Breaking News

মুরগির পেঠে পানি জমা(এসাইটিস):বিস্তারিত

মুরগির পেঠে পানি জমা(এসাইটিস):বিস্তারিত

এটা মূলত ব্রয়লার মুরগিতে হয় কারণ

ব্রয়লার দ্রুত বৃদ্ধি পায়.

হার্ট(হৃৎপিন্ড) এবং ফুসফুস ছোট.

ব্লাড প্রেসার বেশি.

মেটাবলিজম রেট বেশি.

খাদ্যে এনার্জি এবং প্রোটিন বেশি।

এসব কারণে রক্তবাহী চাপ বেড়ে যায় এবং প্রোটিনবাহী তরল পদার্থ রক্তনালীর  অর্ধভেদ্য পদার্থ ভেদ করে পেঠে জমা হয়,
তাছাড়া ছোট ফুসফুস প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ধারণ এবং দেহে সরবরাহ করতে পারেনা ফলে ফ্রি রেডিকেল তৈরি হয় যা কোষ নস্ট করে দেয়.

আক্রান্তের হার ১-৫% এবং মৃত্যহার ১-৫%.
২-৪ সপ্তাহে বেশি হয়,লক্ষন পরে দেখা গেলেও শুরুটা হ্যাচারীতে হতে পারে।

এটা মূলত রোগের লক্ষন,রোগ নয়.

একে পালমোনারি হাইপারটেনশন সিনড্রোম (HPS) বলা হয়.

কিভাবে হয়:
রক্তবাহী নালী ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফলে প্রোটিনবাহী তরল পদার্থ বের হয়ে যায়,

হার্টের ডান এট্রিয়াম ছোট হওয়ার কারনে হাইড্রোস্টেটিক প্রেসার বেড়ে যায়।

ভাস্কুলার অনকোটিক(colloidal) প্রেসার কমে যায় ফলে তরল বের হয়ে যায়।

ছোট রক্তনালির (capillary)পারমিয়েবিলিটি(permeability) বেড়ে যায়।

লিম্প ড্রেইনেজেজ( Lymph drainage) ক্ষতিগ্রস্ত হয় যা লিম্প চ্যানেলের মাধ্যমে রক্তনালীতে তরল আসতে বাধা দিত.

মুরগির ফুসফুস থোরাসিক ক্যাভিটিতে আটকানো যা অন্য প্রানীর মত প্রসারিত হতে পারেনা এবং ফুসফুস ধীর গতিতে বৃদ্ধি পায় যা শরীরের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারেনা.

হার্টের ডান পাশের ভেন্টিকলের দেয়াল খুব পাতলা।

কারণ
১.অক্সিজেনের ঘাটতি:

ব্রয়লার দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং বেশি খায় তাই বেশি অক্সিজেন প্রয়োজন কিন্তু সেই অনুযায়ী অক্সিজেন না পেলে( বিশেষ করে শীতকালে) রক্তচাপ বেড়ে যায় ফলে পেঠে পানি জমে.

তাছাড়া ওজন যদি বেশি হয়।

পানিতে যদি লবণ বেশি হয়।

২.হাই এনার্জি ডায়েট( ১৩.১০এম জি / কেজি)
৩.পিলেট ফিডে ১৫% বেশি এসাইটিস হয় কিন্তু ম্যাস ফিডে কম প্রায় ৪%.পিলেট ফিড সহজে হজম হয় এবং খেতে পারে,এতে অক্সিজেনের চাহিদা বেড়ে যায় এবং এসাইটিস বেড়ে যায়.

৪.ব্রুডিং এ উচ্চ তাপমাত্রা ৯৭ ফারেনহাইটের বেশি হলে এবং মুরগি ঘন হলে

৫.বিরতিহীন আলো মুরগিতে ধকল সৃস্টি করে

৬. ভেন্টিলেশন ভাল না হলে গ্যাস দূর হতে পারেনা (co2.NH3) এবং অক্সিজেনের ঘাটতি হয়.

৭.বিভিন্ন রোগ( সি আর ডি,আই বি,মাইকোপ্লাজমোসিস,ই -কলাই যা ফুসফুসে কনজেশন,ইডিমা বা ফাইব্রোসিস করে ফলে গ্যাসিয় বিনিময় বাধাপ্রাপ্ত হয়,পাল্মোনারি হাইপারটেনশন হয় এবং এসাইটিস দেখা দেয়.

গ্রাম নেগেটিভ ব্যাক্টেরিয়ায় লিপোপলিস্যাকারাইড(LPS) স্তর থাকে যা রক্তবাহিনালীর চলাচলের পথকে সংকুচিত করে ফলে এসাইটিসের ঝুকি বেড়ে যায়.

সেডে অর্গানিক ডাস্ট থাকলে ঝুকি ৫গুন বেড়ে যায়.

মোল্ড: ফাংগাল ইনফেকশনের করনে ব্রুডার নিউমোনিয়া হলে ফুসফুসে শক্ত নডিউল তৈরি হয় যা এসাইটিস হতে সাহায্য করে।

৮.অধিক উচ্চতায় ফার্ম :সমুদ্র লেভেলে অক্সিজেনের পরিমান ২০.৯% কিন্তু ৫০০মিটার উচ্চতার জন্য ১% হারে অক্সিজেন কমে যায়.

৯.ঠান্ডা আবওয়ায় ওজন বৃদ্ধি এবং রক্ষনাবেক্ষনের জন্য basal matabolic Rate বেড়ে যায়,সাথে সাথে অক্সিজেনের চাহিদা বেড়ে যায় কিন্তু খামারি ভাইয়েরা শীতকালে পর্দা দিয়ে শেড ডেকে রাখে ফলে অক্সিজেনের ঘাটতি হয় এবং পেঠে পানি জমে.

১০.খাদ্য ও পানিতে সোডিয়ামের উপস্থিতি ২০০০ পিপিএম এর বেশি হওয়া ঠিক নয়.
হলে ফুসফুসের রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং শরীরে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে.

১১.অতিরিক্ত ধূলাবালি এবং আমোনিয়া:
এসব মুরগির ফুসফুসে প্রদাহ সৃস্টি করে এবং সুড়সুড়ি দেয়( irritation),ফলে অক্সিজেন আদান প্রদান কমে যায়.

১২.রক্তের আঠালোতা:
রক্তে যত রক্তকোষ থাকবে ততই রক্তের ঘনত্ব ও আঠালোতা বেড়ে যাবে.
বিপাক ক্রিয়া বৃদ্ধির সাথে অক্সিজেনের চাহিদা বাড়ে এবং অক্সিজেনের অভাব রক্ত স্রোতে ইরাইথ্রোপয়েটিন বাড়িয়ে দেহকে অতিরিক্ত রক্ত কোষ তৈরির নির্দেশ দেয় এর ফলে রক্তের আঠালোতা বাড়ে. ঠান্ডার করনেও রক্তের ঘনত্ব বেড়ে গিয়ে আঠালোতা বেড়ে যায় ফলে ব্রয়লারের পাল্মোনারী হাইপারটেনশন বাড়িয়ে এসাইটিস সৃস্টি করে.
১৩.হিমোগ্লোবিন এবং অক্সিজেনের  অনুপাত ঠিক না থাকলে(তাপ,পি এইচ)

১৪.মাইকোটক্সিন

এসাইটিস এর মেকানিজম কিঃ

✪ E.coli দেহের ভিতরে প্রবেশ করে Septicemia তৈরী করে এবং রক্তনালীর এন্ডোথেলিয়াল লাইনিং কে ভেঙে ফেলে ফলশ্রুতিতে Hemorrhage হয় এবং ফ্লুইড জমা হয়ে Ascites তৈরী হয়।

✪ High Altitude এ মুরগি পালন করলে অক্সিজেন Insufficiency হয়। ফলশ্রুতিতে Pulmonary Hypertension হয় এবং Right Ventricular Artery/Vein প্রসারিত হয়। পরবর্তীতে Right Ventricle Failure হয় এবং Vein এ Congestion হয় এবং রক্তনালী থেকে ফ্লুইড ক্যাভিটিতে চলে আসে Ascites তৈরী হয়।

✪ Aflatoxin এর কারণে লিভার Damage হয় অথবা লিভার Congestion হলে প্রোটিনের মেটাবলিজম কমে যায়। যার কারণে Hypoproteinemia হয়। ফলে Blood এর Osmotic pressure কমে যায় এবং Hydrostatic Pressure বেড়ে যায়। তখন Intracellular Space থেকে ফ্লুইড লস হতে থাকে এবং Extracellular Space এ জমা হয়ে Ascites তৈরী হয়।

✪ High Energy Feed ব্রয়লারকে খাওয়ালে মেটাবলিজম রেট বৃদ্ধির পাশাপাশি অক্সিজেনের রিকোয়ারমেন্টও বৃদ্ধি পায়। কিন্তু মুরগির ক্ষেত্রে ফুসফুস বক্ষপিঞ্জরের সাথে লেগে থাকে। যার কারণে অক্সিজেনের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে Heart বেশি রক্ত পাম্প করতে পারেনা। ফলে Pulmonary Hypertension এর কারণে Right Ventricle Failure হয়। তারপর Vein এ Congestion হয় এবং রক্তনালী থেকে ফ্লুইড ক্যাভিটিতে জমা হতে থাকে এবং Ascites তৈরী হয।

মাঝে মাঝে ব্রয়লারে গরমের দিনেও এসাইটিস হচ্ছে বিশেষ করে ২০২২ সালে বেশি দেখা যাচ্ছে। নিউট্রিশনের এসপেক্টে কি কি কারণ  থাকতে পারে সেই বিষয়ে নিউট্রিশনিস্ট ডাঃ Mamunur Rashid ভাই এর লেখা অনুযায়ী
১. ফিড নিউট্রিশন দুই ধরনের (১৮-২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, >২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পরিবেশীয় তাপমাত্রার উপর ভিত্তি করে হয়। গরমকালে (>২৫) নিউট্রিশনাল চেন্জ বলতে মুলত ফিডে প্রোটিন পারসেন্টেজ টোটাল রিকোয়ারমেন্ট থেকে মিনিমাম ০.৫-১% কমিয়ে আনতে হয়।অর্থাৎ ২৩% দরকার হলে সেটা ২২-২২.৫% দেওয়া হয়।ফ্যাট ( অবশ্যই অয়েল সোর্স থেকে) মিনিমাম ০.৫-১% বাড়তি করতে হয়।অর্থাৎ ৬% দরকার হলে সেটা ৬.৫-৭% দেয়া হয়। এমাইনো এসিড সহ অন্যান্য ভিটামিন ও মিনারেল নরমাল রিকোয়ারমেন্ট এর ১০% পর্যন্ত অতিরিক্ত বাড়াতে হয়।যেমন লাইসিন ১.২৮% দরকার হলে সর্বোচ্চ সেটা ১.৪০% করা হয়।এছাড়াও বিটেইন হাইড্রোক্লোরাইড, সোডিয়াম বাই কার্বনেট, সল্ট এর পরিমান বাড়াতে হয়।এছাড়াও গরমকালে গাট হেলথ ঠিক রাখার জন্য Chlorhydroxyquinolone (Halquinol), Antibiotic Growth Promotor( Olaquindox, Virginiamycin, Flavomycin, BMD, Lincomycin, Zinc Bacitracin, Availamycin, Lincomycin etc) ফিডে যোগ করা হয়।
গরমকালে এসসাইটিসের নিউট্রিশন ঘটিত কারন সমুহঃ
———————————————————————-
১. ক্রোড প্রোটিন এবং মেটাবলিক এনার্জি ইমব্যালেন্স।
২. ক্রোড প্রোটিন না কমানো
৩. এমাইনো এসিড না বাড়ানো।
৪. ফ্যাট সোর্স ব্যবহার করে এনার্জি না বাড়িয়ে ফুলফ্যাট/ কার্বহাইড্রেট সোর্স থেকে এনার্জি বাড়ানো।
৫. DEB ২৫০ ক্রস করে যাওয়া।( অতিরিক্ত লবন ব্যবহারে সোডিয়াম ও ক্লোরাইড এর পরিমান বেড়ে যাওয়া, অতিরিক্ত সোডিয়াম বাইকার্বনেটের ফলে সোডিয়াম এর পরিমান বেড়ে যাওয়া, বিটেইন হাইড্রোক্লোরাইড ব্যবহারে ক্লোরাইডের পরিমান বেড়ে যাওয়া, লাইসিন হাইড্রোক্লোরাইড বেশী ব্যবহারে ক্লোরাইড আয়ন বেড়ে যাওয়া, বিটেইন ব্যবহার সত্ত্বেও বেশী ডোজে কলিন ক্লোরাইড ব্যবহার করা, ফিডে ব্যবহার সত্তেও খামাড়িরা বাজার থেকে কিনে অতিরিক্ত বিটেন, কলিন ও স্যালাইন ব্যবহার করা ইত্যাদি।ব্রয়লার ও সোনালিতে নরমাল Na-16-19%, Cl- 0.19-0.35%, K- 0.80%
৬. নেক্রোটিক এন্টারাইটিস/ এন্টারাইটিস/ ডাইরিয়া প্রিভেনশনে হাইয়ার ডোজে হালকুইনল ( সর্বোচ্চ ৫০০ গ্রাম/ টন) ও অন্যান্য এন্টিবায়োটিক নরমাল ডোজের চেয়েও অতিমাত্রায় ব্যবহার করার কারনে কিডনি ড্যামেজ হয়ে যায়, বা কিডনিং ফাংশন কমে যায়।ফলাফল স্বরুপ এসসাইটিস।।।।
৭. গরমে ম্যাক্সিমাম ভিটামিন ( বিশেষ করে E) নস্ট হয়ে যায়।সেক্ষেত্রে ১০% ডোজ বাড়িয়ে না নিলে শরীরে পানি জমে যেতে পারে।

লক্ষণঃ

১.অসুস্থ মুরগি ছোট থাকে।
২.পেঠ ফুলে যায়।
৩।শ্বাসকষ্ট হয় এবং ঘড় ঘড়(gurgling) শব্দ হয় (abdominal airsac) কারণ উদরস্ত বায়ুকোষগুলো আবদ্ধ হয়ে পড়ে
৪.ঝুটি,মাাংস নীলাভ হয়।
৫ হাঁটতে কষ্ট হয়
৬.পেছন দিকে হাটে
৭.পেঠের পর্দা,বুকের এবং উদরের মাংস পাতলা দেখায়।
৮.বুকের মাংস কালচে হয়ে যায়.

৯ পেঠের চামড়া লাল হয়ে যায়।

১০.হঠাত মারা যায়।ওজন কম হয়।

পেঠে পানি জমা

পোস্টমর্টেম লেশনঃ
পেঠের ভিতর হলদে পানি দেখা যায়।

হৃৎপিন্ডের ডান ভেন্টিকল ২০-৪০% বড় হয়ে যায় এবং পেরিকার্ডিয়াল থলিতে পানি জমে.
ফুসফুস বিবর্ণ হয়ে যায় এবং বড় হয় বিশেষ করে রাইট ভেন্টিকল।
লিভারের উপর সাদা পর্দা হয় যদি ই- কলাই থাকে।(liver small,rounded and hard)।লিভারে হেমোরেেে হয়।জ হয়

প্রতিরোধ

১.পর্যাপ্ত জায়গা দিতে হবে
২.বা‍য়ু চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে
৩.এমোনিয়া মুক্ত রাখতে হবে
৪.হ্যাচিং,ব্রুডিং এবং পরিবহনের সময় যাতে অক্সিজেনের ঘাটতি না হয় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে.
৫.খাদ্যে লবনের পরিমান সঠিক রাখতে হবে.(০.৩-০.৫)
৬.লিটারের আর্দ্রতা ভাল রাখতে হবে
৭.শ্বাসতান্ত্রিক রোগ যাতে না হয় সে ব্যবস্থা করতে হবে,
৮.ভিটামিন -ই -খাওয়ানো যেতে পারে.

চিকিৎসাঃ

চিকিৎসায় ভাল রিজাল্ট পাওয়া যায়না তবে

উপস্থিত ডাক্তার বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে চিকিৎসা দিবে

১.নেফ্রোটনিক
২.ভিটামিব সি
৩ খাদ্যে সোডিয়াম বাইকার্বোনেট ১%দেয়া যায়.

৪,ভিটামিন ই ও সেলেনিয়াম

.৫।খাবারে কুড়া দেয়া যায়।



Please follow and like us:

About admin

Check Also

বাচ্চা মুরগিতে ১ম সপ্তাহে কেন রোগ কম হয়,২সপ্তাহের দিকে কেন বেশি হয়।

বাচ্চাতে ম্যাটার্নাল এম ডি এ নয়ে আসে যা প্রটেকশন দেয়।আবার ২ সপ্তাহে বা পরের দিকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »
error: Content is protected !!