Breaking News

মাইকোপ্লাজমোসিস মুরগির নীরবঘাতকঃকেন হয়,লক্ষণ,পোস্টমর্টেম,চিকিৎসা,নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিকার

মাইকোপ্লাজমোসিস মুরগির নীরবঘাতকঃকেন হয়,লক্ষণ,পোস্টমর্টেম,চিকিৎসা,নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিকার

মাইকোপ্লাজমোসিস:এটি ইকোনোমিকেলী একটি গুরুত্বপূর্ণ  রোগ।কারণ এটি নিয়ন্ত্রণে এবং চিকিৎসায়  অনেক টাকা খরচ হয় ।It emerged with renewned vigor,has become more common and serious challenge to industry.

পরিবেশঃ

শীতকালে এবং প্রডাকশনে আসার পর (পিক পিরিয়ডে) বেশি প্রাদুর্ভাব হয়।ফার্মে মাইকোপ্লাজমার আক্রমণ হলে ই-কলাই এর প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায় এবং রানিক্ষেতও দেখা দেয়।ফুসফুসের অনেক ক্ষতি হয় ফলে রানিক্ষেত ও ব্রংকাইটিস ভ্যাক্সিনের ভাইরাস ফুসফুসে ঠিক মত বংশ বৃদ্ধি  করতে পারে না তাই রানিক্ষেত ও ব্রংকাইটিসের টিকা ঠিকমত কাজ করে না।এয়ারস্যাক আক্রান্ত হয় বলে একে এয়ার স্যাকুলাইটিস বলা হয়।

হোস্টঃ

মুরগি ও টার্কিতে বেশি হয়।টার্কিতে ইনফা অর্বিটাল সাইনাস অনেক ফুলে যায়।মুরগির তুলনায়  টার্কির জটিলতা বেশি।তবে কবুতর,হাঁস ও কোয়েলে হতে পারে কিন্তু মুরগি ও টার্কির মত জটিলতা কম হয়।যে কোন বয়সে হতে পারে তবে ২-৬ সপ্তাহের ব্রয়লার এবং ৪-১২ সপ্তাহের লেয়ার বেশি আক্রান্ত হয়।মর্বিডিটি ১০০% কিন্তু লেয়ারে মর্টালিটি হয় না যদি মিক্স ইনফেকশন হয় তাহলে মর্টালিটি হয়।ব্রয়লারে মাইকোপ্লাজমার মিক্স ইনফেকশনের জন্য ১০% মর্টালিটি হতে পারে।বাহক ছাড়া এই জীবাণূ ৬ঘন্টা বাঁচতে পারে কিন্তু জৈব পদার্থে ১৮ মাস বেঁচে থাকে।তাই মাল্টি এজ মুরগিতে মাইকোপ্লাজমার সমস্যা থাকেই।আক্রান্ত মুরগি আজীবন ক্যারিয়াস হিসাবে কাজ করে।

এজেন্টঃ

প্রজাতি:

মাকোপ্রাজমা গ্যালিসেপ্টিকাম।মাইকোপ্লাজমা সাইনোবি.ইনকিউবেশন পিরিয়ড ৬-২১দিন
১. বৈশিস্ট্যঃ

কোষ প্রাচীরবিহীন তাই পেনিসিলিন কাজ করেনা কারণ পেনিসিলিন কোষ প্রাচীরের উপর কাজ করে।এটি বিভিন্ন আকার ধারণ করে তাই সনাক্ত করা কঠিন এবং অল্পজীন বহন করে তাই বাহক ছাড়া বেশিক্ষণ বাচতে পারেনা.আকার ০.২-০.৫ মাইক্রন
# সব জীবাণূনাশক এবং তাপ দিয়ে মারা যায়।
এটি মুরগির বিষ্টায় ২০ ডিগ্রি সেন্টিগেট তাপমাত্রায় ৩ দিন এবং ডিমের কুসুমে ৬ সপ্তাহ বাঁচে ।যেহেতু এটি মুরগি ছাড়া ৩দিনের বেশি বাঁচে না তাই  অল ইন  অল আউট সিস্টেম মেনে চললে মাইকোপ্লাজমা থেকে মুক্ত থাকা যায় কারণ মুরগি না থাকলে মাইকোপ্লাজমাও থাকে না।

শ্বাসনালীতে এটি বেশি থাকে।বাতাসের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে যদি কাছাকাছি ফার্ম থাকে।এদের বংশবৃদ্ধি বাডিং এবং দ্বি বিভাজনের মাধ্যমে হয়ে থাকে।

এটির এপিথেলিয়াল টিস্যু বিশেষ করে শ্বাসনালির প্রতি আসক্তি রয়েছে।এটি কোষের পুষ্টি গ্রহণ করে এবং ক্ষতিকর হাইডোজেন পার অক্সাইড,নিউরামিডেজ ,হেমোলাইসিন তৈরি করে ও ইমোনিটি নষ্ট করে। এর পর এটি  প্রডাকশন এবং এফ সি আর  এর ক্ষতি করে।ইমোনিটি কমে যাওয়ায় গাম্বোরো,রানিক্ষেত, ব্রংকাইটিস,করাইজা ইত্যাদি রোগ দেখা দেয়।তাই মাইকোপ্লাজমাকে সকল রোগের আমন্ত্রক/ আহবায়ক বলা হয়।যদি প্রডাকশন  ৪-৬ সপ্তাহ ধরে  ১০-১৫% কমে যায় তাহলে মাইকোপ্লাজমোসিস হয়েছে বলে ধরা হয়।এটা অনেক দিন ধরে মুরগিতে চলতে থাকে যাকে সি আর ডি নামেও ডাকা হয়।

২.কখন বেশি হয়:

নরমালী এটি বডিতে থাকে  এবং ধকল পড়লে সক্রিয় হয়ে উঠে।মাইকোপ্লাজমার আক্রমণ ঘটলে ই-কলাই চলে আসে তখন তাকে সি আর ডি বলা হয়।পৃথিবীর  প্রায় সব দেশে দেখা যায়,সব বয়সে দেখা যায় তবে  বয়স্ক অপেক্ষা বাড়ন্ত মুরগিতে তীব্রতা  বেশি দেখা যায়।৩-৪ সপ্তাহের ব্রয়লার,১৬-২২ সপ্তাহের লেয়ার এবং ডিমের পিক প্রডাকশনের সময় বেশি দেখা যায়।শীতকালে বেশি দেখা যায়।প্রায় ৬০% ফার্মে এই জীবাণূটি আছে বিভিন্ন মাত্রায়।ই-কলাই,কলেরা,করাইজা,আই বি,এন ডি ,আই এল টি,আই বি ডি যদি মুরগিতে থাকে তাহলে মাইকোপ্লাজমার প্রাদুর্ভাব বেশি হয়।
# ঠাণ্ডা পরিবেশ।#বেশি ধূলা এবং এমোনিয়া।#মাইকোটক্সিন খাবারে বেশি হলে.
#মুরগি বেশী ঘন হলে, # গ্রাম নেগেটিভ ব্যাক্টেরিয়া আক্রমণ করলে(এন্ডোটক্সিন)
# বেশি এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে, যে কোন ধকল। রানিক্ষেত এবং ব্রংকাইটিস টিকার রিয়াকশন হলে.

৩.কিভাবে রোগ তৈরি করে:
মাইকোপ্লাজমা গেলিসেপ্টিকাম ফলিকল-ওভারি – ডিম্বনালী এবং শ্বাসতন্রে আক্রমণ করে.মাইকোপাজমা সাইনোবি অস্তিসন্ধিতে এমন কি শ্বাসনালীতে ও আক্রমণ করে ৫মিনিটের মধ্যে সেলের ভিতর চলে যায় এবং ২৪ ঘন্টায় এদের পরিমাণ বেড়ে যায়।মাইকোপ্লাজমোসিস জীবানূ যখন শ্বাসের  মাধ্যমে ট্রাকিয়া ও ফুসফুসের মধ্যে প্রবেশ করে তঁখন তারা নিউরামিনিডেজ পারঅক্সিডেজ এবং হিমোলাইসিন তৈরি করে যা শ্বাসনালী ও ফুসফুসের কোষগুলোর সিলিয়াকে ধবংস করে এবং প্রদাহ সৃষ্টি করে,ফলে শ্বাসনালীর সংক্রমনজনিত বিভিন্ন রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।যদি এটি সিস্টেমিক ইনফেকশনের মাধ্যমে ব্লাডে চলে যায়,তখন এন্টিবায়োটিক কাজ করে না এবং বডির ইমোউন ডিফেন্স কাজ করে না।লেয়ার মুরগিতে ডিম পাড়ার শুরুতে ইনফেকশন দেখা দেয়।ক্লিনিকেল ইনফেকশন দেখা না গেলেও সেরোলজিকেল পজিটিভ রিজাল্ট দেখা যায়।ব্রয়লারের ক্ষেত্রে তীব্র আকারে দেখা যায় এবং প্রচুর মর্বিডিটি ও মর্টালিটি দেখা যায় কারণ মিক্স ইনফেকশন।

মাইকোপ্লাজমা মেক্রুফেজকে নিষ্ক্রিয় করে ফলে তারা এন্টিজেন উতপাদনকারি(Antigen presenting cell) কোষ হিসেবে কাজ করতে পারেনা ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।এছাড়া মাইকোপ্লাজমা আক্রান্ত কোষের এমাইনো এসিড,ফ্যাটি এসিড এবং ডি এন এ উতপাদনের প্রাথমিক উপাদান(precursors) সমূহের উতপাদন কমিয়ে দেয় ফলে শ্বাসতন্ত্রের কোষ ধবংস হয়.মাইকোপ্লাজমা পোষক কোষের প্রোটিন সমূহের মতই একই রকম এন্টিজেনিসিটি  প্রদর্শন করে।তাই এদের বিরুদ্ধে তৈরি এন্টিবডি দেহের সাধারন পোষক কোষের বিরুদ্ধে কাজ করে এবং অটো ইমোনিটি সৃষ্টি করতে পারে যার ফলশ্রুতিতে এনিমিয়া হতে পারে।তবে হিউমোরাল ইমোনিটি  ট্রাকিয়ায় এন্টিবডি তৈরি করে মাইকোপ্লাজমা প্রতিহত করার চেষ্ঠা করে।

৪। কিভাবে ছড়ায় :
ডিমের মাধ্যমে(ভার্টিকেল  )

মোরগের সিমেনের  মাধ্যমে।হ্যাচারীর মাধ্যম
শ্বাস প্রশাসের মাধ্যমে। বাতাসের মাধ্যমে যদি কাছাকাছি হয়(২৫০মিটার দূরে হলে)ধুলিকণার মাধ্যমে ।ইদুর,আঠুলি,পাখি,ডিমের গাড়ি এবং ভিজিটর ।বন্য পাখির মাধ্যমে।ক্যারিয়ার পাখি আজীবন জীবানূ ছড়ায়।

  • মাইকোপ্লাজমা পোল্ট্রি সেক্টরের জন্য চ্যালেঞ্জ কেনঃ
  • মাইকোপ্লাজমা এল পি এ আই আর সাথে মিক্স ইনফেকশন হচ্ছে
  • মাইকোপ্লাজমার এন্টিজেনিক ভ্যারিয়েশন
  • It has inherent mechanism of making rapid and sudden changes in its expression of protein in response to antibodies.

.কিভাবে ক্ষতি করে ;

ডাইরেক ক্ষতিঃ

এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মারাত্মভাবে হ্রাস করে ফলে করাইজা,কলিবেসিলসিস,ব্রংকাইটিস,গাম্বোরো,রানিক্ষতে হবার সম্বাবনা বেড়ে যায়
ডিম কমে ১০-২০%( তীব্র রোগ) ৫-১০% (দীর্ঘ  মেয়াদী রোগ)
৫ -১০% ব্রয়লারে মর্টালিটি  (বাচ্ছাকালে রোগ হলে) ১০ -২০ ওজন কমে।এফ সি আর কমে ১০-২০%

ব্রয়লারের ওজন এবং মাংসের গুনগত মান খারাপ হয় ১০-২০%।ভ্রুন মারা যায় ১ ৫-২০%
বয়স্ক মুরগি মারা যায় ৫-৩০%( C R D হলে)

ইনডাইরেক ক্ষতিঃ

অন্যান্য জীবাণূর আক্রমনের হার বেড়ে যায়,ই-কলাই ৭০%,সিউডোমোনাস ২০%,প্রোটিয়াস ৫%,ক্লেবসিলা ৩% ও স্ট্রেপ্টোকক্কাস ১%,তাছাড়া রোগ প্রতিরোধ কমে যাবার ফলে টিকা ভাল কাজ করেনা (ব্রংকাইটিস ও রানিক্ষেত)

Pathogenesis of Mycoplasma Infectionঃ

টার্গেট সাইটঃইপিথেলিয়াম অফ কনজাংটিভা,নেজাল প্যাসেজ,সাইনাস,ট্রাকিয়া,এয়ারস্যাক।অকেশনালি ইন ফুসফুস।Attachment of Mycoplasma to surface of epithelial cells & cilia.

Release of mycoplasma neuramidase, peroxidase and haemolysis.

  • Consequences – Toxin substances from Mycoplasma decrease of motility and destruction of cilia, decreased production of antibacterial mucus, inflammation of epithelial membrane of trachea, lung, air sacs.
  • Depletion of host cells amino acid, fatty acids, DNA precursors.
  • Penetration of bacteria into deeper part of respiratory tract & blood & then all over the body and aggravation of pathological process.
  • Penetration of Mycoplasma in inner organs producing damage of ovary, oviduct, joint & brain
  • Failure of New Castle / Bronchitis disease vaccine
  • Mycoplasma infection damages the Cilia & epithelial membrane of trachea, lung.
  • Vaccination with New Castle / Bronchitis disease vaccine can’t give proper protection to mycoplasma infected birds. Damaged epithelial membrane of trachea and lung can not provide the optimum environment for proliferation of vaccine virus to produce antibody against New Castle / Bronchitis disease.
  • Possibility of vaccine failure is more in mycoplasma infected birds.
  • এটি শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন অংশে আক্রমণ করে যেমন এয়ার‍্স্যাক এ ৯০% ,ফুসফুসে ৭১% আর ট্রাকিয়ায় ৬৩%
  • Organism enable to pass through respiratory mucosal barrier and cause systemic infection.

৬.লক্ষণ

ইনকোবেশন পিরিয়ড পরিবর্তনশীল যা কয়েক সপ্তাহ থেকে মাস পর্যন্ত,ধকলের উপর নির্ভর করে।আক্রান্ত মুরগি বাহক হিসেবে কাজ করে।রোগটি ধীরে ধীরে ছড়ায়।

লেয়ারের ক্ষেত্রেঃ
ওজন কমে যায়,খাবার কম খা্য়
ডিম কমে যায়।।ডিমের রং পরিবরতন হয়

ব্রয়লারের ক্ষেত্রে লক্ষণ টা ভাল বুঝা যায় এবং  মারাত্মক আকার ধারণ করে।।৩-৪ সপ্তাহে বেশি হয়,অধিকাংশ সময় মিক্স ইনফেকশন হয় যা ব্যাপক হারে মর্বিডিট এবং মরটালিটি হয়।মাইকোপ্লাজমা  শ্বাসনালির উপরিভাগে আক্রমণ করে ফলে সাইনোসাইটিস,কংজাংটিভাইটিস হয়।মুখ ফুলে যায়,চোখ ও নাক দিয়ে পানি পড়ে,হাচি এবং কাশি দে্য়।চোখের পাতা ফুলে যায়,শ্বাসকষ্ট,ঘড় ঘড় শব্দ যা রাতের বেলায় বেশি দেখা যায়।শুকিয়ে যায়।অনেক সময় জয়েন্ট ফুলে যায় এবং হাটতে সমস্যা হয়

মাইকোপ্লাজমা সাইনোসাইটিস হলে লেমনেস হয়,জয়েন্ট ফোলে যায় এবং ব্রেস্ট ব্লিস্টার হয়।১ম মাইকোপ্লাজমা,তারপর রানিক্ষেত বা ব্রংকাইটিস, তারপর ই -কলাই।মুরগি থেকে টার্কিতে মাইকোপ্লাজমা বেশি হয় সাইনোসাইটিস,ডিপ্রেশন,,শ্বাসকষ্ট,খাবার কমে যায়,শুকিয়ে যায়।মিক্স ইনফেকশন হলে মরবিডিটি এবং মরটালিটি বেশি হয়।ডিমের চিকন অংশ পাতলা নরম হয় যা মাইকোপ্লাজমা সাইনোভির কারনে হয়।

৭ পোস্টমর্টেম লেসন
এয়ার সেকুলাইটিস,বায়োথলির উপর সাদা আবরন পড়ে(।White exudate)
পেটের ভিতর ফেনা হয় এবং সবুজ বড় লিভার হয়।ফুসফুস শক্ত হয়।ট্রাকিয়া এবং সাইনাস বা অস্তি সন্ধিতে সাদা দধির মত পদার্থ(Cheesy exudate) পাতলা মিউকাস
পেরিহেপাটাইটিস, পেরিকার্ডা ইটিস.পেরিটোনিয়ামের উপর সাদা বর্ণের ফাইব্রিন দেখতে পাওয়া যায়।জরায়ু ফূলে যায় এবং এক্সুডেট পাওয়া যায়।

৮.অধিকাংশ সময় মিক্স ইনফেকশান হয়

লক্ষণঃ চোখ ভেজা,সর্দি ,চোখ ফোলা,মৃত্যহার কম,বেশি মুরগী এক সাথে আক্রান্ত হলে এমন হয়।রোগঃ করাইজা +মাইকোপ্লাজমা

লক্ষণঃ  সর্দি আছে কিন্তু পাতলা, মৃত্যুহার কম,দ্রুত বেশি মুরগি আক্রান্ত হলে।রোগঃ  ব্রংকাইটিস+ মাইকোপাজমা

লক্ষণঃ কম সর্দি,বেশি মুরগি আক্রান্ত,মৃত্যুহার কম বা বেশি, অন্ত্রনালী এবং প্রোভেন্টিকুলাসে রক্তক্ষরণ হলে:রোগঃ  রানিক্ষেত+ মাইকোপ্রাজমা

লক্ষণঃ  হাচি এবং কাশি এক সাথে: মারা যায়।রোগঃ  ই -কলাই+মাইকোপ্রাজমা +করাইজা

লক্ষণঃ গড়্গড় শব্দ (অন্ধকারে) :রোগঃ  ই -কলাই +মাইকোপ্লাজমা.

লক্ষণঃ  গড়গড় শব্দ( দিনে এবং রাতে) :রোগঃ  তীব্র মাইকোপ্লাজমোসিস(ই -কলাই+মাইকোপ্লাজমা +ব্রংকাইটিস.)

 রোগ নির্ণয় পদ্ধতিঃ

রোগের লক্ষণ দেখে

পোস্ট মর্টেম করে

জীবাণূ কালসার করে

বিভিন্ন সেরোলজিকেল টেস্ট করে।(সিরাম এগ্লুটিনেশন টেস্ট)

চিকিৎসাঃ

এটি  সম্পূর্ণ ভাবে দূর করা যায়না ,নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়।

টেট্রাসাইক্লিন,ম্যাক্রোলয়েড( টাইলোসিন,টিলমাইসিন,স্পাইরামাইসিন,ইরাইথ্রোমাইসিন) কোইনোলন।

মাইকোপ্লাজমার ক্ষেত্রে প্রিভেন্টিভ ব্যবস্থা সবচেয়ে লাভজনক কারণ এটি জটিল হয়ে গেলে চিকিৎসা খরচ বেশি  হয় এবং ডিম কমে যায়,তাছাড়া এন্য রোগ চলে আসে।ডিম পাড়া মুরগির ক্ষেত্রে ১০০০ মুরগির জন্য ৪০-৫০গ্রাম টিয়ামোলিন খাবারে ৩০-৩৫ দিন পর পর।চিকিৎসা্র ক্ষেত্রে ১০০০ মুরগির জন্য ৮০-১০০ গ্রাম সাথে্‌ সি টি সি  ৪৫% ৩০০ গ্রাম বা কসুমিক্স ৫০০-৬০০ গ্রাম পানিতে বা খাবারে,তবে চিনি(৫০ গ্রাম ১ লিটারে )বা স্যাকারিন৫ গ্রাম ১০০লিটারে) দিতে হবে ।

বা

টাইলোসিন ২.৫ গ্রাম ১ লিটার পানিতে ৫দিন ।

প্রিভেন্টিভের ক্ষেত্রে ডোজ অর্ধেক হবে।

বা

টিলমাইসিন ১ এম এল  ২লিটার পানিতে ,দরকার হলে সাথে নিওমাইসি দেয়া  যায় ১ গ্রাম ২-৩ লিটার পানিতে।

চিকিৎসা  পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী হয়,নির্দিস্ট করে বলা যায় না.

প্রতিরোধঃ

যেভাবে ছড়ায় সেগুলোকে রোধ করতে হবে।

টিকা ৩ টি স্ট্রেইন আছে,এগুলো হল এফ স্ট্রেইন,৬/৮৫স্ট্রেইন,টি এস ১১ স্ট্রেইন।

৬/৮৫ স্ট্রেইন ৬ সপ্তাহ বা বেশি  মুরগিতে সুক্ষ  স্প্রে এর মাধ্যমে প্রয়োগ করা যায়,এ টিকা লাইভ রানিক্ষেত,ব্রংকাইটিস এবং ল্যারিংগোট্রাইকিস টিকা প্রদান করার ২ সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োগ করা যাবেনা।

স্ট্রেইন টি এস ১১ হিমায়িত অবস্থায় পাওয়া যায় যা মাইনাস ৭০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের নিচে সংরক্ষণ করতে।

এটি ৬-১৪ সপ্তাহের পুলেটের চোখে ফোটার মাধ্যমে দেয়া হয়।এটি রানিক্ষেত ,ব্রংকাইটিস এবং ল্যারিংগোটাইটিস টিকার সাথে দেয়া যায়,এই টিকা দেয়ার ২ সপ্তাহ আগে এবং ৪ সপ্তাহ পর কোন এন্টিবায়োটিক যেমন টেট্রাসাইক্লিন,টাইলোসিন,লিনকোমাইসিন,স্পেটিনোমাইসিন এবং ক্লোইনোলোন গ্রোপ দেয়া যাবেনা।

খামার এমোনিয়া মুক্ত রাখতে হবে।টক্সিন মুক্ত খাদ্য ব্যবহার করতে হবে।প্রোবায়োটিক মাঝে মাঝে খাওয়াতে হবে।হ্যাচিং ডিম ১০-৩০ মিনিট টাইলোসিন টারট্রেট দ্রবনের এর মধ্যে রাখলে মাইকোপ্লাজমা মুক্ত হয়।

সি টি সি ২২০ গ্রাম প্রতি টন খাদ্যে খাওয়ালে ডিমের মাধ্যমে ছড়ায়না।হ্যাচিং ডিম জেন্টামাইসিন দ্রবনে ২-৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ১০-৩০ মিনিট রেখে দিলে জীবানূ দূর হয়।বায়োসিকিউরিটি মেনে চলতে হবে।


Please follow and like us:

About admin

Check Also

বাচ্চা মুরগিতে ১ম সপ্তাহে কেন রোগ কম হয়,২সপ্তাহের দিকে কেন বেশি হয়।

বাচ্চাতে ম্যাটার্নাল এম ডি এ নয়ে আসে যা প্রটেকশন দেয়।আবার ২ সপ্তাহে বা পরের দিকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »
error: Content is protected !!