Breaking News

টিপস/অভিজ্ঞতা ৩৫

(আর এন্ড ডি) ফার্ম।

টিপস ১

মুরগির মনের অবস্থা কিভাবে বুঝবো?

১৫দিন পর কক্সি হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।১ম দিকে ভাল বুঝা যায় না। যখন বুঝা যায় তখন দেরী হয়ে যায়।তাছাড়া মুরগি মারা যায় না দেখে গুরুত্ব দেয়া হয় না।কিন্তু আমি কিভাবে বুঝবো মুরগি কেমন আছে।

উপায়ঃ প্রতিদিনের খাবার হিসাব রাখবে হবে।খাবার না বাড়বে বা কমে গেলে বুঝতে হবে আমাশয় হয়েছে বা অন্য কোন সমস্যা।তখন চিকিৎসা দিলে ক্ষতি থেকে বাচা যায়।তাই খাবারের হিসাব রাখলে মুরগির মনের অবস্থা বুঝা যাবে। যেহেতু কথা বলতে পারেনা।

টিপসঃ ২ ব্যাক আপ।

সবাই ১০০০মুরগির জন্য একটা নির্দিস্ট পরিমাপে ফার্ম করে।কোন ব্যাক আপ রাখেনা।খামারীকে গরম কাল এবং ৩৩-৩৫দিন মুরগি পালন করার বিষয় মাথায় রেখে ফার্ম বড় করে বানাতে হবে।কারণ অনেক সময় দেখা যায় দাম ৩-৫দিন পর বাড়ার সম্ভাবনা থাকে তখন যদি মুরগি রেখে দিয়ে ২-২.৫কেজি করা যায় তাহলে সুবিধাটা নেয়া যায়।

তাছাড়া গরমে জায়গা বেশি দিতে হয়।

টিপসঃ৩ লিটার

লাস্টের দিকে লিটার খারাপ হয়ে যায় তখন বাধ্য হয়ে মুরগি বিক্রি করে দিতে হয় বা লিটারের জন্য ক্ষতি হয়।তাই এক হাজার মুরগির জন্য ১০০০টাকার লিটার বেশি দিলে মুরগি অনেক ভাল থাকবে এবং ওজন বেশি আসবে।

টিপস ৪(আর এন্ড ডি)

বর্তমানে প্রায় সব ফার্মে বিশেষ করে আমাদের এলাকায় মুরগির হালকা ঠান্ডা মানে কাশি আছে।যার জন্য সবাই ১০০০মুরগির জন্য গড়ে ২০০০-৪০০০টাকার এন্টিবায়োটিক খাওয়াচ্ছে।কিন্তু কাজ তেমন হচ্ছে না।আমি এটাকে আবহাওয়াগত কারণ বিবেচনা করে আর এন্ড ফার্মে কিছু দেই নাই।অন্য ফার্মে কোন এন্টিবায়োটিক দেয়নি কিন্তু শুধু মিউকোস্পেল দিয়েছি ৩দিন। মুরগির একই অবস্থা মানে কাশি আছে।

শিক্ষা/অভিজ্ঞতাঃ

কোন কিছুতে কাশি বন্ধ হয়নি।এটা আবহাওয়াগত স্ট্রেসের কারণে হতে পারে।

সব কিছুতে এন্টিবায়োটিক দেয়ার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।এতে মুরগির পাশাপাশি মানুষ সহ খামারীর লাভ।হালকা কাশি কোন সমস্যা না যদি মুরগি ঠিক থাকে এবং খাবার ও ওজন ঠিক থাকে

টিপস ৫

১ম ২টা ভ্যাক্সিন বাচ্চাকে চোখে ড্রপ আকারে দেয়া উচিত।পানিতে দিলে পানি অফ রাখতে হয় এতে এক সাথে ভ্যাক্সিনের পানি খেতে গিয়ে ভিজে যায়।ফলে শীতে গাউট হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

টিপস ৬

কক্সি হবার অন্যতম কারন পাত্র থেকে পানি পড়ে লিটার জিভে যাওয়া

টিপস ৭

এক হাজার মুরগিতে ২ বস্তা বেশি তুষ ব্যবহার করলে লিটার ভাল থাকবে এবং মুরগির ওজন বেশি আসবে।

টিপস ৮

মুরগির ওজন এবং বয়স অনুযায়ী জায়গা,পাত্র পর্যাপ্ত দিলে ৫০% সমস্যা কমে যায়।কিন্তু ৮০% ফার্মে এই বিষয়গুলীকে অবহেলা করা হয়।

টিপস ৯

আমরা নিজেরা যে পানি খায় সেই রকম পরিস্কার পানি মুরগিকে দেয়া উচিত কিন্তু পাত্রে কি সেই রকম পানি থাকে!

ব্রডিং এর টিপস ১০

১.প্রতিবার খাবার ও পানি দেয়ার ৩ঘন্টা পর ফার্মে এসে দেখতে হবে।

আপনি ঠান্ডার জন্য সকালে পেপার দিয়ে মুড়িয়ে চলে গেলেন।১১/১২টার সময় এসে দেখলেন ভিতরে অনেক গরম। তখন পেপার তুলে দিতে হবে এবং প্রয়োজনে পর্দা খুলে দিতে হবে।আপনি যদি খাবার ও পানি দেয়ার জন্য ১/২টা সময় যান তখন অনেক দেরী হয়ে অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে যা আগের অবস্থায় নেয়া সম্ভব না।ফার্মের প্রতিটি কাজ বন্ধুকের গুলীর মত ফিরিয়ে আনা যায় না।

২.দুপুর ১/২টার সময় খাবার পানি দিয়ে তাপমাত্রা বেশি বেশি হওয়ায় সব পেপার ও পর্দা তুলে দিলেন।

৪/৫টার সময় দিয়ে দেখেন বাচ্চা জমা।হয়ে আছে তখন পেপার এবং পর্দা অবস্থা অনুযায়ী দিয়ে দিলেন।

কিন্তু যদি আপনি এই সময় না গিয়ে ৮/৯টায় যান তখন অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে।

৩.কোন কারণে পানি অনেক কম দিয়েছিলেন বা পানি শেষ হয়ে যাবার অনেক পরে পানি দিতে গেলেন।পূর্বের নির্ধারিত পাত্র দিয়ে পানি দেয়া শুরু করলেন।তখন দেখবেন একটা পাত্রে ১০০-১৫০বাচ্চা পানি খাওয়ার জন্য চাপাচাপি শুরু করলো কয়েক মিনিটের ভিতর সব বাচ্চা ভিজে যাবে এবং কোন বাচ্চা আর পানি খাবেনা/খেতে পারবেনা।তখন জমা হয়ে বাচ্চা মারা যাবে বা অসুস্থ হবে।যদি এই সময় কারেন্ট না থাকে তাহলে খুব খারাপ অবস্থা হবে।অনেক মারা যাবে বা অসুস্থ হবে।

তাই পানি ও খাবার শেষ হবার সাথে সাথে বা কিছু পানি থাকা অবস্থায় পানি দিতে হবে।

সঠিক হিসাব করতে হবে কখন পানি ও খাবার দিবেন এবং কখন শেষ হবে তা জানতে হবে।একটা সময় নির্ধারণ করতে হবে কখন কখন পানি ও খাবার দিবেন যেমন

খাবার ও পানি দিবেন

সকাল ৫/৬টায়

দুপুর ১/২টায়

রাত ৯/১০টায়

চেক দিবেন

সকালে ৯/১০টায়

বিকালে ৪/৫টায়

মাঝ রাতে সুযোগ নাই তবে কেউ যদি দিতে পারে ভাল।

৩বেলার মধ্যে সকাল টা বেশি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রাতে পানি দেয়ার পর মাঝ রাতে উঠে চেক দেবার সুযোগ হয় না যার কারণে পানির ঘাটতি হয় বা অধিক ঠান্ডায়/গরমে বাচ্চার ক্ষতি হবার রিস্ক থাকে।

৪.যদি বাচ্চার বেশি পিপাসা হয় বা অনেক আগে পানি শেষ হয়ে যায় তখন বাচ্চা ভেজার হাত থেকে কিভাবে বাচাবেন?

উত্তরঃ

একটা ব্রুডারে ডাবল পানির পাত্র দিবেন।প্রথমে সব গুলো পানির পাত্রে পানি ভরবেন।তারপর সব গুলো পাত্র একবারে বাচ্চা গুলোকে দিবেন।অনেক পাত্র হবার কারণে সবাই পানি খেতে পারবে।চাপাচাপি করবেন না এবং ভিজবে না।

নোটঃব্রুডিং এর ৭দিন পর্যন্ত এই রিস্ক থাকে।তবে পানির পাত্র যদি বেশি দেয়া যায় তাহলে এই রিস্ক কমে যায়।প্রয়োজনে পাত্রে পানি বেশি দিয়ে রাখবেন।পরে বাকিটুকু ফেলে দিবেন।

এন্টিবায়োটিক নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা

ভুল চিকিৎসাঃভুল করা দোষের কিছুনা কিন্তু না জানাটাই দোষ।

১.অনেকেই এন্টিবায়োটিকের এন্টাগনিজম মানছেনা।

টাইলোসিন,ইরাইথ্রোমাইসিন,পটেনশিয়াল সাল্ফারএবং লিংকোমাইসিনের সাথে সিপ্রো,এনরো এবং সেফালোস্পোরিন দিচ্ছেন।কেউ কেউ টেট্রাসাইক্লিন গ্রুপের সাথে ফ্লোরোক্লোইনোলন গ্রুপের এন্টিবায়োটিক দিচ্ছেন।এগুলো এক সাথে দিলে এন্টাগনিজম হবে। কাজ তেমন হবেনা।তাছাড়া এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স হবে

২.কেউ কেউ ফ্লোরফেনিকলের মত এন্টিবায়োটিককে প্রিভেন্টিভের মত এক বেলা দিচ্ছেন।

কিছু এন্টিবায়োটিক আছে প্রিভেন্টিভ এন্টিবায়োটিক যেমন টাইলোসিন,টিয়ামোলিন,টিল্মাইকোসিন।এগুলো আমরা ডোজ কম বেশি বা ১বেলা বা ২ বেলা বা ৩বেলা,এমন কি বডি ওয়েট অনুযায়ী দিতে পারি যদিও সঠিকভাবে দেয়াই উচিত কিন্তু ফ্লোরক্লোইনোলন গ্রুপ, ফ্লোরফেনিকল এবং জেন্টামাইসিনের মত এন্টিবায়োটিক গুলোকে প্রিভেন্টিভের মত করে দেয়া যাবে না।এগুলোকে কেউ কেউ এক বেলা বা ডোজ কম দিচ্ছে।এতে কিন্তু এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স হচ্ছে কারণ অর্গানিজম মারা যাচ্ছে না আহত হচ্ছে এবং এই এন্টিবায়োটিক কে চিনে রাখছে।(এম আর(মাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স) নিয়ে সারা পৃথিবী সোচ্চার কিন্তু না বুঝে অনেকে এসব ভুল করছে।

নোট১ঃএকটা প্রেসক্রিপশন দেখলাম। ফ্লোরফেনিকল ১মিলি/২লিটারে শুধু রাতে।

বডিওয়েট বা অন্য কোন সিস্টেমেই এক বেলা দেবার সুযোগ নাই। এমন কি এটা গাউটের জন্য প্রেস্ক্রিপশন করা হয়েছিল অবশ্য সাথে অন্য মেডিসিন ছিল,আমার উদ্দেশ্য শুধু এই ফ্লোরফেনিকলের ব্যাপারটা।ফিল্ডের ১দিনের সব প্রেসক্রিপশন জমা করলে অনেকেই লজ্জা পাবে।

নোটঃ৩

অনেকেই প্রশ্ন থাকতে পারে স্ট্যাটিক ও সাইডাল এন্টাগনিজম কেন হয় বা সমস্যা কি।

সমস্যা স্ট্যাটিক এন্টিবায়োটিক দ্বারা রিসেপ্টরের সাথে বাইন্ডিং করলে সাইডাল বাইন্ডিং করতে পারবেনা।তাই স্ট্যাটিক দ্বারা যতগুলো ব্যাক্টেরিয়া বাইন্ডিং হবে সেসব ব্যাক্টেরিয়া রেজিস্ট্যান্স হবে কারণ অর্গানিজম গুলো মারা যাবেনা।সাইডাল দ্বারা বাইন্ডিং হলে মারা যাবে।এটাই ঘটনা কিন্তু এই ব্যাখ্যাটা পাইতে ১০ বছর লেগেছে এবং কোন বইয়ে আছে কিনা জানলে কমেন্ট করে জানাবেন।আমার বইয়ের এটাই বড় গুণ জটিল এবং বিরল বিষয়গুলোকে এক সাথে সাজানো পাওয়া যায়।

সৌজন্যেঃসহজে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা।যাদের কাছে এই বই টি আছে তারা এসব ভুল করবেনা।এন্টিবায়োটিক নিয়ে খুটিনাটি বিস্তারিত সাজানো লেখা আর অন্য কোথাও পাবার সুযোগ আছে বলে মনে হয় না।বইয়ে যেভাবে আলোচনা করা হয়েছে সেগুলো পড়লে সব ক্লিয়ার হবে।

Please follow and like us:

About admin

Check Also

পোল্ট্রি ব্যবস্থাপনা এক কথায় কি বুঝায়

পোল্ট্রি ব্যবস্থাপনা এক কথায় কি বুঝায় এক কথায় ফার্মের ব্যবস্থাপনা হল লুংগী পড়ে নদী পাড় …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »
error: Content is protected !!