তিতির (Guinea Fowl) পালন গাইড – ৪র্থ পর্ব
ব্রিডার ব্যবস্থাপনা, ডিম উৎপাদন ও হ্যাচিং প্রযুক্তি
পূর্ববর্তী পর্বে আমরা তিতিরের ব্রুডিং, বাসস্থান এবং খাদ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আলোচনা করেছি। এই পর্বে ব্রিডার তিতিরের পরিচর্যা, ডিম উৎপাদন, ডিম সংরক্ষণ এবং হ্যাচিং ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
ব্রিডার তিতিরের ব্যবস্থাপনা
উচ্চমানের বাচ্চা উৎপাদনের জন্য সুস্থ ও সঠিক ওজনের ব্রিডার নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ব্রিডার খাদ্য ব্যবস্থাপনা
- গ্রোয়িং পর্যায়ে অতিরিক্ত এনার্জি ও প্রোটিন দেওয়া যাবে না।
- অতিরিক্ত এনার্জি গ্রহণ করলে স্ত্রী তিতির শরীরে চর্বি জমে যায়।
- অতিরিক্ত মোটা (Fatty) হলে ডিম উৎপাদন কমে যায়।
- অনেক ক্ষেত্রে ডিম পাড়ার সময় জটিলতা এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।
- পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন D₃ এবং ট্রেস মিনারেল নিশ্চিত করতে হবে।
প্রজননের জন্য মেল ও ফিমেলের অনুপাত
সাধারণভাবে ভালো উর্বরতার জন্য—
- ১টি পুরুষ : ৪–৫টি স্ত্রী তিতির রাখা উত্তম।
এতে ডিমের Fertility বৃদ্ধি পায় এবং হ্যাচিং ফলাফল ভালো হয়।
ডিম সংগ্রহ ও সংরক্ষণ
ভালো মানের বাচ্চা পেতে ডিম সংগ্রহ ও সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- প্রতিদিন ২–৩ বার ডিম সংগ্রহ করুন।
- অতিরিক্ত বড় বা অতিরিক্ত ছোট ডিম হ্যাচিংয়ের জন্য ব্যবহার করবেন না।
- পরিষ্কার, অক্ষত এবং স্বাভাবিক আকৃতির ডিম নির্বাচন করুন।
- ডিম ঠান্ডা ও শুষ্ক স্থানে সংরক্ষণ করুন।
- ৭ দিনের মধ্যে ইনকিউবেটরে বা ব্রুডি মুরগির নিচে দেওয়া উত্তম।
হ্যাচিং ব্যবস্থাপনা
তিতিরের ডিম প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম—উভয় পদ্ধতিতে ফোটানো যায়।
প্রাকৃতিক পদ্ধতি
- দেশি মুরগির নিচে ১২–১৫টি ডিম দেওয়া যায়।
- অনেক সময় তিতির নিজে ব্রুডি হলেও শেষ পর্যন্ত সব ডিম ঠিকভাবে ফোটাতে পারে না।
কৃত্রিম পদ্ধতি (ইনকিউবেটর)
- তাপমাত্রা: ৯৯.৫–১০০°F (প্রায় ৩৭.৫°C)
- আপেক্ষিক আর্দ্রতা: ৫৭–৫৮%
- ইনকিউবেশন সময়: ২৬–২৮ দিন
- নিয়মিত ডিম ঘুরিয়ে দিতে হবে।
- শেষ কয়েক দিনে ডিম ঘোরানো বন্ধ করতে হবে।
বাচ্চা ফোটার পর করণীয়
- সম্পূর্ণ শুকিয়ে যাওয়ার পর ব্রুডারে স্থানান্তর করুন।
- প্রথম দিন থেকেই পরিষ্কার পানি ও মানসম্মত স্টার্টার ফিড দিন।
- ঠান্ডা বাতাস ও ভেজা পরিবেশ থেকে রক্ষা করুন।
- দুর্বল বাচ্চাগুলোকে আলাদা পর্যবেক্ষণে রাখুন।
সফল ব্রিডিংয়ের কিছু পরামর্শ
- ব্রিডার পাখিকে অতিরিক্ত মোটা হতে দেবেন না।
- সবসময় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করুন।
- নিয়মিত কৃমিনাশক ও প্রয়োজনীয় টিকা দিন।
- ব্রিডিং মৌসুমে অযথা স্ট্রেস সৃষ্টি করবেন না।
- পরিষ্কার বাসা ও ডিম সংগ্রহের ব্যবস্থা রাখুন।
উপসংহার
সঠিক ব্রিডার ব্যবস্থাপনা, উন্নত খাদ্য, মানসম্মত ডিম নির্বাচন এবং সঠিক হ্যাচিং প্রযুক্তি অনুসরণ করলে তিতির খামারে বাচ্চা উৎপাদনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ফলে উৎপাদন খরচ কমে এবং লাভজনকতা বাড়ে।




