Breaking News

পোল্ট্রি খাদ্যে মাইকোটক্সিন

মাইকোটক্সিন কথাটি গ্রীক শব্দ Mykes অর্থ ফাংগাস এবং ল্যাটিন শব্দ Toxicum অর্থ বিষ থেকে এসেছে.মোল্ডের বিপাক ক্রিয়ায় উৎপন্ন বস্তুকে মাইকোটক্সিন বলে।এই মোল্ড জন্মাতে পারে খাদ্য শস্য মাঠে থাকা অবস্থায় ,সংগ্রহ করার সনয়।জমা করে রাখার সময় এবং তৈরিকৃত সুষম খাদ্যে।মাইকোটক্সিনের প্রভাবে পাখীর ওজন কমে ,ডিম কমে ,মেডিসিনের কার্যকারিতা কমে,রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে,খাদ্য থেকে পুস্টি কম পায় এমন কি মৃত্যু ঘটে।অর্থনৈতিকভাবে মাংস বা ডিম উৎপাদন কম হওয়াতে যে ক্ষতি হয় তা নির্দিস্ট ভাবে নির্ণয় করা কঠিন,কারণ টক্সিনের দ্বারা পরোক্ষ ক্ষতি বিভিন্নভাবে হয়ে থাকে।

মাইকোটক্সিনের উৎপত্তিস্থল ঃ

আমাদের দেশের আবহাওয়া মাইকোটক্সিন নিঃসরণকারী মোল্ড জন্মাবার জন্য উপযুক্ত।কারণ তাপমাত্রা ,বাতাসের জলীয় বাষ্প,খাদ্যের মজুদ অবস্থা এবং নাড়াচাড়া মোল্ড জন্মাতে সহায়তা করে।অনাবৃস্টি,পোকামাকড়দের দ্বারা বর্দ্ধনশীল গাছপালার ক্ষতিসাধন,শস্যে অনিয়মিত সার প্রয়োগ,দেরিতে বীজ বপন,ইত্যাদি খাস্য শস্য টক্সিনের দ্বারা কলুষিত হতে সহায়তা করে।নিন্মমানের সংরক্ষণ অবস্থা,খাদ্য প্রস্তুতকারী মিলের যন্ত্রপাতি গুলো ঠিকভাবে না সাজানো,খাদ্য সরবরাহকারী পাত্র না বদলানো এবং অপ্রতুল সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা মোল্ড জন্মাতে এবং টক্সিন উতপাদনের সহায়ক।শুধু  চোখে দেখে  খাদ্যের মান নির্ণয় করা ঠিক না।

বিভিন্নভাবে খাদ্যে টক্সিন আসতে পারেঃ

ক।শস্য সংরক্ষরণ করার পূর্বে

খাদ্যে যদি ১৪% এর বেশি আর্দ্রতা থাকে.অতিরিক্ত তাপমাত্রায়

মোল্ডযুক্ত বাদাম খৈল থাকলে.নস্ট হয়ে যাওয়া খাদ্য শস্য থাকলে

খ।খাস্য শস্য সংরক্ষণ

আমাদের দেশে ৯০% খামারে বা আড়তে খাদ্য শস্য সংরক্ষরন করা অত্যন্ত খারাপ অবস্থায়।খাদ্য শস্য এর বস্তা গুলো মেঝের উপর দেয়ালর সংগে গাদা করে রাখা হয়।এমন কি গোডাউনের ভেন্টিলেশনের কোন ব্যবস্থা নাই।এই অবস্থা  মোল্ড জন্মাবার জন্য উপযুক্ত তাপ ও আর্দ্রতা পায়।

গ।পানিঃ

পানি মোল্ড জন্মাবার জন্য উপযুক্ত মাধ্যম।এই জন্য পানির ট্যাংকে ঢাকনা থাকতে ।সপ্তাহে অন্তত এক দিন জীবানূনাশক দিয়ে পানির ট্যাংক পরিস্কার করতে হবে।একই নিয়মে পানির ও খাবারের পাত্র পরিস্কার করা উচিত।

ঘ।লিটারঃ

ভিজা লিটার মোল্ড জন্মাতে সাহায্য করে,যদি মোল্ডযুক্ত খাদ্য লিটারে পরে এবং লিটারে যদি জলীয় বাষ্প থাকে তাহলে লিটারে বেশি পরিমাণে মাইকোটক্সিন তৈরি হবে।উচ্চ তাপমাত্রার কারণে ব্রুডার ঘরে মাইকোটক্সিনের মাত্রা বেড়ে যায়।এই অবস্থায় বাচ্চাতে টক্সিনের দ্বারা বিভিন সমস্যার সৃস্ট হয়।তাই ব্রুডিং কালে মোল্ডযুক্ত লিটার ব্যবহার করা উচিত না।পানির পাত্রের নিকটে মোল্ডযুক্ত লিটার এবং দলা পাকা লিটার সরিয়ে ফেলতে হবে।

মোরগ মুরগিতে ক্ষতিকর বিভিন্ন প্রকার মাইকোটক্সিন এবং আক্রান্ত  খাদ্য শস্য

পরিবেশে কয়েক হাজার প্রকারের মোল্ড আছে যা খাদ্য বস্তুতে বিভিন্ন প্রকার টক্সিন উৎপন্ন করে খাদ্যকে নস্ট করে।মোরগ মুরগিতে নিম্নের টক্সিন গুলো বেশি ক্ষতিকর

১।আফ্লটক্সিনঃ

এস্পারজিলাস প্যারাসাইটিকাস,ফ্লেভাস,নাইজার নামক মোল্ড থেকে তৈরি হয়।আফ্লাটক্সিন ৪প্রকার।বি১,বি২,জি১,জি২।এর মধ্যে বি১ বেশি বিষাক্ত  এবং ক্ষতিকর।বাদাম,তুলাবীজ ,কিছু তৈলবীজ ,ভুট্রা,রাইস পলিশ আক্রান্ত করে।

২,অর্ক্রাটক্সিন এঃ

এস্পাজিলাস অকারাকাস থেকে তোইরি হয়,মূলত অর্ক্রাটক্সিন ৩প্রকার,এ বি সি।মোরগ মুরগির জন্য এ ও সি বিষাক্ত।গম ,বার্লি,বাদাম,শিম,বরবটি,রাইস পলিশ এবং মিশ্রত খাদ্য শস্যে এই টক্সিন তৈরি হয়।

৩।ট্রাইকোথেছেন্সঃটি২টক্সিন)

ফ্রুসারিয়াম ট্রাইসিঙ্কট্রাম,ব্যাস্কাম,অক্সিস্পেরাম,মাইকোথেকাম ক্যালোনেক্ট্রিয়া নামক মোল্ড থেকে তৈরি হয়।দানাদার খাদ্যশস্য এবং মিশ্রিত খাদ্যেকে আক্রান্ত করে।

৪।জিয়ারালেননঃ(এফ-২টক্সিন)ঃ

এগুলো উৎপন্ন হয় ফুসারিয়াম গ্রামিনিয়েরাম,ফুসারিয়েরাম মোমিলি নামক মোল্ড থেকে।ভুট্রা,সরগম,গম এই টক্সিন পাওয়া যায়।মাঝে মাখে রাইস পলশে পাওয়া যায়।

মাইকোটক্সিন দ্বারা মোরগ মুরগিতে রোগ সংক্রান্ত  এবং জৈবিক ক্ষতিকর প্রভাব সমূহ

২ভাবে ক্ষতি করে

১।তীব্র আকারে মাইকোটক্সিকোসিস

২।দীর্ঘ মেয়াদী মাইকোটক্সিকোসিস

মোরগ মুরগি মাইকোটক্সিন যুক্ত খাদ্য খেলে পিতামাতা হতে প্রাপ্ত এবং নিজস্ব অর্জিত রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দূর্বল হয়ে যায় এবং নিম্ন লিখিত রোগ লক্ষণ দেখা যায়।

ক।আলফাটক্সিন

লিভার নস্ট হয়,রোধ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অবদমিত হয়,ওজন কমে যায়,এফ সি আর কমে যায়,ডিম উৎপাদন কমে যায়।আলফাটক্সিনের সহনীয় মাত্রা .০.২০ পিপিএম।টক্সিনের মাত্রা বেশি হলে পাখি মারা যায়।দীর্ঘদিন খাদ্যে আলফাটক্সিন থাকলে ডিমের কুসুম গঠন হয় না এবং ডিম দেয়া বন্ধ করে দেয়,হাড় গঠন ঠিক মত হয় না।ভিটামিন ডি ঠিকমত ব্যবহার হয় না।বিভিন্ন মিনারেলস ও ব্যবহৃত হয় না।ক্ষতিকর প্রভাব অনুযায়ী আলফাটক্সিন কে হেপাটোটক্সিন/নেফ্রোটক্সিন/কারসিনোজেন্স/রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অবদমিত টক্সিন/জেনিটক্সিন/টেরাটোজেন্স।

খ।ট্রাইকোথেছেন্স(টি২ টক্সিন)

পাকস্থলীর প্রদাহ হয়ে শক্ত আবরণ পড়ে,ভিসেরাগুলোতে রক্তক্ষরণ হয়,রোধ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অবদমিত হ্য়,পালক গঠন ভাল হয় না,খাবার কমে যায়,ডিমের খোসা পাতলা হয়,হ্যাচিং হার কমে যায়,ডিম্বনালী এবং বার্সা বড় হয়ে যায়।হার্টে মাংস্পেশিতে রক্তক্ষরণ হয়,স্নায়ুতন্ত্র দূর্বল হয়।ক্ষতির প্রভাব অনুযায়ী এই টক্সিন কে হেপাটোটক্সিন/কারসিনোজেন্স/নিউরোটক্সিন/ডার্মাটোটক্সিন বলে।

গঃঅক্রাটক্সিনঃ

মূত্রতন্ত্র নস্ট হয় এবং কিডনি বড় হয়,ডিম কমে যায়,ডিমের গুণ গত মান নস্ট হয়,ওজন কমে যায়,ডিম্বাশয় এবং ডিম্বনালীতে প্রদাহ হয়।রোধ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অবদমিত হ্য়,লিভারের কার্যক্রম নস্ট হয়,হ্যাচিং রেট কমে যায়।

ক্ষতিকর প্রভাব অনুযায়ী এই টক্সিন কে নেফ্রোটক্সিন/হেপাটোটক্সিন/কারসিনোজেন্স/নিউরোটক্সিন/টেরাটোজেন্স/রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অবদমিত টক্সিন বলে।

ঘ।জিয়ারেলনঃ

ইস্টোজেন হরমোন তৈরিতে বাধা দেয়,ডিম কমে যায়,ডিমের গুন গত মান নস্ট হয়,ওজন কমে যায়,ডিম্বাশয় এবং ডিম্বানালীর প্রদাহ হয়।খাদ্যনালীকে আক্রান্ত করে এবং পায়খানায় ছিটাযুক্ত রক্ত আসে।হার্ট,অন্ত্রনালী এবং ফুসফুসে রক্তক্ষরণ হয়।ক্ষতির প্রভাব অনুযায়ী  এই টক্সিন কে জেনিটক্সিন বলে।এছাড়াও মাইকোটক্সিনের দ্বারা ক্যান্সার হতে পারে,বিকলাংগ হতে পারে।

মাইকোটক্সিন আমিষ উৎপাদনে বাধা দেয়,আন্তকোষীয় বন্ধন সৃস্টি হতে দেয় না।

মাইকোটক্সিন বিভিন্ন রকমের খাদ্য পুস্টিকে নস্ট করে।যেমন ভিটামিন এ,ডি,রিবোফ্লেভিন,প্যান্থোনিক এসিড,বায়োটিন,থায়ামিন ইত্যাদি।

খাদ্যে আমিষ এবং  এমানোএসিড বেশি থাকলে আলফাটক্সিন এবং জিয়ারালেনন টক্সিনের ক্ষতিকর প্রভাব কম পড়ে।

খাদ্যে চর্বি বেশি থাকলে আলফাটক্সিনের ক্ষতিকর প্রভাব কম পড়ে।এক্ষেত্রে আনস্যাসুরেটেড  ফ্যাটি এসিড বেশি থাকলে আলফাটক্সিনের ক্ষতিকর প্রভাব কম পড়ে।

খাদ্যে মাইকোটক্সিনের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাঃ

খাদ্য শস্য মজুদ করার সময় ইস্ট মোল্ড জন্ম রোধক যেমন কপার সালফেট,বিভিন্ন জৈব এসিড ,HSCAS,জেনশন বায়োলেট, এর যে কোন একটা বা কয়েকটা একত্রে মিশিয়ে যেমন টক্সিনিল ড্রাই খাদ্য শস্যে মিশিয়ে রাখতে হবে যেন ইস্ট মোল্ড বংশ বিস্তার না করতে পারে।

মাইকোটক্সিকোসিসের চিকিৎসা ঃ

১।পাখিকে চিকিৎসা

সন্দেহযুক্ত খাদ্য খাওয়ানো বন্ধ করা.পর্যাপ্ত পানি খাওয়ানো.

কোলিন ক্লোরাইড সহ লিভারটনিক দেয়া.পানিতে আখের গুড় বা তালের গুড় দেয়া

খাদ্যে আমিষ ও এনার্জি বাড়িয়ে দেয়া.চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন ,ভিটামিন বি কমপ্লেজ এবং বায়োটিন খাওয়াতে হবে।

২।খাদ্যের মোল্ড দমন করা

খাদ্যই মাইকোটক্সিনের উৎপত্তি স্থল কারণ খাদ্য শস্যে বেশি জলীয় বাষ্প এবং নস্ট খাদ্য শস্য ,খাদ্য সংরক্ষণ ঠিক না হলে মাইকোটক্সিন নিঃসরিত হয়।খাদ্য শস্য বায়ু চলাচল করে এমন ছিদ্রবিহীন ছাদের নীচে এবং বস্তায় উচুতে রাখতে হবে।মেঝে এবং প্রাচীরে শক্তিশালী জীবাণূনাশক স্প্রে করতে হবে যাতে ব্যাক্টেরিয়া এবং মোল্ড ধবংস হয়।

৩।খাদ্যের মাইকোটক্সিন নস্ট করাঃ

খাদ্য শস্যের মাইকোটক্সিনকে মুক্ত করার অনেক কিছু আছে

ক।জৈব এসিড,জিওলাইটস,কপার সালফেট এক ত্রে ব্যবহার করে। বিভিন্ন জৈব এসিড যেমন ফরমিক এসিড ,প্রোপায়নিক এসিড,এসিটিক সাইট্রিক এসিড খাদ্যে মিশিয়ে খাদ্যের পি এইচ কমানো হয়।এর ফলে ব্যাক্টেরিয়া এবং মোল্ড  জন্মানো ব্যহত হয়।এছাড়া জিওলাইটস হচ্ছে ক্যালসিয়াম লবণ যাকে HSCAS   বলা হয়।হাইড্রেটেট সোডিয়াম ক্যালসিয়াম এলুমিনিয়াম সিলিকেট। এই লবণ অন্ত্রনালীতে মাইকোটক্সিন কে বেধে ফেলে এবং ক্ষতিমুক্ত হয়ে বিস্টার সাথে বের হয়ে যায়।এম্অন টক্সিন বাইন্ডার সিলেট করতে হবে যাতে মোল্ডের জন্ম রোধ করে পাশাপাশি টক্সিন কে বাইন্ড করে (টক্সিনিল ড্রাই)

খ।খাদ্য রোদ্রে শুকানো এটা ভাল পন্থা কিন্তু এতে খাদ্যের পুস্টি মান নস্ট হয়।

গ.১৭৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটে খাদ্যকে ঝলসালে খাদ্য টক্সিন কমে যায়

ঘ।আল্টা ভায়োলেট এবং ইস্ট কালসার

ক্সিনের উপস্থিতি এবং পরিমাণ নির্ণয়

১।থিন লেয়ার ক্রোমাটোগ্রাফি পদ্ধতি

২।প্রেসার মিনিকোলাম পদ্ধতি

৩।আলফাটক্সিনোমিটার(ফ্লোরোটক্সিনোমিটার)

৪।হাইপাফরমেন্স লিকুইড ক্রোমাটোগ্রাফি

৫।এলাইজা টেস্ট

৬।সিলেক্টিভ   এবজরবে ন্ট

মাইকোটক্সিনের জন্য নমুনা সংগ্রহঃ

সাধারণত ১-৩ % শস্যে মাইকোটক্সিন থাকে৯০% ক্ষেত্রে মাইকোটক্সিন নির্ণয় ভুল হয় নমুনা সংগ্রহে ভুল হবার কারণে

ছোট আকারের দানা     গম/চাল ভাংগা    ৫কেজি

মাঝারি আকারের দানা     সয়াবিন/জোয়ার  ১০কেজি

বড় আকারের দানা     ভুট্রা/ফিস মিল   ২০কেজি

ডা রাইস স্যারের লেখা থেকে

হেড অফ টেকনিকেল(সাবেক নোভার্টিস)

কালার দেখে মাইকোটক্সিন বুঝা যায়

কালো:অক্রাটক্সিন এবং আফ্লাটক্সিন

গোলাপীঃ ফুসারিয়াম

কালোঃ আফ্লাটক্সিন( কালো স্পট কাছাকাছি)

সাদাঃ টি২ টক্সিন (সাদা হবার কারণে ডি অয়েল রাইস ব্রান ,রাইস ব্রান এবং চাল ভাংগায়  বুঝা যায় না)

Please follow and like us:

About admin

Check Also

বাচ্চা মুরগিতে ১ম সপ্তাহে কেন রোগ কম হয়,২সপ্তাহের দিকে কেন বেশি হয়।

বাচ্চাতে ম্যাটার্নাল এম ডি এ নয়ে আসে যা প্রটেকশন দেয়।আবার ২ সপ্তাহে বা পরের দিকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »
error: Content is protected !!