Breaking News

সজিনা পাতার ব্যবহার এবং গুণ

‘সজিনা’ শুধু মানুষের খাদ্য হিসেবে নয়, গবাদীপশুর খাদ্য (আদর্শ ছাগল পালন গাইড থেকে)
হিসেবে ও অলৌকিক বৃক্ষ’হিসেবে পরিচিতঃ
সজিনার বহুবিধ ব্যবহার:
১) মানব খাদ্য, ২) পানি পরিশোধন, ৩) খামারাসিউটিক্যাল পণ্য, ৪) প্রাণী ও মাছের খাবার, ৫) সবুজ সার ও, ৬) উদ্ভিদ বৃদ্ধি হরমোন।
গবাদীপশুর খাদ্য হিসাবে সজিনা ঃ
সজিনা গাছের পাতাগুলি তাদের উচ্চপুষ্টির উপাদান এবং মানুষের ব্যবহারের জন্য অতি পরিচিত হয়ে উঠেছে তবে, এই পাতাটি উচ্চমাত্রার প্রোটিন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির কারণে পশুখাদ্য হিসেবে উপকারী হতে পারে।
সজিনা কেন?
* সজিনা, বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল গাছগুলির মধ্যে একটি, যা উচ্চতর অশোধিত প্রোটিন সমৃদ্ধ।
*এটি যেকোনো জায়গার মানুষ ও গবাদীপশুর জন্য প্রোটিনের একটি ভাল বিকল্প উৎস।
*পশুখাদ্যে প্রোটিনের বিকল্প উৎস হিসাবে সজিনা ব্যবহারের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে।
*ল্যাবরেটরি বিশ্লেষণে সজিনা উদ্ভিদে সামান্য পরিমাণ ট্যানিনস এবং প্রচুর সালফার সমৃদ্ধ অ্যামাইনো অ্যাসিডের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।
*সজিনা পাতা পশুখাদ্য হিসাবে ব্যবহারের জন্য একটি সম্ভাব্য সাশ্রয়ী প্রোটিনের উৎস। প্রোটিনের উৎস হিসাবে সজিনা পাতা ব্যবহারের সুবিধা অনেক, এটি এক ঋতুতে অনেকবার কাটা যায়।
*সজিনা সহজেই মাঠে আবাদ করা যায়; নতুন করে উৎপাদনের জন্য গোঁড়া থেকে কেটে ফেলা যায়; পশুখাদ্য উৎপাদনের জন্য সম্ভাবনাময়। এটি ১২ মিটার উচু হতে পারে; খুব ঘনভাবে লাগানো হলে ১২০টন / হেক্টর / বছর পর্যন্ত ফলন হয়। উপরন্তু, এটি কোনও গুরুতর রোগদ্বারা আক্রান্ত হয়না।

#.নাদীর রেইস সানচেজ এর গবেষণার ফল:
২০০৬ সালে সুইডিশ ইউনিভার্সিটি অফ এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি অব আপসলা এর অধিনে, ডাঃ নাদির রেইস সানচেজের একটি গবেষণা সম্পন্ন হয়। এই গবেষণায় ডঃ রেইস দুগ্ধজাত গবাদী পশুর দুগ্ধ উৎপাদনের ক্ষেত্রে খড় ও সজিনার সাথে তুলনা করেন। ফলাফল ছিল:
-শুধুমাত্র খড়: প্রতিদিন ৩.১ কেজি দুধ।
-সাথে ২ কেজি সজিনা পাতা: প্রতিদিন ৪.৯ কেজি দুধ (৫৮% বৃদ্ধি)।
-৩ কেজি সজিনা সহ: প্রতিদিন ৫.১ কেজি দুধ (৬৫% বৃদ্ধি)।
সজিনা থেকে জৈব বস্তু উৎপাদনঃ
*প্রতি বর্গমিটারে ৫০-৭৫ গাছ;
*প্রতি ৭৫ দিনে কাটা হলে এটি উচ্চমানের পশুখাদ্য হবে;
*কাটতে দেরি হলেও সিপি এবং ডিএমের সংশ্লিষ্ট পুষ্টিমান কমেনা।
*বছরে ৯ বার পর্যন্ত এটি সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন সেচ ও সার দেয়া জমিতে:
*৬৫০ থেকে ৭০০ মেট্রিক টন সবুজ খাদ্য;
*শুষ্ক খাদ্যে ১০০-১১০ মেট্রিক টনের সমান;
*১৭.৫ মেট্রিক টন বিশুদ্ধ প্রোটিন;
*৭০০০ কেজি লিপিড, ৬৫% হচ্ছে ওমেগা -৩ ফ্যাটি অ্যাসিড;
*১০ মেট্রিক টন চিনি;
*প্রায় ৮ মেট্রিক টন স্টার্চ;
* প্রায় ৪৫ মেট্রিক টনহেমিসেলুলোজ ও সেলুলোজ।
পশুদের বৃদ্ধি এবং উন্নয়নের উপর সজিনার প্রভাব:
*সজিনার তাজা পাতাগুলি বিভিন্ন প্রাণীদের খাদ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ছাগলের খাদ্যাভাসের উন্নতি, ভেড়ার বৃদ্ধিহার এবং দ্বৈত উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত গরুর দুধ উৎপাদনের উপর ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে।
*মাছ, ভেড়া, ও ডিমপাড়া মুরগির খাদ্যে সজিনা অন্তর্ভুক্তকরণে ভাল ফলাফল পাওয়া গেছে।
*শুধুমাত্র সজিনা খাওয়ানোর ফলে গরুর ওজন বৃদ্ধি হয় ১২০০-১৫০০ গ্রাম/ দিন; সজিনা ছাড়া ওজন বৃদ্ধি হয় ৯০০ গ্রাম/ দিন। অর্থাৎ ৩৩% বৃদ্ধি, কোন কৃত্রিম হরমোন বা অ্যান্টিবায়োাটিক ব্যবহার ছাড়াই।
*সজিনা খাওয়ানো ছাগলের ওজন বৃদ্ধি ঘটে ৮৬ গ্রাম/ দিন; সজিনা ছাড়া মাত্র ৫৫ গ্রাম/ দিন।
*বিভিন্ন পরিমানে (২,৩ ও ৪ কেজি) সজিনা পাতা গরুকে খাদ্য হিসেবে দিলে প্রতিদিন ৫০০ গ্রাম, ১ কেজি থেকে ১.৫ কেজি হারে ওজন বৃদ্ধি হয়। যদি সজিনার পাতা গবাদী পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয় তবে দৈহিক ওজন বৃদ্ধি এবং দুধ উৎপাদনকে বৃদ্ধি করতে পারে। এটি উন্নয়নশীল দেশের কৃষকদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় দরজা হিসেবে উন্মোচিত হবে। এই অঞ্চলে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর জন্য এটি খুবই কম খরচের পদ্ধতি হবে, যাতে হাজার হাজার ক্ষুধার্ত মানুষের সাহায্য করতে পারে।
গরু মোটাতাজাকরণের ক্ষেত্রে সজিনা হতে পারে জাদুকরি বিকল্প পশু খাদ্য
গরু মোটাতাজাকরণের ক্ষেত্রে পুষ্টি চাহিদা:
২০০ কেজি দৈহিক ওজন বিশিষ্ট গরুর জন্য খাদ্য প্রয়োজন (প্রচলিত চর্চায়)-২-৪ কেজি খড়, ৮-১০ কেজি সবুজ ঘাস এবং ২-৩ কেজি দানাদার খাদ্য প্রদান করতে হয়।
২০০ কেজি ওজনের গরুর জন্য যেসকল মূল পুষ্টি উপাদান প্রয়েজন-
নেট এনার্জি (ঘঊম):
প্রতিদিন ৫০০ গ্রামবৃদ্ধির জন ১.৩০ গপধষ/ফ.
– প্রতিদিন ১ কেজি বৃদ্ধির জন্য ২.৮ গপধষ/ফ.
– প্রতিদিন ১.৫ কেজি বৃদ্ধির জন্য ৫.০ গপধষ/ফ.
ক্রুড প্রোটিন :
– প্রতিদিন ৫০০ গ্রামবৃদ্ধির জন ১৬০ গ্রাম।
– প্রতিদিন ১ কেজি বৃদ্ধির জন্য ৩০০ গ্রাম।
– প্রতিদিন ১.৫ কেজি বৃদ্ধির জন্য ৪০০ গ্রাম।
ক্যালসিয়াম :
প্রতিদিন ৫০০ গ্রামবৃদ্ধির জন ১৪ গ্রাম।
– প্রতিদিন ১ কেজি বৃদ্ধির জন্য ২৭ গ্রাম।
– প্রতিদিন ১.৫ কেজি বৃদ্ধির জন্য ৩৯ গ্রাম।
ফসফরাস :
প্রতিদিন ৫০০ গ্রামবৃদ্ধির জন ৬ গ্রাম।
– প্রতিদিন ১ কেজি বৃদ্ধির জন্য ১১ গ্রাম।
– প্রতিদিন ১.৫ কেজি বৃদ্ধির জন্য ১৬ গ্রাম।
খামারি ভাইয়েরা কোন খাদ্যে কি কি উপাদান কি পরিমান আছে তা দেখে আপনার গবাদীপশুর জন্য পুষ্টিগুনসম্পন্ন খাদ্য প্রস্তুত করুন।

১০০ গ্রাম সজিনাতে যে সকল পুষ্টি উপাদান আছে-
ঘঁঃৎরবহঃং ঋৎবংয ষবধাবং উৎু ষবধাবং খবধভ ঢ়ড়ফিবৎ ঝববফ চড়ফং
ঈধষড়ৎরবং (পধষ) ৯২ ৩২৯ ২০৫ – ২৬
চৎড়ঃবরহ (ম) ৬.৭ ২৯.৪ ২৭.১ ৩৫.৯৭ ক্ট ০.১৯ ২.৫
ঋধঃ (ম) ১.৭ ৫.২ ২.৩ ৩৮.৬৭ ক্ট ০.০৩ ০.১
ঈধৎনড়যুফৎধঃব (ম) ১২.৫ ৪১.২ ৩৮.২ ৮.৬৭ ক্ট ০.১২ ৩.৭
ঋরনৎব (ম) ০.৯ ১২.৫ ১৯.২ ২.৮৭ ক্ট ০.০৩ ৪.৮
ঠরঃধসরহ ই১ (সম) ০.০৬ ২.০২ ২.৬৪ ০.০৫ ০.০৫
ঠরঃধসরহ ই২ (সম) ০.০৫ ২১.৩ ২০.৫ ০.০৬ ০.০৭
ঠরঃধসরহ ই৩ (সম) ০.৮ ৭.৬ ৮.২ ০.২ ০.২
ঠরঃধসরহ ঈ (সম) ২২০ ১৫.৮ ১৭.৩ ৪.৫ ক্ট ০.১৭ ১২০
ঠরঃধসরহ ঊ (সম) ৪৪৮ ১০.৮ ১১৩ ৭৫১.৬৭ ক্ট ৪.৪১ –
ঈধষপরঁস (সম) ৪৪০ ২১৮৫ ২০০৩ ৪৫ ৩০
গধমহবংরঁস (সম) ৪২ ৪৪৮ ৩৬৮ ৬৩৫ ক্ট ৮.৬৬ ২৪
চযড়ংঢ়যড়ৎঁং (সম) ৭০ ২৫২ ২০৪ ৭৫ ১১০
চড়ঃধংংরঁস (সম) ২৫৯ ১২৩৬ ১৩২৪ – ২৫৯
ঈড়ঢ়ঢ়বৎ (সম) ০.০৭ ০.৪৯ ০.৫৭ ৫.২০ ক্ট ০.১৫ ৩.১
ওৎড়হ (সম) ০.৮৫ ২৫.৬ ২৮.২ – ৫.৩
ঝঁষঢ়যঁৎ (সম) – – ৮৭০ ০.০৫ ১৩৭
আপনার পশুকে কতটুকু পাতা খেতে দিবেন তা এই চার্ট দেখে হিসাব করে নিতে পারেন।
সজিনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার সম্পর্কে বলছি-
উদ্ভিদ বৃদ্ধি হরমোন হিসেবে সজিনা পাতার রস এর ব্যবহার: কৃষিতে সজিনা পাতার গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার রয়েছে। প্রাকৃতিক হরমোন ও বালাইনাশক হিসেবে সজিনা পাতার রসের কার্যকার ভূমিকা রয়েছে।
-৪০ দিন বয়সি পাতা থেকে রস বের করতে হবে।
-৩৬ শতাংশ পানি মিশিয়ে পাতলা করতে হবে।
-প্রতিটি উদ্ভিদ উপর ২৫ মিলি স্প্রে করতে হবে।
স্প্রে এর প্রভাব:
-শিশু গাছপালার বৃদ্ধি দ্রুততর করে।
-গাছপালা দৃঢ় করে, কীটপতঙ্গ এবং রোগের প্রতিরোধী।
-গাছের জীবনকাল বৃদ্ধি করে।
-অধিক হারে শিকড়, ডালপালা এবং পাতাকে বৃদ্ধি করে।
-অধিক ফল উৎপাদন করে।
-ফল বড় হয়।
-২০-৩৫ শতাংশ ফলন বৃদ্ধি করে।

(রাজীব রাজু)

সজিনা / মরিঙ্গা গাছের গুণ
সজিনা গাছ খরা সহিষ্ণু ও গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলের একটি উদ্ভিদ। ডাল ও বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার করলেও আমাদের দেশে সাধারণত ডালের মাধ্যমে বা অঙ্গজ জননের মাধ্যমে বংশবিস্তার করানো হয়। গ্রীষ্মকাল বিশেষত এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি থেকে শেষ পর্যন্ত ডাল রোপণের উপযুক্ত সময়।
সজিনা গাছের পাতাকে বলা হয় অলৌকিক পাতা। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে পুষ্টিকর হার্ব। গবেষকরা সজিনা পাতাকে বলে থাকেন নিউট্রিশন্স সুপার ফুড এবং সজিনা গাছকে বলা হয় মিরাক্কেল ট্রি।
– লেবু থেকে সাত গুন বেশি ভিটামিন সি আছে সজিনা পাতায়।
– ডিম থেকে দুই গুন বেশি প্রোটিন।
– দুধের চেয়ে চার গুন বেশি ক্যালশিয়াম আছে এতে।
– অন্ধত্ব দূরীকরনে ব্যাপক কার্যকারী, কারন এতে আছে গাজর থেকেও চার গুন বেশি ভিটামিন ”এ”।
– সজিনা পাতা এনিমিয়াকেও ধ্বংশ করে কেননা শাকের তুলনায় পচিশ গুন বেশি আয়রন রয়েছে এতে।
– কলা থেকে তিন গুন বেশি পটাশিয়াম রয়েছে সজিনা পাতায়।
– এটা আমাদের শরীরে এন্টি এজিংক হিসেবে কাজ করে, হার্ট ভালো রাখে, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রাখে।
– যৌবন ধরে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে সজিনা পাতা।
– এটি রক্তে সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রন করে।
– কোলেস্ট্রলের লেভেল কমায়, হজম শক্তি বৃদ্ধি করে ও কোষ্টকাঠিন্য দূর করে।
– এজমা রোগীদের জন্য এটা বিশেষ উপকারি, একটি গবেষনায় দেখা গিয়েছে তিন গ্রাম পাতা দুইবেলা করে তিন সপ্তাহ খেলে বিশেষ উপকার পাওয়া যায়।
এছাড়াও শত বছর ধরে প্রায় তিনশরও বেশি রোগের ঔষধ হিসেবে সজিনা পাতা ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
– সজিনার বিচির মধ্যে রয়েছে এন্টি ব্যাক্টেরিয়াল প্রপার্টিস।
– এটার বিচি পানি বিশুদ্ধকরনে অত্যন্ত কার্যকারি।
– সজিনা ক্যান্সার কোষ বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে।
– গর্ভধারণের পরবর্তীতে সব মায়েদের জন্য সজিনা পাতা খুবই উপকারী।
– সজিনা পাতায় আরো রয়েছে বিরানব্বই ধরনের পুষ্টি উপাদান, ছেচল্লিশ ধরনের এন্টি অক্সিডেন্ট, আঠারো ধরনের এমিনো এসিড ও আট ধরনের এসেনশিয়াল এমিনো এসিড। তাই সজিনা পাতাকে বলা হয় নিউট্রেশন্স সুপার ফুড, ন্যাচারাল মাল্টিভিটামিন এবং মিরাক্কেল ভেজিটেবল।
আফ্রিকায় যে সমস্ত শিশুরা ম্যালনিউট্রেশনে ভোগে তাদেরকে সজিনা পাতা শুকিয়ে গুড়া করে খাওয়ানো হয়।সজিনা পাতা বিভিন্ন ভাবে খাওয়া যেতে পারে, যেমন ভাজা, রান্না, বড়া, ভর্তা ও শুকিয়ে গুড়ো করে

###

সজনে গাছ গরুকে খাওয়ালে(ছাগলকে খাওয়াতে পারেন) কোন দানাদার খাবার না দিলেও চলে, এমনই এক গবেষনায় ভাল ফলাফল উঠে এসে সরকারী সাভার ডেইরি ফার্মে।

আমরা অনেকেই দুগ্ধ ও মোটাতাজা খামার করতে আগ্রহী, কিন্তু এই খামারকে টিকিয়ে রাখতে ব্যকওয়ার্ড ও ফরওয়ার্ড লিংকেজ অনেক সাপোর্ট দরকার যা খুবই অপ্রতুল আমাদের দেশে। ডেইরি সেক্টরকে লাভবান করার জন্য দেশে ওষুধ কোম্পানী ছাড়া খাদ্য, সেবা, আধুনিক মেশিনারিজ বা যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে তেমন উল্লেখযোগ্য কোন উন্নতি সাধিত হয়নি। একটি খামারে ৭০% খরচ হয় খাদ্য ব্যবস্থাপনায়। একটি দুগ্ধ ও মোটাতাজাকরন খামারের জন্য এই গাছ আশীর্বাদ স্বরুপ। শুধু পাতা নয়, গাছের ডালপালা, ফল সহ এমন কিছু নেই যার চাহিদা নেই।

কলমী শাকের চেয়ে ২৫ গুন বেশী আয়রন, দুধের চেয়ে ১৭ গুন বেশী ক্যালসিয়াম, কলার চেয়ে ১৫ গুন বেশী পটাশিয়াম, গাজরের চেয়ে ১০ গুন বেশী ভিটামিন এ, দই এর চেয়ে ১০ গুন বেশী প্রোটিন, কমলার চেয়ে ১০ গুন বেশী ভিটামিন সি আছে এই যাদুকরী গাছে।

তাই যে সব ভাইদের দুগ্ধ ও মোটাতাজাকরন খামার আছে আপনারা সজনে গাছের অবশ্যই চাষ করুন, যাদের খামার নেই অথচ অনেক জায়গা আছে আপনারা ও সজনে গাছের চাষ করে খামারীদের হাতে তুলে দিন। আপনার নিজের ব্যবসাও হবে, দেশের দুগ্ধ ও মাংস শিল্পের খামারীরাও উপকৃত হবে।

সাভার ডেইরী ফার্মে এই সজনে গাছের সাইলেজ একটি দুগ্ধবতী গরুর জন্য কতটা কার্যকরী তা নিয়ে গবেষনা করছে। ৪ টি দুগ্ধবতী গাভীর উপর পরীক্ষা চলেছে ৪ নিয়মে খাবার খাইয়ে:

১ নং গাভী : ৬০% সজনের সাইলেজ + ৪০% দানাদার
২ নং গাভী : ৬০% দানাদার + ৪০% সজনে সাইলেজ
৩ নং গাভী: ১০০% দানাদার
৪ নং গাভী : ১০০% সজনে সাইলেজ

গবেষনায় দেখা যাচ্ছে, ৪ টি গাভীর খাবারে এবং খরচে তারতম্য থাকলেও প্রতিদিন দুধের হিসাবে তেমন উল্লেখযোগ্য কোন তারতম্য নেই। অথচ শুধু সজনের সাইলেজে খাবার খরচ অনেক কম অন্য খাবারের থেকে। ছবির মতন করে সজনে গাছের পাতা কানড সব কেটে পিস পিস করে সাইলেজ করে রেখে খাওয়ানো হয়।

তাই কাল থেকেই সজনে গাছের চারা লাগান। সজনে ফল বাজারে দাম অনেক বেশী আর সজনে গাছের পাতা কান্ড গরুর সাইলেজ খাবার হিসাবে ডেইরী খামারীরা খুজবে পাগলের মত খুব শীঘ্রই। তাই আর দেরী নয়, যাদের জায়গা আছে, ফেলে না রেখে ব্যাপক হারে সজনে গাছ লাগান।

আসসালামুয়ালাইকুম। সাজনা বা সজিনা নিয়া ইদানিং খুব কথা হচ্ছে। কেউ বলছে পুষ্টীর ডিনামাইট আবার কেউ বলছে ৩০০ রোগের প্রতিষেধক হিসাবে কাজ করে কিংবা উপকারে আসে। এই নিয়া বিস্তর আলোচনা। আলোচকরা দেখাতে চাইছেন সাজনা গাছের কোন কিছুই ফেলনা নয়। সাজনা যেমন মানুষের খাদ্য তালিকাতে সব্জী হিসাবে পছন্দের তালিকাতে প্রথম দিকে আবার ইদানিং পশুখাদ্যের উতস হিসাবেও ইদানিং দেখা হচ্ছে। সাজনা বা সজিনার উতপত্তি স্থল হিসাবে আফ্রিকা মহাদেশ এবং ভারত এর অন্যতম প্রধান চাষ স্থল।

সাজনা বা সজিনাকে আমরা দুটি ভাগে ভাগ করতে পারি। ১ঃ দেশী জাত এবং ২ঃ বিদেশী জাত।

১ঃ দেশী জাতঃ আমাদের আশেপাশে যে জাতটি দেখা যায় সেটিকেই আমরা দেশী সাজনা হিসাবে চিনি। এ-ই সাজনা গাছগুলিতে সাধারনত ২ থেকে ২.৫ বতসরে ফুল আসে এবং ফুল আসার ৬০-৯০ দিনের মধ্যে ফল তোলার উপযুক্ত হয় এবং সাধারনতঃ বতসরে একবার ফ ল দেয়। আমাদের দেশে সাধারনতঃ ডালের মাধ্যমে বংশ বিস্তার করে থাকে। সাধারনতঃ বাড়ীর আশেপাশে দুই এক্টি গাছে অযত্নে অব হেলাতে বেড়ে উঠতে দেখা যায়। কেউ কোন দিন এইগাছগুলিতে সঠিক ভাবে যত্ন নিছেন এমন দেখিনি।

বারী ১ বারমাসী সাজনাঃ অতি সম্প্রতি বারী ১ নামে এক্টি উচ্চ ফলনশীল জাত উম্মুক্ত করা হইছে যা বতসরে ৯ মাস ফল দিবে বলে দাবী করা হচ্ছে যদিও বানিজ্যিকভাবে এখন পর‍যন্ত কেউ এর চাষ করেনি।

বিদেশী জাতঃ আফ্রিকা এবং ভারতে সাজনা বা সজিনার অনেকগুলি জাত বানিজ্যিকভাবে চাষাবাদ তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে-

pnm 1: এ-ই জাতটি ভারতের প্যারিয়াকুলাম হরটিকালচার কলেজ এবং তামিলনাড়ু এগ্রিকালচারাল ইউনিভারসিটি যুগ্ন (jointly) ভাবে ১৯৮৯ সালে উম্মুক্ত করে। এ-ই জাতটি ত্রিনালভ্যালী ( tirunelveli) আঞ্চলে ৬ জেনারেশন চাষ করার পর এর বইশিষ্ট সম্প্রকে নিশ্চিত হ্বার পর এ-ই জাতটি রিলিজ করেছে। এটি এক্টি উচ্চ ফলনশীল জাত এবং ৮-৯ মাসে ফুল আসে যদি সঠিকভাবে যত্ন নেওয়া হয়। একবার বাগান করলে ৩-৪ বতসর এ থেকে পাতা, কাটিং এবং সজিনা পাওয়া যায়।

PKK 2: এ-ই জাতটি mp31 (eppothum vend ran local) এবং mp28 ( arasaradi local) জাতের ক্রস করা হাইব্রীড জাত। এ-ই জাতটি চারা করার ৬-৯ মাসের মধ্যে ফুল আসে সঠিক যত্নে। এটা প্রায় ১২ মাস ই লাগানো যায়। এই গাছের কোন কোন সাজনা প্রায় ৪ ফুট এবং উজনে ২৭৫ থেকে ৩০০ গ্রাম হতে দেখা যায়। এ-ই জাতের সাজনাতে ৭০ ভাগ মাংস থাকে। এক্টি গাছে বতসরে ২০০-২২০ টি এবং ১ এক র জমিতে প্রায় ৪০ টন সাজনা পাওয়া যেতে পারে। এই জাতটি সাইলেজ, সজিনার তেল কিনবা পাউডার এর জন্য খুব ই উপযোগী।

Odc/ odc 3: এই জাতটি প্রথম ২০১২ সালে চাষাবাদ শুরু হলেও ২০১৭ সালে রিলিজ করা হয়। এ-ই জাতটি খাবার সজিনা হিসাবে খুবই ভাল। সঠিক যত্নে ৬-৮ মাসে এতে ফুল এবং ফল আসে। একেক্টি ফল ১.৫-২.৫ ফুট লম্বা এবং ৭০-৮০ গ্রাম ওজন হয় যা সব্জী হিসাবে বিক্রীর জন্য খুব ই উপযোগী। এই জাতের সজিনাতে ৮০% মাংস থাকে এবং এই জাত সব্জী হিসাবে খুব টেষ্টী। এক্টি পুরন বয়স্ক গাছে ৩০০ পর‍্যন্ত সজিনা এবং ১ একরে ২০ টন ফলন পাওয়া যেতে পারে।

pkl1, pkm 2 এবং odc/odc3 ছাড়াও আরো যে উল্ল্যেকযোগ্য জাতগুলি আছে সেগুলি হলঃ ভাগিয়া, রুহিত ১, pavm. এইজাতগুলিও ভাল জাত হিসাবে পরিচিত।

 

ফেসবুক থেকে নেয়া

Please follow and like us:

About admin

Check Also

গরুর খাদ্য হিসাবে কলাগাছ : গুরুত্ব পর্যালোচনা

গরুর খাদ্য হিসাবে কলাগাছ : গুরুত্ব পর্যালোচনা আমাদের দেশে গরুর আপদকালীন খাবার হিসাবে পরিচিত কলাগাছ …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »
error: Content is protected !!