Breaking News
সাইলেজ
সাইলেজ

সাইলেজ বিস্তারিতঃ

দেশীয় পদ্ধতিতে সবুজ ঘাস সংরক্ষণ ( সাইলেস করণ)

বাংলাদেশের বৃষ্টি মৌসুমে কোন কোন এলাকায় প্রচুর পরিমাণে ঘাস পাওয়া যায় যেমন, দূর্বা, বাকসা, আরাইল, সেচি, দল, শষ্য খেতের আগাছা ইত্যাদি।

এ ছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন গাছের পাতা যা গো-খাদ্য হিসাবে ব্যবহার হয়, যেমন ইপিল ইপিল, ধৈঞ্চা ইত্যাদি।

দেশীয় এ সমস্ত সবুজ ঘাস অথবা জমিতে চাষ করা নেপিয়ার, পারা, ভুট্টা, সরগম, ওট ইত্যাদি খুব সহজেই ’’সাইলেজ’’ করে সংরক্ষণ করা যায়।
সাইলেজ একটি ইংরেজি শব্দ যা দ্বারা গো-খাদ্যের বেলায় সবুজ ঘাসের পুষ্টিমান অক্ষুন্ন রেখে একটি নির্দিষ্ট অম্লতায় বা ক্ষারত্বে সংরক্ষিত ঘাসকে বুঝায়। সাধারণতঃ খড় জাতীয় খাদ্য ব্যতীত সব ধরনের সবুজ ঘাসই অম্লতায় সংরক্ষণ করা হয়।

সংরক্ষণের পর বছরের যে কোন সময় সংরক্ষিত ঘাস তুলে সরাসরি গরুকে খাওয়ানো যায়। বর্ষা মৌসুমে প্রাপ্ত সবুজ ঘাসে প্রচুর পরিমাণে জলীয়াংশ থাকে। এ ধরনের ঘাসে সাইলেজ তেমন ভাল হয় না।

তবে এ সমস্ত সবুজ ঘাসের সঙ্গে শতকরা ১৫ – ২০ ভাগ শুকনো খড়ের স্তর দিলে একদিকে সাইলেজের গুণাগুণ ভাল থাকে অন্য দিকে সাইলেজের নির্যাস চুইয়ে খড়ের খাদ্যমানও বৃদ্ধি করে। এতে একটা বাড়তি সুবিধা হল পরবর্তীতে শুকনো খড় আলাদা করে আর খাওয়নো লাগে না।

খড়ের অভাব থাকলে খড় না দিলেও সাইলেজ করা যাবে।

ডাল বা লিগুম জাতীয় ঘাস যেমনঃ খেসারী, মাসকালাই, কাউপি বা হেলেন ডাল, ইপিল ইপিল ইত্যাদি ঘাসও সবুজ অবস্থায় সাইলেজ করে রাখা যায়। এ ধরনের ঘাসে অধিক পরিমাণে প্রোটিন বা আমিষ থাকে বিধায় শুধুমাত্র ডাল জাতীয় ঘাস দ্বারা সাইলেজ করলে ভাল সাইলেজ নাও হতে পারে।

এজন্যএ ধরনের ঘাস অডাল বা নন লিগুম জাতীয় ঘাসের ( ভুট্টা, নেপিয়ার ইত্যাদি) সাথে সর্বোচ্চ ১ঃ১ এবং সর্বনিম্ন ১ঃ৩ অনুপাতে মিশিয়ে চিটাগুড় দিয়ে সাইলেজ করা ভাল। নন-লিগুম জাতীয় ঘাস না পাওয়া গেলে শুকনা খড়ের সাথে মিশিয়েও সাইলেজ তৈরী করা যায়।

মাটির গর্তঃ

একশ সিএফটি একটি মাটির গর্তে ২.৫০ – ৩.০০ টন সবুজ ঘাস সংরক্ষণ করা যায়।

গর্তটি অবশ্যই উঁচু জায়গায় ( যেখানে পানি ঢুকতে না পারে) হতে হবে।

গর্তের গভীরতা ৩ ফুট, প্রস্থের তলায় ৩ ফুট, মাঝে ৮ ফুট ও উপরে ১০ ফুট হবে। দৈর্ঘ্যের মাপ নির্ভর করবে ঘাসের পরিমাণের উপর। গর্তটির তলা পাতিলের মত সমভাবে বক্র থাকলে ঘাস চাপানো সহজ হবে।
পলিথিনঃ মাটির সাইলোর চারদিকে পলিথিন মুড়ে সাইলেজ করলে অবশ্যই নিশ্চিন্তে রাখা যায়।

কিন্তু পলিথিনের ব্যবহার ঘাসের সংরক্ষণ খরচ বাড়িয়ে দেয় এজন্য সাইলোর তলায় এবং চারি দিকে শুকনো খড় দিয়ে মাটি ঢেকে দেয়া যায়।

দুই গজ চওড়া ডাবল পলিথিনের ৮ – ৯ গজ হলেই ২০ ফুটের একটি সাইলোর শুধু উপরের দিক বন্ধ করা যায়।

সাইলেজ তৈরী পদ্ধতি
সবুজ ঘাসের শতকরা ৩ – ৪ ভাগ চিটগুড় মেপে একটি চাড়িতে নিতে হবে।

তারপর ঘন চিটাগুড়ের মধ্যে ১ঃ১ অথবা ৪ঃ৩ পরিমানে পানি মিশালে ইহা ঘাসের উপর ছিটানো উপযোগী হবে। ঝরনা বা হাত দ্বারা ছিটিয়ে এ মিশ্রণ ঘাসে সমভাবে মিশাতে হবে। সাইলোর তলায় পলিথিন দিলে আগে বিছিয়ে নিতে হবে।

পলিথিন না দিলে পরু করে খড় বিছাতে হবে। এরপর দু’ পার্শেব পলিথিন না দিলে ঘাস সাজানোর সাথে সাথে খড়ের আস্তরণ দিতে হবে।

এরপর পরতে পরতে সবুজ ঘাস এবং শুকনো খড় দিতে হবে। প্রতি পরতে ৩০০ কেজি সবুজ ঘাস এবং ১৫ কেজি শুকনো খড় দিতে হবে।

৩০০ কেজি ঘাসের পরতে পূর্বের হিসাবে ৯ – ১২ কেজি চিটাগুড় ও ৮ – ১০ কেজি পানির মিশ্রণ ঝরনা বা হাত দিয়ে সমভাবে ছিটিয়ে দিতে হবে। খড়ের মধ্যে কোন চিটাগুড় দিতে হবে না।

এভাবে পরতে পরতে ঘাস ও খড় সাজাতে হবে। যত এঁটে ঘাস সাজানো হবে তত সুন্দর সাইলেজ তৈরী হবে।

এভাবে সাইলো ভর্তি করে মাটির উপরে ৪ – ৫ ফুট পর্যন্ত ঘাস সাজাতে হবে। ঘাস সাজানো শেষ হলে খড় দ্বারা পুরু করে আস্তরন দিয়ে সুন্দর করে পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। সর্বশেষে ৩ – ৪ ইঞ্চি পুরু করে মাটি দিতে হবে।

সম্পূর্ণ ঘাস এক দিনেই সাজানো যায়। তবে বৃষ্টি না থাকলে প্রতিদিন কিছু কিছু করেও কয়েক দিন ব্যাপি সাইলেজ তৈরী করা যায়।

· নীচু জায়গায় সাইলো করা যাবে না। তাতে পানি জমে সাইলেজ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
· উপরের পলিথিন সুন্দর ভাবে এঁটে দিতে হবে যাতে কোন পানি সাইলেজের মধ্যে না ঢুকে।
· চিটাগুড় পাতলা হলে পরিমাণ বাড়িয়ে পানি কম করে মিশাতে হবে। বেশী পাতলা হলে ঘাস হতে চুঁইয়ে নীচে চলে যাবে। এমনভাবে দ্রবন তৈরী করতে হবে যাতে আঠার মত ঘাসের গায়ে লেগে থাকে।
· ঘাস এবং খড় এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে ফাঁকা জায়গাগুলো যথাসম্ভব বন্ধ হয়ে যায়।
· সাইলোর কোনগুলো এবং পাশ সমূহ পা দিয়ে পাড়িয়ে ঘাস সাজাতে হবে যাতে ফাঁকা বন্ধ হয়ে যায়।ঘাসের সাথে খুব বেশী পানি থাকা বাঞ্চনীয় নয়।
খাওয়ানোর নিয়ম
এভাবে সংরক্ষিত ঘাস প্রতি ১০০ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ১০ কেজি হিসাবে ব্যবহার করা যায়।

ফেসবুক থেকে নেয়া

সাইলেজ কিঃ
সবুজ ঘাস প্রক্রিয়াজাত (অক্সিজেনশূন্য) করে গাভীর জন্য তৈরি বিশেষ ধরনের খাবার কে সাইলেজ বলে। যাহা অধিক পুষ্টিমান সমৃদ্ধ।

সবুজ ঘাস থেকে সাইলেজ হওয়ার প্রক্রিয়াঃ
সবুজ ঘাস যখন বায়ুশূন্য (অক্সিজেন শুন্য) অবস্থায় রাখা হয় তখন অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে কাজ করতে পারে এমন ব্যাকটেরিয়া গুলো সবুজ ঘাসের সুগার ফার্মেন্টেশন করে ল্যাকটিক এসিডে পরিবর্তন করে ফলে পিএইচ কমে যেতে শুরু করে।

একসময় পিএইচ যখন ৪-৫ এর মধ্যে চলে আসে তখন ব্যাকটেরিয়া গুলো ফার্মেন্টেশন বন্ধ করে দেয়। ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ সময় লাগে এই ফার্মেন্টেশনে। তারপর ইহা অনুরূপ অবস্থায় থাকে অক্সিজেন এর উপস্থিতি না পাওয়ার আগ পর্যন্ত।

সবুজ ঘাস সাইলেজ করার নিয়মাবলীঃ
১। আদর্শ সাইলেজ তৈরি করতে হলে অবশ্যই ৬০-৭০% এর কম অথবা বেশি ময়েশ্চার থাকা যাবে না।
২। সম্পুর্নরূপে বায়ুশন্য হতে হবে। গর্ত করে করেন অথবা ড্রামে নিয়েও করতে পারেন অথবা বড় চারকোনা ইটের সিমেন্ট ঢালাই পিট করেও সাইলেজ তৈরি করতে পারেন কিন্তু শর্ত তাহা সম্পুর্নরূপে যেন বায়ুশূন্য হয়। এজন্য আপনাকে শক্ত পলিথিন (কালো পলিথিন হলে ভাল) ব্যবহার করতে হবে।
৩। ছোট ছোট (সবুজ ঘাস) করে কেটে নেওয়া উত্তম; এতে ঘাস গুলো পর্যাপ্ত পরিমানে চাপ দিয়ে সাজিয়ে রাখা যায়।
৪। প্রয়োজনে চিটাগুড় ব্যবহার করতে পারেন, এতে সাইলেজ এর চমৎকার সুঘ্রাণ আসে।
(প্রতি ১০০ কেজি ঘাসে ২.৫ থেকে ৫ কেজি চিটাগুড় ব্যবহার করতে পারেন)

সর্বোপরি খেয়াল রাখবেন যাহাতে পলিথিনের কোন অংশ যেন ছেড়া না থাকে।

যখন সবুজ ঘাস বেশি উৎপাদন হবে সেটি নষ্ট না করে ভবিষ্যতের (বিশেষ করে শীতকাল) কথা বিবেচনা করে আপনি সাইলেজ কতটুকু প্রয়োজন তা নির্ধারন করতে পারবেন। সাইলেজ এর ময়েশ্চার শতকরা ৩৫% থেকে ৪০% থাকায় ইহা ঘাসের তুলনায় কম প্রয়োজন হয়।

(নারিশ ডেইরী ও ক্যাটল ফিডের বস্তার ভিতরে আরও একটা বায়ুরোধী পলিথিন দেওয়া থাকে- খাদ্যের মান অটুট রাখার জন্য)

পরামর্শ ও সহযোগীতায়
ডাঃমোঃ শাহ্-আজম খান
কাস্টমার সার্ভিস অফিসার (ক্যাটল বিভাগ)
রংপুর জোন।
নারিশ পোল্ট্রি এন্ড হ্যাচারী লিমিটেড।

Silage is feed that has been preserved by acidification – the result of fermentation in the absence of oxygen.

Any green crop with adequate water-soluble carbohydrates (sugars) and the correct moisture content can be cut, chopped and ensiled.
Suitable crops include corn and other cereals, legumes such as faba beans and alfalfa, perennial grasses and even weeds such as kochia. The most popular silage crops in Manitoba are cereal grains, corn and alfalfa.
Ensiling Process
The green crop is cut and chopped, placed in a silo, packed and covered or sealed as quickly as possible. Then, biochemical processes transform the crop into silage.
Within the first few hours, an aerobic reaction begins which consumes all of the oxygen in the silage.

The duration of this reaction may range from a few hours to several days. Heat is created and valuable nutrients are consumed during the reaction.

It is important to manage the forage properly beforehand to minimize the length of this process.
Once all the oxygen has been consumed, fermentation begins, producing lactic acid which lowers the pH (acidity) level in the feed. When the pH level drops to a certain level, usually within three or four weeks, fermentation stops. The silage is ready.
Pros and Cons
Advantages
Silage can be harvested in almost any weather conditions.
Lower dry matter loss during harvesting means higher outputs of nutrients per acre.
Permits the use of a wider range of crops than other forage systems.
Can salvage crops damaged by hail, frost and high weed content.
Large quantities of uniform quality feed can be stored.
Palatability can sometimes be improved in crops such as sweet clover.
Handling is mechanized from the field to feed trough.
Disadvantages
Requires more labour and time than hay.
Has an odor that may be offensive if stored near populated areas.
Capital investment required for storage facilities, forage harvester.and sillage

সাইলেজ তৈরি পদ্ধতি :

উত্তম উপায়ে সাইলেজ তৈরি করতে ফুল আসার পূর্বেই ঘাস কেটে ফেলতে হবে ৷
সাইলেজ তৈরির করার জন্য প্রথমে একটি গর্ত করতে হবে
এরপর গর্তের মধ্যে (নিচে ও চারিপাশে) পলিথিন অথবা খড় ভালোভাবে বিছিয়ে দিতে হবে
প্রতি ৩০০ কেজি সবুজ ঘাসের জন্য আলাদা একটি পাত্রে ঌ-১২ কেজি চিটাগুড়ের সাথে ৮-১০ কেজি পানি মিশিয়ে একটি দ্রবণ তৈরি করে নিতে হবে ৷
এরপর গর্তের ভিতরে স্তরে স্তরে সবুজ ঘাস বিছাতে হবে৷ সবুজ ঘাসের স্তরের উপর পানি মিশ্রিত চিটাগুড় সমভাবে ছিটিয়ে দিতে হবে এবং তার উপর শুকনা খড় বিছাতে হবে ৷
এর ভিতরে কোন ধরনের বাতাস যাতে না থাকে সেজন্য খড়ের গাদাটি ভালভাবে পা দিয়ে পাড়িয়ে দিতে হবে ৷
তারপর মাটি থেকে ৪-৫ ফুট পর্যন্ত সবুজ ঘাস সাজিয়ে দিতে হবে যাতে ঘাস শ্তষ্কহয়ে নীচু হলেও মাটির সমান্তরালের চেয়ে উচু থাকে ৷কারন এতে গর্তে পানি প্রবেশ করতে পারবে না
ঘাসের উপর এবং চারিপাশে শুকনো খড়ের পুরু আস্তরণ তৈরি করতে হবে এবং সম্পূর্ণ আস্তরণটি পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিতে হবে ৷
পলিথিন যাতে বাতাসে উড়ে না যায় সেজন্য মাটি চাপা দিয়ে দিতে হবে ৷
সাবধানতা :

নীচু জায়গায় সাইলেজ তৈরির গর্ত করা যাবে না, কারণ তাতে পানি জমে সাইলেজ নষ্ট হয়ে যায় ৷উপরের পলিথিন ভাল করে সেটে দিতে হবে যাতে কোন পানি সাইলেজের ভিতরে প্রবেশ না করে ৷
চিটাগুড় পাতলা হলে পরিমাণ বাড়িয়ে পানি কম করে মিশাতে হবে, কারণ বেশি পাতলা হলে চুয়েচুয়ে নীচে চলে যাবে ৷
মিশ্রন এমনভাবে তৈরি করতে হবে যাতে আঠার মত ঘাসের গায়ে লেগে না থাকে ৷
ঘাস ও খড় এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে কোন ফাঁকা জায়গা না থাকে ৷
মহিষ-বাছুর যাতে পলিথিন নষ্ট না করে সেদিকে খেয়াল করতে হবে ৷

Please follow and like us:

About admin

Check Also

গরুর খাদ্য হিসাবে কলাগাছ : গুরুত্ব পর্যালোচনা

গরুর খাদ্য হিসাবে কলাগাছ : গুরুত্ব পর্যালোচনা আমাদের দেশে গরুর আপদকালীন খাবার হিসাবে পরিচিত কলাগাছ …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »
error: Content is protected !!