Breaking News
গরু মোটাতাজাকরণ
গরু মোটাতাজাকরণ

দ্রুততম সময়ে মোটাতাজাকরন ঃবিস্তারিত

দ্রুততম সময়ের মধ্যে গরুকে কি ভাবে মোটা তাজা করবেন?
আজকে আমি এমন একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো যেটা আমি নিজে দুইটা গরুর উপর এপ্লাই করে হাতে নাতে ফল দেখেছি এবং আপনারা যারা গরু মোটা তাজা করণ শিল্পের সাথে জড়িত তারাও প্রয়োগ বা এপ্লাই করে দেখতে পারেন।

মাত্র দেড়মাস(৪৫ দিন) সময়ের মধ্যে অভুতপূর্ব ফল দেখেছি আমি!
গরু মোটাতাজা করণের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন, গরু যখন বাছাই করবেন তখন জাত এবং দৈহিক বৈশিষ্ট্য গুলি যাতে অবশ্যই ভালো হয়। অন্যথায় আশানুরূপ ফল পাবেন না।
মোটাতাজার ক্ষেত্রে যদি আপনি কিছু বিষয় মাথায় রাখেন তবে আপনাকে বেশী বেগ পেতে বা খরচ করতে হবে না গরুকে মোটাতাজা করতে।

যেমন একটা গরুর দৈহিক বৃদ্ধির জন্য কতটুকু গরুটির শক্তির (ক্যালরি) প্রয়োজন,কোন খাদ্য উপাদান গুলিতে কতটুকু শক্তি পাওয়া যায়,কি ধরনের পুষ্টিগুণ আছে ঐ সকল খাদ্য উপাদানের,গরুটিকে কি পরিমাণ এবং কি ধরনের খাদ্য সরবরাহ করতে হবে ইত্যাদি।

আরেকটি মোদ্দা ব্যাপার হচ্ছে এই সকল খাদ্য হজম করতে গরুটিকে কি পরিমাণ ক্যালরি বার্ণ বা শক্তি খরচ করতে হচ্ছে।

এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় এবং আমি দেখেছি এটার উপর দ্রুত মোটাতাজাকরণ অনেকটাই নির্ভর করে। থিওরিট্যাকালি অনেক কথাই বলা হয়ে থাকে, কিন্তু প্রাকটিক্যালি এমন অনেক কিছুই পাবেন যা থিওরির সাথে কম মিলে।

যাক সেসব কথা। দৈহিক বৃদ্ধির জন্য একটা গরুর কতটুকু ক্যালরি বা শক্তির প্রয়োজনীয়তা পরে তার একটা স্ট্যান্ডার্ড হিসাব দেই আপনাদের।

ধরে নিন ১০০০ পাউন্ড ওজনের একটা গরুর দৈনিক গড়ে ১৩ মেগা ক্যালরি শক্তির প্রয়োজন তার যথাযথ দৈহিক বৃদ্ধির জন্য। ১০০০০০০ ক্যালরি = ১ মেগা ক্যালরি। তো,আপনি যখন গরুকে খাদ্য সরবরাহ করবেন তখন যদি এই ক্যালরির ব্যাপারটা মাথায় থাকে তাহলে অবশ্য ভালো ফল পাবেন মোটাতাজা করণের ক্ষেত্রে।

আর সব সময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে বডি মেইন্টেনেন্সে গরুর যাতে অতিরিক্ত ক্যালরি যাতে খরচ না হয়, অর্থাৎ গরুর শারীরিক অবস্থা সবসময় যাতে ঠিক থাকে।

আর সাথে সাথে এটাও খেয়াল রাখবেন, যাতে গরুর খাদ্য হজমে যাতে অতিরিক্ত ক্যালরি বার্ণ না হয়! যদি অতিরিক্ত শক্তিই খরচ হয়ে যায় গরুর আহরিত খাদ্য হজম করতে তবে আহরিত খাদ্য খেয়ে গরুর দৈহিক বৃদ্ধি হবে না তা আগের অবস্থায় থেকে যাবে বা সামান্য ওজন বাড়বে।

তাই গরুকে সরবরাহ করা খাদ্য সহজপাচ্য এবং পুষ্টিকর অথচ সাশ্রয়ী হতে হবে! আর এটাই গরু মোটাতাজাকরণকে বাণিজ্যিক ভাবে লাভজনক করবে।

আমি যে দুইটা গরুর উপর ৪৫ দিন পর্যবেক্ষণ করেছি তাদের খাদ্য হিসাবে দেয়া হয়েছিল দৈনিক ২.৫ কেজি দানাদার খাদ্য। যার মধ্যে ছিল ৪০% ভুট্টার কণা,২০% গমের ভুষি,২০% এংকর ডালের কণা ১০% এংকর ডালের খোসা এবং ১০% দেশী শ্যালোমিল থেকে সংগ্রহ করা চালের কুরা।

তবে এই দানাদার খাদ্যের সংমিশ্রণগুলিকে ভাপে সিদ্ধ করে পরিবেশণের সময় সামান্য রাবগুড় বা মোলাসেস এবং লবণ ও ডিসিপি মিশিয়ে খেতে দেয়া হয়েছিল।

ওরালি এডিই৩ নিয়মিত দেয়া হত দুই ফোটা /লিটার পানিতে। পর্যাপ্ত সাদা পরিষ্কার পানি এবং প্রতিটি গরুকে ১০-১২ কেজি কাঁচা ঘাস দেয়া হয়েছিল।

মাঝে মধ্যে খড় দেয়া হয়েছিল। তবে সবচাইতে কার্যকর ছিল ভাপে সিদ্ধ করে খাবার সরবরাহ করাটা। এটা করাতে গরু তার খাবার সহজেই হজম করতে পারতো, ফলে সেটার উপকারীতা চোখে পড়ার মত ছিল।

মনে রাখতে হবে যে খাবার সরাসরি সিদ্ধ করে দেয়া যাবে না, ভাপে সিদ্ধ করতে হবে।

এটা করার সহজ উপায় হল একটা পাত্রে পানি নিয়ে তা চুলায় দিতে হবে এবং এর উপর একটা চালুনি রেখে তাতে দানাদার খাদ্য গুলি রাখবেন। নীচের গরম পানি থেকে সৃষ্ট বাষ্প চালুনির মধ্যে থাকা খাদ্য গুলি সিদ্ধ করবে। একদম সিদ্ধ হওয়ার প্রয়োজন নেই, আধা সিদ্ধই যথেষ্ট! সরাসরি সিদ্ধ করলে খাদ্য উপাদানে থাকা অনেক ভিটামিন নষ্ট হয়ে যায় এবং খাদ্যের পুষ্টিগুণ কমে যায়! আব বাষ্পায়িত বা স্টীমড করা খাদ্য হজম করা গরুর জন্য অনেকটাই সহজ হয়ে যায় এবং এতে খাদ্যের মধ্যে থাকা ভিটামিন ও খাদ্যের পুষ্টিগুণ ঠিক থাকে। ফলে গরু যথাযথ শক্তি পায় ঐ খাদ্য থেকে।

দুইটি গরুর একটির প্রথম দিনের ওজন(লাইভ ওয়েট) ছিল ১৬৭ কেজি যার ওজন ৪৫ দিন পর হয়েছিল ২০৫ কেজি। অর্থাৎ, ওজন বেড়েছে ৩৮ কেজি এবং এটি ছিল দুই দাঁতের একটি দেশাল গরু!রঙ ছিল কালচে বাদামী।

দ্বিতীয় গরুটির প্রথম দিনের ওজন(লাইভ ওয়েট) ছিল ১৬৫কেজি যার ওজন ৪৫ দিন পর হয়েছিল ২১১কেজি। অর্থাৎ, ওজন বেড়েছে ৪৬ কেজি এবং এটি ছিল দুই দাঁতের লাল রং এর একটি ভালো মানের শাহীওয়াল ক্রস ষাঁড় গরু।

এখানে একটা কথা বলে নিই গরুগুলি হাট থেকে আনার সাথে সাথে কোয়ারেন্টাইন করে তার পরের দিনই এন্ডেক্স ক্রিমিনাশক ওষুধ ও পরবর্তীকালে লিভারটনিক দেয়া হয়েছিল।

এরপর FMD, Anthrax ভেক্সিন গুলি দেয়া হয়েছিল।এর বাহিরে অন্য কোন ওষুধপাতি বা ভিটামিন দেয়া হয় নি।

গরুর জন্য  আলোর প্রয়োজনীয়তা

সকালবেলার ২/৩ ঘন্টার রোদ গরুর জন্য বিশেষ উপকারী! সকালের রোদ হচ্ছে ভিটামিন ‘ডি’ এর প্রধান উৎস! এই ভিটামিন ‘ডি’ গরুর হাঁড় গঠনে সাহায্য করে,রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়,রক্তের চাপ নিয়ন্ত্রণ করে,প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে,সন্ধি প্রদাহ দূর করে ইত্যাদি,আর এসব করে গরুর শরীরে ক্যালসিয়াম ও ফস্ফেটের যথাযথ শোষনের মাধ্যমে।অর্থাৎ, সকালের রোদ থেকে প্রাপ্ত ভিটামিন ‘ডি’ গরুর শরীরে ক্যালসিয়াম ও ফস্ফেট শোষণে সহায়তা করে।

অনেকে বলেন ভাই গরুকে তো যথেষ্ট ক্যালসিয়াম আর ফস্ফেট দিচ্ছি কিন্তু কাজ হচ্ছে না। আসলে গরুর দেহে ক্যালসিয়াম আর ফস্ফেট ঠিক ভাবে শোষিত হচ্ছে না বলেই কাজ হচ্ছে না। এক কথায় বলা যায় যে,সকালবেলার রোদ হচ্ছে গরুর শরীরের জন্য টনিকের মত! হোক সেটা গাভী,বক্না বা ষাঁড়!

গরু মোটাতাজাকরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাপসমূহ

পুস্টি ও সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা

বীফ ফ্যাটেনিং প্রকল্পে গবাদি পশুর জন্য পরিমাণমত সুষম খাদ্য সরবরাহ সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

খাবারের তালিকায় শর্করা, আমিষ, চর্বি ও ভিটামিন এর পরিমাণ সাধারণতঃ খাদ্যের চেয়ে বেশি থাকতে হবে।

প্রচুর পরিমাণ টিউবলের টাটকা পানি সরবরাহ করা প্রয়োজন। আমাদের দেশে গবাদি পশুর সবচেয়ে সহজলভ্য ও সাধারণ খাদ্য হল খড় যার ভিতর আমিষ, শর্করা ও খনিজের ব্যাপক অভাব রয়েছে।

বর্তমানে আধুনিক যুগে খড়কে ইউরিয়া দ্বারা প্রক্রিয়াজাত করলে তার খাদ্যমান বহুগুনে বেড়ে যায়।

তাই অতি অল্প খরচে একটি সুনির্দিষ্ট নিয়মে ইউরিয়া ও চিটাগুড় মিশ্রিত খড় (ইউরিয়া মোলাসেস স্ট্র) খাইয়ে গরুকে মোটাতাজা করা যায়। গরু মোটাতাজা করণের জন্য খাদ্যে ইউরিয়ার ব্যবহার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার ও আধুনিক পন্থা।

গরুকে মোটাতাজা করণের জন্য ইউরিয়া দ্বারা তৈরি যেমন ইউ.এম.এস বা ইউরিয়া মোলাসেস স্ট্র, ইউরিয়া প্রক্রিয়াজাত খড়, মোলাসেস ব্লক, সরাসরি ইউরিয়া যে কোন একটি খাওয়ালেই চলবে।

গরু মোটাতাজাকরণে কেন ইউরিয়া খাওয়াবেন?
ইউরিয়া এক ধরনের রাসায়নিক সার। আমাদের দেশের পশু খাদ্যে আমিষের পরিমাণ খুব কম, কিন্তু দ্রুত বৃদ্ধিতে আমিষের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে।

পশুকে যে খড় আমরা খাওয়াই তাতে খুব সামান্য পরিমাণ আমিষ জাতীয় খাদ্য আছে। পক্ষান্তরে ইউরিয়া সারে ২৪৫% ক্রুড আমিষ আছে।

স্বল্পমূল্যে খড়ে উচ্চ ক্ষমতাপূর্ণ আমিষের সঙ্গে মিশিয়ে খড়ে আমিষের পরিমাণ অনেকাংশে বাড়ানো যায়।

এ ধরনের ইউরিয়া প্রক্রিয়াজাত খড় পশু খেলে হঠাৎ করে শরীর বৃদ্ধি হয় এবং পশুর শরীর বাড়তে থাকে।

এই জন্য পশুর স্বাস্থ্য গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্প বৃদ্ধির জন্য ইউরিয়া ব্যবহার অত্যাবশ্যক, কারণ ইউরিয়া দ্রুত মাংস বাড়ায়।

পশু মোটাতাজাকরণের জন্য সরাসরি ইউরিয়া খাওয়ার পদ্ধতিঃ

ইউ.এম.এম. ইউরিয়া প্রক্রিয়াজাত খড় ও মোলাসেস ব্লক ইত্যাদি যে কোন একটি খাওয়ানো গরু মোটাতাজাকরণের জন্য অত্যাবশ্যক। তবে সরাসরি ইউরিয়া খাওয়ালেও পশুকে মোটাতাজাকরণে সুফল পাওয়া যায়।

এই জন্য পশুকে প্রথম ১৫ দিন ১ চা চামচ বা ৫ গ্রাম ইউরিয়া ২০০ মিলি গ্রাম চিটাগুড়ের সংগে মিশিয়ে তা ১.৫-২ লিটার পানির সংগে মিশিয়ে টুকরা টুকরা করে কাটা খড়ের সংগে মিশিয়ে খাওয়ানো যায়।

১৫ দিন পর শুধু ইউরিয়ার পরিমাণ ৫ গ্রাম বৃদ্ধি করে মোট ১০ গ্রাম বা ২ চা চামচ একই পরিমাণ চিটাগুড়ের সংগে পরিমাণ মত কাটা খড়ের/ঘাসের সংগে মিশিয়ে এবং পরবর্তী ১৫ দিন পরও আরও ৫ গ্রাম বৃদ্ধি করে অর্থাৎ ১৫ গ্রাম বা ৩ চা চামচ একই নিয়মে খাওয়ানো যায়।

পরবর্তী ১৫ দিন পরও আর ৫ গ্রাম মোট ২০ গ্রাম বা ৪ চা চামচ ইউরিয়া খাওয়াতে হবে। প্রতিদিন ২০ গ্রাম বা ৪ চা চামচের বেশি ইউরিয়া খাওয়ানো যাবে না।

এইভাবে সরাসরি ইউরিয়া খাওয়ানোর ৩-৪ মাসের মধ্যে পশুর শরীরের মাংস বেড়ে যাবে।

* গবাদীপশুকে ইউরিয়া প্রক্রিয়াজাত খাবার প্রদানে কিছু কিছু সর্তকতা অবলম্বন করা উচিত।

১। এক বছরের নিচে গরুকে ইউরিয়া খাওয়ানো যাবে না।
২। কখনও মাত্রাতিরিক্ত ইউরিয়া খাওয়ানো যাবে না।
৩। অসুস্থ গরুকে ইউরিয়া খাওয়ানো যাবে না, তবে দূর্বল গরুকে পরিমাণের চেয়ে কম খাওয়ানো যেতে পারে।
৪। কোনক্রমেই ২০ গ্রাম/৪ চা চামচ এর বেশি ইউরিয়া পশুকে দেওয়া যাবে না।
৫। অবশ্য চিটাগুড় ২০০-২৫০ মিলি গ্রাম ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
৬। শুকনা খড়ের সংগে খাওয়াতে হবে।
৭। প্রথম বার বা হঠাৎ করে ২০ গ্রাম ইউরিয়া খাওয়ানো যাবে না। কারণ, এতে পশুর বদহজম হতে পারে এমনকি বিষ ক্রিয়ায় পশু মারা যেতে পারে।

তাই ৫ গ্রাম থেকে শুরু করে আস্তে আস্তে বৃদ্ধি করে সর্বোচ্চ ২০ গ্রাম খাওয়ানো যায়।
৮। ইউরিয়া খাওয়ানোর প্রাথমিক অবস্থা (৭ দিন পর্যন্ত পশুকে ঠান্ডা ছায়াযুক্ত স্থানে বেঁধে রাখতে হবে এবং ঠান্ডা পানি দিয়ে নিয়মিত গোসল করাতে হবে।

প্রকল্প মেয়াদ তিন মাস, শুরু হবে ইউরিয়া মিশ্রিত খাবার প্রদানের দিন থেকে। এই খবার খাওয়ানো শুরুর ১০-১৫ দিন পর হেমাটোপিন বিএস (১০এমএল) ইনজেকশন মাংসপেশীতে প্রয়োগ করলে মোটাতাজা করণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।

উল্লেখিত তিনটি পদ্ধতির মধ্যে খড়ের প্রক্রিয়াজাত করে ইউরিয়া খাওয়ানো সহজ, ব্যয় কম এবং ফল ভালো আসে।

এই প্রকল্পগুলো বিভিন্ন বয়সী হতে পারে। যেমন ৩ বা ৪ মাস মেয়াদি। নির্ভর করছে খামারি কেনা গরুটি কি রকম মোটা করে কি দামে বিক্রি করবেন।

দাম বেশি চাইলে প্রকল্প মেয়াদ দীর্ঘ হবে এবং কম চাইলে প্রকল্প মেয়াদ স্বল্প হবে।

পশু খাদ্য প্রস্ত্ততের শর্তাবলী
১। খাদ্য সুষম হতে হবে
২। সহজপাচ্য হতে হবে
৩। গরুর জন্য পছন্দনীয় হতে হবে
৪। দাম তুলনামূলক কম হতে হবে
৫। ভেজাল বা ধুলাবালিমুক্ত হতে হবে ।

পশু খাদ্য মজুদ প্রণালী:
কিছু খাদ্য আছে যা সারা বছর পাওয়া যায় না, যা মৌসুমে মজুদ করলে কম দামে পাওয়া যায়।

যেমন ঘাস, খড়, খৈল, ডালের ভূষি ইত্যাদি।
খাদ্য যত কম দামে ক্রয় করা যাবে গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্পে লাভ তত বেশি হবে।

কি কি খাদ্য মজুদ করতে হবেঃ

মৌসুম ভিত্তিক, খড়,কাঁচা ঘাস,শস্যদানা যেমন গম ,ভুট্টা বা যে কোন ডাল ,খৈল

খাদ্য মজুদ করার ক্ষেত্রে কিছু সাবধানতাঃ

মজুদের ঘর অবশ্যই মাঁচাযুক্ত হতে হবে।
* গমের ভূষি অবশ্যই শুকনা হতে হবে
* কুড়া ২ মাসের বেশি মজুদ করলে ছত্রাক পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে ২ মাস পর পর মজুদ করা যেতে পারে।
* ডাল/কলাইর ভূষি ৪ মাস পর্যন্ত মুজদ করা যায়
* খৈল মজুদের ক্ষেত্রে খৈলকে ভাংগিয়ে না রেখে আস্ত রাখতে হবে এতে খৈল বৎসরকাল সংরক্ষণ করা যায়।
* ঝিনুকের গুঁড়া বৎসরকাল সংরক্ষণ করা যায়
* ইউরিয়া যখন প্রয়োজন বস্তা ধরে কিনলেই চলবে।
* মোলাসেস এর ক্ষেত্রে চিনিকল থেকে সারা বছরের প্রয়োজনীয় পরিমাণ মজুদ করা যেতে পারে অথবা সময়ে সময়ে ক্রয় করা যেতে পারে।
* সকল ক্ষেত্রেই খাদ্য অবশ্যই বৃষ্টির পানিতে যেন না ভিজে সে দিকে নজর দিতে হবে। গুঁড়া জাতীয় খাদ্যের ক্ষেত্রে শুকনা নিমের পাতা বস্তার ভেতর মাঝে মাঝে কিছু দিয়ে রাখলে পোকা ধরবে না।

সুষম দানাদার খাদ্য:
কুড়া, গমের ভূষি, চাউলের খুদী, খৈল, কলাই, মটর, খেশারী, শুকনা রক্ত কুড়া ইত্যাদি গরুর দানাদার খাদ্য।

পশু মোটাতাজাকরণের জন্য খাদ্যে দানাদার জাতীয় খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা বেশি।

বাংলাদেশে যে সমস্ত খাদ্য সচারচর পাওয়া যায় তা দ্বারা স্বল্প খরচে সুষম দানাদার খাদ্য তৈরির মডেল দেওয়া হলো।

সুষম খাদ্যের মডেল অনুসরণ করে মোটাতাজাকরণের গরুকে নিয়মিত খাওয়ালে আশানুরূপ ফল পাওয়া যাবে।

বীফ ফ্যাটেনিং বা গরু মোটাতাজাকরণের জন্য গবাদী পশুকে খাদ্য খাওয়ানোর নির্দেশাবলী
* পরিষ্কার ও সুষম খাদ্য খাওয়াতে হবে।
* আশঁযুক্ত খাবার ২-৩ ইঞ্চি টুকরা করে খাওয়াতে হবে।
* দানাদার খাবার চূর্ণবিচূর্ণ করে খাওয়াতে হবে।
* দানাদার খাবারে ৪-৬ ভাগ চর্বি থাকতে হবে।
* দৈহিক ওজন অনুসারে প্রয়োজনীয় খাবার একবারে না দিয়ে ২৪ ঘন্টায় ৫-৬ বারে দিলে পশুর হজম ক্রিয়া ভাল হয়।
* খাদ্যে দানাদার, খড়, কাঁচাঘাস ও পানির অনুপাত ১ঃ৩ঃ৫ঃ১০/১৫ হতে হবে।
* খড় খাওয়ানোর পূর্বে ২-৩ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখলে খাদ্যের মান বাড়ে।
* প্রাণিদেহে শতকরা ৬০-৭০ ভাগ পানি তাই ১০-১৫ ভাগ পানি সরবরাহ করতে হবে।
* পশুদেহ যেহেতু ১৬ ভাগ আমিষ দ্বারা গঠিত সুতরাং খাদ্যে শতকরা ১৬ ভাগের বেশি আমিষ থাকতে হবে।
* শুধুমাত্র খড় না দিয়ে এর সাথে দানাদার খাবার, ইউরিয়া, মোলাসেস, পানি কাঁচাঘাস মিশিয়ে খাওয়ালে খাদ্যের মান বৃদ্ধি হয়।
* গরু মোটাতাজাকরণের জন্য সরিষার খৈল বেশি উপকারী।

* পশুর বদ-হজম, পেট-ফাপা ও পাতলা পায়খানা হলে দানাদার খাদ্য খাবার দেওয়া যাবে না।

শুকনা খড় :

২ বছরের গরুর জন্য দৈহিক ওজনের শতকরা ৩ ভাগ এবং এর অধিক বয়সের গরুর জন্য শতকরা ২ ভাগ, শুকনা খড় ২-৩ ইঞ্চি করে কেটে এক রাত লালীগুড়-চিটাগুড় মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে প্রতিদিন সরবরাহ করতে হবে। পানি : চিটাগুড়=২০:১।

কাঁচা ঘাস :

প্রতিদিন ৬-৮ কেজি তাজা ঘাস বা শস্য জাতীয় তাজা উদ্ভিদের উপজাত দ্রব্য যেমন- নেপিয়ার, পারা, জার্মান, দেশজ মাটি কলাই, খেসারি, দুর্বা ইত্যাদি সরবরাহ করতে হবে।

দানাদার খাদ্য :

প্রতিদিন কমপক্ষে ১-২ কেজি দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হবে.kk

পানি:

গরুকে পর্যাপ্ত পরিমাণ পরিষ্কার জীবানুমূক্ত বিশূদ্ধ পানি সরবরাহ করতে হবে।

নিচে ১০০ কেজি দানাদার খাদ্যের তালিকা দেয়া হলো-

গম ভাঙা/গমের ভুসি: ৪০ কেজি
চালের কুঁড়া: ২৩.৫ কেজি
খেসারি বা যে কোনো ডালের ভুসি: ১৫ কেজি
তিলের খৈল/সরিষার খৈল: ২০ কেজি
লবণ: ১.৫ কেজি।
উল্লিখিত তালিকা ছাড়াও বাজারে প্রাপ্ত ভিটামিন মিনারেল মিশ্রণ ১% হারে খাওয়াতে হবে।

*১০০ কেজি দৈহিক ওজনের গবাদিপশুর খাদ্য তালিকা।
———————————-
ধানের খড় = ২ কেজি
সবুজ ঘাস = ৪-৫ কেজি (ঘাস না থাকলে খড় ব্যবহার করতে হবে
দানদার খাদ্যে মিশ্রন = ১.২-২.৫ কেজি
ইউরিয়া = ৩৫ গ্রাম (নিয়মানুযায়ী)
চিটাগুড়া = ২০০-৪০০ গ্রাম
লবণ = ২৫ গ্রাম
দানাদার খাদ্যের সাথে লবন, ইউরিয়া, চিটাগুড় এক সাথে মিশিয়ে দিনে ২ বার দিতে হবে। ধানের খড় এবং কাঁচা ঘাস ছোট ছোট করে কেটে এক সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ালে ভালো ফল পাওয়া যায়।

*১৫০ কেজি ওজনের গবাদিপশুর খাদ্য তালিকা।
———————————-
ধানের খড় = ৩ কেজি
কাঁচা ঘাস = ৫-৬ কেজি
দানাদার খাদ্যের মিশ্রন = ১.৫-২ কেজি
চিটাগুড় = ৫০০ গ্রাম
ইউরিয়া = ৪৫ গ্রাম (নিয়মানুয়ায়ী)
লবন = ৩৫ গ্রাম

*১৫০-২০০ কেজি ওজনের পশুর খাদ্য তালিকা 

ধানের খড় = ৪ কেজি
কাঁচা ঘাস = ৫-৬ কেজি
দানাদার খাদ্যের মিশ্রন = ১.৫-২ কেজি
চিটাগুড় = ৫০০ গ্রাম
ইউরিয়া = ৪৫ গ্রাম (নিয়মানুযায়ী)
লবন = ৩৫ গ্রাম
মোটাতাজা করনের গরুকে সর্বক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ আঁশ জাতীয় খাবার (খড়, কাঁচা ঘাস) এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে হবে।

মুক্তি মাহমুদ (পি ডি এফ)

গরু মোটাতাজাকরণের জন্য অত্যাবশ্যকীয় পদক্ষেপসমূহ

বাণিজ্যিকভাবে গরু মোটাতাজাকরণের জন্য কমপক্ষে ১২টি অত্যাবশ্যকীয় পদক্ষেপসমূহের প্রতি বিশেষভাবে নজর দিতে হয়ঃ
1. প্রকল্প চালুর উপযুক্ত সময়।
2. সঠিক জাতের গবাদি পশু নির্বাচন ও ক্রয়।
3. বিভিন্ন পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করণ।
4. বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক প্রদান
5. গবাদি পশুর স্বাস্থ্যসম্মত বাসস্থানের ব্যবস্থা করণ।
6. সুষম ও পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য সরবরাহ ও নিশ্চিত করণ।
7. পশুর দৈহিক ওজন রেকর্ড করণ
8. পশুর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা
9. এঁড়ে গরু খোঁজা করণ
10. মোটাতাজাকরণ প্রকল্পের জন্য মেয়াদকাল।
11. বাজারজাতকরণের উপযুক্ত সময় নির্ধারণ।
12. গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্পে বিনিয়োগ ও মুনাফার তথ্য রেকর্ডকরণ।

১ । প্রকল্প চালুর উপযুক্ত সময়
আমাদের দেশের আবহাওয়ায় যে কোন সময় এ প্রকল্প শুরু করা যায়। তবে আমাদের দেশে ঈদুল আজহার সময় গবাদি পশুর ব্যাপক চাহিদা থাকে।

এই উৎসবে যাতে পশু বিক্রয় করা যায় সেই অনুপাতে প্রকল্প শুরু করতে হবে অর্থাৎ উৎসবের ৪/৫ মাস পূর্বে প্রকল্প চালু করা যেতে পারে।

এছাড়া যে সময় গবাদি পশুর দাম কম থাকে এবং পশু খাদ্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায় সেই সময় প্রকল্প শুরু করা যায়। যে সময়ে পশুর দাম চড়া ও খাদ্যাভাব এবং রোগের প্রকোপ বেশি সেই সময় প্রকল্প হাতে নেওয়া যাবে না।

তবে নভেম্বর/ডিসেম্বর মাসে আরম্ভ করলে ভাল হয়। কারণ, এ সময় একটু ঠান্ডা থাকে ফলে গবাদিপশুকে এক স্থান হতে ক্রয় করে অন্য স্থানে সহজেই পরিবহন করা সহজ হয় এবং পশু নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারে।

প্রকল্প চালুর উপযুক্ত সময় নির্ভর করবে যেখানে খামার করা হবে সেখানকার আবহাওয়া, গরু ও খাদ্যের বাজার দর ইত্যাদি।

২। পশু নির্বাচন ও ক্রয়
উপযুক্ত জাত ও ধরন অনুসারে পশু নির্বাচন এবং ক্রয়ের ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ অনুসরণ করতে হবে।

ক) পশুর বয়সঃ মোটাতাজাকরণ বা বীফ ফ্যাটেনিং কর্মসূচীর জন্য ২.৫-৪ বৎসরের এঁড়ে/ষাড় গরু ক্রয় করা উচিত।

যদিও এঁড়ে বাছুরের বয়স নিয়ে দ্বিমত রয়েছে। কেউ কেউ এঁড়ে বাছুরের বয়স ১.৫-২ বছর হওয়া উচিত বলে মনে করেন।

তবে এই বয়সের পশু প্রচুর খেতে পারে না এবং খেলেও হজম করতে পারে না।

প্রকৃতপক্ষে এ বয়সের ষাঁড় গরুর শরীর ঠিকমত বাড়তে ৫/৬ মাস লেগে যায়। এজন্য ২ বছরের উর্দ্ধে এমন পশু হলেই ভাল হয়। সাধারণত ২-৪ বছরের সংকর জাতের ষাঁড় গরুর বৃদ্ধির হার অন্যান্য বয়সের তুলনায় বেশী হওয়ায় মোটাতাজাকরণের ক্ষেত্রে এ ধরনের বয়সের পশু নির্বাচন করতে হয়।

পশুর বয়স নির্ণয় পদ্ধতিঃ

গবাদিপশুর বয়স ফার্ম থেকে ক্রয় করলে ফামের্র রেজিষ্টার হতে পাওয়া যায়।

এছাড়া পশু মালিকের নিকট থেকে তথ্য নিয়ে জানা যায়। বাছুর গরুর জন্মগ্রহণের রেজিষ্টার সংরক্ষিত না থাকলে পশুর দাঁত ও শিং এর রিং দেখে বয়স নির্ণয় করা যায়।

গবাদিপশুর যখন দুটি স্থায়ী ইনসিজর দাঁত ওঠে তখন পশুটির বয়স হবে ১৯-২৪ মাস অর্থাৎ গরুর বয়স ২ বছর।

এর পর প্রতি ৬ মাস অন্তর অন্তর এক জোড়া করে স্থায়ী দাঁত উঠে।

একটি ৩.৫-৪.০ বছরের গরুর সামনের নিচের পাটিতে প্রতি পার্শ্বে ৪টি করে মোট ৮টি দাঁত উঠবে।

গরুর বাচ্চা ভূমিষ্ট হওয়ার সময় অথবা বাছুরের ১ সপ্তাহ বয়সে সামনের অস্থায়ী দাঁত গজায় এবং ৫-৬ মাসের মধ্যে অস্থায়ী দাঁত সবগুলো উঠে যায়।

অস্থায়ী ও স্থায়ী দাঁতের মধ্যে পার্থক্য হলো দাঁতগুলো কিছুটা সরু, দুই দাঁতের মাঝে ফাঁকা থাকবে এবং স্থায়ী দাঁত মোটা হয়ে ওঠবে এবং দুই দাঁতের গোড়ায় কোন ফাঁকা থাকবে না।

এছাড়া শিং দেখে বয়স নির্ণয়ের বিষয়টি আরো সহজ। এ ক্ষেত্রে শিং এ গোলাকার রিং দেখে বয়স নিরুপন করা হয়। প্রতি রিংয়ের সংখ্যা +২ = পশুর প্রকৃত বয়স।
এছাড়া বলদ গরুকে মোটাতাজাকরণের প্রকল্পের জন্য ক্রয় করে দেখা গেছে বলদের স্বাস্থ্য তাড়াতাড়ি বৃদ্ধি হয় এতে অনেক প্রকল্প গ্রহণকারীগণ এড়ে গরুর চেয়ে বেশি লাভবান হয়েছেন।

(খ) মোটাতাজাকরণের জন্য জাত বাছাই

পশু নির্বাচনে গরুর জাত একটি গরুত্ব পূর্ণ বিষয়। Beef Fatteningএর জন্য আমাদের দেশে মাংসল কোন পৃথক গরুর জাত নেই। গরু মোটাতাজাকরণের জন্য উন্নত দেশে মাংসল জাত ব্যবহার হয়। উন্নত দেশে বিভিন্ন ধরনের মাংসের জন্য পৃথক জাতগুলো হলোঃ এবারডিন, এ্যানগাস, বীফমাষ্টার ও হেরিফোর্ড ডেভন ইত্যাদি
যেহেতু আমাদের দেশে মাংসের জন্য পৃথক কোন জাত নাই সুতরাং দেশে প্রাপ্ত গরু-বাছুর বা সংকর জাতের পশু বিশেষভাবে মুল্যায়ন (Individual Performences)করে যাচাই-বাছাই করা উচিত এবং যে সময় গরুর বাজার দর কম থাকে সে সময়ে ক্রয় করা উচিত। গরু মোটাতাজা করার জন্য দেশী জাতের ষাঁড়, শাহীওয়াল সংকর ও ফ্রিজিয়ান সংকর জাতের ষাঁড় ক্রয় করা বাঞ্ছনীয়।

গবাদি পশু ক্রয় করার সময় নিম্নবর্ণিত বৈশিষ্ট্যগুলো বিচার করে সতর্কতার সহিত পশু নির্বাচন করতে হবে।

বৈশিষ্ট্যাবলীঃ
১.পশুটির পূর্ব বংশ ভাল কিনা তা ভাল করে জেনে নিন।
২. মাথা ও গলা খাটো এবং চওড়া হতে হবে।
৩. কপাল প্রশস্ত হওয়া আবশ্যক।
৪. গায়ের চামড়া ঢিলে ঢালা হওয়া উচিৎ।
৫ .কাঁধ খুব পুরু ও মসৃন।
৬. পিঠ চ্যাপ্টা, অনেকটা সমতল।
৭. কোমরের দুই পার্শ্ব প্রশস্ত ও পুরু।
৮. বুক প্রশস্ত ও বিস্তৃত হতে হবে।
৯. শরীরে হাড়ের আকার মোটা হতে হবে।
১০. সামনে পা দুটো খাটো ও শক্ত সামর্থ হতে হবে।
১১. শিং খাটো ও মোটা হওয়া বাঞ্চনীয়।
১২. এঁড়ে/বলদ গরু হওয়া বাঞ্চনীয়।
১৩. লেজ খাটো হতে হবে।
১৪. স্বাভাবিক ভাবে পশুটি শারিরীক রোগ ক্রটি মুক্ত হতে হবে (খোড়া, গায়ে ঘা, অন্ধ, শরীরে টিউমার, রক্তশূন্যতা ইত্যাদি)।
১৫. স্বাভাবিক ভাবে দাঁড়ানো অবস্থায় পশুটিকে এশটি আয়তক্ষেত্রের মত হতে হবে।
১৬. বদমেজাজী গরু ক্রয় করা উচিত নয়। (মানুষ দেখলে গুতো দেওয়া অভ্যাস)।

গরু ক্রয়ের উৎসঃগরু ক্রয়ের উৎস আগে থেকে ঠিক করতে হবে। যেমন-কোন ফার্ম থেকে সংকর জাতের শুধু ষাঁড় বাছুর সংগ্রহ করা যেতে পারে।

স্থানীয় কোন বাজার থেকেও দেশী বা সংকর জাতের ষাঁড় গরু ক্রয় করা যেতে পারে গরু ক্রয়ের পর পরিবহণ একটি সমস্যা হতে পারে দু তিন কিলোমিটার পথ হলে গরুকে হাঁটিয়ে নিয়ে আসা যেতে পারে দূরের পথ হলে অবশ্যই পরিবহণ ব্যবহার করতে হবে এবং সে খরচ পোষাতে হলে গরুর সংখ্যা বেশি হতে হবে। গরুকে বেশি হাঁটিয়ে নিলে যে পরিশ্রম হবে তা কাটিয়ে উঠতে সময় নিবে এবং খরচও বেশি হবে।

৩। নির্বাচিত পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা

১. গরুগুলো কোন রোগে আক্রান্ত কিনা তা ভালোভাবে পরীক্ষা করে সুষ্ঠু চিকিৎসা করে সুস্থ করে তুলতে হবে।
২. পশুকে ডি-ওয়ামিং এর মাধ্যমে কৃমিমুক্ত করতে হবে। কারণ আমাদের দেশের প্রায় ১০০% পশু কৃমিতে আক্রান্ত হয় এ জন্য পশু ক্রয় করার পর অবশ্যই কৃমিনাশক ঔষধ প্রয়োগ করতে হবে। এর পর ঐ পশুকে ৩/৪ মাস পর পর পুনরায় কৃমিনাশক ঔষধ খাওয়াতে হবে। বাজারে বিভিন্ন ধরনের ব্রড স্প্রেকটাম কৃমিনাশক ঔষধ পাওয়া যায়।

বিভিন্নি রোগের বিরুদ্ধে টীকা/প্রতিষেধক

গরুকে কোন টিকা দেওয়া না থাকলে ক্রয় করার ৭ দিন পর থেকে বিভিন্ন ধরনের টিকা ১৫ দিন পর পর দিতে হবে। নিম্নে বর্ণিত টিকা পশুকে প্রয়োগ করতে হয় যেমন- তড়কা, ক্ষুরা, বাদলা, গলাফুলা ইত্যাদি।
প্রকল্পের গরুকে কমপক্ষে ২টি ভ্যাকসিন অবশ্যই করা উচিত।

একটি হল তড়কা রোগ ও অপরটি হলো ক্ষুরা বা F.M.Dরোগের টিকা। কারণ তড়কা একটি মারাত্মক রোগ।

তড়কা টিকা প্রদান না করলে যে কোন সময় পশু মারা যেতে পারে। এ রোগ হলে চিকিৎসার সুযোগ দেয় না। তড়কা রোগের ভ্যাকসিন ১ মিলি চামড়ার নীচে দিতে হবে বছরে একবার মাত্র।
এছাড়া ক্ষুরা F.M.Dরোগ ও একটি মারাত্মক রোগ যদিও এ রোগে বড় পশু মারা যায় না তথাপি এ রোগে পশুর ওজন এত কমে যায় অর্থাৎ দুর্বল হয়ে পড়ে যে ৬ মাসে সেই পূর্বের অবস্থায় পশুর স্বাস্থ্য ফিরে আসে না এবং শরীরে ৬ মাস পর্যন্ত এ রোগের জীবাণু বসবাস করে।

তাই তড়কা ভ্যাকসিন দেয়ার ১০-১৬ দিন পর F.M.Dভ্যাকসিন দিতে হবে। F.M.D ভ্যাকসিন বিভিন্ন স্ট্রেন মিশ্রণে হয় তাই প্রস্তত কারকের নির্দেশ মোতাবেক যেমন সরকারী মহাখালী পশু সম্পদ গবেষণাগার হতে তৈরি ভ্যাকসিন ১টি স্ট্রেন দ্বারা হলে ৩ সিসি ২টি স্ট্রেন দ্বারা তৈরি হলে ৬ সিসি চামড়ার নীচে দিতে হবে।

এছাড়া F.M.D Vaccine বিদেশী হলে স্ট্রেন ও প্রস্ত্তত কারকের নির্দেশ মোতাবেক এটি সাধারণত ৫ সিসি বা ২ সিসি চামড়ার নীচে দিতে হয়। F.M.Dভ্যাকসিন প্রতি ৪ মাস পর পর দেওয়ার নিয়ম।
উল্লেখিত ২টি ভ্যাকসিন প্রয়োগ করলে গরু মোটাতাজাকরণের পশু সংক্রামক রোগের হাত হতে মোটামুটি রক্ষা পাবে। তবে সুযোগ থাকলে বাদলা ও গলাফুলা রোগের টিকা প্রয়োগ করতে হবে।

৪। স্বাস্থ্যসম্মত বাসস্থান
গরুর বাসস্থানের উদ্দেশ্য
1. বিভিন্ন প্রতিকুল অবস্থা থেকে রক্ষা করা
2. বিভিন্ন বন্য প্রাণী এবং চোর ও দুষ্কৃতিকারীদের উপদ্রব থেকে রক্ষা করা
3. আরামদায়ক পরিবেশে বাসের সুযোগ প্রদান
4. স্বাস্থ্য সম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ
5. সহজে পরিচর্যা করার সুবিধা
6. সহজে খাদ্য প্রদানের সুবিধা

উম্মুক্ত ঘরের বিবরণ
* এই ঘর চারিদিকে শক্ত কাঠ অথবা লোহার পাইপ দ্বারা ঘেরা থাকে
* ঘেরার মধ্যে গরু ছাড়া অবস্থায় থাকে
* ঘেরার বাইরে পাত্রে খাবার দেওয়া হয়
* ঘেরার ভিতর দিয়ে মাথা ঢুকিয়ে তারা খাদ্য খেতে পারে এবং পাত্রে দেওয়া পানি পান করতে পারে।
* ঘেরার মধ্যে তাদের স্বতন্ত্র বিশ্রামের জন্য নির্দিষ্ট স্থান থাকে
* ঘেরার মধ্যে পশু স্বাধীনভাবে বিচরণ করতে পারে
* সকালে-বিকালে ঘেরার ভিতরের গোবর পরিষ্কার করে হোস পাইপের সাহায্যে ধুয়ে দেওয়া হয়।
* কখনও একই ঘরের মধ্যে বিপরীত লিংঙ্গের গবাদি পশু একত্রে রাখা হয় না
* এই প্রকারের ঘরের শুধু ছাউনি থাকে এবং চারিদিকে খোলামেলা থাকে। ঝড়-বৃষ্টি ও শীতের সময় চারিদিকে চটের পর্দা ঝুলিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকে
* উন্মুক্ত ঘরে গরু প্রতি ৮-৯ বর্গমিটার স্থান বা ৮৫-৯৫ বর্গফুট স্থান প্রয়োজন
* ষাঁড় গরু এই জাতীয় ঘরে রাখা কিছুটা সমস্যা হয়।

৫। মোটাতাজাকরণ প্রকল্পের জন্য মেয়াদঃ
গরু মোটাতাজাকরণের জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদ কাল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ গরু দ্রুত মোটাতাজা হওয়ার নির্দিষ্ট সময় থাকে এবং এটি বিভিন্ন ফ্যাক্টরসমূহ যেমন- গরুর জাত, বয়স, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, আবহাওয়া, মালিকের ব্যবস্থাপনা ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা ইত্যাদির উপর নির্ভরশীল।

উল্লেখিত ফ্যাক্টরসমূহ বিবেচনা করে গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্পের মেয়াদকাল কম পক্ষে ৪ মাস হওয়া বাঞ্জনীয়।

তবে সময়কাল নির্ভর করবে গরুর শারীরিক বৃদ্ধির হার ও বর্তমান বাজার দর।

এ জন্য প্রতি সপ্তাহে গরুর ওজন নিতে হবে এবং শারীরিক বৃদ্ধির হার হিসাব করতে হবে যে প্রতিদিন কত গ্রাম বা কেজি মাংস শরীরে বৃদ্ধি হচ্ছে।

যদি গরুর খাদ্য খাওয়া খরচের তুলনায় দ্রুত বাড়তে থাকে সে সময় গরু বিক্রয় না করা ভাল। তবে গরুর বাজার মূল্য যখন বেশী পাওয়া যাবে তখনই বিক্রয় বিবেচনা করা যায়।

গরু মোটাতাজাকরণের মেয়াদকাল সাধারণতঃ ৪ মাস, ৬ মাস, ৮ মাস ও ১ বছর ব্যাপী করা যায়। আমাদের দেশের গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্পের মেয়াদকাল ৪ মাস ও ৬ মাস হয়ে থাকে। অধিকন্ত গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্পের মেয়াদকাল সম্পূর্ণরুপে নির্ভর করবে প্রকল্প গ্রহনকারীর উপর।

৬। গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্পে বিনিয়োগ ও মুনাফার তথ্য রেকর্ডকরণ।
গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্পে বিনিয়োগ ও মুনাফার তথ্য রেকর্ডকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

কারণ প্রকল্পে কত টাকা কি কি বিষয়ে খরচ হচ্ছে, কোন জাতের ও কোন বয়সের গরুও মাংসবৃদ্ধির হার কেমন, প্রতিটি গরু থেকে কত আয় হচ্ছে এবং বিক্রয় মূল্য অবশ্যই লিখিত ভাবে না থাকলে প্রকল্পটি লাভজনক কিনা তা বলা যাবে না।

কারণ, ব্যানিজিকভাবে গরু মোটাতাজাকরণ খামার হতে হলে অবশ্যই গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্পে বিনিয়োগ ও মুনাফা তথ্য রেকর্ডকরণ করতে হবে।

৭। গরু বাজারজাতকরণ
অধিক লাভে গরু বিক্রয় গরু মোটাতাজাকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এ বিষয়ে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে নচেৎ পশুর প্রকৃত মূল্য পাওয়া যাবে না। ফলে প্রকল্প ফলপ্রসূ হবে না। তাই যে অঞ্চলে হাট বাজারে বেশী দাম পাওয়া যায় সেই সব হাটে এ গরু গুলোকে বিক্রয় করতে হবে।

এছাড়া আমাদের দেশের ঈদুল আজহার মৌসুমে বিক্রয় করলে এসব গরুর দাম বেশী পাওয়া যায়। এছাড়া মাংসের জন্য এসব গরুর চাহিদা আমাদের দেশে সব অঞ্চলে আছে তবে ঢাকা ও চট্টগ্রামে এড়েঁ বা হেভী বলদ গরুর চাহিদা ব্যাপক।

তাই ঢাকা বা চট্টগ্রামে বিক্রয় করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে অথবা ঐ অঞ্চলের গরুর ব্যবসায়ী বা কসাইদের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

Collected From Facebook Radical Agro.

গরু মোটাতাজাকরণে চাই সঠিক খাদ্য ব্যস্থাপনা

বীফ ফ্যাটেনিং প্রকল্পে গবাদি পশুর জন্য পরিমাণমত সুষম খাদ্য সরবরাহ সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

খাবারের তালিকায় শর্করা, আমিষ, চর্বি ও ভিটামিন এর পরিমাণ সাধারণতঃ খাদ্যের চেয়ে বেশি থাকতে হবে।

প্রচুর পরিমাণ টিউবলের টাটকা পানি সরবরাহ করা প্রয়োজন। আমাদের দেশে গবাদি পশুর সবচেয়ে সহজলভ্য ও সাধারণ খাদ্য হল খড় যার ভিতর আমিষ, শর্করা ও খনিজের ব্যাপক অভাব রয়েছে।

বর্তমানে আধুনিক যুগে খড়কে ইউরিয়া দ্বারা প্রক্রিয়াজাত করলে তার খাদ্যমান বহুগুনে বেড়ে যায়। তাই অতি অল্প খরচে একটি সুনির্দিষ্ট নিয়মে ইউরিয়া ও চিটাগুড় মিশ্রিত খড় (ইউরিয়া মোলাসেস স্ট্র) খাইয়ে গরুকে মোটাতাজা করা যায়।

গরু মোটাতাজা করণের জন্য খাদ্যে ইউরিয়ার ব্যবহার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার ও আধুনিক পন্থা। গরুকে মোটাতাজা করণের জন্য ইউরিয়া দ্বারা তৈরি যেমন ইউ.এম.এস বা ইউরিয়া মোলাসেস স্ট্র, ইউরিয়া প্রক্রিয়াজাত খড়, মোলাসেস ব্লক, সরাসরি ইউরিয়া যে কোন একটি খাওয়ালেই চলবে।

গরু মোটাতাজাকরণে কেন ইউরিয়া খাওয়াবেন?

ইউরিয়া এক ধরনের রাসায়নিক সার। আমাদের দেশের পশু খাদ্যে আমিষের পরিমাণ খুব কম, কিন্তু দ্রুত বৃদ্ধিতে আমিষের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে।

পশুকে যে খড় আমরা খাওয়াই তাতে খুব সামান্য পরিমাণ আমিষ জাতীয় খাদ্য আছে। পক্ষান্তরে ইউরিয়া সারে ২৪৫% ক্রুড আমিষ আছে। স্বল্পমূল্যে খড়ে উচ্চ ক্ষমতাপূর্ণ আমিষের সঙ্গে মিশিয়ে খড়ে আমিষের পরিমাণ অনেকাংশে বাড়ানো যায়।

এ ধরনের ইউরিয়া প্রক্রিয়াজাত খড় পশু খেলে হঠাৎ করে শরীর বৃদ্ধি হয় এবং পশুর শরীর বাড়তে থাকে। এই জন্য পশুর স্বাস্থ্য গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্প বৃদ্ধির জন্য ইউরিয়া ব্যবহার অত্যাবশ্যক, কারণ ইউরিয়া দ্রুত মাংস বাড়ায়।

পশু মোটাতাজাকরণের জন্য সরাসরি ইউরিয়া খাওয়ার পদ্ধতিঃ

ইউ.এম.এম. ইউরিয়া প্রক্রিয়াজাত খড় ও মোলাসেস ব্লক ইত্যাদি যে কোন একটি খাওয়ানো গরু মোটাতাজাকরণের জন্য অত্যাবশ্যক। তবে সরাসরি ইউরিয়া খাওয়ালেও পশুকে মোটাতাজাকরণে সুফল পাওয়া যায়। এই জন্য পশুকে প্রথম ১৫ দিন ১ চা চামচ বা ৫ গ্রাম ইউরিয়া ২০০ মিলি গ্রাম চিটাগুড়ের সংগে মিশিয়ে তা ১.৫-২ লিটার পানির সংগে মিশিয়ে টুকরা টুকরা করে কাটা খড়ের সংগে মিশিয়ে খাওয়ানো যায়। ১৫ দিন পর শুধু ইউরিয়ার পরিমাণ ৫ গ্রাম বৃদ্ধি করে মোট ১০ গ্রাম বা ২ চা চামচ একই পরিমাণ চিটাগুড়ের সংগে পরিমাণ মত কাটা খড়ের/ঘাসের সংগে মিশিয়ে এবং পরবর্তী ১৫ দিন পরও আরও ৫ গ্রাম বৃদ্ধি করে অর্থাৎ ১৫ গ্রাম বা ৩ চা চামচ একই নিয়মে খাওয়ানো যায়। পরবর্তী ১৫ দিন পরও আর ৫ গ্রাম মোট ২০ গ্রাম বা ৪ চা চামচ ইউরিয়া খাওয়াতে হবে। প্রতিদিন ২০ গ্রাম বা ৪ চা চামচের বেশি ইউরিয়া খাওয়ানো যাবে না। এইভাবে সরাসরি ইউরিয়া খাওয়ানোর ৩-৪ মাসের মধ্যে পশুর শরীরের মাংস বেড়ে যাবে।

সাবধানতা
১। কোনক্রমেই ২০ গ্রাম/৪ চা চামচ এর বেশি ইউরিয়া পশুকে দেওয়া যাবে না।
২। ছয় মাসের নিচের পশুকে খাওয়ানো যাবে না।
৩। অবশ্য চিটাগুড় ২০০-২৫০ মিলি গ্রাম ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
৪। শুকনা খড়ের সংগে খাওয়াতে হবে।
৫। প্রথম বার বা হঠাৎ করে ২০ গ্রাম ইউরিয়া খাওয়ানো যাবে না। কারণ, এতে পশুর বদহজম হতে পারে এমনকি বিষ ক্রিয়ায় পশু মারা যেতে পারে। তাই ৫ গ্রাম থেকে শুরু করে আস্তে আস্তে বৃদ্ধি করে সর্বোচ্চ ২০ গ্রাম খাওয়ানো যায়।

পশু খাদ্য প্রস্ত্ততের শর্তাবলী
১। খাদ্য সুষম হতে হবে
২। সহজপাচ্য হতে হবে
৩। গরুর জন্য পছন্দনীয় হতে হবে
৪। দাম তুলনামূলক কম হতে হবে
৫। ভেজাল বা ধুলাবালিমুক্ত হতে হবে ।

পশু খাদ্য মজুদ প্রণালী
কিছু খাদ্য আছে যা সারা বছর পাওয়া যায় না, যা মৌসুমে মজুদ করলে কম দামে পাওয়া যায়। যেমন ঘাস, খড়, খৈল, ডালের ভূষি ইত্যাদি।
খাদ্য যত কম দামে ক্রয় করা যাবে গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্পে লাভ তত বেশি হবে।
কিকি খাদ্য মজুদ করতে হবেঃ মৌসুম ভিত্তিক, খড়,কাঁচা ঘাস,শস্যদানা যেমন গম ,ভুট্টা বা যে কোন ডাল ,খৈল
খাদ্য মজুদ করার ক্ষেত্রে কিছু সাবধানতাঃমজুদের ঘর অবশ্যই মাঁচাযুক্ত হতে হবে।
· গমের ভূষি অবশ্যই শুকনা হতে হবে
· কুড়া ২ মাসের বেশি মজুদ করলে ছত্রাক পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে ২ মাস পর পর মজুদ করা যেতে পারে।
· ডাল/কলাইর ভূষি ৪ মাস পর্যন্ত মুজদ করা যায়
· খৈল মজুদের ক্ষেত্রে খৈলকে ভাংগিয়ে না রেখে আস্ত রাখতে হবে এতে খৈল বৎসরকাল সংরক্ষণ করা যায়।
· ঝিনুকের গুঁড়া বৎসরকাল সংরক্ষণ করা যায়
· ইউরিয়া যখন প্রয়োজন বস্তা ধরে কিনলেই চলবে।
· মোলাসেস এর ক্ষেত্রে চিনিকল থেকে সারা বছরের প্রয়োজনীয় পরিমাণ মজুদ করা যেতে পারে অথবা সময়ে সময়ে ক্রয় করা যেতে পারে।
· সকল ক্ষেত্রেই খাদ্য অবশ্যই বৃষ্টির পানিতে যেন না ভিজে সে দিকে নজর দিতে হবে। গুঁড়া জাতীয় খাদ্যের ক্ষেত্রে শুকনা নিমের পাতা বস্তার ভেতর মাঝে মাঝে কিছু দিয়ে রাখলে পোকা ধরবে না।
সুষম দানাদার খাদ্য
কুড়া, গমের ভূষি, চাউলের খুদী, খৈল, কলাই, মটর, খেশারী, শুকনা রক্ত কুড়া ইত্যাদি গরুর দানাদার খাদ্য। পশু মোটাতাজাকরণের জন্য খাদ্যে দানাদার জাতীয় খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা বেশি। বাংলাদেশে যে সমস্ত খাদ্য সচারচর পাওয়া যায় তা দ্বারা স্বল্প খরচে সুষম দানাদার খাদ্য তৈরির মডেল দেওয়া হলো। সুষম খাদ্যের মডেল অনুসরণ করে মোটাতাজাকরণের গরুকে নিয়মিত খাওয়ালে আশানুরূপ ফল পাওয়া যাবে।

সারণী ২২.১ গরু মোটাতাজাকরণের জন্য সুষম খাদ্যের তালিকা
১ কেজি খাদ্যে কত পরিমাণ কি কি খাদ্য উপাদান থাকে তা নিম্নে দেওয়া হইল
খাদ্য উপাদান পরিমাণ
গমের ভূষি ১৭০ গ্রাম
চাউলের কুড়া (তুষ ছাড়া) ১৫০ গ্রাম
তিলের/সরিষার খৈল ২৫০ গ্রাম
চাউলের খুদ (জাউ রান্না) ১০০ গ্রাম
কলাই বা ছোলা ভাংগা (খেশারী/মাটি/কাউপি) ২০০ গ্রাম
ডিসিপি ২০ গ্রাম
লবণ ২৫ গ্রাম
ভিটামিন প্রিমিক্স ৫ গ্রাম
মোট ১০০০ গ্রাম বা ১ কেজি
খাদ্য সরবরাহের নিয়ম
বীফ ফ্যাটেনিং বা গরু মোটাতাজাকরণের জন্য গবাদি পশুকে প্রতিদিন নিম্নবর্ণিত হারে খাদ্য সরবরাহ করা প্রয়োজন।

সারণী ২২.২ বিভিন্ন ওজনের পশুর জন্য খাদ্য সরবরাহ
পশুর বিবরণ খাদ্যের নাম

ইউএমএস বা ইউরিয়া প্রক্রিয়াজাত খড় বা শুধু খড় দানাদার খাদ্য সুষম সবুজ ঘাস
১০০ কেজির কম ওজনের জন্য ২ কেজি ২.৫-৩ কেজি ৪-৫ কেজি
১০০-১৫০ কেজি ওজনের পশুর জন্য ৩ কেজি ৩.০-৩.৫ কেজি ৭-৮ কেজি
১৫০-২০০ কেজি এবং ততউর্দ্ধ ওজনের পশুর জন্য ৪ কেজি ৪.০-৪.৫ কেজি ৮-১২ কেজি

বীফ ফ্যাটেনিং বা গরু মোটাতাজাকরণের জন্য গবাদী পশুকে খাদ্য খাওয়ানোর নির্দেশাবলী
· পরিষ্কার ও সুষম খাদ্য খাওয়াতে হবে।
· আশঁযুক্ত খাবার ২-৩ ইঞ্চি টুকরা করে খাওয়াতে হবে।
· দানাদার খাবার চূর্ণবিচূর্ণ করে খাওয়াতে হবে।
· দানাদার খাবারে ৪-৬ ভাগ চর্বি থাকতে হবে।
· দৈহিক ওজন অনুসারে প্রয়োজনীয় খাবার একবারে না দিয়ে ২৪ ঘন্টায় ৫-৬ বারে দিলে পশুর হজম ক্রিয়া ভাল হয়।
· খাদ্যে দানাদার, খড়, কাঁচাঘাস ও পানির অনুপাত ১ঃ৩ঃ৫ঃ১০/১৫ হতে হবে।
· খড় খাওয়ানোর পূর্বে ২-৩ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখলে খাদ্যের মান বাড়ে।
· প্রাণিদেহে শতকরা ৬০-৭০ ভাগ পানি তাই ১০-১৫ ভাগ পানি সরবরাহ করতে হবে।
· পশুদেহ যেহেতু ১৬ ভাগ আমিষ দ্বারা গঠিত সুতরাং খাদ্যে শতকরা ১৬ ভাগের বেশি আমিষ থাকতে হবে।
· শুধুমাত্র খড় না দিয়ে এর সাথে দানাদার খাবার, ইউরিয়া, মোলাসেস, পানি কাঁচাঘাস মিশিয়ে খাওয়ালে খাদ্যের মান বৃদ্ধি হয়।
· গরু মোটাতাজাকরণের জন্য সরিষার খৈল বেশি উপকারী।

· পশুর বদ-হজম, পেট-ফাপা ও পাতলা পায়খানা হলে দানাদার খাদ্য খাবার দেওয়া যাবে না।

পশুর দৈহিক ওজন রেকর্ড করণঃ
এই প্রকল্পে পশুর ওজন নিয়মিত রেকর্ড করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

প্রকল্প চালুর শুরুতে ক্রয়কৃত সবগুলো পশুর ওজন পৃথক পৃথক ভাবে রেকর্ড করতে হবে এবং ১৫ দিন পর পর প্রতিটি পশুর ওজন খাবার সরবরাহের সংগে বৃদ্ধি হচ্ছে কিনা তা যাচাই করা যায়। তাতে পালনের অগ্রগতি বুঝা যায়।

প্রকৃত পশুর ওজন নির্ণয় করার জন্য ব্যাল্যান্স ব্যবহার করাই উত্তম ।

তবে সহজ ১টি ফরমুলাতে পশুর ওজন বের করা যায়। তবে পশুর সঠিক ওজনের কাছাকাছি ফলাফল পাওয়া যায়। ক্লথ টেপের সাহায্যে পশুর দৈর্ঘ্য ও বুকের মাপ নেওয়া হয়।
পশুর দৈর্ঘ্য= পশুর লেজের উপরের পিন পয়েন্ট থেকে অথবা পাছার উঁচু হাড় হতে সোল্ডর পয়েন্ট বা গলার মাঝ বরাবর পর্যন্ত।
বুকের বেড়= সামনের ২ পায়ের ঠিক পিছনের দিক বরাবর
এছাড়াও গবাদিপশুর বুকের বেড় থেকে তাদের দৈহিক ওজন নির্ণয় করা যায়।
নিচে তালিকা দেয়া হল
সারণী ২২.৩ঃ গবাদিপশুর বুকের বেড় থেকে তাদের দৈহিক ওজন নির্ণয়

বুকের বেড় (ইঞ্চি) দৈহিক ওজন (কেজি) বুকের বেড় (ইঞ্চি) দৈহিক ওজন (কেজি) বুকের বেড় (ইঞ্চি) দৈহিক ওজন (কেজি)
২৫ ১৯ ৩৯ ৬৪ ৫৩ ১৬২
২৬ ২০ ৪০ ৬৯ ৫৪ ১৭১
২৭ ২১ ৪১ ৭৩ ৫৫ ১৮১
২৮ ২৩ ৪২ ৭৮ ৫৬ ১৯১
২৯ ২৫ ৪৩ ৮৩ ৫৭ ২০০
৩০ ২৭ ৪৪ ৮৭ ৫৮ ২১০
৩১ ৩০ ৪৫ ৯২ ৫৯ ২১৯
৩২ ৩২ ৪৬ ৯৬ ৬০ ২২৯
৩৩ ৩৫ ৪৭ ১০১ ৬১ ২৩৪
৩৪ ৩৯ ৪৮ ১১৩ ৬২ ২৪৭
৩৫ ৪৩ ৪৯ ১২৩ ৬৩ ২৫৬
৩৬ ৪৯ ৫০ ১৩৩ ৬৪ ২৬৫
৩৭ ৫৪ ৫১ ১৪৩ ৬৫ ২৭৫
৩৮ ৫৯ ৫২ ১৫২ ৬৬ ২৮৬
পশুর ওজন রেকর্ড এর মাধ্যমে ঐ পশুর দৈনিক মাংস বৃদ্ধিও পরিমাণ জানা যায়। এটি নির্ণয় করার জন্য নিম্নের ফরমূলা ব্যবহার করা হয়।
পশুর দৈনিক মাংস বৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়াল= প্রকল্পের গরুর বিক্রয় করার সময় ওজন- প্রকল্প শুরুর সময় পশুর ওজন
সময়ের ব্যবধান (দিন)

পশুর অন্যান্য যত্ন ও সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনাঃ

পশুর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের উন্নতির আর একটি বাস্তব পদক্ষেপ। গরু মোটাতাজাকরণের জন্য কিকি করণীয় তা নিম্নে আলোচিত হলো।
১। প্রতিদিন পশুকে শরীর মেজে গোসল করাতে হবে এবং সংগে ব্রাস করলে ভাল হয়। এতে শরীরের পশম উজ্জ্বল ও চকচক করবে।
২। খাদ্য পরিবেশনার উপরও গরুর খাদ্য গ্রহণের তারতম্য হয়। যেমনঃ
· নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিদিন খাদ্য সরবরাহ করা।
· গরুর সম্মুখে সর্বদা খাদ্য রাখা।
· খাদ্য সরবরাহের আগে অবশ্যই পাত্র পরিষ্কার করা।
· দানাদার খাদ্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ মেপে ২ বারে (সকালে ও বিকালে) পরিবেশন করা।
· দানাদার খাদ্য আধা ভাঙ্গা অবস্থায় ভিজিয়ে খেতে অভ্যস্ত হলে সেভাবে দেয়া।
· শুকনা দানাদার খাদ্য দিলে খাদ্য গ্রহণের পরপরই পানি দেয়া।
· খড় কেটে ভিজিয়ে পরিবেশন করলে কম নষ্ট হয় এবং খাদ্যের গ্রহণযোগ্যতাও বাড়ে ।
· খাদ্যে অবশ্যই মাটি/বালি থাকা খাদ্য পচা, বাসি, অতি পুরাতন না হওয়া।
৩। গরু যদি নিজ ইচ্ছায় নির্দিষ্ট পরিমাণ খাবার না খায় তবে বাঁশের চোঙা বা প­াষ্টিকের বোতলে করে জোর করে পেট ভর্তি করে খাওয়াতে হবে। কারণ পশু যত খাবে তত তাড়াতাড়ি শরীরের মাংস বাড়বে।
৪। প্রয়োজনের অতিরিক্ত নড়াচড়া করতে দেওয়া যাবে না।
৫। কোন প্রকার কাজে খাটানো যাবে না।
৬। উত্তেজিত বা বিরক্তত করা যাবে না।
৭। মশা-মাছি, আটালী থেকে পশুকে রক্ষা করতে হবে।
৮। পশুর কাছে সব সময় টিউবয়েলের টাটকা পানি থাকবে।
৯। বাসস্থান সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
১০। সপ্তাহে একদিন বাসস্থান, খাবার পাত্র জীবাণুনাশক ঔষধ যেমন আয়োসান (Iosan), সোডা, ডেটল/ স্যাভলন দ্বারা পরিষ্কার করতে হবে।
১১। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন আলো বাতাস ঘরে রাখতে হবে।
১২। খাদ্য সংরক্ষণের জায়গা পরিষ্কার রাখতে হবে যাতে ইঁদুর বা কুকুর নষ্ট না করে।
১৩। দৈহিক ওজনের উপর ভিত্তি করে দানাদার খাদ্য সংরক্ষণ করতে হবে।
১৪। নিয়মিত কৃমিনাশক ঔষধ দিতে হবে।
১৫। প্রতিদিন পরিমাণমত কাঁচা ঘাস ও খড় দিতে হবে।
১৬। খাদ্যে ইউরিয়া দিতে হবে।
১৭। প্রতিনিয়ত বি- ভিটামিন দিতে হবে।
১৮। সময়মত সংক্রামক রোগ সমূহের টিকা দিতে হবে।
১৯। বাহিরের লোকজনকে গরুর কাছে যেতে দেওয়া যাবে না।
২০। সপ্তাহে একবার গরুর ওজন নিতে হবে।
২১। পশু অসুস্থ হলে সঙ্গে সঙ্গে নিটস্থ পশু হাসপাতালে নিতে হবে।

Collected From Facebook Radical
গরু মোটাতাজা করণের একটি সুষম খাদ্য তালিকা :
———————————-
শুকনা খড় : ২ বছরের গরুর জন্য দৈহিক ওজনের শতকরা ৩ ভাগ এবং এর অধিক বয়সের গরুর জন্য শতকরা ২ ভাগ, শুকনা খড় ২-৩ ইঞ্চি করে কেটে এক রাত লালীগুড়-চিটাগুড় মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে প্রতিদিন সরবরাহ করতে হবে।

পানি : চিটাগুড়=২০:১।কাঁচা ঘাস : প্রতিদিন ৬-৮ কেজি তাজা ঘাস বা শস্য জাতীয় তাজা উদ্ভিদের উপজাত দ্রব্য যেমন- নেপিয়ার, পারা, জার্মান, দেশজ মাটি কলাই, খেসারি, দুর্বা ইত্যাদি সরবরাহ করতে হবে।

দানাদার খাদ্য : প্রতিদিন কমপক্ষে ১-২ কেজি দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হবে।
নিচে ১০০ কেজি দানাদার খাদ্যের তালিকা দেয়া হলো- গম ভাঙা/গমের ভুসি ৪০ কেজি
চালের কুঁড়া ২৩.৫ কেজি
খেসারি বা যে কোনো ডালের ভুসি ১৫ কেজি
তিলের খৈল/সরিষার খৈল ২০ কেজি
লবণ ১.৫ কেজি।
উল্লিখিত তালিকা ছাড়াও বাজারে প্রাপ্ত ভিটামিন মিনারেল মিশ্রণ ১% হারে খাওয়াতে হবে।

*১০০ কেজি দৈহিক ওজনের গবাদিপশুর খাদ্য তালিকা।
———————————-
ধানের খড় = ২ কেজি
সবুজ ঘাস = ৪-৫ কেজি (ঘাস না থাকলে খড় ব্যবহার করতে হবে
দানদার খাদ্যে মিশ্রন = ১.২-২.৫ কেজি
ইউরিয়া = ৩৫ গ্রাম (নিয়মানুযায়ী)
চিটাগুড়া = ২০০-৪০০ গ্রাম
লবণ = ২৫ গ্রাম
দানাদার খাদ্যের সাথে লবন, ইউরিয়া, চিটাগুড় এক সাথে মিশিয়ে দিনে ২ বার দিতে হবে। ধানের খড় এবং কাঁচা ঘাস ছোট ছোট করে কেটে এক সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ালে ভালো ফল পাওয়া যায়।

*১৫০ কেজি ওজনের গবাদিপশুর খাদ্য তালিকা।
———————————-
ধানের খড় = ৩ কেজি
কাঁচা ঘাস = ৫-৬ কেজি
দানাদার খাদ্যের মিশ্রন = ১.৫-২ কেজি
চিটাগুড় = ৫০০ গ্রাম
ইউরিয়া = ৪৫ গ্রাম (নিয়মানুয়ায়ী)
লবন = ৩৫ গ্রাম

*১৫০-২০০ কেজি ওজনের পশুর খাদ্য তালিকা ধানের।
———————————-
ধানের খড় = ৪ কেজি
কাঁচা ঘাস = ৫-৬ কেজি
দানাদার খাদ্যের মিশ্রন = ১.৫-২ কেজি
চিটাগুড় = ৫০০ গ্রাম
ইউরিয়া = ৪৫ গ্রাম (নিয়মানুযায়ী)
লবন = ৩৫ গ্রাম
মোটাতাজা করনের গরুকে সর্বক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ আঁশ জাতীয় খাবার (খড়, কাঁচা ঘাস) এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে হবে।
* গবাদীপশুকে ইউরিয়া প্রক্রিয়াজাত খাবার প্রদানে কিছু কিছু সর্তকতা অবলম্বন করা উচিত।
———————————-
১। এক বছরের নিচে গরুকে ইউরিয়া খাওয়ানো যাবে না।
২। কখনও মাত্রাতিরিক্ত ইউরিয়া খাওয়ানো যাবে না।
৩। অসুস্থ গরুকে ইউরিয়া খাওয়ানো যাবে না, তবে দূর্বল গরুকে পরিমাণের চেয়ে কম খাওয়ানো যেতে পারে।
৪। ইউরিয়া খাওয়ানোর প্রাথমিক অবস্থা (৭ দিন পর্যন্ত পশুকে ঠান্ডা ছায়াযুক্ত স্থানে বেঁধে রাখতে হবে এবং ঠান্ডা পানি দিয়ে নিয়মিত গোসল করাতে হবে। প্রকল্প মেয়াদ তিন মাস, শুরু হবে ইউরিয়া মিশ্রিত খাবার প্রদানের দিন থেকে। এই খবার খাওয়ানো শুরুর ১০-১৫ দিন পর হেমাটোপিন বিএস (১০এমএল) ইনজেকশন মাংসপেশীতে প্রয়োগ করলে মোটাতাজা করণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। উল্লেখিত তিনটি পদ্ধতির মধ্যে খড়ের প্রক্রিয়াজাত করে ইউরিয়া খাওয়ানো সহজ, ব্যয় কম এবং ফল ভালো আসে। এই প্রকল্পগুলো বিভিন্ন বয়সী হতে পারে। যেমন ৩ বা ৪ মাস মেয়াদি। নির্ভর করছে খামারি কেনা গরুটি কি রকম মোটা করে কি দামে বিক্রি করবেন। দাম বেশি চাইলে প্রকল্প মেয়াদ দীর্ঘ হবে এবং কম চাইলে প্রকল্প মেয়াদ স্বল্প হবে।
(তথ্য:সংগৃহীত)

আয় বৃদ্ধিমূলক গরু মোটাজাতকরণ প্রকল্প

গরু মোটাজাতকরণ

গরু মোটাজাতকরণ প্রকল্প
প্রতিটি পরিবার কিংবা ব্যক্তির একক বা একমুখী রোজগারে সংসার চালানো অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই অনেকেই বাড়তি একটা কিছু করতে চায়, কিন্তু সুযোগ হয় না কিংবা হলেও কি করবে, তা খুঁজে পায় না।

মোটাজাতকরণের জন্য গরু কিনতে গিয়ে কয়েকটি দিক খেয়াল রাখতে হবে, যেমন:
১) ১ বছর বয়সের ঊর্ধ্বে গরু কিনতে হবে (১২-১৫ মাস বয়সের গরু মোটাজাতকরনের জন্য ভালো)

২) গায়ের চামড়া ঠিলা-পাতলা, পাঁচরের হাড় চেপ্টা, পায়ের মোট এবং শুধু মাত্র খাবারের অভাবে যে সব গরু শুকিয়ে গেছে এমন গরু কম মূল্যে কিনতে হবে।

৩) মনে রাখতে হবে গর্ভবতী গাভীকে ইউরিয়া মিশ্রিত খড় খাওয়ানো যাবে না। নির্বাচিত গরুকে প্রকল্প মতে প্রক্রিয়াজাত ইউরিয়া মিশ্রিত খড় খাওয়ানোর পূর্বে কিছু চিকিৎসা দিয়ে উপকুক্ত করে নিতে হবে।

ক. গরুর শরীরে কোনো ক্ষত থাকলে সে স্থানে ডেটল বা স্যাভলন দিয়ে ধুয়ে পরিস্কার করে নেগোভোন মলম লাগিয়ে প্রয়োজনে ব্যাণ্ডেজ করে রাখতে হবে, যাতে ক্ষত স্থানে মশা-মাছি কিংবা ময়লা জমতে না পারে।
খ. ক্ষত গভীর হলে তা না শুকানো পর্যন্ত আবার পরিস্কার করে মাঝে মধ্যেই মলম ব্যবহার করতে হবে।
গ. ক্ষত সেরে যাওয়ার পর গরুর গায়ের সেসব পরজীবী যেমন-উকুন, আঠালি, সিঁদুর পোকা ইত্যাদি মুক্ত করতে হবে।

নিয়মাবলীঃ
একটি গরুর জন্য নিউসিডল বা এনোসটোল পাউডার ১০ কেজি পানিতে ২.৫ চা চামচ মিশাতে হবে। তারপর বাসতি থেকে কিছুটা দূরে ফাঁকা জায়গায় নিয়ে প্রথমে ভালোভাবে নাক-মুখ বেঁধে কান, চোখ, মুখ ছাড়া শরীরের সর্বত্র ওষুধ মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে কানের ভেতর, চোখের চতুপারর্শ্বে, নাক, মুখ লেজের গোড়া, শরীরের সঙ্গে পায়ের সংযোগস্থলসহ সকল সংকীর্ণ জায়গায় লাগাতে হবে। ওধুষ লাগিয়ে ২০-২৫ মিনিট অপেক্ষা করার পরে পরিস্কার পানি দ্বারা শরীরের সর্বত্র ভালোভাবে ধুয়ে ওষুধমুক্ত করতে হবে। ওষুধ লাগানোর ২/১ দিন পর যদি দেখা যায় ভালোভাবে বাহিত্যক পরজীবী মুক্ত হয়নি তবে ১৫ দিন পরে আবার একই নিয়মে ওষুধ লাগাতে হবে।

সর্তকতা
১. যে ব্যক্তি ঔষুধ লাগাবেন, তিনি গরুর শরীরের ক্ষতস্থান সম্পর্কে সচেতন থাকবেন, কারণ এই ঔষুধ বিষ জাতীয়।
২. গরুর শরীরে ক্ষতস্থানকে (যদি ভালোভাবে না শুকিয়ে তাকে) এড়িয়ে ঔষদ প্রয়োগ করতে হবে।
৩. গরুকে ঔষুধ প্রয়োগের পর ভালোভাবে গোসল করিয়ে উক্ত স্থান থেকে কিছুটা দূরে নিয়ে মুখের বাঁধন খুলতে হবে কারণ গরু স্বভাবত ঔষুধ লাগা ঘাস বা পানি খেয়ে বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে।

অভ্যন্তরীণ পরজীবী মুক্ত করণ
১. গোল কৃমি
২. কলিজা বা পাতা কৃমি।

গোল কৃমি
গোল কৃমি মুক্ত করতে নিচের যে কোন একটি ঔষুধ ব্যবহার করা যায়
মেনাফেঙ্ পাউডার = ১ প্যাকেট ১টি গরুর জন্য
অথবা নেমাফেক্স বড়ি = ৩টি বড়ি একটি পূর্ণ বয়স্ক গরুর জন্য = ২টি বড়ি মাঝারি ও ছোট বাছুরের জন্য
অথবা কোপেন পাউডার = ১টি প্যাকেট একটি গরুর জন্য
অথবা রিনটাল পাউডার = ৭.৫ মি গ্রাম প্রতি কেজি দৈহিক ওজনের জন্য
বিঃদ্রঃ রিনটাল পাউডার ব্যবহার করা সবচেয়ে ভাল কারণ এই ঔষুধে ছোট বড় মাঝারি সব ধরনের কৃমি মারা যায়। গোল কৃমির ঔষুধ খাওয়ানোর পরে সবল গরু ৩ দিন এবং অন্যান্য গরুর ক্ষেত্রে ৭দিন অপেক্ষা করে তবে পাতা কৃমির ঔষুধ প্রয়োগ করতে হবে।

২. কলিজা বা পাতা কৃমি মুক্তকরণের নিয়মাবলী
চামড়ার নিচে টোডাক্স ইনজেকশন করতে হবে। মাত্রা সাধারণভাবে ২/৩ সিসি প্রাপ্তবয়স্ক গরুর জন্য। মোটাতাজা করতে হলে ঙ্গ সিসি পরিমান ইনজেকশন করতে হয়। এই ঔষুধ প্রয়োগের ৩ দন অপেক্ষা করার পরে ইউরিয়া মিশ্রিত খাবার খাওয়ানো আরম্ভ করতে হবে। টোডাঙ্ ইনজেকশন ৭ দিন পর পর ২ বার দিতে হবে এবং তখন খাবার বন্ধ করার কোনো প্রয়োজন নাই। গরুকে প্রদানের জন্য দানাদার খাদ্যের মিশ্রণ তৈরির নিয়মঃ

১. নং মিশ্রণ
ক. তিলের খৈল = ৪ কেজি
খ. চালের কুঁড়া = ৪ কেজি
গ. গমের ভূষি = ৪ কেজি
ঘ. যে কোন ডালের ভূষি = ৪ কেজি

২নং মিশ্রণ
ক. গম ভাঙ্গা =৪কেজি
খ. তিলের খৈল = ৪ কেজি
গ. চালের কুঁড়া = ৪ কেজি
ঘ. ডাল ভাঙ্গা, খেসারি = ৪ কেজি
কৃমি দূর করার পরে গরুকে ইউরিয়া মিশ্রিত উন্নত খাবার দিতে হবে।

গরুকে সাধারণত তিনটি পদ্ধতিতে মিশ্রিত উন্নত খাবার দিতে হবে।
১। আঁশ জাতীয় খড় খাদ্যের সাথে মিশিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে
২। দানাদার জাতীয় খাদ্যের সাথে সরাসরিভাবে এবং
৩। ইউরিয়া মোলাসেস বুকের মাধ্যমে

খড়ের সাথে মিশিয়ে ইউরিয়া খাওয়ানোর নিয়ম
খড় প্রক্রিয়াজাতকরণ ১০ কেজি খড় ১০ কেজি পানি এবং ৫০০ গ্রাম ইউরিয়া বায়ুরোধী বড় বাঁশের ডোল (পাত্রবিশেষ) বা ইটের তৈরি হাউজে ৭-১০ দিন আবদ্ধ বায়ুরোধী অবস্থায় রেখে দিতে হবে।
তারপর ঐ খড় বের করে রৌদ্রে শুকিয়ে নিতে হবে যেন ইউরিয়া তীব্র গন্ধ কিছুটা কমে আসে। এই খড় গরু প্রথমে না খেলে কিছুটা চিড়াগুড় মিশিয়ে দেয়া যেতে পারে (২০০-৫০০ গ্রাম) গরুকে প্রথমে দৈনিক ৫ গ্রাম থেকে শুরু করে সবের্াচ্চ ৫০-৬০ গ্রাম ইউরিয়া খাওয়ানো যায়। ছোট গরুর ক্ষেত্রে ৩০-৪০ গ্রামের বেশী দৈনিক খাওয়ানো উচিত নয়।
দানাদার খাদ্যে ইউরিয়া ব্যবহার করে বিভিন্ন ওজনের গবাদি পশুর দৈনিক খাদ্যের তালিকা।

১০০ কেজি দৈহিক ওজনের গবাদিপশুর খাদ্য তালিকা।
ধানের খড় = ২ কেজি
সবুজ ঘাস = ২ কেজি (ঘাস না থাকলে খড় ব্যবহার করতে হবে
দানদার খাদ্যে মিশ্রন = ১.২-২.৫ কেজি
ইউরিয়া = ৩৫ গ্রাম (নিয়মানুযায়ী)
চিটাগুড়া = ২০০-৪০০ গ্রাম
লবণ = ২৫ গ্রাম
দানাদার খাদ্যের সাথে লবন, ইউরিয়া, চিটাগুড় এক সাথে মিশিয়ে দিনে ২ বার দিতে হবে। ধানের খড় এবং কাঁচা ঘাস ছোট ছোট করে কেটে এক সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ালে ভালো ফল পাওয়া যায়।

১৫০ কেজি ওজনের গবাদিপশুর খাদ্য তালিকা
খড় = ৩ কেজি
কাঁচা ঘাস = ৫-৬ কেজি
দানাদার খাদ্যের মিশ্রন = ১.৫-২ কেজি
চিটাগুড় = ৫০০ গ্রাম
ইউরিয়া = ৪৫ গ্রাম (নিয়মানুয়ায়ী)
লবন = ৩৫ গ্রাম

১৫০-২০০ কেজি ওজনের পশুর খাদ্য তালিকা
ধানের খড় = ৪ কেজি
কাঁচা ঘাস = ৫-৬ কেজি
দানাদার খাদ্যের মিশ্রন = ১.৫-২ কেজি
চিটাগুড় = ৫০০ গ্রাম
ইউরিয়া = ৪৫ গ্রাম (নিয়মানুযায়ী)
লবন = ৩৫ গ্রাম

মোটাতাজা করনের গরুকে সর্বক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ আঁশ জাতীয় খাবার (খড়, কাঁচা ঘাস) এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে হবে। গবাদীপশুকে ইউরিয়া প্রক্রিয়াজাত খাবার প্রদানে কিছু কিছু সর্তকতা অবলম্বন করা উচিত।

১। এক বছরের নিচে গরুকে ইউরিয়া খাওয়ানো যাবে না।
২। কখনও মাত্রাতিরিক্ত ইউরিয়া খাওয়ানো যাবে না
৩। গর্ভাবস্থায় ইউরিয়া খাওয়ানো যাবে না।
৪। অসুস্থ গরুকে ইউরিয়া খাওয়ানো যাবে না, তবে দূর্বল গরুকে পরিমাণের চেয়ে কম খাওয়ানো যেতে পারে।
৫। ইউরিয়া খাওয়ানোর প্রাথমিক অবস্থা (৭ দিন পর্যন্ত পশুকে ঠান্ডা ছায়াযুক্ত স্থানে বেঁধে রাখতে হবে এবং ঠান্ডা পানি দিয়ে নিয়মিত গোসল করাতে হবে। প্রকল্প মেয়াদ তিন মাস, শুরু হবে ইউরিয়া মিশ্রিত খাবার প্রদানের দিন থেকে।

এই খবার খাওয়ানো শুরুর ১০-১৫ দিন পর হেমাটোপিন বিএস (১০এমএল) ইনজেকশন মাংসপেশীতে প্রয়োগ করলে মোটাতাজা করণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।

উল্লেখিত তিনটি পদ্ধতির মধ্যে খড়ের প্রক্রিয়াজাত করে ইউরিয়া খাওয়ানো সহজ, ব্যয় কম এবং ফল ভালো আসে। এই প্রকল্পগুলো বিভিন্ন বয়সী হতে পারে। যেমন ৩ বা ৪ মাস মেয়াদি। নির্ভর করছে খামারি কেনা গরুটি কি রকম মোটা করে কি দামে বিক্রি করবেন। দাম বেশি চাইলে প্রকল্প মেয়াদ দীর্ঘ হবে এবং কম চাইরে প্রকল্প মেয়াদ স্বল্প হবে। তবে অনেকেই ঈদের বাজারকে চিন্তা করে তার ৪/৫ মাস আগে থেকে প্রকল্প শুরু করেন।
তথ্য সূত্র: শাইখ সিরাজ রচিত ‘মাটি ও মানুষের চাষবাস’ গ্রন্থ থেকে সংগ্রহীত

গরু মোটাতাজাকরণের প্রয়োজনীয় তথ্য

বাংলাদেশে কোরবানির মূল উপাদান হচ্ছে গরু। আর সেটা যদি হয় মোটাতাজা, নাদুস-নুদুস তবে আনন্দের সীমা থাকে না। এ উপলক্ষকে সামনে রেখে যারা গরু মোটাতাজাকরণে আগ্রহী তাদের আগে থেকেই প্রস্তুতি নেয়া দরকার। এজন্য দরকার গরু মোটাতাজাকরণে সঠিক ব্যবস্থাপনা। এটি কখন ও কিভাবে করলে বেশি লাভবান হওয়া যায় তার বৈজ্ঞানিক ও আধুনিক পদ্ধতি নিম্নে দেয়া হলো-

অধিক মাংস উৎপাদনের জন্য ২-৩ বছর বয়সের শীর্ণকায় গরুকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় খাদ্য সরবরাহ করে হৃষ্টপুষ্ট গরুতে রূপান্তরিত করাকে গরু মোটাতাজাকরণ বলে আখ্যায়িত করা হয়। এটির গুরুত্ব হচ্ছে- দরিদ্রতা হ্রাসকরণ, অল্প সময়ে কম পুঁজিতে অধিক মুনাফা অর্জন, অল্প সময়ের মধ্যে লাভসহ মূলধন ফেরত পাওয়া, প্রাণিজ আমিষের ঘাটতি পূরণ, স্বল্পমেয়াদি প্রযুক্তি হওয়ার কারণে পশু মৃত্যুর হার কম, কৃষিকার্য থেকে উৎপাদিত উপজাত পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে সহজেই মাংস উৎপাদন করা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে আয় বৃদ্ধি করা।

গরু মোটাতাজাকরণের আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি সম্পর্কে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশু পালন অনুষদের পশু বিজ্ঞান বিভাগের বিজ্ঞানী ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মুজাফফর হোসেন জানান-
প্রয়োজনীয় উপাদান, পদ্ধতি ও মোটাতাজাকরণের সঠিক সময় : বয়সের ওপর ভিত্তি করে সাধারণত ৩ মাসের মধ্যে গরু মোটাতাজাকরণ করা যায়। অনেক সময় ৪-৬ মাসও লাগতে পারে। গরু মোটাতাজাকরণের জন্য সুবিধাজনক সময় হচ্ছে বর্ষা এবং শরৎকাল যখন প্রচুর পরিমাণ কাঁচা ঘাস পাওয়া যায়। চাহিদার ওপর ভিত্তি করে কোরবানি ঈদের কিছুদিন আগ থেকে গরুকে উন্নত খাদ্য ও ব্যবস্থাপনা দিয়ে মোটাতাজাকরণ লাভজনক।

স্থান নির্বাচন : খামার স্থাপনের জন্য স্থান নির্বাচনে নিম্ন লিখিত বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ শুষ্ক ও উঁচু জায়গা হতে হবে, যাতে খামার প্রাঙ্গণে পানি না জমে থাকে। হ খোলামেলা ও প্রচুর আলো-বাতাসের সুযোগ থাকতে হবে। খামারে কাঁচামাল সরবরাহ ও উৎপাদিত দ্রব্যাদি বাজারজাতকরণের জন্য যোগাযোগ সুবিধা থাকতে হবে। পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের সুষ্ঠু ব্যবস্থা থাকতে হবে। সুষ্ঠু নিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকতে হবে, যেমন- পানি, মলমূত্র, আবর্জনা ইত্যাদি। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে সম্প্রসারণের সুযোগ থাকতে হবে।

গরু নির্বাচন : উন্নত দেশের মাংসের গরুর বিশেষ জাত রয়েছে। বিদেশি গরুর জন্য উন্নত খাদ্য ও ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। তাই দেশীয় গরু মোটাতাজাকরণ অধিক লাভজনক। ২-২.৫ বছরের গরুর শারীরিক বৃদ্ধি ও গঠন মোটাতাজাকরণের জন্য বেশি ভালো। এঁড়ে বাছুরের দৈহিক বৃদ্ধির হার বকনা বাছুরের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে। তবে বাছুরের বুক চওড়া ও ভরাট, পেট চ্যাপ্টা ও বুকের সঙ্গে সমান্তরাল, মাথা ছোট ও কপাল প্রশস্ত, চোখ উজ্জ্বল ও ভিজা ভিজা, পা খাটো প্রকৃতির ও হাড়ের জোড়াগুলো স্ফীত, পাঁজর প্রশস্ত ও বিস্তৃত, শিরদাঁড়া সোজা হতে হবে।

বাসস্থানের গঠন : গরুর বাসস্থান তৈরির জন্য খোলামেলা উঁচু জায়গায় গরুর ঘর তৈরি, একটি গরুর জন্য মাপ হতে হবে কমপক্ষে ১০-১২ বর্গফুট। ভিটায় ১ ফুট মাটি উঁচু করে এর ওপর ১ ফুট বালু দিয়ে ইট বিছিয়ে মেঝে মসৃণ করার জন্য সিমেন্ট, বালু ও ইটের গুঁড়া দিতে হবে। গরুর সামনের দিকে চাড়ি এবং পেছনের দিকে বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য নালা তৈরি করতে হবে। বাঁশের খুঁটি দিয়ে বেঁধে ওপরে ধারি অথবা খড় ও পলিথিন দিয়ে চালা দিতে হবে, ঘরের পাশে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা দরকার। পাশাপাশি দাঁড়ানো গরুকে বাঁশ দিয়ে আলাদা করতে হবে যাতে একে অন্যকে গুঁতা মারতে না পারে। ঘরের চারপাশ চটের পর্দার ব্যবস্থা রাখতে হবে, যাতে অতি বৃষ্টি ও অতি ঠান্ডার সময় ব্যবহার করা যায়।

খাদ্য : খাদ্যে মোট খরচের প্রায় ৬০-৭০ ভাগ ব্যয় হয়। তাই স্থানীয়ভাবে খরচ কমানো সম্ভব। এজন্য গরু মোটাতাজাকরণের একটি সুষম খাদ্য তালিকা নিচে দেয়া হলো-

শুকনা খড় : ২ বছরের গরুর জন্য দৈহিক ওজনের শতকরা ৩ ভাগ এবং এর অধিক বয়সের গরুর জন্য শতকরা ২ ভাগ শুকনা খড় ২-৩ ইঞ্চি করে কেটে এক রাত লালীগুড়-চিটাগুড় মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে প্রতিদিন সরবরাহ করতে হবে। পানিঃচিটাগুড়=২০:১।

কাঁচা ঘাস : প্রতিদিন ৬-৮ কেজি তাজা ঘাস বা শস্য জাতীয় তাজা উদ্ভিদের উপজাত দ্রব্য যেমন- নেপিয়ার, পারা, জার্মান, দেশজ মাটি কলাই, খেসারি, দুর্বা ইত্যাদি সরবরাহ করতে হবে।

দানাদার খাদ্য : প্রতিদিন কমপক্ষে ১-২ কেজি দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। নিচে ১০০ কেজি দানাদার খাদ্যের তালিকা দেয়া হলো-
গম ভাঙা-গমের ভুসি ৪০ কেজি চালের কুঁড়া ২৩.৫ কেজি খেসারি বা যে কোনো ডালের ভুসি ১৫ কেজি তিলের খৈল-সরিষার খৈল ২০ কেজি লবণ ১.৫ কেজি।
উল্লিখিত তালিকা ছাড়াও বাজারে প্রাপ্ত ভিটামিন মিনারেল মিশ্রণ ১% হারে খাওয়াতে হবে। তাছাড়া বিভিন্ন রকমের ইউরিয়া মোলাসেস বক ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি হচ্ছে ৩৯ ভাগ চিটাগুড়, ২০ ভাগ গমের ভুসি, ২০ ভাগ ধানের কুঁড়া, ১০ ভাগ ইউরিয়া, ৬ ভাগ চুন ও ৫ ভাগ লবণের মিশ্রণ।

রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা : প্র্রতিদিন নিয়মিতভাবে পশুর গা ধোয়াতে হবে। গোশালা ও পার্শ¦বর্তী স্থান সর্বদা পরিষ্কার রাখতে হবে। নিয়মিতভাবে গরুকে কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়াতে হবে। বাসস্থান সর্বদা পরিষ্কার রাখতে হবে। স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পরিমিত পরিমাণে পানি ও সুষম খাদ্য প্রদান করতে হবে। রোগাক্রান্ত পশুকে অবশ্যই পৃথক করে রাখতে হবে। খাবার পাত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। খামারের সার্বিক জৈব নিরাপত্তা রক্ষা করতে হবে। পশু জটিল রোগে আক্রান্ত হলে পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

বাজারজাতকরণ : মোটাতাজাকরণ গরু লাভজনকভাবে সঠিক সময়ে ভালো মূল্যে বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ হচ্ছে আরেকটি উল্লেখ্যযোগ্য বিষয়। বাংলাদেশে মাংসের জন্য বিক্রয়যোগ্য গবাদিপশুর বাজার মূল্যেও মৌসুমভিত্তিক হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। কাজেই একজন প্রতিপালককে গরু মোটাতাজাকরণের জন্য অবশ্যই গরুর ক্রয় মূল্য যখন কম থাকে তখন গরু ক্রয় করে বিক্রয় মূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ে বিক্রয়ের ব্যবস্থা নিতে হবে। সাধারণত কোরবানির ঈদের সময় গরুর মূল্য অত্যধিক থাকে এবং এর পরের মাসেই বাজার দর হ্রাস পায়। তাই এখন গরু মোটাতাজাকরণের উপযুক্ত সময়। স্বল্প সময়ে অধিক লাভবান হওয়ার সহজ এবং সুবিধাজনক উপায়ের মধ্যে গরু মোটাতাজাকরণ একটি অত্যন্ত যুগোপযোগী পদ্ধতি।

কিন্তু প্রচলিত এবং অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণের তুলনায় আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণ অধিক লাভজনক। সুতরাং কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে আমাদের দেশের কৃষকরা যদি ওই পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণ করতে পারে তাহলে প্রতি বছর কোরবানি ঈদের সময় গরু আমদানি কমানো সম্ভব হবে এবং এর ফলে দেশ আর্থিকভাবে বিরাট সফলতা লাভ করতে সক্ষম হবে।
লেখক: মো. শাহীন আলম

গ্রোথ হরমোনের ব্যবহার ছাড়া গরু মোটাতাজাকরণ

কোনোভাবেই ইনজেকশন বা কোনো গ্রোথ হরমোন ব্যবহার করে গবাদিপশু মোটাতাজাকরণের উদ্যোগ নেওয়া যাবে না। এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার ছাড়াও স্বাভাবিক ও জৈব পদ্ধতিতেই গরু মোটাতাজাকরণ সম্ভব। এজন্য দরকার শুধু কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলা।
কোনো গ্রোথ হরমোন ব্যবহার ছাড়াই যেভাবে গবাদিপশুর বেশি মাংস নিশ্চিত করা যায়, সে সম্পর্কে কিছু পদ্ধতি স্বল্প পরিসরে আলোকপাত করা হল: অধিক মাংস উৎপাদনের জন্য ২ থেকে ৩ বছর বয়সের শীর্ণকায় গরুকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় খাদ্য সরবরাহ করে হৃষ্টপুষ্ট গরুতে রূপান্তরিত করাকে গরু মোটাতাজাকরণ বলে। এটির গুরুত্ব হচ্ছে- দারিদ্রতা হ্রাসকরণ, অল্প সময়ে কম পুঁজিতে অধিক মুনাফা অর্জন, অল্প সময়ের মধ্যে লাভসহ মূলধন ফেরত পাওয়া, প্রাণীজ আমিষের ঘাটতি পূরণ, স্বল্পমেয়াদি প্রযুক্তি হওয়ার কারণে পশু মৃত্যুর হার কম, কৃষিকার্য হতে উৎপাদিত উপজাত পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে সহজেই মাংস উৎপাদন করা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে আয় বৃদ্ধি করা প্রভৃতি।

মোটাতাজাকরণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান পদ্ধতি: মোটাতাজাকরণের সঠিক সময়: বয়সের উপর ভিত্তি করে সাধারণত ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে গরু মোটাতাজাকরণ করা যায়। অনেক সময় ৫ থেকে ৬ মাসও সময় লাগতে পারে। গরু মোটাতাজাকরণের জন্য সুবিধাজনক সময় হচ্ছে বর্ষা এবং শরৎকাল যখন প্রচুর পরিমাণ কাঁচাঘাস পাওয়া যায়। চাহিদার উপর ভিত্তি করে কোরবানী ঈদের ৫ থেকে ৬ মাস পূর্ব থেকে গরুকে উন্নত খাদ্য ও ব্যবস্থাপনা দিয়ে মোটাতাজাকরণ লাভজনক।

স্থান নির্বাচন: গরু রাখার স্থান নির্বাচনে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে: ১. শুষ্ক ও উঁচু জায়গা হতে হবে, যাতে খামার প্রাঙ্গণে পানি না জমে থাকে
২. খোলামেলা ও প্রচুর আলো বাতাসের সুযোগ থাকতে হবে।
৩.খামারে কাঁচামাল সরবরাহ ও উৎপাদিত দ্রব্যাদি বাজারজাতকরণের জন্য যোগাযোগ সুবিধা থাকতে হবে
৪. পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের সুষ্ঠু ব্যবস্থা থাকতে হবে;
৫. সুষ্ঠু পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকতে হবে। গরু নির্বাচন: উন্নত দেশের মাংসের গরুর বিশেষ জাত রয়েছে। বিদেশি গরুর জন্য উন্নত খাদ্য ও ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। তাই দেশীয় গরু মোটাতাজাকরণ অলাভজনক। ২ থেকে ২.৫ বছরের গরুর শারীরিক বৃদ্ধি ও গঠন মোটাতাজাকরণের জন্য বেশি ভাল। এঁড়ে বাছুরের দৈহিক বৃদ্ধির হার বকনা বাছুরের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে। তবে বাছুরের বুক চওড়া ও ভরাট, পেট চ্যাপ্টা ও বুকের সাথে সমান্তরাল, মাথা ছোট ও কপাল প্রশস্ত, চোখ উজ্জ্বল ও ভেজা ভেজা, পা খাটো প্রকৃতির ও হাড়ের জোড়াগুলো স্ফীত, পাজর প্রশস্ত ও বিস্তৃত, শিরদাড়া সোজা হতে হবে। গরুর খাদ্যের ধরণ: খাদ্যে মোট খরচের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ ভাগ ব্যয় হয়। তাই স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত খাদ্য দ্বারা খরচ কমানো সম্ভব।

এজন্য গরু মোটাতাজাকরণের একটি সুষম খাদ্য তালিকা নিচে দেওয়া হল: ক) শুকনো খড়: দুই বছরের গরুর জন্য দৈহিক ওজনের শতকরা ৩ ভাগ এবং এর অধিক বয়সের গরুর জন্য শতকরা ২ ভাগ শুকনো খড় ২ থেকে ৩ ইঞ্চি করে কেটে একরাত লালীগুড়/চিটাগুড় মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে প্রতিদিন সরবরাহ করতে হবে। পানি: চিটাগুড় = ২০ : ১।
খ) কাঁচাঘাস: প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ কেজি তাজা ঘাস বা শস্যজাতীয় তাজা উদ্ভিদের উপজাত দ্রব্য যেমন- নেপিয়ার, পারা, জার্মান, দেশজ মাটি কালাই, খেসারি, দুর্বা ইত্যাদি সরবরাহ করতে হবে।
গ) দানাদার খাদ্য: প্রতিদিন কমপক্ষে ১ থেকে ২ কেজি দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হবে।

নিচে ১০০ কেজি দানাদার খাদ্যে তালিকা দেওয়া হল: ১. গম ভাঙা/গমের ভূসি-৪০ কেজি;
২. চালের কুঁড়া-২৩.৫ কেজি;
৩. খেসারি বা যেকোনো ডালের ভূসি-১৫ কেজি:
৪. তিলের খৈল/সরিষার খৈল-২০ কেজি; লবণ-১.৫ কেজি।
তাছাড়াও বিভিন্ন রকমের ইউরিয়া মোলাসেস ব্লক ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি হচ্ছে ৩৯ ভাগ চিটাগুড়, ২০ ভাগ গমের ভূসি, ২০ ভাগ ধানের কুঁড়া, ১০ ভাগ ইউরিয়া, ৬ ভাগ চুন ও ৫ ভাগ লবণের মিশ্রণ।

রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা: ক. প্রতিদিন নিয়মিতভাবে পশুর গা ধোয়াতে হবে;
খ. গো-শালা ও পার্শ্ববর্তী স্থান সর্বদা পরিস্কার রাখতে হবে:
গ. নিয়মিতভাবে গরুকে কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়াতে হবে;
ঘ. বাসস্থান সর্বদা পরিস্কার রাখতে হবে।
ঙ. স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পরিমিত পরিমাণে পানি ও সুষম খাদ্য প্রদান করতে হবে।
চ. রোগাক্রান্ত পশুকে অবশ্যই পৃথক করে রাখতে হবে।
ছ. খাবার পাত্র পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
জ. খামারের সার্বিক জৈব নিরাপত্তা রক্ষা করতে হবে।
ঝ. পশু জটিল রোগে আক্রান্ত হলে পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

বাজারজাতকরণ: মোটাতাজাকরণ গরু লাভজনকভাবে সঠিক সময়ে ভাল মূল্যে বাজারজাতকরণের ব্যবস্থাগ্রহণ হচ্ছে আরেকটি উল্লেখ্যযোগ্য বিষয়। বাংলাদেশে মাংসের জন্য বিক্রয়যোগ্য গবাদিপশুর বাজারমূল্যেও মৌসুমভিত্তিক হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। কাজেই একজন প্রতিপালককে গরু মোটাতাজাকরণের জন্য অবশ্যই গরুর ক্রয়মূল্য যখন কম থাকে তখন গরু ক্রয় করে বিক্রয়মূল্যের উর্ধ্বগতির সময়ে বিক্রয়ের ব্যবস্থা নিতে হবে। সাধারণত কোরবানীর ঈদের সময়ে গরুর মূল্য অত্যাধিক থাকে এবং এর পরের মাসেই বাজার দর হ্রাস পায়। তাই এখন গরু মোটাতাজাকরণের উপযুক্ত সময় এবং কোরবানীর সময় তা বিক্রি করে দেওয়া ভাল।

লেখক: আব্দুস সালাম সাগর, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ
এগ্রোবাংলা ডটকম

গরু মোটাতাজাকরণের প্রয়োজনীয় তথ্য

বাংলাদেশে কোরবানির মূল উপাদান হচ্ছে গরু। আর সেটা যদি হয় মোটাতাজা, নাদুস-নুদুস তবে আনন্দের সীমা থাকে না। এ উপলক্ষকে সামনে রেখে যারা গরু মোটাতাজাকরণে আগ্রহী তাদের আগে থেকেই প্রস্তুতি নেয়া দরকার। এজন্য দরকার গরু মোটাতাজাকরণে সঠিক ব্যবস্থাপনা। এটি কখন ও কিভাবে করলে বেশি লাভবান হওয়া যায় তার বৈজ্ঞানিক ও আধুনিক পদ্ধতি নিম্নে দেয়া হলো-

অধিক মাংস উৎপাদনের জন্য ২-৩ বছর বয়সের শীর্ণকায় গরুকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় খাদ্য সরবরাহ করে হৃষ্টপুষ্ট গরুতে রূপান্তরিত করাকে গরু মোটাতাজাকরণ বলে আখ্যায়িত করা হয়। এটির গুরুত্ব হচ্ছে- দরিদ্রতা হ্রাসকরণ, অল্প সময়ে কম পুঁজিতে অধিক মুনাফা অর্জন, অল্প সময়ের মধ্যে লাভসহ মূলধন ফেরত পাওয়া, প্রাণিজ আমিষের ঘাটতি পূরণ, স্বল্পমেয়াদি প্রযুক্তি হওয়ার কারণে পশু মৃত্যুর হার কম, কৃষিকার্য থেকে উৎপাদিত উপজাত পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে সহজেই মাংস উৎপাদন করা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে আয় বৃদ্ধি করা।

গরু মোটাতাজাকরণের আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি সম্পর্কে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশু পালন অনুষদের পশু বিজ্ঞান বিভাগের বিজ্ঞানী ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মুজাফফর হোসেন জানান-
প্রয়োজনীয় উপাদান, পদ্ধতি ও মোটাতাজাকরণের সঠিক সময় : বয়সের ওপর ভিত্তি করে সাধারণত ৩ মাসের মধ্যে গরু মোটাতাজাকরণ করা যায়। অনেক সময় ৪-৬ মাসও লাগতে পারে। গরু মোটাতাজাকরণের জন্য সুবিধাজনক সময় হচ্ছে বর্ষা এবং শরৎকাল যখন প্রচুর পরিমাণ কাঁচা ঘাস পাওয়া যায়। চাহিদার ওপর ভিত্তি করে কোরবানি ঈদের কিছুদিন আগ থেকে গরুকে উন্নত খাদ্য ও ব্যবস্থাপনা দিয়ে মোটাতাজাকরণ লাভজনক।

গরু নির্বাচন : উন্নত দেশের মাংসের গরুর বিশেষ জাত রয়েছে। বিদেশি গরুর জন্য উন্নত খাদ্য ও ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। তাই দেশীয় গরু মোটাতাজাকরণ অধিক লাভজনক। ২-২.৫ বছরের গরুর শারীরিক বৃদ্ধি ও গঠন মোটাতাজাকরণের জন্য বেশি ভালো। এঁড়ে বাছুরের দৈহিক বৃদ্ধির হার বকনা বাছুরের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে। তবে বাছুরের বুক চওড়া ও ভরাট, পেট চ্যাপ্টা ও বুকের সঙ্গে সমান্তরাল, মাথা ছোট ও কপাল প্রশস্ত, চোখ উজ্জ্বল ও ভিজা ভিজা, পা খাটো প্রকৃতির ও হাড়ের জোড়াগুলো স্ফীত, পাঁজর প্রশস্ত ও বিস্তৃত, শিরদাঁড়া সোজা হতে হবে।

বাসস্থানের গঠন : গরুর বাসস্থান তৈরির জন্য খোলামেলা উঁচু জায়গায় গরুর ঘর তৈরি, একটি গরুর জন্য মাপ হতে হবে কমপক্ষে ১০-১২ বর্গফুট। ভিটায় ১ ফুট মাটি উঁচু করে এর ওপর ১ ফুট বালু দিয়ে ইট বিছিয়ে মেঝে মসৃণ করার জন্য সিমেন্ট, বালু ও ইটের গুঁড়া দিতে হবে। গরুর সামনের দিকে চাড়ি এবং পেছনের দিকে বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য নালা তৈরি করতে হবে। বাঁশের খুঁটি দিয়ে বেঁধে ওপরে ধারি অথবা খড় ও পলিথিন দিয়ে চালা দিতে হবে, ঘরের পাশে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা দরকার। পাশাপাশি দাঁড়ানো গরুকে বাঁশ দিয়ে আলাদা করতে হবে যাতে একে অন্যকে গুঁতা মারতে না পারে। ঘরের চারপাশ চটের পর্দার ব্যবস্থা রাখতে হবে, যাতে অতি বৃষ্টি ও অতি ঠান্ডার সময় ব্যবহার করা যায়।

খাদ্য : খাদ্যে মোট খরচের প্রায় ৬০-৭০ ভাগ ব্যয় হয়। তাই স্থানীয়ভাবে খরচ কমানো সম্ভব। এজন্য গরু মোটাতাজাকরণের একটি সুষম খাদ্য তালিকা নিচে দেয়া হলো-

শুকনা খড় : ২ বছরের গরুর জন্য দৈহিক ওজনের শতকরা ৩ ভাগ এবং এর অধিক বয়সের গরুর জন্য শতকরা ২ ভাগ শুকনা খড় ২-৩ ইঞ্চি করে কেটে এক রাত লালীগুড়-চিটাগুড় মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে প্রতিদিন সরবরাহ করতে হবে। পানিঃচিটাগুড়=২০:১।

কাঁচা ঘাস : প্রতিদিন ৬-৮ কেজি তাজা ঘাস বা শস্য জাতীয় তাজা উদ্ভিদের উপজাত দ্রব্য যেমন- নেপিয়ার, পারা, জার্মান, দেশজ মাটি কলাই, খেসারি, দুর্বা ইত্যাদি সরবরাহ করতে হবে।

দানাদার খাদ্য : প্রতিদিন কমপক্ষে ১-২ কেজি দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হবে।
নিচে ১০০ কেজি দানাদার খাদ্যের তালিকা দেয়া হলো-
গম ভাঙা-গমের ভুসি ৪০ কেজি
চালের কুঁড়া ২৩.৫ কেজি
খেসারি বা যে কোনো ডালের ভুসি ১৫ কেজি
তিলের খৈল-সরিষার খৈল ২০ কেজি
লবণ ১.৫ কেজি।
উল্লিখিত তালিকা ছাড়াও বাজারে প্রাপ্ত ভিটামিন মিনারেল মিশ্রণ ১% হারে খাওয়াতে হবে।
তাছাড়া বিভিন্ন রকমের ইউরিয়া মোলাসেস ব্লক ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি হচ্ছে ৩৯ ভাগ চিটাগুড়, ২০ ভাগ গমের ভুসি, ২০ ভাগ ধানের কুঁড়া, ১০ ভাগ ইউরিয়া, ৬ ভাগ চুন ও ৫ ভাগ লবণের মিশ্রণ।

রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা : প্রতিদিন নিয়মিতভাবে পশুর গা ধোয়াতে হবে। গোশালা ও পার্শ্ববর্তী স্থান সর্বদা পরিষ্কার রাখতে হবে। নিয়মিতভাবে গরুকে কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়াতে হবে। বাসস্থান সর্বদা পরিষ্কার রাখতে হবে। স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পরিমিত পরিমাণে পানি ও সুষম খাদ্য প্রদান করতে হবে। রোগাক্রান্ত পশুকে অবশ্যই পৃথক করে রাখতে হবে। খাবার পাত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। খামারের সার্বিক জৈব নিরাপত্তা রক্ষা করতে হবে। পশু জটিল রোগে আক্রান্ত হলে পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

বাজারজাতকরণ : মোটাতাজাকরণ গরু লাভজনকভাবে সঠিক সময়ে ভালো মূল্যে বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ হচ্ছে আরেকটি উল্লেখ্যযোগ্য বিষয়। বাংলাদেশে মাংসের জন্য বিক্রয়যোগ্য গবাদিপশুর বাজার মূল্যেও মৌসুমভিত্তিক হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। কাজেই একজন প্রতিপালককে গরু মোটাতাজাকরণের জন্য অবশ্যই গরুর ক্রয় মূল্য যখন কম থাকে তখন গরু ক্রয় করে বিক্রয় মূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ে বিক্রয়ের ব্যবস্থা নিতে হবে। সাধারণত কোরবানির ঈদের সময় গরুর মূল্য অত্যধিক থাকে এবং এর পরের মাসেই বাজার দর হ্রাস পায়। তাই এখন গরু মোটাতাজাকরণের উপযুক্ত সময়। স্বল্প সময়ে অধিক লাভবান হওয়ার সহজ এবং সুবিধাজনক উপায়ের মধ্যে গরু মোটাতাজাকরণ একটি অত্যন্ত যুগোপযোগী পদ্ধতি।

কিন্তু প্রচলিত এবং অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণের তুলনায় আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণ অধিক লাভজনক। সুতরাং কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে আমাদের দেশের কৃষকরা যদি ওই পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণ করতে পারে তাহলে প্রতি বছর কোরবানি ঈদের সময় গরু আমদানি কমানো সম্ভব হবে এবং এর ফলে দেশ আর্থিকভাবে বিরাট সফলতা লাভ করতে সক্ষম হবে।

Please follow and like us:

About admin

Check Also

নবজাতক বাছুরের যত্ন ও করণীয় :

নবজাতক বাছুরের যত্ন ও করণীয় : স্তন্যপায়ী প্রায় সকল প্রাণীর জন্মপ্রক্রিয়া প্রায় একই হলেও কিছু …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »
error: Content is protected !!