Breaking News
বাদলা রোগ
বাদলা রোগ

বাদলা রোগ:বিস্তারিত

 পাঠ ১।

বাদলা রোগ:
বাদলা একটি ব্যক্টেরিয়া জনিত রোগ ।
বিভিন্ন বয়সের গরুর এই রোগ হলেও প্রধানত 6 মাস হতে 2বছর বয়সে বেশী স্বাস্থ্যবান গরু অধিক আক্রান্ত হয়।

লক্ষণ:
1)আক্রান্ত প্রানীর শরিরের তাপমাত্রা 105-107 ডিগ্রি ফারেনহাইট হয়ে থাকে।
2)অধিক মাংসপেশী যুক্তস্থান কাধ,পিছনের পা বা কোমড়ের অংশ আক্রান্ত হয়।
3)আক্রান্ত স্থান গরম ও বেদনাদায়ক হয় এবং পশু খুঁড়িয়ে হাটে।
4)আক্রান্ত মাংসপেশী ফুলে যায় এবং ফোলা অংশ চাপ দিলে বিশেষ ধরনের শব্দ হয়।
5)আক্রান্ত স্থান কালচে বর্ন ধারণ করে এবং ফোলা স্থান কাটলে টক গন্ধযুক্ত বাতাস ও ফেনাযুক্ত রস বের হয়।
6)শেষের দিকে তাপমাত্রা কমে যায় এবং পশু মারা যায়।

প্রতিরোধ:
1)নিয়মিত টিকা প্রদান করতে হবে।
2)পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ও জীবানুক্ত শুষ্ক পরিবেশে পশু পালন করতে হবে।
চিকিৎসা:
1)Inj.Pronapen vet.
10 ml For 100 kg body weight.
2)Inj.Astavet 5-10 ml
3)Inj.Kop vet
3ml For 100 Kg body weight.★★★

গরুর বাদলা রোগ ও চিকিৎসা ।
গবাদী পশুর মারাত্বক রোগ গুলোর মধ্যে বাদলা বা ব্লাক কোয়াটার (ইষধপশ য়ঁধৎঃবৎ) একটি অন্যতম। এই রোগে পশু মৃত্যুর হার অনেক বেশি। পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এই মৃত্যুর হার ১০০ ভাগই। বাংলাদেশের অনেক গরুই এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

এটি একটি ব্যকটেরিয়াজনিত মারাত্বক সংক্রামক রোগ। প্রতিবছর এই রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেক পশুই মারা যায়, নেক টাকা ক্ষতি হয় খামারীদের, তথাপি দেশের।

তাই এই বাদলা রোগ সম্পর্কে জেনে তার নিয়ন্ত্রন করা একান্তই প্রয়োজন।

কারণতত্বঃ

ঘাতক এই রোগটির জন্য দায়ী ক্লোস্টোডিয়াম নামক ব্যকটেরিয়া।

এটা গ্রাম পজিটিভ, অবায়ুরোধী, স্পোর সৃষ্টিকারী দন্ডাকৃতির ব্যাকটেরিয়া। এই জীবাণু সহজেই সংক্রামিত হতে পারে।

 এপিডেমিওলজিঃ

মারাত্বক সংক্রামক রোগ যা প্রায় সারা বিশ্বেই ছড়িয়ে আছে। তবে কিছু কিছু দেশে তাদের উন্নত ব্যবস্থাপনা ও খাদ্যাভাসের কারনে কম।
বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশে এই রোগের প্রকোপ বেশি।

বিশেষত বর্ষাকালে পানি শুকিয়ে যাওয়ার পর পরই এর প্রভাব বেশী লক্ষ্য করা যায়।
এটি এমন রোগ যা সাধারণত হৃস্টপুস্ট পশুতেই বেশি হয়ে থাকে।

যাদের বয়স ৬ মাস হতে ১/২ বছরের মধ্যে। এই সময় গরুর মাংশ পেশি অনেক ভাল থাকে ।

যার ফলে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করলেই খুব দ্রুত বংশবিস্তার করে রোগের পরিণাম ঘটিয়ে থাকে।

ছাগল ও ভেড়ার ক্ষেত্রে এই রোগ যে কোন বয়সে হতে পারে। তবে এর সংখ্যা তুলনামুলক খুবই কম থাকে।

চিকন পশুর চেয়ে মোটা পশুতেই এর প্রকোপ বেশি লক্ষ্যনীয়। গবাদী পশুর ক্ষেত্রে ১০ বছর পর এই রোগের সম্ভাবনা খুবই কম থাকে।

বাদলে রোগ যেসব ফ্যাক্টর এর উপর নির্ভর করে তা হলোঃ

বয়সঃ বাদলা রোগের ক্ষেত্রে বয়সের হিসাব নিকাশ খুবই বেশি।

সাধারণত এই রোগে গরুর ক্ষেত্রে ৩ মাস হতে ২ বছরেই বেশি হয়।
খাদ্যঃ বেশি পুষ্টি সম্পন্ন পশুর ক্ষেত্রে এই রোগ বেশি হয় ।

যে সমস্ত প্রানী আক্রান্ত হয়ঃ বাদলা বা ব্লাক কোয়াটার সাধারনত গরু, ছাগল, ভেড়া মহিষ সহ অন্যান্য প্রাণীতেও হয়ে থাকে।
যেভাবে রোগের বিস্তার ঘটেঃ
* দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে।
* ছাগল ও ভেড়ার ক্ষেত্রে এই রোগের জীবাণু বিভিন্ন ধরণের ক্ষতের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশকরে,

যেমন শিংকাটার সময়,
খাসীকরার সময়,

বাচ্চা প্রসবের
সময় এবং আনান্য অপারেশনের সময়
বা অপারেশনের পরে।
* স্পোরযুক্ত ঘাস বা অনান্য লতাপাতা গ্রহণের ফলে।
রোগতত্ত্বঃ( প্যাথোজেনেসিসি )

স্পোর অবস্থায় এই রোগের জীবাণু দেহে প্রবেশ করে।

অন্ত্রের অবায়বিয় স্থানে স্পোর ভেজিটেটিভ জীবাণুতে রুপান্তরিত হয়।

পরে পচনশীল পদার্থের সাথে যুক্ত হয়ে এই জীবাণু রক্তে প্রবেশ করে।

আর বৈশিষ্টগত কারণেই এই ব্যকটেরিয়া পুরু মাংশপেশীর প্রতি আসক্ত। তাই প্রধানত গ্লুটিয়াল, ঘাড়ের পেশীতে অবস্থান গ্রহণ করে।

পরে সারকোল্যাকটিক এস্যিড বৃদ্ধির ফলে জীবানুর বংশ বৃদ্ধির হার বেড়ে যায় অনেকাংশে।
এই জীবাণুর দ্বারা সৃষ্ট বিষ বা টকসিন আক্রান্ত পেশির মৃত্যু ঘটায়।
এতে পেশীর কোয়াগুলেশনসহ সিরোহেমোরেজিক প্রদাহ সৃষ্টি হয়।

ফলে গ্লুকোজ ফার্মান্টেড হয়ে এসিড ও গ্যাস উৎপন্ন হয়।
লক্ষনঃ

বাদলা রোগের লক্ষণ কয়েকটি অংশে ভাগ করা যায়।
যথা
১। অতি তীব্র প্রকৃতির ক্ষেত্রে-
* রোগের লক্ষণ প্রকাশের কয়েক ঘন্টার মধ্যে পশু মারা যায়। এমনকি
১-২ ঘন্টার মধ্যে পশু কোন লক্ষণ প্রকাশ না করেই মারা যায়।
২। তীব্র প্রকৃতির ক্ষেত্রে-
* প্রথমত পশুর শরীরের তাপমাত্রা
১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে।
* পশুর আক্রান্ত পায়ের ফলে সে খোঁড়াতে থাকে এবং মারাত্বক ভাবে বিষন্নত দেখায়।
* আক্রান্ত স্থান ফুলে উঠে, মাংশপেশীতে গরম অনুভুতি হয়।
* ফুলে উঠা যায়গায় হাত দিয়ে চাপ দিলে পুরপুর শব্দ করে। প্রথমে অল্প জায়গা ফুলে উঠে কিন্তু সময়ের সাথে সাথে খুব দ্রুত তা ছড়িয়ে যেতে থাকে।কিছু সময় চামড়ার উপর ঠান্ডা অনুভুত হয় রক্ত চলাচল বন্ধ থাকার জন্য।
* আক্রান্ত স্থানে ফুটা করলে প্রচন্ড দুর্ঘন্ধযুক্ত কালো রক্ত দেখা যায়
* শরীরের যে কোন অংশের মাংশপেশিতে আক্রান্ত হতে পারে, তবে ঘাড় ও চোয়ালের পেশীতে বেশি দেখা যায়।
* অনেক সময় দেখা যায় আক্রান্ত জায়গার পেশীতে ক্ষতের সৃষ্টি হয় এবং সেখান হতে কালো রঙের রক্ত ঝরতে থাকে।
* বাদলা রোগের জীবাণু চামড়ার নিচে গ্যাস উৎপন্ন করে থাকে।
* গলার নিকট ফুলো অধিক হলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।
* পেটে গ্যাস জমা হয় এবং মাজেল শুকিয়ে যেতে থাকে।
* পশুর খাওয়া দাওয়া ও জাবর কাটতে বেশ সমস্যা হয়।
রোগ নির্নয়ঃ

বাদলা রোগ নির্ণয় করা সহজ হয় যদি এর ইতিহাস নেয়া যায় ।যেমন
* পশুর বয়স যদি ৬ মাস হতে ২ বছর হয় তাহলে বাদলা হওয়ারই সম্ভাবনা বেশি থাকে।
* বৈশিষ্টপুর্ণ উপসর্গ যেমন জ্বর, খোঁড়ানো, এবং আক্রান্ত মাংশপেশি টিপলে পুর পুর শব্দ হয়।
* পশুকে বাদলা টিকা দেয়া না থাকলে এবং পশু পুষ্টিমান ও স্বাস্থ্যবান হলে। ইত্যাদি দেখে অনেকটাই বাদলার ব্যাপারে নিন্ডিু হওয়া যায়।
মৃত পশুর ময়না তদন্তের প্রাপ্ত ফলাফল দেখে-

আক্রান্ত পেশীর টিপলে পুরপুর শব্দ হয়, ক্ষতের পাশে কোন লিম্ফনোড থাকলে তা ফুলে
যায়, দেহের স্বাভবিক ছিদ্র পথ দিয়ে রক্ত নির্গত হয়।

গবেষণাগারে প্রাপ্ত ফলাফলঃ

ক্ষত্যস্থান হতে ফ্লুইড নিয়ে স্মিয়ার করে গ্রামস স্টেইনিং করলে পজিটিভ দন্ডাকৃতির ব্যকটেরিয়া দেখা যাবে।
চিকিৎসাঃ

রোগের লক্ষণ প্রকাশের সাথে সাথে চিকিৎসা নিতে হয় না হলে পরে প্রানীকে বাচানো যায় না।
বিলম্ব না করে উপসর্গ দেখা দেয়া মাত্রই চিকিৎসা নেয়া প্রয়োজন।

অ্যান্টিব্লাকলেগ সিরাম আক্রান্ত পশুর সিয়ার ১০০-২০০ মিলিলিটার ইনজেকশন দিতে হবে।

অ্যান্টিসিয়াম পাওয়া না গেলে অ্যান্টিবায়েটিক দিয়ে চিকিৎসা করা যায়।
এক্ষেত্রে
১। পেনিসিলিন গ্রুপের ওষুধ বেশ ভাল কাজ করে থাকে। প্রতি কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ১০,০০০ ইউনিট হিসেবে পেনিসিলিন ইনজেকশন দিতে হবে।

প্রথমে ক্রিস্টালাইন পেনিসিলিন শিরায় ইনজেকশন দিয়ে পরবর্তি মাত্রায় প্রোকেইন অর্ধেক মাত্রায় আক্রান্ত পেশীতে এবং বাকি অর্ধেক মাংশপেশীতে
দিনে দুই বার করে ৫-৭ দিন দিলে ভাল ফল পাওয়া যায়।
এই রোগের চিকিৎসায় ক্রিস্টাপেন, প্রণাপেন, এক্সিসেন্টিন, ট্রিব্রিশেন ও টেরামাইসিন যথাক্রমে ৮৭.৫, ৮৫.৫, ৪০.৩৩,৮০.০ এবং ৭১.৪৩ কার্যকর
হয়েছে।
২. তাছাড়াও অক্সিটেট্রাসাইক্লিন দিয়েও চিকিৎসা করা যায় ৫-৮ মিলিগ্রাম প্রতি কেজিতে মাংশে ২৪ ঘন্টা পরপর ৪-৫ দিন দিতে হবে।
৩। পশু খুব দুর্বল হলে ৫%,অথবা ১০% বা ২৫% ডেক্সট্রোজ/গ্লুকোজ দিলে যকৃতে গ্লাইকোজেনের পরিমাণ ঠিক রাখতে সাহায্য করে যা বিষক্রিয়া খুব সহজেই দূর করা সম্ভব।
৪। হিস্টামিনের প্রভাব কমানোর জন্য এন্টিহিস্টামিন দেয়া যেতে পারে।
৫। আক্রান্ত পেশী কেটে মৃত টিস্যু কেটে ফেলে দিয়ে তাতে জীবাণু মুক্ত দ্রবণ দিয়ে পরিস্কার করতে হবে। যেমন ০.০১%
পটাশিয়াম পারমাঙ্গানেট দ্রবণ
অথবা হাইড্রোজেন পারক্সাইড
দ্বারা দিনে দুইবার ধোয়া।
৬। ৮% নেগুবন সাথে সমপরিমাণ নারিকেল তেল এবং ৫০ গ্রাম সালফানিলামাইড পাউডার মিশিয়ে প্রত্যহ দুই বার করে ভাল
না হওয়ায় আগ পর্যন্ত ব্যবহার করলে
বেশ ভাল উপকার পাওয়া যায়।
নিয়ন্ত্রন ও প্রতিরোধ
ব্যবস্থাপনাঃ
আক্রান্ত পশুকে আলাদা করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে প্রানীর খাবার পাত্র ও খাবারউপাদান ঠিকমত পরিস্কার ও দেখে শুনে খাওয়াত হবে। ময়লা স্থানের ঘাস না খাওয়ানো ভাল।
প্রতিবছর নিয়মিত ভাবে প্রানীকে ঠিকা দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
গরুর ক্ষেত্রে তিন মাসের বেশি বয়সের বাচ্চাকে ৫ মিলি বাদলা ভ্যকসিন চামড়ার নিচে দিতে হবে ছয় মাস পরপর।

ছাগল ভেড়ার ক্ষেত্রে- ২ মিলি চামড়ার নিচে ৬ মাস পরপর(প্রথম ডোজ দেয়ার ৪ সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ দিলে তার কার্যকারিতা এক বছর পর্যন্ত
স্থায়ী হয়।

সদা পরিস্কার পরিছন্ন রাখার ব্যবস্থা রাখতে হবে খামারের ভিতরে এবং বাইরে।
এই গুলো সঠিক ভাবে খেয়াল করলে বাদলার প্রভাব থেকে অনেকাংশেই মুক্ত থেকে দেশের প্রাণী সম্পদের উন্নতি সম্ভব হবে।

কালেক্টেড

পাঠ ২

গরুর বাদলা রোগ”

খুব কঠিন এবং ভয়াবহ একটা রোগ,

রোগের অন্য নাম : ব্লাক কোয়াটার , ব্লাক লেগ

রোগের কারণ :

ক্লস্ট্রিডিয়াম শোভিয়াই নামক ব্যাকটিরিয়া জীবাণু এ রোগের প্রধান কারণ৷

রোগের বিস্তার :

মৃত পশুকে খোলামাঠে ফেলে দিলে মৃত দেহের জীবাণুর স্পোর মাটি ও ঘাসকে দূষিত করে যা পানি ও খাদ্যের মাধ্যমে গরুর দেহে সংক্রমিত হয়৷

কোন বয়সে হয় : বিভিন্ন বয়সের গরুর এ রোগ হওয়ার তথ্য থাকলেও প্রধানত ৬ মাস বয়স থেকে ২ বছর বয়সের গরু অধিক আক্রান্ত হয়৷

ঋতুকালীন প্রাদুভাব :

সকল ঋতুতে এ রোগ হলে ও বাংলাদেশে বৃষ্টি বা বাদল মৌসুমে গরুর এ রোগ অধিক হয়৷

রোগের সংবেদনশীলতা কখন বৃদ্ধি পায় : বাছুরকে অধিক প্রোটিনযুক্ত খাদ্য খাওয়ালে রোগের সংবেদনশীলতা দ্রুত বৃদ্ধি পায়৷
এক ধরনের গ্রাম পজিটিভ ব্যাকটেরিয়া দ্বারা বাদলা রোগ হয়।
রোগের বর্ণনাঃ এ রোগে আক্রান্ত হলে পশুর মাংস পেশীতে প্রদাহ হয়, গ্যাস প্রদাহ হয়, গ্যাসপূর্ণ স্ফীতি ঘটে এবং রক্তে বিষক্রিয়া দেখা দেয়। সাধারণতঃ ৬ মাস-২ বছর বয়সী হৃষ্টপুষ্ট বাছুর এ রোগে আক্রান্ত হলেও কখনও কখনও ১ মাস বয়স থেকেও এই রোগ দ্বারা পশু আক্রান্ত হতে দেখা যায়। নীচু ও জলাভূমি যুক্ত স্যাঁত স্যাঁতে স্থানে এ রোগের প্রকোপ বেশী দেখা যায়।

এই রোগের প্রচলিত নামঃ কালো রোগ, বাদলা, জহরবাত, সুজওরা, কৃষ্ণাংগ রোগ।

রোগের লক্ষণঃ
অতি তীব্র রোগের ক্ষেত্রে কোনরূপ লক্ষণ প্রকাশের পূর্বেই আক্রান্ত পশু মারা যায়।
প্রাথমিক অবস্থায় পশু নিস্তেজ হয়ে পড়ে, ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়, কোষ্ঠ-কাঠিন্যের ফলে পেট ফেঁপে যায়, অত্যধিক জ্বর (১০৫ ডিঃ ফাঃ-১০৭ ডিঃ ফাঃ) হয় এবং হৃদস্পন্দন বেড়ে যায় (প্রতি মিনিটে ১০০ বার এর বেশী।

সাধারণতঃ শরীরের অধিক মাংসপেশী যুক্ত স্থানে যেমনঃ পশুর কাঁধ, পিছনের পা, কোমড়ের অংশ এ রোগ দ্বারা অধিক আক্রান্ত হয়। আক্রান্ত স্থান ফুলে যায়, ফোলা বাড়তে থাকে, আক্রান্ত স্থান গরম ও বেদনাদায়ক হয়।
ফোলা অংশে পঁচন শুরু হয় এবং চাপ দিলে পচ পচ শব্দ হয়। ফোলা স্থান অবশ হয়ে যায় এবং চাপ দিলে ব্যথা অনুভূত হয় না এবং অপেক্ষাকৃত কালো দেখায়।
খাওয়া ও জাবর কাটা বন্ধ হয়ে যায়।
ফোলা স্থান কাটলে টক গন্ধযুক্ত বাতাস ও ফেনাযুক্ত রস বের হয়।
ফোলা বাড়ার সাথে সাথে রোগ বাড়তে থাকে এবং এ রোগ ১-৪ দিন স্থায়ী হয়।
আক্রান্ত পশুর কোষ্ঠ কাঠিন্যের ফলে পেট ফাঁপা থাকে ও শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।

প্রতিরোধঃ

৬ মাস থেকে ২ বছর বয়সী বাছুরকে প্রাণিসম্পদ অফিসের মাধ্যমে টিকা প্রদান করতে হবে।
আক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথে চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে হবে।
পশুর আবাসস্থল শুকনা ও পরিচ্ছন্ন হতে হবে।
মৃত পশুর দেহ মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে অথবা পুড়িয়ে ফেলতে হবে।

চিকিৎসাঃ
ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শে নিন্মলিখিত ব্যবস্থাদি গ্রহণ করা যেতে পারেঃ-

Penicillin Injection অথবা
Ampicillin Injection
Antihistaminic Injection.
রোগের উপসগ প্রকাশ পাবার সাথে সাথে এ রোগের চিকিত্‌সা না হলে পরে ঔষধে কাজ করবে না৷ সুতরাং বিলম্ব না করে উপসগ দেখা দেয়া মাত্র চিকিত্‌সা করতে হবে৷
অ্যান্টিব্লাকলেগ সিরাম প্রতিটি আক্রান্ত পশুর শিরা বা ত্বকের নিচে ১০০-২০০ মিলিলিটার ইনজেকশন দিতে হবে (যদি পাওয়া যায়)
যদি অ᐀ান্টিসিরাম না পাওয়া যায় তখন অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিত্‌সা দিতে হবে -ক্রিস্টালাইন পেনিসিলিন ৪০ লাখ শিরায় ইনজেকশন দিয়ে পরবতী তে প্রোকেইন পেনিসিলিন যেমন: প্রোনাপেন বা পোনাসিলিন ইনজেশন প্রতিদিন ২০ লক্ষ আক্রান্ত মাংসপেশীতে এবং ২০ লক্ষ সাধারণ মাংসপেশীতে দুইবার করে ৫ দিন দিতে হবে৷
অ্যান্টিহিসটামিনিক জাতীয় ইনজেকশন যেমনঃ হিস্টাভেট, ডিলারজেন, ফ্লুগান ইত্যাদি দৈনিক ৬ সিঃসিঃ করে ৩ দিন মাংসে ইনজেকশন দিতে হবে৷
প্রয়োজনে আক্রান্ত ক্ষতস্থান অস্ত্রপোচারে মাধ্যমে পরিষ্কার করে টিংচার আয়োডিন গজ প্রয়োগ করতে হবে৷

বাদলা টিকা

BLACK QUARTER (BQ) VACCINE

বাদলা একটি তীব্র প্রকৃতির মারাত্মক সংক্রামক রোগ। কম বয়সে অর্থাৎ ৬ থেকে ৩০ মাস বয়সের স্বাস্থ্যবান গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়াতে এ রোগ বেশি দেখা যায়। Clostridium Chauvoei নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা এ রোগ হয়ে থাকে। আমাদের দেশে বর্ষা মৌসুমে এ রোগ বেশি দেখা যায় বলে একে বাদলা রোগ বলে। এ রোগে মৃত্যুর হার খুবই বেশি। পশুর উড়ু, ঘাড়, কাঁধ ও কোমরের আক্রান্ত স্থান জ্বরসহ ফুলে উঠে। ঐ সব স্থানে চাপ দিলে পচ্ পচ্ শব্দ হয়।
মাষ্টার সীড : লোকাল ষ্ট্রেইন।

অরিজিন :যদি নিকট তোম প্রাণিসম্পদ কেন্দ্রী না পাওয়া যায় তাহলে প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান, মহাখালী, ঢাকাতে সব সময় পাওয়া যায়,

ব্যবহার বিধিঃ

মাত্রা :

গরু ও মহিষে ৫ এম.এল মাত্রায় এবং ছাগল ও ভেড়ায় ২ এম.এল মাত্রায় এই টিকা প্রয়োগ করতে হয়।

গলা বা ঘাড়ের ঢিলা চামড়ার নিচে এই টিকা দিতে হয়। ৩ মাস থেকে ৩ বৎসর বয়সী পশুকে বাদলা টিকা দেওয়া হয়।

টিকা প্রদানের আগে বোতল ভালভাবে ঝাঁকিয়ে নিতে হয়।
টিকা প্রদানের ২ থেকে ৩ সপ্তাহের ভিতর পূর্ণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জন্মে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ৬ মাস পর্যন্ত বজায় থাকে তাই ৬ মাস অন্তর এ টিকা দিতে হয়।

১ম মাত্রা প্রয়োগের ৪ সপ্তাহ পর ২য় মাত্রা টিকা দিলে দীর্ঘ মেয়াদে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জন্মায়। সে ক্ষেত্রে ১ বৎসর অন্তর অন্তর টিকা দিতে হয়।

রবরাহ :

প্রতি ভায়ালে গরু/মহিষের জন্য ২০ মাত্রা টিকা এবং ছাগল/ভেড়ার জন্য ৫০ মাত্রা টিকা।
মূল্য : প্রতি ভায়ালঃ ৩০ টাকা।

ফিরোজ আলম

Please follow and like us:

About admin

Check Also

বাছুরের ডায়রিয়ার কারণ

Couses of diarrhea in neonatal rumenants 🔷Bacterial: 🔸Escherichia coli 🔸Salmonella spp. 🔸Campylobacter fecalis 🔸Campylobacter coli …

Translate »
error: Content is protected !!