Breaking News
এনাপ্লাজমোসিস
এনাপ্লাজমোসিস

এনাপ্লাজমোসিস

এনাপ্লাজমোসিস
Anaplasmosis

এনাপ্লাজমোসিস মারাত্নক একটি রক্তবাহিত সংক্রামক রোগ। এ রোগে আক্রান্ত গরুর মৃত্যুর হার (২০-৫০%) পর্যন্ত হয়ে থাকে।

অল্প বয়ষ্ক গরুতে মৃদুভাবে আক্রান্ত হলেও বয়ষ্ক গরুতে তীব্র লক্ষন প্রকাশ পায়।

আক্রান্ত গরুকে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা দিয়ে সাময়িক সুস্থ করা গেলেও সারা জীবন সে এ রোগের জীবানু বহন করে।

আক্রান্ত গরুকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে পালে রাখলে সকল সুস্থ গরু এ রোগের ঝুকিতে থাকে।

বর্তমানে খামারীদের জন্য এ রোগ নতুন ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

রোগতত্ত্ব ও বিস্তার

Anaplasmosis গনভুক্ত রিটেকশিয়ালেস (Rickettsiales) গোত্রের এক প্রকার জীবানু দ্বারা সংঘটিত হয়ে থাকে। এই জীবানু আকারে খুবই ছোট এবং গোলাকৃতি কিন্তু সাইটোপ্লাজম নেই, তবে কোষ প্রাচীর আছে।

এরা লোহিত রক্ত কনিকার স্ট্রোমা তে অবস্থান করে। আক্রান্ত গরুর রক্তের লোহিত কণিকা ভেঙ্গে দেয় এবং রক্ত পানির মত পাতলা দেখায়।

প্লীহা, যকৃত ও পিত্তথলি আকারে বড় হয়ে।
এনাপ্লাজমা রোগের জীবানু ছড়াতে সাধারনত ২০ প্রজাতির আঁঠালী বাহক হিসাবে কাজ করে।

তবে Boophilus spp এবং Dermacentor spp জাতীয় আঁঠালী আক্রান্ত পশুর রক্তের মাধ্যমে সুস্থ গরুতে রোগ জীবানু সংক্রামিত করতে গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা পালন করে।

স্ত্রী আঁঠালীর তুলনায় পুরুষ আঁঠালী এই জীবানু বেশি ছড়ায়।
আক্রান্ত গরুর বিভিন্ন অস্ত্রোপচার, কাটা ছেড়ে, শিং কাটা, খোজাকরন, কানে ট্যাগ লাগানো, টিকা প্রদান ইত্যাদি ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের মাধ্যমেও এ রোগ সুস্থ গরুতে সংক্রামিত করতে পারে।

লক্ষন

* গাভীতে গর্ভাবস্থার শেষের দিকে ও বাচ্চা প্রসবের পরপরই এ রোগে আক্রান্তের হার খুব বেশি।
* প্রথম দিকে গাভীর খাওয়ার রুচি ধীরে ধীরে কমে যাবে এবং এক পর্যায়ে সম্পুর্ন খাবার বন্ধ করে দেয়।
* গাভীর দীর্ঘমেয়াদী (১০৪-১০৬) ডিঃ ফাঃ জ্বর হয় এবং পশম খাড়া হয়ে থাকে।
* পানি পিপাসা বেড়ে যায় এবং ঘনঘন শ্বাস নিতে থাকে।
* আক্রান্ত গরু হাটাহাটি করলে শ্বাস-কষ্টের লক্ষন দেখা যাবে।
* রক্তশুন্যতা, হিমোগ্লোবিন ইউরিয়া ও জন্ডিস দেখা দেয়।
* লিভার দুর্বল হয়ে যায়। দাত কাটে।
* দিন দিন স্বাস্থ্য শুকিয়ে যায় এবং দুধের উৎপাদন কমে যায়।
* গাভী শুয়ে পড়লে আর উঠে দাড়াতে পারেনা এবং প্রসাব পায়খানা বন্ধ হয়ে যায়।

রোগ নির্নয়

আক্রান্ত গরুর রক্ত ল্যাবেঃ অনুবীক্ষন যন্ত্রের সাহায্যে পরীক্ষা করে এই এনাপ্লাজমোসিস (Anaplasmosis) রোগ নির্নয় করতে হয়।
অর্থাৎ গ্লাস স্লাইডে নেয়া

রক্ত Giemsa strin করলে এ রোগের জীবানু সনাক্ত করা যাবে।
অথবা
Indirect FA এবং DNA Probe test করেও এ রোগ নির্নয় করা যাবে।

চিকিৎসা

রেজিষ্টার্ড ভেটেরিনারিয়ান এর পরামর্শ অনুযায়ী নিন্মলিখিত ব্যবস্থাপত্রটি গ্রহন করা যেতে পারে।

® এন্টিহিস্টামিন হিসাবে Pheniramine Maleate BP গ্রুপের যেমন inj: ASTAVET 100ml (Acme) 1cc/20kg b wt হিসাবে মাংশে দিতে হবে।
শুধুমাত্র ইমিডোকার্ব ও স্যালাইন ইন্জেকশন দেওয়ার সময় প্রয়োগ করতে হবে।

® ইমিডোকার্ব গ্রুপের যেমন inj: COMIDOCARB 10ml (komipharma, korea) 1cc/40kg b wt অনুযায়ী মাংশে দিতে হবে। ২য় ডোজ ৫-৭ দিন পর পুনরায় আবার দিতে হতে পারে।
বিঃদ্রঃ inj দেয়ার পর গাভীর নাক মুখ দিয়ে লালা ঝরতে পারে। এমন হলে মাথায় পানি দিতে হবে।

® অক্সিটেট্রাসাইক্লিন গ্রুপের যেমন inj: RENAMYCIN-100ml (Renata) 1cc/10kg b wt হিসাবে ধীরে ধীরে রক্তশিরায়/মাংশে দিতে হবে ১৪ দিন।
সবচেয়ে কার্যকরী হবে দৈনিক (10% Dextrose saline1000cc সহযোগে Renamycin-100) মাত্রানুযায়ী ধীরে ধীরে রক্ত শিরায় দিলে।

® আয়রন টনিক Syr: FEROVET 1000ml (Acme) বড় গরুতে দৈনিক ১০০ মিঃলিঃ করে কমপক্ষে ৩০ দিন খাওয়াতে হবে।

® লিভার টনিক Syr: Restoliv 500ml (Opsonin) বড় গরুতে দৈনিক ২০ মিঃলিঃ করে কমপক্ষে ১৪ দিন খাওয়াতে হবে।

® inj: Hemovet 10ml (Renata) বড় গরুতে 10-20cc করে ২৪-৪৮ ঘন্টা পরপর মাংশে ১৪/১৫ দিন দিতে হবে।
এনাপ্লাজমা রোগের চিকিৎসায় inj: Hemovet যথেষ্ট গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা পালন করে।

প্রতিরোধ

* প্রতি ৩/৪ মাস পরপর Ivermectin গ্রুপের ইনজেকশন ০.২ মিঃগ্রাঃ/ কেজি দৈহিক ওজন হিসাবে প্রয়োগ করে এ রোগ প্রতিরোধ করা যায়।
* Ivermectin প্রিপারেশন গ্রহন করা সত্বেও যদি কোন গরু এ রোগে আক্রান্ত হয় তাহলে আক্রান্ত গরুকে সুস্থ গরুর কাছ থেকে দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে।
* এনাপ্লাজমোসিস রোগে আক্রান্ত গরুকে কোন ভাবেই পালে রাখা যাবে না।
* একই সিরিঞ্জ ও নিডিল একাধিক গরুতে ব্যবহার করা যাবে না।
* গরুর ঘড়ের চারপাশ পরিষ্কার রাখা যাতে মশা মাছির উপদ্রপ না থাকে।
* নিয়মিত প্রতিদিন একবার হলেও গরুকে গোসল করাতে হবে।
* আঁঠালীর বংশ বিস্তারের ঋতু (মার্চ-নভেম্বর) এ সময় গরুকে আঁঠালীনাশক ঔষধ প্রয়োগে গোসল বা স্প্রে করতে হবে।
* গর্ভাবস্থায় রক্তবর্ধক হিসাবে আয়রন এর সরবরাহ নিশ্চিত করা।
* গরুর স্বাস্থ্য সম্মত বাসস্থান ও সুষম খাবার নিশ্চিত করা।

Please follow and like us:

About admin

Check Also

বাছুরের ডায়রিয়ার কারণ

Couses of diarrhea in neonatal rumenants 🔷Bacterial: 🔸Escherichia coli 🔸Salmonella spp. 🔸Campylobacter fecalis 🔸Campylobacter coli …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »
error: Content is protected !!