Breaking News

কাঁঠালের পুষ্টিগুন এবং গো-খাদ্য হিসাবে এর ব্যবহার।

#কাঁঠালের পুষ্টিগুন এবং গো-খাদ্য হিসাবে এর ব্যবহার।

#Jackfruit (Artocarpus heterophyllus) বা কাঁঠাল একটি গ্রীষ্ম কালীন ফল। এর পুষ্টিগুন অনেক। নিরামিষ ভোজিরা কাঁচা কাঠাঁল বা ইচর কেমাংস হিসাবে গণ্য করে।

#অনেকেই জানতে চাচ্ছেন গাভী বা গরু কে কাঁঠাল খাওয়ানো যাবে কিনা?

#হ্যাঁ গাভীকে কাঠাঁল খাওয়াতে পারবেন।
এবং আমরা ছোট সময় থেকেই গ্রামের মানুষদের কাঁঠাল খাওয়াতে দেখে এসেছি। তবে গরুকে কাঠাঁল খাওয়ানোর ফলে কতটুকু দুধ বৃদ্ধি পাচ্ছে বা কতটুকু মাংস বৃদ্ধি পাচ্ছে এ বিষয়ে সঠিক কোন রিচার্স আছে বলে আমার জানা নেই। গাভীকে কাঁঠাল খাওয়ানোর ফলে গাভীর দু্ধ বৃদ্ধি পেয়েছে এ বিষয়ে কিছু তথ্য National Dairy Authority (NDA) of Philippines এর কাছে আছে। তাহলোঃ Rodrigo Dumaluan নামক একজন খামারী তার গরুকে প্রতিদিন নিয়মিত খাবারের পাশাপাশি কাঁঠাল দিতেন। এতে করে তিনি তার সকল গাভীর দুধ বৃদ্ধি লক্ষ্য করেন। গাভী গুলো প্রায় ড্রাই পিরিয়ডের কাছাকাছি থাকা সত্তেও ৯ টি গাভিতে ৮০ লিপার দুধ পেয়েছেন যা প্রায় পিক পিরিয়ডের কাছাকাছি ছিল।

কাঁঠালের পুষ্টিগুনঃ
আমরা কাঁঠালের ভোজ্য অংশ খাওয়ার পর বীজ ছাড়া যে ওয়েস্টেজ পাওয়া যায় তাতে আছে-
প্রোটিনঃ ৮%
শক্তিঃ প্রায় ৯-১০ মেগাজুল/ কেজি
ক্রোড ফ্যাটঃ খুবই অল্প পরিমাণে
ক্রোড ফাইবারঃ ১৪.১%
ক্যালসিয়ামঃ ০.৮%
ফসফরাসঃ ০.১%

কাঁঠালের বীজের পুষ্টিগুনঃ
প্রোটিনঃ ১৫.১%
শক্তিঃ প্রায় ১১-১২ মেগাজুল/ কেজি
ক্রোড ফ্যাটঃ ১%
ক্রোড ফাইবারঃ ৪.৩%
অ্যাসঃ ৩.৭৪%

এছাড়াও কাঠাঁলে প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজ পাওয়া যায়। এবং এতে যথেষ্ট পরিমাণে ভিটামিন এ, সি এবং বি, এন্টি অক্সিডেন্ট ও বিটা কেরোটিন রয়েছে।

#Livestock Research for Rural Development of Colombia থেকে প্রকাশিত Department of Animal Production and Range Management of Gulu University এর EK Ndyomugyenyi এবংJ Ebong ব্রয়লার মুরগীর ৫ টি ব্যাচের উপর যথাক্রমে ০%, ৮%, ১৬%, ২৪% ও ৩২% কাঁঠাল বীজের ড্রাই ম্যাটার মূল রেশনের রিপ্লেস করে গবেষনা করেন। এতে দেখা যায় যে, কাঁঠাল বীজের পরিমাণ যত বাড়ানো হয়, পরিবর্তিত রেশনে শক্তি ও প্রোটিন তত কমতে থাকে কারণ কাঁঠালে পূর্বের রেশনের তুলনায় শক্তি ও প্রোটিন কম। এতে দেখা যায় যে, ব্রয়লারের গ্রুথ যথাক্রমে কমতে থাকে, যেমন দৈনিক ওজন বৃদ্ধি ৩২.১ গ্রাম, ২৯.৬ গ্রাম, ২৯.৯ গ্রাম, ২৫.৬ গ্রাম ও ১৯.৪ গ্রাম।
উপরের গবেষনা থেকে বুঝা যায় যে, আপনার পূর্বের রেশন রিপ্লেস করে কাঁঠাল দিতে পারবেন না। দিলেও প্রোটিন ও শক্তি হিসাব করে প্রয়োজনীয় চাগিদা পূরণ করতে হবে।

খাওয়ানোর সতর্কতাঃ
১. অতিরিক্ত খাওয়ানো যাবে না। একটি গরু কে TMR এর ১৫% বা ৪/৫ কেজির বেশি দেওয়া ঠিক হবে না। অতিরিক্ত দিলে বদহজম ও পেট ফাঁপা সমস্যা দেখা দিতে পারে।
২. কাঁঠাল একটি গরম ফল তাই অতিরিক্ত গরমের মধ্যে বা ভর দুপুরে খাওয়ানো পরিহার করুন।
৩. কোন মতেই পঁচা কাঠাঁল খাওয়াবেন না।
৪. কাঁঠাল দ্রুত রক্তের ব্লাড সুগার কমিয়ে দেয়। তাই অতিরিক্ত খাওয়ানো যাবে না।
৫. কাঁচা কাঁঠাল খাওয়ানোর সময় চিকন করে কেটে দিতে হবে যেন গরু চিবিয়ে খেতে পারে।

উপসংহারঃ কাঁঠাল একটি পুষ্টিকর ফল। সাধারণত অন্য যেকোন ফলের তুলনায় কাঠাঁলে তিন গুন বেশি প্রোটিন পাওয়া যায়। কাঁঠালে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ থাকায় ইমিনিউ সিস্টেম সবল থাকে। এছাড়াও প্রচুর পরিমাণে অন্যান্য ভিটামিন ও মিনারেল থাকায় সহজেই মিনারেল ও ভিটামিন ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। কাঠাঁল শুধু মানুষ নয়, সকল প্রাণির জন্যই পুষ্টি সহায়ক।

তথ্য সূত্রঃ
১. Animal Nutration of Daily Knowledge Portal,
2. Livestock Research for Rural Development of Colombia
3. Jackfruit increases milk prod’n
HENRYLITO D. TACIO, National Dairy Authority of Philippines.
4. Jackdruit Nutration Fact by Umesh Rudrappa.

AH Joarder

Please follow and like us:

About admin

Check Also

গরুর খাদ্য হিসাবে কলাগাছ : গুরুত্ব পর্যালোচনা

গরুর খাদ্য হিসাবে কলাগাছ : গুরুত্ব পর্যালোচনা আমাদের দেশে গরুর আপদকালীন খাবার হিসাবে পরিচিত কলাগাছ …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »
error: Content is protected !!