Breaking News

পোল্ট্রি খামারীর নীরব কান্নাঃডিমের রেট ৫টাকা,ব্রয়লার ৬৫-৮০টাকা কেজি ,বাচচা ৫-৭টাকাঃ কী হচ্ছে,কী হবে,কী করা উচিত।

ডিমের রেট প্রতি পিস (লাল) এখন ৫টাকা ,সাদাটা আরো কম ৪.৫০টাকা ,উতপাদন খরচ  ৬টাকা,লাভ করতে হলে ৭টাকা দরকার।

১০০০লেয়ার (সেড সহ) পিক  প্রডাকশনে আসতে প্রায় ৯-১০লাখ টাকা লাগে।

আবার কোন রোগ ব্যাধিতে সব  মারা যেতে পারে বা বিক্রি করে দিতে হতে পারে ,এতে লস হবে প্রায় ৫ লাখ।

গত কয়েক মাসে দেশের প্রায় ২৫ %এর উপর   মুরগি রোগ ব্যাধিতে মারা গেছে বা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে।

তাহলে  প্রায় ২০ লাখ লোকের জীবিকায় টান পড়েছে।এদের পরিবার কিভাবে চলবে তা চিন্তার বিষয় ।

কারো ৬০০০ লেয়ার কারো ৩০০০ব্রয়লার কারো  ৪০০০ সোনালী ২-৭দিনের মধ্যে বিলীন হতে দেখেছি।এই রকম চিত্র সারা বাংলাদেশের।

এই রকম হাজার হাজার খামারী নিয়ে আমাদের পোল্ট্রি শিল্প।

কতজনকে দেখেছি কান্না করতে ,সব কিছু নিঃস্ব হয়ে গেছে দেশের শত শত খামারীর।

এতে সহজেই বুঝা যাচ্ছে কত ঝুকির ব্যবসা।

#প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ২০-২৫ লাখ  এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫৫-৬০ লাখ লোকের জীবিকা  এই পোল্ট্রির সাথে জড়িত।

যা ২০৩০ সালে ১ কোটি হবে। এর মধ্যে ৪০% নারী।

#দেশে ফার্ম আছে প্রায় ১লাখ ৫০হাজার।

আমাদের সবারই বেশি করে ডিম এবং ব্রয়লার ,সোনালির  মাংস  খাওয়া উচিত।এতে যে খাবে সে লাভবান হবে ,যে বিক্রি করবে সে লাভবান হবে।দেশের অর্থনীতি ভাল হবে।

লাখ লাখ লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।গার্মেন্ট শিল্পের পরেই এই পোল্ট্রি শিল্প।

গার্মেন্ট শিল্প টিকিয়ে রাখতে হলে অন্য দেশের উপর নির্ভর করতে হবে যা আমাদের হাতে নাই।বিশেষ করে বিশ্বের বর্তমানে যে অবস্থা তাতে ভাল কিছু আশা করা যাচ্ছে না ।কিন্তু ইচ্ছে করলেই পোল্ট্রি শিল্পকে আমরা টিকিয়ে রাখতে পারবো।

করোণার কারণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে আমাদের ডিম ও মাংস খাওয়া দরকার। তাছাড়া যে কোন খাদ্যের তুলনায় ডিম ও ব্রয়লার মাংসের দাম তুলনামূলকভাবে কম।

ব্রয়লারের পাইকারী দাম ৬০-৮০টাকা।উতপাদন খরচ ১০০-১১০টাকা ।তাহলে লস হচ্ছে।এভাবে চলতে থাকলে খামারী দেউলিয়া হয়ে যাবে।

গুজবের কারণে লোকজন ব্রয়লার খাচ্ছে না।ব্রয়লার খেলে নাকি করোনা হয়।যা ১০০% মিথ্যা।

যদি ব্রয়লার থেকে করোনা হত তাহলে দিনে ২-৩লাখ করে মানুষ মারা যেত।ব্রয়লার কি দেশে নতুন আসছে? আগেই থেকেই ছিল তাই গুজবে কান দিবেন না।

সারা পৃথিবীর লোক ব্রয়লার  খাচ্ছে আর আমরা গুজব ছড়াচ্ছি।আমরা কি  বেশি বুদ্ধিমান নাকি বেশি উন্নত।কোনটাই না তাই তাদেরকে  অনুসরণ করতে পারি।

তাই গুজবে কান না দিয়ে অল্প টাকায় ব্রয়লার খান ,রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ান।করোনা তাড়ান।

ব্রয়লার খান, লাখ লাখ খামারীকে বাচান।দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখুন।

থাক ,  অন্যের কথা ভাবতে হবে না ,এত সস্তায় হাতের কাছে এত পুষ্টিগুণ আর কিসের মধ্যে আছে যা আপনার পরিবারের জন্য খুব দরকার ?

#বছরে আমরা  ৯০ টা ডিম খায় ,খাওয়া উচিত মিনিমাম ১০৪ টি,যা উন্নত দেশে খায় ২২০ টি,কোন কোন দেশ তার চেয়ে বেশি খায় ,জাপান খায় ৬০০ টি।

আমরা কেন কম খায়?

একটা ডিম(ধরে নিলাম ভোক্তার রেট  ৮-৯টাকা) করে   কিনতে পারেন যা আপনার  পুস্টির চাহিদা পূরণ করে।এমন কি আছে যা আপনি এই অল্প টাকায়  কিনতে পারবেন?।

#আমরা বছরে  মাথাপিছু প্রায় ৯ কেজি মাংস খায় এর  মধ্যে সাড়ে ৫ কেজি  ব্রয়লার মাংস (৬০%) ।

উন্নত দেশে খায় ৪৫-৫০ কেজি।আমরা কি উন্নত দেশের চেয়ে বেশি বুঝি? আমরা কেন খায় না?

১০০-১১০ হলে ১কেজি ব্রয়লার মাংস কিনতে পারেন যা শরীরের জন্য দরকার।এত কম দামে আর কোন মাংস আছে যা কেনা সম্বব?

অথচ পুষ্টিগুণ কিন্তু সব মাংসের প্রায়  সমান ।

খামারীরা  ব্রয়লার বিক্রি করতেছে প্রতি কেজি এখন ৬৫-৮০টাকা ।উৎপাদন খরচ ১০০ -১১০টাকা।

সোনালী ১৫০টাকা করে খামারী বিক্রি করে যা  প্রায় ১৮০ টাকা না হলে লাভ হয় না।

সোনালী মুরগির বাচ্চার রেট ৫-৭টাকা অথচ খরচ ১২টাকা তাহলে কেমন টিকে থাকবে এই শিল্প?

অনেকে বলবে আমরা ত এত কম দামে কিনি না আরো বেশি দামে কিনি।

খামারীদের কাছ থেকে ভোক্তার কাছে গিয়ে দাম বেড়ে যায়।এটা ত আর খামারী পায় না।তাই খামারীর লস হচ্ছে।

এভাবে চললে এক সময় ১২-১৫ টাকা করে ডিম কিনতে হবে য়ার  ব্রয়লার কিনতে হবে ১৫০-২০০টাকা করে।

মাঝখানে বেকার হবে লাখ লাখ মানুষ।সমাজে বিশৃংখলা দেখা দিবে।চুরি, ডাকাতি,মদ জুয়া মত আরো খারাপ কাজ বেড়ে যাবে।

আমরা(ভেট ডাক্তার ,খামারী ,ডিলার ,মেডিসিন ও ভ্যাক্সিন কোম্পানী ,ফিড কোম্পানী ,হ্যাচারী সবাই )মিলে মাংস এবং ডিম উৎপাদন পর্যাপ্ত  পরিমাণে  করেছি।এখন সবাইকে খাওয়ানোর কাজ সরকার এবং হিউম্যান ডাক্তারদের।তারা কি তাদের কাজ করতে পারতে পারছ?

দেশের এই অবস্থায় খামারীরা পোল্ট্রির চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না কারণ সব কিছু বন্ধ।তাই এক্ষেত্রেও খামারীদেরই লস বেশি হচ্ছে।

দেশের এই অবস্থায় কিছুদিন পর খাবারের জন্য হা হা কার পড়ে যাবে ,শিল্পের তুলনায় কৃষিই বেশি দরকার (শাকসব্জি,মাংস,দুধ ,ডিম,চাল গম,তেল)

বাসায় বসে খামারীরা যাতে চিকিৎসা /সেবা পেতে পারে তার জন্য অনলাইন এপ বানাইছি যা কিছিদিনের মধ্যে হাতে আসবে,জানিয়ে দেয়া হবে।

এখন থেকে দেশ ও বিদেশের সবাই যে কোন সেবা যে কোন সময় ৫-১০মিনিটের মধ্যে সমাধান পেয়ে যাবে।

নীরব কান্না বলার কারণ খামারীর কস্ট,সমস্যা ও চাওয়া পাওয়া দেখার বা শুনার বা সমাধান করার মত আপাতত কেউ নাই বা মিডিয়ায় তেমন আসে না।যার যায় সেই বুঝে।

আমাদের পোল্ট্রির জন্য একটা টিভি চ্যানেল দরকার যেখানে সব সুখ দুঃখ ,সমস্যা,সমাধান,অতীত ,ভবিষ্যত নিয়ে আলোচনা হবে।।

যদি আমার সামর্থ হয় আমি তাই করব।

#######

#দেশে মুরগি আছে প্রায় ২৮ কোটি

#গ্র্যান্ড প্যারেন্ট ফার্ম ৮টি

#প্যারেন্ট ফার্ম  প্রায় ২০০ টি

#সপ্তাহে ব্রয়লার বাচ্চা উতপাদিত হয় প্রায় ১ কোটি ,সোনালী ৩০ লাখ ও লেয়ার ২০ লাখ।

এখন দেশে ব্রয়লার বাচ্চার রেট ৫-৭টাকা খরচ প্রায় ২৫টাকা।এভাবে চললে সব বন্ধ হয়ে যাবে।

কিছুদিন আগে ফি নেয়ার লোক ও পাওয়া যায় নি।এভাবে চললে সামনে কি হবে আল্লাহই জানে।

সোনালী ৭টাকা

লেয়ার ২০টাকা

#মাসে প্রায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার টন খাবার তৈরি হয় এর মধ্যে লেয়ার ১ লাখ ২০ হাজার টন,ব্রয়লার ১ লাখ ৮০ হাজার টন এবং মাছ ৮০ হাজার টন

#দিনে প্রায় ২ কোটি  ডিম উৎপাদিত হয় এর মধ্যে ব্রাউন ৮৩% সাদা ২৭ %।

#মাসে প্রায় ২২৫ কোটি টাকার লেনদেন হয় এই সেক্টরে ,মাছ এবং ডেইরী  সহ

#২০২১ সালের চাহিদা মেটাতে হলে দিনে ৪ কোটির বেশি ডিম লাগবে।যা মাথাপিছু ১০০ টির বেশি।

#২০০৯-২০১১ সালে পোল্ট্রিতে প্রবৃদ্ধি হয় ১৫% ২০১৬ সালে ১৮-২০%।

#৮০ দশকে ১৫০০ কোটি টাকার   পোল্ট্রি শিল্প এখন ৩০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে যা ২০২১ সালে ৬০০০০ কোটি হবে।

#সোনালী হ্যাচারী আছে প্রায় ৫০০ টি

#ফিডমিল আছে প্রায় ১৮৬ টি

#সপ্তাহে ৬০-৬৫ হাজার প্যারেন্ট স্টক বের হয়।

#দেশে্   মেডিসিন তৈরি করে এমন কোম্পানী  প্রায় ৩০টি।মোট কোম্পানী ১০০ উপরে।

দেশে প্রায় ৫ কোটি হাস আছে যা ১৫% ডিম ও মাংসের চাহিদা পূরণ করে।

#হবিগঞ্জে হাওর এলাকায় প্রতি সপ্তাহে দেড় লাখ হাসের  বাচ্চা  বের হয়

#পোল্ট্রি ফিডের জন্য  বছরে ১২ লাখ টন ভুট্রা আমদানী করতে হয়। খাদ্যে  ভুট্রা লাগে ৫০-৫৫%।

#১৬ লাখ টন সয়াবিন মিল লাগে এর মধ্যে ৮ লাখ টন আমদানী করতে হয়।  খাবারে সয়াবিন মিল লাগে ২০-২৫%।

#৩ লাখ টন ডিডিজিএস বিদেশ হতে আমদানি করতে হয়.

#দেশে ৪৫% ভুট্রা উতপাদিত হয় বাকি ৫৫% আমদানি করতে হয়।

 

 

Please follow and like us:

About admin

Check Also

অর্থনীতির সঞ্জিবনী হতে পারে যুগোপযোগী প্রাণিসম্পদ খাত ডা. মো. নূরে-আলম

প্রেক্ষিত কোরবানি অর্থনীতির সঞ্জিবনী হতে পারে যুগোপযোগী প্রাণিসম্পদ খাত ডা. মো. নূরে-আলম গত কোরবানির ঈদের …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »
error: Content is protected !!