Ephemeral fever/3 days sickness/shifting lameness.

এফিমেরাল জ্বর (Ephemeral Fever) / থ্রি-ডে সিকনেস (Three-Day Sickness) / শিফটিং ল্যামনেস

গরুর তিন দিনের জ্বর রোগ: কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

এফিমেরাল জ্বর (Bovine Ephemeral Fever – BEF) গরুর একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ। এটি সাধারণত বর্ষাকাল ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে বেশি দেখা যায়। রোগটি হঠাৎ শুরু হয়, তীব্র জ্বর, শরীরে ব্যথা এবং এক পা থেকে অন্য পায়ে খোঁড়ানোর (Shifting Lameness) বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগটি ২-৩ দিনের মধ্যে শেষ হয়, তাই একে Three-Day Sickness বলা হয়।

গুরুত্বপূর্ণ: রোগের প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় অ্যানথ্রাক্স (Anthrax) বা বাদলা (Black Quarter) রোগের সাথে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। তাই সঠিক রোগ নির্ণয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


রোগের কারণ

এ রোগের কারণ Bovine Ephemeral Fever Virus (BEFV)

  • এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ।
  • সাধারণত মশা ও কামড়ানো মাছির মাধ্যমে ছড়ায়।
  • বর্ষা মৌসুমে রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়।

কোন গরু বেশি আক্রান্ত হয়?

  • সব বয়সের গরু আক্রান্ত হতে পারে।
  • দুগ্ধবতী ও পূর্ণবয়স্ক গরুতে বেশি দেখা যায়।
  • বর্ষাকালে বাইরে বৃষ্টিতে ভিজে থাকলে ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

রোগের বিস্তার

  • আক্রান্ত প্রাণী থেকে বাহক কীটপতঙ্গের মাধ্যমে।
  • বর্ষাকালে মশা ও মাছির সংখ্যা বেড়ে গেলে সংক্রমণও বৃদ্ধি পায়।

রোগের লক্ষণ

প্রাথমিক লক্ষণ

  • হঠাৎ অবসন্ন হয়ে পড়ে।
  • প্রাণীটি নিস্তেজ ও চুপচাপ থাকে।
  • স্বচ্ছ ও ঘন নাক দিয়ে পানি পড়ে।
  • মাঝে মাঝে মাথা ও ঘাড় কাঁপাতে থাকে।
  • শুরুতে অনেক সময় জ্বর নাও থাকতে পারে।

ইতিহাস গ্রহণের সময় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

খামারিকে জিজ্ঞাসা করুন—

  • আগের দিন কি গরুটি বৃষ্টিতে ভিজেছিল?
  • কয়েকদিন আগে কি কাশি হয়েছিল?

অনেক সময় মালিক কাশির কথা মনে করতে পারেন না, তবে পরিবারের অন্য সদস্য জানাতে পারেন।


পরবর্তী লক্ষণ

  • হালকা পেট ফাঁপা (Bloat)
  • ২-৩ ঘণ্টা তীব্র শ্বাসকষ্ট
  • পুরো শরীর কাঁপতে থাকে (Shivering)
  • হঠাৎ তাপমাত্রা ১০৬-১০৮° ফারেনহাইট পর্যন্ত বেড়ে যায়।
  • শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করে।
  • হাঁটতে অনীহা দেখা যায়।
  • প্রথমে একটি পা খোঁড়ায়, পরে অন্য পায়ে খোঁড়ানো শুরু হয় (Shifting Lameness)।
  • মলে অল্প পরিমাণ শ্লেষ্মা (Mucus) থাকতে পারে।
  • ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়।

রোগ নির্ণয়

রোগ নির্ণয়ে নিচের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ—

  • বর্ষাকালের ইতিহাস
  • পূর্বে কাশি হওয়ার তথ্য
  • হঠাৎ জ্বর
  • শরীর কাঁপা
  • শিফটিং ল্যামনেস
  • নাক দিয়ে স্বচ্ছ স্রাব
  • অ্যানথ্রাক্স ও বাদলা রোগ থেকে পার্থক্য নির্ণয়

চিকিৎসা

চিকিৎসা অবশ্যই নিবন্ধিত ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী করতে হবে।

সমর্থক (Supportive) চিকিৎসাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সম্ভাব্য চিকিৎসা

১. Inj. Histavet

  • দৈহিক ওজন অনুযায়ী।

২. Inj. Pronapen Vet

  • সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ বা বাদলা (BQ) সন্দেহ থাকলে ব্যবহার করা যেতে পারে।

৩. Inj. Ketovet

  • জ্বর, ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে।

সহায়ক পরিচর্যা

  • পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিতে হবে।
  • পরিষ্কার পানি সবসময় দিতে হবে।
  • নরম ও সহজপাচ্য খাদ্য খাওয়াতে হবে।
  • গরুর মাথায় ঠান্ডা পানি ঢাললে অনেক সময় খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়ে।
  • পানিশূন্যতা হলে প্রয়োজনে ফ্লুইড থেরাপি দিতে হবে।

সতর্কতা

  • নবজাতক বাছুর ও ছাগলে Dellergen Injection ব্যবহার করা উচিত নয়।
  • রোগের শুরুতে অ্যানথ্রাক্স বা বাদলা রোগের সাথে বিভ্রান্তি হতে পারে, তাই নিশ্চিত রোগ নির্ণয় ছাড়া চিকিৎসা শুরু করা ঠিক নয়।

প্রতিরোধ

  • বর্ষাকালে গরুকে দীর্ঘ সময় বৃষ্টিতে ভিজতে না দেওয়া।
  • খামারে মশা ও মাছি নিয়ন্ত্রণ করা।
  • পরিষ্কার ও শুকনো পরিবেশ নিশ্চিত করা।
  • সুষম খাদ্য ও পর্যাপ্ত খনিজ সরবরাহ করা।
  • অসুস্থ প্রাণীকে দ্রুত আলাদা রাখা।
  • নিয়মিত ভেটেরিনারি পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা।

রোগটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য (Quick Identification)

বৈশিষ্ট্যএফিমেরাল জ্বর
রোগের কারণভাইরাস
অন্য নামThree-Day Sickness
মৌসুমবর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী
প্রধান লক্ষণহঠাৎ জ্বর, শরীর ব্যথা
বিশেষ বৈশিষ্ট্যএক পা থেকে অন্য পায়ে খোঁড়ানো (Shifting Lameness)
জ্বর১০৬–১০৮°F পর্যন্ত হতে পারে
নাক দিয়ে স্রাবস্বচ্ছ ও ঘন
রোগের স্থায়িত্বসাধারণত ২–৩ দিন

FAQ

১. এফিমেরাল জ্বর কি সংক্রামক?

হ্যাঁ। এটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ, যা প্রধানত মশা ও কামড়ানো মাছির মাধ্যমে ছড়ায়।

২. কেন এক পা থেকে অন্য পায়ে খোঁড়ায়?

ভাইরাসজনিত প্রদাহের কারণে পেশী ও সন্ধিতে ব্যথা সৃষ্টি হয়। ফলে এক সময় এক পায়ে, পরে অন্য পায়ে খোঁড়ানো দেখা যায়।

৩. এটি কি বাদলা রোগ?

না। লক্ষণ কিছুটা মিল থাকলেও এফিমেরাল জ্বর একটি ভাইরাসজনিত রোগ, আর বাদলা (Black Quarter) একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ।

৪. রোগটি কি প্রাণঘাতী?

অধিকাংশ ক্ষেত্রে নয়। তবে জটিলতা, পানিশূন্যতা বা সেকেন্ডারি সংক্রমণ হলে মৃত্যুঝুঁকি বাড়তে পারে।

৫. বর্ষাকালে রোগটি বেশি হয় কেন?

বর্ষাকালে মশা ও বাহক কীটপতঙ্গের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় রোগের সংক্রমণ বেড়ে যায়

Scroll to Top