Breaking News

ডেইরি জেনেটিক্সঃ ৩

ডেইরি জেনেটিক্সঃপর্ব ৩

এনিম্যাল জেনেটিক্স এবং ব্রিডিং নিয়ে আলোচনায় অনেক সায়েন্টিফিক টার্ম বা শব্দ আসতে পারে যেগুলোর ব্যাখা না জানা থাকলে অনেকের লেখা বুঝতে কষ্ট হতে পারে। তাই আজকের লেখায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনোলজি নিয়ে আলোচনা করবো। সাথে ইনব্রিডিং এবং রেকর্ড নিয়ে ছোট্ট করে লিখবো। তবে আগেই বলে রাখি লেখাটা অনেকের কাছে বিরক্তিকর লাগতে পারে যেহেতু খটমটে সায়েন্টিফিক কিছু ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। আমি চেষ্টা করেছি যতটা সম্ভব টেকনিক্যাল টার্ম এড়িয়ে লেখাটা যাতে সহজবোধ্য করা যায় সবার কাছে।

জিনঃ
খামারী ভায়েরা সাধারণত জিন শব্দটা ব্যবহার না করলেও রক্ত (Blood) শব্দটা প্রায়ই ব্যবহার করে থাকেন। যেমন তার গরুতে ৫০% ফ্রিজিয়ান রক্ত আছে, ৭৫% ফ্রিজিয়ান রক্ত আছে। কথাটা আক্ষরিকভাবে ঠিক না হলেও ভাবানুবাদ হিসেবে ঠিক আছে। আসলে রক্ত তো আর পিতামাতা থেকে বাচ্চাতে পরিবহন হয়না। পরিবহন হয় জিন (Gene) ।

জিন হচ্ছে হেরেডিটারি ইউনিট যেটা পিতামাতা থেকে সন্তানে যায়। প্রতিটি প্রাণীর ক্রোমোসোমে (Chromosome) এই জিন থাকে। এই ক্রোমোজোম গুলো জোড়ায় জোড়ায় থাকে তেমনি জিনগুলোও জোড়ায় জোড়ায় পাওয়া যায়। গরুর ক্রোমোসোম সংখ্যা হচ্ছে ৬০ টি। অর্থাৎ গরুতে ৩০ জোড়া ক্রোমোসোম আছে। যখন একটা ষাঁড় (পিতা) আর গাভীর (মাতা) মেটিং হয় তখন প্রজেনীতে (বাচ্চা) পিতার ৩০ টি ক্রোমোসোম এবং মাতার ৩০ টি ক্রোমোসোম যায়। অর্থাৎ বাবার কাছ থেকে অর্ধেক জিন যায় এবং মায়ের কাছ থেকে অর্ধেক জিন যায়।

এই প্রসংগে সেক্স লিমিটেড জিন’স (Sex Limited Genes) নামে একটা টার্ম বলি। কিছু কিছু জিন আছে যেগুলো দুইটা সেক্স বা লিংগে পাওয়া যায় । কিন্তু জিনটা প্রকাশিত বা Expressed হয় একটি মাত্র সেক্সে। যেমন দুধ উতপাদন জিন। এই জিনটা ষাড়েও আছে কিন্তু যেহেতু এইটা সেক্স লিমিটেড জিন তাই শুধু গাভীতে প্রকাশিত হয় এবং গাভী দুধ দেয়। নাইলে ষাঁড় থেকেও আমরা দুধ পেতাম !

জিনোমঃ
জিনোম হচ্ছে কোন প্রাণীর দেহে সমস্ত জিনের সমষ্টি। ২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়ান গবেষকরা সর্বপ্রথম হারফোর্ড (Hereford) ডেইরি ব্রিডের এক গাভীর জিনোম প্রকাশ করেন। এই জিনোমে ২২ হাজার জিন তারা চিহ্নিত করেন যার মাঝে প্রায় ১৪ হাজার জিনের মানুষ, ইদুর, কুকুর ইত্যাদি স্তন্যপায়ী প্রাণিদের সাথে মিল রয়েছে।

২০১৮ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন অনুষদের এনিম্যাল ব্রিডিং ডিপার্টমেন্ট এর প্রফেসর ইয়াহিয়া স্যারের নেতৃত্বে প্রথমবারের মত ছাগলের জিনোম সিকুয়েন্সিং করা হয়। তবে একটা কথা মাথায় রাখতে হবে, জিনোম সিকুয়েন্সিং করা হয়েছে শুধু, কিন্তু কোন জিনের কি কাজ তা কিন্তু বের করা হয়নি।

বৈশিষ্ট্য বা Trait:
প্রতিটি প্রাণীর কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য থাকে। যেমন গায়ের রঙ, দুধ উৎপাদন ক্ষমতা, বাচ্চা দেয়ার ক্ষমতা ইত্যাদি। প্রাণীর যেসব বৈশিষ্ট্য জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় সেগুলোকে ইংরেজীতে Trait বলে। ডেইরিতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ট্রেইট হচ্ছে , দুধ উৎপাদন, মিল্ক ফ্যাট%, Calving Interval অর্থাৎ এক বাচ্চা হবার পর থেকে পরবর্তী বাচ্চা হবার বিরতি ইত্যাদি। খামারীরা সাধারনত ভাল দুধ দেয়া, সাইজে বড় গাভী কিনেই নিজেদের লাভবান মনে করে। অথচ এইগুলো ছাড়াও আরো গুরুত্বপূর্ণ কিছু বৈশিষ্ট্য বা ট্রেইট আছে যেটাতে বেশি ফোকাস করা উচিত। যেমন, প্রতি বছর বাচ্চা জন্ম দেয়া, বড় বাচ্চা জন্ম দেয়া, নিয়মিত গর্ভবতী হওয়া, রিপিট কম হওয়া, সুস্থ বাচ্চা হওয়া, রোগ বালাই কম হওয়া সবকিছুই এই জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। সুতরাং খামারে লাভবান হতে গেলে এই সমস্ত বৈশিষ্ট্য দেখেই গরু কেনা উচিত। সেইজন্য এনিম্যাল জেনেটিক্স বুঝাটা খুবই জরুরি।

এই প্রসংগে চলে আসে রেকর্ড কিপিং এর কথা। একটা গরুর উপরোক্ত রেকর্ড গুলো যদি কেউ সংরক্ষন করে তাহলে আমরা সহজেই গাভীটির জেনেটিক্স সম্পর্কে একটা আইডিয়া নিতে পারবো। রেকর্ড ছাড়া কখনোই কোন ব্রিডিং প্রোগ্রাম বা ডেইরি খামারে সফলতা আসবেনা। গাভীর দুধের রেকর্ড ছাড়াও উপরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড মেইনটেইন করা উচিত। এতে করে গাভীটির ভ্যালু আরো বেড়ে যায়। যেমন আমার কাছে ২০ লিটার দুধ দেয়া কিন্তু প্রতি বছর বাচ্চা দেয়না বা নিয়মিত গর্ভবতী হয়না এমন গাভীর চেয়ে ১০ লিটার দুধ দেয় কিন্তু নিয়মিত গর্ভবতী হয় এবং প্রতি বছর বাচ্চা দেয় এমন গাভী ভালো মনে হয়।

এবার আসি বোরিং পার্ট টার্মিনলোজিতে ।

সাধারণত কোন জিনগুলি পিতামাতা থেকে প্রজেনীতে ট্রান্সফার হবে সেইটা বুঝার জন্য আমাদের Dominant/ডমিন্যান্ট বা (প্রকট) এবং Recessive/রিসিসিভ (প্রচ্ছন্ন) জিন সম্পর্কে ধারনা থাকতে হবে। এছাড়াও হোমোজাইগোসিটি (Homozygocity) এবং হেটারোজাইগোসিটি (Heterozygocity) এবং এলিল (Allele) সম্পর্কেও একটু জানা প্রয়োজন।

এলিল হচ্ছে একটা জিনের অলটারনেটিভ ফর্ম বা বিকল্প রূপ। যেমন, মানুষের দেহে একটা জিন আছে “স্বাভাবিক হিমোগ্লোবিন” এর জন্য দ্বায়ী। আবার রক্তশূন্যতায় ভোগা কিছু মানুষের দেহে এই জিনেরই একটি অলটারনেটিভ ফর্ম আছে যেটা ডিফেক্টিভ বা অস্বাভাবিক হিমোগ্লোবিন এর জন্য দায়ী। সুতরাং এই দুইটা জিন হচ্ছে একে অপরের এলিল। লম্বা মানুষের দেহে যদি A নামক জীন থাকে তেমনি খাটো মানুষের দেহে a জিন থাকবে। এই এলিলগুলোর একটা হবে ডমিন্যান্ট আরেকটা হবে রিসিসিভ।

যে জিনগুলো অন্য জিনের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করতে দেয়না বা বাধা দেয় তাকে ডমিন্যান্ট জিন বলে। আর যে জিনকে বাধা দেয় তাকে রিসিসিভ জিন বলে।

একজোড়া জিন একেকটা বৈশিষ্ট্য ধারন করে। যখন একটা মানুষের দেহে দুইটা একই ধরনেই এলিল থাকে অর্থাৎ AA জিন বা দুইটা aa জিন থাকবে তখন তাকে হোমোজাইগোসিটি বলা হয়, আর যখন দুইটা ভিন্ন এলিল অর্থাৎ Aa থাকবে তখন তাকে হেটারোজাইগোসিটি বলা হয়।

যখন জিনের কম্বিনেশন হেটেরাজাইগাস হয় তখন প্রজেনীর পারফর্মেন্স ভাল হয়। সবচেয়ে খারাপ পারফর্মেন্স হয় হোমাজাইগাস রিসিসিভে। রিসিসিভ জিনগুলো ক্ষতিকর। এর ফলে প্রজেনীর দুধ উৎপাদন কমে যায়, রোগ বালাই বেশি হয়, ওজনেও কমে যায়।

জিনের এই AA বা aa বা Aa কম্বিনেশনকে জেনেটিক্স এর ভাষায় বলা হয় জেনোটাইপ এবং এইগুলো যে বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে সেগুলোকে বলা হয় তার ফেনোটাইপ অর্থাৎ বাইরে থেকে যা বুঝা যায় সেটাকে বলা হয় ফেনোটাইপ। যেমন ফ্রিজিয়ানের সাদা কালো স্পটেড কালার হচ্ছে এর ফেনোটাইপ আর এই ফেনোটাইপিক বৈশিষ্ট্যের জন্য দ্বায়ী জেনোটাইপ হবে AA বা Aa ।

এবার নিচের থিয়োরিটিক্যাল উদাহরনটা খেয়াল করুনঃ

BB জেনোটাইপ হচ্ছে কালো রঙের গরু
RR জেনোটাইপ হচ্ছে লাল রঙের গরু
BR জেনোটাইপ হচ্ছে লালচে কালো বা মিক্সড রঙের গরু।

একটি কালো রঙের ফ্রিজিয়ান ষাঁড়ের সাথে লাল রঙের শাহিওয়াল গাভীকে মেটিং করালে প্রথম জেনারেশন প্রজেনী (F1) মিক্সড হবে লালচে কালো হবে,এইক্ষেত্রে দুইটা জিনই কো ডমিনেন্সি দেখিয়ে পাশাপাশি অবস্থান করবে। কিন্তু যদি ফ্রিজিয়ানের কালো রঙটা ডমিন্যান্ট হয় তাহলে বাচ্চাটা কালো হবে সেক্ষেত্রে লাল রঙটা হবে রিসিসিভ। এছাড়া বাস্তব একটা উদাহরন হলো শিংওয়ালা প্রাণীর সাথে শিংহীন প্রাণীর মেটিং এ শিংহীন বাচ্চা হওয়াটাও ডমিন্যান্ট এলিলের উদাহরন। ছবি ১ এ সংযুক্ত করা হলো।

কোনটা হোমোজাইগাস ডমিন্যান্ট বা হেটারোজাইগাস ডমিন্যান্ট জেনোটাইপ এইটা জানার জন্য ব্রিডাররা টেস্টক্রস (Test Cross) করে থাকে। টেস্ট ক্রস হচ্ছে ব্যাকক্রসের মতই একটা ব্রিডিং সিস্টেম যেখানে প্রথম জেনারেশনের প্রজেনীকে হোমোজাইগাস রিসিসিভ পিতা অথবা মাতার সাথে ক্রস করানো হয়। সকল টেস্ট ক্রসই ব্যকক্রস কিন্তু সব ব্যাকক্রস টেস্ট ক্রস না।
গতপর্বের লেখায় ব্যাকক্রস কেন করানো হয় এটা নিয়ে এক ভাই প্রশ্ন তুলেছিল যেহেতু এটা ইনব্রিডিং হয়ে যায়। মূলত ব্যাকক্রস করা হয় পিতা মাতার কিছু গুরুত্বপূর্ণ ট্রেইট বা বৈশিষ্ট্যকে অর্থাৎ জেনোটাইপকে প্রজেনীতে ট্রান্সফার করার জন্য। এই কাজটা বেশী হয় প্ল্যান্ট ব্রিডিং এ যেখানে এলিট জেনোটাইপ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন পিতা বা মাতাকে সংরক্ষন করা হয়। তাছাড়া পোল্ট্রিতে আমরা যে লেয়ার বা ব্রয়লারের স্ট্রেইন দেখতে পাই এদের পিতা-মাতা বা দাদা-দাদীকে লাইন ব্রিডিং এর মাধ্যমে একটা নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য ধরে রেখে কয়েক জেনারেশনে তৈরি করা হয়েছে। জিন নকআউট করা যায় এই ব্যাকক্রসের মাধ্যমে।

এবার আসি প্র্যাকটিক্যাল কথায়। ইনব্রিডিং এ আসলে কি হয়! আমরা জানি ইনব্রিডিং হচ্ছে রক্তের সম্পর্ক আছে এমন কারো সাথে ম্যাটিং। শর্ত সাপেক্ষে অল্প পরিমানে ইনব্রিডিং অনুমোদন যোগ্য কিন্তু ঘন ঘন ইনব্রিডিং নিচের সমস্যাগুলো তৈরি করেঃ

১) পিতার সাথে মেয়ের মেটিং করলে পিতার ১০০% জিনের সাথে মেয়ের ৫০% রিলেটেড জিনের শেয়ার হয় । যত বেশি জিনের শেয়ার হয় প্রজেনীর পারফর্মেন্স তত কমে। যেহেতু তিনটাতেই একটা করে রিসিসিভ জিন থাকে ফলে পুনরায় বাবা/মা/ভাই/বোন কারো সাথে মেটিং করালে রিসিসিভ জিনের পরিমান বেড়ে যায় এবং প্রজেনীর পারফর্মেন্স খারাপ হয়। একে ইনব্রিডিং ডিপ্রেসন বলে।
২) এর ফলে নতুন কোন জিনের সাথে কম্বিনেশন হয়না ফলে উৎপাদন বাড়ার কোন সুযোগ থাকেনা।

৩) বিভিন্ন ধরনের জেনেটিক ডিসঅর্ডার দেখা দেয়। ফার্টিলিটি কমে যায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া সহ বিভিন্ন অসুবিধা দেখা দেয়।
আমাদের বাংলাদেশে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল ইনব্রিডিং এর প্রভাবে আকারে ছোট হয়ে যাচ্ছে। যেহেতু একটি এলাকায় পাঠা থাকে নির্দিষ্ট একটি খামারে বা বাড়িতে। বেশিরভাগ মানুষ তাদের ছাগীকে/ছাগীর বাচ্চাকে/ছাগীর বাচ্চার বাচ্চাকে সেই একই পাঠা দিয়ে প্রজনন করায়। ফলে ইনব্রিডিং ডিপ্রেশন ঘটছে এবং বাচ্চার সাইজ , ওজন ধীরে ধীরে কমে আসছে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে আসছে ছাগলে। যদিও কমিউনিটি বেজড ব্রিডিং সিস্টেম একটা চমৎকার সিস্টেম কিন্তু এসব জায়গায় পাঠা/ষাড়কে নিয়মিত প্রতিস্থাপন না করলে ইনব্রিডিং বেড়ে যায়।

ইনব্রিডিং রোধে করনীয়ঃ
একমাত্র রেকর্ড মেইন টেইন করেই ইনব্রিডিং রোধ করা যায়। বিদেশে ইনব্রিডিং ক্যালকুলেটর আছে, বিভিন্ন ধরনের সফটওয়ার আছে। যদি দেখা যায় কোন প্রজেনীতে পিতার জিন রয়েছে তাহলে ওয়ার্নিং দেয়া হয় ফলে ইনব্রিডিং করানো হয়না।

আমাদের দেশে যেহেতু এত আপডেট সিস্টেম নাই তাই আমাদের ম্যানুয়েল সিস্টেমেই ভরসা রাখতে হবে। প্রতিটি খামারে প্রজনন রেজিস্টার রাখতে হবে। একটা গাভীর বাবা মা বা দাদা দাদী থেকে প্রজনন সম্পর্কিত সব তথ্য রাখতে হবে। যদি গাভীটি বিক্রি করে দেয়া হয় তাহলে রেজিস্টারের তথ্য নতুন মালিককে সরবরাহ করতে হবে। মোটকথা রেকর্ড ছাড়া ডেইরি গাভী বেচাকেনা বন্ধ করতে হবে। এর ফলেই ইনব্রিডিং অনেকাংশে কমে যাবে আশা করি।

Faizul islam Manik

Please follow and like us:

About admin

Check Also

ডেইরি_ব্রীড_টেস্টিং_রিসার্চ_প্রজেক্ট

#ডেইরি_ব্রীড_টেস্টিং_রিসার্চ_প্রজেক্ট দেশে ডেইরি শিল্পের উন্নয়নের লক্ষ্যকে সামনে রেখে ডেইরি ব্রীড টেস্টিং রিসার্চ প্রজেক্টের মাঠ পর্যায়ের …

Translate »
error: Content is protected !!