Breaking News

#বনরাজা_মুরগীঃ২ মাসে ২-৩কেজি খাদ্য খেয়ে ১১০০-১২০০গ্রাম ওজন আসে।

#বনরাজা_মুরগীঃ
এই মুরগীর উদ্ভাবক ভারত সরকারের “প্রজেক্ট ডাইরেক্টরেট অন পোল্ট্রি “। এই মুরগীর পালকে বিচিত্রতা রয়েছে। এদের পা লম্বা। দেশী মুরগীর চেয়ে দ্রুত বাড়ে ও বেশি ডিম দেয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও ভাল।
#বনরাজা নামে বাংলাদেশে ইনডেক্স এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ মুরগীর বাচ্চা উৎপাদন ও বিপনণ করছে। মার্কেট থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এটি ২ মাসে ৩কেজি থেকে ৩ কেজি ২০০ গ্রাম খাবার খেয়ে ১১০০-১২০০ গ্রাম ওজন হবে। এর চেয়ে বেশি তথ্য পাওয়া যায়নি বিধায় নিচের বর্নণাগুলি ইন্ডিয়ান ব্রীড অনুযায়ী দেয়া হয়েছে।

#উৎপাদন_ক্ষমতাঃ
৬ সপ্তাহে ৬৫০-৭৫০ গ্রাম ওজন হয়। ১২ সপ্তাহে পুরুষ বনরাজ ২ কেজি থেকে ২.২৫ কেজি পর্যন্ত ওজন হয়। ১৭৫-১৮০ দিনে ডিম দেয় যার ওজন ২৮ সপ্তাহে ৪২-৪৪ গ্রাম ও ৪০ সপ্তাহে ৫২-৫৮ গ্রাম এবং বছরে ১২০ টি ডিম দেয়।

#পুষ্টি_চাহিদাঃ
মেটাবলিক এনার্জি ২৪০০ কিলোক্যালরি, ক্রুড প্রোটিন ১৬%, লাইসিন ০.৭৭%, মিথিওনিন ০.৩৬%, ফসফরাস ০.৩৫%, ক্যালসিয়াম ০.৭%।

#খাদ্যঃ
৬ সপ্তাহ পর্যন্ত লেয়ার গ্রোয়ার খাওয়ানো যায়। মাংসের জন্য পালন করলে ব্রয়লার খাবারও দেওয়া যেতে পারে। মুক্তাঙ্গন পদ্ধতিতে – চারণভুমিতে নিজে নিজে খাবার খায়। পাশাপাশি জোয়ার, বাজরা, ধানের খুদ খাওয়ানো যায়। এছাড়া নিম্নোক্ত উপায়ে খাবার তৈরি করে খাওয়ানো যায়-
ভুট্টা ভাঙা ৩০ কেজি, সয়াবিন/বাদাম/সরিষার খৈল ২৪ কেজি, ফিস মিল ১০কেজি, চালের খুদ ২০ কেজি, গমের খোসার গুড়া ১৫ কেজি, লবণ ০.৫ কেজি, প্রিমিক্স ০.৫ কেজি।

#পালন_ব্যবস্থাপনাঃ
ব্রুডিং ও পালন পদ্ধতি অন্যান্য মুরগীর মতই।
প্রথম ৩-৪ সপ্তাহ ব্রুডিং দরকার বাচ্চার শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখার জন্য। ব্রুডিং ব্যবস্থাপনা অন্যান্য কমার্সিয়াল মুরগীর মতই। বাচ্চা প্রতি ২ ওয়াট তাপ দিতে হবে। ১ম দিন ৯০-৯৫ ডিগ্রি ফাঃ তাপ প্রয়োজন এবং প্রতি সপ্তাহে ৫ ডিগ্রি ফাঃ করে কমিয়ে ৭০-৭৫ ডিগ্রি ফাঃ এ আনতে হবে। ২-৩ ইঞ্চি লিটারের উপর পেপার বিছাতে হবে।

৪-৫ সপ্তাহ পর মুক্তাঙ্গন পদ্ধতিতে পালন করা যায়।

#রোগবালাই_ও_ব্যবস্থাপনাঃ
মুক্তাঙ্গন পদ্ধিতে পালন করলে কৃমিজনিত রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এছাড়া আবদ্ধ অবস্থায়ও হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে পাইপেরাজিন সাইট্রেট, এলবেনডাজল বা লিভামিজল হাইড্রক্লোরাইড ব্যবহার করা যায়।

ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগের মধ্যে ২-৩ সপ্তাহে এবং ৩-৬ মাসে সালমোনেলাঘটিত রোগ বেশি হয়। ভালমানের এন্টিবায়োটিক নিয়ম মেনে ব্যবহার করতে পারলে রোগ দমন করা যায়।

ভাইরাস জনিত রোগ রাণীক্ষেত বাচ্চা বনরাজের জন্য খুবই মারাত্মক। ২-৭ সপ্তাহের মুরগী গামবোরোতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আরও একটু বেশি বয়সে পক্স বা মারেক্স হতে পারে। ৬সপ্তাহ থেকে ৬মাসের মধ্যে মারেক্স হতে পারে। তবে ভ্যাকসিন ব্যবহার করে এইসব রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব-
রোগের নাম বয়স(দিন) টিকা ও মাত্রা
১. মারেক্স ১ Hvt. M.D.-0.2 cc s/c
২. রাণীক্ষেত ৪-৭ Lasota strain-eye drop
৩. গামবোরো ১২-১৪ Volvac IBD- Eye drop
৪. গামবোরো ১৮-২০ Do
৫. পক্স ২৫ Pox Vacc.- Web wing
৬. রাণীক্ষেত ২৮ Lasota Strain-Eye/DW
৭. রাণীক্ষেত ৫৬-৬৩ Volvac ND Conc. KV
-0.2 cc s/c
৭. পক্স ৮৫ Pox Vacc.- Web wing

বি.দ্র. মাংসের জন্য ২ মাসের পালন ব্যবস্থাপনায় শুধুমাত্র ২,৩,৪ ও ৬ নং ভ্যাকসিন প্রয়োগ করতে হবে।

লিটার ব্যবস্থাপনা ভালো না হলে আইমেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। এক্ষেত্রে সালফোনামাইড বা এম্প্রোলিয়াম জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে।

ভিজা খাবার বা লিটার থেকে ছত্রাকঘটিত রোগ হতে পারে। ভিজা লিটারের জন্য এবং পর্দা ব্যবস্থাপনা ঠিক না থাকলে শেডে অ্যামোনিয়া গ্যাস হতে পারে। এক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা ঠিক করতে হবে।

তথ্য সংগ্রহ ও পরিমার্জনঃ
ডাঃ মোঃ আশরাফুল ইসলাম
ডিভিএম, এম এস (মাইক্রোবায়োলজি)

Please follow and like us:

About admin

Check Also

১০ জনে শুরু করে এখন ৬০০ জনের দেশি মুরগির ‘মডেল খামার’

১০ জনে শুরু করে এখন ৬০০ জনের দেশি মুরগির ‘মডেল খামার’ শুরু করেছিলেন ১০ জন। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »
error: Content is protected !!