Breaking News

প্রচন্ড এই গরমে মুরগি থাকুক আরামে★

প্রচন্ড এই গরমে মুরগি থাকুক আরামে★

আপনি জানেন কি #মুরগির শরীরে ঘর্মগ্রন্থি নাই !!!

আর একারনে মোরগ-মুরগি অতিরিক্ত গরম সহ্য করতে পারেনা। #টার্কি, মুরগি এবং কোয়েলের জন্য আদর্শ তাপমাত্রা হচ্ছে ২০-২৪ডিগ্রী সেলসিয়াস। শীতকালে একটি পোষ্টে আমি বলেছিলাম তাপমাত্রা ২০ডিগ্রী এর চেয়ে কমে গেলে উৎপাদন মারাত্মক ভাবে হ্রাস পায় এবং তাপমাত্রা অত্যাধিক কমে গেলে অতিরিক্ত ঠান্ডায় হাইপোথারমিয়া হয়ে পাখি মারা যাওয়া, সর্দিকাশি, এ আই ,কোল্ডনেস, ব্রংকাইটিসসহ বিভিন্ন রোগে রোগাক্রান্ত হওয়া খুবই স্বাভাবিক ঘটনা এবং তাপমাত্রা যদি ২০ডিগ্রীর নিচে নেমে আসে, তাহলে প্রতি ০১ ডিগ্রী তাপ কমে যাওয়ার বিপরীতে প্রতিটা মুরগির খাদ্য গ্রহণ ১.৫-০২গ্রাম পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। তখন অনেকেই জানতে চেয়েছিলেন তাপমাত্রা বেড়ে গেলে কি হয় ?

☞আসুন গ্রীষ্মের এই দাবদাহে চারিদিকে যখন ত্রাহি ত্রাহি চিৎকার তখন আমরা জেনে নেই তাপমাত্রা ২৪ডিগ্রী সেলসিয়াসের বেশী হয়ে গেলে #পোল্ট্রি ফার্মে কি ক্ষতি হয় এবং প্রচন্ড এই গরমে কি করলে আমাদের মুরগি থাকবে আরামে।

⇨প্রথমেই আমরা জেনে নেই অতিরিক্ত গরমে মুরগির কি ক্ষতি হয়?
ইতোমধ্যেই আমরা জেনে গেছি মুরগির শরীরে ঘর্মগ্রন্থি নাই। আর একারনে মুরগি অত্যাধিক তাপ সহ্য করতে পারেনা। অতিরিক্ত গরমে মুরগির খাদ্য গ্রহণ কমে যায় এবং বিপরীতে পানি গ্রহণের হার বেড়ে যায়। ফলে মাংস ও ডিমের উৎপাদন মারাত্মক ভাবে হ্রাস পায় এবং হিটস্ট্রোকে মৃত্যুর হার বেড়ে যায়।

#তাপমাত্রা যদি ২৪ডিগ্রীর উপরে উঠে যায়, তাহলে প্রতি ০১ ডিগ্রী তাপ বেড়ে যাওয়ার বিপরীতে প্রতিটা মুরগির শতকরা ০৪ ভাগ হারে পানি গ্রহণ বৃদ্ধি পায়। এ পর্যায়ে ডিম ও মাংসের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে না কমলেও প্রতি ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধির বিপরীতে ডিমের ওজন শতকরা এক ভাগ হারে কমতে থাকে।

তাপমাত্রা ২৬.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসের পর হতে মুরগির খাদ্য রূপান্তর ক্ষমতা মারাত্মক ভাবে হ্রাস পেতে থাকে এবং তাপমাত্রা ২৭ডিগ্রি সেলসিয়াসের পর হতে প্রতি ডিগ্রী তাপমাত্রা বৃদ্ধির বিপরীতে মুরগির খাদ্য গ্রহণের হার ০২ হতে ০৪ শতাংশ কমে যায়। তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হতে মোরগ-মুরগির জন্য অসহনীয় হয়ে উঠে এবং তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রির বেশি হলে পরিবেশের ভ্যাপসা ও অসহনীয় গরমে মুরগির প্রধান অঙ্গ গুলো ভালভাবে কাজ করতে না পারায় মুরগী মারা যায়।

☞ক্ষতি হতে বাঁচতে হলে কি করতে হবে ?
১। শেডে মুরগির ঘনত্ব অন্যান্য সমরে চেয়ে কমিয়ে দিতে হবে।

২। প্রয়োজনে দিনের বেলায় শেডে ফ্যানের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে রাতের বেলা ফ্যান ব্যবহারে বিশেষ সতর্ক হতে হবে কারন মাঝ রাতে তাপমাত্রা বেশি কমে গিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

৩। ঝড় বৃষ্টির সময় শেডে কোনমতেই যেন পানির ছিটা প্রবেশ করতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

৪। অতিরিক্ত তাপমাত্রায় মুরগির কিডনি, হার্ট, ফুসফুস ঠিকমত কাজ করতে না পারার কারনে স্ট্রোক করে মারা যায়। এসময় শেডে পানির কোন ঘাটতি রাখা যাবেনা। প্রয়োজনে পানির পাত্রের সংখ্যা বাড়িয়ে দিতে হবে।

৫। শেডের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনে শেডের ভিতরের গরম বাতাস বাইরে বের করার জন্য এক্সিট ফ্যান ব্যবহার করা যেতে পারে।

৬। যেদিন বেশী গরম পরবে সেদিন শেডের চালায় কয়েক ঘন্টা পরপর হুশ পাইপ দিয়ে পানি ঢেলে দেয়া যেতে পারে।

৭। টিনের চালা হলে তার উপরে গাছের ডাল, চটের বস্তা, নারিকেল পাতা, পাট খরি, গম-ভূট্টার ডাটি অথবা খড় বিছিয়ে দেয়া যেতে পারে।

৮। দুপুরে প্রচন্ড গরমের সময় মুরগিকে ফিড না দিয়ে সকালে এবং বিকালে অপেক্ষাকৃত ঠান্ডার সময় দেয়া যেতে পারে। তবে সারাদিনই পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

৯। গুণগত মানসম্মত ফিড সরবরাহ করতে হবে, বিশেষ করে ফিডে যেন অ্যামাইনো এসিড, মিথিনাইন ও লাইসিনের ঘাটতি না থাকে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

১০। শেডে বাতাসের অবাধ চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। মুক্ত বাতাস শেড অভ্যন্তরের পরিবেশ শীতল রাখবে, সেই সঙ্গে অ্যামোনিয়াসহ অন্যান্য ক্ষতিকর গ্যাসের বিষক্রিয়া মুক্ত রাখবে।

১১। মুরগিকে বিনা কারনে বারবার বিরক্ত করা যাবেনা।

১২। শেডে টিনের চালার নিচে ইনসুলেশন ফয়েল, চাটাই, হার্ডবোর্ড ইত্যাদি দিয়ে সিলিং করে দিতে হবে যাতে তাপ প্রতিহত হয়।

১৩। শেডের চারপাশে সপ্তাহে ১-২বার চুন ছিটানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

১৪। ভোর কিংবা রাতে লিটার ওলটপালট করে দিতে হবে।

১৫। গরমের ধকলের কারণে মাইকোপ্লাজমা ও কলিব্যাসিলোসিস রোগের আক্রমণ বেড়ে যেতে পারে। এজন্য সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে।

১৬। গ্রীষ্মকালে বাতাসে আদ্রতার পরিমাণ বেশী থাকার কারনে লিটার দ্রুত ভিজে স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে যেতে পারে। সপ্তাহে ০১দিন লিটারে প্রতি ১০বর্গফুট জায়গার জন্য ২০০-২৫০গ্রাম হারে শুকনা গুড়া চুন ব্যবহার করা যেতে পারে।

১৭। এসময় ফিডের বস্তা খোলা রাখা যাবেনা। বাতাসে আদ্রতা বেশী থাকার কারনে ফিডে ছত্রাক ও ফাংগাস পরে যেতে পারে। যা মুরগির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

১৮। অত্যাধিক গরমে মুরগি যখন হাঁ করে শ্বাস-প্রশ্বাস নেয় তখন ঘরে স্প্রে মেশিন দিয়ে কুয়াশার মত করে পানি স্প্রে করা যেতে পারে।

১৯। দিনে অন্তত ৩-৪ঘন্টা পরপর ড্রিংকারের পানি পাল্টিয়ে দিতে হবে।

২০। অত্যাধিক গরমের সময় মুরগিকে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কোন ধরনের এন্টিবায়োটিক, কৃমিনাশক এবং ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হতে বিরত থাকতে হবে।

☞শেডে তাপমাত্রা অসহনীয় হয়েছে বোঝার সহজ উপায়ঃ
আমরা মানুষরা গরম লাগলে যেমন বলতে পারি, মুরগি কিন্তু তা পারেনা। তাই তাদের নিম্নোক্ত কিছু বৈশিষ্ট্য দেখে পোল্টি মাস্টার আপনাকেই বুঝে নিতে হবে ফ্লকের তাপমাত্রা বেড়েছে কিনা-

(ক) মুরগি পানির পাত্রের কাছে বেশী ভীড় জমাবে।
(খ) শেডের যেদিকে অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা পরিবেশ থাকবে, মুরগি সেদিকে ভীড় জমাবে।
(গ) মুরগিরর ডানা গুলো এলিয়ে দিয়ে চোঁখ বন্ধ করে ঝিমাতে থাকবে।
(ঘ) মুরগীর হার্ট বিট রেট বেড়ে যাবে।
(ঙ) মুরগি হা করে দ্রুত শ্বাস নিতে থাকবে।

☞গরমে মুরগির বিশেষ যত্নঃ
অতিরিক্ত গরমের সময় মুরগির শরীরে রক্ত চলাচল দ্রুততর হওয়ার জন্য হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়। ফলে যেকোন সময় হিটস্ট্রোকে মুরগি মারা যেতে পারে। এসময় ভিটামিন-সি ও ভিটামিন-ই ব্যবহার করলে হিটস্ট্রোক অনেকাংশে কমানো যায়। এছাড়া গরমে পোল্ট্রির অ্যামাইনো এসিডের চাহিদা বেড়ে যায়। আমরা জানি কালোজিরাতে প্রচুর পরিমাণে এমাইনো এসিড রয়েছে। সেজন্য ঘাটতি পূরণে আমরা ফিডে কালোজিরা ব্যবহার করতে পারি।

১। প্রতিদিন দুপুরে ০১লিটার পানিতে ১-২ টুকরো লেবুর রস সাথে ২০-২৫গ্রাম আখের গুড় এবং ০২চিমটি লবন মিশিয়ে সরবত খাওয়াতে পারি।

২। সম্ভব হলে মাঝে মাঝে ০১লিটার পানিতে ১-২ টুকরো লেবুর রস সাথে ১-২ চা-চামচ বিশুদ্ধ মধু এবং ২চা-চামচ এলোভেরা (ঘৃত কুমারী) জেল ভালোকরে মিশিয়ে সরবত খাওয়াতে পারি।

৩। সপ্তাহে ১-২দিন ০১লিটার পানিতে ১-২ চা-চামচ হলুদ গুড়া ভালকরে মিশিয়ে খাওয়াতে পারেন। আমরা জানি হলুদ খুব ভালমানের প্রাকৃতিক এন্টিবায়োটিক।

৪। সপ্তাহে ১-২দিন ১-২ চা-চামচ রসুন পেস্ট করে ০১লিটার পানিতে মিশিয়ে খাওয়াতে পারেন। এটা উপকারী ব্যকটেরিয়াকে বেড়ে উঠতে এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রনে রাখতে সহায়তা করে।

৫। মাসে ৩-৪ দিন সিরকা (ভিনেগার) ০১-১.৫এমএল ০১লিটার পানিতে মিশিয়ে খাওয়াতে পারেন।

৬। খাবারের সাথে প্রতি ১০০কেজিতে ২৫০গ্রাম হারে কালোজিরা+মেথি+আজওয়াইন (জাওন বা জৈন নামে পরিচিত) ভারোকরে মিশিয়ে খাওয়াতে পারি।

৭। এসময় বাচ্চা বা মুরগি ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন এড়িয়ে চলুন।

পুনশ্চঃ কারনে অকারনে এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার নয়, শুধুমাত্র সময়পোযোগী সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাই আপনার ফার্মের উৎপাদন ও লাভের চাকা সচল রাখতে পারে।

➤বিঃদ্রঃ পোস্টটি পড়ে উপকৃত হলে কপি নয়, শেয়া র করে অন্যান্য পোল্ট্রি মাস্টারদের দেখার সুযোগ করে দিন।

-চাষী মানিক
পরিচালক
শখের খামার এগ্রো প্রজেক্ট
ও এডমিন
Turkey & Poultry Masters Community School

Please follow and like us:

About admin

Check Also

খামারীর কৃপণতা এবং অপচয় যা ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়ায়।

খামারীর কৃপণতা যা তাকে লসে ফেলে দেয়,খামারীর অপচয় যা লসে ফেলে দেয় বা ক্ষতির কারণ …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »
error: Content is protected !!