তিতির (Guinea Fowl) পালন গাইড – ৩য় পর্ব
ব্রুডিং, বাসস্থান, খাদ্য ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনা
পূর্ববর্তী পর্বগুলোতে আমরা তিতিরের পরিচিতি, জাত, উৎপাদন বৈশিষ্ট্য এবং প্রজনন সম্পর্কে আলোচনা করেছি। এই পর্বে জানব সফল তিতির পালনের জন্য ব্রুডিং, বাসস্থান এবং সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো।
ব্রুডিং (Brooding)
তিতিরের বাচ্চাকে Kit বলা হয়। মুরগির বাচ্চার তুলনায় তিতিরের বাচ্চা ঠান্ডার প্রতি বেশি সংবেদনশীল। তাই প্রথম কয়েক সপ্তাহ সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ব্রুডিং তাপমাত্রা
- ১ম–৩য় সপ্তাহ: ৩৭° সেলসিয়াস
- ৪র্থ–৫ম সপ্তাহ: ৩৬° সেলসিয়াস
ব্রুডারে সবসময় শুকনা লিটার, বিশুদ্ধ পানি এবং পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
বাসস্থান
তিতিরকে তিনভাবে পালন করা যায়—
- মুক্ত (Free Range)
- আধা-মুক্ত (Semi-intensive)
- বদ্ধ (Intensive)
বয়সভেদে জায়গার প্রয়োজন
- ০–৪ সপ্তাহ: ০.৫ বর্গফুট/পাখি
- ৫–৮ সপ্তাহ: ০.৭৫ বর্গফুট/পাখি
- ৯–১৩ সপ্তাহ: ১.০ বর্গফুট/পাখি
- পূর্ণবয়স্ক: ২–২.৫ বর্গফুট/পাখি
যথেষ্ট আলো-বাতাস, শুকনা পরিবেশ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
খাদ্য ও পানি ব্যবস্থাপনা
তিতির দ্রুত বৃদ্ধি এবং ভালো উৎপাদনের জন্য সুষম খাদ্য প্রয়োজন।
খাদ্যের পুষ্টিমান
| পর্যায় | প্রোটিন | এনার্জি (কিলোক্যালরি/কেজি) |
|---|---|---|
| Starter | ১৯% | ২৯০০ |
| Grower | ১৬% | ২৭০০ |
| Layer | ১৮% | ২৯০০ |
বাচ্চা অবস্থায় লাইসিন, মেথিওনিন, নিয়াসিন, ভিটামিন ও মিনারেল পর্যাপ্ত পরিমাণে দিতে হবে। এসবের ঘাটতি হলে বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে এবং Perosis (পায়ের বিকৃতি) দেখা দিতে পারে।
সুষম খাদ্যের একটি উদাহরণ
Starter (০–৪ সপ্তাহ)
- গম চূর্ণ – ২৮%
- ভুট্টা – ১৮%
- ধানের কুঁড়া – ১৪%
- তিলের খৈল – ৯%
- নারিকেলের খৈল – ১১%
- ফিশমিল – ১৮%
- ঝিনুকের গুঁড়া – ১%
- লবণ – ০.৬%
- ভিটামিন-মিনারেল – ০.৪%
পালন ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
- সবসময় পরিষ্কার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করুন।
- খাদ্য ধীরে ধীরে পরিবর্তন করুন, হঠাৎ পরিবর্তন করবেন না।
- খাঁচার চেয়ে ফ্লোর সিস্টেমে পালন করলে ঠোকরানো কম হয়।
- অতিরিক্ত ভিড় এড়িয়ে চলুন।
- নিয়মিত ভিটামিন ও মিনারেল সরবরাহ করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
উপসংহার
তিতির পালনে সফলতার অন্যতম চাবিকাঠি হলো সঠিক ব্রুডিং, পর্যাপ্ত জায়গা এবং বয়সভিত্তিক সুষম খাদ্য। শুরু থেকেই এসব বিষয় মেনে চললে মৃত্যুহার কমবে, বৃদ্ধি ভালো হবে এবং ভবিষ্যতে ডিম ও মাংস উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে।




