Breaking News

গিনি ঘাস পরিচিতি ,চাষ পদ্ধতি এবং ফলনঃবিস্তারিত

গিনি ঘাস

জমি নির্বাচন
গিনি ঘাস উঁচু ও ঢালু জমিতে ভাল হয়। ছায়াযুক্ত জমিতেও এ ঘাস জন্মে। কাজেই আম, কাঁঠাল, নারিকেল, সুপারী ও অন্যান্য বাগানে এ ঘাস লাগানো যায়। স্যাঁতস্যাঁতে জলাবদ্ধ নিচু জমিতে এ ঘাস ভাল হয় না।

বংশ বিস্তার
এ ঘাস বীজ উৎপাদনে সক্ষম। বীজ ও মোথা দুই পদ্ধতিতেই গিনি ঘাসের চাষ করা যায়।

চাষের সময়
গিনি ঘাস বৈশাখ হতে জ্যৈষ্ঠ মাস অর্থাৎ বর্ষা মৌসুমের প্রথম বৃষ্টির পরেই রোপন করতে হয়। বেশি বৃষ্টি বা জলাবদ্ধ অবস্থায় চারার গোড়া পচে যেতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তবে মাটিতে প্রচুর রস থাকলে অথবা পানি সেচের সুবিধা থাকলে এবং গ্রীষ্মের শুরুতে রোপণ করলে ভাল ফলন পাওয়া যায়।

জমি চাষ ও রোপণ পদ্ধতি
জমি ২/৩টি চাষ ও মই দিয়ে তৈরি করতে হবে। এর পর বড় মোথা হতে ৪/৫টি ছোট চারা তৈরি করতে হবে। চারাগুলি ৭/৮ ইঞ্চি লম্বা হতে হবে। এক সারি হতে অন্য সারির দূরত্ব ২/৩ ফুট, এক গাছ হতে অন্য গাছের দূরত্ব ১ ফুট এবং ২/৩ ইঞ্চি মাটির গভীরে লাগাতে হবে। চারার গোড়া ভালোভাবে মাটি দিয়ে টিপে দিতে হবে।

চারা ও বীজের পরিমাণ
সারি থেকে সারি ২ ফুট এবং গাছ থেকে গাছ ১-১.৫ ফুট দূরত্বে লাগালে একরে প্রায় ১২,০০০ চারার দরকার হয়। বীজের ক্ষেত্রে প্রতি একরে বীজের পরিমাণ ৩-৪ কেজি।

সার ও সেচ প্রয়োগ
জমির উর্বরা শক্তির উপর নির্ভর করে ঘাসের উৎপাদন। জমি তৈরির সময় প্রতি একরে কমপক্ষে ৪ টন গোবর বা ১ টন মুরগির বিষ্ঠা এবং ৪৫ কেজি টিএসপি সার দিতে হবে। চারা রোপনের পরে চারা মাটিতে ধরে গেলে একর প্রতি ৪০ কেজি ইউরিয়া প্রয়োগ করতে হবে। তাছাড়া প্রতিবার ঘাস কাটার পর একর প্রতি ৪০ কেজি ইউরিয়া প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া প্রয়োগের সময় জমিতে পর্যাপ্ত রস না থাকলে সার প্রয়োগ করে সেচ দিতে হবে।

ঘাসের পরিচর্যা
সারির মাঝের ফাঁকা জায়গা ঘাস কাটার পর পরই আলগা করে দিতে পারলে ভাল ফলন পাওয়া যায়। যদি প্রত্যেকবার ঘাস কাটার পর সম্ভব নাও হয়, তবে অন্তত বছরে এক বা দুই বার মাটি আলগা করে দিতে হয়। মাটি আলগা করে সার ও পানি দিতে পারলে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যায়।

ঘাস কাটার নিয়ম ও ফলন
গিনি ঘাস লাগানোর ৬০-৭০ দিন পরই প্রথম বার ঘাস কাটা যায়। পরবর্তী ৪০-৪৫ দিন পরপর কাটা যায়। ঘাসের খাদ্যমান বেশি পেতে হলে কচি অবস্থায় কেটে গবাদিপশুকে খাওয়াতে হবে। ঘাস মাটি হতে ৪/৫ ইঞ্চি রেখে কাটতে হবে। ভাল যত্ন বা পরিচর্যা করলে এই ঘাস বছরে ৭/৮ বার কাটা যেতে পারে। ভাল ব্যবস্থাপনায় একর প্রতি প্রায় ২০-৩০ টন কাঁচা ঘাস উৎপন্ন হয়।

ঘাস খাওয়ানোর নিয়ম
গরু মাঠে চরিয়ে কাঁচা ঘাস হিসাবে গিনি ঘাস খাওয়ানো যেতে পারে। তবে মাঠ থেকে কেটে এনে খাওয়ানোই উত্তম। এক্ষেত্রে ২/৩ ইঞ্চি টুকরা করে শুকনা খড়ের সাথে মিশিয়ে খাওয়ানো ভাল। (Collected)

Please follow and like us:

About admin

Check Also

গরুর খাদ্য হিসাবে কলাগাছ : গুরুত্ব পর্যালোচনা

গরুর খাদ্য হিসাবে কলাগাছ : গুরুত্ব পর্যালোচনা আমাদের দেশে গরুর আপদকালীন খাবার হিসাবে পরিচিত কলাগাছ …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »
error: Content is protected !!