Breaking News
থেইলেরিওসিস
থেইলেরিওসিস

থাইলেরিওসিস

থাইলেরিয়াসিস
Theileriosis

থাইলেরিয়াসিস গবাদিপশুর রক্তবাহিত এক ধরনের প্রোটোজোয়া জনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত গরুর মৃত্যুর হার (৯০-১০০%)।

গরুতে গ্রীষ্মকালে সবচেয়ে বেশি এ রোগে আক্রান্ত হয় এবং দ্রুত সুস্থ গরুতে ছড়িয়ে পরে। থাইলেরিয়া রোগের ক্লিনিক্যাল লক্ষন প্রকাশ পাওয়ার পর আক্রান্ত গরুর রক্তের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা খুব নিচে নেমে যায়।
বিভিন্ন বহিঃপরজীবি যেমনঃ উঁকুন আঁঠালী মাইট মেন্জ্ঞ মশা মাছির মাধ্যমে আক্রান্ত গরু থেকে সুস্থ গরুতে সংক্রমিত করে।

এ রোগে গরুর দীর্ঘ মেয়াদী জ্বর হয়ে থাকে। গর্ভাবস্থায় ও বাচ্চা প্রসবের পর গাভীতে এই আঁঠালী বাহিত রোগ Theileria খুব বেশি দেখা দেয়। সম্প্রতি আমাদের দেশে সংকর জাতের গাভী পালন বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে এই আঁঠালী বাহিত রোগের প্রকোশ বেড়ে গেছে।

যা শংকর জাতের গরুতে বেশি পরিলক্ষিত হয়।

রোগতত্ত্ব ও বিস্তার

থাইলেরিয়াসিস রোগের মাধ্যমিক পোষক হিসাবে কাজ করে প্রায় ছয় প্রজাতির আঁঠালী।

যথাঃ (1) Boophilus spp (2) Rhipicephalus spp (3) Haemophysalis spp (4) Ornithodoro spp (5) Dermacentor spp (6) Hyalomma spp.
এদের মধ্যে প্রধানত Hyalomma spp এর আঁঠালী Theileria Annulata প্রোটোজোয়া অন্যতম পোষক হিসাবে গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা পালন করে। থাইলেরিয়া আক্রান্ত আঁঠালীর লালা গ্রন্থির মধ্যে অবস্থিত Sporozoits রক্ত শোষণ কালে সুস্থ গরুর দেহে প্রবেশ করে। পরে লসিকা গ্রন্থি ও প্লীহার লসিকা কোষ আক্রান্ত করে মাইক্রোসাইজোন্ট-এ পরিনত হয়।

এই মাইক্রোসাইজোন্ট লোহিত কনিকা কে আক্রান্ত করে পাইরোপ্লাজম সৃষ্টি করে।

রক্ত শোষনের সময় এই পাইরোপ্লাজম গরুর দেহে প্রবেশ করে।

আক্রান্ত আঁঠালী গরুকে কামড়ানোর ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

লক্ষন

* গরুর দীর্ঘমেয়াদী জ্বর (১০৪-১০৭) ডিগ্রী ফাঃ হবে, পশম খাড়া হয়ে থাকবে এবং নাখ ও চোখ দিয়ে শ্লেমা ঝড়ে।
* রুমেনের গতি হ্রাস, লসিকা গ্রন্থি ফুলে যাওয়া, রক্ত ও আম মিশ্রিত ডায়রিয়া হওয়া।
* পানি পিপাসা বেড়ে যেতে পারে এবং দুগ্ধবতী গাভীর দুধের উৎপাদন কমে যাবে।
* দাঁত কাটা এবং ঘনঘন শ্বাস নিতে দেখা যাবে।
* রক্তশুন্যতা, হিমোগ্লোবিন ইউরিয়া ও জন্ডিস দেখা দেয়।
* দিন দিন গরুর খাওয়ার রুচি কমতে থাকবে এবং কয়েক দিনের মধ্যেই খাবার বন্ধ করে দিবে।
* বেশিক্ষন দাড়িয়ে থাকতে পারেনা বিধায় শুয়ে থাকতে বেশি পচন্দ করে।
* শেষ মুহুর্তে আর উঠে দাড়াতে পারেনা, এবং ঘাঁড় বাকা হয়ে যায় আর সোজা হয় না।
* আক্রান্ত হবার ১৮-২৪ দিনের মধ্যে গরু মারা যায় এবং মৃত্যুর পুর্বে হঠাৎ শরীরের তাপমাত্রা হ্রাস পায়।

রোগ নির্নয়ঃ

পশু হাসপাতাল অথবা বিভিন্ন এগ্রো ল্যাবেঃ আক্রান্ত গাভীর রক্ত জেমসা স্টেইন করে অনুবীক্ষন যন্ত্রের সাহায্যে পাইরোপ্লাজমা দেখে Theileriasis রোগ নির্নয় করা হয়।

চিকিৎসা

® এন্টিহিস্টামিন inj: Niravet 10ml (OPSONIN) 1cc/20kg b wt হিসাবে মাংশে/শিরাপথে দিতে হবে।
শুধুমাত্র Babcob inj ও স্যালাইন প্রয়োগের সময় দিলেই হবে।

® শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রনের জন্য প্যারাসিটামল গ্রুপের Tab: Fast vet (Acme) 1tab/100kg b wt হিসাবে দিনে ২-৩ বার খাওয়াতে হবে।

® Diminazne Aceturate গ্রুপের যেমন inj: Babcop-vet (Square) 5-10cc/100kg b wt হিসাবে 48 ঘন্টা পরপর মাংশে দিতে হবে ৩ ডোজ।

® অক্সিটেট্রাসাইক্লিন গ্রুপের যেমন inj: Renamycin-100 (Renata) 10cc/100kg b wt হিসাবে দৈনিক ১ বার করে ১৪ দিন মাংশে/শিরায় দিতে হবে।

® সহায়ক চিকিৎসা হিসাবে Vitamin-B12 জাতীয় ঔষধ যেমন inj: Hematopenvet-B12 (Advance, France) 5-10cc/100kg b wt হিসাবে মাংশে/শিরায়/চামড়ার নিচে ৯৬ ঘন্টা পরপর তিন মাত্রা দিতে হবে।

® আয়রন টনিক হিসাবে Syr: Ferovet 1000ml (Acme) বড় গরুতে দৈনিক ১০০-২০০ মিঃলিঃ করে ১০-২০ দিন খাওয়াতে হবে।

® সম্ভব হলে রক্ত সংযোজন করতে হবে যা একেবারেই দুরূহ ব্যাপার।

আক্রান্ত গরুকে ছায়াযুক্ত ও আরামদায়ক পরিবেশে রাখতে হবে এবং প্রচুর ঠান্ডা পানি পানের ব্যবস্থা করতে হবে।

যাবতীয় তথ্য ও সার্বিক সহযোগীয় ছিলেন….
ডাঃ মনোজিৎ সরকার (টি.এল.ও)।
উপজেলা প্রানীসম্পদ হাসপাতাল কাউনিয়া, রংপুর।

প্রতিরোধ

* খামারীদের প্রশিক্ষনের মাধ্যমে থাইলেরিয়া রোগ সম্পর্কে ব্যাপক ধারনা দিতে হবে।
* থাইলেরিয়ায় আক্রান্ত গাভী চিকিৎসায় সুস্থ হলেও পাল থেকে একেবারেই সরিয়ে ফেলতে হবে।
* প্রতি ৩/৪ মাস পরপর আঁঠালী প্রতিষেধক Ivermectin গ্রুপের ইনজেকশন ০.২ মিঃগ্রাঃ/ কেজি দৈহিক ওজন হিসাবে প্রয়োগ করে এ রোগ প্রতিরোধ করা যায়।
* গরুর ঘড়ের চারপাশ পরিষ্কার রাখা যাতে মশা মাছির উপদ্রপ না থাকে।
* গ্রীষ্মকালে সপ্তাহে কমপক্ষে দুই বার গোয়াল ঘড়ে আঁঠালীনাশক ঔষধ স্প্রে করতে হবে।
* আক্রান্ত এলাকার সন্দেহজনক সকল গরুকে Bupervaquone or Diminazene diaceturate ইত্যাদি প্রতিষেধক ঔষধ চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োগ করতে হবে।
* নিয়মিত প্রতিদিন একবার হলেও গরুকে গোসল করাতে হবে।
* গর্ভাবস্থায় রক্তবর্ধক হিসাবে আয়রন এর সরবরাহ নিশ্চিত করা।
* গরুর স্বাস্থ্য সম্মত বাসস্থান ও সুষম খাবার নিশ্চিত করা।S

S M Rasel

সততা ডেইরী ফারম

Please follow and like us:

About admin

Check Also

বাছুরের ডায়রিয়ার কারণ

Couses of diarrhea in neonatal rumenants 🔷Bacterial: 🔸Escherichia coli 🔸Salmonella spp. 🔸Campylobacter fecalis 🔸Campylobacter coli …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »
error: Content is protected !!