Breaking News
বাণিজ্যিক ছাগল পালন
বাণিজ্যিক ছাগল পালন

বাণিজ্যিক ছাগল পালন

বাণিজ্যিকভাবে ছাগল পালন

বাণিজ্যিক ভাবে ছাগল-পালন করার সময় বিষয়গুলো মেনে চলুন ।

খামার এলাকার বেড়া বা নিরাপত্তা বেস্টনীগুলো এমনভাবে নির্মান করুন যাতে সেখানে অনাকাংখিত ব্যক্তি, শেয়াল-কুকুর ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী প্রবেশ করতে না পারে ।

প্রবেশপথে ফুটবাথ বা পা ধোয়ার জন্য ছোট চৌবাচ্চায় জীবাণুনাশক মেশানো পানি রাখতে হবে ।

খামারে প্রবেশের আগে খামারে গমনকারী তার জুতা/পা ডুবিয়ে জীবাণুমুক্ত করবেন।
খামারের জন্য সংগৃহীত নতুন ছাগল সরাসরি খামারে পূর্বে বিদ্যমান ছাগলের সাথে রাখা যাবে না ।

নতুন আনীত ছাগলদেরকে স্বতন্ত্র ঘরে সাময়িকভাবে পালনের ব্যবস্থা করতে হবে । এ ধরনের ঘরকে পৃথকীকরণ ঘর বা আইসোলেশন সেড বলে ।

অন্ততপক্ষে ১২-১৪দিন এই সেডে রাখা বিশেষ জরুরি । এসব ছাগলের জন্য প্রাথমিক কিছু চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে হবে । প্রথমে এদেরকে কৃমিনাশক খাওয়াতে হবে ।

এজন্য বহিঃপরজীবী এবং আন্তঃ পরজীবীর জন্য কার্যকর কৃমিনাশক প্রয়োগ করতে হবে । চর্মরোগ প্রতিরোধের জন্য প্রতিটি ছাগলকে (০.৫%) শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ ম্যালাথিয়ন দ্রবণে গোসল করাতে হবে ।

আইসোলেশন শেডে ছাগল রাখার পর ১৪ দিনের মধ্যে যদি কোনো রোগ না দেখা দেয় তাহলে প্রথমে পিপিআর রোগের ভ্যাকসিন এবং সাত দিন পর গোটপক্সের ভ্যাকসিন প্রয়োগ করতে হবে ।

শেষ টিকা প্রদানের সাত দিন পর এসব ছাগলকে মূল খামারে নেয়া যেতে পারে । প্রতিদিন সকাল এবং বিকালে ছাগলের ঘর বা সেড পরিষ্কার করতে হবে ।

কোনো ছাগল যদি অসুস্থ হয় তাহলে তাকে আলাদা করে আইসোলেশন শেডে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে ।

যদি কোনো ছাগল মারা যায় তবে অবশ্যই তার কারণ সনাক্ত করতে হবে ।

ল্যাবরেটরিতে রোগ নির্ণয়ের পর তদনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বিশেষ করে অন্যান্য ছাগলের অন্য নিতে হবে ।

মৃত ছাগলকে খামার থেকে দূরে নিয়ে মাটির গভীরে পুতে বা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলতে হবে ।

রোগাক্রান্ত ছাগলের ব্যবহার্য সকল সরঞ্জামাদি ও দ্রব্যাদি সঠিকভাবে জীবাণুমুক্ত করতে হবে ।

ছাগলের ঘর, সেড বা বাসগৃহঃ
ছাগলের ঘর শুষ্ক, উচুঁ, পানি জমেনা এমন স্থানে স্থাপন করতে হবে ।

পূর্ব পশ্চিমে লম্বালম্বি, দক্ষিণ দিক খোলা এমন হলে ভাল হয় । এক্ষেত্রে কাঠাঁল, ইপিল ইপিল, কাসাভা ইত্যাদি গাছ লাগানো যেতে পারে ।

এছাড়া পানি নিষ্কাশনের জন্য উত্তম ব্যবস্থা আছে এমন স্থানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে । ছাগল ঠাসাঠাসি অবস্থায় বাস করতে পছন্দ করে না । এরা মুক্ত আলো বাতাস এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন স্থানে থাকতে পছন্দ করে ।

এক জোড়া ছাগলের জন্য ৫-৬ ফুট লম্বা, ১.৫-২ ফুট চওড়া এবং ৬-৭ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট খোয়াঁড় প্রয়োজন ।

প্রতিটি পূর্ণ বয়স্ক ছাগলের জন্য গড়ে ১২-১৪ বর্গ ফুট এবং বাড়ন্ত বাচ্চার জন্য ৪-৮ বর্ঘ ফুট জায়গা প্রয়োজন ।

ছাগলের ঘর ছন, গোলপাতা, খড়, টিন বা ইট নির্মিত হতে পারে । তবে ঘরের ভিতর কাঠের মাচা প্রস্তুত করে তার উপর ছাগল রাখা উচিত । মাচার উচ্চতা মাটি থেকে ১ মিটার বা (৩.৩৩ ফুট) এবং মাচা থেকে ছাদের উচ্চতা ৮-১০ ফুট হবে ।

মল-মূত্র নিষ্কাষনের গোবর ও চনা সুবিধার্থে কাঠের মাঝে ১সেঃ মিঃ ফাক লাখতে হবে ।

মল-মুএ গুলো যেন মাচা থেকে পড়ার সাথে সাথে ড্রেনে চলে যায় সেভাবে সেড তৈরী করতে হবে । বৃষ্টি যেন সরাসরি ঘরের ভিতর প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য ছাগলের ঘরের চালা (৩-৩.৫ ফুট) ঝুলিয়ে দিতে হবে ।

শীতকাল ছাড়াও সেডের চারপাশে তৃপাল বা পর্দার ব্যবস্থা রাখতে হবে ।

পাঠাঁর জন্য অনুরূপভাবে পর্যাপ্ত আলো বাতাস ও মল-মূত্র নিষ্কাষনের উত্তম সুবিধাযুক্ত পৃথক খোয়াড় তৈরি করতে হবে ।

শীতকালে মাচার উপর ১.৫ ইঞ্চি পুরু খড় বিছিয়ে তার উপর ছাগল রাখতে হবে । প্রতিদিন ভালোভাবে পরিষ্কার করে রৌদ্রে শুকিয়ে পুনরায় বিছাতে হবে ।

ছাগলের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনাঃ
একথা মনে রাখা প্রয়োজন যে মুক্তভাবে ছাগল প্রতিপালনের তুলনায় আবদ্ধ অবস্থায় ছাগল পালন অনেক বেশি ঝুকিপূর্ণ ।

এ ব্যবস্থায় বৈজ্ঞানিক চিন্তা-ভাবনা ও প্রযুক্তির সমন্নয় না ঘটালে খামারীকে বিস্তর সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় । এটা একটি বাস্তব উপলদ্ধি । এজন্য ছাগলের সুখ-সাচ্ছন্দ্য ও স্বাস্থ্যর প্রতি খামারীকে স্বতন্ত্র ভাবে দৃষ্টি দিতে হবে ।

ছাগলের খামারে রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটলে মারাত্মক ক্ষতি হয়ে থাকে ।

তাই বিভিন্ন রোগ দমনের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া অত্যন্ত জরুরি । তা না হলে খামার থেকে লাভের আশা করা যাবে না ।

খামারে ছাগল-আনার পর থেকে প্রতিদিনই প্রতিটা ছাগলের স্বাস্থ্যের দিকে থেয়ল করতে হবে । প্রথম পাঁচ দিন সকাল ও বিকালে দুবার থার্মোমিটার দিয়ে ছাগলের দেহের তাপমাত্রা পরীক্ষা করতে হবে ।

হঠাৎ কোনো রোগ দেখা মাত্রই পশু চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে ।

তীব্র শীতের সময় ছাগী বা বাচ্চাদের গায়ে চট পেঁচিয়ে দেয়া যেতে পারে । মাচার নিচ এবং ঘর প্রতিদিন সকালে পরিষ্কার করতে হবে এবং কর্মসূচি অনুযায়ী জীবাণুনাশের ব্যবস্থা নিতে হবে ।

সুস্থ ছাগলের বৈশিষ্ট্যঃ
সুস্থ ছাগলের নাড়ীর স্পন্দন প্রতি মিনিটে ৭০-৯০ বার, শ্বাস-প্রশ্বাস প্রতি মিনিটে ২৫-৪০ বার এবং তাপমাত্রা ৩৯.৫ সেঃ হওয়া উচিত ।

সুস্থ ছাগল দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করে, মাথা সবসময় উঁচু থাকে, নাসারন্ধ থাকবে পরিষ্কার, চামড়া নরম, পশম মসৃন ও চকচকে দেখাবে এবং পায়ু অঞ্চল থাকবে পরিচ্ছন্ন ।

ছাগল সুস্থ রাখতে যেসব ব্যবস্থাদি গ্রহণ করা আবশ্যক সেগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ

কর্মসূচি অনুযায়ী টিকা প্রদানঃ
ভাইরাসজনিত রোগ যেমন পিপিআর, গোটপক্স, ক্ষুরারোগ ইত্যাদি এবং ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ

যেমন এনথ্রাক্স, ব্রুসেলোসিস ইত্যাদি খুবই মারাত্মক বলে এগুলোর বিরুদ্ধে যথারীতি টিকা প্রদান করতে হবে ।

যেসব ছাগীকে পূর্বে পিপিআর, গোটপক্স, একথাইমা, ব্রুসেলোসিস ইত্যাদি টিকা দেয়া হয়নি তাদেরকে গর্ভের ৫ম মাসে উক্ত ভ্যাকসিনগুলি দিতে হবে ।

বাচ্চার বয়স যখন ৫ মাস তখন তাকে পিপিআর ভ্যাকসিন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন দিতে হবে ।

ছাগলের টিকা প্রদান কর্মসূচিঃ
পিপিআর ১ মিঃ চামড়ার নীচে ইন্জেকশন
ক্ষুরা রোগ ১ মিঃ চামড়ার নীচে ইন্জেকশন
এ্যানথ্র্যাক্স ১ মিঃ চামড়ার নীচে ইন্জেকশন
কৃমিনাশক ঔষধ প্রয়োগঃ
সকল ছাগলকে নির্ধারিত মাত্রায় বছরে তিনবার কৃমিনাশক ঔষধ প্রদান করতে হবে ।

কৃমিনাশক কর্মসূচি অনুসরণের জন্য পশু চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে ।
ব্ল্যাক বেঙ্গল বা বেঙ্গল ছাগলের কিছু তথ্য 
ব্ল্যাক বেঙ্গল বা বেঙ্গল ছাগলের কিছু বৈশিষ্ট্যঃ
ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের বক্ষস্থল চওড়া, কান কিছুটা উপরের দিকে ও শিং ছোট থেকে মাঝারী আকৃতির হয়ে থাকে ।

দেহের গড়ন আটসাট পা অপেক্ষাকৃত খাটো ও এবং লোম মসৃন হয়।

ব্ল্যাক বেঙ্গল বা বেঙ্গল পালনের সুবিধাঃ
সাধারণতঃ ১২-১৫ মাস বয়সে প্রথম বাচ্চা দেয় ।

একটি ছাগী বছরে দুইবার বাচ্চা প্রসব করলেও উপযুক্ত ব্যবস্থাপনায় ছাগী ২-৮ টি পর্যন্ত বাচ্চা পাওয়া যেতে পারে ।

২০ কেজি দৈহিক ওজন সম্পন্ন একটি ছাসী থেকে কমপক্ষে ১১ কেজি খাওয়ার যোগ্য মাংস এবং ১.-১.৪ কেজি ওজনের অতি উন্নতমানের চামড়া পাওয়া যায়।

ব্ল্যাক বেঙ্গল বা বেঙ্গল ছাগলের চামড়া একটি অতি মূল্যবান উপজাত ।

পাঠাঁর ক্ষেত্রেঃ
* পাঠাঁর বয়স ১২ মাসের মধ্যে হতে হবে, অন্ডকোষের আকার বড় এবং সুগঠিত হতে হবে ।
* পিছনের পা সুঠাম ও শক্তিশালী হতে হবে ।
* পাঠাঁর মা, দাদী বা নানীর বিস্তারিত তথ্যাদি (অর্থাৎ তারা বছরে ২ বার বাচ্চা দিত কীনা, প্রতিবারে একটির বেশি বাচ্চা হতো কীনা, দুধ উৎপাদনের পরিমাণ ইত্যাদি গুণাবলী) সন্তোষজনক বিবেচিত হলেই ক্রয়ের ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে ।

ছাগীর ক্ষেত্রেঃ
* নির্বাচিত ছাগী হবে অধিক উৎপাদনশীল বংশের ও আকারে বড় ।
* নয় বা বার মাস বয়সের ছাগী (গর্ভবতী হলেও কোনো সমস্যা নেই) কিনতে হবে ।
* ছাগীর পেট তুলনামূলকভাবে বড়, পাজরের হাড়, চওড়া, প্রসারিত ও দুই হাড়ের মাঝখানে কমপক্ষে এক আঙ্গুল ফাঁকা জায়গা থাকতে হবে ।
* নির্বাচিত ছাগীর ওলান সুগঠিত ও বাঁট সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে ।

বয়স নির্ণয়ঃ
ছাগলের দাঁত দেখে বয়স নির্ধারণ করতে হয় । বয়স ১২ মাসের নিচে হলে দুধের সবগুলোর দাঁত থাকবে, ১২-১৫ মাসের নিচে বয়স হলে স্থায়ী দাঁত এবং ৩৭ মাসের ঊর্ধ্বে বয়স হলে ৪ জোড়া স্থায়ী দাঁত থাকবে ।

স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিষয়াদিঃ
গ্রহণযোগ্য ছাগল অবশ্যই সকল ধরনের সংক্রামক ব্যাধি, চর্মরোগ, চক্ষুরোগ, যৌনরোগ ও বংশগত রোগমুক্ত হতে হবে ।

পিপিআর খুবই মারাত্মক রোগ বিধায় কোনো এলাকা থেকে ছাগল সংগ্রহ করার আগে উক্ত এলাকায় পিপিআর রোগ ছিল কীনা তা জানতে হবে ।

উক্ত এলাকা কমপক্ষে ৪ মাস আগে থেকে পিপিআর মুক্ত থাকলে তবেই সেখান থেকে ছাগল সংগ্রহ করা যেতে পারে ।
মহান আল্লার দরবারে “শিপ এন্ড গট ফার্মিং বাংলাদেশ”সহ আপনাদের সকলের ব্যবসায়িক জীবনের সাফল্য কামনা করে আজকের মত এখানেই শেষ করছি, আল্লাহ হাফেজ ।

Courtesy to Rofaka Agro Plant

ছাগল (Goat):—
‘ ‘গরীবের গাভী’ বলে পরিচিত ছাগল এদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয়ের অন্যতম বাহন।

বাংলাদেশের যে নিজস্ব ছাগলের জাত রয়েছে তা’হল ‘ব্ল্যাক বেংগল’ জাতের ছাগল ।

দ্রুত প্রজননশীলতা উন্নত মাংস ও চামড়ার জন্য ‘ব্ল্যাক বেংগল’ ছাগল পৃথিবীর সেরা ।

বর্তমানে অনেক বেকার যুবক এমনকি যারা বেশি বিনিয়োগ করতে পারবেন তারাও ছাগল পালনের ক্ষেত্রে বেশ আগ্রহী হয়ে উঠেছে ।

ছাগল পালনে শুধু যে প্রোটিনের চাহিদা পুরণ হবে তাই নয়; এতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করাও সম্ভব হবে ।
ছাগল সংগ্রহ:

ছাগল সংগ্রহ করা একটি বড় সমস্যা ।যদিও বাংলাদেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে আমাদের এই বিশ্বখ্যাত ‘ব্ল্যাক বেংগল ‘জাতের ছাগল ।

সরাসরি গ্রাম থেকে সংগ্রহ করতে পারলে অতি উত্তম ।তবে বড় আকারের খামার গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ছাগল সংগ্রহ করা একটি বড় সমস্যা ।

অনেকেই হাট- বাজার থেকে এক সাথে অনেক ছাগল সংগ্রহ করে থাকেন যা মোটেই কাম্য নয় ।

এক সাথে অনেক ছাগল সংগ্রহ করলে যে সমস্যা হয় তা’ অনেকাংশেই মোকাবিলা করতে হিমশিম খেতে হয় ।

বিশেষ করে আমাদের দেশের হাট- বাজার গুলো রোগ জীবাণুর ডিপো হিসেবে কাজ করে; যার ফলশ্রুতিতে হাট-বাজার থেকে সংগ্রহকৃত ছাগল সমূহ অতি সহজেই রোগে আক্রান্ত হয়।বিশেষ করে ‘পি পি আর ‘রোগ ।
এই ‘পি পি আর ‘ রোগ হলো ভাইরাস জনিত ছোঁয়াচে রোগ ।

এই রোগ ছাগলের প্রতি অতি সংবেদনশীল ।মৃত্যুর হার অনেক বেশি ।

এক কথায় বলা যায় এই রোগ খামারে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পরে ।চিকিৎসায় তেমন কোন ভালো ফলাফল পাওয়া যায় না ।

এই রোগের কবল থেকে রক্ষা পেতে হলে ছাগলকে অবশ্যই ‘পি পি আর ‘ রোগের টিকাবীজ প্রয়োগ করতে হবে ।

এই টিকাবীজ একবার প্রয়োগ করলে তিন বছর পর্যন্ত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলবে ।

তবে আমাদের দেশে এই রোগের প্রাদুর্ভাব যেহেতু বেশি তাই বছরে অন্তত একবার টিকাবীজ প্রয়োগ করা দরকার ।

মা-বাবা ছাগলকে ঠিকমতো টিকাবীজ প্রয়োগ করা থাকলে নতুন প্রজন্মের বাচ্চা ছাগলকে তিন মাস বয়সী হলে এই টিকাবীজ প্রয়োগ করতে হবে ।

তাই টিকাবীজ প্রয়োগের ইতিহাস সঠিকভাবে জেনে ছাগল সংগ্রহ করতে পারলে অতি উত্তম ।
যেহেতু আমাদের দেশে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হাট বাজার থেকে ছাগল সংগ্রহ করা হয় সে ক্ষেত্রে ছাগলকে ঠিকমতো টিকাবীজ প্রয়োগ করা হয়েছে কিনা তা জানা খুবই দুষ্কর ।

তাই হাট বাজার থেকে ছাগল সংগ্রহ করা ছাগল খামারের ভেতরে থাকা ছাগলের সংস্পর্শে আসতে দেওয়া কোন ভাবেই কাম্য নয় ।হাট বাজার থেকে সংগ্রহকৃত ছাগল সমূহ কমপক্ষে দুই সপ্তাহ অন্যত্র রেখে পর্যবেক্খণ করতে হবে শারীরিক অবস্থার ।

এই সময় ছাগল অসুস্থ হলে অবশ্যই চিকিৎসা করতে হবে ।চিকিৎসা শেষে ছাগল সম্পূর্ণরূপে সুস্থ হলেই কেবল তাদেরকে খামার প্রবেশ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে ।নচেৎ নয়।

অসুস্থ ছাগল কোন অবস্থাতেই সুস্থ ছাগলের সাথে মিশতে দেয়া যাবে না ।

এমনকি বহিরাগত কোন সুস্থ ছাগলও কমপক্ষে দুই সপ্তাহ পর্যবেক্খণ না করে সুস্থ ছাগলের সংস্পর্শে আসতে দেওয়া কোন ভাবেই কাম্য হবে না ।

তুন ছাগল খামারি:

যারা নতুন ছাগল খামারি তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পরে।

কারণ তারা কোন কিছু না বুঝেই এক সাথে অনেক গুলো ছাগল হাট বাজার থেকে সংগ্রহ করে খামারে তোলে ।এতে করে নতুন ছাগল খামারিকে বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হয় ।

যা মোটেও কাম্য নয় ।এমতাবস্থায় ছাগল ‘পি পি আর’ রোগে আক্রান্ত হলে বেশিরভাগ ছাগল মারা যেতে পারে ।

তাই নতুন ছাগল খামারিকে খামারে নতুন ছাগল তোলার পূর্বে একজন দক্ষ ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ অবশ্যই গ্রহণ করা দরকার ।

তা’নাহলে অনাকাঙিক্ষত বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হবে ।তাই ছাগল পালনের ক্ষেত্রে খামারিকে একটু সজাগ থাকতে হবে।

নতুন ছাগল খামারি ছাগল সংগ্রহ করার পর ছাগলগুলোকে প্রথমতঃ সরবতের পানি পান করাতে হবে।

দ্বিতীয়তঃ নতুন ছাগলগুলোকে যে কোনো ভালো ব্যান্ডের এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন পুশ করাতে হবে।

প্রয়োজনে ছাগলের শরীরের তাপমাত্রা মেপে এনালজেসিক ইনজেকশন পুশ করা যেতে পারে ।

এ ব্যাপারে আগেই একজন দক্ষ ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ গ্রহণ করা যেতে পারে ।

নতুন ছাগল সংগ্রহ করার পর ছাগলগুলোকে অবশ্যই পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হবে ।

তার পেটের অবস্থা, শারীরিক সুস্থতা, শারীরিক তাপমাত্রা, খাদ্য গ্রহণের ইচ্ছা, সরবতের পানি পান করার ইচ্ছা ইত্যাদি ।

নতুন ছাগলকে অনেক ছাগলের মালিক হাটে তোলার আগে পেট ভরে খাইয়ে হাটে নিয়ে আসেন যা কোন ভাবেই কাম্য নয় ।

এতে ছাগলের পেটে সমস্যা দেখা দিতে পারে ।আবার নতুন ছাগল ক্রয় করে নিয়ে আসার পরে বেশি মাত্রায় খেতেও দেওয়া উচিত নয় ।

কারণ এমতাবস্থায় ছাগল বেশি মাত্রায় খুধার্ত থাকলে বেশি মাত্রায় খেয়ে বদহজম রোগে আক্রান্ত হতে পারে ।তাই এ বিষয়ে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে ।

ছাগলের খাবার তালিকা: —–
বাণিজ্যিক ছাগলের দানাদার খাদ্যের সাধারণ মিশ্রণ (%)—–
খাদ্য উপাদান- ———”——————–শতকরা হার(%)
চাল/গম/ভূট্টা ভাংগা ——–”———–35.00
গমের ভূষি/রাইচ পলিশ- ———-””—-24.oo
খেসারী/মাসকলাই/ডালের
ভূষি———-””—————————— 16.oo
সয়াবিন/ তিল/সরিষার খৈল- ———-20.00
শুঁটকি মাছের গুড়ো- ———————-01.50
ডাই-ক্যালসিয়াম ফসফেট- ————–02.00
খাদ্য লবণ- —————-‘——————-02.00
ভিটামিন- মিনারেল প্রি-মিক্স
লুমিভিট ডি বি —————–‘———”’—00.50
————‘-‘—””———————————-‘——‘———
মোট= 100.00
বিঃদ্রঃ– এই ধরনের মিশ্রণে প্রতি কেজিতে 10 মেগাজুল বিপাকীয় শক্তি এবং 62 গ্রাম বিপাকীয় প্রোটিন থাকতে পারে ।

ছাগল পালনে স্টল ফিডিং পদ্ধতি
বাংলাদেশে ছাগল পালনে কোনো পদ্ধতি এখনো সেভাবে পালন করা হয় না।
স্বাভাবিক নিয়মেই প্রতিপালিত হতে থাকে এই গৃহপালিত প্রাণি।
এদেশে সাধারণত ছাগলকে ছেড়ে বা মাঠে বেঁধে খাওয়ানো হয় ঘাস।
বিশেষ যত্ন নিতেও দেখা যায় না বেশির ভাগ ছাগল পালনকারীকে।
একটু সচেতন হলে ছাগল পালনে আরেকটু যত্নশীল হওয়া যায়।স্টল ফিডিং পদ্ধতি
গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত বিজ্ঞানভিত্তিক বাসস্থান, খাদ্য ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা অনুসারে ছাগল পালনের প্যাকেজ প্রযুক্তিকে স্টল ফিডিং পদ্ধতি বলা হয়।ছাগল নির্বাচন
ছাগলের খামার করার উদ্দেশ্যে ৬-১৫ মাস বয়সী স্বাভাবিক ও রোগমুক্ত ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের পাঁঠা বা ছাগী সংগ্রহ করতে হবে। পাঁঠার বয়স ৫-৭ মাস হতে পারে।ঘর নির্মাণ
এ পদ্ধতিতে প্রতিটি বয়স্ক ছাগলের জন্য প্রায় ১০ বর্গফুট ঘর প্রয়োজন।ঘরটি বাঁশ, কাঠ বা ইটের তৈরি হতে পারে। শীতের রাতে ঘরের বেড়া চট দিয়ে ঢেকে দিতে হবে এবং মেঝেতে খড় বিছিয়ে দিতে হবে।

ছাগলকে অভ্যস্ত করা
ছাগলকে সম্পূর্ণ আবদ্ধ অবস্থায় রাখা উচিত নয়।

দিনে ৬-৮ ঘণ্টা চরিয়ে বাকি সময় আবদ্ধ অবস্থায় রেখে পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ করতে হবে।

এভাবে ১-২ সপ্তাহের মধ্যে চরানোর সময় পর্যায়ক্রমে কমিয়ে সম্পূর্ণ আবদ্ধ অবস্থায় রাখতে হবে।

তবে বাচ্চা বয়স থেকে আবদ্ধ অবস্থায় রাখলে এ ধরনের অভ্যস্ততার প্রয়োজন হয় না।

পরিচর্যা
জন্মের পরপরই বাচ্চাকে পরিষ্কার করে শালদুধ খাওয়াতে হবে।

এক মাস পর্যন্ত বাচ্চাকে দিনে ১০-১২ বার দুধ খাওয়াতে হবে। দুধ না পাওয়া গেলে মিল্ক রিপ্লেসার খাওয়াতে হবে। দুধ খাওয়ানোর আগে ফিডার, নিপলসহ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র পানিতে ফুটিয়ে জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে।

এক-দেড় কেজি ওজনের একটি ছানার দৈনিক ২৫০-৩৫০ গ্রাম দুধ প্রয়োজন। ওজন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুধের পরিমাণ বাড়াতে হবে। বাচ্চার বয়স ৬০-৯০ দিন হলে দুধ ছেড়ে দেবে।

বাচ্চার ১ মাস বয়স থেকেই ধীরে ধীরে কাঁচা ঘাস এবং দানাদার খাদ্যে অভ্যস্ত করতে হবে।

ছাগলের খাবার
ছাগল সাধারণত তার ওজনের ৪-৫% হারে খেয়ে থাকে। এরমধ্যে ৬০-৮০% আঁশ জাতীয় খাবার এবং ২০-৪০% দানাদার খাবার দিতে হবে।

দুই বাচ্চা বিশিষ্ট ২৫ কেজি ওজনের ছাগীর দৈনিক প্রায় ১.৫-২.৫ কেজি কাঁচা ঘাস এবং ৩৫০-৪৫০ গ্রাম দানাদার খাদ্য প্রয়োজন হয়।

একটি প্রাপ্তবয়স্ক পাঁঠার দৈনিক ১.৫-২.৫ কেজি কাঁচা ঘাস এবং ২০০-৩০০ গ্রাম দানাদার খাদ্য প্রয়োজন।

ঘাস চাষ
ছাগলের জন্য ইপিল ইপিল, কাঁঠাল পাতা, খেসারি, মাসকলাই, দুর্বা, বাকসা ইত্যাদি দেশি ঘাসগুলো বেশ পুষ্টিকর।

এছাড়া উচ্চফলনশীল নেপিয়ার, স্পেনডিডা, এন্ড্রোপোগন, পিকাটউলুম ইত্যাদি ঘাস চাষ করা যায়।

খড় খাওয়ানো
ঘাস না পেলে খড়কে ১.৫-২.০ ইঞ্চি পরিমাণে কেটে প্রক্রিয়াজাত করে খাওয়ানো যেতে পারে।

এজন্য ১ কেজি খড়ের সাথে ২০০ গ্রাম চিটাগুড়, ৩০ গ্রাম ইউরিয়া ৬০০ গ্রাম পানির সঙ্গে মিশিয়ে ইউএমএস তৈরি করে খাওয়ানো যায়।

এর সঙ্গে অ্যালজি উৎপাদন করে দৈনিক ১-১.৫ লিটার পরিমাণে খাওয়াতে হবে।

একটি ছাগল দৈনিক ১.০-২.০ লিটার পানি খায়। এজন্য পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে হবে।

পাঁঠার ব্যবস্থাপনা
যেসব পাঁঠা বাচ্চা প্রজনন কাজে ব্যবহার করা হবে না তাদের জন্মের ২-৪ সপ্তাহের মধ্যে খাসি করানো উচিত।

পাঁঠাকে যখন প্রজনন কাজে ব্যবহার করা হয় না, তখন তাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে শুধু ঘাস খাওয়ালেই চলে।

তবে প্রজনন কাজে ব্যবহারের সময় ওজনভেদে ঘাসের সঙ্গে ২০০-৫০০ গ্রাম পরিমাণ দানাদার খাবার দিতে হবে।

পাঁঠাকে প্রজননক্ষম রাখার জন্য প্রতিদিন ১০ গ্রাম পরিমাণ গাঁজানো ছোলা দেওয়া উচিত।

পাঁঠাকে কখনোই চর্বিযুক্ত হতে দেওয়া যাবে না।

অন্যান্য ব্যবস্থাপনা
ছাগলকে বছরে দু’বার (বর্ষার শুরু এবং শীতের শুরু) কৃমিনাশক খাওয়াতে হবে।

ছাগলের মারাত্মক রোগ হলে দ্রুত পশুহাসপাতালে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নিতে হবে।

এছাড়া তড়কা, হেমোরেজিক সেপ্টিসেমিয়া, এন্টারোটক্সিমিয়া, বিভিন্ন কারণে পাতলা পায়খানা এবং নিউমোনিয়া হতে পারে।

স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে সুস্থ ছাগলের জন্য একথাইমা রোগের ভ্যাকসিন

জন্মের ১ম ডোজ ৩য় দিন  এবং ২য় ডোজ জন্মের ১৫-২০ দিন পর দিতে হবে।

পিপিআর রোগের ভ্যাকসিন ৪ মাস বয়সে এবং গোট পক্সের ভ্যাকসিন ৫ মাস বয়সে দিতে হবে।

জৈব নিরাপত্তা
খামারের জন্য অবশ্যই রোগমুক্ত ছাগল সংগ্রহ করতে হবে এবং ১৫ দিন খামার থেকে দূরে রেখে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কোনো রোগ দেখা না দিলে ১৫ দিন পর পিপিআর ভ্যাকসিন দিয়ে খামারে রাখা যাবে। অসুস্থ ছাগল পালের অন্য ছাগল থেকে দ্রুত সরিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে।

প্রজনন
ছাগলের ঘর নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। বছরে ৫-৬ বার ০.৫% ম্যালাথায়ন দ্রবণে চুবিয়ে চর্মরোগ মুক্ত রাখতে হবে। ছাগী ১২-১৩ কেজি ওজন (৭-৮ মাস বয়স) হলে তাকে পাল দেওয়া যেতে পারে। ছাগী গরম হওয়ার ১২-১৪ ঘণ্টা পর পাল দিতে হয়। অর্থাৎ সকালে গরম হলে বিকেলে এবং বিকেলে হলে পরদিন সকালে পাল দিতে হবে। পাল দেওয়ার ১৪২-১৫৮ দিনের মধ্যে সাধারণত বাচ্চা দেয়। পাল দেওয়ার জন্য নির্বাচিত পাঁঠা সবসময় নিরোগ, ভালো বংশের হবে। ‘ইনব্রিডিং’ এড়ানোর জন্য ছাগীর বাবা বা দাদা বা ছেলে বা নাতিকে দিয়ে প্রজনন করানো যাবে না।

 

ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালন -( আদর্শ খামার পদ্ধতি )

এদেশে প্রাপ্ত প্রায় ২০ মিলিয়ন ছাগলের প্রায় ৯৩ ভাগ পালন করে ক্ষুদ্র এবং মাঝারী ধরণের খামারীরা।

বাংলাদেশে প্রাপ্ত ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের মাংস যেমন সুস্বাদু চামড়া তেমনি আন্তর্জাতিকভাবে উন্নতমানের বলে স্বীকৃত।

তাছাড়া ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের বাচ্চা উৎপাদন ক্ষমতা অধিক এবং তারা দেশীয় জলবায়ুতে বিশেষভাবে উৎপাদন উপযোগী।

এসব গুনাবলী থাকা সত্ত্বেও ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের বাণিজ্যিক উৎপাদন এদেশে এখনো চোখে পরার মত প্রসার লাভ করেনি।

এর অন্যতম কারণ ইন্টেনসিভ বা সেমি-ইন্টেনসিভ পদ্ধতিতে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালনের ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাব।

সরকারী – বেসরকারি ভাবে প্রশিক্ষণের ব্যাবস্থা থাকা সত্ত্বেও আমাদের অনিহা । সার্বিক কৃষির উপরে আমাদের বিরূপ মনোভাব বা অবহেলা ।

যে ভাবে একটি আদর্শ ছাগল খামার শুরু করবেন —–
ঘর নির্মাণ —— ছাগল সাধারণত: পরিষ্কার, শুষ্ক, দুর্গন্ধমুক্ত, উষ্ণ, পর্যাপ্ত আলো ও বায়ূ চলাচলকারী পরিবেশ পছন্দ করে। গোবরযুক্ত, স্যাঁত স্যাঁতে, বদ্ধ, অন্ধকার ও গন্ধময় পরিবেশে ছাগলের বিভিন্ন রোগবালাই যেমন: নিউমোনিয়া, একথাইমা, চর্মরোগ, ডায়রিয়া ইত্যাদি বিভিন্ন জাতীয় সংক্রামক ও পরজীবীয় রোগ হতে পারে।

সেই সাথে ওজন বৃদ্ধির হার, দুধের পরিমাণ এবং প্রজনন দক্ষতা কমে যায়।

ঘর নির্মাণের স্থান —–

পূর্ব পশ্চিমে লম্বালম্বী, দক্ষিণ দিক খোলাস্থানে ঘর নির্মাণ করা উচিৎ।

খামারের তিন দিকে ঘেরা পরিবেশ, বিশেষ করে উত্তর দিকে গাছপালা লাগাতে হবে। ছাগল খামারে স্থান নির্বাচনে অবশ্যই অপেক্ষাকৃত উঁচু এবং উত্তম পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকতে হবে। প্রতিটি পূর্ণ বয়স্ক ছাগলের জন্য গড়ে ৮-১০ বর্গ ফুট জায়গা প্রয়োজন।

প্রতিটি বাড়ন্ত বাচ্চার জন্য গড়ে ৫ বর্গফুট জায়গা প্রয়োজন। ছাগলের ঘর ছন, গোল পাতা, খড়, টিন বা ইটের তৈরী হতে পারে। তবে যে ধরণের ঘরই হউক না কেন, ঘরের ভিতর বাঁশ বা কাঠের মাচা তৈরী করে তার উপর ছাগল রাখতে হবে।

মাচার উচ্চতা ৪/৫ ফুট এবং মাচা থেকে ছাদের উচ্চতা ৬-৮ ফুট হতে হবে। মল মুত্র পড়ার সুবিধার্থে বাঁশের চটা বা কাঠকে ২ ইঞ্চি ফাঁকা রাখতে হবে।

মাচার নিচ থেকে সহজে মল মুত্র সরানোর জন্য ঘরের মেঝে মাঝ বরাবর উঁচু করে দুই পার্শ্বে ঢালু রাখতে হবে।

মেঝে মাটির হলে সেখানে পর্যাপ্ত বালি মাটি দিতে হবে।

ছাগলের ঘরের দেয়াল, মাচার নিচের অংশ ফাঁকা রাখতে হবে এবং মাচার উপরের অংশ এম.এম. ফ্ল্যাক্সিবল নেট দিতে হবে। বৃষ্টি যেন সরাসরি না ঢুকে সে জন্য ছাগলের ঘরের চালা ৩/৪ ফুট ঝুলিয়ে দেয়া প্রয়োজন।

শীতকালে রাতের বেলায় মাচার উপরের দেয়ালকে চট দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।

মাচার উপর ৪/৫ ইঞ্চি পুরু খড়ের বেডিং বিছিয়ে দিতে হবে।

বিভিন্ন বয়সের এবং বিভিন্ন ধরণের ছাগলকে ভিন্ন ভিন্ন ঘরে রাখা উচিৎ।

পাঁঠাকে সব সময় ছাগী থেকে পৃথক করে রাখা উচিৎ। দুগ্ধবতী, গর্ভবতী ও শুষ্ক ছাগীকে একসাথে রাখা যেতে পারে।

তবে তাদের পৃ্থক খাওয়ানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে।

শীতকালে বাচ্চাকে রাতের বেলা মায়ের সাথে ব্রুডিং পেনে রাখতে হবে।

ব্রুডিং পেন একটি খাঁচা বিশেষ যা কাঠের বা বাঁশের তৈরী হতে পারে। এর চারপার্শ্বে চটের ব্যবস্থা দিয়ে ঢাকা থাকে।

খাদ্য ব্যবস্থাপনা —–

ছাগলের খাদ্য ব্যবস্থাপনাই খামারের অন্যতম প্রধান বিষয়।

ইন্টেনসিভ এবং সেমি-ইন্টেনসিভ পদ্ধতিতে ছাগলের খাদ্যের পরিমাণ ও গুনগত মান নির্ভর করে, চারণ ভূমিতে প্রাপ্ত ঘাসের পরিমাণ ও গুনগত মানের উপর।

ছাগলের বাচ্চাকে কলষ্ট্রাম (শাল দুধ) খাওয়ানো —-

সাধারণত ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের বাচ্চার ওজন ০.৮-১.৫ কেজি (গড়ে ১.০০ কেজি) ওজন হয়।

বাচ্চা জন্মের পরপরই পরিস্কার করে আধা ঘন্টার মধ্যেই মায়ের শাল দুধ খেতে দিতে হবে। ছাগলের বাচ্চার প্রতি কেজি ওজনের জন্য ১৫০ থেকে ২০০ গ্রাম শাল দুধ খাওয়ানো প্রয়োজন।

এই পরিমাণ দুধ দিনে ৮-১০ বারে খাওয়াতে হবে।

শাল দুধ বাচ্চার শরীরে এন্টিবডি তৈরী করে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করে।

দুই বা ততোধিক বাচ্চা হলে প্রত্যেকেই যেন শাল দুধ পায় তা নিশ্চিত করতে হবে।

ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল ছানা সাধারণত ২-৩ মাসের মধ্যে দুধ ছাড়ে।

ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের দুধ উৎপাদন কম হওয়ায় ২-৩ ছানা বিশিষ্ট মা ছাগীর দুধ কখনো কখনো বাচ্চার প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে পারেনা।

এক্ষেত্রে ছানাকে পরিমাণমত ৩৭-৩৮ সেঃ তাপমাত্রায় অন্য ছাগলের দুধ বা মিল্ক রিপ্রেসার খাওয়ানো উচিত।

ছাগলের বাচ্চার দানাদার খদ্যের মিশ্রণ কম আঁশ, উচ্চ প্রোটিন, উচ্চ বিপাকীয় শক্তি সম্পন্ন হতে হয়।

ছাগলের বাচ্চাকে দানাদার খাদ্য খাওয়ানো —

— ছাগল ছানা প্রথমে মায়ের সাথেই দানাদার খাবার খেতে অভ্যস্থ হয়।

ছাগলের বাচচাকে জন্মের প্রথমে সপ্তাহ থেকে ঘাসের সাথে পরিচিত করে তুলতে হবে।

সাধারণত শুরুতে মায়ের সাথেই বাচ্চা ঘাস খেতে শিখে।

অভ্যস্থ করলে সাধারণত দুই সপ্তাহ থেকেই বাচচা অল্প অল্প ঘাস খায়।

এ সময়ে বাচ্চাকে কচি ঘাস যেমন: দুর্বা, স্পেনডিডা, রোজী, পিকাটুলাম, সেন্টোসোমা, এন্ড্রোপোগন প্রভৃত ঘাস খাওয়ানো যেতে পারে।

তাছাড়া, ইপিল ইপিল, কাঁঠাল পাতা, ধইনচা ইত্যাদি পাতা খাওয়ানো যেতে পারে।

বাড়ন্ত ছাগলের খাদ্য ব্যবস্থাপনা —

– ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের ৩-১২ মাস সময়কালকে মূল বাড়ন্ত সময় বলা যায়।

এ সময়ে যেসব ছাগল প্রজনন বা মাংস উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত হবে তাদের খাদ্য পুষ্টি চাহিদা যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে। দুধ ছাড়ানোর পর থেকে পাঁচ মাস পর্যন্ত সময়ে ছাগলের পুষ্টি সরবরাহ অত্যন্ত নাজুক পর্যায়ে থাকে।

এ সময়ে একদিকে ছাগল দুধ থেকে প্রাপ্ত প্রোটিন ও বিপাকীয় শক্তি থেকে যেমন বঞ্চিত হয়, তেমনি মাইক্রোবিয়াল ফার্মেন্টেশন থেকে প্রাপ্ত পুষ্টি সরবরাহও কম থাকে।

এজন্য এ সময়ে পর্যাপ্ত প্রোটিন সমৃদ্ধ দানাদার ও আঁশ জাতীয় খাদ্য দিতে হবে।

ঘাসের পরিমাণ ও গুনগত মান বেশি হলে দানাদার খাদ্যের পরিমাণ কমবে এবং পরিমাণ ও গুনগত মান কম হলে উপরোক্ত পরিমাণ দানাদার খাদ্যেই চলবে।

ব্লাক বেঙ্গল বাড়ন্ত ছাগলের জন্য একটি আদর্শ খাদ্য তালিকা নিচে দেয়া হলো —-
ছাগলের ওজন (কেজি)—দানাদার খাদ্য দৈনিক সরবরাহ (গ্রাম)–ঘাস সরবরাহ(কেজি)
৪———————————১০০———————————০.৪
৬———————————১৫০———————————০.৬
৮——————————–২০০———————————০.৮
১০——————————২৫০———————————১.৫
১২——————————৩০০———————————২.০
১৪——————————৩৫০———————————২.৫
১৬——————————৩৫০———————————৩.০
১৮ কেজি বা তার উপরে ৩৫০——————————৩.৫

প্রজননক্ষম পাঁঠার খাদ্য ব্যবস্থাপনা —

পাঁঠার খাদ্য ব্যবস্থাপনা বাড়ন্ত ছাগলের মতই।

তবে প্রজননে সহায়তার জন্য প্রতিটি পাঁঠাকে দৈনিক ১০ গ্রাম ভিজানো ছোলা দেয়া প্রয়োজন।

একটি পাঁঠা ১০ মাস থেকে ৩ বছর পর্যন্ত প্রজননক্ষম থাকে। কোনভাবেই পাঁঠাকে বেশি চর্বি জমতে দেয়া উচিত নয়।

২৮-৩০ কেজি ওজনের পাঁঠার জন্য দৈনিক ৪০০ গ্রাম পরিমাণ দানাদার খাবার দেয়া প্রয়োজন।
দুগ্ধবতী ও গর্ভবতী ছাগলের খাদ্য ব্যবস্থাপনা

– দুগ্ধবতী ছাগল তার ওজনের ৫-৬ শতাংশ হারে শুষ্ক পদার্থ খেয়ে থাকে।

একটি তিন বছর বয়স্ক ২য় বার বাচ্চা দেয়া ছাগীর গড় ওজন ৩০ কেজি হারে দৈনিক ১.৫-১.৮ কেজি শুষ্ক পদার্থ খেয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ১ বা ১.৫ কেজি পরিমাণ শুষ্ক পদার্থ ঘাস থেকে (৩-৫ কেজি কাঁচা ঘাস) বাকি ০.৫-০.৮ কেজি শুষ্ক পদার্থ দানাদার খাদ্য থেকে দেয়া উচিত।

যেহেতু ছাগী বাচ্চা দেয়ার ১.৫- ২.০ মাসের মধ্যে গর্ভবতী হয় সেজন্য প্রায় একই পরিমাণের খাবার গর্ভাবস্থায়ও ছাগলকে দিতে হবে।

ছাগলের দানাদার খাদ্যের সাধারণ মিশ্রণ নিন্মরুপ—–
গম/ভূট্টা ভাঙ্গা/চাল—————————————১২.০০%
গমের ভূষি/আটা কুড়া———————————৪৭.০০%
খেসারী/মাসকালাই/অন্য ডালের ভূষি————১৬.০০%
সয়াবিন খৈল————————————————২০.০০%
শুটকি মাছের গুড়া——————————————১.৫০%
ডাই-ক্যালসিয়াম ফসফেট———————————২.০০%
লবণ————————————————————১.০০%
ভিটামিন মিনারেল প্রিমিক্স ——————————০.৫০%
______________________________________________
মোট ———————————————————১০০.০০%

ছাগলের চরানো ——

ঘাস সরবরাহের জন্য নেপিয়ার, স্পেনডিডা, পিকাটুলুম, রোজী, পারা, জার্মান ইত্যাদির চাষ করা যেতে পারে।

মাঠের চারপার্শ্বে ইপিল ইপিল গাছ লাগানো যেতে পারে।

তাছাড়া বর্ষাকালে চারণ ভূমিতে ঘাসের সাথে মাসকালাই ছিটিয়ে দিলেও ঘাসের খাদ্যমান অনেক বেড়ে যায়।

শীতকালে অনেক সময় পর্যাপ্ত ঘাস পাওয়া যায় না।

এজন্য এ সময়ে ছাগলকে ইউএমএস (ইউরিয়া ৩%, মোলাসেস ১৫%, খড় ৮২%)-এর সাথে এ্যালজির পানি খাওয়ানো যেতে পারে।

প্রজনন ব্যবস্থাপনা ——-

একটা পাঁঠা সাধারণত: ৩/৪ মাস বয়সে যৌবন প্রাপ্ত হয় কিন্তু আট/নয় মাস বয়সের পূর্বে পাল দেবার জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়।

কোন পাঁঠার শারীরিক দুর্বলতা, পঙ্গুত্ব বা কোন যৌন অসুখ ,সমস্ত পালকে নষ্ট করে দিতে পারে।

তাই সেদিকে অবশ্যই মনোযোগী হতে হবে। দশটি ছাগীর জন্য একটা পাঁঠাই যথেষ্ট।

ছাগী যখন প্রমবারে (৫-৬ মাস বয়সে) গরম (Heat) হয় তখন তাকে পাল না দেওয়াই ভাল।

এক্ষেত্রে এক/দুইটি হিট বাদ দিয়ে মোটামুটি ১১-১২ কেজি ওজনের সময় পাল দেয়া উচিত।

ছাগীর হিটে আসার লক্ষণগুলো হচ্ছে-

মিউকাস নিঃসরণ, ডাকাডাকি করবে, অন্য ছাগীর উপর উঠা ইত্যাদি।

ছাগী হিটে আসার ১২-৩৬ ঘন্টার মধ্যে পাল দেওয়া উচিত।

অর্থাৎ সকালে হিটে আসলে বিকেলে এবং বিকেলে হিটে আসলে পরদিন সকালে পাল দিতে হবে।

স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ——

– ছাগলের খামারে রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

এজন্য নিয়মিত পিপিআর টিকা, কৃমিনাশক ইত্যাদির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হয়।

ছাগলের সবচেয়ে মারাত্ক রোগ পি.পি.আর এবং গোটপক্সের ভেক্সিন জন্মের ৩ মাস পরে দিতে হয়।

বছরে দুবার বর্ষার আগে (এপ্রিল-মে) কৃমিনাশক এবং বর্ষার শেষে (অক্টোবর-নভেম্বর) কৃমিনাশক

যেমন: নেমাফেক্স, রেলনেক্স অথবা ফেনাজল ইত্যাদি খাওয়ানো যেতে পারে।

তাছাড়া যকৃত কৃমির জন্য ফেসিনেক্স, ডোভাইন, ইত্যাদি ব্যবহার করা প্রয়োজন

। কোন ছাগলের চর্মরোগ দেখা দিলে তা ফার্ম থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে।

যে কোন নূতন ছাগল খামারে প্রবেশ করানোর আগে কমপক্ষে এক সপ্তাহ অন্যস্থানে রেখে পর্যবেক্ষণ করা উচিত।

খামারের সকল ছাগলকে ১৫-৩০ দিন পর পর ০.৫% মেলাথায়ন দ্রবণে ডিপিং করানো (চুবানো) উচিত।

তাছাড়া ম্যাসটাইটিসসহ অন্যান্য সংক্রমক রোগের জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া বাঞ্ছনীয়।

বাচ্চার ব্যবস্থাপনা —

* বাচ্চা বয়সে ডায়রিয়া, বাচ্চা মৃত্যুর অন্যতম কারণ।

এজন্য বাচ্চাকে সব সময় পরিচ্ছন্ন জায়গায় এবং পরিমান মত দুধ খাওয়াতে হবে।

ফিডার ও অন্যান্য খাদ্য পাত্র সবসময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
* জন্মের পর পর বাচ্চাকে পরিস্কার করে নাভি থেকে ৩-৪ সেঃ মিঃ নিচে কেটে দিতে হবে।
* যে বাচ্চার মায়ের দুধের পরিমাণ কম তাদেরকে বোতলে অন্য ছাগলের দুধ/বিকল্প দুধ (মিল্ক রিপেসার) খাওয়াতে হবে।
* শীতের সময়ে বাচ্চাকে মায়ের সাথে ব্রুডিং পেনে রেখে ২৫-২৮ সেঃ তাপমাত্রায় রাখতে হবে।
* বাচ্চা যেন অতিরিক্ত দুধ না খায় তা লক্ষ্য রাখতে হবে।
* যেসব পাঁঠা বাচ্চা প্রজনন কাজে ব্যবহৃত হবে না তাদেরকে ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে খাসি করাতে হবে।

কিছু তথ্য আপা প্রকল্প থেকে সংযুক্ত করা হয়েছে ।

Collected From Facebook

Please follow and like us:

About admin

Check Also

খাসি মোটাতাজাকরণ

খাসী মোটাতাজাকরণ

খাসী মোটাতাজাকরণ- আমাদের দেশে ছাগল পালনের লক্ষ্য কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাংস উৎপাদন। তাই খাসী মোটাতাজাকরণ …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »
error: Content is protected !!