Breaking News
লাম্পি স্কিন ডিজিজ(এল এস পি)
লাম্পি স্কিন ডিজিজ(এল এস পি)

লাম্পি স্কিন ডিজিস (এল এস ডি) এ টু জেট

চলতি বছরের শুরু থেকেই বিক্ষিপ্তভাবে চট্টগ্রামের নির্দিষ্ট কিছু এলাকা সহ অন্যান্য দু’একটি জায়গা এবং ভারতের পশ্চিমবাংলার কিছু কিছু এলাকায় গরু বাছুরের শরীরে এ রোগটির লক্ষণ প্রকাশ পেতে থাকে। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় সিংহভাগ জেলা ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের সংলগ্ন ভারতের অন্যান্য জেলাগুলির পশুর শরীরে হঠাৎ জ্বর অনুভূত হওয়ার সাথে সাথে(১০৪°-১০৫° বা১০৬° ফাঃ) সারা দেহের পশমের নীচে এবং সামান্য গভীরে ও চামড়ায় গোটা ওঠে ফুলে যাওয়া হচ্ছে এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণ।বড় বড় মৌমাছি গুলি মৌচাকে বসে থাকলে দূর থেকে যেমন গোটার মত দেখা যায়, আক্রান্ত পশুর শরীরেও দূর থেকে দেখলে তেমনটিই মনে হয়।এক‌ই সাথে আক্রান্ত প্রাণীর নাকের চার পাশ, মুখমণ্ডল ও চোখের পাপড়ি থেকে শুরু করে অন্ডকোষ, ওলান , পায়ু ও যোনিপথের আশপাশে বড় বড় গুটা উঠে ভরে যায়। ইহার ফলে আক্রান্ত পশুটি মারাত্মক শারীরিক ব্যথা ও যন্ত্রণা কাতর হয়ে পড়ে।

এই রোগে পশুর মৃত্যুহার তেমন না হলেও রোগটি পশুর যাবতীয় উৎপাদনে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। সাথে আছে  চিকিৎসা খরচ‌।তারপরও সহসা মুক্তি পাচ্ছেনা আক্রান্ত পশুর মালিক এবং পশুটি নিজেও। মারাত্মক ছোঁয়াচে এই রোগটি ছড়ায়- প্রধানত মশা, মাছির মাধ্যমে। দর্শক, মেহমান, অন্যান্য প্রাণী, খামার মালিক, ডাক্তারের ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, সিরিঞ্জ-নিডিল, পরিধেয় বস্ত্র, সাইকেল মোটর সাইকেলের চাকা, বিভিন্ন পরিবহন, কুকুর-বিড়াল ছাড়াও বাতাসের সাহায্যে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে ছড়াতে সাহায্য করে!

সম্প্রতিকালে রোগটি ভারত, চীন সহ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশে রোগটি গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় থেকে বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা দিয়েছে।

এল এস ডি গরুর জন্য একটা ভয়ংকর ভাইরাস বাহিত চর্মরোগ যা ক্ষুরা রোগের চেয়ে অনেক বেশি প্রাণঘাতী এবং খামারের ক্ষতির কারণ। এই রোগের গড় মৃত্যুহার আফ্রিকাতে ৪০%। মূলত আফ্রিকায় একাধিকবার মহামারী আকারে দেখা গেলেও আমাদের দেশে গরুতে এই রোগের প্রাদুর্ভাব কখনো মহামারী  আকারে হয় নাই। একটা খামারকে অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতি করে দেয়ার জন্য  খুরারোগের চেয়ে  বেশি ভয়ংকর । ১৯২৯ সালে আফ্রিকার ‘জাম্বিয়া’ প্রথম অফিসিয়ালি সনাক্ত হওয়া এই রোগ ১৯৪৩ সল্ থেকে ৪৫ সালের মধ্যে মহাদেশের বিস্তীর্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এই সময়ের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা, বতসোয়ানা, মোজাম্বিক শোঃ পার্শ্ববর্তী দেশ গুলোতে হাজার হাজার গরু আক্রান্ত হয়ে মারা যায় এবং শত শত খামার বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে সত্তর এবং আশির দশকে আফ্রিকার প্রায় সব দেশের গরু এই রোগে আক্রান্ত হয় এবং হাজার হাজার খামার বন্ধ হয়ে যায় অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

Lumpy অর্থ পিন্ড আকার। সাধারনত চামড়ার নিচে পিন্ড আকার গোটা গোটা হয়ে থাকে। ইহা ভাইরাস জনীত রোগ। LSD মুলত Immunity কে Suppress করে। ইহাকে ইকোনোমিক্যাল রোগ ও বলে। কারন যদি গোটা গুলো ফেটে যায় তাহলে চামড়ার ক্ষতি হয়ে যায়। অনেক সময় LSD হলে ওলানে বা ভ্যাজাইনাল ওয়ালের পাশে চাকতির মত গোটা গোটা পাওয়া যায়, সাথে গাভীর/গরুর পায়ের হাটু ফুলে যেতে পারে।

Variable sign and symptoms এর Lumpy Skin Disease এসময়ের সেরা আতংকময় রোগ। খামারিরা নিঃস্ব ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কারণ এতে গাভীর গর্ভপাত হয়,চামড়া নস্ট হয়,চিকিৎসা না নিলে ১০-১৫% মর্টালিটি হতে পারে। কোয়াক ও মেডিসিন কোম্পানিগুলোর লালসার শিকার খামারীরা। শুধু তাই নয়, তাদের অনিয়ন্ত্রিত অপ্রয়োজনীয় এন্টিবায়োটিক প্রেস্ক্রক্রিপশনে বাজার থেকে এন্টিবায়োটিক থেকে শুরু করে Antiinflammatory drug ও মার্কেট থেকে আউট হয়ে গেছে প্রায়। এতে জনস্বাস্থ্যও একপ্রকার হুমকির মুখে।

 

রোগের কারণ :

মূলত পক্স ভাইরাস বা এল এস ডি ভাইরাসের সংক্রমণে গবাদিপশুতে এই রোগ দেখা দেয় এবং এক গরু থেকে আরেক গরুতে ছড়িয়ে পড়ে।

রোগের সময় :

প্রধানত বর্ষার শেষে, শরতের শুরুতে অথবা বসন্তের শুরুতে যে সময়ে মশা মাছি অধিক বংশবিস্তার সেই সময়ে প্রাণঘাতী এই রোগটি ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়।



রোগের লক্ষণ :

এল এস ডি আক্রান্ত গরু শুরু থেকে অনেক গুলো লক্ষণ প্রকাশ করে যা আক্রান্তের শুরু থেকে ধারাবাহিকভাবে দেখা যায় :

১. জ্বর : আক্রান্ত গরু প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হয় এবং খাবার রুচি কমে যায়।

২. লালাক্ষরণ : জ্বরের সাথে সাথে মুখ দিয়ে এবং নাক দিয়ে লাল বের হয়।

৩. শরীরের বিভিন্ন জায়গা চামড়া পিন্ড আকৃতি ধারণ করে, লোম উঠে যায় এবং ক্ষত সৃষ্ট হয়। ধারাবাহিকভাবে এই ক্ষত শরীরের অন্যান্য জায়গা ছড়িয়ে পড়ে।

৪. ক্ষত মুখের মধ্যে , পায়ে এবং অন্যান্য জায়গা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

৫. ক্ষত স্থান থেকে রক্তপাত হতে পারে।

৬. পাকস্থলী অথবা মুখের ভিতরে সৃষ্ট ক্ষতের কারণে গরু পানি পানে অনীহা প্রকাশ করে এবং খাদ্য গ্রহণ কমে যায়।

গোল গোল হয়ে গোটারমত চামড়ার উপর ফুলে উঠে,
১০৪-১০৬ পর্যন্ত জ্বর হতে পারে,
গোট কম থাকলে ও জ্বর ১০৩-১০৪ থাকলে খওয়া কিছুটা কম খায়,
গোট বেশি থাকলে ও জ্বর ১০৫-১০৬ হলে খাওয়া খুব সামান্য খায় বা মোটেই খায় না,তখন মুখ দিয়ে সামান্য সামান্য লালা বের হয়,
ফুলার জন্য কোন কোন গরু শুতে চায় না,
কিছু দিন পরে গোটা ফেটে ঘা বা ক্ষত হয়,

 কিভাবে ছড়ায় :

লাম্পি স্কিন ডিজিসে আক্রান্ত গরু থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে রোগটি অন্য গরুতে ছড়িয়ে পড়ে। এই রোগ এক গরু থেকে অন্য গরুতে ছড়িয়ে পড়ার প্রধান মাধ্যম গুলো হচ্ছে :

১. মাছি : এই রোগের ভাইরাসের প্রধান বাহক হিসাবে মশা মাছিকে দায়ী করা হয়। অন্যান্য কিট পতঙ্গের মাধ্যমেও ভাইরাসটি আক্রান্ত গরু থেকে অন্য গরুতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

২. লালা : আক্রান্ত গরুর লালা খাবারের মাধ্যমে অথবা খামারে কাজ করা মানুষের কাপড়ের মাধ্যমে এক গরু থেকে অন্য গরুতে ছড়াতে পারে।

৩. দুধ : যেহেতু আক্রান্ত গভীর দুধে এই ভাইরাস বিদ্যমান থাকে তাই আক্রান্ত গভীর দুধ খেয়ে বাছুর দুধ খেয়ে আক্রান্ত হতে পারে।

৪. সিরিঞ্জ : আক্রান্ত গরুতে ব্যবহার করা সিরিঞ্জ থেকে এই ভাইরাস বাহিত হতে পারে।

৫. রক্ষণাবেক্ষণকারী : খামারে কাজ করা মানুষের পোশাকের মাধ্যমে আক্রান্ত গরু থেকে অন্য গরুতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

৬. আক্রান্ত গরুর সিমেন : ভাইরাস আক্রান্ত ষাঁড়ের সিমেন এই রোগের অন্যতম বাহন কারণ আক্রান্ত গরুর সিমেনেও এই ভাইরাস বিদ্যমান থাকে।

প্রতিকার :

যেকোন রোগের চিকিৎসার চেয়ে প্রতিকার সব সময় অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক।

১. আক্রান্ত গরুকে নিয়মিত এল এস ডি ভ্যাকসিন দেয়া। আমাদের দেশে ইতিপূর্বে রোগটির প্রাদুর্ভাব কম দেখা গেছে তাই এই রোগের ভ্যাকসিন সহজলভ্য নয়।

২. খামারের ভিতরের এবং আসে পাশের পরিবেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা যেন মশা মাছির উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

৩. আক্রান্ত খামারে যাতায়ত বন্ধ করা এবং আক্রান্ত খামার থেকে আনা কোন সামগ্রী ব্যবহার না করা।

৪. আক্রান্ত গরুকে শেড থেকে আলাদা স্থানে মশারি দিয়ে ঢেকে রাখা মশা মাছি কামড়াতে না পারে। কারণ আক্রান্ত গরুকে কামড়ানো মশা মাছি সুষ্ঠ গরুকে কামড়ালে এই রোগের সংকরণ হতে পারে।

৫. আক্রান্ত গভীর দুধ বাছুরকে খেতে না দিয়ে ফেলে দিয়ে মাটি চাপা দেয়া।

৬. আক্রান্ত গরুর পরিচর্যা শেষে একই পোশাকে সুষ্ঠ গরুর মধ্যে প্রবেশ না করা।

৭. আক্রান্ত গরুর খাবার বা ব্যবহার্য কোনো জিনিস সুষ্ঠ গরুর কাছে না আনা।

৮. ক্ষত স্থান টিকার আয়োডিন মিশ্রণ দিয়ে পরিষ্কার রাখা।

লাম্পি স্কিন ডিজিজ এর টিকা নিয়মিত প্রদানের মাধমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এরোগটি যেহেতু আমাদের দেশে প্রাদুর্ভাব কম তাই এর টিকা পাওয়া সহজ লভ্য নয়।
খামারের আশপাশে পরিষ্কার পরিছন্ন করে মসা- মাছি নিয়ন্ত্রণ করা।
খামারে দর্শনার্থীর যাতায়ত নিয়ন্ত্রন করা। বিশেষ করে আক্রান্ত খামার থেকে আগত কোন দর্শনার্থীকে খামারে প্রবেশ করতে না দেওয়া।
আক্রান্ত খামারের কোন কিছু বিশেষ করে যন্ত্রপাতি, খাদ্য, পোষাক ইত্যাদি ব্যবহার না করা।
আক্রান্ত গাভীর দুধ বাছুরকে খেতে না দেওয়া।
আক্রান্ত গরুকে পাল থেকে আলাদা করে মশারির মধ্যে রাখা।
আক্রান্ত স্থান টিংচার আয়ডিন দ্বারা পরিস্কার করা।
তবে মানুষ আক্রান্ত হয় না।

চিকিৎসা :

এল এস ডি আক্রান্তের লক্ষণ প্রকাশ পেলে দ্রুত রেজিস্টার্ড ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত চিকিতসার ব্যবস্থা করতে হবে।

শুরুতে চিকিৎসা শুরু করলে গরু দ্রুত সেরে উঠে,যেহেতু এটি ভাইরাস রোগ তাই এর মূল ঔষধ জ্বর ও ব্যথা নাশক জাতীয় ঔষধ,দ্বিতীয়ত এন্টিবায়োটিক যা সেকেন্ডারী ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন রোধ করে।

কৃষকের আর্থিক সচ্চলতার উপর নির্ভর করে কয়েক ধাপে চিকিৎসা

চিকিৎসা ১
গরীবের জন্য
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

Inj Pronapen 40 Lac/Steptopen 2.5 gm
১০০ কেজির জন্য ১ টি মাংসে,৩-৭ দিন,

Inj Asta vet
১০০ কেজি ওজনের জন্য ১০ সিসি মাংসে ৩-৭ দিন,

Tab Fast vet
৪০ কেজি ওজনের জন্য ১ টি করে খেতে হবে,3-7 days

চিকিৎসা ২
মাঝারী সচ্ছল কৃষকের জন্য
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,.

Inj Trizone 1/2 gm / Amcox
১ টি করে মাংসে,

Inj Keto A Vet
২৫ কেজি ওজনের জন্য ১ সিসি মাংসে,

Inj Hista vet
১০ কেজি ওজনের জন্য ১ সিসি মাংসে,

চিকিৎসা ৩
খুব সচ্ছল কৃষকের জন্য
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

Inj Cefteren 0.5 gm/1gm
১ টি করে মাংসে,ডোজ কিছুটা বেশি হলেও এটি কয়েক গুণ পর্যন্ত নিরাপদ,

Inj Fortis/Fevenil
১ টি করে মাংসে,

Inj Dellergin
১ টি করে মাংসে,

যদি কখনো ক্ষতের সৃষ্টি হয় ভায়োডিন দিয়ে ক্ষত মুছে এন্টিবায়োটিক পাউডার বা মলম লাগাতে হবে,তবে চিকিৎসায় গাফেলাতি না থাকলে ভেজা ক্ষত খুব বেশি হয় না

যেহেতু ইহা একটি “ভাইরাস” ঘটিত রোগ। তাই একমাত্র টিকা প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা ছাড়া সরাসরি ইহার কোন চিকিৎসা নাই। তারপরও আক্রান্ত পশুটির পরবর্তী শারীরিক জটিলতা থেকে মুক্তি দিতে এবং সেকেন্ডারি ইনফেকশনকে সারিয়ে তুলতে রোগের লক্ষণ অনুযায়ী নিম্মোক্ত চিকিৎসাদি প্রদান করলে আক্রান্ত পশুটি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে সহায়ক হবে

বা
Rx.
1). Tab.Pyrofree/ Pyralgin Vet.
প্রতি ১০০ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য একটা বড়ি খাওয়াতে হবে দিনে ৩ বার, ৫-৭ দিন।

2).Inj.Histavet. বা অন্য কোনো এন্টিহিস্টামিন ইক
প্রতি ১০০ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ১০ মিলি করে মাংসে, ২৪ ঘন্টায় একবার ৫-৭ দিন।

3). Inj.Fixin Vet.
প্রতি ২০ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ১ মিলি করে লীলায় কিংবা মাংসে পরপর ৫ দিন

4). Skin Care Spray. ক্ষত সৃষ্টি হলে দিনে দুইবার স্প্রে করতে হবে যতদিন ক্ষত না শুকাবে।
@@@@
5).বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে,
পশু এই অবস্থায় খাওয়া-দাওয়া প্রায়ই ছেড়ে দেয়। সে ক্ষেত্রে তার শরীরে মারাত্মক ডিহাইড্রেশন দেখা দিবে। তাই আক্রান্ত পশুর শারীরিক ওজন ও বয়স বিবেচনা করে প্রতিদিন কমপক্ষে ৫০০ মিলি থেকে শুরু করে ৫০০০ মিলি পর্যন্ত “নরমাল স্যালাইন”শিরার মধ্যে প্রয়োগ করতে হবে। পাশাপাশি দানাদার এবং ভুসি জাতীয় খাদ্য কিছু কিছু পরিমাণ খাওয়াতে হবে।

@ দ্রুত চামড়ার ক্ষতস্থানগুলি শুকানো ও সেকেন্ডারি ইনফেকশন রোধ করতে খুবই কার্যকর হচ্ছে১% ফরমালিন সলিউশন (৯৯ মিলি পানির সাথে ১ মিলি ফরমালিন মিশাবে)। অতঃপর ক্ষতস্থানের উপর দিনে দুইবার স্প্রে করলে সহসা পুঁজ সৃষ্টি হতে পারবে না এবং সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন এর সম্ভাবনা দ্রুত কমে যাবে যা প্রমাণিত এবং ভীষণ কার্যকরী। ১% ফরমালিন সলিউশন স্প্রে করার পর স্ক্রীন কেয়ার সলিউশান হাতের উপরে আস্তে আস্তে স্প্রে করে প্রলেপ তৈরি করে দিতে হবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: আক্রান্ত পশুর শরীর থেকে নিঃসৃত প্রতিটি উপাদানই ভাইরাস বহন করে থাকে। অতএব,আক্রান্ত পশুকে অতি দ্রুত নিরাপদ ও শুষ্ক স্থানে সরিয়ে নিয়ে খড়কুটার তৈরি বিছানার উপর শোয়াতে হবে এবং মশারি দ্বারা তাকে আবৃত করে রাখতে হবে।

বা
প্রতি ১০০কেজি ওজনের জন্য
প্যারাসিটামল ট্যাবলেট ২টি,খাবার সোডা ৫০গ্রাম,লবণ ২৫গ্রাম,নিমপাতাবাটা ২৫গ্রাম,গুড় ৫০গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে সকাল বিকাল ৭দিন খাওয়াতে হবে।
বা

যেহেতু ভাইরাল রোগ (Immuno Suppress Disease) তাই এর চিকিৎসা গরুর অবস্থা অনুযায়ী।

১। Andopan Powder
(Treat viral diseases, Improve immunity, Reduce inflammation),
/FRA-C 12- Improve immunity.
/Lysovit- Improve immunity.

০২। Vit. C

০৩। Antibiotics (Amoxycillin/Ceftriaxone/Ceftiofur/Penicillin অবস্থা অনুযায়ী যেকোন একটি এন্টিবায়োটিক চয়েজ করা যেতে পারে)

০৪। Antihistaminic.

০৫। জ্বর বেশি হয় তাই- (অনেক সময় হাটুঁ ফুলে যায়)
Tolfenamic Acid/
Ketoprofen/Paracetamol+Meloxicam ব্যবহার করা যেতে পারে।

০৬। যদি গোটা ফেটে যায়-
Sumid vet powder/Negutox powder. ব্যবহার করা যেতে পারে।

০৭। অবস্থা অনুযায়ী Ivermectin. ব্যবহার করতে পারেন।

০৮। শেড পটাশ পানিতে নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।
গরুর খাওয়ার পানিতে খাবার সোডা (প্রতি লিটার পানিতে ১০-১৫ গ্রাম খাবার সোডা) ব্যবহার করলে ভাল রেজাল্ট পাওয়া যায়।

গরুর ঘরে (শেডে) মশারী/মশা তাড়ানো কয়েল নিয়মিত ব্যবহার করুন। সপ্তাহে কমপক্ষে ২ দিন শেড জীবনুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করুন।

ক্রিটিকাল LSD তে ঃRespiratory system and joint involved

– Antibiotic:
F-1: Penicillin + Gentamycin (High Dose)
F-2: Penicillin + Ciprofloxacin (High Dose)
F-3: Ceftriaxone
F-4: Oxytetracycline
F-5: Marbofloxacin

– Antihistaminic:
F-1: Pheniramine maleate, Promethazine
F-2: Chloroheniramine maleate (Pregnant)

– NSAID:
F-1: Ketoprofen (Early pregnancy), Tolfenamic acid (Late pregnancy)
F-2: All NSAID for nonpregnant

– Mucolytic Expectorant:
F-1: Bromhexine
F-2: Ambroxol Hydrochloride

– Respiratory and Cardiac Stimulant:
F-1: Aminophyline (Respiratory distress and pneumonic condition)

– Rehyration and Supplementation:
F-1: Oral Saline
F-2: Amino acids + Vitamins + Minerals

Wound Management:
F-1: Dressing & Antiseptic wash with Povidone Iodine
F-2: Myiasis control with Fly repellent or larva killer
F-3: Desiccant

লেখকঃ

১।ডা জহিরুল ইসলাম(ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর ,এল ডি ডি পি)

তথ্যসূত্র :
##. জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থা।

##।এম এস ডি
২।ডা আবু বকর( এল ই ও)

৩।এম ডি সোহেল

 ৪।ডাঃ মোঃ নূরুল আমীন
অবসরপ্রাপ্ত বিভাগীয় উপ-পরিচালক
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।

 
৫।ডাঃ মোঃ শাহ্-আজম খান

(ডিভিএম, এমএস ইন এনিমেল সায়েন্স)
সিনিয়র কাস্টমার সার্ভিস অফিসার (ক্যাটল বিভাগ)
নারিশ পোল্ট্রি এন্ড হ্যাচারী লিমিটেড
রংপুর জোন।

Please follow and like us:

About admin

Check Also

বাছুরের ডায়রিয়ার কারণ

Couses of diarrhea in neonatal rumenants 🔷Bacterial: 🔸Escherichia coli 🔸Salmonella spp. 🔸Campylobacter fecalis 🔸Campylobacter coli …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »
error: Content is protected !!