Breaking News
প্রসব জটিলতা
প্রসব জটিলতা

প্রসব বিঘ্নতা DYSTOCIA

প্রসব বিঘ্নতা
DYSTOCIA

আমাদের দেশে পশুসম্পদ উন্নয়নে, জাত ও বংশ বিস্তারের সব চেয় বড় বাঁধা হলো প্রজনন তন্ত্রের রোগ-ব্যাধি, যার প্রভাব স্ত্রী পশুতেই বেশি লক্ষ করা যায়।

যেমন গাভীর প্রজনন তন্ত্রের বেশ কিছু রোগ হয়ে থাকে, তার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য একটি হলো (Dystocia) প্রসব বিঘ্নতা।

স্বাভাবিক ভাবে বাচ্চা প্রসবের পু্র্বে বাচ্চার মুখ ও সামনের দুই পা যোনীদ্বার দিয়ে বের হয়ে দ্রুত প্রসব ক্রিয়া সম্পন্ন করে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক ও সহজ ভাবে বাচ্চা না হওয়াকে প্রসব বিঘ্ন (Dystocia) বলে।

কারন

সাধারনত দুটি কারনেই প্রসব বিঘ্ন হয়ে থাকে।
(ক) মার্তৃজনিত কারন।
(খ) বাচ্চাজনিত কারন।

(ক) মার্তৃজনিত কারন
> গর্ভাবস্থায় গাভী অত্যাধিক অপুষ্টিতে ভুগলে ও শরীরে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের অভাব হলে।
> গাভীর যোনীদ্বার ছোট ও যোনীপথে জন্মগত ত্রুটি থাকলে।
> বংশগত কারন এবং জরায়ু নিষ্ক্রিয় থাকলে।
> হরমোনের গোলযোগ,জরায়ু পাক অথবা জরায়ু নির্গমন ইত্যাদি হলে।
> ফিটাসের বিভিন্ন উপস্থাপনা (পস্টরিয়র প্রেজেন্টেশন, ব্রীজ প্রেজেন্টেশন, স্পাইনাল প্রেজেন্টেশন) হলে।

(খ) বাচ্চাজনিত কারনঃ
* পেটে বাচ্চার আকার স্বাভাবিকের চেয়ে বড় হলে।
* বাচ্ছার মাথায় অথবা শরীরে পানি জমলে।
* বিকলঙ্গ বা মৃতবাচ্চা বা মামিফাইড ফিটাস অথবা যমজ বাচ্ছা হলে।
* বাচ্চার বিভিন্ন ভাবে উপস্থাপনা যেমন অবস্থান ও দেহভঙ্গি (মাথা বাম পার্শ্বে অথবা নিচের দিকে বাকানো, ফিটাসের এক পা বা দুই পা বাকানো থাকলে, এবং পিছনের হক সন্ধি ভিতরের দিকে বাকানো, দুই পা সামনে প্রসারিত কিন্তু মাথা নিচের দিকে বাকানো) থাকলে।

লক্ষন

© প্রসব বিঘ্নতা রোগের অন্যতম প্রধান লক্ষন হলো গাভীর গর্ভকালীন সময় ২৮০ দিন অতিবাহিত হওয়া সত্তেও বাচ্চা না হওয়া।

© বাচ্চা প্রসবের মুহুর্তে গাভী বার বার উঠা বসা করবে কিন্তু পানির থলি তবুও ভেংগে না যাওয়া। অথবা যোনীপথে পানির থলি ভেংঙ্গে যাওয়া সত্ত্বেও বাচ্চা বের না হওয়া।

© শুয়ে বারবার কোথ দেওয়া সত্ত্বেও বাচ্চা প্রসব না হওয়া। প্রসব হতে দেখা গেলেও বাচ্চার পা ছাড়া শুধু মাথা দেখা যাবে বা এক পা সহ মাথা বের হওয়া।

© গাভীর অরুচি, পেট ব্যাথা ও ১০/১৫ মিনিট পরপর শুয়ে কোথ দিবে কিন্ত প্রসব সম্পন্ন হবেনা।

© অনেক সময় বাচ্চার পা, মাথা স্বাভাবিক ভাবে টানলেও বের না হয়ে আসা।

সম্ভাব্য পদক্ষেপ

® বৈশিষ্ট্যপুর্ন উপসর্গ ও বাচ্চা হওয়ার সময় যোনীপথে হাত ঢুকিয়ে বাচ্চার ত্রুটিপূর্ণ পজিশন বা উপস্থাপন অনুভব করে এ রোগ নির্নয় হলে দ্রুত যেকোন অবস্থায় হ্যান্ডেলিং করে বাচ্চা বের করার জন্য ডাক্তার অথবা অভিজ্ঞ লোক প্রস্তুত রাখতে হবে।

® প্রসব বিঘ্ন গাভীর বাচ্চা বের করার সময় সর্ব প্রথম Confirm হতে হবে জরায়ুর মুখ খুলেছে কিনা।

যদি বাচ্চা হওয়ার সমস্ত লক্ষন প্রকাশ পায় কিন্তু (Cervix) গ্লীবার মুখ না খুলে তাহলে 5% Dextrose saline 1000ml রক্ত শিরায় এবং অক্সিটোসিন ইনজেকশন মাংশে দিতে হবে।

এতদাসত্ত্বেও যদি জরায়ু মুখ না খোলে তাহলে গাভী ও বাচ্চা রক্ষা করার জন্য সিজারিয়ান (Caesarean) অপরাশনের ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

® যদি জরায়ুর মুখ খোলা থাকে অথচ প্রসবে বিলম্ব হচ্চে তাহলে 5% Dextrose saline 1000ml সহযোগে শিরায় যে কোন ক্যালসিয়াম ইনজেকশন ও মাংশে অক্সিটোসিন ইনজেকশন দিলে দ্রুত বাচ্চা প্রসব হয়ে যায়।

® স্বাভাবিক নিয়মে সামনের দুই পা ও মাথা একসাথে বের হয়ে প্রসব ক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

যদি এর ব্যতিক্রম হয় অর্থাৎ এক পা ও মাথা বা মাথা নিচের দিকে বাকানো শুধু সামনের দুই পা বের হয় তাহলে ভিতরের দিকে ঠেলে দিয়ে বাচ্চার পজিশন ঠিক করে নিতে হবে।

® Water Bag ভেঙ্গে ফ্লয়িড সব বের হওয়ার আগেই বাচ্ছা বের করতে হবে।

ফ্লয়িড না থাকলে বা আগেই বের হয়ে গেলে ডাক্তার বা অভিজ্ঞ ব্যাক্তির হাতে লুব্রিকেন্ট লাগিয়ে যোনীপথ ও বাচ্চার মাথা পিচ্ছিল করে নিতে হবে।

® যদি বাচ্চা মৃত বা বিকলাঙ্গ বা অস্বাভাবিক প্রেজেন্টেশন হয় অথবা একেবারেই বের না হয় তাহলে Obstetrical Intrument দিয়ে বাচ্চা কেটে কেটে বের করতে হবে।

প্রতিরোধ

* গর্ভাবস্থায় দৈনিক Pow: DCP PLUS 30mg করে খাওয়ানো এবং প্রয়োজনে বাচ্চা প্রসবের এক সপ্তাহ আগে Calcium ও Phosphorus জাতীয় ইনজেকশন মাংশে প্রয়োগ করা।
* প্রয়োজনীয় পরিমান সবুজ তাজা কাচা ঘাস এবং সুষম দানাদার খাদ্য নিয়মিত খাওয়ানো।
* গর্ভকালিন সময় গাভী যেন আঘাত বা পড়ে না যায় সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখা এবং বাচ্চা দেয়ার ১ মাস আগে থেকে নিরাপদ স্থানে রাখা।
* ভেটেরিনারিয়ান বা অভিজ্ঞ লোক দ্বারা বাচ্চা প্রসব করানো উচিত।

Suggestion by
Dr. Jalal Uddin

লেখক ঃএস এম রাসেল( সততা ডেইরী ফার্ম )

Please follow and like us:

About admin

Check Also

বাছুরের ডায়রিয়ার কারণ

Couses of diarrhea in neonatal rumenants 🔷Bacterial: 🔸Escherichia coli 🔸Salmonella spp. 🔸Campylobacter fecalis 🔸Campylobacter coli …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »
error: Content is protected !!