Breaking News

এগ পেরিটোনাইটিস ও এগ বাউন্ড কন্ডিশনঃ

প্রজননতন্ত্র ২ভাগে বিভক্ত

১. ডিম্বাশয়

২. ডিম্বনালী

মুরগীর ডিম্বাশয়ে অসংখ্য ডিম্বানু থাকে যেটিকে ফলিকল বলা হয়।ডিমের কুসুম তৈরি হয় এই ডিম্বাশয় থেকেই।ডিমের কুসুম নির্দিষ্ট সময় পর ডিম্বনালীর মুখে পতিত হয়।ডিমের কুসুম ডিম্বনালীতে ২৪ ঘণ্টা অবস্থান করে এবং একটি পরিপূর্ণ্ ডিম তেরি হয়ে ক্লোয়াকার মাধ্যমে বের হয়ে আসে।

যদি কোন কারণে এই কুসুম ডিম্বনালীর ভেতর না পরে,পেট গহ্বরে পরে,তাহলে তাকে অভ্যন্তরীণ ডিম্বপ্রসব বলে।সাধারণত এই অবস্থায় কুসুম পেট গহ্বরে শোষিত হয়ে যায়। কিন্তু কখনো কখনো এই কুসুম পেট গহ্বরে শোষিত হয় না।যেহেতু ডিমের কুসুম ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর জন্য খুবই ভালো একটি মাধ্যম সেহেতু খুব তাড়াতাড়ি সেখানে ব্যাকটেরিয়া জন্মায়,যা পরবর্তীতে ইনফেকশন হিসেবে দেখা দেয় এবং এটিকে বলা হয় এগ পেরিটোনাইটিস।

এগ পেরিটোনাইটিস সাধারণত ডিমপাড়া মুরগীতে হয়।এক্ষেত্রে ব্রয়লার ব্রিডারে হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

কারণসমূহ: এগ পেরিটোনাইটিসের বহুবিধ কারণ বিদ্যমান।নিম্নে সেগুলো উল্লেখ করা হল:

মুরগীতে কখনও একসাথে একাধিক ফলিকল (কুসুম) পরিপক্ক হলে,কুসুম ডিম্বনালীতে পরার সময় লক্ষভ্রষ্ট হয়,যা দ্বারা এগ পেরিটোনাইটিস হয়।পুলেট অবস্থায় লাইটের তীব্রতা বেশী দেখা দিলে,মুরগী নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বেই ডিম দেওয়া শুরু করে,যা দ্বারা এগ পেরিটোনাইটিসের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।মুরগী কোন স্ট্রেসে পড়লে যেমন:কম জায়গায় বেশী মুরগী পালন,অত্যাধিক আলোক তীব্রতা,অত্যাধিক গরম ইত্যাদির কারণে এগ পেরিটোনাইটিস হতে পারে।যদি কোন কারণে মুরগীতে ব্যাকটেরিয়ার লোড বেড়ে যায়,তাহলে এগ পেরিটোনাইটিসের হার বেড়ে যায়।মুরগীর ওজন আদর্শ্ ওজনের চেয়ে অত্যাধিক বেড়ে গেলে হতে পরে।মুরগী কোন ভয়ের কারনে বেশী লাফালাফি করলে,ভিতরে কুসুম ভেঙ্গে এগ পেরিটোনাইটিস হতে পারে।

লক্ষণ সমূহ:

খাদ্যগ্রহণে অনীহা হবে।মুরগীর পালক উসকো খুসকো দেখাবে।মুরগীর পায়খানা দেখতে ডিমের কুসুমের মতো হয়ে যায়।মুরগীর পায়ুপথের অংশ ফুলে যায় এবং হাত দিলে স্পঞ্জের মত অনুভূত হয়।অনেক সময় মুরগী খোঁড়া হয়ে যায়।আক্রান্ত মুরগী হাটার সময় পেঙ্গুইনের মত দুই পা ফাঁক করে হাঁটে।ডিম পাড়ার জন্য নেস্ট বক্সের ভেতর ঢোকে কিন্তু ডিম পাড়ে না।শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে কষ্ট হয়।

প্রতিরোধ ও প্রতিকার:

বয়স অনুপাতে যে পরিমান আলোর তীব্রতা দরকার ঠিক সেই পরিমাণ আলো দিতে হবে।বিশেষ করে পুলেট অবস্থায় আলোর তীব্রতার প্রতি বেশী খেয়াল রাখতে হবে।কারণ পুলেট অবস্থায় আলোর তীব্রতার প্রতি বেশি হলে মুরগী সময়ের পূর্বেই ডিম পাড়া শুরু করবে,যাতে এগ পেরিটোনাইটিসের পরিমাণ বেড়ে যাবে।মুরগী যাতে কোন স্ট্রেসে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।মুরগীর পানিতে বা ফিডে যেন ব্যাকটেরিয়ার পরিমান বেড়ে না যায়,বিশেষ করে ই -কোলাই সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।এজন্য পানিতে ভালো মানের এসিডিফায়ার পরিমাণমতো দিতে হবে।মুরগীর ওজন আদর্শ্ ওজনের চেয়ে বাড়তে দেয়া যাবে না। বিশেষ করে ব্রয়লার ব্রিডারের ক্ষেত্রে,মুরগীর ওজন অবশ্যই নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে হবে।পোস্টমরটেম এর পর বেশি পরিমানে এগ পেরিটোনাইটিস দেখা দিলে,এন্টিবায়োটিক কালচার সেনসিভিটি টেস্ট করে,এন্টিবায়োটিক দেয়া যেতে পারে।

#এগ_পেরিটোনাইটিস
এগ পেরিটোনাইটিস লেয়ার মুরগীর একটি কমন রোগ।প্রায় প্রতি ফ্লকে ১-২% মুরগী এই রোগে মারা যায়।ইদানিং লেয়ার খামারে এগ পেরিটোনাইটিস প্রবলেমটা বেশ পাওয়া যাচ্ছে।এটি এমন একটি সমস্যা যেটি আগে থেকে তেমন একটা বুঝা যায় না।সচরাচর একটা-দুইটা করে লেয়ার মুরগী মারা যেতে থাকে বলে খামারীরাও এই সমস্যাটা নিয়ে তেমন একটা মাথা ব্যাথা দেখায় না। কিন্তু ক্রোনিক এগ পেরিটোনাইটিস বা প্রলং ইনফেকশন বা কম্বাইন্ড ডিজিজের ক্ষেত্রে (বিশেষ করে মাইকোপ্লাজমোসিস) ব্যাপক আকারে মর্টালিটি দেখা দিতে পারে।

এই সমস্যাটা ফ্লকের পুরোটা সময় জুড়েই হবার সম্ভবনা থাকে।তবে পিক প্রোডাকশনের আগে ও পরে এটি হবার সম্ভবনা সব থেকে বেশী।এছাড়া ফ্লকের শেষের দিকেও এগ পেরিটোনাইটিস হবার সম্ভবনা প্রবল।

#ফ্যাক্টর
১. বিশেষ কম ওজনের মুরগীগুলো পিক প্রোডাকশনে আসলে এই সমস্যাটা হবার ঝুকি বেড়ে যায়।

২. অালোর তীব্রতা ও পরিমান বেশী দিলে এগ পেরিটোনাইটিস হবার সম্ভবনা বৃদ্ধি পায়।

৩. ফ্লকের শেষের দিকে দুই কুসুম বিশিষ্ট ডিম দেবার পরিমান বৃদ্ধি পেলে এগ পেরিটোনাইটিস হবার সম্ভবনা বৃদ্ধি পায়।

৪. পুলেট অবস্থায় অতিরিক্ত আলো প্রদান করার ফলে যদি দ্রুত ম্যাচুরিটি এসে যায় তবে এগ পেরিটোনাইটিস হবার ঝুকি বৃদ্ধি পায়।

৫. ফ্লকে ই-কোলাই এর লোড বৃদ্ধি পেলে এগ পেরিটোনাইটিস হবার সম্ভবনা বৃদ্ধি পায়।

৬. বেশী ঘনত্বে পুলেট পালন পালন করলে এগ পেরিটোনাইটিস হবার সম্ভবনা বৃদ্ধি পায়।

৭. মুরগী ভয় পেলে বা ধকলে পড়লে এগ পেরিটোনাইটিস হবার সম্ভবনা বৃদ্ধি পায়।

#প্রতিকার
১. অালোকসূচী মেনে আলো প্রদান করতে হবে।লেয়িং অবস্থায় সর্বোচ্চ ১৬ ঘন্টা।

২. সপ্তাহ অনুযায়ী দৈহিক ওজন নিয়ন্ত্রন করতে হবে।

৩. ফ্লক ইউনিফর্মমিটি সর্বোচ্চ পর্যায়ে আনতে হবে।

৪. কম ওজনের মুরগীগুলোকে খাঁচার নিচের দিকে রাখতে হবে।

৫. আলোর তীব্রতা যেন বেশী না হয় সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।লেয়িং মুরগীর জন্য আদর্শ আলোক তীব্রতা ৪০ লাক্স।

৬. ১৫ ওয়াটের এনার্জি বাল্ব ব্যবহার করতে হবে এবং ফ্লোর থেকে নূন্যতম ৭ ফুট উচ্চতায় বাল্ব ঝুলাতে হবে।

৭. খামারের চারপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং পানি বিশুদ্ধ ও জীবানুমুক্ত করে খাওয়াতে হবে।এক্ষেত্রে পানিতে ব্লিচিং ব্যবহার করতে পারেন।

৮. সপ্তাহে তিন-চার দিন পানিতে ভিনেগার ব্যবহার করতে পারেন।

#চিকিৎসা
একবার এই রোগ হয়ে গেলে এর কোন ফলপ্রস্যু চিকিৎসা নেই।আক্রান্ত মুরগীর বেশীর ভাগই বাঁচে না। তাই প্রতিরোধই একমাত্র উপায়। তবে প্রাথমিক অবস্থায় রোগ সনাক্ত করা গেলে রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারিয়ানের কনসালটেন্সীতে এই সমস্যা থেকে মুক্তি লাভ করা সম্ভব।

কালেক্টেড

এগ বাউন্ড কন্ডিশনঃ

এটি গীষ্মকালে ও বসন্তকালে বেশি দেখা যায়

কারণঃ

ডিম্বাশয়ে প্রদাহ

অভিডাক্টে(ডিম্বনালী) আংশিক প্যারালাইসিস

বড় ডিম

মুরগি ১ম দিকে  কিছু বড় ডিম দেয় যা আটকে যায়।

লাইটিং সিডিউলে ভুল হলে বিশেষ করে আলোর তীব্রতা বেশি হলে।

ওজন কম বা বেশি

ফ্যাটি লিভার সিন্ড্রম

পুলেট ব্যবস্থপনা যদি ভাল না হয়।

পানিতে ইকলাই বেশি হলে

কৃমি হলে

জিংক,ক্যালসিয়াম,ম্যাংগানিজ ও ফসফরাসের এর ঘাটতি

অতিরিক্ত প্রোটিন

ভয় ও শব্দ বেশি হলে

লক্ষণ

পেঠ বড় ও শক্ত  হয়ে যায়

খাবার কম খায় ও শুকিয়ে যায়

ঝুটি ফ্যাকাশে হয়

পেংগুইন পাখির মত বসে থাকে

প্রতিকার

ইউনিফরমিটি ৯০% রাখা

বিশুদ্ধ পানি দেয়া

সঠিক আলোক ব্যবস্থাপনা

সুষম খাবার

চিকিৎসা

চিকিৎসায় রিজাল্ট ভাল না।

পানিতে ক্লোরিণ ও পি এইচ দেয়া

প্রবায়োটিক খাবারে দেয়া যায়

Please follow and like us:

About admin

Check Also

বাচ্চা মুরগিতে ১ম সপ্তাহে কেন রোগ কম হয়,২সপ্তাহের দিকে কেন বেশি হয়।

বাচ্চাতে ম্যাটার্নাল এম ডি এ নয়ে আসে যা প্রটেকশন দেয়।আবার ২ সপ্তাহে বা পরের দিকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »
error: Content is protected !!