Breaking News
জার্মান ঘাস
জার্মান ঘাস

ঘাস পরিচিতি : জার্মান ঘাস চাষ পদ্ধতি ,ফলনসহ

ঘাস পরিচিতি :  : জার্মান গ্রাস

পরিচিতি :

জার্মান ঘাস এখন পৃথিবীর ট্রপিকাল এবং সাব ট্রপিকাল অঞ্চলের একটা জনপ্রিয় ঘাস।

পানিতে অথবা অল্প পানিতে অথবা আদ্র স্যাঁতসেঁতে জায়গাতে চাষ করার উপযোগী জার্মান ঘাস আমাদের দেশের ও একটা পরিচিত এবং জনপ্রিয় ঘাস।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নাম পরিচিত জার্মান ঘাসের রয়েছে অনেক গুলো পরিচিতি।

যেমন অস্ট্রেলিয়া ও পানামা তে জার্মান নামে, উত্তর আমেরিকা রিভার গ্রাস নামে, ইংল্যান্ড এ ওয়াটার বারমুডা, স্পেনে পাঁজা পেলু সোহো এরকম অনেক নাম রয়েছে আমাদের আজকের আলোচিত এই ঘাসের।

প্রাপ্তি দেশ সমূহ :

ট্রপিকাল এবং সাব ট্রপিকাল দক্ষিণ আমেরিকা থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়া জার্মান ঘাস সবচে বেশি দেখা যায় মেক্সিকো, ক্যারিবিয়ান দ্বীপগুলো এবং দক্ষিণ আমেরিকাতে।

আমাজান বেসিন এর ৫০০০ বর্গকিলোমিটার নিচু জলাভূমি হলো এর প্রধান আবাসভূমি।

১৯৭০ সালে ট্রপিকাল অস্ট্রেলিয়ার নিচু এলাকার ঘাসের ফলন বাড়ানোর জন্য এই ঘাস চাষ শুরু হয়।

২০০৫ সালে বিভিন্ন দেশে চালানো এক জরিপে দেখা যায় কমপক্ষে ১০% খামারী জার্মান ঘাস চাষ করে (Hannan-Jones et al., 2008)। এই জাতের ঘাস নিচু জলাভূমি অথবা বছর যেকোনো এক সময় পানিতে ডুবে যায় এরকম জায়গা সবচে বেশি হয়।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়া জার্মান ঘাস এখন পৃথিবীর ট্রপিকাল অঞ্চলের সব দেশে পাওয়া যায়।

এই ঘাস ২-৩ মিটারে পানিতে ও ভালভাবে বেঁচে থাকে।

ঘাস বর্ণনা :

আমাদের দেশে জার্মান নাম পরিচিত এই ঘাসের কান্ড ১০-১৫ মিলিমিটার মোটা হয় এবং ৩ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়।

এই ঘাসে এক একটি কান্ড থেকে ৫-৭ টি বা ততোধিক শাখা হয়।

পাতাগুলো ১০-২৫ মিলিমিটার চওড়া এবং ২০-৬০ সেন্টিমিটার লম্বা হয় এবং পাতাগুলো হালকা নীল অথবা সবুজ রং এর এবং নরম ও কাঁটামুক্ত মুক্ত হয়ে থাকে।

চাষ পদ্ধতি :

মাটি এবং আবহাওয়া :

যেকোনো মাটিতে যেখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় এবং পানি জমে থাকে অথবা কাদা স্যাঁতসেঁতে জমি এই ঘাস লাগানোর জন্য সবচেয়ে উপযোগী।

এই ঘাস চাষের জন্য জমির পি এইচ ৪-৮ এর মধ্যে থাকলে সবচে ভালো হয়।

প্যারা ঘাসের চেয়ে অধিক পানি সহ্য ক্ষমতার এই ঘাস ৩ মিটার পর্যন্ত পানিতে খুব ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পারে।

লবন পানিতে চাষ উপযোগী এই ঘাস কম উর্বরতার নিচু জমিতেও অল্প সময়ে ভালো ফলন পাওয়া যায়।

জমি তৈরী এবং চাষ :

জার্মান ঘাস ২ ভাবে চাষ করা যায়।

বীজ ছড়ানোর মাধ্যমে অথবা কাটিং লাগিয়ে।

বীজ ছড়ানোর জন্য শুষ্ক সময়ে জমি উত্তম রূপে চাষ করে বীজ ছড়িয়ে মই দিয়ে জমি সমান করে দিতে হবে।

এরপর বীজ অঙ্কুরিত হবার পরে জমি ভিজিয়ে দিলে উত্তম ফল পাওয়া যাবে। আর কাটিং লাগানোর জন্য কাদা মাটির জমি প্রয়োজন।

কাদাযুক্ত জমিতে ২-৩ টা চোখ বা গিট্ সহ ঘাসের কাটিং নেপিয়ার ঘাসের মতো সারি সারি করে লাগাতে হবে।

একটি কাটিং থেকে ওপর কাটিং এর দুরুত্ব হবে ১৪ থেকে ১৮ ইঞ্চি।

কাটিং লাগানোর সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন কমপক্ষে ১ টি গিট্ মাটির উপরে থাকে।

কাটিং গুলো মাটির উপর ৩০-৬০ ডিগ্রি কৌণিক ভাবে খাড়া হয়ে থাকবে।

এই ঘাস চাষের জন্য খুব বেশি সার প্রয়োগের প্রয়োজন হয় না।

তারপরেও গবেষণায় দেখা গেছে সামান্য কিছু নাইট্রোজেন (ইউরিয়া) সার প্রয়োগ করলে কান্ড অধিক মোটা হয় এবং দ্রুত বেড়ে উঠে।

তাই অধিক এবং দ্রুত ফলনের জন্য সামান্য ইউরিয়া প্রয়োগ করা যেতে পারে।

ঘাস একটু বড় হলেই জমি শুষ্ক থাকলে মাঝে মাঝে সেচ দিয়ে জমি ভিজিয়ে রাখলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে।

উৎপাদন :

জার্মান খুব উচ্চ ফলনশীল জলাশয়ের ঘাস।

ব্রাজিলে এই ঘাস অ্যাভারেজ প্রতি হেক্টরে ১২ টন এবং অস্ট্রেলিয়াতে ২০ টন উতপাদিত হয়।

ব্রাজিলে এই ঘাস এক হেক্টরে ৯৯ টন পর্যন্ত উৎপাদনের রেকর্ড রয়েছে। ইন্ডিয়াতেও এই ঘাসের ভালো ফলনের রেকর্ড রয়েছে।

পুষ্টিগুন্ :

জার্মান ঘাসের ড্রাই ম্যাটার বা সলিড অংশের পরিমান ২৯.৭%, ডি ডি এম (ডাইজেস্টেবল ড্রাই ম্যাটার ৫৭-৬১%, ক্রুড প্রোটিন ১০-১৬ %(ঘাস বেশি বড় হলে কমে যায়), ক্রুড ফাইবার বা আশ ৩৬%, এন ডি এফ (নিউট্রাল ডিটারজেন্ট ফাইবার)৫৯-৬৩ % ।(জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থা)

ঘাস সংগ্রহ :

ঘাস ৩ ফুট বা এর চেয়ে বড় হলেই এই ঘাস কেটে গরুকে খাওয়ানো শুরু করা যেতে পারে।

তবে কাটার সময় অবশ্যই ৪-৬ ইঞ্চি গোড়া রেখে দিতে পুনঃউৎপাদনের জন্য।

একবার লাগানো ঘাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত ভালো ফলন পাওয়া যায়।

জার্মান ঘাস সাইলেজ হিসাবেও সংরক্ষণ করা যায় এবং যে সময়ে কাঁচা ঘাসের উৎপাদন কমে যায় তখন গরুকে খাওয়ানো যেতে পারে।

সতর্কতা :

জার্মান ঘাসে বিষাক্ত নাইট্রেট যৌগের উপস্থিতি বেশি।

অনেক সময় এটা ২০% এ পৌঁছায়। তাই জার্মান ঘাস খাওয়ানোর আগে কিছুটা রোদে রেখে বা রোদের মধ্যে ঘাস কাটা উত্তম।

Reference :
http://www.fao.org/ag/AGP/AGPC/doc/Gbase/data/pf000230.htm
http://www.feedipedia.org/node/449
https://dpir.nt.gov.au/…/assets/pdf_file/0005/233366/642.pdf
http://www.tropicalforages.info/…/Echinochloa_polystachya.h…
http://www.feedipedia.org/node/12119

fao.org
জাহিদুল ইসলাম  (পি ডিএফ)
Please follow and like us:

About admin

Check Also

গরুর খাদ্য হিসাবে কলাগাছ : গুরুত্ব পর্যালোচনা

গরুর খাদ্য হিসাবে কলাগাছ : গুরুত্ব পর্যালোচনা আমাদের দেশে গরুর আপদকালীন খাবার হিসাবে পরিচিত কলাগাছ …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »
error: Content is protected !!