Breaking News
এফ এম ডি
এফ এম ডি

গবাদিপশু পালনে ক্ষুরা রোগ একটি অভিশাপ :বিস্তারিত

গবাদিপশু পালনে ক্ষুরা রোগ একটি  অভিশাপ :
আমাদের দেশে গবাদিপশু পালনে সবচেয়ে বড় একটি অন্তরায়িত সমস্যা হচ্ছে ক্ষুরা রোগ।

অধিকাংশ খামারীগণ এই রোগের কারণে প্রায়শই ক্ষতিগ্রস্ত হন। আমরা তাই প্রায়ই এই রোগটির ব্যাপারে আলোচনা করে থাকি। ।
অত্যন্ত ছোঁয়াছে,

তীব্র প্রকৃতির ভাইরাসজনিত রোগের মধ্যে ক্ষুরা অন্যতম।

গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, হরিণ, হাতিসহ বিভক্তি ক্ষুরাবিশিষ্ট প্রাণীতে এ রোগের প্রাদুর্ভাব খুব বেশী ।

ছয় মাস বয়সের নিচের বাচ্চায় এ রোগটি মড়ক আকারে দেখা যায়।

এ ছাড়া মহিষে এ রোগের তীব্রতা তুলনামূলক কিছুটা কম।

বাংলাদেশের সব ঋতুতেই ক্ষুরা রোগ দেখা গেলেও সাধারণত বর্ষার শেষে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি পরিলক্ষিত হয়।

লক্ষণ : পশুর শরীরের তাপমত্রা বেড়ে যায; জিহ্বা, দাঁতের মাড়ি, মুখ গহ্বর, পায়ের ক্ষুরের মাঝে ঘা বা ক্ষতের সৃষ্টি হয়।

ক্ষত সৃষ্টির ফলে মুখ থেকে ফেনাযুক্ত লালা নির্গত হয়।

কখনো বা ওলানে ফোসকা পড়ে। প্রাণী খোঁড়াতে থাকে এবং মুখে ঘা বা ক্ষতের কারণে খেতে কষ্ট হয়।

অল্প সময়ে প্রাণী দুর্বল হয়ে পড়ে। এ রোগে গর্ভবতী গাভীর গর্ভপাত ঘটে।

দুধালো গাভীর দুধ উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। বয়স্ক গরুর মৃত্যুহার কম হলেও আক্রান্ত বাছুরকে বাঁচিয়ে রাখা খুবই কঠিন।

অর্থাৎ ছয় মাস বয়সের নিচে আক্রান্ত বাছুরের ৯৫ শতাংশই মারা যায়।

বাছুরে এ রোগকে Tiger heart disease বলা হয়।এটি ক্ষুরা রোগেরই ফল স্বরূপ।

চিকিৎসা :

আক্রান্ত পশুকে সুস্থ প্রাণী থেকে আলাদা রাখতে হবে। ছয় মাসের নীচে যে সব বাছুরের বয়স তাদের ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত গাভীর দুধ খাওয়ানো যাবে না বাছুর বাঁচাতে চাইলে এবং তাদের মায়ের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে।

কোন মতেই বাছুরের গায়ে জ্বরের তীব্রতা বাড়তে দেয়া যাবে না, সেটাকে ওষুধপাতির সাহায্যে এবং ভেটেরিনারি ডাক্তারের পরামর্শক্রমে অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

তাহলে ছোট বাছুরগুলি বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
অসুস্থ প্রাণীর ক্ষত পটাশমিশ্রিত পানি (০.০১ শতাংশ পটাশিয়াম পার ম্যাঙ্গানেট) দিয়ে ধুয়ে দিতে হবে।

ফিটকিরির পানি ১০ গ্রাম প্রলেপ দিতে হবে। নরম খাবার দিতে হবে। প্রাণীকে শুষ্ক ও ছায়াযুক্ত স্থানে মেঝেতে রাখতে হবে।

কোনো অবস্থায়ই কাদামাটি বা পানিতে রাখা যাবে না। ক্ষুরাতে সৃষ্ট ঘাঁয়ে নারিকেল তেলের সাথে কর্পূর ও সালফানিলামাইড পাউডার একসাথে মিশিয়ে একটা প্রলেপ বানিয়ে প্রতিদিন ৩/৪ বার আক্রান্ত স্থানে লাগালে দ্রুত ঘাঁ শুকাতে সাহায্য করে।

আবার খাওয়ার সোডা ৪০ গ্রাম ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে পায়ের ঘা পরিষ্কার করে সালফানিলামাইড পাউডার লাগালেও ভালো কাজ করে ঘাঁ শুকাতে ।

মাছি থেকে সাবধান থাকতে হবে, যাতে পোকা না দিতে পারে।

মাছির আক্রমণ সালফানিলামাইড পাউডার ও কর্পূর নারকেল তেল বা ভ্যাসলিনের সঙ্গে মিশিয়ে লাগালেও ভালো ফল পাওয়া যায় । আক্রান্ত গরু-মহিষকে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য পেনিসিলিন অথবা অক্সিটেট্রাসাইক্লিন ইনজেকশন প্রয়োগ করতে হবে(ভেটেরিনারি ডাক্তারের পরামর্শক্রমে)।

তবে সতর্ক থাকতে হবে শুধু গ্লুকোজ ইনজেকশন প্রয়োগ করা যাবে না। মুখের ভেতরের অংশে, জিহবাতে মধু এবং সোহাগা মিশিয়ে একটা প্রলেপ বানিয়ে লাগিয়ে দিলে মুখের ঘাঁ দ্রুত শুকায়।

এটা অন্তত দিনে দুইবার করতে হবে।

রোগের বিস্তার :

ক্ষুরায় আক্রান্ত পশুর লালা, ঘায়ের রস, মলমূত্র, দুধ ইত্যাদির মাধ্যমে এ ভাইরাস নির্গত হয়।

এ ভাইরাস বাতাস ও খাদ্যের মাধ্যমে সংবেদনশীল পশুতে সংক্রমিত হয়। আক্রান্ত গরু ও মহিষের সংস্পর্শে এ ভাইরাস সুস্থ পশুতে সংক্রমিত হতে পারে।

আক্রান্ত পশুর ব্যবহৃত দ্রব্যাদি ও পশুজাত দ্রব্যের (চামড়া, মাংস, দুধ ইত্যাদি) মাধ্যমে এ ভাইরাস এক স্থান থেকে অন্য স্থানে এমনকি বাতাসের মাধ্যমে এক দেশ থেকে অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
প্রতিরোধে বিধিব্যবস্থা :

রোগ যাতে না ছড়ায় সেজন্য আক্রান্ত প্রাণীকে সুস্থ হতে আলাদা করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

সুস্থ গবাদি প্রাণীকে বছরে দুবার প্রতিষেধক টিকা দিতে হবে।

যদিও ইদানীংকালে এফ,এম,ডি ভাইরাসের ভ্যাক্সিন বা টিকা দিয়ে তেমন একটা ফল পাওয়া যাচ্ছে না!

এর কারণ হল এফ,এম,ডি ভাইরাসের শুধু সাউথ আফ্রিকা এবং এশিয়াতে এই পর্যন্ত ৭ টি সেরোটাইপস শনাক্ত করা গেছে এবং এসব সেরোটাইপসের আবার বিভিন্ন সাবটাইপস রয়েছে।

তাই ভ্যাক্সিন দিয়ে এটাকে প্রতিহত করা অনেকটা দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে!

তারপরও ভ্যাক্সিন বা টিকা দিলে অন্তুত কিছুটা সুরক্ষা পাওয়া যেতে পারে! ক্ষুরা রোগে যে কোনো মৃত প্রাণীকে ৪-৫ ফুট মাটির নিচে পুঁতে ফেলতে হবে, কোনোক্রমেই খোলা স্থানে ফেলে রাখা যাবে না।

ছয় মাসের কম বয়সের বাচ্চাকে অসুস্থ গাভীর দুধ খাওয়ানো যাবে না এবং আলাদা স্থানে রাখতে হবে।

ক্ষুরা রোগের টিকা স্থানীয় উপজেলা ও জেলা হাসপাতালে পাওয়া যায়, যা সময়মতো দিলে এ রোগের আক্রমণ প্রতিহত করা যায়। এ রোগ প্রতিরোধে বায়োসিকিউরিটি জোড়দার করা খুবই জরুরী!

প্রকৃতপক্ষে, ক্ষুরারোগ বা এফ,এম,ডি এমন একটি রোগ যেটায় খামারের গবাদিপশুগুলি একবার আক্রান্ত হলে সেই খামার ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে কয়েকবছর পিছিয়ে যেতে পারে, এমনকি সে খামার ধ্বংশের মুখেও পতিত হতে পারে!

তাই এই রোগটি আসলেই খামারীদের জন্য অভিশাপের মতই!!!
* এই পোস্টটিতে প্রফেসর ডাঃ মোঃ ফজলুক হক সাহেবের তথ্য সংযোজিত আছে। তাই উনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

মুক্তি মাহমুদ

ভাইরাসের স্টেইন

এফ এম ডি ভাইরাসের ষ্ট্রেইন এত বেশী যে ভ্যাকসিন দিয়ে বলা সম্ভব নয় যে এফ,এম ডি হবে না। তবে এটুকু বলা যায় যে,মারাত্বক আকারে হবে না।
ভ্যাকসিন হিসেবে সরকারী ভ্যাকসিনটাই সেরা,কারন আমি সঠিকভাবে বলতে পারবো না।

তবে আমার মনে হয়।আমাদের ভ্যাকসিনটা বোধ হয় ষ্ট্রীট ভাইরাস দিয়ে তৈরি।আর অধিকাংশ ল্যাব ভাইরাসে তৈরি।

এফ এম ডি ভাইরাসে আমরা অনেকভাবে ক্ষতিগ্রস্হ হয়।

যেমন গরুর উৎপাদন কমে যায়,অর্থাৎ দুধ উৎপাদন কমে যায়, স্বাস্হ্য খারাপ হয়ে যায়।

খাওয়ার রুচি কমে যায়,গরমের সময় হাপায় মুখ দিয়ে লালা পড়ে। গায়ের লোম বড় হয়ে যায়। এক মাসের নীচের বয়সের বাছুর মারা যায়।

এমনকি ইদানিং বড় গরু এফ,এম ডি ভাল হবার ১৪–১৫দিন পর সম্পুর্ন সুস্হ অবস্হায় খাবার খেতে খেতে পড়ে মারা যায়।
বাছুর মারা যায় টাইগার হার্ট ডিজিজের কারনে, আমার ধারনা নতুন কোন ষ্ট্রেইন বন্ধু দেশ থেকে এসেছে যা বড় গরুর হার্টকে মারাত্বক ক্ষতিগ্রস্হ করে। ফলে সুস্হ গরু এভাবে মারা যায়।
এক্ষেত্রে যদি এফ এম ডি আক্রান্ত অবস্হায় প্রত্যেক গরুকে পর পর ৩ থেকে৪ দিন সিপ্রোসিন ১৫ থেকে ২০ সিসি মাংসে ইনজেকশন করে রাখলে অপমৃত্যু থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
ছোট বাছুর এফ,এম ডি পাশের বাড়ীতে আক্রমন করেছে এমন অবস্হায় (বয়স সদ্যজাত থেকে ২–৩মাস হলেও) ২৫ সিসি সালফার ড্রাগ যেমন সেলিডোন মাংসে ইনজেকশন একটা মাত্র ডোজ করে রাখলে বাছুর বেচে যায়।

এফ এম ডি আক্রান্ত অবস্হায় গরু ঠিকমত খেতে পারে না।

ফলে পরবর্তিতে বিপাকীয় রোগে আক্রান্ত হয়ে গায়ে জ্বর হয়,খাওয়া বন্দ্ধ হয়,দুধ শেষ হয়ে যায়।

এই অবস্হা থেকে পরিত্রান পেতে স্বাভাবিক সিমটোম্যাটিক চিকিৎসা অব্যাহত রাখুন।

আর বাড়তি হিসেবে আক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথে আপনি যদি এস আর রুচি–২০০-৩০০ গ্রাম প্রতিদিন একবার করে এই পাউডার টা পানিতে গুলায়ে ৫–৬ দিন গরুকে খাওয়াতে পারেন,

তাহলে ঐ গরুতে উৎপাদন কমবেনা,স্বাস্হ্য খারাপ হবেনা,খাওয়া বন্দ্ধ হবে না।( এই মাত্রাটা ১০০ থেকে ২০০ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য)।

আর এফ এম ডি হওয়ার পর যদি গায়ে তাপ থাকে,গরু খাওয়া কমায় বা খাওয়া বন্দ্ধ করে বা দুধ কমে যায় প্রচলিত কোন ঔষধ দিয়ে আপনি এর থেকে পরিত্রান পাবেন না।কিন্তু এক্ষেত্রে আপনি ব্যাবহার করে দেখেন।

এস আর রুচি পাউডার ৩০০–৫০০ গ্রাম প্রথমবার পরের থেকে ২০০–৩০০ গ্রাম প্রতিবারে পর পর ৫–৭ দিন,মাত্র কয়েক ঘন্টার (৩–৪ ঘন্টা) খাওয়া ধরবে,১০—১২ ঘন্টার মধ্যে তাপমাত্রাও স্বাভাবিক হবে।
এর সাথে এস আর মিল্ক টনিক পাউডার ৪০–৫০ গ্রাম দিনে একবার যোগ করেন দুধ ও বৃদ্ধি পাবে।
অধিকাংশ লোকের কাছে এটা বিশ্বাসযোগ্য মনে হবেনা, তাই বলবো বিশ্বাস করার দরকার নেই,শুধু একবার পরীক্ষা করার জন্য ঠকেন।

১ থোকে ২ টা গরু চিকিৎসা করে দেখেন।আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি আপনি ১০০ ভাগ সফল হবেন।

এফ এম ডি ভাল হবার কিছুদিন পর একটা কমপ্লিকেশন হয় যা আমরা সব ভেট রা জানি যে রোদে গেলে হাফায় আর লোম বড় বড় হয়ে যায়,অনেক সময় দুপুর বেলা হাফায়,

কিন্তু অনেকেই জানিনা এই রোগী ১০০ ভাগ ভাল হয়।

চিকিৎসাঃ

১। এস আর রুচি
2০০ গ্রাম করে দিনে একবার চলবে।
২। এস আর লিভার টনিক
৫০ গ্রাম করে দিনে একবার চলবে।
৩। ট্যাবলেট ডেকাসন
৫+৫+৫ ৩থেকে৪দিন
৪+৪+৪ ৩থেকে ৪ দিন
৩+৩+৩ ৩থেকে ৪ দিন
২+২+২ ৩দিন
২+২+০ ২দিন ষ্টেরয়েড দিয়ে এটা চিকিৎসা,অপব্যাবহার নয়।বিধায় ভুল বুঝার অবকাশ নেই।

বা,কৃ বি র আমার সম্মানিত স্যার জনাব প্রফেসর আঃ রহমান স্যার কাছ থেকে চিকিৎসাটা শিখেছিলাম,সারজীবন সফলভাবে ব্যাবহার করেছি।

ষ্টেরয়েডের ডোজ এই ভাবে ট্যাপারিং করে শেষ করতে হয়।
২+০+০ ২ দিন।

ক্ষুরা রোগ : করণীয়

প্রতি বছর কোরবানীর ঈদের পরে আমাদের দেশে ক্ষুরা রোগ ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পরে।

বিশেষ করে ইন্ডিয়া থেকে আসা গরুর মাধ্যমে এই রোগ মহামারী আকারে আক্রমন করে এদেশের গবাদী পশুতে।

তাই দেরী না করে সাবধান হওয়ার এখনি উপযুক্ত সময়।

রোগের কারণ :

ক্ষুরা রোগ সাধারণত গরু, ছাগল, শূকর, ভেড়া, ঘোড়া সহ শক্ত ক্ষুর বিশিষ্ট প্রাণীর জন্য একটি প্রানঘাতী সংক্রমণ রোগ।

ক্ষুরা রোগ একটি ভাইরাস বাহিত রোগ। দ্রুত সঠিক চিকিৎসা না করলে আক্রান্ত প্রাণী মারা যেতে পারে।

৭ টি ভাইরাস এর কারণে (এ, ও, সি, স্যাট ১, স্যাট ২ স্যাট ৩, এশিয়া ১) কারণে এই রোগটি হতে পারে।

যেভাবে সংক্রমণ হয় :

১. ক্ষুরারোগের ভাইরাস সাধারণত স্বাশ প্রশ্বাস, লালা এবং মুখের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে।
২. খামারে আনা নতুন প্রাণীর মাধ্যমে যেটার ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হওয়ার পূর্ব রেকর্ড রয়েছে অথবা যে অথবা এখনো যেটার শরীরে সক্রিয় ভাইরাস বিদ্যমান রয়েছে।
৩. ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত প্রাণীর কাছ থেকে আসা ব্যক্তির মাধ্যমে যার শরীরে কাপড়, জুতা বা শরীরের যেকোন অংশে ভাইরাসের অস্তিত্ব রয়েছে।
৪. ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত প্রাণীর বা খামার থেকে থেকে আনা গোখাদ্য, মাংস, দুধ বা অন্য যেকোন বস্তুর মাধ্যমে।
৫. বাতাসের মাধ্যমে।

রোগের লক্ষণ :

প্রাণীতে ক্ষুরা রোগের জীবাণু সংক্রমণের সাধারণত ৩ থেকে ৫ দিন পরে লক্ষণ প্রকাশ পায়। প্রধান লক্ষন গুলো হচ্ছে :

১. প্রাণীর নাক, মুখ, জিহবা, গলা, ক্ষুর, ক্ষুরের সন্ধিতে, ক্ষুরের উপরিভাগে এবং ওলানে ফুসকুড়ি বা বিচি বা গোটা দেখা যায়।
২. শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়।
৩. মুখে ক্ষতের কারণে খাওয়া কমে যায় অথবা খাওয়া বন্ধ করে দেয়।
৪. মুখ দিয়ে লালা বের হতে থাকে।
৫. ক্ষুরে ক্ষতের কারণে খুঁড়িয়ে হাটে অথবা হাটতে চায়না।
৬. প্রাণী অবসাদ গ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং নড়াচড়া কমিয়ে দেয়।
৭. ওজন কমে যায় এবং দুধের উৎপাদন কমে যায়।

প্রতিরোধ ব্যবস্থা :

১. অন্য খামার থেকে আনা প্রাণী আলাদা স্থানে রেখে ১৫ দিন মনিটর করে, স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে খামারে প্রবেশ করানো।
২. অন্য খামার থেকে আনা খাদ্য পনি অথবা অন্য কোন ব্যবহৃত দ্রব্য পটাশের দ্রবণ দিয়ে স্প্রে করে জীবাণু মুক্ত করে খামারে প্রবেশ করানো। অন্য খামার থেকে বা বাইরে থেকে আনা মাংস বা দুধ খামার থেকে দূরে রাখা।
৩. খামারে প্রবেশের পূর্বে পটাশ মিশ্রিত পানিতে পা ধুয়ে এবং সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে গরুতে হাত দেয়া।
৪. অন্য খামার থেকে এসে পরিধানের কাপড় পরিবর্তন করে খামারে প্রবেশ করা।
৫. ভিন্ন ভিন্ন খামারে কাজ করে এমন মানুষ এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের হাত পা ধুয়ে পরিচ্ছন্ন হয়ে খামারে প্রবেশ করানো।
৬. খামারে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা।
৭. নিয়মিত টিকা দেয়া।
৮. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা এবং সব সময় গরুর দিকে খেয়াল রাখা।
৯. খামার এবং খামারের পার্শ্ববর্র্তী পরিবেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পটাশের পানি দিয়ে সপ্তাহে কমপক্ষে ১ দিন জীবাণুমুক্ত করা।

আপনার গরুতে ক্ষুরা রোগের লক্ষণ দেখা গেলে দ্রুত উপজিলা প্রাণিসম্পদ অফিসে অথবা নিকটস্থ রেজিস্টার্ড প্রাণী স্বাস্থ্য কর্মীর সাথে যোগাযোগ করুন এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করুন।

ক্ষুরা রোগের লক্ষণ গরুর শরীর থেকে চলে যাওয়ার পরে ৩ থেকে ৫ দিন পরেও জীবাণু সক্রিয় থাকে, তাই সুস্থ্যতা পরবর্র্তী তাই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

তথ্যসূত্র : FMD manual, organization of world animal health, oie.

প্রাণির ফুট এন্ড মাউথ ডিজিজ / ক্ষুরা রোগে করণীয়ঃ

বর্তমানে দেশের উত্তর অঞ্চলসহ প্রায় সারাদেশে গবাদিপশু বিশেষ করে গরু ফুট এন্ড মাউথ ডিজিজ দারা আক্রান্ত হচ্চে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং সচেতনতার অভাবে গরুর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটছে।

ফুট এন্ড মাউথ বা হুফ এন্ড মাউথ রোগ ইনফেকসিয়াস, কখনও মারাত্বক ভাইরাল রোগ ।

এই রোগ সাধারনত ক্লোভেন হুফ ওয়ালা প্রানীর হয়ে থাকে । এই রোগ গৃহপালিত এবং বন্য প্রানীর হয়ে থাকে ।

এই ভাইরাস প্রানীর শরীরে ২-৩ দিনের জন্য উচ্চ জ্বর সৃষ্টি করে । এই রোগ হলে আক্রান্ত প্রানীর মুখে এমনকি পায়ের পাতায় ফোসকা সৃষ্টি করে । এর ফলে পায়ে ক্ষত হয়ে প্রানিটি পঙ্গু হয়ে যেতে পারে ।

ফুট এন্ড মাউথ/ ক্ষুরা রোগ এমন এক রোগ যা বানিজ্যিকভাবে গঠিত ফার্মের জন্য হুমকি্স্বরুপ । যে কোন গরুর খামার হোক না ডেইরী / মোটাতাজাকরন খামার সহ সব খামারের জন্য এক মহাবিপদের নাম এই ক্ষুরা রোগ ।

বাংলাদেশের পানির এলাকাতে এই রোগ বেশি দেখা যায় ,বিশেষত বর্ষা মৌসুমে এই রোগের প্রোকোপ দেখা যায়।

এই দেশে সাধারনত মে-জুন মাসে এই রোগের প্রোকোপ দেখা যায় ,

তবে কিছু কিছু এলাকা যেমন সিরাজগঞ্জ, টাংগাইল , পাবনা , চাদপুর ইত্যাদি জেলাতে এই রোগ এপ্রিল মাসেও দেখা যেতে পারে ।

তবে দক্ষিণাঞ্চল বিশেষত বরিশাল , ভোলা , বরগুনা, পটুয়াখালী ইত্যাদি জেলাতে বর্ষা মৌসুম শেষ হবার পর ও এই রোগ পাওয়া যায় ।

অন্য নামঃ অ্যাপ্থওয়াস ফিভার , টাইগার হার্ট ডিজিজ

FMD ভাইরাস কিভাবে ছড়ায়ঃ

১। আক্রান্ত প্রানীর সংস্পর্শে আসলে।

২। আক্রান্ত প্রানীর ব্যাবহার করা যে কোন যন্ত্রপাতি পুনরায় ব্যাবহার করলে ।

৩। আক্রান্ত প্রানী বহনকারী যে কোন গাড়ির সংস্পর্শে আসলে ।

৪। আক্রান্ত প্রানীর খামারে কাজ করা পরিহিত পোষাক এর মাধ্যমে ।

৫। আক্রান্ত প্রানীর খাদ্য হতে সংক্রমিত হতে পারে।

৬। বিভিন্ন গৃহপালিত প্রাণীর মাধ্যমে সংক্রমিত হতে পারে।

৭। এছাড়া বিভিন্ন বন্য প্রাণীর মাধ্যমে সংক্রমিত হতে পারে।

৮। এই রোগ সিমেন ,লালা, মূত্র,গবর,দুধ,ইত্যাদির মাধ্যমেও ছড়ায়।

৯। এছাড়া বিভিন্ন পাখির মাধ্যমেও এই রোগ বিস্তার লাভ করে ।

রোগ সৃষ্টির প্রক্রিয়াঃ

ইনফেকশন ঘটার পর ফ্যারিঞ্চ এবং শ্বাসতন্ত্রে ভাইরাসের প্রতিরুপ ঘটে

রক্তের মধ্যে ভাইরাসের অনুপ্রবেশ ঘটে

পরবর্তীতে সমগ্র শরীরের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে পরে , এরপর সেকেন্ডারী লক্ষণ সৃষ্টি করে , বিশেষত এপিথেলিয়াল টিস্যুতে।

যে সব প্রানী আক্রান্ত হতে পারেঃ

১। গরু

২। মহিষ ( যারা বেশি পানিতে থাকে )

৩। ছাগল

৪। শুকর

৫। হরিন

৬। বাইসন

৭। এন্টিলপ ( এক ধরনের হরিন)

রোগের লক্ষণঃ

১। মাত্রাতিরিক্ত লালা নিসঃরন।

২। পানি এবং খাবার গ্রহণ কমে যাওয়া।

৩। জিহ্ববাতে ঘা হবে।

৪। পঙ্গুত্ব।

৫। শরীরের লোমহীন/ কম লোমযুক্ত অংশ যেমন- ওলান, ভালভা, চোখের কনজাক্টিভাতে ভেসিকল/ গুটি গুটি পাওয়া যাবে।

৬। যদি কম বয়সের প্রানী আক্রান্ত হয় , তাহলে গ্যাস্ট্রোএন্টাইরাইটীস / বৃহদান্ত্রে ঘা হবে ,এবং মায়োকাডাইটিস হবে, এ ক্ষেত্রে মৃত্যুর হার ৬০% পযন্ত হতে পারে ।

৭। জিহ্ববাতে এবং খুরের মাঝে ভেসিকল / গুটি গুটি পাওয়া যাবে ।

পোস্ট মর্টেম এ কি কি পাওয়া যায়ঃ

গ্রস লিসন /খালি চোখে যা পাওয়া যায়ঃ

১। ভেসিকল / গুটি গুটি পাওয়া যাবে আক্রান্ত প্রানির ঠোটে, জিহ্ববার উপরে , ভালভাতে, ওলানে, কনজাংক্টিভাতে।

২। গলকম্বল , তলপেট, পেরিনিয়ামে হালকা লক্ষন পাওয়া যাবে।

৩। তলপেট এবং ক্ষুদ্রান্ত্রে হালকা রক্ত ও পানি পাওয়া যাবে।

৪। আক্রান্ত প্রানীর হৃদপিন্ডের পেশীতে কিছু লক্ষণ পাওয়া যাবে বিশেষ করে বাছুর,ছাগল ,শুকরে।

মাইক্রোস্কপে যা পাওয়া যাবেঃ

১। হায়ালিন ডিজেনারেশন।

২। হৃদপিন্ডের পেশীতে ক্ষত পাওয়া যাবে।

৩। মাঝে মাঝে নিউট্রফিল নামক পুজ সৃষ্টিকারী রক্তকনিকা পাওয়া যাবে।

কিছু গুরুত্বপূণ তথ্যঃ

ক্ষুরা রোগের মোট ৭ টি সেরোটাইপ পাওয়া যায় ।

১। সেরোটাইপ –ও (O)

২। সেরোটাইপ- এ (A)

৩। সেরোটাইপ- সি (C)

৪। স্যাট -১(SAT-1)

৫। স্যাট-২(SAT-2)

৬। স্যাট-৩(SAT-3)

৭। এশিয়া-১(ASIA -1)

তবে বাংলাদেশে পাওয়া যায় —

১। সেরোটাইপ –ও (O)

২। সেরোটাইপ- এ (A)

৩। সেরোটাইপ- সি (C)

৪। এশিয়া-১(ASIA -1)

বাংলাদেশে ক্ষুরা রোগ কিভাবে প্রতিরোধ করবেনঃ

১। বাংলাদেশের সকল প্রানী হাসপাতালে ক্ষুরা রোগের ভ্যাক্সিন পাওয়া যায়্‌ , তাই আপনার প্রানীকে ক্ষুরা রোগের হাত থেকে বাচাতে নিয়মিত ক্ষুরা রোগের ভ্যাক্সিন দিন ।

২। নিয়মিত প্রানীর ব্যাবহার করা জিনিস পত্র জীবানুমুক্ত রাখতে হবে।

৩। মৃতপ্রানী ভালোভাবে মাটিতে পুতে রাখতে হবে ।

৪। আক্রান্ত প্রানী জবাই করতে হবে ।

৫। জনসাধারনের মধ্যে সচেতনতা বৃ্দ্ধি করতে হবে।

৬। সাধারন মানুষকে ক্ষুরা রোগ সম্পর্কে ব্যাপকভাবে জানাতে হবে।

রোগের চিকিৎসাঃ

১। আক্রান্ত আংশে হালকা জীবানুনাশক দিয়ে ধুয়ে দিতে হবে যাতে পরবর্তীতে কোন ব্যাক্টেরিয়া আক্রমন করতে না পারে, এ ক্ষেত্রে ২% কস্টিক সোডা, ৪% সোডা অ্যাশ , ২% এসিটিক এসিড জীবানুনাশক হিসেবে ভালো কাজ করে ।

২। নেবানল পাউডার দিতে হবে যদি পায়ে কোন লক্ষণ পাওয়া যায়।

৩। কস্টিক সোডা দিয়ে ধোওয়ার পর বোরাক্স দিতে হবে ।

৪। সালফাডাইমিডিন অথবা ব্রড স্পেক্টাম এন্টিবায়োটিক দিতে হবে যাতে করে পরবর্তীতে আর কোন ব্যাক্টেরিয়াল ইনফেকশন না হয় ।

কিভাবে ভাক্সিন দিতে হয়ঃ

ভাক্সিনের নামঃ এফ এম ডি ভেক্সিন

ডোজঃ ১ম ডোজ দিতে হয় ৬ মাস বয়সে , এরপর প্রতি ৬ মাস অন্তর অন্তর মাংশপেশিতে ভেক্সিন দিতে হয় ।এফ এম ডি এফ এম ডি

Please follow and like us:

About admin

Check Also

বাছুরের ডায়রিয়ার কারণ

Couses of diarrhea in neonatal rumenants 🔷Bacterial: 🔸Escherichia coli 🔸Salmonella spp. 🔸Campylobacter fecalis 🔸Campylobacter coli …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »
error: Content is protected !!