Breaking News

গাভী বারবার হিটে আসার কারণ, লক্ষণ, ও প্রতিরোধে করণীয়

গাভী বারবার হিটে আসার কারণ, লক্ষণ, ও প্রতিরোধে করণীয়

গাভী বা বকনা যদি স্বাভাবিক ইষ্ট্রাস (Estrous) চক্রে বার বার গরম হয় এবং তিন বারের অধিক পাল বা কৃত্রিম প্রজনন করা সত্ত্বেও গর্ভধারন না করে, তখন ঐ গাভীকে রিপিট ব্রিডিং (Repeat Breeding) গাভী বলা হয়।
ডেয়রি খামার ধ্বংসের জন্য এই একটি কারণই যথেষ্ট।

কারণ

✓অপুষ্টিতে ভুগলে।
✓ জরায়ুতে জীবানুর সংক্রমন হলে।
✓ Estrous সঠিকভাবে নির্নয় করতে না পারলে।
✓ সময়মত ও যথাস্থানে Semen স্থাপন না হলে।
✓অপর্যাপ্ত ও নিন্মমানের Semen দ্বারা প্রজনন করালে।
✓ অদক্ষ এ, আই কর্মী দ্বারা প্রজনন করালে।
✓যৌন অঙ্গের বিকলঙ্গতা
✓ প্রজনন তন্ত্রের বিভিন্ন রোগ থাকলে।
✓ হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও ওভারিয়ান সিস্ট ইত্যাদি।

লক্ষণ

✓ জরায়ু থেকে নিশ্রিত মিউকাসের রং অনেক সময় খুব পাতলা ও ঘোলাটে হতে দেখা যাবে।
✓ যোনী পথে মিউকাসের পরিমান একেবারে কম অথবা খুব বেশি পরিমানে ভাংবে।
✓ডাকে আসা সময়কাল খুব কম অথবা অতিদীর্ঘ হতে দেখা যাবে।
✓ নির্দিষ্ট ঋতুচক্রে গরম হলেও, প্রজনন করালে তা গর্ভধারন করবেনা।

প্রতিরোধ

✓ স্বাস্থ্য সম্মত বাসস্থানে গাভীকে রাখা ও পরিমানমত সুষম খাবার সরবরাহ করা।

✓দৈনিক প্রচুর পরিমান কাচা ঘাস ও অবশ্যই শরিষার খৈল কমপক্ষে ৬০০ থেকে ৭০০ মিঃগ্রাঃ খায়াতে হবে।

✓বকনার ক্ষেত্রে প্রথম হিট মিস করে কৃমিমুক্ত করুন এবং রেনাসল এডিই ও ই-সেল ২০ মিঃলিঃ করে ১০ দিন খাওয়ান।

✓ হিটে আসার সময় ১২ থেকে ১৮ ঘন্টার মধ্যে প্রজনন করা এবং পুনরায় ৬ ঘন্টা পর আবার প্রজনন করা।

✓ প্রজনন করার পর ৫০ মিঃলিঃ ই-সেল এবং ৫ দিন পর আবার ৫০মিঃলিঃ খাওয়ান। বীজ দেওয়ার দিন থেকে ১০ দিন দৈনিক ১০০ মিঃলিঃ Syr: Farovet vet খাওয়ান।

✓ প্রজনন করার পর অবশ্যই গাভী বা বকনাকে গোসল করাতে হবে।

✓ প্রজনন করার ৩০ মিনিট পুর্বে হরমোন ইনজেকশন যেমন Ovurelin ৩ ml, দিয়ে তারপর Semen দেওয়া।

✓ Semen দেয়ার পর এ. আই কর্মীর হাত দিয়েই যোনিদ্বার ৩/৪ সেকেন্ড ম্যাসেজ করা।

✓ সাস্থ্য সম্মত উপায়ে দক্ষ এ. আই. কর্মীর মাধ্যমে সবল সিমেন দ্বারা প্রজনন করাতে হবে।

✓ গর্ভফুল আটকে যাওয়া গাভীকে তিন মাসের আগে প্রজনন না করাই ভালো। সে ক্ষেত্রে পুর্বেই চিকিৎসা দিয়ে রাখতে হবে।

✓পরপর তিন বার প্রজনন করেও গর্ভধারন ব্যর্থ হলে ৪র্থ বার বীজ না দিয়ে বিশ্রাম দেওয়া এবং বিশ্রাম চলাকালে চিকিৎসা সম্পন্ন করা।

✓ ফসফরাস, কপার, কোবাল্ট, মাঙ্গানিজ, সিলেনিয়াম, এবং ভিটামিন এডিই জাতীয় পুষ্টির সরবরাহ নিশ্চিত করুন।

✓কাচা ছোলা পানিতে ভিজিয়ে ৪৮ ঘন্টা পর অংকুরদগম হলে খাওয়ান। প্রতিদিন ২০০ গ্রাম করে ২৫ দিন।

✓প্রতিদিন তিনটা করে মুরগির কাঁচা ডিম খাওয়ান একটানা ৫ দিন।

✓ অভিজ্ঞ ও দক্ষ ভেটেরিনারিয়ানের সাথে যোগাযোগ করুন।

ডা মোঃ শাহীন মিয়া
বিসিএস প্রাণিসম্পদ
ভেটেরিনারি সার্জন
চৌদ্দগ্রাম কুমিল্লা।
০১৭১৬১৬২০৬১(ইমু)

Please follow and like us:

About admin

Check Also

শিং ও দাঁত দেখে বয়স নির্ণয়ঃ-

‎M A Islam‎ to লাইভ ষ্টক এডমিন মেলা এন্ড প্রশিক্ষণ পাঠ পশুর বয়স নির্ণয়ঃ আদর্শ ছাগল পালন …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »
error: Content is protected !!