Breaking News

খামারের জন্য গরু বাছাইয়ে কিছু দিক নির্দেশনা;

“হলিস্টাইন ফ্রিজিয়ান গরু কেনার ক্ষেত্রে করণীয়”

বকনা বাছুরের ক্ষেত্রেঃ
গায়ের রং হলিস্টাইন ফ্রিজিয়ান গরুর মত কিনা, বয়স অনুযায়ী এর সঠিক বৃদ্ধি হয়েছে কিনা, এর গায়ের পশম গুলো উজ্জ্বল আর চামড়া পাতলা, জিভ সাদা কিনা, অসুস্থ গরুর চোখের দিকে তাকালেই বোঝা যাবে, চোখ হতে হবে উজ্জল, সুস্থ বাছুর চঞ্চল আর ছুটাছুটি করবে, মাথা ছোট-ঘাড় লম্বা থাকবে। অসুস্থ বাছুর বেশীর ভাগ সময়ই বসে থাকবে আর গায়ের পশম গুলো খাড়া হয়ে থাকবে এবং খেতে চাইবেনা। ভাল জাতের বাছুর কেনার সময় এর মা কতটুকু দুধ দিত যা জানতে পারলে ভাল।

গাভী গরুর ক্ষেত্রেঃ
গায়ের রং হলিস্টাইন ফ্রিজিয়ান গরুর মত কিনা, সকালে-বিকালে মিলে কতটুকু দুধ পাওয়া যায়, ভাল জাতের সদ্য প্রথম বিয়ানের গাই গরুর ২ দাত মাত্রই ওঠে থাকবে , মাথা ছোট, ঘাড় লম্বা, চোখ উজ্জল, শরীরের পিছনের অংশ যথেষ্ট ভারী আর সামনের দিক সরু লম্বাটে হবে। গরু হবে অনেক উঁচু লম্বা, জিভ সাদা।বেশী দুধ পেতে হলে ২ বিয়ানের গরু কেনাই ভাল। প্রথম বিয়ানে ৪ দাঁত হলে বুঝতে হবে গরুর প্রথম বীজ দেরি করে ধরেছে আর বয়স্ক কিছুটা। গরুর দাঁত আর শিং দেখেই একমাত্র বোঝা যাবে এর বয়স কত। ভাল দুধের গরুর ওলান থেকে পেট পর্যন্ত যে রগ গুলো দেখা যায় তা বেশ স্পষ্ট হয়ে মোটা আকৃতির থাকবে।

গাভীন গরুর ক্ষেত্রেঃ
গায়ের রং হলিস্টাইন ফ্রিজিয়ান গরুর মত কিনা, মাথা ছোট, ঘাড় লম্বা, শরীরের পিছনের অংশ যথেষ্ট ভারী আর সামনের দিক সরু লম্বাটে হবে। গরু হবে অনেক উচা লম্বা, জিভ সাদা, চোখ উজ্জল। প্রথম বিয়ানের ৫-৬ মাসের গাভীন গরুর কোন দাঁত উঠবেনা আর ৯-১০ মাসের গাভীন গরুর ২ দাত হবে। গরুর ওলানের আকার বড় এবং নরম ঢিলেঢালা হবে। অনেক সময় বড় ওলান হলেই যে গরু দুধ বেশী দেবে, এই ধারনা করে গরু বাচ্চা দেবার কিছুদিন আগেই আমরা বেশী দাম দিয়ে কিনে ফেলি। ওলান বড় হলেই যে দুধ বেশী দেবে, প্রকৃতপক্ষে এই ধারনা ভুল।

এছাড়া গরু কেনার সময় একে হাঁটিয়ে দেখতে হবে, পায়ে কোন সমস্যা আছে কিনা। অসুস্থ গরু বেশীরভাগ সময় বসে থাকবে আর কিছুক্ষন দাঁড় করিয়ে রাখার পর আবার বসে পড়বে, খেতে চাইবেনা। দুই খুর ভাল করে দেখতে হবে, কোনভাবে রোগ আক্রান্ত হয়েছে কিনা। কিছু গরুর দুই খুরের মাঝে কিছু মাংস বাড়তি থাকে এমন হলে এই গরু গুলো খুরার এক জাতীয় রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশী থাকে।
(সংগৃহীত)

খামারের জন্য গরু বাছাইয়ে কিছু দিক নির্দেশনা
—————————————————–
আমরা আমাদের খামারের জন্য যখন ষাঁড়, গাভী বা বক্না বাছাই করবো তখন সেগুলির কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা প্রয়োজন। যদি আমরা এইসব বিশেষ বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন গরু আমাদের খামারের জন্য বাছাই করি তাহলে সেগুলির লালন পালনে তেমন বেগ বা কষ্ট পেতে হবে না! এদের বৃদ্ধি, উৎপাদন,রোগ সহনশীলতা সব কিছুই ভালো হবে। আর এভাবেই আপনি দ্রুত একজন দক্ষ ও সফল খামারী হয়ে উঠবেন। নীচে আমি গরু বাছাইয়ে কিছু সাধারণ দিক নির্দেশনা দিলাম।
১। যে গরুটি খামারের জন্য বাছাই বা সংগ্রহ করবেন তার রোগ-ব্যাধি এবং খাদ্যাভ্যাসের ইতিহাস জানার চেষ্টা করবেন। অর্থাৎ, গরুটির আগে কোন রোগ বার বার হত কিনা,গরুটির খাদ্য গ্রহনের অভ্যাস এবং প্রবণতা কেমন ইত্যাদি।
২। গরুটির মুখের আকৃতি কেমন? সবসময় মনে রাখবেন বেঁটে মুখ বা শর্ট ফেস গরু খাদ্য গ্রহনে পটু বা ভালো। আবার,লম্বাটে মুখের গরু অপেক্ষাকৃত কম খায় বা খাদ্য গ্রহনের দিক দিয়ে ততটা ভালো নয় এবং কম খাদ্য গ্রহনের ফলে গাভীর দুধ উৎপাদন বা ষাঁড়ের দৈহিক বৃদ্ধি স্বাভাবিক ভাবেই কম হবে। তাই মুখের আকৃতি লক্ষ্য করা জরুরী।
৩। গরুর রোগ-ব্যাধির ইতিহাস জানাটা জরুরী। কিছু কিছু গরুর একাধিক বার কিটোসিস,ম্যাসটাইটিস ইত্যাদি রোগ হয়ে থাকে।আবার কিছু গরুর ক্রনিক ডায়েরিয়া বা পাতলা পায়খানা লেগে থাকে। এসব গরু খামারে না আনাই ভালো। এগুলি খামারীদের লোকসানের ভাগীদার করবে।
৪। গরু বাছাইয়ের ক্ষেত্রে চামড়ার বৈশিষ্ট্যের দিকে লক্ষ্য রাখা গুরুত্বপূর্ণ। সবসময় লক্ষ্য রাখবেন গরুর চামড়া যাতে পাতলা হয় এবং লোমগুলি মসৃণ। এর উপরেও কিন্তু উৎপাদন অনেকাংশে নির্ভর করে!
৫। গরু বাছাইয়ের ক্ষেত্রে শিং এর বৈশিষ্ট্য একটি বড় ব্যাপার। গাভী বা বক্নার ক্ষেত্রে চিকন শিং বা চ্যাপ্টা পাতার মত শিং এবং ষাঁড়ের ক্ষেত্রে শিংয়ের গোঁড়া যাতে মোটা হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন।
৬। খামারের জন্য বাছাই করা গরুটির চোখ যাতে উজ্জ্বল এবং সেটা যাতে স্বতঃস্ফূর্ত হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন।
৭। গরুর অস্থি সন্ধি গুলি যাতে অপেক্ষাকৃত মোটা হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। এটা হাঁড়ের গঠন যে ভালো সেটা প্রকাশ করে। এছাড়া ক্ষুর গুলিও যাতে সুন্দর আকৃতির হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখবেন।
৮। আরেকটা জিনিষ খেয়াল করবেন যে,গরুর গায়ের বিভিন্ন শিরাগুলি যাতে দৃশ্যমান হয়। গাভীর ক্ষেত্রে দুগ্ধ শিরাগুলি স্পষ্ট, স্ফীত এবং আঁকাবাঁকা যাতে হয় এবং ষাঁড়ের ক্ষেত্রে রক্ত শিরাগুলি যাতে স্পষ্ট দৃশ্যমান হয়।
৯। গরু বাছাই করার সময় লক্ষ্য করবেন, গরুর পাঁজড়ের হাঁড় যাতে অপেক্ষাকৃত ছোট হয়। গরুর লেজ সরু, ছোট এবং কপাল প্রশস্ত ভালো গরুর আরেকটা লক্ষণ।
১০। গাভীর ক্ষেত্রে গলকম্বল ছোট,কান ছোট এবং গোলাকৃতি, কুঁজ ছোট বা কুঁজবিহীন হতে হবে। ষাঁড়ের ক্ষেত্রে কুঁজ অপেক্ষাকৃত বড়,গলকম্বল বড় এবং ঝোলানো হতে হবে।
আরও হয়তো কিছু বৈশিষ্ট্য আমি উল্লেখ করিনি,কিন্তু আপাতত খামারী ভাইয়েরা যদি উপরোল্লিখিত বৈশিষ্ট্য গুলি বিচার করে তাদের খামারের গরু গুলি বাছাই করেন তাহলে হয়তো তারা তাদের খামারের জন্য আদর্শ গরুটিই বাছাই করবেন।ইনশাআল্লাহ।
courtesy to mukti

উৎপাদনশীল গাভী বাছাই ও পালন পদ্ধতি :

উৎপাদনশীল গাভী নির্বাচন :
বাংলাদেশের কিছু কিছু অঞ্চলে বিশেষ উৎপাদনশীল গাভী পরিলক্ষিত হয়। যেমনঃ চট্টগ্রামের লাল গরু বা রেড চিটাগাং , পাবনা জেলার গরু ও ফরিদপুর জেলার গরু। তবে উতপাদনশীল গাভী নির্বাচনে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরী, সে বিষয়ে নিচে আলোচনা করা হলো :

মাথাঃ মাথা হালকা ও ছোট আকারের হবে। কপাল প্রশস্ত, চোখ উজ্জ্বল হবে। অধিক খাদ্য গ্রহণে আগ্রহী হবে।

দৈহিক আকারঃ দেহের সামনের দিক হালকা, পিছনের দিক ভারী ও সুগঠিত হবে, অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সামঞ্জস্যপূর্ণ ও সুসংগঠিত হবে। দৈহিক আকার আকর্ষণীয় হবে। শরীরের গঠণ ঢিলা হবে।

পাঁজরঃ পাঁজরের হাঁড় সুস্পষ্ট অনুভব করা যাবে। হাঁড়ের গঠন সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

চামড়াঃ চামড়া পাতলা হবে। চামড়ার নীচে চর্বির বাহুল্য থাকবে না। লোম মসৃন ও চকচকে হবে।

ওলানঃ গাভীর ক্ষেত্রে ওলান বড় ও সুগঠিত হবে ও দেহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। পিছনের দুই পায়ের মধ্যবর্তী স্থান প্রশস্ত হবে। বাটগুলি একই আকারের হবে। ৪টি বাট সমান দূরত্বে ও সমান্তরাল হবে।

দুগ্ধশিরাঃ দুগ্ধ শিরা মোটা ও স্পষ্ট হবে। তলপেটে নাভীর পাশ দিয়ে দুগ্ধশিরা আঁকাবাঁকাভাবে বিস্তৃত থাকবে।

প্রয়োজনীয় খাদ্য উপকরণ :
আঁশ জাতীয় খাদ্যঃ- শুষ্ক আঁশ জাতীয় খাদ্যে শতকরা ১০-১৫ ভাগ পানি বা জলীয় অংশ থাকে যেমনঃ বিভিন্ন প্রকার খড়। রসালো আঁশ জাতীয় খাদ্যে শতকরা ৭০-৮৫ ভাগ পানি বা জলীয় অংশ থাকে যেমনঃ কাঁচা ঘাস, লতাগুল্ম, বিভিন্ন গাছের পাতা, মাসকলাই, খেসারী ইত্যাদি।

দানাদার জাতীয় খাদ্যঃ- যেমনঃ বিভিন্ন প্রকার ডাল জাতীয় শস্যদানা ও শস্যদানার উপজাত। যেমনঃ ডালের ভূষি, গমের ভূষি, খৈল, চালের কুঁড়া ইত্যাদি।

খনিজ উপাদানঃ যেমনঃ- লবন, লাইমস্টোন, মনো-ক্যালসিয়াম ফসফেট, ডাই-ক্যালসিয়াম ফসফেট ইত্যাদি।

ফিড সাপ্লিমেন্ট/প্রিমিক্সঃ ভিটামিন মিনারেল প্রিমিক্স, এমানো এসিড, অর্গানিক এসিড, এনজাইম ইত্যাদি।

গাভীর সুষম খাদ্য:
গাভিকে দৈনিক প্রয়োজনীয় অনুপাতে খড়, কাঁচা ঘাস ও দানাদার খাদ্যের মিশ্রন সরবরাহ করতে হবে।

৩০০ কেজি ওজনের একটি গাভীকে দৈনিক খাবার তালিকা –

উচ্চমান সম্পন্ন কাঁচা (সবুজ) ঘাসঃ ১০-১৫ কেজি।
খড়ঃ ৩-৪ কেজি
১৮%-২০% প্রোটিন সমৃদ্ধ দানাদার খাদ্যের মিশ্রন ২-৩ কেজি সরবরাহ করতে হবে।

দানাদার খাদ্যের আদর্শ নমূনা নিম্নরুপঃ
উপাদান –নমুনা ১—-নমুনা ২—-নমুনা ৩
গমের ভূষি ৩০ কেজি ৪০ কেজি ২০ কেজি
চালের কুঁড়া ১০ কেজি ১৫ কেজি ২০ কেজি
খেসারী ভূষি ২৬ কেজি ২০ কেজি ২০ কেজি
ভাঙ্গা ছোলা ১০ কেজি ১০ কেজি ১৬ কেজি
খৈল ২০ কেজি ১৬ কেজি ২০ কেজি
ঝিনুকের পাউডার/হড়ের গুড়া ০৩ কেজি ০৩ কেজি ০৩ কেজি
লবণ (অতিরিক্ত) ০১ কেজি ০১ কেজি ০১ কেজি
DB ভিটামিন ১০০ গ্রাম ১০০ গ্রাম ১০০ গ্রাম

নিয়মঃ
১০০ কেজি ওজনের গাভীকে প্রতিদিন মিশ্রণের ৩ কেজি দানাদার খাদ্য দিতে হবে।
গাভী গর্ভবতী হলে ৫ম মাস থেকে বাচ্চা প্রসব পর্যন্ত ১.৫ কেজি অতিরিক্ত দানাদার খাদ্য দিতে হবে।
দুধালো হলে প্রতি ২.৫ লিটার দুধের জন্য ১ কেজি দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হবে।

সাধারণতঃ গরুর সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য ওজনের শতকরা ২ ভাগ আঁশ জাতীয় খাদ্য, শতকরা ১ ভাগ দানাদার জাতীয় খাদ্য ও ৪ ভাগ রসালো আঁশ জাতীয় খাদ্য সরবরাহ করতে হয়। অর্থাৎ গাভীর প্রাথমিক ওজন ২০০ কেজি হলে উক্ত গাভীর দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনার জন্য ৪ কেজি শুষ্ক আঁশ জাতীয়, ২ কেজি দানাদার জাতীয় এবং ৮ কেজি রসালো আঁশ জাতীয় খাদ্য সরবরাহ করতে হয়।

গাভীর দৈনন্দিন পরিচর্যা:
* প্রতিদিন সঠিক সময়ে খাদ্য প্রদান করতে হবে।
* পরিমিত পরিমাণ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
* নিয়মিত গাভীকে গোসল করাতে হবে।
* গাভীর থাকার স্থান পরিস্কার ও শুস্ক রাখতে হবে।
* গোবর ও মূত্র নিয়মিত পরিস্কার করতে হবে।
* গাভীর ঘর সংলগ্ন ড্রেন নিয়মিত পরিস্কার করতে হবে।
* খাদ্য সরবরাহের পূর্বে খাদ্যের পাত্র পরিস্কার করতে হবে।
* খাদ্য সংরক্ষন ঘর পরিস্কার করতে হবে।
* শুস্ক আঁশ জাতীয় খাদ্য সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত অবস্থায় পরিবেশন করতে হবে অর্থাৎ ছোট আকারে কেটে দিলে ভালো হয়।
* দানাদার খাদ্য সঠিকভাবে ভেঙে দিতে হবে।
* ভেজালমুক্ত খাবার পরিবেশন করতে হবে।
* ২-৪ মাস পর পর পশু চিকিৎসকের সহায়তায় গোবর পরীক্ষা করে দেখতে হবে গাভী কৃমি আক্রান্ত কিনা।
* প্রয়োজনে খামারে কৃমিনাশক ব্যবহার করতে হবে।
* নিয়মিত রোগ প্রতিষেধক টিকা প্রয়োগ করতে হবে।

গাভীর বাসস্থান ব্যবস্থাপনা:
গাভীর বাসস্থান হতে হবে প্রচুর আলো বাতাসযুক্ত স্থান।
গোয়াল ঘর পূর্ব-পশ্চিমে লম্বালম্বীভাবে তৈরী করতে হবে। গোয়াল ঘর স্থাপনের ধরণ ৩ ধরনের হতে পারে। যথাঃ উন্মুক্ত ঘর, কমিউনিটি ঘর ও আবদ্ধ এবং প্রচলিত ঘর। আবদ্ধ ঘরে গরু এক সারি বা বহু সারিতে পালন করা যায়। দুই সারি বিশিষ্ট ঘর অন্তর্মূখী বা বহির্মূখী পদ্ধতিতে গাভী পালন করা হয়।

* প্রতি গাভীর জন্য গড়ে ৩৫-৪০ বর্গ ফুট (৮’x ৫’)
জায়গার প্রয়োজন হবে। ঘরের মেঝে থেকে চালা এর উচ্চতা কমপক্ষে ১০ ফুট হতে হবে। টিনের চালা বিশিষ্ট ঘর হলে টিনের চালার নিচে চাটাই
ব্যবহার করতে হবে।
* গোয়াল ঘরে খাদ্য সরবরাহের জন্য ৫ ফুট প্রশস্ত
রাস্তা, খাদ্য পাত্র ও পানির পাত্রের জন্য ২ ফুট
এবং নালার জন্য ১ ফুট জায়গা রাখতে হবে ।
* গোয়াল ঘরের বর্জ নিষ্কাষনের জন্য পর্যাপ্ত ড্রেন রাখতে হবে।
* ঘরের মেঝে পাকা হলে মসৃণ প্লাস্টার না করে খসখসে রাখতে হবে যাতে গরু পিছলিয়ে পড়ে না যায়। মেঝে নালার দিকে হালকা ঢালু হবে, কিন্তু তা সর্বোচ্চ ১.৫ ইঞ্চি হতে পারে।
* ঘরের দেয়াল নীচের দিকে সর্বোচ্চ ১.৫ ফুট হতে হবে যাতে শুয়ে থাকা অবস্থায়ও পশুর শরীরের উপর দিয়ে বাহিরের বাতাস প্রবাহিত হয় এবং বাকী অংশ ১বর্গ ইঞ্চি ফাঁকা ফাঁকা রেখে জিআই তার দিয়ে বেষ্টনী দিতে হবে। ফলে গোয়াল ঘরে পর্যাপ্ত আলো বাতাস প্রবেশ করতে পারবে। তাতে গাভীর উৎপাদন বাড়বে এবং রোগ ব্যাধী কম হবে।
* গোয়াল ঘর প্রতিদিনই এক বা একাধিক বার ভালভাবে পরিষ্কার করতে হবে। গোবর, চনা ও খাদ্যের বর্জ্য পরিষ্কার করে তা নির্ধারিত পিট/গর্তে ফেলতে হবে। সবচেয়ে ভাল হয় যদি খামারে বায়োগ্যাস প্লান্ট থাকে এবং বায়োগ্যাস প্লান্ট এর পিটে বর্জ্য সরাসরি স্থানান্তর করা যায়।
* খামারে প্রতিদিন এন্টিসেপটিক স্প্রে করতে হবে । এতে রোগ সংক্রমণ কমবে, মশা-মাছির উপদ্রব কমবে। সপ্তাহে অন্তত একবার ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করে গরুর সেড ভালভাবে পরিষ্কার করত হবে।

প্রজনন ব্যবস্থাপনাঃ
আমাদের দেশে প্রাকৃতিক ও কৃত্রিমভাবে গাভীকে প্রজনন করানো হয়ে থাকে । কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতিতে গাভীকে প্রজনন করানোর জন্য বর্তমানে বেশী উৎসাহ করা হয়ে থাকে। কারণ এটা প্রজননের আধুনিক পদ্ধতি । এ পদ্ধতিতে উন্নত জাতের ষাড় থেকে বীজ সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাত করে গাভীতে প্রজনন করা হয় । এতে ষাড় থেকে বিভিন্ন রোগ গাভীতে স্থানান্তরিত হতে পারে না এবং সাথে সাথে গাভীর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায় । প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এর কেন্দ্রিয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামার থেকে উন্নত জাতের ষাড়ের সিমেন উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং তা সারাদেশে বিতরণ করা হয় । এছাড়া বিভিন্ন এনজিও উন্নত জাতের বীজ আমদানী করে বা বিশেষ তথ্যাবধানে নিজস্ব খামারে বীজ উতপাদন করে গাভীকে কৃত্তিম প্রজনন এর ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে ।

কৃত্রিম প্রজনন প্রক্রিয়ায় বিবেচ্য বিষয়গুলো হলো:
* আকারে বড় এবং স্বাস্থ্যবতী গাভীতে কৃত্রিম
প্রজনন করা প্রয়োজন।
* গাভী বা বকনা ডাকে আসলে কিছুটা অশান্ত হয়ে উঠে, অন্য গাভীর উপর লাফিয়ে উঠতে চায়, যোনীদ্বার দিয়ে আঠালো ঝিল্লি নিঃসৃত হয়, স্থির হয়ে অন্য গরুকে নিজের উপর লাফিয়ে উঠতে প্ররোচিত করে এবং অন্য গাভীর যৌনাঙ্গ শুকতে/চাটতে থাকে।
এসকল লক্ষণ দেখা গেলে বুঝতে হবে গাভী/বকনা ডাকে এসেছে।
* গাভীটিকে দক্ষ কৃত্রিম প্রজনন কর্মীর মাধ্যমে কৃত্রিম প্রজনন করাতে হবে।
* গাভী ডাকে আসার ১২-১৮ ঘন্টার মধ্যে প্রজনন করা উত্তম, এতে সফলতার হার বেশী হয়।
* প্রজননে সফলতার হার ৫৫% অর্থাৎ ১০০ গাভীকে কৃত্রিম প্রজনন করানো হলে ৫৫টি গাভী গর্ভবতী এবং বাচ্চা উৎপাদন হয়। অতএব যেসকল গাভী বাচ্চা ধারণ করেনি সেগুলোকে ২০-২১ পর আবার ডাকে আসলে পুণরায় প্রজনন করাতে হবে।
* কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতিতে সংকরায়ন এর মাধ্যমে গাভীর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়।
* ভ্রূণ স্থানান্তর প্রযুক্তি ব্যবহার করে উন্নত জাতের বাচ্চা উৎপাদন সম্ভব।
ডেইরী শিল্প বিকাশে এটা বর্তমান সময়ের একটি উন্নত প্রযুক্তি। তবে এর ব্যবহার সীমিত। এ প্রযুক্তিতে ইন-ভিভো ফার্টিলাইজেশন করে গাভীর গর্ভধানীতে স্থানান্তর করে বাচ্চা উৎপাদন করা হয়। অতি সম্প্রতি মাংশল জাতের গরু উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে উন্নত ব্রাহমা জাতের ষাড়ের বীজ ব্যবহার করে কৃত্রিম প্রজনন করে সুফল পাওয়া গেছে । যা অতি শীঘ্রই মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হবে।

Please follow and like us:

About admin

Check Also

খুব কম খরচে মাংস উৎপাদনের একটা কৌশল

খুব কম খরচে মাংস উৎপাদনের একটা কৌশল . যেটা প্রান্তিক খামারীদের জন্য খুবই কার্যকরী হবে। আপনাকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »
error: Content is protected !!