Breaking News
হারিয়ে যাবে ডিলার ও প্রান্তিক খামারী
হারিয়ে যাবে ডিলার ও প্রান্তিক খামারী

বাংলাদেশের পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রি- বৃহৎ পুঁজির জন্য উম্মুক্ত হচ্ছে; হারিয়ে যাবে ডিলার প্রথা এবং প্রান্তিক খামারী

বাংলাদেশের পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রি- বৃহদ পুঁজির জন্য উম্মুক্ত হচ্ছে; হারিয়ে যাবে ডিলার প্রথা এবং প্রান্তিক খামারী।
১৭ কোটি মানুষ, গড়ে দুইবেলা খাবার গ্রহন করলে কি পরিমান মাছ মাংস দরকার হয়? নিশ্চয় বুদ্ধিমান এবং ব্যবসায়ী মাত্রই এই তথ্যকে বিবেচনা করবেন।
আজকের যে পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রির কলেবর তা একদিনে গড়ে উঠেনি- তিন দশক সময় নিয়েছে, আর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পুঁজির সমাবেশ ঘটেছে যার সিংহভাগই প্রান্তিক মানুষদের।
পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রির আজ যে সাপ্লাই এবং বিপনন ব্যবস্থা তাতে সবার ই আছে কম বেশি অবদান- কিন্তু প্রকৃত তথ্যের অভাবে কি পরিনাম প্রকৃত চাহিদা আছে তা এই ইন্ডাস্ট্রির কারো কাছেই নেই যা আছে তা সম্পুর্ন ই অনুমান নির্ভর।
বর্তমান অবস্থায় যোগান চাহিদার অনেক উপরে ফলে বাংলাদেশের পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রির এই বিপনন এবং উৎপাদন ব্যবস্থার মধ্যে সবাই ক্রমাগত পুঁজি খুইয়ে যাচ্ছেন
প্রকৃত চাহিদা তথ্য দুর্বলতা এই সংকটের মুল কারন।
এভাবে চলতে থাকলে; এক সময় পুঁজির সংকটে আস্তে আস্তে ছোট মাঝারি এবং প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারীরা ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন।
অথচ দেশে যে মাংসের প্রকৃত চাহিদা আছে, তার যোগান সংস্থান তখন কম হয়ে যাবে – এ সুযোগ টা নিতে পারে অন্য ব্যবসায় যুক্ত বড় শিল্প গ্রুপ এবং বাইরের দেশের পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিতে বিনিয়োগকারীরা।
তারা যদি প্রকৃতই এই ব্যবসায় যুক্ত হয় তাহলে তারা পুরোপুরি সমন্বিত ভাবেই তাদের উৎপাদন বিপনন ব্যবস্থাকে সাজাবেন সেখানে ডিলার এবং প্রান্তিক খামারিদের কোন সুযোগ থাকবে না।
তারা জিপি ফার্ম,ব্রিডার ফার্ম,ফিড মিল, হ্যাচারী, হাইটেক ব্রয়লার ফার্ম এবং দেশের অলিতে গলিতে লাইভ চিকেন সেলস সেন্টার গড়ে তুলবেন।
যদি একবার তারা পুরো পুরি সক্ষমতা লাভ করেন তাহলে ভবিষ্যতে বিদেশে রফতানির উপযোগী পোল্ট্রি পন্য উৎপাদনের সুযোগ ও হাত ছাড়া করবেন না- তখন আন্তর্জাতিক মানের ব্রয়লার বা এগ প্রসেসিং প্ল্যান্ট স্থাপন করবেন।
অন্যদিকে দেশে বর্তমানে ক্রিয়াশীল বড় আকারের প্রভাবশালী পোল্ট্রি শিল্প গ্রুপগুলো হয়তো টিকে থাকার জন্য সমন্বিত এবং কন্ট্রাক্ট গ্রোয়িং সিস্টেম চালু করবেন।এখানেও ডিলার প্রথা এবং প্রান্তিক খামারিদের অস্তিত্ব সংকটের মধেই পড়বে।
প্রান্তিক খামারিদের টিকে থাকা অনেকটাই নির্ভর হয়ে পড়বে নিজেদের পোল্ট্রি পালনে আধুনিক কলা কৌশল কে রপ্ত করা এবং অঞ্চল ভিত্তিক সমবায় উৎপাদন ও বিপনন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ইচ্ছা এবং তা প্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে।
সমবায় প্রথাতে উৎপাদন খরচ কমায় এবং একটা স্থায়ী বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করে – দেশে দেশে অন্তত তা পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিতে প্রমানিত।

বাংলাদেশের পোল্ট্রির বাজার ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন খরচ থেকে বিক্রয় মূল্য অনেক কম থাকায় এবং ব্যবস্থাপনা খরচ ক্রমাগত বৃদ্ধি, রোগবালাই জনিত অধিক মৃত্যু হার, সঠিক ওজন না আসা সহ অন্যান্ন কারনে প্রান্তিক খামারী, ডিলার, ফিড মিল বাচ্চা উৎপাদনকারী সকলের ক্রমাগত পুঁজি খোয়া যাচ্ছে।
সংকট যদি আরো দীর্ঘতর হয় তাহলে-
ব্যবসা তার গতি পরিবর্তনে বাধ্য, এক্ষেত্রে ক্ষুদ্র এবং মাঝারি উদ্যোতাদের পক্ষে টিকে থাকা খুবই কঠিন হয়ে পড়বে।
দেশে ক্রমবর্ধমান পোল্ট্রি মাংসের চাহিদার যোগান দিতে ইন্ডাস্ট্রিতে বৃহদ পুঁজির সমাবেশ ঘটবে-
১. সরাসরি ইন্ট্রিগ্রেশন ( বৃহদ শিল্প উদ্যোগতা)
২. কন্ট্রাক্ট গ্রোয়িং ( যাঁরা বর্তমানে এই সেক্টরে বড় বাজার দখল করেছেন)
৩. সমবায় ভিত্তিক উৎপাদন ( অঞ্চল ভিত্তিক সু সংগঠিত খামারীগন)
এগুলো দেশে দেশে পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রি যখন প্রাথমিক অবস্থা থেকে ইন্টারমিডিয়েট ধাপে উত্তর ঘটে তখন এভাবেই পোল্ট্রির উৎপাদন এবং বিপনন ব্যবস্থা গড়ে উঠে নতুন উৎপাদন সিস্টেম কে সুরক্ষার পথ হিসাবে গ্রহন করে।
আমাদের বাংলাদেশের পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রি এখন এই অন্তঃবর্তী সময় অতিক্রম করছে।
এ সময়ে টিকে থাকা নির্ভর করবে পোল্ট্রি ব্যবস্থাপনায় কে কত দক্ষতা অর্জন করবেন তার উপর।
দক্ষতা বলতে একদিকে যেমন আর্থিক ব্যবস্থাপনা বুঝায় তেমনি উৎপাদনে আধুনিক পোল্ট্রির লালন পালন বিষয়ের দক্ষতাকেও বুঝায়।
কম দামে খাদ্য বাচ্চা সহ অন্যান্ন উপাদান ক্রয় করেও কেউ কেউ লাভ করতে ব্যর্থ হয় এমন ভুরি ভুরি উদাহরণ আমাদের মাঝে আছে।
ব্যবসার সম্ভাবনা, ঝুঁকি, বাজার ব্যবস্থা, প্রতিযোগি বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যৎ অনুমান এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।
ব্যবসা মানেই প্রতিযোগিতা – কম দামে ক্রয়ের মাধ্যমেই প্রতিযোগিতা মূলক উৎপাদন এবং বিপনন ব্যবস্থায় টিকে থাকার প্রাথমিক ভিত্তি।
তার উপর থাকে ভোক্তার চাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখে গুনগত পন্য উৎপাদন।
লেখক ঃঅঞ্জন মজুমদার
সমন্বয়ক
পিপিবি

 

Please follow and like us:

About admin

Check Also

অর্থনীতির সঞ্জিবনী হতে পারে যুগোপযোগী প্রাণিসম্পদ খাত ডা. মো. নূরে-আলম

প্রেক্ষিত কোরবানি অর্থনীতির সঞ্জিবনী হতে পারে যুগোপযোগী প্রাণিসম্পদ খাত ডা. মো. নূরে-আলম গত কোরবানির ঈদের …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »
error: Content is protected !!