Breaking News
আলফাআলফা ঘাস

আলফা আলফা চাষ পদ্ধতি এবং পুষ্টিগুণ

আলফা আলফা চাষ পদ্ধতিআলফাআলফা ঘাস

২ ধরনের আলফা আলফা বীজ আছে। একটা পোকা কিম্বা শামুক যাতে বীজ খেয়ে ফেলতে না পারে তার জন্য বীজের গায়ে কীটনাশক দিয়ে কোটিং করা।

আরেকটা আছে সাধারন বীজের মত।

আমেরিকান বীজের সব গুলোই লাল কোটিং করা আর ইন্ডিয়ান তুর্কির গুলো সাধারন প্যাক থাকে এগুলোকে জেড বলে। লাল কোটিং করা বীজ ২ বছর পর্যন্ত বপন করা যায়। আর নরমাল জেড এক বছর।

অনেকেই নাকি আমেরকিনা এবং ইন্ডিয়ান বীজ পাওয়ার পরও তারা চাষ করতে ব্যার্থ হয়েছে! আমি নিজের হাতে আমেরিকান এবং ইন্ডিয়ান বীজ ১০০% জার্মিনেশ সহ চারা করেছিলাম গত বছর ।

সাধারন মশুরী চাষের মত আলফা আলফার জন্য জমি তৈরী করবেন তবে মাটির ফিনিসিং হবে পিয়াজের চারা করার মত।

এর পর একটি পাত্রে বিকালে আলফা আলফা বীজ ভিজিয়ে রাখবেন।

সকালে বীজের মুখ ফেটে গেলে জমিতে বুনতে হবে। জমিতে বপনের পরিমান ৩৩ শতাংশ বিঘায় ৯/১০ কেজি।

বীজ বপন করার পর ছিটিয়ে পানি দিতে ঢালাও পানি দেওয়া যাবে না।

কারন ঢালাও পানি দিলে বীজ ভেসে কিম্বা স্রোতো এক জায়গায় জড়ো হয়ে যেতে পারে।

২/৩ দিনের ভিতরে সব বীজের চারা গজিয়ে যাবে শুস্কতা দেখা না দিলে সেচের প্রয়োজন নেই।

তবে ৩ মাসে একটি সেচ দিতে হবে। ঘাস কাটার পর জমির আগাছা পরিস্কার করে ইউরিয়া সার জৈব সার দিতে হবে।

যেহেতু এই ঘাস দীর্ঘ দিন বাঁচে তাই ঘাস কাটার পর সার দেওয়ার পূর্বে ঘাসের ফাকে ফাকে আচড়ানি দিয়ে মাটি আচড়ে দিলে ভাল হবে।

আলফালফা ঘাস

দৃষ্টি আকর্ষণ : এই সিরিজে বিভিন্ন সাইন্টিফিক টার্ম ব্যবহার করা হয়। কারো বুঝতে সমস্যা হলে কমেন্টে প্রশ্ন করবেন।

গরুর খাদ্য হিসাবে ‘আলফালফা ‘ ঘাস : ঔষধি ঘাস হিসাবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত আলফালফা ঘাস গরুর জন্য জনপ্রিয় ঘাস এবং আমাদের দেশে পিয়াজ রসুনের জমির মধ্যে এক সময় আগাছা গাছ হিসাবে প্রচুর দেখা যেতো। সুষম বিন্যস্ত এমাইনো এসিড এবং প্রতি ইউনিট জমিতে সর্বোচ্চ ক্রুড প্রোটিন উতপাদনের জন্য আলফালফা বিশ্বব্যাপী ‘ঘাসের রানী’ হিসাবে পরিচিত। উচ্চ্ মাত্রার প্রোটিন এবং মিনারেল সমৃদ্ধ আলফালফা ঘাস গরুর পুষ্টি চাহিদা পূরণে এবং দুধ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। ঔষধি গুন্ সম্পন্ন লিগিউম জাতের আলফা আলফা ঘাসের পুষ্টিমান সমৃদ্ধ সজনে পাতার সমান হলেও আলফালফা ঘাসের উতপাদন তুলনামূলক বেশি। বিভিন্ন পরীক্ষায় এবং গবেষণায় প্রমাণিত যে শুধুমাত্র পর্যাপ্ত পরিমান আলফালফা ঘাসের উপর নির্ভর করে বাণিজ্যিকভাবে গরু পালন সম্ভব। এই ঘাসে রয়েছে রয়েছে গড়ে ২০ % ড্রাই ম্যাটার এবং গড়ে ড্রাই ম্যাটারের ২১-২৩ % ক্রুড প্রোটিন। আলফালফা ঘাসের প্রতি কেজি ড্রাই ম্যাটার থেকে গরু গড়ে প্রায় ১০ মেগা জুল বিপাকীয় শক্তি পেয়ে থাকে। এই ঘাসের আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, এতে আছে উচ্চমাত্রার মিনারেল বা খনিজ উপাদান যা অন্য কোন কাঁচা ঘাসে পাওয়া সম্ভব না। আলফালফা ঘাসে বিদ্যমান উচ্চ্ মানের বিটা ক্যারোটিন ভিটামিন গরুর প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং চামড়ার উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। গরুর জন্য আলফালফা ঘাসের সবচে বড় সুবিধা হচ্ছে এই ঘাসের পুষ্টি উপাদান অন্য যেকোন খাবারের চেয়ে দ্রুত শরীরে শোষিত হয়।

‘আলফালফা’ ঘাসের গড় পুষ্টি উপাদান :- (%/ড্রাই ম্যাটার)
ড্রাই ম্যাটার : ১৯.৯ ”
ক্রুড প্রোটিন : ২০.৬ ”
ক্রুড ফাইবার : ২৬.৬ ”
ক্রুড ফ্যাট (ইথার এক্সট্রাক্ট) : ২.৯ ”
নিউট্রাল ডিটারজেন্ট ফাইবার : ৩৯.৩ ”
এসিড ডিটারজেন্ট ফাইবার : ৩০.৯ ”
লিগনিন : ৭.৬ ”
অ্যাশ (ছাই) : ১১.৫ ”
গ্রস এনার্জি : ১৮.১ মেজুল/কেজি
হজম যোগ্য এনার্জি : ১১.৯ ”
বিপাকযোগ্য এনার্জি : ৯.৪ ”

মিনারেলস (খনিজ উপাদান) :- (ড্রাই ম্যাটার)আলফা আলফা ঘাস
ক্যালসিয়াম : ১৯,৪ গ্রাম/কেজি
ফসফরাস : ২.৫ ”
পটাসিয়াম : ২২.৪ ”
সোডিয়াম : ০.৫ ”
ম্যাগনেসিয়াম : ২.৮ ”
ম্যাঙ্গানিজ : ৭৬ মিলিগ্রাম/কেজি
জিংক : ৪৩ ”
কপার : ১৩ ”
আয়রন : ৩৮৭ ”

এমাইনো এসিড :- (%/ ক্রুড প্রোটিন)
অর্গানাইন : ৬.৪ %
হিস্টিডাইন : ২.০%
লাইসিন : ৫.৫ %
মেথিওনিন : ১.৬ %
থ্রিওনাইন : ৪.২ %
ভ্যালাইন : ৬.৪ %

ক্ষতিকর উপাদান :
ব্লোটিং এজেন্ট, ফাইটোস্ট্রজেন এবং স্যাপোনিন।

মাত্রা ও সতর্কতা : আলফালফা ঘাসে থাকা ‘ব্লোটিং এজেন্ট’ গরুর পেট ফাঁপা সমস্যার সৃষ্টি করে, ‘ফাইটোস্ট্রজেন’ নামক হরমোন যৌনমিলন বা সিমেন দেয়ার পরে গর্ভধারণে বাধা দেয়। কাঁচা আলফালফা ঘাস খাওয়ানোর পূর্বে অবশ্যই কয়েক ঘন্টা রোদে রেখে খাওয়াতে যা এই ঘাসের ক্ষতিকর উপাদানগুলো দূর করে দেয়। গরুকে যৌনমিলন বা সিমেন দেয়ার আগের ১৫ দিন এবং পরের ১ সপ্তাহ এই ঘাস অধিক পরিমানে খাওয়ালে গর্ভধারণে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

Please follow and like us:

About admin

Check Also

গরুর খাদ্য হিসাবে কলাগাছ : গুরুত্ব পর্যালোচনা

গরুর খাদ্য হিসাবে কলাগাছ : গুরুত্ব পর্যালোচনা আমাদের দেশে গরুর আপদকালীন খাবার হিসাবে পরিচিত কলাগাছ …

Translate »
error: Content is protected !!