Breaking News

পুলোরাম রোগঃ(সালমোনেলোসিস)

পুলোরাম রোগঃ

এটি সালমোনেলা পুলোরাম দিয়ে হয়,এটি হাইলি কন্টাজিয়াস ও সিস্টেমিক ডিজিজ যাঃ(একিউট)তীব্র আকারে বাচ্চায় ছড়িয়ে পড়ে।সাদা পায়খানা হয় বলে আগে একে ব্যাসিলারি হোয়াইট ডায়রিয়া বলা হত।সব জায়গায়ই এটি আছে।Rettger  ১৮৯৯ সালে ১ম এই এজেন্ট চিহ্নিত করেন।অন্য জীবানূর তুলনায় এটি কঠিন পরিবেশেও বেঁচে থাকতে পারে।পি এইচ ৪-৯ এর মধ্যে বেচে থাকে তবে ৭ হল সবচেয়ে ভাল।

এটি অনেক প্রকারের এন্টিজেনিক চারিত্রিক বৈশিষ্টের হয় যেমন ৯,১২(১),১২(২),১২(৩),বিভিন্ন স্ট্রেইনে ০-১ এন্টিজেন আছে কিন্তু স্ট্যান্ডাড স্ট্রেইনে কম পরিমানে ১২(২) আছে।এই কারণে এই জীবানূর বিরুদ্ধে তেমন কোন টিকা নাই।এই রোগে 0-৫০% মারা যায় এমনকি ১০০% হতে পারে যা নির্ভর করে গাদাগাদি,ঠান্ডা লাগা,ভেন্টিলেশন,নোংড়া পরিবেশ এবং অন্য রোগের উপস্থিতির উপর।সালমোনেলা সিরোটাইপ ডি গ্রুপের অন্তভুর্ক্ত।এটি ফ্যাকাল্টেটিভ এনারোবিক।ডেক্সটোজ ও ম্যানিটোজ এ ফার্মেটেশন করে এবং গ্যাস তৈরি করে।জীবাণুনাশক দিয়ে সহজে মারা যায়।

 ১ম সপ্তাহেই মর্টালিটি দেখা যায় তবে ২-৩ সপ্তাহের বাচ্চা আক্রান্ত হলে বেশি মারা যায় এবং এই সময়েই  প্রধানত হয়।এই জীবাণূ ৪০- ৫২ ডিগ্রি তাপমাত্রায় টিকে থাকে কিন্তু ৩৩-৩৭ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ভাল বিস্তার লাভ করে।আক্রান্ত ফার্মে ৩০ সপ্তাহ  পর্যন্ত বাচে।

কিভাবে ছড়ায়ঃ

ফাউল টাইফয়েড এর মতই তবে হ্যাচারিকে টাইম বোমার সাথে তুলনা করা হয়েছে,হ্যাচারিতে ডিম ১৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় রাখলেও জীবানূ ডিমে প্রবেশ করে।ভার্টিকে্ল এবং হরিজোন্টাল দুইভাবেই ছড়ায়।

Transovarian Tranmission।

পরিবহন (ট্রাক,রিক্সা,পিক আপ,ভ্যান) খাবার ও ডিমের গাড়ি।মুরগিতে যদি ক্যানাবলিজম হয় তাহলে এক মুরগি থেকে অন্য মুরগিতে যায়।ভেক্সিনেটরের এবং ডিবেকার লোকদের মাধ্যমে ছড়ায়হ্যাচারীতে আক্রান্ত বাচ্চা থেকে সুস্থ বাচ্চাতে পালকের মাধ্যমে ছড়ায়।তাছাড়া পায়খানার মাধ্যমে ছড়ায়।

আমেরিকায় ৬৭-৯১% ফার্মে এই জীবানূ আছে।ফিশমিল,মিট এন্ড বোনমিল,তিলের খৈল,সয়াবিন মিল,বাদাম এবং সূর্য মুখী মিল থেকেও এই জীবানূ খাদ্যে যায়।মাছি,মাছির লার্ভা,ইদুর এবং বন্য প্রানীর পায়খানা থেকে সালমোনেলা জীবানূ মুরগির খাদ্য উপাদানে প্রবেশ করেমুরগি এবং খাবার বিক্রেতার মাধ্যমে ও ছড়াতে পারে।ম্যাগোট,ধুলা বালি।ভিজিটর।কবুতর দিয়ে ১৭% সালমোনেলোসিস হয়ে থাকে

হোস্টঃ

টার্কি ও মুরগি বেশি আক্রান্ত হয়।হালকা জাতের তুলনায় ভারি জাত,সাদার তুলনায় লাল,মোরগের তুলনায় মুরগি বেশি আক্রান্ত হয়।তবে হাঁস,কোয়েল,কবুতরও হতে পারে।বয়স্ক পাখিতে asymptomatics

পরিবেশঃগরম পরিবেশে থাকা  মুরগি ও টার্কিতে সালমোনেলোসিস বেশি হয়।

প্যাথোজেনেসিসঃ

লিভার,সিকাম,হার্ট,গিজার্ড,স্প্লিন ,চোখ,গিরা,ক্ষুদ্রান্ত্র,ওভাম।সিস্টেমিক হলে বিভিন্ন অর্গানে চলে যায়।

লক্ষনঃ

বাচ্চায়ঃ

ইনকিউবেটরে মৃত বাচ্চা পাওয়া যায় বা ফোটার পর বাচ্চা মারা যায়,আক্রান্ত বাচ্চা হবে তন্দ্রাচ্ছন্ন,দূর্বল,খাবার কম খাবে এবং মারা যাবে।৫-১০ দিনে  কম মারা যায়।কিন্তু ২-৩ সপ্তাহে বাচ্চা মারা যাওয়া শুরু করে,হোভারের নিচে বাচ্চা জমা হয়,পাখনা ঝুলে পড়ে ও খুব বেশি  চেচামেচি করে,সাদা চকের মত পায়খানা করে,মাঝে মাঝে সবুজাভ বাদামী রং এর পায়খানা করে এবং পায়খানার রাস্তায় লেগে থাকে।

বাচ্চায় জ্বর হয় তাই গাদাগাদি করে থাকে কিন্তু খামারী মনে করে তাপ কম হয়েছে এবং তাপ বাড়াতে থাকে তবু কাজ হয় না।ফুসফুস আক্রান্ত হলে শ্বাসকষ্ট দেখা যায়।আক্রান্তের পর যে বাচ্চা টিকে তাদের বৃদ্ধি কম হয় এবং পালক কম উঠে।পালক উস্কোখোস্কো হয়।বাচ্চা প্রচন্ড কিচির মিচির করে ।

ব্রয়লারে বাচ্চা অন্ধ হয়ে যেতে পারে ও পায়ের গিরা ফুলে খোড়া হয়ে যেতে পারে।বয়স্ক টার্কি ও মুরগি

তীব্র আকারে রোগ লক্ষন দেখা যায়না,বিভিন্ন মাত্রায় ডিম কমে,ডিমের হ্যাচাবিলিটি এবং ফার্টিলিটি কমে যায়,তীব্র আকারে হলে ঝুটি ফ্যাকাশে হয়ে যায়,পাতলা পায়খানা হয় এবং মারা যায়।মৃদু আক্রমণে অস্তিরতা দেখা যায়

পোস্ট মর্টেম

বাচ্চাঃ

হটাত(পার একিউট) বাচ্চা মারা গেলে  প্রথম কোন লক্ষণ বুঝা যায়না।তবে লিভার বড় দেখায় এবং লিভারের হলুদ রং পরিবর্তিত হয়ে কনজেসটেড হয়,রক্তের ডোরাকাটা দাগ দেখা যায়।সেপ্টিসেমিক ফলে অন্যান্য অংগে রক্ত দেখা যায়।কুসুম হলুদ রং এর হয় যা সহজে শুকায়না।সিকামে প্রদাহ হয়,বড় হয় এবং এতে শক্ত,শুকনা বস্তু দেখা যায়।সাদা সাদা ফোটা বা নডিউল হৃদপিন্ডের মাংসে,লিভারে,ফুসফুসে,সিকামে,বৃহদান্তে এবং গিজার্ডের মাংস পেশিতে দেখা যায়।সিকামে রক্ত বা কেজিয়াস দ্রব্য দেখা যায়,প্লিন বড় হয়ে যায়,অন্তনালী পুরু হয়ে যায়।ইউরেটারে ইউরেট ক্রিস্টাল দেখা যায়।

বয়স্ক মুরগি ও টার্কি ঃ(কম গুরুত্বপূর্ণ কারণ ক্লিনিকেল রুপে তেমন পাওয়া যায় না।)যে সমস্ত টার্কিতে অনেক দিন ধরে এই জীবানূ থাকে এবং আক্রান্ত হয়,সেসব ক্ষেত্রে ডিম্বানুতে সিস্ট থাকে,বিকৃত আকারের হয়,এবং রং পরিবরতিত হয়,পেরিটোনিয়ামে প্রদাহ দেখা যায়।

মাঝে মাঝে হৃদপিন্ডের আবরনে প্রদাহ দেখা যায়।আক্রান্ত ডিম্বানুতে তরলীকৃত এবং কেসিয়াস বস্তু দেখা যায় যা মোটা ক্যাপসুল দ্বারা আবৃত থাকে।এই ওভারিয়ান ফলিকল গুলো নিবিড়ভাবে ওভারীর সহিত লেগে থাকে।ডিম্বাশয়ে রক্তের দাগ দেখা যায়।আবার মাঝে মাঝে দোলকের ন্যায় ঝুলে থাকে যা ডিম্বাশয়ের অন্যান্য বস্তু থেকে আলাদা।এক্ষেত্রে ডিম্বাশয় এবং ডিম্বনালি অকার্যকর হয়ে যায়।মোরগের জননতন্ত্র ও আক্রান্ত হয়।মাঝে মাঝে ডিম্বানু গুলো সিস্টের মত হয় এবং ওভারি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে উদর গহবরে উন্মক্ত থাকে বা পেরিটোনিয়মের কিনারায় লেগে থাকে,পেরিটোনিয়ামের প্রদাহ করে।

রোগ নির্ণয়

রোগের লক্ষন দেখে

রোগ নির্ণয় করা কঠিন,

পোস্ট মর্টেম করে কিছুটা আন্দাজ করা যায়,

সঠিক নির্ণয় করতে হলে রক্ত পরীক্ষা করতে হবে।

ডিফারেনশিয়াল ডায়াগ্নোসিস

ফাউল টাইফয়েড হলেও এমন লক্ষন এবং লেশন দেখা যায়,তাছাড়া নিউমোনিয়া হলেও ফুসফুসে এমন লেশন দেখা যায়।

বাচ্চার অস্তি সন্ধিতে যে লক্ষন দেখা যায় তা মাইকোপ্লাজমা সাইনোভি দ্বারাও হয়।ওভারি এবং হৃদপিন্ডের আবরনে ক্ষত দেখে অন্যান্য ব্যাক্টেরিয়ার আক্রমন থেকে পুলোরাম রোগ কে চেনা যায়।

রোগ নির্ণয় পদ্ধতিঃ

ক্লিনিকেল লক্ষণ দেখে

পোস্ট মর্টেম করে

সিরাম প্লেট এগ্লুটিনেশন করে

ব্যাক্টেরিয়া কালচার করে

এলাইজা করে

পি সি আর

চিকিৎসাঃ

চিকিৎসা দিয়ে লক্ষণ দূর করা যায় কিন্তু রোগ দূর করা যায়না।

কসুমিক্স প্লাস ০.0৪% ১০-১৪ দিন খাদ্যে।

সি টি সি ২২০ মি গ্রা পার কেজি খাদ্যে ১০ দিন।

নিচের যে কোন একটি দেয়া যায়।

কোইনোলন গ্রুপ

জেন্টামাইসিন

নিওমাইসি

রোগ প্রতিরোধ এবং দমনঃ

খাদ্যঃ

খাদ্যের উপাদান ভাল ভাবে সংরক্ষন করতে হবে তা নাহলে ইদুর বা অন্যান্য পোকা মাকড়  দ্বারা রোগ খাদ্যে আসতে পারে।ফিড মিলের যন্তপাতি গুলো ভাল ভাবে পরিস্কার না করলে সালমোনেলা আসতে পারে,৮২ সেন্টিগ্রেট তাপমাত্রায় খাদ্য পিলেটিং করতে পারলে সালমোনেলা কিছুটা কমে।খাদ্যে এসিডিফায়ার সালমোনিল ড্রাই ৩০০-৪০০গ্রাম ১০০কেজি খাদ্যে দিলে ভাল হয়খাদ্যে প্রবায়োটিক প্রটেক্সিন ১০০ গ্রাম ১ টন খাদ্যে দিলে ভাল ফল পাওয়া যায়।

ইদুরের পরেই কবুতরের স্থান তাই এসব যাতে আশে পাশে না আসে বা থাকে সে ব্যবস্থা করতে হবে।খাবার,বাচ্চা,বয়স্ক মুরগি এবং ডিম এক সাথে বিক্রি করা যাবেনা।কেউ যাতে সালমোনেলা জীবানূ নিয়ে ফার্মে না ঢুকে সে ব্যবস্থা করতে হবে।ব্রীডার এবং  হ্যাচারির বায়োসিকিউরিটি ভাল করতে হবে যাতে সা্লমোনেলা মুক্ত থাকে।

Please follow and like us:

About admin

Check Also

বাচ্চা মুরগিতে ১ম সপ্তাহে কেন রোগ কম হয়,২সপ্তাহের দিকে কেন বেশি হয়।

বাচ্চাতে ম্যাটার্নাল এম ডি এ নয়ে আসে যা প্রটেকশন দেয়।আবার ২ সপ্তাহে বা পরের দিকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »
error: Content is protected !!