Breaking News

গরুর খাবারের পুষ্টিমান বুঝার উপায়।

গরুর খাবারের পুষ্টিমান কিভাবে বুঝবেন ?

আমরা প্রায়ই বিভিন্ন গোখাদ্যের পুষ্টিমান জানতে চাই? কিন্তু কিভাবে বুঝবো আমার দেয়া খাবার গরুর জন্য কতটা পুষ্টিকর ? হ্যা পুষ্টিমান বুঝার জন্য আমরা বিভিন্ন সূচকের শতকরা হার ব্যবহার করি যেমন, ড্রাই ম্যাটার, টিডিএন (টোটাল ডাইজেস্টিভ নিউট্রিয়েন্ট), ক্রুড প্রোটিন, ট্রু প্রোটিন বা অ্যামিনো অ্যাসিড, ক্রুড ফাইবার, ক্রুড ফ্যাট, এনডিএফ (নিউট্রাল ডিটারজেন্ট ফাইবার, এডিএফ ( এসিড ডিটারজেন্ট ফাইবার), লিগনিন, অ্যাশ(ছাই), গ্রস এনার্জি, ডাইজেস্টেবল এনার্জি এবং মেটাবলিজিবল (বিপাকীয়) এনার্জি। কাজেই খাদ্যের পুষ্টিমান বুঝতে হলে আমাদের অবশ্যই উপরোক্ত টার্ম গুলো সম্পর্কে একটা সাম্যক ধারণা থাকতে হবে। আসুন একটা সম্যক ধারণা নেই :

ড্রাই ম্যাটার : যেকোন খাবারের জলীয় অংশ বা আদ্রতা বাদ দিয়ে যে শুষ্ক অংশ পাওয়া যায় সেটাই ড্রাই ম্যাটার। যেমন ভুট্টায় ড্রাই ম্যাটার ৯০%, তার মানে ভুট্টার মধ্যে ১০% পানি আছে, বাকি ৯০% খাদ্য উপাদান। খাবারের বেশিভাগ উপাদানের হিসাব সাধারণত ড্রাই ম্যাটার এর সাথে সম্পর্কিত।

টি ডি এন (টোটাল ডাইজেস্টিভ নিউট্রিয়েন্টস): এটা কোনো খাদ্যের মধ্যে থাকা টোটাল হজমযোগ্য পুষ্টি উপাদানের পরিমান। খাবারের টিডিএন যত বেশি হবে পুষ্টিগুণ ও তত বেশি হবে। টিডিএন = ক্রুড প্রোটিন + ক্রুড ফ্যাট + নিউট্রাল ডিটারজেন্ট ফাইবার + ডাইজেস্টেবল নন স্ট্রাকচারাল কার্বোহাইড্রেট। ডাইজেস্টেবল নন স্ট্রাকচারাল কার্বোহাইড্রেট = ১০০ – ক্রুড প্রোটিন – ক্রুড ফ্যাট – এনডিএফ – অ্যাশ।

ক্রুড প্রোটিন : খাবারের মধ্যে থাকা টোটাল নাইট্রোজেনের পরিমান হচ্ছে ক্রুড প্রোটিন। ক্রুড প্রোটিনের পুরাটাই গরুর শরীরে শোষনযোগ্য প্রোটিন নাও হতে পারে। ক্রুড প্রোটিন = ট্রু প্রোটিন (অ্যামিনো এসিড) + নন প্রোটিন নাইট্রোজেন। ক্রুড প্রোটিন বেশি মানে খাবারের পুষ্টিগুণ বেশি ধরা হয়।

ট্রু প্রোটিন বা এমাইনো এসিড : শরীরবৃত্তীয় কাজে এবং দুধ তৈরিতে গরু মূলত প্রোটিন নয়, এমাইনো এসিড ব্যবহার করে। আর এইসব এমাইনো এসিডের উৎস হচ্ছে প্রোটিন । প্রোটিন মূলত কম বেশি ৫০ বা ততধিক এমাইনো এসিডের যৌগ। তাই এমাইনো এসিডকে বলা হয় ট্রু প্রোটিন। এইসব সকল এমাইনো এসিডের ভূমিকা ও গুরুত্ব এখনো মানুষের জানা সম্ভব হয় নাই। গরুর শরীরবৃত্তীয় কাজে ১০ এমাইনো এসিডকে সবচে মূল্যবান এমাইনো এসিড বলে ধরা হয়। এইগুলা হচ্ছে : ফেনীলালাইনিন, ভ্যালাইন, থ্রিওনিন, ট্রিপটোফেন, আইসলেউসিন, অর্গানাইন, লিউসাইন, হিস্টিডিন, লাইসিন এবং মেথিওনাইন। এর মধ্যে দুধ উৎপাদনে লাইসিন এবং মেথিওনিনের গুরুত্ব সবচে বেশি এবং প্রয়োজনীয় মাত্রা হচ্ছে প্রোটিনের ৭.৫% এবং ২.৫%।

সেলুলোজ : ঘাস বা খড়ের উপরের শক্ত আবরনের মূল উপাদান হচ্ছে সেলুলোজ যার সামান্যই গরু হজম করে এবং সেলুলোজের বেশিরভাগই মলের সাথে শরীর থেকে বের হয়ে যায়।

লিগনিন : সেলুলোজের আবরণ হচ্ছে লিগনিন যা গরু হজম করেনা এবং মলের সাথে ত্যাগ করে। খাবারের পুষ্টিমান যত খারাপ হবে লিগনিনের হার তত বেশি হবে। লিগনিনে কোন পুষ্টি উপাদান নাই।

অ্যাশ ( ছাই ) : ১ কেজি খাবারকে পোড়ালে যে ছাই তৈরী হবে সেটাই অ্যাশ এর পরিমান। মূলত খাবারের টোটাল খনিজ বা মিনারেল উপাদানের পরিমান হচ্ছে অ্যাশ বা ছাই। এটাকে খাবারের নন অর্গানিক অংশ ও বলা হয়।

ক্রুড ফাইবার : খাবারের মধ্যে থাকা অদ্রবণীয় এবং হজম অযোগ্য কার্বোহাইড্রেটের পরিমানই হচ্ছে ক্রুড ফাইবারের পরিমান। ক্রুড ফাইবারের মধ্যে সাধারণত হজম্যোগ্য এবং হজমঅযোগ্য সেলুলোজ, হেমসেলুলোজ এবং লিগনিন থাকে। ক্রুড ফাইবার কম মানে খাবারের পুষ্টিমান ভালো। তবে ক্রুড ফাইবারের পরিমান অতিরিক্ত কম হলে গরুর রুমেনে এসিডিটি সৃষ্টি হয়।

ক্রুড ফ্যাট (ইথার এক্সট্রাক্ট) : খাবারের মধ্যে থাকা টোটাল তৈল জাতীয় পদার্থের পরিমাণই হচ্ছে ক্রুড ফ্যাট বা ইথার এক্সট্রাক্ট। ক্রুড ফ্যাট হচ্ছে খাবারের মধ্যে থাকা টোটাল ফ্যাটি এসিড এবং ফ্যাট সলুবল ভিটামিন যেমন এ, ডি, ই এবং কে এর যোগফল। সাধারণত বীজ জাতীয় খাবারে ক্রুড ফ্যাট বেশি থাকে এবং খোসা, ঘাস বা হে জাতীয় খাবারে কম থাকে। যদিও ফ্যাট জাতীয় খাবারে এনার্জির পরিমান বেশি থাকে কিন্তু অতিরিক্ত ফ্যাট খাবারে দুর্গন্ধ তৈরী করে এবং গরুর পাকস্থলীতে এসিডিটি ও বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে। খাবারে ক্রুড ফ্যাটের পরিমান বেশি হলে খাবারের পুষ্টিগুণ ও বেশি হয়।

নিউট্রাল ডিটারজেন্ট ফাইবার (এনডিএফ) : খাবারে সকল প্রকার হজম যোগ্য এবং হজম অযোগ্য আঁশ জাতীয় উপাদানের যোগফল হচ্ছে নিউট্রাল ডিটারজেন্ট ফাইবার  (এনডিএফ)। এনডিএফ মূলত ঘাসের বা খড়ের বা দানাদারের ছাল, বাকল, খোসা ও অদ্রবণীয় ক্রুড প্রোটিন। এনডিএফ = সেলুলোজ + হেমাসেলুলোজ + লিগনিন + অ্যাশ + সিলিকা + হজম অযোগ্য ক্রুড প্রোটিন। খাবারের পুষ্টিমান যত বেশি হবে এনডিএফ % তত কম হবে। তবে খাবারে মাত্রাতিরিক্ত আঁশ জাতীয় খাবারের স্বল্পতা গরুর পাকস্থলীতে এসিডিটি সৃষ্টি করে।

এসিড ডিটারজেন্ট ফাইবার (এডিএফ) : খাবারের হজম অযোগ্য আঁশ জাতীয় উপাদানের টোটাল পরিমাণই এসিড ডিটারজেন্ট ফাইবার। এসিড ডিটারজেন্ট ফাইবার = হজম অযোগ্য সেলুলোজ + লিগনিন + সিলিকা + অ্যাশ + হজম অযোগ্য ক্রুড প্রোটিন। এডিএফ % যত কম হবে খাবারের পুষ্টিমান তত বেশি হবে।

গ্রস এনার্জি বা টোটাল এনার্জি : খাবারে সঞ্চিত সর্বমোট বিপাক যোগ্য এবং বিপাক অযোগ্য শক্তির পরিমান হচ্ছে গ্রস এনার্জির পরিমান। গ্রস এনার্জির পরিমান খাবারের পুষ্টির নির্দেশক হলেও, মেটাবলুজিবল এনার্জি বা বিপাকযোগ্য এনার্জি হচ্ছে মূল শক্তির পরিমান যেটা গরুর শরীর খাবার থেকে শোষণ করে এবং শারীরিক বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে। গ্রাস এনার্জির পরিমান যত বেশি খাবারের পুষ্টিমান তত বেশি।

ডাইজেস্টেবলে এনার্জি : খাবারে সঞ্চিত টোটাল হজম যোগ্য শক্তির পরিমান হচ্ছে ডাইজেস্টেবলে এনার্জি। গ্রস এনার্জি থেকে পায়খানা বা মলের মাধ্যমে বের হয়ে যাওয়া এনার্জি বাদ দিলে যেটা থাকে সেটাই ডাইজেস্টেবল এনার্জি। ডাইজেস্টেবল এনার্জি যত বেশি বেশি খাবারের পুষ্টিমান তত বেশি হবে। ডাইজেস্টেবল এনার্জি (কিলো ক্যালোরি) = ২৫৫ + ৩৬৬০ * টিডিএন। (ফোনসবেক, ১৯৮১)।

মেটাবলুজিবল এনার্জি বা বিপাকযোগ্য শক্তি : মেটাবলুজিবল এনার্জি হচ্ছে মূল এনার্জি যা গরুর শরীর বিপাক ক্রিয়ার মাধ্যমে শোষিত টোটাল শক্তির পরিমান। ডাইজেস্টবল এনার্জি থেকে গরুর প্রসবের সাথে, মিথেন হিসাবে বের হয়ে যাওয়া শক্তি এবং পাকস্থলীতে ব্যয় হওয়া শক্তি বাদ দিলে অবশিষ্ট শক্তি হচ্ছে মেটাবলুজিবল বা বিপাকযোগ্য শক্তি।

Please follow and like us:

About admin

Check Also

সূর্যমুখী ফুল বা সানফ্লাওয়ার, দুধাঁলো গাভীর জন্য একটি উৎকৃষ্ট খাদ্য!

সূর্যমুখী ফুল বা সানফ্লাওয়ার, দুধাঁলো গাভীর জন্য একটি উৎকৃষ্ট খাদ্য! —————————————————– আমরা অনেকেই হয়তো জানি …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »
error: Content is protected !!