Breaking News
ইনকিউবেটরের বাচ্চা মৃত্যুর কারণ
ইনকিউবেটরের বাচ্চা মৃত্যুর কারণ

ইনকিউবেটরে ডিমের ভিতর বাচ্চা মৃত্যুর কারণ এবং সেই সমস্যার সমাধান।

ইনকিউবেটরে ডিমের ভিতর বাচ্চা বড় হয়েও বের হতে পারেনা, ডিমের ভিতর বাচ্চার মৃত্যুর অনেক কারনই থাকতে পারে, তবে যে কারনে বেশির ভাগ বাচ্চার মৃত্যু হয়, সেই কারন এবং সেই বিষয় গুলোর সমাধান গুলো আমরা জানবো।

প্রথম কারনঃ-ব্যক্টেরিয়া।
যে বিষয়টি বেশির ভাগ ইনকিউবেটর চালকেরা গুরুত্ব দেয়না সেটা হচ্ছে ব্যাক্টেরিয়া বা জীবানু, ইনকিউবেটরের ভিতর যদি নষ্ট ডিম রাখা হয় তবে সেই নষ্ট ডিম ভিতরে জন্ম নেয়া ব্যাক্টেরিয়া গুলো সুস্থ ডিমের ভ্রুনকে আক্রান্ত করে এবং সুস্থ ভ্রুনের মৃত্যুর কারন হতে পারে।

সমাধানঃ-

ইনকিউবেটরককে জীবানু মুক্ত রাখতে ইনকিউবেটরে ব্যবহার উপযোগী জীবানু নাশক ব্যবহার করা হয়, তবে সেগুলো বেশ ঝুঁকিপূর্ণ এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ইনকিউবেটরে ডিম দেবার আগে ডিমকে জীবানু মুক্ত করা হয়,

কিন্তু যে ডিম গুলোতে ভ্রুন থাকেনা বা যে ডিম গুলোর ভ্রুনের কোনো কারনে মৃত্যু হয় সেই ডিম গুলোর ভিতর পুণরায় ব্যাক্টেরিয়া জন্মাতে পারে।
*এক্ষেত্রে করনীয়ঃ-

ডিম ক্যান্ডালিং করার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নষ্ট ডিম গুলোকে বাছাই করে সেগুলো ইনকিউবেটরের ভিতর থেকে সরিয়ে ফেলা।
নষ্ট ডিম ইনকিউবেটর থেকে সরিয়ে ফেললে, ডিমের ভিতর বাচ্চা মৃত্যুর হার অনেক কমে যাবে, এবং তুলনামূলকভাবে হেচিংরেট বৃদ্ধি পাবে।

দ্বিতীয় কারনঃ-  কম অথবা বেশি  আর্দ্রতা
আদ্রতা আর্দ্রতাযদি প্রথমে বেশি থাকে,তাহলে হেচিংএর আগেই ডিমের ভিতর বাচ্চার মৃত্যু হতে পারে, অথবা খুব দুর্বল বাচ্চা জন্ম হতে পারে, সেই কারনে হেচার অপেক্ষা সেটারে আদ্রতা আর্দ্রতাকম রাখতে হয়।
আবার হেচারে যদি আদ্রতা আর্দ্রতাকম থাকে তবে ডিমের ভিতর বাচ্চা শুকিয়ে যায় এবং বের হতে পারেনা।
সেই কারনে সেটার এবং হেচারের জন্য আলাদা আদর্শ আদ্রতা আর্দ্রতারয়েছে।

এই সমস্যার সমাধানঃ-

ডিমের ভিতরে তরল সঠিকভাবে শুকিয়ে, সঠিক সময়ে বাচ্চা বের করতে সঠিক  আর্দ্রতা অনেক বড় ভুমিকা পালন করে।
সেই কারনে আর্দ্রতা সঠিক রাখার উপর নির্ভর করে ডিম থেকে সঠিক সময় খুব সহজে সুস্থ বাচ্চা বের হওয়া।
প্রথম থেকে হেচিংএর আগে পর্যন্ত সেটারের আদর্শ   আর্দ্রতা হচ্ছে, ৪৫%থেকে ৫৫% ।এইআর্দ্রতায়  বেশির ভাগ ডিম সঠিক পরিমানে শুকায়।
এবং হেচিংএর সময় ৬৫%এর উপরে আদ্রতা রাখা জরুরী,

মনে রাখতে হবে হেচিংএর সময়  আর্দ্রতা কম রাখার কোনো প্রয়োজন পড়েনা, তাই ৮০%-৮৫%রাখলেও সমস্যা নেই।
আদ্রতা সঠিক রাখতে পারলে হেচিংরেট অনেক বৃদ্ধি পাবে,মেনুয়েল  আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রিত ইনকিউবেটরে   আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রন যদি কঠিন হয় তবে যতটা সম্ভব সঠিক  আর্দ্রতার কাছাকাছি   আর্দ্রতা বজায় রাখতে হবে, তাহলে এই সমস্য অনেকটাই কমবে।

তৃতীয় কারনঃ-

সঠিক তাপমাত্রার চেয়ে কম তাপমাত্রা অথবা সঠিক তাপমাত্রার চেয়ে বেশি তাপমাত্রা।
সঠিক তাপমাত্রার চেয়ে কম তাপমাত্রা থাকলে বাচ্চা দেরিতে ফুটে এবং ডিমের ভিতর বাচ্চার মৃত্যুর সম্ভবনা বেশি থাকে।
সঠিক তাপমাত্রার চেয়ে যদি বেশি তাপমাত্রা থাকে তাতেও ডিমের ভিতর বাচ্চার মৃত্যুর সম্ভবনা থাকে।

সমাধানঃ

সেটারের জন্য সঠিক তাপমাত্রা হচ্ছে ৩৭.৭এবং হেচারে তাপমাত্রা কিছুটা কম রাখতে হয় সেক্ষেত্রে হেচারে ৩৭.৪/৩৭.৫ডিঃসেঃ তাপমাত্রা ভালো, তবে হেচিংএর সময় সর্বদা লক্ষ রাখতে হবে কোনো ভাবেই যেনো অতিরিক্ত তাপমাত্রা না হয়।
তাপমাত্রা সঠিক রাখার পাশাপাশি খেয়াল রাখতে হবে যেনো সব ডিমে সমান তাপমাত্রা থাকে, তাহলে ডিমের ভিতরে বাচ্চা মৃত্যুর হার কমে আসবে।

চতুর্থ সমস্যাঃ- পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাব।
হেচিং এর সময় ডিমের ভিতর বাচ্চা বড় হয়ে যায়, তাই সেটারের তুলনায় হেচারে বাতাস প্রবাহ এবং অক্সিজেনের পরিমান বেশি রাখতে হয়, অক্সিজেন কম থাকলে ডিমের ভিতরে বাচ্চার মৃত্যু হতে পারে এবং ডিমের ভিতর থেকে দুর্বল বাচ্চা জন্ম হতে পারে।

সমাধানঃ-

কার্বনডাইঅক্সাইড কন্ট্রোলার অথবা ছোট্ট একটা টাইমার ব্যবহার করা যেতে পারে, যে টাইমারের কাজ হাচ্ছে ১ঘন্টা বা ২ঘন্টা পর পর ৩/৪মিনিটের জন্য একটা কুলিং ফ্যন চালু করবে ঐ ফ্যনটা ইনকিউবেটরের ভিতর থেকে বাতাস বের করে দেবে, এতে বাহির থেকে বিশুদ্ধ অক্সিজেন ইনকিউবেটরের ভিতরে প্রবেশ করবে।
( ভিতরের বাতাস বাহিরে বের করে দিলে  আর্দ্রতা কিছুটা কমতে পারে কিন্তু ফ্যানটা অল্প সময় চলবে তাই আর্দ্রতা তেমন সমস্যা করবে না, তবুও যদি আদ্রতা কমে যায় তবে ইনকিউবেটর ভিতরে যে স্থান দিয়ে বাতাস প্রবেশ করে সেখানে একটা ভিজা কাপড় শুকাতে দিবেন এতে করে আদ্র বাতাস ভিতরে ঢুকবে।, ইনকিউবেটরের ধারন ক্ষমতার উপর ফ্যানের সাইজ নির্ভর করবে)

পঞ্চম কারনঃ- সঠিক  আর্দ্রতা, সঠিক তাপমাত্রা এবং পর্যাপ্ত অক্সিজেন সকল ডিমে সমান ভাবে না পৌঁছানো।
সঠিক যত্নের কারনে একটি ডিম থেকে যেমন সুস্থ বাচ্চা বের হয় তেমনি, সঠিক যত্নের অভাবে কোনো ডিমের ভিতরে বাচ্চা মারা যেতে পারে,
তাই সব ডিমে সঠিক যত্ন নিশ্চিত করতে সকল ডিমে সঠিক  আর্দ্রতা, সমান তাপমাত্রা এবং পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে।
সমাধানঃ-

এক্ষেত্রে ইনকিউবেটরে যে স্থান গুলোতে আদ্রতা এবং তাপমাত্রা বেশি সেই স্থানে কুলিং ফ্যন লাগাতে হবে এবং যেদিকে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা কম সেই দিকে ফ্যানের  বাতাস প্রবাহিত করতে হবে, তাহলে সব ডিমে অনেকটা সঠিক যত্ন নিশ্চিত রাখা হবে।

উক্ত নিয়ম মেনে ডিম ফুটালে ডিমের ভিতর বাচ্চা মৃত্যুর হার অনেকটাই কমে আসবে।
এখনে ডিমের ভিতরে বাচ্চা মারা যাবার যতগুলো কারন আছে তার মধ্যে অন্যতম করন হচ্ছে হেচিংএর সময়ে ওভার ট্যম্পারেচার বা অতিরিক্ত তাপমাত্রা,এবং হেচিংএর সময় কম আদ্রতা থাকা, তাই ইনকিউবেটর অবশ্যই ওভার ট্যম্পারেচার কন্ট্রোল সিষ্টেম রাখতে হবে এবং হেচিংএর সময় আদ্রতা বাড়াতে হবে।

লেখকঃআব্দুল ওহাব

About admin

Check Also

তুষ হারিকেন পদ্ধতিতে হাঁসের বাচ্চা ফোটানো

তুষ_হারিকেন_পদ্ধতিতে_হাঁসের_ডিম_ফুটানোঃ

তুষ_হারিকেন_পদ্ধতিতে_হাঁসের_ডিম_ফুটানোঃ কৃত্তিম উপায়ে হাঁসের ডিম ফুটানোর জন্য তুষ-হারিকেন পদ্ধতি একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি। সাধারণত হ্যাচারী মালিকগণ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Call Now