Breaking News

পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হয়েছে,বিসিএস,জব ফিকশন ২০৫০

পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হয়েছে
তাই বুঝি
মনটা ভীষন খারাপ।
আরে বোকা, মন খারাপের কী আছে?
বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসন
পরীক্ষার আগের রাতে তার এক
টিচারকে
বলেছিলেন:
“কাল আমার পরীক্ষা,অথচ এটা
আমার কাছে তেমন কিছু না।কারন
পরীক্ষার খাতার কয়েকটি পাতা
আমার ভবিষ্যত নির্ধারন করতে পারে
না।
তুমি পাশ করতে পারো নাই তো কি
হয়েছে?
নিউটন,আইনস্টাইন,আব্রাহাম
লিংকন,বিল গেটস,রবীন্দ্রনাথ, মহাত্না
গান্ধী এদের মত অনেক বিখ্যাত মনিষী
এসব কাগজ কলমের পরীক্ষায় পাশ করতে
পারে নাই।
আমাদের জাতীয় কবি নজরুল তো
কলেজে পড়ার সুযোগ পাননি।
অথচ আজ নজরুলের লেখা কবিতা
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হচ্ছে। আবার
অনেকেই কলেজে ভর্তি হয়ে পাশ
করতে পারে নাই (যেমন বিল গেটস)
.
পদার্থ বিজ্ঞানের বরপুত্র স্যার আলবার্ট
আইনস্টান এন্টাস(বর্তমান SSC)পাশ
করেছিলেন তিনবার পরীক্ষা দিয়ে।
ছোটবেলায় আইনস্টাইনের এক
শিক্ষক তার বাবাকে দেওয়া এক
চিঠিতে
লিখেছিলেন;
“আপনার টমি(আইনস্টাইনের বাবা
তাকে আদর করে টমি নামে ডাকতেন)
এতটা বোকা যে ওকে
পড়ানো আমার পক্ষে সম্ভব নয়”।
বাবার খুব ইচ্ছা ছিল টমিকে
ইন্জিনিয়ারিং পড়াবেন।কিন্তু
আইনস্টাইন গনিতে এত দুর্বল
ছিলেন বাবার শখের
ইন্জিনিয়ারিং পড়তে পারেন
নি।কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর মাত্র ছয়
বছর পরিশ্রমে এই বোকা টমি
হয়েছিলেন
পৃথিবীর শেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের একজন।
.
লুকা ডি প্যাসিওলি কে তার
মা প্রায় সময় বাজার করার
জন্য পাঠাতেন।লুকা
এতটাই কম হিসাব জানতেন
মাকে ঠিকমত বাজারের
হিসাব দিতে পারতেন না।এজন্য
প্রতিদিন মায়ের মার খেতেন।
কিন্তু পরবর্তীতে বাজারের হিসাব
দিতে না পারা ছেলেটি আধুনিক
হিসাব
বিজ্ঞানের জনক।
.ছোট্ট একটি ছেলে ভর্তি হয়েছিল গ্রামের পার্শ্ববর্তী কোন স্কুলে। ওই স্কুলের কর্তৃপক্ষ ছেলেটিকে অন্য সকল ছেলেদের তুলনায় কম মেধাবী হওয়ার কারণে তাদের স্কুল থেকে টিসি দিতে বাধ্য হয়।
আর সেই ছেলে হলো, বর্তমান পৃথিবীকে আলোকিত করার জনক, “টমাস আলভা এডিসন”
(বৈদ্যুতিক বাতির আবিষ্কারক)
সে হয়তো পরীক্ষার খাতা কে আলোকিত করতে পারিনি সে আলোকিত করেছে গোটা বিশ্বকে।
.
হয়তবা তোমার ব্যর্থতার মাঝে
লুকিয়ে আছে সাফল্যের বীজ।
শোককে শক্তিতে পরিনত কর।
একদিন তুমি পারবে জয় করতে””
আজ যারা তোমাকে নিয়ে নিন্দা
করছে, দেখবে তারাই তোমার সাফল্য দেখে
কাল হাত তালি দিবে।

প্রসঙ্গঃ বিসিএস
সংগাঃ যে প্রক্রিয়ায় তামা, রূপা, সোনা, পিতল, কয়লা,ধান, চাল, আলু, তেল, গ্যাস, গোবর, বালু, হাতি, ঘোড়া একই নিক্তিতে মাপা হয়, তাকে বিসিএস বলে। যদিও কঠিন, তরল বা বায়বীয় পদার্থ মাপার পদ্ধতি বা ব্যবস্থা ভিন্ন হওয়ার কথা। কিন্তু এখানে এটাই সবাইকে মূল্যায়নের শ্রেষ্ঠ পদ্ধতি।
এই প্রক্রিয়াতে লাখ লাখ ছেলে মেয়েকে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় মাত্র এক/ দেড় হাজার বিভিন্ন ধরণের পোস্টের বিপরীতে যুদ্ধে নামতে। যে বাংলা/ বিজ্ঞান/ ইতিহাস পড়েছে সেও যেভাবে প্রিপারেশন নেবে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা আরো যারা টেকনিকেল পড়াশোনা করে তারাও সেই একই তোতা কাহিনী মুখস্ত করবে। আজ যদি রবীন্দ্রনাথ আর নজরুল বেচে থাকতেন তাহলে আমি একটা চিটি পাঠাতাম উনাদের। সেখানে জানতে চাইতাম কেন আপনারা আমাদের নির্যাতনের পথ তৈরি করেছেন এত এত লেখা লিখে? আপনাদের কোন কবি কয়টা কবিতা, উপন্যাস, গল্প, রম্য, লিখেছেন; সেসবের আবার কোন লেখার কোন উক্তি সেসব প্রক্রিয়া ঠোটস্ত করতে হবে? রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার তোতাকাহিনীতে নিজে এই সবের বিরোধিতা এতবছর আগে করে গেলেও সে প্রথা তো এখন আরো জোরদার হচ্ছে দিনকে দিন। গতবছর দিয়েছে ৩ লাখ। এবার ৪.৫ লাখ। তাহলে কি করা যায়। আরে এগুলোরে ছাটায়ের জন্য পড়া বাড়িয়ে দাও। আগে ১০ টা সাবজেক্ট ছিল। এবার ১৫ টা সিলেবাসে দিয়ে দাও। এর পরের বছর ৬ লাখ প্রার্থী। ওহ! বাদ দেবো সেটা কোন ব্যাপার! আরো ৫টা সাবজেক্ট দিয়ে দাও, ওরা মুখস্ত করুক। ওরা জীবনের সেরা সময় সৃজনশীল কিছু না করে সারা বিশ্বের আবিষ্কারের ইতিহাস শুধু মুখস্ত করুক। মজা আরো দেখাবো। আনকমন অদ্ভূত প্রশ্ন দাও তাহলে যারা পড়ে তারাও কমন পাবে না, যারা পড়েনা তারাও পাবে না — সবাই সমান। অনেকেরই চাকরির ইচ্ছা বা স্বপ্ন থাকতে পারে, তাই বলে এই লেজে গোবরে প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে তাকে যেতে হবে? যে ডাক্তার সে রোগী আসলে হিস্ট্রি নেবে এভাবেঃ তোমার(মালিক) গরুটি কি সন্ধ্যায় অভিসারে গিয়াছিল? সেখানে সেটি জলকেলি করিয়াছে?
তার কি কাদম্বিনী দেবীর দেওয়া খাবার হজম হচ্ছে না?
শেক্সপিয়রের সাথে কি তোমার গাভীটি পত্রালাপ করে?
জন ডোনে (প্রেমের কবি) কি তোমার গরুটিকে প্রেমের কাব্য শোনায়?
এরপর চিকিৎসা ঃ ১৯৮০ সালে ২৪ সেপ্টেম্বর ওয়ার্ডস্ওয়ার্থের কাছে তোমার গাভী প্রকৃতির কথা শুনিয়া প্রকৃতির ভালবাসার রোগে আক্রান্ত।
সে মাঝে মাঝে উন্মাদের মত ছুটে চলে জীবনানন্দ দাশের কাছে রূপসী বাংলার কথা শুনতে।
এখন একে ম্যাককরনীর দেওয়া কিছু নীতি শিক্ষার উপাদান শেখাতে হবে।
তাহলে চিকিৎসা টা বেশ উপযুক্ত হবে তাইনা? ডাক্তার একেবারে দক্ষ। বিভিন্ন কমিটি আলাদাকরে নিয়োগ দিতে পারে বিভিন্ন সেক্টর এর কর্মী। এই তোতা কাহিনী নিয়ে কেউ মুখ খোলে না কেন সেটাও জানতে ইচ্ছা করে।
এসব থেকে পরিত্রাণের উপায় বের করতে হবে।

লেখিকা ঃMita Chakraborty

ব ফিকশন ২০৫০
————————-
সাল ২০৫০। বাংলাদেশে শিল্প বিপ্লব হয়েছে। দেশের শিক্ষিত যুব সমাজ আর বেকার নেই। তারা এখন আর চাকরীর জন্য অপেক্ষা করে না। দেশের প্রতিটি বাড়িই যেন আজ ছোট ছোট কুটির শিল্প। বিশ্ব বাজারে প্রচুর পরিমাণে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশী পন্য। চীনকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। রপ্তানি বাণিজ্য সহজ করে দেয়া হয়েছে। নেই কোন জটিলতা, দুর্নীতি। যে কেউ খুব সহজেই পন্য বিদেশে রপ্তানি করতে পারে। যুবকদের মনে আর চাকরীর জন্য হাহাকার নেই। অনার্স পাশ করার আগেই তারা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাচ্ছে। তবে খুব সমস্যায় আছে চাকরী দাতারা। তাদের সেই ভাব প্রতিপত্তি এখন আর নাই। চাকরী প্রার্থী পাওয়াই কঠিন হয়ে গেছে। বাছাই সেত দূর কি বাত। কত সুন্দর দিন ছিল ২০১৮ সালে। ১ টি পদের জন্য লাখ লাখ বেকারের করুন হাহাকার। চাকরী দাতাদের সেই ভাব। চাকরী না দিলে যাবি কোথায় টাইপ। কত খেলাই না খেলা যেত বেকারদের দিয়ে। হুতাশন, পাবক এসব হাবিজাবি শব্দ মুখস্ত করতে দিলেও কোন বেকার আপত্তি করত না। তারা বলত না এসব অপ্রচলিত ভাষা কেন আমাদের শিখতে হবে। তারা প্রতিবাদ করে বলত না চাকরী করতে শব্দের উৎপত্তি রহস্য, কারক, সমাস জানার কি প্রয়োজন। যাই বলা হত, দেয়া হত সবই বেকাররা মেনে নিত। না মেনে যাবে কোথায়! কিন্তু এখন পরিস্থিতি উল্টে গেছে। ৫০০০ পদ পূরণের জন্য প্রার্থী চেয়ে বিসিএসের সার্কুলার আসল। অথচ আবেদন পড়েছে মাত্র ৩০০০। তার মধ্যে ১০০০ আবার প্রিলিতে অনুপস্থিত। বিশেষ ঘোষণায় লিখিত পরীক্ষা রহিত করা হল। কারন ২০০০ এর মধ্যে কাউকে বাদ দেয়া যাবে না। এমনিতেই লোক সংকট। আজ ভাইভা দিবে শুভ।
দরজা খুলে প্রবেশ করল শুভ। সালাম দিল। অথচ কেউ বসতে বলছে না। এ কেমন অভদ্রতা। শুভ কিছু না বলে টুপ করে বসে পড়ল। স্যাররা এই আচরণে একটু চমকে গেল। এ যেন এক অদৃশ্য পাল্টা জবাব। এক সময় ক্ষমতা এক পাক্ষিক ছিল কিন্তু এখন দুই পাক্ষিক। কাজ করার জন্য লোক লাগবে। কিছুই করার নেই।
-আচ্ছা বলুনত, পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব কত?
-জানি না। চাঁদের দূরত্ব দিয়ে আমার কি কাজ? আমিত নাসায় ভাইভা দিতে আসি নাই।
প্রশ্ন কর্তা বোকার মত প্রশ্ন করে মিইয়ে গেলেন। কিছু বলার নেই। লোক লাগবে।
-আচ্ছা বলুনত তৎপুরুষ সমাস কত প্রকার?
-স্যার এসব কি বলছেন। আমি বিজ্ঞানের ছাত্র। আমাকে নিশ্চয়ই কলেজে বাংলা ব্যাকরণ পড়াতে হবে না। স্যার ভালো না লাগলে বলেন। চলে যাই। এমনিতেই এখানে আসা বোকামি হয়ে গেছে। আমার বন্ধু তার নিজের ফার্ম থেকে মাসে লাখ লাখ টাকা উপার্জন করছে। আর আমি এখানে এসেছি ২২ হাজার টাকার চাকরীর পরীক্ষা দিতে। হুহ।
-আহা আপনি রাগ করবেন না। আমরা দেখছি ব্যাপারটা। আপনার ভাইভাত চমৎকার হয়েছে। আর সরকার খুব শিগ্রই বেতন বাড়াবে বলেই আমাদের ধারনা।
এভাবেই ভাইভা শেষ হল শুভর। ভাইবা বোর্ড থেকে বেড়িয়ে এল শুভ। স্যারদের মনে উদ্বেগ, শুভ কি চাকরীটা করবে!
(collected)

গুগলে প্রায় ১ লাখ লোক কাজ করে।
এই ১ লাখ লোকের মধ্যে মাত্র ২০০ জন আছে প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার। এই ২০০ জন প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ারের মধ্যে একমাত্র প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে সুযোগ পেয়েছেন জাহিদ সাবুর নামে এক ব্যাক্তি।
.
জাহিদ সাবুরের এই সাফল্যের পেছনে কি রহস্য ছিল সেটা আমি জানিনা,তবে কি কি ছিল না সেটা আমি অনুমান করতে পারি।
.

জাহিদ সাবুরের মাথায় কোন দিন আই এম এ জিপিএ ফাইভ ছিল না,জিপিএ ফাইভ না পেলে আমার জীবন বৃথা এই মূলমন্ত্র নিয়ে বেড়ে উঠেনি। জাহিদ সাবুরের আশে পাশে এমন কোন আন্টি ছিল না যে জাহিদ সাবুরের মাকে গিয়ে বলেনি- আপা আমার মেয়েতো জিপিএ ফাইভ পেয়েছে,আপনার ছেলে কি পেয়েছে?
বাংলাদেশের সাফল্যের এক মাত্র মানদন্ড হিসেবে ধরা হয় বিসিএস ক্যাডার।
বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন কোন দিনই ছিল না তার।
রবীন্দ্রনাথের দাদার নাম কি? কত সালে জন্ম গ্রহন করেছিলেন? উগান্ডার রাজধানীর নাম কি? সবচেয়ে গভীরতম সমুদ্র খাদ এর নাম ও উচ্চতা কত? জাহিদ সাহেব এই প্রশ্ন গুলো যদি মুখস্ত করতেন এবং বিসিএস দিতেন তাহলে হয়তো বিসিএসে টিকেও যেতে পারতেন।তাহলে কি আমরা কোন দিন শুনতে পারতাম? গুগলে বাংলাদেশী একজন প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার আছে।
.
আমাদের স্বপ্নের দৌড় শুধু আই এম এ জিপিএ ফাইভ ও বিসিএস ক্যাডার পর্যন্ত। মুখস্ত বিদ্যা দিয়ে এ দেশে লাখ লাখ জিপিএ ফাইভ ও বিসিএস বের হয়। একজন বিজ্ঞানী,একজন গবেষক বের হয়না,আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও আইটি সেক্টরে হেভিওয়েট পদে কোন বাংলাদেশী পাওয়া যায় না।
.
QS ASIA UNIVERSITY RANKING ২০১৯ সালের এশিয়ার সেরা ৪০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বাংলাদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয় নেই। জাপানের আছে ১০৩ টা,চীনের আছে ৭২ টা। ৫০ % লোক খোলা জায়গায় পায়খান করে এটা নিয়ে ট্রল করা সেই ভারতের আছে ৪৯ টা। পাকিস্তানের আছে ১০ টা। শ্রীলংকা ও নেপালের মত দেশগুলোর ইউনিভার্সিটি আছে এই তালিকায় অথচ আমাদের কোন ইউনিভার্সিটি নেই।
.
আমাদের আছে জিপিএ ফাইভ,বিসিএস ক্যাডার ও ১০ টাকার চা-চমুচা- সিঙ্গারা।

লেখাঃ Abul mal

 

Please follow and like us:

About admin

Check Also

বইঃসহজ ও আধুনিক পোল্ট্রি ব্যবস্থাপনা এবং পোল্ট্রি শিল্প(লেয়ার,ব্রয়লার ওসোনালী)।বইটি কেমন জানতে ভিজিট করুন

আমরা এই ব্লগে পোল্ট্রির উপর শত শত আর্টিকেল পড়েছি,সেই গুলোকে সহজ করে সাজিয়ে বই বের …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »
error: Content is protected !!