দাম উঠানামা করে
১৩. মুক্তবাজারনীতি মানে দামের উপর সরকারের কোন নজর নেই যে যার মত করে খাবার এবং বাচ্চার দাম বাড়ায়. তাই লসের সম্বাবনা থাকে
.১৪. আল্লাহ যদি না চায়.

সব ঠিক থাকলে লাভ অনেক,আবার ২০০০ মুরগিতে ৫-১০ লাখ টাকা লস ও হতে পারে.তাই জেনে শুনে বুঝে দক্ষ ডাক্তারের পরামর্শে ফার্ম করা উচিত.

এখানে লাভ এবং লসের গ্যাপ্টা অনেক বেশি.

খাবার এবং পানির পাত্র ও জায়গা( বয়স অনুসারে) লেয়ার মুরগি, (লিটারে)

বয়স ১ -৬ সাপ্তাহ
পানির পাত্র১টি ৫০ টির জন্য( ১ম সপ্তাহে ১০০জন্যর ১টা খাবার ও পানির পাত্র দিলেই হয়)
খাবার পাত্র ১ টি ৫০টির জন্য
জায়গা ০.৬ বগ’ফুট প্রতি মুরগির জন্য

৭- ১৮ সপ্তাহ
পানির পাত্র ১টি ৪০ টির জন্য
খাবার পাত্র ১টি ৩০ টির জন্য
জায়গা ১.৫ বর্গফুট প্রতি মুরগির জন্য
১৯ -১০০ সাপ্তাহ
জায়গা ২ ফুট ( বাদামি মুরগি) প্রতি মুরগির জন্য,
পানির পাত্র ১ টি ২৫-৩০ টির জন্য
খাবার পাত্র ১ টি ১৫ -২০টার জন্য

যারা খাচায় পালন করবে তারা ১২-১৭ সপ্তাহের মধ্যে খাচায় তুলবে,ফলে তাদের বেশি পাত্র লাগবে না.

(সব কিছু পরবর্তনশীল)

ব্রুডিং,ব্রুডিং এর উদ্দেশ্য,ভাল বাচ্চার বৈশিষ্ট্য, সুস্থ বাচ্চা কি করে,বাচ্চার টিপস,দেখুন বিস্তারিত.

ব্রুডিং:

কৃত্রিম বা প্রাকৃতিকভাবে বাচ্চা মুরগির তাপায়ন,বাতাস চলাচল,খাবার,পানি এবং সর্বোপরি ভালো আরামদায়ক অবস্থার নামই ব্রুডিং.

সাধারণত ১-৪ সপ্তাহ পর্যন্ত বাচ্চার ব্রুডিং করা হয়.বাচ্চা অবস্থায় মুরগি তাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা কারণ তাপ নিয়ন্ত্রণকারী অংগ গুলি পরিপূরণতা পায়না. মূলত ব্রুডিং কতদিন তা নির্ভর করে বাচ্চার ঘাড়ের পালকের রং দেখে, বাচ্চার পালকের হলুদ রং যতদিন না সাদা হয় ততদিন ব্রুডিং করতে হয়.

বাচ্চা মুরগির তাপমাত্রা ১০৩’ এবং বয়স্ক মুরগির তাপমাত্রা ১০৬’ ফারেনহাইট.

ব্রুডিং ঘরে লিটারের তাপমাত্রা ২৯-৩১’ সেন্টিগেট এবং আর্দ্রতা২০-২৫%.

লিটারের উচ্চতা তুষ হলে ৩-৪”(শীতে)
কাঠের গুড়া ২”(শীতে)

ব্রুডারের তাপমাত্রা

১ম সপ্তাহ ৯৫’ ফারেনহাইট
২য়        ৯০’
৩য়        ৮৫
৪থ       ৮০
৫ম       ৭৫
৬ম        ৭০’

আপেক্ষিক আর্দ্রতা
১ম সপ্তাহ -৩ সপ্তাহ ৫৫-৬০%
৩-৪ সপ্তাহ ৬০-৬৫%
৪-৫ সপ্তাহ ৬৫-৭০%

ব্রুডিং এর উপকরণ(৫০০ মুরগি)

১.চিকগাড:
বাচ্চা যাতে নিদ্ধিষ্ট জায়গায় আবদ্ধ থাকে এবং উপযুক্ত পরিবেশ পায়.

লম্বা ৩০-৩৫ ফুট,ব্যাস ১০-১২ফুট,
উচ্চতা গরমের সময় ১.৫ফূট,শীতের সময় ২.৫ ফুট,ক্ষেত্রফল ১১৩ বর্গফুট,প্রতি বাচ্চার জায়গা ০.২১৮ বর্গফুট (১ম সপ্তাহ).
৭দিন পর দিগুণ জায়গা
৭-১০দিন পর চিকগাড তুলে দেয়া যায়.

১৪দিন পর তিনগুণ,
২১-৫৭ তম দিন ০.৭৫ বর্গফুট প্রতি বাচ্চার জন্য,
৫৭দিন থেকে ১২সপ্তাহ :১বর্গফুট প্রতি মুরগির জন্য,
১২-১৬ সপ্তাহ ১.৫বর্গফুট,

ডিপ লিটার হলে ১.৮,

এবং মাচায় হলে ১.৫-১.৭ বরগবর্গফুট.

ব্রুডার  চিকথেকে ২.৫-৩ ফুট দূরে চাটাই,তারের জাল বা হাডবোড দিয়ে চিকগার্ডদেয়া হয়.

২.হোবার : তাপ যাতে উপরের দিকে না যায়
ব্যাস ৫ ফিট

৩.লিটার

৪।ব্রুডার :মুরগির ঘরের তাপের উৎসকে ব্রুডার বলে.

বৈদ্যতিক হিটার,বালব,কেরোসিন বাতি এবং গ্যাস ব্রুডার,ইনফ্রারেড বাল্ব দিয়ে ব্রুডিং করা হয়.

গ্যাস ব্রুডার দিয়ে ১০০০ মুরগি এক সাথে ব্রুডিং করা যায়.

৫.বালব:
গরমের সময় প্রতি মুরগির জন্য ২-৩ ওয়াট
কিন্তু শীতের সময় দুই থেকে তিন গুন লাগতে পারে,আবহাওয়ার উপর নিরভর করবে.
৬.খাবার পাত্র:
প্রতি বাচ্চার জন্য ৫০গ্রাম খাবার দেয়া উচিত প্রথম ২-৩ দিন যাতে সহযেই খাবার পেতে পারে.
বাচ্চার ওজনের ২০-২৫% খাবার খাবে.

পানি খাবে ওজনের ৪০-৫০গ্রাম.

এবং ৭দিনে ওজন হবে ১মদিনের ওজনের ৪-৫ গুন ।

মৃত্যহার ১ম সপ্তাহে ১% বেশি হবেনা
১তম সপ্তাহে এবং ২য় সপ্তাহে ১.৫% এর বেশি হবেনা.

প্রথম ১- ২ দিন কাগজের উপর খাবার দেয়া হয়.
৩০ ইঞ্চি লম্বা ১ টি পাত্র ৩০-৫০টি বাচ্চার জন্য.
বাচ্চা আনার পর ২-৩ ঘন্টা পানি দেয়ার পর খাবার দিতে হবে আর যদি কাছা কাছি হ্যাচারী থেকে আসে তাহলে এক সাথে কাবার পানি দেয়া যায়।

খাবার হিসেবে লেয়ার স্টাটার বা চিকব্রুস্ট বা ভুট্টার দানা বা সুজি দেয়া যায়.

ভুট্টার দানা দেয়ার নিয়ম হল

১ম দিন ১০০%
২য় দিন ৫০% দানা ৫০% লেয়ার স্টাটার বা প্রিস্টাটার
৩য় দিন ২৫% দানা ৭৫% লেয়ার স্টাটারবা প্রিস্টাটার
৪থ দিন থেকে লেয়ার স্টাটারবা প্রিস্টাটার.

অধিকংশ লোক লেয়ার স্টাটার খাওয়ায়
.
অনেকে ব্রয়লার স্টাটার খাওয়ায় তারপর লেয়ার স্টাটার খাওয়ায়.তবে ৭ দিনের বেশি ব্রয়লার খাবার খাওয়ানো ঠিক না।

কোন কোন কোম্পানির প্রিস্টাটার আছে.

এটা ও চলে.

৭.পানির পাত্র:
১ম ২৪ঘন্টায় প্রতি মুরগি ২৪ এম এল পানি পান করা উচিত.

২লিটার ধারণ ক্ষমতা ১টি পাত্র ৪০-৫০টি বাচ্চার জন্য
১ম সপ্তাহে
৫০গ্রাম চিনিবা গুড় প্রতি লিটার পানিতে ১ম দিন,
২য় দিন থেকে ১০গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে ৫ দিন.
পানিতে ১ দিন প্রবায়োটিক দেয়া উচিত.

ভিটামিন সি ১গ্রাম ৩লিটার পানিতে ৫দিন

স্যালাইন ২ দিন

এন্টিবায়োটিক লাগলে ১দিন পর থেকে দেয়া যায়.

ক.তাপমাত্রা
ফ্লোর শুকনা হতে হবে কারণ বাচ্চাদের অনেক তাপ বের হয়ে যায় যদি ভিজা ফ্লোর থাকে.
বাচ্চার শরীরে ডাউন ফেদার থাকে যা বাচ্চার তাপ ধরে রাখতে পারেনা.

র‍্যাডিয়েশন এবং কনডাকশনের মাধ্যমে তাপ বের যায়.
বাচ্চা আসার ১দিন আগে ব্রুডার জালিয়ে ঘরের তাপমাত্রা ৩০’ সেন্টিগেট করে রাখতে হবে.
কতক্ষণ আগে ব্রুডার জালাতে হবে তা নির্ভর করে এরিয়া,বাহিরের তাপমাত্রা এবং সিজনের উপর.

২৪ ঘন্টায় বাচ্চা প্রায় ১-২ গ্রাম ময়েশচার হারায় যা কুসুমের মধ্যে থাকে.

ঠান্ডায় বাচ্চারা জড়াজড়ি করে বা খাবার থেকে তৈরিকৃত তাপ দিয়ে শরীরের তাপ বজায় রাখে.

ফলে এফ সি আর কমে যায়.

আবার অতিরিক্ত গরমে বাচ্চা হাপায় এবং কম খায়,ফলে ৫-১০গ্রাম ময়েশচার হারায় প্রায় ২৪ ঘন্টায় এবং ডিহাইড্রেশন হয়.

উপযুক্ত তাপমাত্রায় ভাল ইমোনিটি এবং ভাল স্বাস্থ্য হয়।

কম তাপমাত্রায় রোগের প্রতি সেনসিটিভ হয় এবং ইমুনিটি ভাল হয়না
কেয়ারটাকারের জন্য যে তাপমাত্রা বেশি মনে হয় সেই তাপমাত্রাই বাচ্চা মুরগির জন্য ভাল.

খ.বিশুদ্ধ বায়ু
ভ্যান্টলেশন ভাল থাকলে তাপ সব জায়গায় সমান ভাবে থাকে এবং গ্যাস বের হয়ে যায়.

অক্সিজেনের  পরিমাণ ১৯.৫%

Co2 3000 পিপিএম এর কম

co এবং এমোনিয়া ১০ পিপিএম এর কম
ডাস্ট ৩.৪এম জি পার ঘন মিটার.

স্বাভাবিক co2 ৪০০ পিপিএম.

কার্বনডাই অক্সাইড বেশি হলে বাচ্চা দেয়ালের পাশে চলে যায়.

কারণ সেখানে অক্সিজেন বেশি.
এমোনিয়া ২০পিপিএম এর বেশি হলে মানুষ বুঝতে পারে কিন্তু মুরগির জন্য ১০পিপিএম ই ক্ষতিকর.
এগুলোর সাথে জীবাণূ চলে আসে ফলে সি আর ডির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়.

আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৭০% হলে ডিহাইডেশন রোধ হয় এবং শ্বাস তন্ত্র ভাল থাকে,রোগজীবাণূ আক্রমণ করতে পারেনা.

ভাল মুরগির বাচ্চার বৈশিষ্ট্য:

১.গড় ওজন ৩৩-৩৬গ্রাম (লেয়ার) ৩৮-৪০(ব্রয়লার)

২.লম্বা ১৭.৫ সে.মি

৩.ওজন এবং আকৃতিতে সমান হবে

৪.তরতরে,ঝরঝরে এবং শুষ্ক হবে

৫.কিচিরমিচির শব্দ করবে

৬.নাভীর চারিপাশ শুষ্ক এবং ডাউন ফেদারবিহীন হবে না.মানে পশম থাকবে

৭.ডাউনফেদার শুষ্ক, নরম এবং সমস্ত শরীরকে ডেকে রাখবে.

৮.বাচ্চার আচরণ হবে সতর্কমূলক এবং শব্দের প্রতি সংবেদনশীল

৯.পা এবং ঠোট কোকড়ানো এবং বাকা হবেনা

১০.পায়ুপথ শুকনা হবে

১১.হক জয়েন্ট ফোলা বা লাল হবেনা কিন্তু হলুদ হবে

১২.পায়ের অনাবৃত অংশ সচ্ছ এবং চকচকে হবে

১৩.প্রথম সপ্তাহে মৃত্যহার ১% বেশী হবে না এবং দ্বিতীয় সপ্তাহে তা ১.৫% এর বেশী হবেনা.

ব্রুডিং এর উদ্দেশ্য:

১.শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা

২.তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ  কেন্দ্রের বৃদ্ধি ঘটানো

৩.দ্রুত কুসুম শুকানোর জন্য

৪.ঠান্ডা,গরম,বৃষ্টি ও প্রতিকুল আবহাওয়া ইত্যাদি থেকে বাচ্চাকে করার জন্য.

৫.সঠিক সময়ে সঠিক শারীরিক বৃদ্ধি গঠনের জন্য

৬.রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে.

৭.ভ্যাক্সিনের প্রতি  পূর্ণ সাড়া প্রদানের জন্য

৮.ওজনের সমতা আনার জন্য

৯.অস্বাভাবিক মৃত্যহার রোধ করার জন্য.

ফার্মে মুরগির বাচ্চা কি করে:

# ২০% বাচ্চা খাবার খাবে

#২০% পানি খাবে

#২০% খেলা করবে

# ২০% বিশ্রাম করবে

#২০% কিচিরমিচির করবে

* সব জায়গায় ছড়ানু ছিটানু থাকবে*

বাচ্চা প্রতি ২৪ ঘন্টায় ২ গ্রাম করে ওজন কমতে থাকে,গরমকাল হলে পরিবহণের  জন্য আরো বেশি কমতে পারে মানে হ্যাচারিতে ওজন ৪০গ্রাম হলে ২৪ ঘন্টা পর বাচ্চা আসলে ওজন হবে ৩৮ গ্রাম.

একটি লেয়ারের আত্নজীবনী:

# ২০ সপ্তাহ পর্যন্ত খায় ৮ কেজি

#৮০ সপ্তাহ পর্যন্ত খায় ৫০কেজি ,১২০ সপ্তাহ পর্যন্ত খায় প্রায় ২ বস্তা(১০০কেজি)।

#৮০ সপ্তাহ পর্যন্ত প্রায় ২০ কেজি ডিম পাড়ে . (৩৫০-৩৬০ টি) এবং ১০০ সপ্তাহ পর্যন্ত  প্রায় ৩০ কেজি ডিম পাড়ে.

#দৈহিক ওজনের ১৫ গুন ডিম পাড়ে।

# ১২০গ্রাম খাবার খেয়ে ৬০ গ্রাম ওজনের ডিম পাড়ে.

# খাবারের ৪০% মাংস এবং ডিম তৈরিতে ব্যবহার  হয়.

#দৈনিক গ্রোয়িং পিরিয়ডে প্রোটিন লাগে প্রায় ৩গ্রাম  কিন্তু ডিম পাড়া অবস্থায় লাগে প্রায় ১৭ গ্রাম.

# গড়ে দৈনিক ওজন বাড়ে ১০ গ্রাম করে.

#প্রোটিন এবং ক্যালরির অনুপাত ১:১৭৫।
লেয়ার মুরগি:

১.ডিম পাড়া অবস্থায় খাবার হজম হতে সময় লাগে প্রায় ২.৫ ঘন্টা.
২.গ্রোয়িং পিরিয়ডে লাগে প্রায় ১০-১২ ঘন্টা.

#মুরগি দিনে প্রায় ১০০-১০৫ গ্রাম বিস্টা (feces) বের করে দেয়.
.

Please follow and like us:

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »
error: Content is protected !!