Breaking News

পোল্ট্রির ভাল খাদ্য উপাদান শনাক্তকরণের উপায় এবং কোন উপাদানে কোন মাইকোটক্সিন থাকে

পোল্ট্রির ভাল খাদ্য উপাদান শনাক্তকরণের উপায় এবং কোন উপাদানে কোন মাইকোটক্সিন থাকে

প্রতিটি খাদ্য উপাদানের নিজস্ব রং,গন্ধ ও আকার আছে।

সয়াবিন মিলঃ

স্বাভাবিক  রং হলুদাভ সাদা যদি লালচে বা বেশি লালচে হয় তবে ব্যবহার করা যাবে না।

এতে ভুট্রার গুড়া,মেলামাইন,ডলোমাইট,বালি,ডালের খোসা, non edible oil cake সয়াবিন মিল এ ভেজাল দিয়ে থাকে।কাচা সয়াবিন থাকিতে পারে।

উৎস এবং প্রক্রিয়াজাতের উপর ভিত্তি করে বাজারে বিভিন্ন রকমের সয়াবিন মিল পাওয়া যায়।

সয়াবিন মিলে   আশ ও প্রোটিনের  মধ্যে  পার্থক্য।প্রোটিন ও চর্বির জন্য গোটা সয়াবিন ব্যবহার করা যায়।

৪৪/এন এফ এমঃএগুলো ভাল না কারণ আশ ও আর্দ্রতা বেশি,প্রোটিন কম।

৪৪/৭সয়াঃ আশ ৭% এবং আর্দ্রতা ১৩%

সয়া হাইপ্রোঃপ্রোটিন ৪৯%,আশ ৩.৫% এবং আর্দ্রতা ১৩%।

ইন্ডিয়ান সয়াঃআশ বেশি , প্রোটিন ৪৯-৫১%

সয়াবিনঃ

বালি এবং সিলিকা আছে কিনা দেখতে হবে।aflatoxin,trypsin inhibitors,NSPs থাকে

মিট এন্ড বোন মিলঃ

এগুলো মূলত মিহি পাউডার আকারে বিক্রি হয়,যদি মিট বোনে  লোম ও হাড়ের গুড়া  থাকে তাহলে  লোম ও হাড়ের গুড়া বাদ দিতে হবে।অনেক সময় বালিও মিশ্রিত থাকতে পারে।(biogenic amines থাকে)।

দাম ৪০-৭০/কেজি তাই মানে ও বিভিন্ন রকম।

এখন মিট বোন পাওয়া যায় না নিষিদ্ধ।

রেপ্সিড/সরিষার খৈল

ফাইবার,ইউরিয়া,গোবর,কাঠের গুড়া,বালু আছে কিনা দেখতে হবে।(aflatoxin B1,glucosinolates মাইকোটক্সিন থাকে।

লাইম স্টোনঃ

লাইম স্টোনে যদি মার্বেম পাথর মিক্স করা থাকে তাহলে ফিডে ব্যবহার করা যাবে না।মার্বেল পাথর উজ্জল সাদা বর্ণের হয়।

হাইড্রোক্লোরিক এসিডের মধ্যে লাইম স্টোন দিলে যদি প্রিসিপিটেশন পড়ে তাহলে ভাল ।না হলে ভেজাল।

রাইস পালিশ বা চালের গুড়াঃ(aflatoxin থাকে।

অটোমেটিক চাউল কলে  চালের উপর পাতলা বাদামী আবরণের যে উপজাত পাওয়া যায় তাকে রাইস পালিশ বলে।খাটি কুড়ায় আশ কম ,তেল এবং প্রোটিন বেশি।

এতে তেল থাকার কারণে ১৫দিনের বেশি হলে ব্যবহার করা যাবে না।

অনেকে তুষের পাউডার,করাত কলের কাঠের গুড়া,কাকর,পাথর,বালি ,লাইমস্টোন,জিওলাইট যোগ করে দেয়।

তুষে বিদ্যমান সিলিকা ও লিগনিন পাখির ক্ষুদ্রান্তে ক্ষতের সৃস্টি করে ফলে পুস্টি উপাদান শোষনে বাধা পায়।

মুখে জিহবায় দিলে আশ আছে কিনা বুঝা যায়।হাতের তালুতে নিয়ে ঘষলে ও বুঝা যায়।

হাতে নিয়ে চাপ দিলে খাটি কুড়া ভেংগে যায় না তেলের কারণে কিন্তু ভেজাল দিলে ভেংগে যায়।

খবব্রের কাগজে বা নিউজ প্রিন্ট পেপারে কুড়া রাখলে কয়েক ঘন্টা পরে পেপার ভিজে যায়।

ভেজাল কুড়া ব্যবহার করলে পাখির হজম,পেটের পীড়া,প্রদাহ,পুস্টিহীনতা দেখা দেয়,এমন কি পাখি মারা যেতে পারে

চালের গুড়ায় তুষ যত কম থাকবে তত ভাল ভাল। চালের গুড়া মুখে নিলে মিস্টতা অণুভূত হবে।

বাতাসে উড়ালে কুড়া উড়ে আর পাথর,কাকড় ,বালি নিচে জমা হয়।

গমের ভুষিঃ

গমের ভুষিতে পেন্টোসান ও হেমিসেলোলোজ থাকায়  হজম ক্ষমতা কমে যায়,অধিক আর্দ্রতাযুক্ত পায়খানা করে তাই লেয়ার সর্বোচ্চ ১০% কিন্তু ব্রয়লারের ব্যবহার করা যাবে না।এতে নায়াসিন বেশি থাকে।

ইউরিয়া,বালি,কাঠের গুড়া,মেলামাইন, হাস্ক( Husk)

ডি অয়েল রাইস ব্রানঃ

করাতের গুড়া এবং ফাইবার আছে কিনা দেখতে হবে।(aflatoxin)।এতে মেলামাইন,ডলোমাইট,বালি,তূষের গুড়া মিশিয়ে থাকে।

রাইস ব্রানঃ

ইউরিয়া,মেলামাইন,রাইস হাস্ক,বালি,ধূলা

ডি সি পিঃ

কালার,আর্দ্রতা ও গন্ধ দেখতে হবে।অনেক সময় বালু মিক্সার করা থাকে।

ভুট্রাঃ

ভুট্রার সাদা বা এন্ডোস্প্রাম অনেক সময় কালো হয়,এটি আফ্লাটক্সিনের প্রাথমিক লক্ষণ।

কালার,সাইজ,আর্দ্রতা,গন্ধ,পেস্টিসাইড(থায়ারাম) দেখতে হবে।আর্দ্রতা ১২% এর নিচে হলে ভাল।

sweetcorn ,Field corn নামে ভুট্রা পাওয়া যায়।

ভুট্রা সুস্বাদু ,সহজে হজম যোগ্য এবং কম আশ বিশিস্ট।

পরিপক্ষ ভুট্রায় আর্দ্রতা ৮ %আর অপরিপক্ষ ভুট্রায় ১৩%।

ভুট্রায় আফ্লাটক্সিনের সর্বনিম্ন মাত্রা ৫০ পিপিবি।

ভুট্রায় লাইসিন কম থাকে কিন্তু লিনোলিয়িক এসিড বেশি থাকে।

ভুট্রার কর্ণ গ্লুটেন ব্যবহার হয় ১০% হারে,ভুট্রার শর্করা ও গ্লোকোজ বের করার পর যে খোসা ও আঠালো পদার্থ থাকে তাকে কর্ন গ্লুটেন বলে।

(aflatoxin,citrinin,cyclopiazonic acid,ochratoxin নামক মাইকোটক্সিন থাকে

ভুট্রা তে cobs,Cobs dust,Sandমিশিয়ে থাকে।

গমঃ

গমে  বিভিন্ন আগাছার বীজ  বালি,তুষ দিতে পারে।aflatoxin,ochratoxin,NSPs থাকে।

ভুট্রা থেকে গমে এনার্জির পরিমাণ কম কিন্তু প্রোটিনের পরিমাণ বেশি ৩-৪%।

গম জেলাটিন ধর্ম বিশিস্ট ।ম্যাশ ফিডে ২০% এবং পিলেট ফিডে ৪০% এর বেশি দেয়া যাবে না।এতে মুরগি পানি বেশি খায় পায়খানা আঠালো এবং পাতলা হয় ,লিটার খারাপ হয়।এমন কি বেশি  আর্দ্রতা সম্পন্ন গম ব্যবহার করলে  ব্রয়লার অনেক  মারা যেতে পারে।

সানফ্লাওয়ারমিলঃ

ফাইবার ও বালু মিশাতে পারে।(aflatoxinB1,ochratoxin,T2 toxin,NSPs)

চালঃ

aflatoxin,ochratoxin থাকে

জোয়ারঃ

বিভিন তেল বীজ মিশাতে পারে(T2 toxin,zeralenone,sterigmatocystin,tanins,nsps)

বাজরাঃ

বিভিন্ন বীজ ও বালু মিশ্রিত থাকতে পারে(T2 toxin,zeralenone,NSPs)

রাগীঃ

বালু মিশাতে পারে(mycotoxin,NSPs)

শুটকি বা ফিশ মিলঃ

(gizerosine)

ফিশ মিলে অনেক সময় বালু মিশ্রিত থাকে ,ফুটফ্যাট সয়াবিন ও রাইস পালিশে ও বালু মিশ্রিত থাকতে পারে।ইউরিয়া,লবণ মিশিয়ে থাকে।

বিভিন্ন মানের পাওয়া যায়।

ফুট ফ্যাট সয়াবিনঃ

এটি অবশ্য ১-১.৫ ঘন্টা সিদ্ধ হতে হবে এবং মুখে দিলে বাদামের মত মনে হবে ,সেদ্ধ হয়েছে কিনা বুঝা যাবে।

ভেজেও খাওয়ানো যায়।

সয়াবিন মিলে সাদা হলুদ কাঠি বা ফাইবার থাকে ,এগুলো যত কম থাকে তত ভাল।

ব্রয়লার ফিডে গোটা সয়াবিন বেশি দেয়া  হয়।

সয়াবিনে মিথিওনিন কম থাকে এবং ট্রিপসিন ইনহিবিটর থাকে।

তেলঃ

সয়াবিন তেল ও সূর্যমুখির তেল।তবে ১% এর বেশি ময়লা থাকা ভাল না।

সয়াবিন তেল প্রানীজ চর্বি থেকে বেশি এনার্জি এবং অধিক পরিপাক হয়।

৮-৯% এর বেশি তেল দিলে খাবার আঠালো হয় এবং মেশিনের হপারে  সমস্যা দেখা যায়।

বাদাম খৈলঃ

আমাদের দেশে চীনা বাদাম তেমন চাষ হয় না তাই যে খৈল  পাওয়া যায় তাতে খোসা থাকে যা  হজমে সমস্যা হয়,এতে বাদামের খোসা,ইউরিয়া মিশিয়ে থাকে।

ঝিনুকঃ

ঝিনুকে প্রায়ই পাথর,বালি ও কাঁকর মিশ্রিত থাকে।এগুলো থাকলে ব্যবহার করা ঠিক না এবং ব্যাক্টেরিয়ার কারণ হতে পারে।ভাল ঝিনুক পরিস্কার,ঝকঝকে ও মোটা দানার হবে।

সাদা কাগজের উপর ঝিনুক রেখে বুঝা যায় বালি আছে কিনা।

প্রিমিক্সঃ

এগুলো দামি হবার কারণে প্রচুর ভেজাল দেয়া হচ্ছে তাই ভাল কোম্পানীর প্রডাক্টস কেনা উচিত।

মোলাসেসঃ এতে পানি মিশিয়ে থাকতে পারে।

পাথরঃ মেলামাইন,ডলোমাইট

মিনারেলস মিক্সারঃলাইমস্টোন,লবণ,মার্বেল পাথর,বালি

চাল ভাংগাঃগ্রিট,বালি মার্বেল

ফিডের উপাদান ৩ভাবে  বাছাই করা হয়ঃ

ফিজিকেল,কেমিকেল,বায়োলজিকেল টেস্ট

ফিজিকেলঃ

১।দেখেঃ

কালারঃসরগম বা জোয়ার যদি কমলা বা লাল কালার হয় তাহলে এতে ট্যানিন বেশি থাকে ফলে ব্যবহার করা ঠিক না।সাদার চেয়ে গাড় কালারে জোয়ার বেশি  এনার্জি থাকে।

ফাইবার এবং তেলের পরিমাণ দেখা রাইস পলিশ বাচাই করা হয়,কালার দেখে নয়।

আকারঃ

আকার ছোট হলে এনার্জি কম থাকে।

হোমোজেনেসিটিঃতুষ,ভাংগা উপাদান,আগাছার বীজ,অংকুরিত বীজ এগুলো পুস্টিমান কমিয়ে দেয়।পালক,ইদুর, ,পাখির বিড়ালের বিস্টা খাবারের পুস্টমান কমিয়ে দেয় এবং জীবাণূর উৎস হিসাবে কাজ করে।

রাইস পালিশে তুষ এবং তেল বীজে  ফাইবার থাকলে  পুস্টিমা কমে যায়।

গন্ধ

টক গন্ধ হলে বুঝতে হবে মোল্ডি শস্য বা পোকামাকড়ের আক্রমণ।

পেট্রোলিয়ামের গন্ধ হলে  পেস্টিসাইড ও ফাঞ্জিসাইড।

মিট এন্ড বোন মিলে লেদারের গন্ধ হলে লেদারমিলের কন্টামিনেশন বুঝায়।

স্বাদ

সয়াবিন মিল ,সান ফ্লাওয়ার অয়েলমিল ও  গাউন্ডনাট মিল যদি তিতা হয় তাহলে বুঝায় মাইকোটক্সিন

স্পর্শ

রাইস পালিশ হাতে নিলে যদি দলা হয় তাহলে ভাল আর যদি না হয় তাহলে বুঝা যায় এত্এ তুষ মিশাইছে।

শব্দ

শুকনা ভুট্রা কামড় দিলে টাস টাস শব্দ হয়।

Please follow and like us:

About admin

Check Also

খাবার ব্যবস্থাপনা

খাবার ব্যবস্থাপনা(কোন বয়সে কেমন খাবার,কতবার খাবার দিবো,বয়স অনুযায়ী খাবারের পুস্টি)

খাবার ব্যবস্থাপনা(কোন বয়সে কেমন খাবার,কতবার খাবার দিবো,বয়স অনুযায়ী খাবারের পুস্টি) ব্রয়লার ব্রয়লারে ৩ ধরণের খাবার …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »
error: Content is protected !!