Breaking News
গরুর খাদ্যের পুস্টি পর্যালোচনা
গরুর খাদ্যের পুস্টি পর্যালোচনা

গরুর খাদ্য ও পুষ্টি পর্যালোচনা : ভুট্টা,গম,গমের ভুষি,চালের কুড়া,শুকনা সরিষা গাছ,আলু ,মশুর ডালের ভুষি ,বার্লি,খেসারী ভুষি

 

গাভি_পালন–(খাদ্য ও পুষ্টি)

১. আঁশ জাতীয় খাদ্যঃ-
শুষ্ক আঁশ জাতীয় খাদ্যে শতকরা ১০-১৫ ভাগ পানি বা জলীয় অংশ থাকে যেমনঃ বিভিন্ন প্রকার খড়। রসালো আঁশ জাতীয় খাদ্যে শতকরা 70-85 ভাগ পানি বা জলীয় অংশ থাকে যেমনঃ কাঁচা ঘাস, লতাগুল্ম, বিভিন্ন গাছের পাতা, মাসকলাই, খেসারী ইত্যাদি।

২. দানাদার জাতীয় খাদ্যঃ-
বিভিন্ন প্রকার ডাল জাতীয় শস্যদানা ও শস্যদানার উপজাত। যেমনঃ ডালের ভুসি, গমের ভুসি, খৈল, চালের কুঁড়া ইত্যাদি।

৩. খনিজ উপাদানঃ
যেমনঃ- লবন, লাইমস্টোন, মনো-ক্যালসিয়াম ফসফেট, ডাই-ক্যালসিয়াম ফসফেট ইত্যাদি।

৪. ফিড সাপ্লিমেন্ট/প্রিমিক্সঃ
ভিটামিন মিনারেল প্রিমিক্স, এমানো এসিড, অর্গানিক এসিড, এনজাইম ইত্যাদি।

#গাভীর সুষম খাদ্যঃ
গাভিকে দৈনিক প্রয়োজনীয় অনুপাতে খড়, কাঁচা ঘাস ও দানাদার খাদ্যের মিশ্রন সরবরাহ করতে হবে।
300 কেজি ওজনের একটি গাভীকে দৈনিক-

উচ্চমান সম্পন্ন কাঁচা (সবুজ) ঘাসঃ ১০-১৫ কেজি।
খড়ঃ ৩-৪ কেজি
১৮%-২০% প্রোটিন সমৃদ্ধ দানাদার খাদ্যের মিশ্রন ২-৩ কেজি সরবরাহ করতে হবে।

#দানাদার খাদ্যের আদর্শ নমূনা নিম্নরুপঃ
উপাদান ১ নং নমুনা ২নং নমুনা ৩নং নমুনা
গমের ভূষি ৩০ কেজি ৪০ কেজি ২০ কেজি
চালের কুঁড়া ১০ কেজি ১৫ কেজি ২০ কেজি
খেসারী ভূষি ২৬ কেজি ২০ কেজি ২০ কেজি
ভাঙ্গা ছোলা ১০ কেজি ১০ কেজি ১৬ কেজি
খৈল ২০ কেজি ১৬ কেজি ২০ কেজি
ঝিনুকের পাউডার/হড়ের গুড়া ০৩ কেজি ০৩ কেজি ০৩ কেজি
লবণ (অতিরিক্ত) ০১ কেজি ০১ কেজি ০১ কেজি
DB ভিটামিন ১০০ গ্রাম ১০০ গ্রাম ১০০ গ্রাম

#নিয়মঃ

১০০ কেজি ওজনের গাভীকে প্রতিদিন মিশ্রণের ৩ কেজি দানাদার খাদ্য দিতে হবে।
গাভী গর্ভবতী হলে ৫ম মাস থেকে বাচ্চা প্রসব পর্যন্ত ১.৫ কেজি অতিরিক্ত দানাদার খাদ্য দিতে হবে।
দুধালো হলে প্রতি ২.৫ লিটার দুধের জন্য ১ কেজি দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হবে।

সাধারণতঃ গরুর সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য ওজনের শতকরা ২ ভাগ আঁশ জাতীয় খাদ্য, শতকরা ১ ভাগ দানাদার জাতীয় খাদ্য ও ৪ ভাগ রসালো আঁশ জাতীয় খাদ্য সরবরাহ করতে হয়।

অর্থাৎ গাভীর প্রাথমিক ওজন ২০০ কেজি হলে উক্ত গাভীর দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনার জন্য ৪ কেজি শুষ্ক আঁশ জাতীয়, ২ কেজি দানাদার জাতীয় এবং ৮ কেজি রসালো আঁশ জাতীয় খাদ্য সরবরাহ করতে হয়।

লেখক ঃজাহিদুল ইসলাম(পি ডি এফ)

গরুর খাদ্য ও পুষ্টি :  ( মিনারেলস )

খনিজ উপাদান বা মিনারেলস গরুর স্বাভাবিক দুধ প্রধান এবং শরীর বৃত্তীয় কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

গরু সাধারণত শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় মিনারেলস ঘাস এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক খাবার থেকে পেয়ে থাকে।

তবে তক্কো দুধ উৎপাদনশীল গরুর শরীরে খনিজ উপাদানের চাহিদা বেশি থাকায় অনেক সময় খাবারের সাথে অতিরিক্ত খনিজ উপাদান সরবরাহ করা হয়।

গরুর জন্য প্রধান প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান হচ্ছে ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস।

এছাড়া আরো কিছু খনিজ উপাদান স্বপ মাত্রায় প্রয়োজন হয়। এইগুলো হচ্ছে সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্লোরাইড এবং সালফার।

ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস :

ক্যালসিয়াম : যেহেতু দুধে প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম থাকে তাই দুধ উৎপাদনের সাথে ক্যালসিয়ামের সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ট।

বিশেষ করে অধিক দুধ উৎপাদনক্ষম গরুর জন্য অধিক পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম সরবরাহ খুবই জরুরি।

ঘাস ক্যালসিয়াম এর প্রধান প্রাকৃতিক উৎস হলেও অধিক দুধ উৎপাদন গরুর জন্য অনেক সময় কৃত্তিম ভাবে ক্যালসিয়াম সরবরাহের প্রয়োন হয়।

বচ্চা প্রসবের প্রথম ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ গরু সাধারণত অধিক পরিমানে ক্লাসিউম স্বপতায় ভুগে থাকে কারণ গুরুর হার থেকে ক্যালসিয়াম সৃষ্টি হতে এই সময়ে সময় বেশি প্রয়োজন হয়।

তাই এই সময়ে অধিক পরিমানে কাকে ঘাস সরবরাহ করা জরুরি। কাঁচা ঘাস সরবরাহে ঘাটতি হলে কৃত্তিম ভাবে বাইরে থেকে ক্যালসিয়াম সরবরাহের প্রয়োজন হয়।

প্রাকৃতিক ক্যালসিয়াম এর চেয়ে কৃত্তিম ক্যালসিয়াম গরুর শরীরে দ্রুত শোষিত হয়ে থাকে। আবার ক্যালসিয়াম স্বপতায় আক্রান্ত গরুর চেয়ে সুস্থ গরু দ্রুত ক্যালসিয়াম শোষণ করতে পারে।

ওজন, বয়স এবং দুধের পরিমান ভেদে গরুর শরীরে ক্যালসিয়াম এর প্রয়োজন ভিন্ন হয়ে থাকে।

তবে স্বাভাবিক ভাবে দুধ উৎপাদনকারী গরুর জন্য ড্রাই ম্যাটার এর ০.৬৭%, ড্রাই পিরিয়ড এর জন্য ০.৪৫ % এবং বকনা বা ষাঁড় এর জন্য ড্রাই ম্যাটার এর ০.৪০% ক্যালসিয়াম সরবরাহ প্রয়োজন হয়, হতে পারে সেটা প্রাকৃতিক অথবা কৃত্তিম উৎস থেকে।

ফসফরাস : কাইয়ুম এর মতো গরুর শরীরে ফসফরাস এর প্রয়োজন ও সময় বিশেষে খুব জরুরি হয়ে ওঠে, বিশেষ করে দুধ উৎপাদনের সময়ে।

কারণ দুধে প্রকার পরিমান ফসফরাস বিদ্যমান থাকে। গরুর শরীরে ক্যালসিয়াম এবং এবং ফসফরাস এর ভূমিকাও প্রায় একই। ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস এর অভাবজনিত কারণেই গরু মূলত মিল্ক ফিভার রোগে আক্রান্ত হয়।

কাঁচা ঘাস গরুর শরীরে ফসফরাস এর প্রধান উৎস। তবে পর্যাপ্ত কাঁচা ঘাস নিশ্চিত করতে না পারলে বচ্চা প্রসবের প্রথম ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ গরু ফসফরাস স্বল্পতায় অধিক ভুগে থাকে।

স্বাভাবিক ভাবে দুধ উৎপাদনকারী গরুর জন্য ড্রাই ম্যাটার এর ০.৩৮%, ড্রাই পিরিয়ড এর জন্য ০.২৩ % এবং বকনা বা ষাঁড় এর জন্য ড্রাই ম্যাটার এর ০.৩০% ফসফরাস সরবরাহ প্রয়োজন হয়, হতে পারে সেটা প্রাকৃতিক অথবা কৃত্তিম উৎস থেকে।

ম্যাগনেসিয়াম : কাঁচা ঘাস গরুর শরীরে ম্যাগনেসিয়াম এর প্রধান উৎস।

তবে পর্যাপ্ত কাঁচা ঘাস নিশ্চিত করতে না পারলে বচ্চা প্রসবের প্রথম ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ গরু ম্যাগনেসিয়াম স্বল্পতায় অধিক ভুগে থাকে।

স্বাভাবিক ভাবে দুধ উৎপাদনকারী গরুর জন্য ড্রাই ম্যাটার এর ০.২৭%, ড্রাই পিরিয়ড এর জন্য ০.১৬ % এবং বকনা বা ষাঁড় এর জন্য ড্রাই ম্যাটার এর ০.১৬% ম্যাগনেসিয়াম সরবরাহ প্রয়োজন হয়, হতে পারে সেটা প্রাকৃতিক অথবা কৃত্তিম উৎস থেকে।

পটাসিয়াম : কাঁচা ঘাসে পটাসিয়াম এর চাহিদা পর্যাপ্ত থাকেনা বিধায় প্রায় সকল গরুকে কৃত্তিম উৎস থেকে পটাসিয়াম সরবরাহ করতে হয়।

পটাসিয়াম এর অভাবে গরুর শরীরে আয়নিক ইমব্যালেন্স হয়ে থাকে এবং অনেক সময় পটাসিয়াম স্বল্পতায় গরু মারাও যেতে পারে, বিশেষ করে অতি গরমের সময়।

স্বাভাবিক ভাবে দুধ উৎপাদনকারী গরুর জন্য ড্রাই ম্যাটার এর ১.০%, ড্রাই পিরিয়ড এর জন্য ০.৬০ % এবং বকনা বা ষাঁড় এর জন্য ড্রাই ম্যাটার এর ০.৬০% পটাসিয়াম সরবরাহ প্রয়োজন হয়। খাবার লবন পটাসিয়াম এর প্রধান উৎস।

সোডিয়াম এবং ক্লোরিন : খাবার লবন সোডিয়াম এবং ক্লোরিন এর প্রধান উৎস। সোডিয়াম এবং ক্লোরিন এর অভাবে গরুর শরীরে আয়নিক ইমব্যালেন্স হয়ে থাকে, বিশেষ করে অতি গরমের সময়।

স্বাভাবিক ভাবে দুধ উৎপাদনকারী গরুর জন্য ড্রাই ম্যাটার এর ০.২২%, ড্রাই পিরিয়ড এর জন্য ০.৫০ % এবং বকনা বা ষাঁড় এর জন্য ড্রাই ম্যাটার এর ০.২০% সোডিয়াম সরবরাহ প্রয়োজন হয়।

অন্যদিকে বাভাবিক ভাবে দুধ উৎপাদনকারী গরুর জন্য ড্রাই ম্যাটার এর ০.২৯%, ড্রাই পিরিয়ড এর জন্য ০.২০ % এবং বকনা বা ষাঁড় এর জন্য ড্রাই ম্যাটার এর ০.২০% সোডিয়াম ক্লোরিন প্রয়োজন হয়।

অন্যান্য মাইক্রোমিনারেল হচ্ছে জিঙ্ক, আয়রন এবং কপার, যার বেশির ভাগ গরু ঘাসের মাধ্যমে সরবরাহ পেয়ে থাকে। তবে মাল্টি মিনারেলস কম্বিনেশন থেকেও কৃত্তিম ভাবে সরবরাহ করা হয়ে থাকে বিশেষ প্রয়োজন এর ক্ষেত্রে।

 ফেসবুক থেকে নেয়া

১।কেজি হোল কর্ণ ক্রপ্স সাইলেজে কতটুকু গ্রস এনার্জি থাকে?

১৩-১৬ মেগাজ্যুল!!!
১ মেগাজ্যুল = ১০০০ কিলো জ্যুল।
১ কিলো জ্যুল = ১০০০ জ্যুল।
১ ক্যালরি = ৪.১৮৪ জ্যুল।

গরুর খাদ্য ও পুষ্টি পর্যালোচনা : ভুট্টা

পশুখাদ্য হিসাবে ভুট্টা : কম দাম এবং অধিক পুষ্টির জন্য পৃথিবী জুড়ে সবচে গরুর বেশি ব্যবহৃত সহযোগী খাদ্যের নাম হচ্ছে ভুট্টা। যেহেতু ঘাস গরুর প্রধান খাবার, দানাদার খাবারকে গরুর সহযোগী খাবার হিসাবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে।

একই গাছে পুরুষ এবং স্ত্রী রেনুর ফুল থাকায় এবং সি ৪ ফটোসিনথেটিক প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপাদন করায় কম জমিতে সবচে বেশি শক্তি উৎপাদন করার ফসলের নাম ভুট্টা।

অধিক পরিমানে স্টারর্স সঞ্চিত থাকায় ভুট্টা থেকে অধিক পরিমানে শক্তি উত্পন্ন হয়।

পুষ্টিগুণ : প্রচুর বাইপাস প্রোটিন থাকায় ভুট্টা দুধের মান ও উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। একই সাথে মোটাতাজাকরণের জন্য ও ভুট্টা একটি উত্তম সহযোগী খাবার হিসাবে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত।

পাকা ভুট্টা সংগ্রহ করার পরে শুকানো ভুট্টা আধা ভাঙা করে গরুকে অন্যান্য দানাদার খাবারের সাথে মিশিয়ে খাওয়ানো হয়। গরুর জন্য পরিবেশিত খাদ্যে নিন্মলিখিত পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায় :

ড্রাই ম্যাটার : ৮৭%
স্টার্চ : ৬৫-৭০%
হজ্বমযোগ্য এনার্জি : ৮৫-৯০%
তেল : ৪-৪.৫%
ক্রুড প্রোটিন : ৮-১২ %
ক্রুড ফ্যাট : ২.০%
এ ডি এফ : ৩.৫%
শোষিত এনার্জি : ৩.১ মেগাজুল/কেজি
ক্যালসিয়াম : ০.০২ %
পটাসিয়াম : ০.৩৫%
ম্যাগনেসিয়াম : ০.১২ %
ক্যালসিয়াম : ০.৪২
সোডিয়াম : ০.০২%

মাত্রা ও সতর্কতা :

দুধের গরুকে দৈনিক দানাদার খাদ্যে সর্বোচ্চ ৪০% এবং ষাঁড় গরুকে সর্বোচ্চ ৫০% ভুট্টা দেয়া যেতে পারে। তবে স্বাভাবিকভাবে দৈনিক দানাদরের ৩০% পর্যন্ত সুষম পরিমান হিসাবে ধরা হয়।

গরুর প্রধান স্বাথ্য সম্মত ও পুষ্টিকর খাবার হচ্ছে ঘাস ও খড় এবং মাত্রাতিরিক্ত স্টারর্স জাতীয় খাবার যেহেতু গরুর জন্য ক্ষতিকর। মাত্রাতিরিক্ত ভুট্টা গরুর পাকস্থলীতে অম্লতা বা এসিডিটি সৃষ্টি করে।

গমের পুষ্টিমানঃ

গমের মধ্যে রয়েছে প্রোটিন, শর্করা, ম্যাকারিন, চর্বি, সেলুলোজ, লেসিথিন, এমাইলেজ, ভিটামিন-বি ইত্যাদি।

গবাদিপশু পশু ও পাখির খাদ্য হিসাবে সারা বিশ্বে গম একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

তাই এটাকে আপনি নির্দিষ্ট পরিমাণে আপনার গবাদিপশুর মিশ্রিত দানাদার খাদ্যের(TMR) রেশনে সহজেই রাখতে পারেন।
গমের পুষ্টিমান নিচে দেওয়া হল:
ড্রাই মেটার ৮৯%
ক্রুড প্রোটিন ১১%
ফ্যাট ১.৭%
ক্রুড ফাইবার ২.৫%
নিউট্রাল ডিটারজেন্ট ফাইবার ১৬.৫%
এসিড ডিটারজেন্ট ফাইবার ৫.২%
ক্যালসিয়াম ০.০৫%
ফসফরাস ০.৩২%
টোটাল ডাইজেস্টেবল নিউট্রান্টস ৭৯%
নেট এনার্জি ৮২.৪ Mcal/lbs

: গমের ভুষি

গরুর খাদ্য হিসাবে গমের ভুষি : বিশ্বব্যাপি পশুখাদ্য হিসাবে সবচে স্বাস্থ্য সম্মত এবং বহুল ববহৃত উপাদান হচ্ছে গমের ভুষি।

গম বীজের বাইরের পাতলা আবরণ বা খোসা হচ্ছে গমের ভুষি। পুষ্টিগুণ বিচারে গমের ভুষি পশুখাদ্য হিসাবে অদ্বিতীয়।

সাথে রয়েছে গমের ভুষির বিশেষ কিছু স্বাস্থ্যকর কার্যকারিতা। গমের ভুষির রয়েছে বিশেষ পানি শোষণ ক্ষমতা, যে কারণে গমের ভুষি কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

গমের ভূষিতে রয়েছে সুষম এমাইনো এসিড এবং যথেষ্ট পরিমান বিশেষ ধরণের ফসফরাস যা গরুর রুমেন সহজেই শোষণ করতে পারে।

গমের ভুষির সবচে গুরুত্বপূর্ণ বিশেষত্ব হচ্ছে এতে আছে নন স্টার্চ কার্বোহাইড্রেট যা গরুর অতিরিক্ত এসিড সৃষ্টি করেনা, যা ভুট্টা করে থাকে।

গমের ভুষির পুষ্টি উপাদান :

ড্রাই ম্যাটার : ৮৭%
হজম যোগ্য পুষ্টি উপাদান : ৬৫-৭০%
ক্রুড প্রোটিন : ১৬%
ক্রুড ফাইবার : ১৫%
নিউট্রাল ডিটারজেন্ট ফাইবার : ৬৪%
এসিড ডিটারজেন্ট ফাইবার : ১৪.৫%
লিগনিন : ৩.৬%
হজম যোগ্য এনার্জি : ৯.৫ মেরাজুল/কেজি
ক্যালসিয়াম : ০.১৭%
ফসফরাস : ০.৯৩%
ম্যাগনেসিয়াম : ০.৫৩ %
পটাসিয়াম : ১.৩২ %
সোডিয়াম : ০.০৪%
ক্লোরিন : ০.১৬%
সালফার : ০.২১%
আয়রন : ১৫৭ পিপিএম
ম্যাঙ্গানিজ : ১২২ পিপিএম
জিংক : ৮৫ পিপিএম

মাত্রা ও সতর্কতা : যেহেতু গমের ভুষি গরুর পাকস্থলীতে অতিরিক্ত এসিডিটি সৃষ্টি করেনা, তাই গমের ভুষি অন্য খাদ্য উপাদানের তুলনায় বেশি পরিমানে মেশানো যায়। স্বাভাবিকভাবে সুষম খাবারে ৫০% পর্যন্ত গমের ভুষি ব্যবহার করা যায়। তবে অতিরিক্ত গমের ভুষি খাওয়ালে পেট নরম বা পাতলা পায়খানা হতে পারে একই সাথে হজমে সমস্যা হতে পারে।

 চালের কুড়া

পশুখাদ্য হিসাবে চালের কুড়া :

বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, জাপান সহ প্রধান ধান উৎপাদনকারী দেশে গরুর খাদ্য হিসাবে সবচে জনপ্রিয় এবং ঐতিহ্যবাহী দানাদার উপাদান হচ্ছে চালের কুড়া বা রাইস ব্রান।

ধান থেকে চাল বের করার পরে উপরের খোসা বাদ দিয়ে চালের উপরের বাদামি আবরণসহ পাউডার হচ্ছে রাইস পোলিশ।

আর রাইস পালিশ থেকে তেল বের করে নেয়ার পরে অবশিষ্ট পাউডার হচ্ছে গরুর জন্য খাদ্য উপাদান হিসাবে ব্যবহৃত রাইস ব্রান অথবা চালের কুড়া।

আমাদের দেশে আদিকাল থেকে গরু পালনের সাথে সবচে পরিচিত দানাদার খাবার হচ্ছে চালের কুড়া।

পুষ্টিগুণ :

চালের কুড়ার মধ্যে রয়েছে গরুর জন্য প্রয়োজনীয় যথেষ্ট পুষ্টি উপাদান। যেমন : প্রোটিন, ভিটামিন এবং মিনারেলস। চালের কুড়ায় রয়েছে প্রকার ভিটামিন বি।

চালের কুড়ায় আছে প্রচুর পরিমানে ফসফরাস এবং এমাইনো এসিড। এছাড়া রয়েছে ১৩-১৬ % ক্রুড প্রোটিন।

কালের কুড়ার পুষ্টি উপাদান সমূহ :

ড্রাই ম্যাটার : ৮৫%
হজ্বমযোগ্য এনার্জি : ৫৫-৬৫%
ক্রুড প্রোটিন : ১৭ %
ক্রুড ফ্যাট : ১৮%
এ ডি এফ : ১১.৯%
এন ডি এফ : ৩৮.২ %
লিগনিন : ৪.৩ %
শোষিত এনার্জি : ২.১ মেগাজুল/কেজি
ক্যালসিয়াম : ০.০৭ %
ফসফরাস : ১.৩৩%
পটাসিয়াম : ১.৫৭%
ম্যাগনেসিয়াম : ০.৫৩ %
ক্লোরিন : ০.০৯
সোডিয়াম : ০.০২%
সালফার : ০.১৯
ফেরাস : ২৩৯ পিপিএম
ম্যাঙ্গানিজ : ১৮৬ পিপিএম
জিংক : ৭১ পিপিএম

মাত্রা ও সতর্কতা :

খাদ্যের অংশ হিসাবে দুধের গরুকে দৈনিক দানাদার খাদ্যে সর্বোচ্চ ৪০% এবং ষাঁড় গরুকে সর্বোচ্চ ৫০% চালের কুড়া দেয়া যেতে পারে। তবে স্বাভাবিকভাবে দৈনিক দানাদরের ৩০% পর্যন্ত সুষম পরিমান হিসাবে ধরা হয়।

চালের কুড়ায় মার্ত্রাতিরিক্ত সিলিকা থাকায় এর হজমযোগ্যতা অনেক কম এবং হজমে হজম হয় না। মাত্রাতিরিক্ত চালের কুড়া গরুর পাকস্থলীতে অম্লতা বা এসিডিটি তৈরি করে,
শুকনা সরিষা গাছ বা সরিষা খড় হতে পারে ধানের খড়ের বিকল্প হিসাবে একটি আদর্শ গবাদিপশুরর খাদ্য !!!
—————————————————
কিছুদিন আগে একজন জানতে চেয়েছিলেন শুকনা সরিষার গাছ গবাদিপশুকে খেতে দেয়া যাবে কিনা এবং এর পুষ্টিমাণ কেমন। যেহেতু আমার এই সম্বন্ধে কোন বাস্তব অভিজ্ঞতা নেই বা এটা কাউকে খাওয়াতেও দেখিনি তাই কিছু ঘাঁটাঘাঁটি করে এই সম্বন্ধে কিছু ভালো এবং উপকারী তথ্য পেলাম যা আজকের এই পোস্টের মাধ্যমে আপনাদের জানানোর চেষ্টা করছি।
সরিষার খড়,ধানের খড়ের চেয়ে অনেক বেশী পুষ্টিগুণ সম্পন্ন! আমাদের দেশে সাধারণত,সরিষা আহরণের পর যে অবশিষ্ট শুকনা সরিষা গাছ বা সরিষার খড় থাকে সেটাকে জ্বালানী হিসাবেই ব্যবহার করা হয়।

অথচ,এই শুকনা সরিষার গাছ বা সরিষার খড় আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ যেমন ইথোওপিয়া,ক্যানিয়া,জাম্বিয়া সহ আরো কয়েকটি দেশে গবাদিপশুর উৎকৃষ্ট খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে প্রাচীন কাল থেকেই! আপনারা জেনে অবাক হবেন যে,

আফ্রিকার বোরানা গোত্রের মানুষেরা বিখ্যাত বোরান জাতের গরু গুলিকে অনেক আগে থেকেই এই সরিষা খড় খাইয়ে এসছে! তবে এই সরিষা খড় একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে গরুকে খাওয়াতে হয়।

প্রতিটি গরুকে তার জীবন্ত দৈহিক ওজনের ১.৭% পর্যন্ত খাদ্য হিসাবে সরিষা খড় সরবরাহ করা যায়।

খুব ছোট ছোট করে কেটে মিশ্রিত দানাদার খাদ্য বা গমের ভুষির সাথে মিশিয়েও সরিষা খড় খাওয়ানো যায়। নীচে সরিষা খড় বা শুকনা সরিষা গাছের পুষ্টিমান উল্লেখ করা হল।
ক্রুড প্রোটিন(CP) – ৪.২%-৫.০৫%
এশ (Ash) – ৭.৮৪%-৯.৮৭%
নিউট্রাল ডিটার্জেন্ট ফাইবার(NDF)- ৫৭.৬%
এসিড ডিটার্জেন্ট ফাইবার(ADF)- ৪২.৯%
উপরের আলোচনা থেকে আমরা এই ব্যপারে মোটামুটি ভাবে নিশ্চিত হতে পারি ধানের খড়ের এই অগ্নিমূল্যের বাজারে সরিষা খড় কিছুটা হলেও আমাদের গবাদিপশুর জন্য শুকনা খড়ের প্রয়োজন মেটাতে সাহায্য করবে!!!
* সরিষা গাছ কাঁচা অবস্থায় গরুকে খাদ্য হিসাবে দেয়া যাবে না,এতে বিপাকীয় সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কিছুদিন আগে একজন জানতে চেয়েছিলেন শুকনা সরিষার গাছ গবাদিপশুকে খেতে দেয়া যাবে কিনা এবং এর পুষ্টিমাণ কেমন। যেহেতু আমার এই সম্বন্ধে কোন বাস্তব অভিজ্ঞতা নেই বা এটা কাউকে খাওয়াতেও দেখিনি তাই কিছু ঘাঁটাঘাঁটি করে এই সম্বন্ধে কিছু ভালো এবং উপকারী তথ্য পেলাম যা আজকের এই পোস্টের মাধ্যমে আপনাদের জানানোর চেষ্টা করছি।
সরিষার খড়,ধানের খড়ের চেয়ে অনেক বেশী পুষ্টিগুণ সম্পন্ন! আমাদের দেশে সাধারণত,সরিষা আহরণের পর যে অবশিষ্ট শুকনা সরিষা গাছ বা সরিষার খড় থাকে সেটাকে জ্বালানী হিসাবেই ব্যবহার করা হয়।

অথচ,এই শুকনা সরিষার গাছ বা সরিষার খড় আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ যেমন ইথোওপিয়া,ক্যানিয়া,জাম্বিয়া সহ আরো কয়েকটি দেশে গবাদিপশুর উৎকৃষ্ট খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে প্রাচীন কাল থেকেই!

আপনারা জেনে অবাক হবেন যে, আফ্রিকার বোরানা গোত্রের মানুষেরা বিখ্যাত বোরান জাতের গরু গুলিকে অনেক আগে থেকেই এই সরিষা খড় খাইয়ে এসছে! তবে এই সরিষা খড় একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে গরুকে খাওয়াতে হয়।

প্রতিটি গরুকে তার জীবন্ত দৈহিক ওজনের ১.৭% পর্যন্ত খাদ্য হিসাবে সরিষা খড় সরবরাহ করা যায়। খুব ছোট ছোট করে কেটে মিশ্রিত দানাদার খাদ্য বা গমের ভুষির সাথে মিশিয়েও সরিষা খড় খাওয়ানো যায়। নীচে সরিষা খড় বা শুকনা সরিষা গাছের পুষ্টিমান উল্লেখ করা হল।
ক্রুড প্রোটিন(CP) – ৪.২%-৫.০৫%
এশ (Ash) – ৭.৮৪%-৯.৮৭%
নিউট্রাল ডিটার্জেন্ট ফাইবার(NDF)- ৫৭.৬%
এসিড ডিটার্জেন্ট ফাইবার(ADF)- ৪২.৯%
উপরের আলোচনা থেকে আমরা এই ব্যপারে মোটামুটি ভাবে নিশ্চিত হতে পারি ধানের খড়ের এই অগ্নিমূল্যের বাজারে সরিষা খড় কিছুটা হলেও আমাদের গবাদিপশুর জন্য শুকনা খড়ের প্রয়োজন মেটাতে সাহায্য করবে!!!
* সরিষা গাছ কাঁচা অবস্থায় গরুকে খাদ্য হিসাবে দেয়া যাবে না,এতে বিপাকীয় সমস্যা দেখা দিতে পারে।

গরুর খাদ্য ও পুষ্টি : ০৫ (পানি )

সুপেয় এনং নিরাপদ পানি যেকোন প্রাণীর বেশ থাকার প্রথম শর্ত। অন্য সকল প্রাণীর মতো সুস্থভাবে স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য গরুর জন্য চাই পর্যাপ্ত নিরাপদ সুপেয় পানি। পর্যাপ্ত পানির অভাব গরুর স্বাভাবিক দুধ উৎপাদন কমিয়ে দেয় এবং খাদ্য গ্রহণ মাত্রাও কমিয়ে দেয়। গরুর পানি পানের পরিমান নির্ভর করে দুধ প্রদানের পরিমান, দানাদার খাদ্য গ্রহণ, তাপমাত্রা, লবন জাতীয় খাবার গ্রহণের পরিমান এবং গরুর ওজনের উপরে।

গরুর দৈনিক পানির প্রয়োজন = ১৫.৯৯ + ১.৫৮ x দানাদার খাদ্য গ্রহণের পরিমান + ০.৯ x প্রদত্ত দুধের পরিমান + ০.০৫ x লবন গ্রহণের পরিমান +১.২ x সর্বনিন্ম তাপমাত্রা।

এখানে দানাদার খড়ায় গ্রহণের পরিমান কেজি/ দিন, দুধের পরিমান কেজি/ দিন, লবণের পরিমান গ্রাম/ দিন এবং তাপমাত্রা ডিগ্ৰী সেলসিয়াস। দানাদার খাদ্যে আদ্রতার পরিমান বেশি থাকলে পানির প্রয়োজন কমে যাবে। আবার পানির ম্যান খারাপ হলে বা পানিতে গ্রহনসোজি মাত্রার চেয়ে খনিজ ধাতব পদার্থ বা লবণের পরিমান বেশি হলেও গরুর পানি পানের পরিমান কমে জিতে পারে. সেক্ষেত্রে গরুর দুধ উৎপাদন এবং খাদ্য গ্রহণের পরিমান কমে যাবে।

পানিতে দ্রবীভূত খনিজ লবণের পরিমান লিটারে ১০০০ মিলিগ্রামের মধ্যে হলে সেই নিরাপদ এবং সুপেয় পানি বলে ধরা হয়। লবণের পরিমান ১০০০ মিলিগ্রাম থেকে ৩০০০ মিলিগ্রামের মধ্যে হলে সেই পানি নিরাপদ বলে ধরা হলেও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসাবে ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে।

এছাড়াও পানিতে দ্রবীভূত নাইট্রেট, সালফার এবং অন্যান্য খনিজ ধাতব পদার্থ অতিরিক্ত মাত্রায় থাকলে পানির গুনাগুন নষ্ট হতে পারে এবং পানি পানের অজোগ্য এবং ক্ষতিকর হতে পারে।

প্রতি লিটার পানিতে গ্রহনজোগ্য খনিজ ধাতব পদার্থের সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য পরিমান :

অ্যালুমিনিয়াম : ০.৫ মিলিগ্রাম/ লিটার
আর্সেনিক : ০.০৫ ”
বোরন : ৫.০ ”
ক্যাডমিয়াম : ০.০০৫ ”
কপার : ১.০ ”
সীসা : ০.০১৫ ”
ক্রোমিয়াম : ০.১ ”
ফ্লোরিন : ২.০ ”

 

গরুর খাদ্য ও পুষ্টি পর্যালোচনা : মুগ ডাল/ভুষি

গরুর খাদ্য হিসাবে মুগ ডাল/ভুষি :

অতি মূল্যের কারণে মুগের ডালের ব্যবহার কম হলেও মুগের ডালের ভুষি আমাদের দেশে গরুর খাদ্যে প্রোটিন চাহিদা পূরণের জন্য অন্যতম জনপ্রিয় খাদ্য উপাদান।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না থাকায় নিরাপদ প্রোটিন উৎস হিসাবে মুগের ডাল এবং মুগের ডালের ভুষি উপমহাদেশে বহুল ব্যবহৃত।

ক্রুড প্রোটিনের উপস্থিতি কম হলেও বেশি পরিমান মিনারেলের উপস্থিতির কারণে মুগের ডাল গরুর জন্য উপকারী ও ফলপ্রদ খাদ্য উপাদান হিসাবে প্রমাণিত। মুগ ডালের ভুষি সরাসরি দানাদার খাবারের সাথে মিশিয়ে এবং মুগ ডাল গুঁড়া করে অন্যান্য দানাদার খাবারের সাথে মিশিয়ে পরিবেশন করা হয়।

প্রতি কেজি খেসারি ডালে প্রায় ১৮ মেরাজুল শক্তি সঞ্চিত থাকে যা দিয়ে ৩ কেজির উপরে দুধ তৈরী হতে পারে।

মুগের ডালের পুষ্টি উপাদান :

ড্রাই ম্যাটার : ৯০%
ক্রুড প্রোটিন : ২৫%
ক্রুড ফাইবার : ৬.৩%
স্টার্চ : ৪৭%
নিউট্রাল ডিটারজেন্ট ফাইবার : ১৫.৬%
এসিড ডিটারজেন্ট ফাইবার : ৮.৫%
হজম যোগ্য এনার্জি : ১৮.১ মেগাজুল/কেজি
ক্যালসিয়াম : ১.৬০ গ্রাম/কেজি
ফসফরাস : ৪.৫ ”
ম্যাগনেসিয়াম : ১.৪ ”
পটাসিয়াম : ৯.৬ ”
আয়রন : ৫৩৭ মিগ্রা/কেজি
কপার : ৮ ”
জিংক : ৩৫ ”

মাত্রা ও সতর্কতা :

দানাদার খাবারে ২০-২৫% মুগ বা মুগের ভুষি দৈনিক প্রোটিন সম্পর্কিত পুষ্টি চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট।

খেসারি ডালের তুলনায় ক্রুড প্রোটিন মাত্রা সামান্য কম হলেও মুগের ডালে রয়েছে তুলনামূলক বেশি মিনারেল যেমন ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস।

এছাড়া মুগের ডালে বা ভূষিতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতিকর উপাদান না থাকায় দানাদার অধিক হরে মিশ্রিত করা যায়।

জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থার গবেষণা রিপোর্টে ইন্ডিয়াতে দানাদার খাবারের ৫০ % পর্যন্ত মুগের ভুষি বা ডাল দেয়ার উদাহরণ রয়েছে।

ধন্যবাদ।

নোট : যেকোন উদ্ভিজ আমিষের যেমন ডালবীজের দানার তুলনায় খোসায় বা ভুসিতে পুষ্টি উপাদান কিছুটা কম থাকে। এখানে মূলত ডালবীজের পুষ্টি উপাদান দেয়া হয়েছে।

গরুর খাদ্য ও পুষ্টি পর্যালোচনা : খেসারি ডাল/ভুষি

গরুর খাদ্য হিসাবে খেসারি ডাল :

আমাদের দেশে গরুর খাদ্যে প্রোটিন চাহিদা পূরণের জন্য সবচে জনপ্রিয় খাদ্য উপাদান হচ্ছে খেসারি ডাল।

ক্ষতিকর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকলেও অধিক ক্রুড প্রোটিনের উপস্থিতির কারণে এবং দাম কম হওয়ায় আমাদের দেশের গরুর অন্যতম প্রধান খাবার খেসারি ডাল অথবা খেসারি ডালের খোসা।

খেসারি ডালের ভুষি সরাসরি দানাদার খাবারের সাথে মিশিয়ে এবং খেসারি ডাল গুঁড়া করে অন্যান্য দানাদার খাবারের সাথে মিশিয়ে পরিবেশন করা হয়।

প্রতি কেজি খেসারি ডালে প্রায় ১৯ মেরাজুল শক্তি সঞ্চিত থাকে যা দিয়ে ৩ কেজির উপরে দুধ তৈরী হতে পারে।

কিন্তু অতিরিক্ত খেসারি ডাল খাওয়ালে গরুর বাত সমস্যা এমনকি পঙ্গু ও হয়ে যেতে পারে।

খেসারি ডালের পুষ্টি উপাদান :

ড্রাই ম্যাটার : ৯০.৯%
ক্রুড প্রোটিন : ৩০%
ক্রুড ফাইবার : ৬.৪%
স্টার্চ : ৪৯.২%
নিউট্রাল ডিটারজেন্ট ফাইবার : ২০%
এসিড ডিটারজেন্ট ফাইবার : ৭.১%
লিগনিন : ১.৩%
হজম যোগ্য এনার্জি : ১৯.১ মেগাজুল/কেজি
ক্যালসিয়াম : ০.৮০ গ্রাম/কেজি
ফসফরাস : ২.৯ ”
ম্যাগনেসিয়াম : ১.৪ ”
পটাসিয়াম : ১০.৩ ”
সোডিয়াম : ০.৩ ”
সালফার : ৮ মিগ্রাম/কেজি
আয়রন : ১১৮৩ ”
ম্যাঙ্গানিজ : ১৩৪ ”
জিংক : ৩২৮ ”

মাত্রা ও সতর্কতা :

দানাদার খাবারে ২০-২৫% খেসারি দৈনিক প্রোটিন সম্পর্কিত পুষ্টি চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট হলেও গরুকে কোনোভাবেই নিয়মিত শুধুমাত্র খেসারি ডালের উপর নির্ভরশীল করা যাবেনা।

কারণ খেসারি ডালে রয়েছে বি অক্সাইল নামক এক প্রকার নিউরোটক্সিক এমাইনো এসিড যা থেকে গরু প্যারালাইসিস বা পঙ্গু হয়ে যেতে পারে।

তাই সুষম দানাদার খাদ্যে নিয়মিত ১০% পর্যন্ত খেসারি দেয়া যেতে পারে। তবে গরুকে অতিরিক্ত শুয়ে থাকতে দেখলে বা গরুকে দাঁড়াতে অনীহা প্রকাশ করতে দেখলে খেসারি ডাল খাওয়ানো বন্ধ করে দিতে হবে।

তবে কোরবানি যোগ্য ষাঁড় গরুকে বিক্রির আগে ২০% পর্যন্ত খেসারি ডাল খাওয়ানো যেতে পারে।

জাহিদুল ইসলাম

জাহিদুল ইসলাম্ (পি ডি ফ)

লাগাছকে গবাদিপশুর জন্য খাদ্য হিসাবে উপাদেয় করে পরিবেশনের একটি প্রক্রিয়া :
—————————-

উপাদানঃ
————–
১। কাণ্ডের কুচি করা টুকরা সহ কলাগাছের পাতা সহ ১০ কেজি।
২। ২কেজি খড়।
৩। ২০০ গ্রাম চিটাগুড়।
প্রক্রিয়াঃ
———–
প্রথমে কলাগাছের কান্ড ও পাতা গুলিকে কাস্তে বা ঘাস কাটার চপার মেশিন দিয়ে ২/৩ সেঃমিঃ করে কাটবেন।

এরপর খড় গুলিকেও একই প্রক্রিয়ায় কেটে নিবেন।

এর পর চারি বা গামলাতে খড় এবং কলাগাছের টুকরা গুলি উল্লেখিত পরিমাণ চিটাগুড়ের সাথে ভালো ভাবে মিশিয়ে নিবেন। সবশেষে এই মিশ্রণের উপর হাল্কা গমের ভুষি ছিটিয়ে দিয়ে আপনার গরুকে খেতে দিন।

যেসব জায়গায় কাঁচা ঘাসের অভাব বেশী সেখানে এই বিশেষ খাদ্য অনেকটা হলেও তার অভাব পূরণ করবে।

কলাগাছের সাথে খড় মেশাবার প্রধান কারণ হল,কলাগাছে জ্বলীয় অংশ বেশী থাকাতে খড় কিছুটা ড্রাইমেটার বৃদ্ধি করবে এবং PH লেভেল সহনীয় পর্যায়ে রাখবে। গরুর পায়খানাও এতে নরম হবে না।

এবার আমরা জেনে নেই প্রতি একশত ভাগ কলা গাছে কি কি পুষ্টিগত উপাদান আছে,
(১) উপাদানঃ শুষ্ক পদার্থ(DM)
কলা গাছের কান্ডঃ৫.৯%।
কলাগাছের সবুজ পাতাঃ ২১.০%। কলাগাছের পাতার ডগাঃ ৯.৪% ।
(২) উপাদানঃআমিষ বা প্রোটিন
——————————
কলাগাছের কান্ডঃ ৭.৩ %।
কলাগাছের সবুজ পাতাঃ ৮.৮%। কলাগাছের পাতার ডগাঃ ৪৩.৭%।
(৩) উপাদানঃএডিএফ(ADF)
——————————–
কলাগাছের কান্ডঃ৪৮.৪%।
কলাগাছের সবুজ পাতাঃ ৩৯.২%। কলাগাছের পাতার ডগাঃ ৪৩.৭%।
এছাড়াও কলাগাছের কান্ড এবং পাতায় আছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন যা গবাদিপশুর এনিমিয়া দূর করে,ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম এবং ভিটামিন এ,বি,বি৬ ইত্যাদি।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটাতে খনিজ এবং খাদ্যপ্রাণ কাঁচাঘাসের চাইতে বেশী।

কাজেই এই খাদ্যটি কাঁচা ঘাসের পাশাপাশিও আপনি আপনার গরুকে অনায়াসেই দিতে পারেন কাঁচা ঘাসের পরিমাণ কমিয়ে। ফলে ঘাসের উপর চাপও অনেকখানি কমে যাবে।

mukti mahmud

তুলাবীজের খোসা

দৃষ্টি আকর্ষণ : এই সিরিজে বিভিন্ন সাইন্টিফিক টার্ম বা নাম ব্যবহার করা হয়। কারো বুঝতে সমস্যা হলে কমেন্টে প্রশ্ন করবেন।

গরুর খাদ্য হিসাবে তুলাবীজের খোসা :

পৃথিবীর বেশিরভাগ তুলে উৎপাদনকারী দেশে গরুর বিকল্প খাদ্য হিসাবে বহুল ব্যবহৃত খাদ্য হচ্ছে তুলাবীজের খোসা।

তুলা থেকে বীজ ছাড়ানোর পরে অথবা তুলাবীজ থেকে কটনসিড মিল তৈরী করার পর বীজের খোসা ও তুলামিশ্রিত অব্যবহৃত অংশই মূলত গরুকে খাওয়ানো হয়।

অনেক দেশে গরুর জন্য তৈরী রেডি পিলেটে ফাইবার অংশ বাড়ানোর জন্য ও তুলাবীজ ব্যবহার করা হয়। তবে ক্ষতিকর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকায় অনেক দেশেই এখন আর গরুকে তুলাবীজের খোসা খাওয়ানো হয়না, যদিও পেট ভরার জন্য এখনো অনেক দেশে গরুর অন্যতম বিকল্প খাদ্য তুলাবীজের খোসা।

তাছাড়া তুলাবীজের পুষ্টিগুণ ও কম নয়। কিন্তু গসিপল নামক ক্ষতিকর রাসায়নিক যৌগ প্রাণীর লিভার ও কিডনিতে জমে থাকে যা দীর্ঘমেয়াদে গরুর লিভার ও কিডনি রোগ সৃষ্টি করতে পারে।

তবে ব্রাজিলে ফ্যাটেনিং এর গরুতে বা মোটাতাজাকরণের জন্য তুলাবীজের খোসা ব্যবহার করা হয়।

তুলাবীজের খোসা অধিক হারে স্টার্চ জাতীয় খাওয়ানো গরুর রুচিবর্ধকের কাজ করে এবং হজমে সাহায্য করে।

তুলাবীজের খোসার পুষ্টি উপাদান :- (%/ড্রাই ম্যাটার)

ড্রাই ম্যাটার : ৯০.৬ %
হজম যোগ্য পুষ্টি উপাদান : ৪১-৪৩%
ক্রুড প্রোটিন : ৫.১%
ক্রুড ফাইবার : ৫৩%
ক্রুড ফ্যাট (ইথার এক্সট্রাক্ট) : ৩.২%
নিউট্রাল ডিটারজেন্ট ফাইবার : ৮৫.৩%
এসিড ডিটারজেন্ট ফাইবার : ৬৩%
লিগনিন : ১৯.৩%
অ্যাশ (ছাই) : ২.৯
স্টার্চ : ৪.২
হজম যোগ্য এনার্জি : ৮.২ মে.জুল/কেজি
বিপাকযোগ্য এনার্জি : ৬.৫ ”
গ্রস এনার্জি : ১৯.৮ ”

মিনারেলস (খনিজ উপাদান) :-
ক্যালসিয়াম : ১.৩ গ্রাম/কেজি
ফসফরাস : ১.০ ”
পটাসিয়াম : ৭.১ ”
সোডিয়াম : ০.২ ”
ম্যাগনেসিয়াম : ১.৩ ”
ম্যাঙ্গানিজ : ২২ মিগ্রা/কেজি
জিংক : ৪ ”
কপার : ৬৯ ”
আয়রন : ১৭২ ”

এমাইনো এসিড :- (%/ ক্রুড প্রোটিন)
অর্গানাইন : ২.৯ %
হিস্টিডাইন : ১.৪ %
লাইসিন : ৩.১%
মেথিওনিন : ০%
প্রোলিন : ৩.৪%
থ্রিওনাইন : ২.৬%
ভ্যালাইন : ৩.১%

ক্ষতিকর উপাদান :
ট্যানিন : ৫১.৫ গ্রাম/কেজি
গসিপল : ৪৩০ মিগ্রা/কেজি

মাত্রা ও সতর্কতা :

আমেরিকায় এক গবেষণায় দেখা গেছে আলফা আলফা হে খাওয়ানো গাভীকে দৈনিক রেশনের ৩০% তুলাবীজের খোসার পিলেট খাওয়ানোর পরেও গভীর খাদ্য গ্রহণ বা দুধ কমে নাই কিন্তু ৪০% খাওয়ানোর পরে দুধের পরিমান ঠিক ছিলো কিন্তু দুধের ফ্যাট বেড়েছে এবং খাদ্য গ্রহণ কমে গেছে।

অন্যদিকে ব্রাজিলে আরেক গবেষণায় দেখা গেছে মোটাতাজাকরণের ষাঁড়কে ভুট্টার সাইলেজের পরিবর্তে ৫০% তুলাবীজের খোসা খাওয়ানোর পরে খাদ্য গ্রহণ বেড়েছে এবং ওজন বেড়েছে।

কাজেই দুধের গরুকে সর্বোচ্চ ৩০% এবং মোটাতাজাকরণের গরুকে সর্বোচ্চ ৫০% তুলাবীজের খোসা খাওয়ানো যাবে।

তবে দীর্ঘ সময় তুলাবীজের খোসা খাওয়ানো গরুর জন্য ক্ষতিকর। আমাদের দেশে কেনা তুলাবীজের খোসায় পলিথিনসহ বিভিন্ন প্রকার ক্ষতিকর জিনিস মেশানো থাকে।

তথ্যসূত্র : ১) জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থা
২) ফ্রেঞ্চ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এগ্রিকালচার রিসার্চ
৩) সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ এন্ড ডেভলপমেন্ট।

গবাদিপশুর জন্য শাপলা হতে পারে একটি ভালো খাদ্যঃ
————————————————————
বাংলাদেশ হচ্ছে নদী মাতৃক দেশ। এদেশের নদী-নালা,হাওর, খাল-বিল গুলিতে বিশেষ করে বর্ষায় প্রচুর পরিমাণে শাপলা জন্মায়। বিশেষ করে হাওড় অঞ্চলে এর অভাব নেই।

এই শাপলা(NYMPHAEA ALBA) যখন বৃষ্টির মৌসুমে ঘাস কম পাওয়া যায়,পশু খাদ্য এবং খড়ের দাম বেড়ে যায় তখন বিকল্প পশু খাদ্য হিসাবে অনায়াসে ব্যাবহার করা যায়। সাম্প্রতিকতম গবেষণায় দেখা গেছে শাপলায় প্রচুর পরিমানে প্রোটিন,কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন এবং বিভিন্ন ক্ষনিজ উপাদান বিদ্যমান যা গবাদিপশুর জন্য অত্যন্ত উপকারী।

এটা নিয়মিত পরিমিত পরিমানে খাওয়ালে গরুর দুধ ও মাংস উৎপাদন এবং বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ আছে শাপলাতে।এছাড়া এটা ক্যালসিয়াম এবং জিংকেরও একটি বড় উৎস।

শাপলা খাওয়ালে গাভীর দুধ উৎপাদন বাড়ে,মিল্ক ফিভার বা দুধ জ্বর হয় না,গরুর শরীরের লোম উঠে যাওয়ার সমস্যা দূর হয়। শাপলা সংগ্রহ করার পর তা ভালো করে ধুয়ে,তিন চার ঘন্টা রোদে শুকিয়ে গবাদিপশু কে খাদ্য হিসাবে সরবরাহ করতে হয়।শাপলার ফুল,পাতা,কান্ড সব কিছুই গবাদিপশুর খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করা যায়।

শাপলা দিয়ে খুব ভালো মানের সাইলেজ হয় এবং এটা শুকিয়েও সংরক্ষন করা যায়।

প্রতি ১০০ কেজি দৈহিক ওজনের গরুর জন্য ২.২-৩ কেজি শাপলা গো-খাদ্য হিসাবে দৈনিক সরবরাহ করা যায়।এতে আপনি যদি গরুকে কাঁচা ঘাস কমও দেন বা দিতে পারেন তাহলেও চলবে।
প্রতি ১০০ গ্রাম শাপলার ফুল,কান্ড বা ডাটা এবং পাতাতে আছে কার্বোহাইড্রেট ২৭%,সোডিয়াম ১.৯৭-৪.২১%,ক্যালসিয়াম ৩%,আয়রন ৮%,প্রোটিন ২০.৯-২৫.৪%,পটাশিয়াম ১.৫৬-৪.৬৩%।

এছাড়াও আছে প্রচুর পরিমাণে জিংক।
উপরের উপাদান গুলির বিশ্লেষণে শাপলাকে তাই একটি অনন্য পশু খাদ্য হিসাবে বর্তমান সময়ে উন্নত বিশ্বের প্রাণি পুষ্টিবিদরা মনে করেন। তাই আপনিও শাপলাকে অনায়াসেই আপনার গবাদিপশুর খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন।

এংকর/বুটের ডাল/ভুষি

: আমাদের দেশে গরুর খাদ্যে প্রোটিন চাহিদা পূরণের জন্য অন্যতম জনপ্রিয় এবং মধ্যম দামি উপাদান হচ্ছে বুট বা এংকর ডাল। মটর বা এংকর ডালের কয়েকটা জাত থাকলেও পুষ্টিগুণ প্রায় কাছাকাছি।

ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম থাকায় এবং দামে সাশ্রয়ী হওয়ায় বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় গরুর খাদ্য হচ্ছে মটর বা বুটের ডাল।

প্রায় সয়াবিনের কাছাকাছি ক্রুড প্রোটিনের উপস্থিতির কারণে এবং ডালবীজের মধ্যে সবচে বেশি স্টার্চ থাকায় সয়াবিনের বিকল্প গরু খাদ্য হিসাব অনেক দেশেই বুটের খোসাসহ ডাল গুঁড়া করে খাওয়ানো হয়।

অন্যদিকে ভুট্টার তুলনায় মটর ডালের স্টার্চ এর একটা বড় সুবিধা হচ্ছে রুমেনে খুব ধীরে শোষিত হয় যার ফলে এসিডিটি সমস্যা কম হয়।

মটর ডালের পুষ্টি উপাদান :

ড্রাই ম্যাটার : ৮৭-৮৯%
ক্রুড প্রোটিন : ২৪%
ক্রুড ফাইবার : ৬.০%
স্টার্চ : ৫১.৫%
নিউট্রাল ডিটারজেন্ট ফাইবার : ১৪.২%
এসিড ডিটারজেন্ট ফাইবার : ৭.০%
লিগনিন : ০.৪%
হজম যোগ্য এনার্জি : ১৮.৫ মে.জুল/কেজি
ক্যালসিয়াম : ১.২ গ্রাম/কেজি
ফসফরাস : ৪.৫ ”
ম্যাগনেসিয়াম : ১.৭ ”
পটাসিয়াম : ১১.৩ ”
সোডিয়াম : ০.০১ ”
জিংক : ৩৭ মিগ্রাম/কেজি
আয়রন : ১০৭ ”
ম্যাঙ্গানিজ : ১০ ”
কপার : ৮ ”

মাত্রা ও সতর্কতা :

দানাদার খাবারে ৪০% পর্যন্ত মটর দল যুক্ত করা যায়। তবে সুষম দানাদার খাদ্যে নিয়মিত ৩০% ডাল দেয়া যেতে পারে। অন্যদিকে ভুট্টা বা গমের ভুষি এবং খৈল জাতীয় খাবার কিছুটা কমিয়ে মটর ডাল বাড়িয়ে দেয়া যেতে পারে।

তবে কোরবানি যোগ্য ষাঁড় গরুকে বিক্রির আগে ৫০% পর্যন্ত এংকর ডাল খাওয়ানো যেতে পারে।

মটর ডালে ট্রিপসিন এবং টেনিন নাম ক্ষতিকর কিছু উপাদান থাকলেও সেটার মাত্রা অন্য ডালের তুলনায় কম।

নোট : যেকোন ডালবীজের বীজের তুলনায় খোসা বা ভুষির পুষ্টিগুণ কিছুটা কম হয়।

ছোলা/ভুষি

দৃষ্টি আকর্ষণ : এই সিরিজে বিভিন্ন সাইন্টিফিক নাম ব্যবহার করা হয়। কারো বুঝতে সমস্যা হলে কমেন্টে প্রশ্ন করবেন।

গরুর খাদ্য হিসাবে ছোলার ভুষি : বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত পশুখাদ্য ছোলার পুষ্টিগুণ নিয়ে কারোই দ্বিমত নেই তবে দাম বিবেচনায় ছোলা বীজ পশুখাদ্য হিসাবে খাওয়ানো সব জায়গা সবার জন্য সম্ভব হয়ে ওঠেনা তাই এক্ষেত্রে খামারিদের জন্য বিকল্প হচ্ছে ছোলার ভূষি। যদিও পুষ্টিগুণে ভূষি বীজের চেয়ে কিছুটা নিচে।

আবার দেশি ছোলার চেয়ে কাবুলি ছোলার পুষ্টিগুণ বেশি। দেশি ছোলা এবং কাবুলি ছোলার ক্রুডপ্রোটিন সমান হলেও কাবুলিছোলায় স্টার্চ এনার্জি প্রায় ১৫ % বেশি এবং ক্রুড ফ্যাট ১% বেশি।

অন্যদিকে ভূষিতে স্টার্চ এনার্জি নাই বললেই চলে এবং ক্রুড প্রোটিন ও ৪/৫ % কম। তারপরেও দামের পার্র্থক্য বিবেচনায় ছোলার খোসা বা ভূষি ব্যবহার অধিক লাভজনক।

ছোলার বীজে এবং খোসায় রয়েছে প্রায় ৭% লাইসিন নামের এমাইনো এসিড যা দুধের গরুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যান্য ডালবীজের সাথে ছোলার মূল পার্থক্য হচ্ছে ছোলায় যথেষ্ট পরিমানে দরকারি এমাইনো এসিড এবং পটাসিয়ামের উপস্থিতি। এখানে ছোলাবীজ এবং ভুষির পুষ্টিগুণ আলাদাভাবে দেয়া হলো।

কাবুলি ছোলার পুষ্টি উপাদান :- (%/ড্রাই ম্যাটার)
ড্রাই ম্যাটার : ৮৯ %
ক্রুড প্রোটিন : ২২.৩%
ক্রুড ফাইবার : ৩.৯%
ক্রুড ফ্যাট (ইথার এক্সট্রাক্ট) : ৬.৪%
নিউট্রাল ডিটারজেন্ট ফাইবার : ১১.২%
এসিড ডিটারজেন্ট ফাইবার : ৪.৪%
লিগনিন : ০.২%
অ্যাশ (ছাই) : ৩.৫%
স্টার্চ : ৫০.১%
সুগার : ৬%
হজম যোগ্য এনার্জি : ১৬.৭ মেগাজুল/কেজি
বিপাকযোগ্য এনার্জি : ১৩.৬ ”
গ্রস এনার্জি : ১৯.৬ ”

মিনারেলস (খনিজ উপাদান) :-
ক্যালসিয়াম : ১.৪ গ্রাম/কেজি
ফসফরাস : ৪.২ ”
পটাসিয়াম : ১১.৭ ”
সোডিয়াম : ০.২ ”
ম্যাগনেসিয়াম : ১.৫ ”
ম্যাঙ্গানিজ : ৩৫ মিগ্রা/কেজি
জিংক : ৩৮ ”
কপার : ৮ ”
আয়রন : ৯৩ ”

এমাইনো এসিড :- (%/ ক্রুড প্রোটিন)
অর্গানাইন : ৮.৫ %
হিস্টিডাইন : ২.৬ %
লাইসিন : ৬.৮%
মেথিওনিন : ১.২%
প্রোলিন : ৪.৩%
থ্রিওনাইন : ৩.৬%
ভ্যালাইন : ৪.২%

ক্ষতিকর উপাদান :
ট্যানিন : ২.১ গ্রাম/কেজি

ছোলার ভুষির পুষ্টি উপাদান :- (%/ড্রাই ম্যাটার)
ড্রাই ম্যাটার : ৮৯.৭ %
ক্রুড প্রোটিন : ১৫.৬%
ক্রুড ফাইবার : ২৭.৭%
ক্রুড ফ্যাট (ইথার এক্সট্রাক্ট) : ৩.৫%
নিউট্রাল ডিটারজেন্ট ফাইবার : ৪৩%
এসিড ডিটারজেন্ট ফাইবার : ৩৫.৩%
অ্যাশ (ছাই) : ৬.১%
গ্রস এনার্জি : ১৯ মেজুল/কেজি

মিনারেলস (খনিজ উপাদান) :-
ক্যালসিয়াম : ১০.৪ গ্রাম/কেজি
ফসফরাস : ৩ ”

এমাইনো এসিড :- (%/ ক্রুড প্রোটিন)
এমাইনো এসিডের সঠিক মাত্রা জানা সম্ভব হয় নাই।

মাত্রা ও সতর্কতা :

যেহেতু ছোলাবীজে স্টার্চ এবং ক্রুড ফ্যাটের পরিমান বেশি এবং ফাইবার কম তাই সুষম দানাদারে ৫০% এর উপরে ছোলাবীজ দেয়া যাবেনা।

তবে খোসায় ফাইবার বেশি থাকায় এবং ক্রুড ফ্যাট এবং স্টার্চ কম থাকায় ছোলার ভুষি পরিমানে বেশি দিলেও হজমে সমস্যা হয়না।

ছোলা বীজে সামান্য পরিমানে ক্ষতিকর ট্রিপসিন যৌজের উপস্থিতি রয়েছে।

মশুর ডালের ভুষি (খোসা)

 

গরুর খাদ্য হিসাবে মশুরী ভুষি (খোসা) :

খুব বেশি জনপ্রিয় না হলেও উপমহাদেশে এবং মসুর ডাল উৎপাদনকারী প্রায় সব দেশেই গরুকে কম বেশি মসুর ডালের খোসা বা ভুষি খাওয়ানো হয়।

মসুর ডালে খোসার চেয়ে পুষ্টিমাত্রা বেশি হলেও যেহেতু ডালের দাম বেশি তাই মূলত খোসাই গরুর খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করা হয়।

মধ্যম মাত্রার ক্রুড প্রোটিন এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের কারণে মসুর ডালকে মধ্যম মানের গোখাদ্য হিসাবে গণ্য করা হয়। এতে আছে প্রায় ২০% ক্রুড প্রোটিন এবং স্বল্প মাত্রার ক্রুড ফ্যাট।

ক্ষতিকর কিছু উপাদান থাকলেও সেটা উল্লেখযোগ্য পরিমানে নয়।

মশুরী ভুষির (খোসা) পুষ্টি উপাদান :- (%/ড্রাই ম্যাটার)
ড্রাই ম্যাটার : ৮৮.৯ %
ক্রুড প্রোটিন : ১৯.৩%
ক্রুড ফাইবার : ২১.৮%
ক্রুড ফ্যাট (ইথার এক্সট্রাক্ট) : ১.১%
নিউট্রাল ডিটারজেন্ট ফাইবার : ৫০.৩%
এসিড ডিটারজেন্ট ফাইবার : ৪০.৩%
লিগনিন : ৭.৪%
অ্যাশ (ছাই) : ৫.৬
হজম যোগ্য এনার্জি : ৯.৮ মেগাজুল/কেজি
গ্রস এনার্জি : ১৮.৬ ”

মিনারেলস (খনিজ উপাদান) :-
ক্যালসিয়াম : ৬.২ গ্রাম/কেজি
ফসফরাস : ৩.৭ ”

ক্ষতিকর উপাদান : স্বল্প মাত্রায় ফাইটিক এসিড, ট্যানিন এবং লেকটিনস।

মাত্রা ও সতর্কতা :

মশুর ডালের খোসা সাধারণত দানাদার খাবার হিসাবে খাওয়ানো হয়।

যেকোন সুষম দানাদার খাবারে ১৫-২০% পৰ্যন্ত মেশানো যায় যদিও কিছু গবেষণায় রেশনে ৫০% পর্যন্ত মশুরের খোসা ব্যবহার করা হয়েছে কিন্তু উল্লেখযোগ্য ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নাই।

কিছুটা অস্বস্তিকর গন্ধযুক্ত হওয়ায় অনভ্যস্ত গরু পছন্দ নাও করতে পারে। মসুর ডালের ভুসিতে দুধ পাতলা হয় বলে খামারি পর্যায়ে অভিযোগ কিন্তু আমি বাস্তবে ব্যক্তিগতভাবে প্রমান পাই নাই।

 বার্লি

দৃষ্টি আকর্ষণ : এই সিরিজে বিভিন্ন সাইন্টিফিক টার্ম ব্যবহার করা হয়। কারো বুঝতে সমস্যা হলে কমেন্টে প্রশ্ন করবেন।

গরুর খাদ্য হিসাবে বার্লি : গরুর খাদ্য হিসাবে বার্লি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় খাদ্য উপাদান এবং গমে ও ভুট্টার বিকল্প হিসাবে খাওয়ানো হয়।

বিশেষ করে ফ্যাটেনিং বা মোটাতাজাকরণের জন্য বার্লি বিশেষভাবে জনপ্রিয় খাদ্য উপাদান। ইউরোপেও গরুর খাদ্য হিসাবে বার্লি বহুল ব্যবহৃত।

আমাদের পার্শ্ববর্তী ইন্ডিয়াতেও গরুর খাদ্য হিযাবে ভুট্টার বিকল্প হিসাবে বার্লির প্রচলন রয়েছে। ভুট্টা এবং গমের মতো বার্লিতেও স্টার্চের পরিমান বেশি তবে ঐ উপাদান ২ টির চেয়ে কিছুটা কম।

ভুট্টার মতো বার্লিতেও রয়েছে ১১ থেকে ১২% ক্রুড প্রোটিন।

তবে বার্লিতে ফাইবারের পরিমান ভুট্টা ও গমের চেয়ে বেশি, যা ৪-৬% । কাজেই গরুর খাদ্য হিসাবে বার্লির ভূমিকা এবং পুষ্টিগুণ প্রায় ভুট্টার মতোই।

বার্লির গড় পুষ্টি উপাদান :- (%/ড্রাই ম্যাটার)
ড্রাই ম্যাটার : ৮৮
হজম যোগ্য শক্তি : ৮১
ক্রুড প্রোটিন : ১১.৮
ক্রুড ফাইবার : ৫.২
ক্রুড ফ্যাট (ইথার এক্সট্রাক্ট) : ২
নিউট্রাল ডিটারজেন্ট ফাইবার : ২১.৭
এসিড ডিটারজেন্ট ফাইবার : ৬.৪
লিগনিন : ১.১
অ্যাশ (ছাই) : ২.৬
স্টার্চ : ৫৯.৭
সুগার : ২.৮
হজম যোগ্য এনার্জি : ১৪.৮ মেগাজুল/কেজি
বিপাকযোগ্য এনার্জি : ১২.৪ ”
গ্রস এনার্জি : ১৮.৪ ”

মিনারেলস (খনিজ উপাদান) :-
ক্যালসিয়াম : ০.৮ গ্রাম/কেজি
ফসফরাস : ৩.৯ ”
পটাসিয়াম : ৫.৭ ”
সোডিয়াম : ০.১ ”
ম্যাগনেসিয়াম : ১.৩ ”
ম্যাঙ্গানিজ : ২৯ মিগ্রা/কেজি
জিংক : ৩০ ”
কপার : ১২ ”
আয়রন : ১৮৪ ”

এমাইনো এসিড :- (%/ ক্রুড প্রোটিন)
অর্গানাইন : ৪.৭ %
হিস্টিডাইন : ২.২ %
লাইসিন : ৩.৭%
মেথিওনিন : ১.৭%
প্রোলিন : ১০.৫%
থ্রিওনাইন : ৩.৪%
ভ্যালাইন : ৫%

ক্ষতিকর উপাদান :
ট্যানিন : ০.৮ গ্রাম/কেজি

মাত্রা ও সতর্কতা :

দুধের গরুকে দৈনিক দানাদার খাদ্যে সর্বোচ্চ ৪০% এবং ষাঁড় গরুকে সর্বোচ্চ ৫০% বার্লি দেয়া যেতে পারে।

তবে স্বাভাবিকভাবে দৈনিক দানাদরের ৩০% পর্যন্ত সুষম পরিমান হিসাবে ধরা হয়।

গরুর প্রধান স্বাথ্যসম্মত ও পুষ্টিকর খাবার হচ্ছে ঘাস ও খড় এবং মাত্রাতিরিক্ত স্টারর্স জাতীয় খাবার গরুর জন্য ক্ষতিকর। মাত্রাতিরিক্ত বার্লি গরুর পাকস্থলীতে অম্লতা বা এসিডিটি সৃষ্টি করে।

লেখকঃ জাহিদুল ইসলাম( পি ডি এফ গ্রুপ)

Please follow and like us:

About admin

Check Also

সূর্যমুখী ফুল বা সানফ্লাওয়ার, দুধাঁলো গাভীর জন্য একটি উৎকৃষ্ট খাদ্য!

সূর্যমুখী ফুল বা সানফ্লাওয়ার, দুধাঁলো গাভীর জন্য একটি উৎকৃষ্ট খাদ্য! —————————————————– আমরা অনেকেই হয়তো জানি …

Translate »
error: Content is protected !!