Breaking News
প্লাসেন্টা আটকে যাওয়া
প্লাসেন্টা আটকে যাওয়া

গর্ভফুল আটকে যাবার কারণ ,লক্ষণ ও করণীয়ঃবিস্তারিত

 পাঠা ১।

প্রজননের ইতিকথা 2
গাভী কন্সিভ হওয়ার পরে ভ্রূণ কে সুরক্ষা ও বৃদ্ধির জন্য গাভীর শরীরে কিছু জৈবিক প্রক্রিয়ার পরিবর্তন ঘটে।
প্রথমত জরায়ুর মুখে সার্ভিক্যাল প্লাগ তৈরি হয়ে ভ্রুন কে বাহিরের যাবতীয় জীবাণু ও বিপদ আপদ থেকে সুরক্ষা প্রদান করে ।

দ্বিতীয়ত কর্পাস লুটিয়াম অটুট অবস্থায় থেকে ওভারীতে এই সিগন্যাল প্রদান করে যে জরায়ু তে বাচ্চা রয়েছে ।

এছাড়া প্রোজেষ্টারন হরমোন নিঃসৃত হয়। এর ফলে গাভীর ওভারী( ডিম্বকোষ) থেকে আর কোন ফলিকল বা ডিম্বাণু ওভুলেশন করে না।

এইভাবে গর্ভবতী গাভীর ইস্ট্রাস সাইকেল বন্ধ থাকে ।

গাভী সিমেন গ্রহণের প্রায় দুই সপ্তাহ পরে ভ্রূণের থেকে পার্টিশন হয়ে প্লাসেন্টা বা গর্ভফুল তৈরি হয়।

তখন থেকে ভ্রুন টি প্লাসেন্টার মাধ্যমে খাদ্য ও পুষ্টি গ্রহণ করে থাকে ।প্লাসেন্টার ভিতরে গাভীর শরীর থেকে রক্ত প্রবাহিত হয়।

এই রক্তের সাথে মিশ্রিত থাকে অক্সিজেন গ্লুকোজ, এমাইনো এসিড এবং বিভিন্ন ধরনের মিনারেল ।

ভ্রুন তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি আম্বিলিক্যাল কর্ড (নাড়ি) এর মাধ্যমে প্লাসেন্টা থেকে গ্রহণ করে এবং দেহে উৎপাদিত সকল বর্জ্য পদার্থ উক্ত নাড়ীর মাধ্যমে প্লাসেনটা তে জমা করে ।

বাছুরের লাংস বা ফুসফুস আস্তে আস্তে গঠিত হয় কিন্তু এটা শ্বাস প্রশ্বাসের কোন কাজ করে না।

এর বদলে গর্ভ ফুল থেকে পাওয়া অক্সিজেন বাছুর ব্যবহার করে ।

তাই বাছুর জন্মের সাথে সাথে নাক মুখের আঠালো পদার্থ পরিষ্কার করে শ্বাস প্রশ্বাস চালু করতে হয়।

এছাড়া বাছূর যে প্রস্রাব করে পানি পাতা (amniotic fluid ) এর ভিতরে জমা থাকে ।

কিন্তু ইহা সাধারণত পানি ছাড়া আর তেমন কিছু থাকে না। এইভাবে বাছুর টি তার মায়ের পেটে আস্তে আস্তে বড়গর্ভ ফুল আটকে যাওয়া

গরুতে বাচ্চা প্রসবের পর ৬–১২ ঘন্টার মধ্যে গর্ভ ফুল পড়ে যায়। এর চেয়ে বেশী সময় লাগলে তখন তাকে গর্ভ ফুল আটকে যাওয়া বলে।

পাঠ ২।

গর্ভ ফুল আটকে যাবার কারণ

বহু কারণে গর্ভফুল আটকে যায়।

যেমনঃ

★) জীবানুর আক্রমন।

★) অপরিপক্ক গর্ভ ফুল।

★) অপরিপক্ক প্রসব।

★) হরমোনের অভাব।

★) ক্যালসিয়ামের অভাব।

★) গাভীর স্বাস্হ্য হানী।

★) যমজ বাচ্চা ইত্যাদি।

রোগের লক্ষণ ঃ

★) স্বাভাবিক সময়ের ( ৬–১২ ঘন্টা) মধ্যে গর্ভ ফুল না পড়া।

★) জীবানু দ্বারা আক্রন্ত হলে জ্বর থাকবে এবং খাবে না।

রোগ নির্ণয় ঃ

★) রোগের ইতিহাস ( ১২ ঘন্টা অতিবাহিত হয়েছে কি না।

★) রোগ লক্ষণ ঃ

চিকিৎসা ঃ
★) কোন ভাবেই হাত দিয়ে টানাটানি করা যাবে না, কারন এতে গাভী বন্ব্যা হয়ে যেতে পারে।
★) প্রথম জ্বর দেখতে হবে। জ্বর থাকলে পেনিসিলিন ইনজ। প্রতিদিন ১বার, ৫–৭দিন দিতে হবে।
★) প্রসবের ২৪ ঘন্টার মধ্যে –ইনজ, পিটোন–এস, মাএাঃ ১০–২০ আই ইউ/ মাংসে দিতে হবে, একক মাএা।
★) ২৪ ঘন্টার মধ্যে ফুল না পড়লে আবার পিটোন –এস একই মাএায় মাংসে দিতে হবে,,,, সাথে ইনজঃ মিথার স্পেন, মাএা–১-৫ গ্রাম/ গাভীর মাংসে।
★) শরীরের তাপমাএা স্বাভাবিক থাকলে ক্যালসিয়াম ফোর্ট এম ২৫০ মিলি
মাএাঃ ১০০–২০০ মিলি ধীরে ধীরে শিরায় দিতে হবে।
★) স্যালাইন দিতে হবে।

সতর্কতা ঃ

★) গর্ভ ফুল ঝুলে থাকলে, ৪–৫ ইন্চি রেখে কেটে দিতে হবে

★) যৌনীদ্বারের চর্তূদিকে তার পিন তৈল বা সরিষার তৈলে ৩–৪টি রসুনের কোয়া ছেঁচে একটু গরম করে লাগাতে হবে

★) ৪–৫ দিনের আগে হাত দিয়ে ফুল বের করা যাবে না। এক্ষেএে ভেটেরিনারি সার্জনের সহায়তা নিতে হবে।

★) জ্বর থাকলে জরায়ুতে হাত দেয়া যাবে না।

পাঠ ৩

গর্ভফুল পড়তে দেরী হওয়ার কারণ এবং প্রতিকার :

লেখক – ডাঃ এ এস আলীম, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, আমেরিকান ডেইরী লিমিটেড ।

গাভীর ‘গর্ভফুল পড়তে দেরী হওয়া’ বলতে কী বুঝবো ?

যদিও, বাছুর জন্মের ২ থেকে ৮ ঘন্টার মধ্যে সাধারণত: গাভীর প্লাসেন্টা বা, গর্ভফুল পড়ে যায় ,

যদি বাছুর জন্মের ২৪ ঘন্টার মধ্যে গর্ভফুল না পড়ে, তবেই, তাকে ‘গর্ভফুল পড়তে দেরী হওয়া’ বা, ‘রিটেইনড ফিটাল মেমব্রেন’ বলা হয় ।

রিটেইন্ড ফিটাল মেমব্রেন এর কারণ :

যেসব কারণে, রিটেইন্ড ফিটাল মেমব্রেন-এর সম্ভাবনা বেড়ে যায়, তা হলো :

১) গাভীর অ্যাবরশন হওয়া বা, অ্যাবরশনের হিস্ট্রি থাকা,

২) ডেলিভারিতে অনেক লম্বা সময় লাগা বা, অনেক কষ্ট হওয়া,

৩) জমজ বাছুর হওয়া,

৪) মরা বাছুর হওয়া,

৫) সময়ের বেশ আগেই ডেলিভারি হয়ে যাওয়া,

৬) গাভীর রক্তে ক্যালসিয়াম বা, শরীরে, অন্য পুষ্টি-ঘাটতি থাকা,

৭) গাভীর বয়স বেশী হওয়া,

৮) অতিরিক্ত গরম-ভ্যাপসা আবহাওয়াতে, ডেলিভারি হওয়া
..ইত্যাদি ।

রিটেইন্ড ফিটাল মেমব্রেন এর সমস্যা :

বেশীরভাগ ক্ষেত্রে, কোন সমস্যা না হলেও , লক্ষ্য রাখতে হবে যে, গাভীর মেট্রাইটিস বা, টক্সেমিয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে কী না ।

কারণ, এ দুটি অবস্থাতেই, গাভীর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে ।

রিটেইন্ড ফিটাল মেমব্রেন এর প্রতিরোধ এবং প্রতিকার :

১) রিটেইন্ড ফিটাল মেমব্রেন যা তে না হয়, সেজন্য আগে থেকেই , গাভীর ভিটামিন ই, সেলেনিয়াম এবং, ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দুর করতে হবে । রিটেইন্ড ফিটাল মেমব্রেন হয়ে গেলে, ক্যালসিয়াম-ভিটামিন দিয়ে, কোন লাভ নেই ।
২) অনেক খামারী এবং ডাক্তার, গাভীর জরায়ুতে পেসারী এবং অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করে থাকেন ।

এতে কোন লাভই হয় না বরং, গর্ভফুল পড়তে , আরও বেশী সময় লাগে

( কারণ, রিটেইন্ড ফিটাল মেমব্রেনটি , পচে বের হয়ে আসতে হবে , আর , জরায়ুতে দেওয়া অ্যানটিবায়োটিক, এই পচন প্রক্রিয়াকে স্লথ (slow/ delayed) করে ফেলে ।
৩) আগে, ম্যানুয়ালি , গর্ভফুল বের করার কথা বলা হলেও, এখন বলা হচ্ছে যে, এতে উপকারের চেয়ে, অপকারই বেশী হয়। ।

অর্থাৎ, মেট্রাইটিস এবং, টক্সেমিয়া ( গর্ভফুল পচার কারণে নি:সৃত টকসিনের রক্তে মিশে যাওয়া )-র সম্ভাবনা, আরও বেড়ে যায় ।

কেবলমাত্র , পচা গর্ভফুলের দুর্গন্ধ থেকে কিছুটা রেহাই পাওয়ার জন্য, গাভীর জরায়ুর ভেতর থেকে বের হয়ে থাকা, গর্ভফুলের অংশটুকু, কেটে ফেলতে বলা হয়।
৪) প্রতিকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্টেপ হলো : গাভীকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা এবং , মেটরাইটিস বা, টক্সেমিয়ার লক্ষণ দেখা দেওয়ার সাথে সাথেই , ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী পেনিসিলিন ( বা, অক্সিটেট্রাসাইক্লিন ) এবং, মেট্রোনিডাজল এর কোর্স শুরু করা ।
৫) একটা বিষয় , মনে রাখা জরুরী । তা হলো, মেট্রাইটিস বা, টক্সেমিয়া না হলে, ২ থেকে ১১ দিনের মধ্যে, গর্ভফুল পচে, পড়ে যাবে এবং, কোন অ্যানটিবায়োটিক ব্যবহারের এর প্রয়োজন নেই ।

খামারীকে আরও মনে রাখতে হবে যে, এই ২ থেকে ১১ দিন, দুর্গন্ধের কারণে, গাভীর কাছে যাওয়াটাও, অনেক কষ্টকর হয়ে পড়তে পারে ।

এসময়, খামারীর করণীয় কেবল দুটি কাজ : ক) ধর্য্য ধারণ এবং, ২) পর্যবেক্ষণ ।

Mojar Shekha January 20, 2018 0

পাঠ ৪।
গর্ভফুল আটক হওয়া (Retained Placenta).
কারনঃ-
= গর্ভাবস্থায় গাভীর শরীরে ক্যালসিয়াম, আয়রন, এডিই ও মিনারেলের অভাব হলে।
= গর্ভকালিন সময় কাচা ঘাস ও সুষম খাদ্য না খাওয়ালে।
= নির্দিষ্ট সময়ের আগে বা পরে বাচ্চা প্রসব করলে।
= গর্ভপাত, অপরিনত, মৃত, বিকলাঙ্গ বাচ্চা প্রসব করলে।
= জোরপুর্বক বাচ্চা টেনে হিচরে বের করলে।
= ইস্ট্রোজেন হরমোনের অভাব ও অপুষ্টি হলে।
= সংক্রমন জনিত রোগ ব্রুসেলোসিস (Brucellosis) হলে।
লক্ষনঃ-
= গাভী বাচ্চা প্রসবের ২৪ ঘন্টা অতিবাহিত হওয়া সত্বেও গর্ভফুল না পরাই হলো অন্যতম প্রধান লক্ষন।
= বাচ্চা প্রসবের পর গর্ভফুলের অর্ধেকটা বের হয়ে নিচের দিকে ঝুলে থাকে।
= গাভীর অল্প জ্বর, অস্বস্তি বোধ ও খাওয়ার অরুচি দেখা যাবে।
= গর্ভফুল বের করার জন্য বার বার কোঁথ দিবে ফলে জরায়ু বের হয়ে আসতে পারে।
= ভাজাইনাল ও জরায়ুর প্রোলাপস হতে দেখা যায়।
= প্রসাব করার সময় দুর্গন্ধ হবে ও দুধ কমে যাবে।
= গর্ভফুল বেশি দিন আটকে থাকলে জরায়ু প্রদাহ ও সেপ্টিসেমিয়ার কারনে পশু মারা যেতে পারে।
চিকিৎসাঃ-
২৪ ঘন্টার মধ্যে গর্ভফুল না পড়লে করনীয়…..
= বাহিরের ঝুলন্ত অংশ যতদুর সম্ভব টেনে ধরে কেটে দিন।
= inj: Renamycin-100. এ আই টিউবের মাধ্যমে ৪০ সিঃসিঃ করে ৩/৪ দিন দিতে হবে।
= syr: UTROCARE 450ml করে দিনে ২ বার খাওয়াতে হবে ২/৩ দিন।
= যোনীদ্বারে যাতে মাছির উপদ্রপ কম হয় সেজন্য ভাজাইনার চারিদিকে তারপিন তৈল লাগিয়ে রাখুন।
= গর্ভফুল হাত দিয়ে টেনে বের করবেন না। এতে করে জরায়ুতে ক্ষতের সৃষ্টি হতে পারে। কয়েক দিনের মধ্যেই পচে পচে বের হয়ে যাবে জরায়ুর কোনরুপ ক্ষতি ছাড়াই।
প্রতিরোধঃ-
= গর্ভাবস্থায় গাভীকে প্রচুর কাচা ঘাস ও শরিষার খৈল খাওয়াতে হবে।
= বাচ্চা প্রসবের ৩০ মিনিট পর syr: UTROCARE 450ml এবং ১ ঘন্টা পর আবার ৪৫০ মিঃলিঃ খাওয়ালে গর্ভফুল আটক হয় না।
= বাচ্চা হওয়ার ২০/২৫ মিনিট পর অক্সিটোসিন ঔষধ যেমন inj: Oxcin 5cc মাংশে দিলে দ্রুত গর্ভফুল পরে যায়।
= কুসুম গরম পানিতে ২০০ গ্রাম চিটাগুড় একত্রে মিশিয়ে বাচ্চা হবার সাথে সাথে খাওয়ান।
= ঝুলন্ত অংশের সাথে ইট বা কাঠের টুকরা বেধে দিলে গর্ভফুল পরতে সহজ হয়।

পাঠ ৫।
গর্ভপাত হওয়া (Abortion).
“””””””””””””””””””””””””””””””
যে সময়ে বাচ্চা প্রসব হওয়া উচিত, তার আগেই জরায়ু থেকে বাচ্চা বের হওয়াকে গর্ভপাত (Abortion) বলা হয়।

এসব বাচ্চা মৃত অবস্থায় ভুমিষ্ট হয় অথবা ভুমিষ্ট হওয়ার পর মারা যায়।
কারনঃ-
= গর্ভাবস্থায় গাভীতে রোগ-জীবানুর সংক্রমন হলে যেমন….ব্রুসেলোসিস, ট্রাইকোমোনয়াসি গর্ভপাতের প্রধান কারন।
= লেপ্টোস্পাইরোসিস, গলাফুলা, ক্ষুরারোগ, গাভীর গর্ভপাত ঘটিয়ে থাকে।
= রাষায়নিক ও ভেষজ দ্রব্য যেমন….. পটাশিয়াম নাইট্রেট, আর্সেনিক, সীসা, তাম্র, ক্লোরিনেটেড হাইড্রোকার্বন প্রভুতির বিষক্রিয়ায় গর্ভপাত হয়ে থাকে।
= পুষ্টির অভাব হলে যেমন….. খাদ্যে ভিটামিন, খনিজ পদার্থ, স্বাস্থ্যহানির কারনে গর্ভপাত অথবা দুর্বল বা মুত বাচ্চা হতে পারে।
= শারীরিক আঘাত যেমন….. গর্ভাবস্থায় আছার খেয়ে পরা, অতিরিক্ত লাফালাফি গর্ভপাতের কারন হতে পারে।
= গর্ভাবস্থায় গাভীকে অক্সিটোসিন জাতীয় ইনজেকশন প্রয়োগ করলে গর্ভপাত হয়।

লক্ষনঃ-
= ২/৩ মাসেরর গর্ভবতী গাভী গর্ভকালিন সময়ে অগোচরেই গর্ভপাত হয়ে যায়।
= গর্ভকালের শেষের দিকে হলে স্বাভাবিক লক্ষনের মতই লক্ষন প্রকাশ পাবে।
= অনেক সময় যোনীদ্বার দিয়ে পানি বা মরা রক্ত বের হতে দেখা যাবে।
= গাভী অস্বস্তি অনুভব করে বার বার উঠা বসা করতে দেখা যাবে।
= কোন কোন ক্ষেত্রে জরায়ু বিদরন, জরায়ু প্রদাহ, রক্তপাত, যোনী প্রদাহ, যোনী বিদরন হতে দেখা যায়।

চিকিৎসাঃ-
= গর্ভপাতের লক্ষন শুরু হলে চিকিৎসা দিয়ে কোন ভাল ফল পাওয়া যায় না। অতএব যত তাড়াতাড়ি বাচ্চা হবে ততই গাভীর জন্য মঙ্গল।

বাচ্চা প্রসবে বিলম্ব হলে অভিজ্ঞ ভেটেরিনারিয়ান দ্বারা জরায়ু থেকে বাচ্চা ও গর্ভফুল বের করে ফেলুন।
= inj: Renamycin-100 এ আই টিউবের মাধ্যমে ৪০ সিঃসি করে পর পর ৩ দিন জরায়ুতে দিতে হবে।

প্রতিরোধঃ-
= গাভীর গর্ভপাত হওয়ার অভ্যাস থাকলে ইনজেকশন প্রোজেস্টারন হরমোন প্রয়োগের মাধ্যমে গর্ভপাত রোধ করা যায়।
= গর্ভাবস্থায় গাভী যাতে বেশি লাফালাফি না করতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখুন।
= রাষায়নিক ও ভেষজ দ্রব্য যাতে গাভী না খায় সেজন্য সতর্ক থাকুন।
= গর্ভপাত হওয়া গাভীকে পর পর ২টা হিট মিস দিয়ে ৩য় বারের সময় প্রজনন করালে আর গর্ভপাত হয় না।
সাময়িক বন্ধ্যাত্ব (Infertility).
সাধারনত নিয়মিত বাচ্চা উৎপাদন ক্ষমতা লোপ পেলে তাকে সাময়িক বন্ধ্যাত্ব (Infertility) বলে।
অর্থাৎ গাভী বাচ্চা প্রসবের পর যে সময়ের মধ্যে হিটে আসার কথা তার চেয়ে অনেক বেশি সময় নেয়া এবং বকনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হয়ে হিটে আসা কে সাময়িক বন্ধ্যাত্ব বলে।

কারনঃ-
= গাভীর ডিম্বাশয়ে কর্পাস লিউটিয়াম স্থায়ীভাবে অবস্থান করলে।
= জরায়ুতে জীবানুর সংক্রমন, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, ওভারীতে সিষ্ট হলে হিট আসতে বিলম্বব হয়।
= গাভী কৃমিতে আক্রান্ত থাকলে।
= কাচা ঘাস ও ভিটামিন এডিই এর অভাবেও গাভী বা বকনা হিটে আসতে বিলম্বিত হয়।
= বাচ্চা প্রসবের পর গর্ভফুলের কিছু অংশ জরায়ুতে থেকে গেলে।
= জরায়ু ইনফেকশন, বাচ্চা ও গর্ভফুল হাত দিয়ে বের করার সময় হাত জীবানু মুক্ত না করেই ভিতরে প্রবেশ করালে।

লক্ষনঃ-
= গাভীর ক্ষেত্রে বাচ্চা প্রসবের ৩ মাস অতিবাহিত হওয়া সত্বেও হিটে না আসা এ রোগের অন্যতম প্রধান লক্ষন।
= বকনার ক্ষেত্রে ১৮ মাস পার হয়ে যাওয়া এবং শরীরের লোম বড় হয়ে যাওয়া, চামড়া মোটা ও শক্ত হওয়া।
চিকিৎসা ও প্রতিরোধঃ-
= inj: Dinoprost প্রয়োগের মাধ্যমে ২/৩ দিনের মধ্যে গাভী/বকনাকে হিটে আনা যায়।
= নিয়মিত কৃমিমুক্ত করে syr: ESKAVIT ADE খাওয়ালে অথবা inj: Tokovita ADE মাত্রা অনুযায়ী দিতে হবে।
= খাদ্য তালিকায় কাচা ঘাসের সরবরাহ নিশ্চিত করুন।
= গাভী বাচ্চা প্রসবের পর ২.৫ সিঃসিঃ FERTILON মাংশে অথবা রক্ত শিরায় দিলে এ রোগ প্রতিরোধ করা যায়।
= বকনার ক্ষেত্রে বয়স ১৮ মাস পার হলে ই-সেলেনিয়াম খাওয়ানো ও inj: FERTILON 5cc মাংশে দিলে ২০ দিনের মধ্যে হিটে আসে।

পাঠ ৬।

ফুল আটকে যাওয়া : বর্তমান সময়ে সদ্য প্রসব করা গাভীর একটি নিত্য সমস্যা।
—————————————————–
অনেক সময় গাভীর বাচ্চা প্রসবের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফুল পড়ে না এবং এসব ক্ষেত্রে গর্ভ ফুলের অংশ বিশেষ বাইরের দিক হতে ঝুলে থাকে। একটা গাভীর সাধারণত বাছুর প্রসবের ৩০ মিনিট থেকে আট ঘন্টার মধ্যে গর্ভফুল পড়ে যায় স্বাভাবিক ভাবে।

অনেক সময় এটা স্বাভাবিক ভাবে আর বের হয়ে আসে না। এটাকেই ফুল আটকে যাওয়া বলে। এই গর্ভফুল যদি ভিতরেই থেকে যায় তবে ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হয়ে গাভীর জরায়ূর অভ্যন্তরে ইনফেকশনের সৃষ্টি হয়।

এই ইনফেকশন বা প্রদাহের কারণে গাভীর দেহে নানান শরীরবৃত্তীয় জটিলতা দেখা দেয়।

প্রদাহজনিত কারণে গাভী খাদ্যগ্রহন কমিয়ে দেয় এবং তার দুগ্ধ উৎপাদন কমে যায় এবং পরবর্তীতে তার প্রজনন হ্রাস পাওয়ার ফলে প্রজননে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়।

এক কথায় বলা যেতে পারে গাভীর দুগ্ধ উৎপাদন এবং প্রজনন স্বাস্থ্য মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশংকা থাকে।
গাভীর গর্ভফুল আটকে যাওয়ার সমস্যাটি কি কারণে ঘটে?
এক কথায় বলা যেতে পারে ভিটামিন, ক্ষনিজ এবং হরমোনের তারতম্য জনিত সমস্যার কারণে এটা হয়ে থাকে।

তাহলে গাভী পালন করার সময় গাভীর জন্য যে খাদ্য সরবরাহ করা হয় তাতে যথাযথ পরিমাণে ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ এবং মিনারেলস বা ক্ষনিজের উপস্থিতি নিশ্চিত করা খামারীদের জন্য বাঞ্ছনীয়।

এছাড়া গাভীর স্বাস্থ্য ব্যাবস্থাপনার প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
গাভীর ফুল আটকে গেলে কি করবেন?
প্রথমেই যে কাজটি করবেন সেটা হছে এটাকে জোড় করে বা টেনে বের করার চেষ্টা থেকে বিরত থাকবেন।এক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ভেটেরিনারি চিকিৎসকের সহায়তায় আটকে যাওয়া গর্ভফুল অপসারণ করে গাভীকে তার পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা দিবেন।

অন্যথায় পরবর্তীতে গাভীর উপরোল্লিখিত সমস্যাগুলি হতে পারে।
চিকিৎসা ও প্রতিকারঃ
১। অকসিটোসিন
২। ইউটোসিল প্রেশারিজ
৩। এ্যান্টিবায়েটিক
উপোরক্ত ইনজেকশন গুলি দ্বারা ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্ষ অনুযায়ী চিকিৎসা দিবেন।

এছাড়া গাভী গর্ভবতী থাকা অবস্থায় তার খাদ্যে নিয়ম অনুযায়ী ভিটামিন এ,ই এবং সেলেনিয়াম সরবরাহ করলে এই গর্ভফুল আটকে যাওয়ার সমস্যাটি বহুল অংশেই কমে যায়।

আর যে সব গাভী পর্যাপ্ত কাঁচা ঘাস খায় সেই সমস্ত গাভীরও এই সমস্যাটি তেমন হয় না। কারণ, কাঁচা ঘাসে আছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এবং মিনেরালস!

কালেক্টেট

Please follow and like us:

About admin

Check Also

বাছুরের ডায়রিয়ার কারণ

Couses of diarrhea in neonatal rumenants 🔷Bacterial: 🔸Escherichia coli 🔸Salmonella spp. 🔸Campylobacter fecalis 🔸Campylobacter coli …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »
error: Content is protected !!