Breaking News

যারা নতুন ছাগলের ফার্ম দিবেন তাদের জন্য

। যারা ফার্ম করেছেন তাদের অনেকেই হতাশ কারণ লাভ পাচ্ছেন না বছর শেষে। একটা কথা মাথায় রাখা দরকার তা হলো সারা বছর যা খরচ করেছেন তাই উঠছেনা একবার ভেবে ঢেকেছেন আপনি কয়টি ছাগল বিক্রয় করেছেন এবং কত টাকা খরচ হয়েছে। প্রথমত হিসাব করতে হবে যা খরচ হয়েছে তা উঠাতে কত ছাগল বেচতে হবে সেই পরিমান প্রডাকশনের জন্য কয়টি মা ছাগল লাগবে। আপনি যখন ২০০ মা ছাগলকে প্রোডাকশন এ আনতে পারবেন তখন ফার্ম থেকে একটা ভালো লাভ করা সম্ভব। এজন্য আপনাকে ৩ থেকে ৪ বছর সময় দিতে হবে। এই ৩ বা ৪ বছর পর্যন্ত যা খরচ আছে আপনাকে তা নিজ পকেট থেকে দিতে হবে। আর এই পরিমান অর্থ নিয়ে নামলে পরে লাভ সম্ভব। যারা ফার্ম করছেন বা করতে যাচ্ছেন এই বিষয় গুলো মাথায় নিয়ে আগাবেন আশা করি।

১ জন লোক কাজ করে যার মাসিক বেতন খাবার সহ ৮০০০ টাকা * ১২ =৯৬০০০
দানাদার খাবার খরচ প্রতি মাসে ১২০০০ টাকা * ৬ = ৭২০০০
৫ বিঘা জমির বাত্সরিক লিজ সহ চাষ করতে খরচ ৬০০০০ টাকা = ৬০০০০
ঔষধ প্রতি মাসে ৩০০০টাকা * ১২ = ৩৬০০০
মোট = ২৬৪০০০
এই খরচ উঠতে কমপক্ষে ৫৩ টি ছাগল ৫০০০ টাকা দরে বেচতে হবে ৫৩*৫০০০ = ২৬৫০০০ টাকা
ছাগল প্রতি মাসিক খরচ দাঁড়ায় ২২০ টাকা
এইখানে ৪০ তা পাঠি ও ৬০ টি বাচ্চার হিসাব দেয়া হলো। পাঠি প্রতি গড়ে ১.৫ বাচ্চা ধরা হয়েছে।

ছাগলের খামারিদের কে বলছি !
আপনারা যারা খামার করছেন বা করতে যাচ্ছেন তারা দয়া করে তাড়াহুড়ো করবেন না। আমাদের চোখের সামনে অনেক বড় বড় খামার বন্ধ হয়ে গেছে আবার নতুনরা শুরু ও করছে। অনেকেই বড় ধরণের লস দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন। ছাগল আর গরু বা ভেড়ার খামার এক না। গরু বা ভেড়ার খামার করা খুব সহজ কিন্তু ছাগলের খামার সম্পূর্ণ আলাদা। এর খাবার ব্যাবস্থা চিকিৎসা বাসস্থান সম্পূর্ণ আলাদা। তাই ছাগলের খামার করার আগে ভালো মতো পড়ালেখা করা জরুরি। আজও আমরা প্রতিদিন কিছু না কিছু শিখছি। খামার মূলত ২ ধরণের হয়ে থাকে ব্রিডিং ফার্ম এবং ফার্ম। ব্রিডিং ফার্ম হলো যে ফার্ম এ মূলত প্যারেন্ট বা বাবা মা ছাগল উৎপাদন করা হবে যেখানে শুধু উন্নত মানের পাঠা পাঠি থাকবে এবং তাদের যথাযথ ৩ পুরুষের রেকর্ড pedigree থাকতে হবে সেই বাবা বা পাঠা ছাগল ফার্ম ( খামারিরা ) নিয়ে লোকাল জাতের সাথে ক্রস করিয়ে লোকাল বাজারে মাংসের জন্য বিক্রি করবে। দেশের মোট খামারের ২০% ব্রিডিং ফার্ম ও ৮০% খামার হওয়া উচিত। ব্রিডিং ফার্ম এর কাজ হলো জাত উন্নয়ন করা এবং বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করা। আর ফার্ম বা খামারিদের উচিত উন্নত পাঠার সাথে লোকাল পাঠি ব্যাবহার করে ভালো খাসি তৈরী করে বাজারজাত করা। ব্রিডিং ফার্ম মূলত ছোট আকারের হয়ে থাকে কিন্তু ফার্ম বা খামার হতে হবে বড় আকারের। যত বড় খামার হবে তত খরচ কম হবে সাথে ব্যাবস্থাপনা ও কঠিন হবে যদি প্ল্যান করে আগাতে না পারেন। একটা ছাগলের ফার্ম ভালো ভাবে দাঁড় করতে কমকরে হলেও ৫ বছর লাগে যদি শুরু থেকে ভালো প্ল্যান করে আগানো যায়। ছাগলের ফার্ম এর ক্ষেত্রে প্রধান সমেস্যা হলো খাবার খরচ ও রোগ এই দুই নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে আর ভালো জাত দিয়ে শুরু করলে সাফল্য আসবেই। আমরা সংখ্যা না বাড়িয়ে শুরুতে কোয়ালিটি দিকে নজর দেয়া উচিত যেহেতু শুরুতে যেগুলা দিয়ে শুরু করবেন তাই আপনার ভবিষৎ। এদের থেকেই আপনার ভবিষৎ প্রজন্ম তৈরী হবে। ঘাস নিজের তৈরির বিকল্প নাই। প্রতি ৪০ টি ছাগলের জন্য ৩ একর জমির দরকার পরে ঘাস উৎপাদনে। কেউ যদি ব্ল্যাক বেঙ্গল দিয়ে শুরু করতে চান কোনো ভাবেই ষ্টল ফিডিং এ যাবেন না। সারাদিন মাঠে চড়িয়ে খাওয়াবেন নইলে লাভের মুখ কখনই দেখতে পাবেন না। ষ্টল ফিডিং এর জন্য বিটাল , কটা , শিরোহী বা barbari নিতে পারেন এছাড়া বোয়ার ও নিতে পারেন কিন্তু বোয়ার অনেক ব্যায়বহুল শুরুতে না নেয়া টাই ভালো। কমপক্ষে ৫০ টি প্ৰাপ্ত বয়স্ক পাঠি না থাকলে বোয়ার নিয়া ঠিক হবেনা। এখন আপনারাই ঠিক করেন কিভাবে ফার্ম করবেন কোন ধরণের ফার্ম করবেন।

Please follow and like us:

About admin

Check Also

ছাগলের নিউমোনিয়া

ছাগলের নিউমোনিয়া  সঠিক সময় চিকিৎসা না দিলে ছাগল টিকানো কঠিন হয়ে পরে। লক্ষণ গুলো নিম্ন …

Translate »
error: Content is protected !!