Breaking News

লবঙ্গ

লবঙ্গ (Syzygium aromaticum, অন্য নাম Eugenia aromaticum or Eugenia caryophyllata) এক প্রকারের মসলা ও ভেষজ ওষুধি। লবঙ্গ গাছের ফুলের কুড়িকে শুকিয়ে লবঙ্গ তৈরি করা হয়। খাদ্যদ্রব্যে মসলা হিসাবে এটি ব্যবহার করা হয়। লবঙ্গের আদি বাস ইন্দোনেশিয়ায়, তবে বর্তমানে এটি পৃথিবীর সর্বত্র ব্যবহৃত হয়।

লবঙ্গ একটি অতি পরিচিত একটি মসলার নাম। লবঙ্গ সাধারণত রান্নার সময় অনেকে ফোঁড়নে ব্যবহার করেন। গরম মশলার সাথেও লবঙ্গ থাকে। তা রান্নার স্বাদ বাড়ায়।

আয়ুর্বেদিক ওষুধ, রান্নার মশলা ছাড়াও এই ফুল কিন্তু পুষ্টির ‘পাওয়ার হাউজ’।লবঙ্গের ঔষধিগুণ প্রচুর। হজম এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যায় শত-শত বছর ধরে লবঙ্গ একটি কার্যকর ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন A, C, K এবং B কমপ্লেক্স।

লবঙ্গতে ২০-২৫ শতাংশ ক্লোভ তেল এবং ১০-১৫ শতাংশ টাইটার পেনিক এসিড থাকে, যার ফলে এটা খেতে ঝাঁজালো। এর আরেক নাম “লং”।আসলে “দা হেলদিয়েস্ট ফুড” এর তকমা পাওয়া লবঙ্গের শরীরে মজুত রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন কে, ফাইবার, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম এবং ক্যালসিয়াম।

আয়ুর্বেদিক রিসার্চ সেন্টার অফ মিনেসোটা’ দ্বারা প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে উল্লেখ আছে যে, লবঙ্গের যথাযথ ব্যবহার বহু রকমের রোগ থেকে মুক্তি দিতে পারে।পোল্ট্রি খামার ব্যবস্থাপনায় লবঙ্গ ভেষজ ব্যবহারে উপকারিতা রয়েছে,, চলুন জেনে নিই লবঙ্গর ঔষধি গুনাগুণ—-

🍄 পোল্ট্রির ঠান্ডা, কফ সারাতে ব্যাপক ভুমিকা রাখে এই লবঙ্গ।(১/২ চা চামুচ লবঙ্গ গুঁড়া ১ লিটার পানি ১চা চামুচ মধু।)কৃমিনাশক হিসেবেও ভালো কাজ করে লবঙ্গ।

🍄 লবঙ্গর মধ্যে থাকে প্রচুর পরিমাণ পলিফেনলস। পোল্ট্রির শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘাটতি পূরণ করে এই পলিফেনলস।

🍄 পোল্ট্রির পেটের অসুখ উপসম করে ও পেট ফাঁপা রোগ নিরাময়ে লবঙ্গ ব্যবহার খুবই উপযোগী। লবঙ্গ এনজাইম বৃদ্ধি করে বদ হজম, পোল্ট্রির খিদে না হওয়া , পেটের গ্যাস ও বায়ু, পেট ব্যথা, এমনকি কলেরা বা আন্ত্রিক রোগের সমস্যা দূর করে।

🍄 লবঙ্গ পোল্ট্রির শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদানগুলো সরিয়ে রক্তকে পরিশোধন করতে ভূমিকা রাখে। রক্তকে পরিস্কার করে।(১/২ চা চামুচ ১লিটার পানি, কমপক্ষে সপ্তাহে ৩ দিন)।

🍄 পোল্ট্রির খাবারে রুচি বৃদ্ধি করে লবঙ্গ ।বিভিন্ন রোগ বিশেষ করে পেটের রোগে এবং জ্বরে ভোগার পরে খাবারে অরুচি দেখা দেয়।

🍄 লবঙ্গ পোল্ট্রির হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে । হজমে সহায়তা করে এমন এনজাইম নিঃসরণের মাধ্যমে এবং অ্যাসিড ক্ষরণের মাধ্যমে লবঙ্গ হজম ক্ষমতা সক্রিয় করে তোলে। এটি শরীরের রক্ত প্রবাহেরও উন্নতি ঘটায়।

🍄 লং বা লবঙ্গ এর মধ্যে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিকারসিনোজেনিক, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়া, অ্যান্টিইনফ্লেমেটোরি, হেপাটো-প্রোটেক্টিভসহ আরো অনেক বায়ো অ্যাক্টিভ উপাদান পাওয়া যায়। লবঙ্গ কলেরা, যকৃতের সমস্যা, ইত্যাদি থেকে পোল্ট্রির শরীরকে রক্ষা করে।লবঙ্গের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রপাটিজ যে কোনও ধরনের জীবাণুকে মেরে ফেলতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

🍄 লবঙ্গে থাকা ভিটামিন কে এবং ই, পোল্ট্রির রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এতটাই শক্তিশালী করে দেয় যে , পোল্ট্রির শরীরে উপস্থিত ভাইরাসের জীবাণু মারা যায়। ফলে ভাইরাল ফিবারের প্রকোপ কমতে সময় লাগে না। প্রসঙ্গত, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার হয়ে যাওয়ার পর সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমে যায়।

🍄 পোল্ট্রির শরীর ও ত্বকের সংক্রমণ সারাতে কাজে আসে লবঙ্গ। আসলে লবঙ্গে উপস্থিত ভোলাটাইল অয়েল পোল্ট্রির শরীরে উপস্থিত টক্সিক উপাদানদের বের করে দেয়। সেই সঙ্গে জীবাণুদেরও মেরে ফেলে। ফলে সংক্রমণ জনিত কষ্ট কমতে একেবারেই সময় লাগে না। ঘা ,পাচড়া ও ক্ষত হতে পারে না।

🍄 লবঙ্গে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পোল্ট্রির শরীরে প্রবেশ করার পর দেহের মধ্যে উপস্থিত টক্সিক উপাদানদের বের করে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই শুধু লিভার নয়, শরীরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

🍄 লবঙ্গে উপস্থিত ফেনোলিক কম্পাউন্ড-ইউজিনল এবং ইউজিনল ডেরিভাটিভস পোল্ট্রির শরীরে প্রবেশ করার পর বোন ডেনসিটির (হাড়েঘনত্ব) উন্নতি ঘটে। এটি হাড়ের ভেতরের নানাবিধ মিনারেলের ঘাটতিও পুরণ করে।ফলে পোল্ট্রির শরীর তরতাজা থাকে ও ওজন বৃদ্ধি পায়।

⚠️⚠️সতর্কীকরণ⚠️⚠️

লবঙ্গের চূর্ণ বা গুঁড়ো ২মাসের বেশি সংরক্ষণ করে রাখা যাবে না।।এতে গুনাগুন নষ্ট হয়ে যায়।

নিয়মিত লবঙ্গের ব্যবহারের ফলে খামারে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে ব্যাপক উপকার পাওয়া সম্ভব।সবচেয়ে বড় বেপার ওষুধের খরচ কমে যাবে অধিক অংশে। লবঙ্গ ব্যবহারে পোলট্রির রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যাবে এবং সুস্থ সবল ভাবে বেড়ে উঠবে।প্রকৃতিতে সব রকম রোগের ওষুধ ই বিদ্যমান।লবঙ্গ এই গ্রহের সবচেয়ে বেশি অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল,অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট,অ্যান্টিকারসিনোজেনিক, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়া, অ্যান্টিইনফ্লেমেটোরি, হেপাটো-প্রোটেক্টিভসহ আরো অনেক বায়ো অ্যাক্টিভ উপাদান সমৃদ্ধ ভেষজ। এর ঝাঁজালো স্বাদ এবং সুন্দর সুবাসের জন্য শতাব্দীর পর শতাব্দীর ধরে প্রায় প্রত্যেক সংস্কৃতির দ্বারা সমাদৃত হয়ে আসছে।
তাই আমাদের উচিত লবঙ্গর ব্যবহার বাড়িয়ে,উপকৃত হওয়া।।

🌱🌱🌱Accept nature’s gift ,, be and keep
healthy🕊️🕊️🕊️🕊️🦋🦋🦋

Compiled and Originated by
Joya K Ahmed

Please follow and like us:

About admin

Check Also

পোল্ট্রি_ও_পাখির_জন্য_ঠান্ডা_প্রতিরোধ_ও_প্রতিকারে_ভেষজের_জাদুকরি_অবদান_ভেষজ_টনিক”

পোল্ট্রি_ও_পাখির_জন্য_ঠান্ডা_প্রতিরোধ_ও_প্রতিকারে_ভেষজের_জাদুকরি_অবদান_ভেষজ_টনিক” পশুপাখির ঠান্ডা জনিত রোগ বেশি হয় মূলত শীত ও অতিরিক্ত গরমে।গরমে সহজে ঠান্ডা সমস্যা …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »
error: Content is protected !!