Breaking News

গবাদিপশুর প্রসব বেদনার তিনটি ধাপ(The three stages of labor in cattle) ডাঃ গায়েন

গবাদিপশুর প্রসব বেদনার তিনটি ধাপ(The three stages of labor in cattle)
———————————————–ডাঃ গায়েন।(21/10/18)
প্রসব বেদনায় আছে তিন তিনটি ধাপ,
প্রথম,দ্বিতীয়, তৃতীয় পরপর এ সব।
সার্ভিক্সের (Cervix)সম্প্রসারণ(dilation) প্রথম ধাপে,
ফিটাস(Fetus) অব মুক্ত হয় জরায়ুর চাপে ।
গর্ভফুল(placenta বা Fetal membranes )পড়ে তৃতীয় ধাপ যেই,
জরায়ু ও হরমোনগুলির ক্রিয়ার ফলেই।

ভূমিষ্ঠ হওয়ার এক কি দুই’ঘণ্টা পূর্ব হতে,
মাংসের সংকোচন ঘটে অধিক বৃদ্ধিতে।
দশ থেকে পনেরো মিনিট পরপর সংকোচন,
পনেরো থেকে ত্রিশ সেকেন্ড স্থায়ী তখন।
তিন থেকে পাঁচ মিনিট পরপর ধাপটির শেষে,
অধিকক্ষণ স্থায়ী হয়ে সংকোচন প্রকাশে।
অধিক এস্ট্রোজেনের উপস্থিতি এসব ঘটায়,
মিউকাস নিঃসরে বার্থ ক্যানেলকে পিচ্ছিল করে দেয়।
এই ধাপে মায়ের পিটুইটারি(Hypophysis)কদাচিৎ নিঃসরে,
অক্সিটোসিনের কথাই বলছি সকলের তরে।
প্রথম পানির ব্যাগ (water bag)ফাটিলে বাচ্চা বার্থ ক্যানেলে ,
এমনিয়নে(Amnion)জড়ানো বাচ্চা পেলভিসে (pelvis)পা ফেলে।
এমনিয়ন ,এলান্টয়েস (Allantois),আর কোরিওন (Chorion),
তিনটি লেয়ার ( স্তর) প্লাসেন্টার করিলাম বর্ণণ( ভেতর থেকে বাহির) ।
যেই পা গেল পেলভিসে সার্ভিক্স ও ভ্যাজাইনার চাপে,
প্রতিক্ষিপ্ত (স্নায়ুবিক) উত্তেজনায় (Reflex stimuli) অক্সিটোসিন (বাড়ে )লাফে ।
ওই হরমোনে প্রোস্টাগ্লান্ডিন বাড়ায় জরায়ুর ( উদরেরও) সংকোচন,
ফারগুসন্স(Furguson’s) রিফ্লেক্সের বলে (অক্সিটোসিন) হরমোন নিঃসরণ।

প্রথম ধাপের দৃশ্যমান লক্ষণ গুলো এই,
উদর ব্যথায় বারবার তখন থাকবে শুয়ে বসেই।
পেছন রেখে নিম্নগামী লেজটা উর্ধে তুলে,
কোত্ ও জাবরকাটা মাঝে মাঝে চলে।
গাভী ও ছাগল-ভেড়ায় লক্ষণ দৃশ্যমান,
মহিষে আবার ঠিক তত নয় অনেকটাই ম্লান।

যেই বাচ্চা ভ্যাজাইনা ও ভালভা লিপস্ বাহিরে,
দ্বিতীয় ধাপ শুরু হইয়া গেল এর পরে।
বার্থ ক্যানেলে ঢুকে পড়লেই দ্বিতীয় ধাপ শুরু,
এমনিয়ন ফেটে বাহির হইল(Ruminants) ছাগল কিংবা গরু ।
দ্বিতীয় ধাপের লক্ষণগুলি সংক্ষেপে এই,
থেমে থেমে কোতে কোতে এমনিয়ন (Amnion)ফাটবেই।
ভালভা(Vulva)দিয়ে পা এসে বাহিরে প্রকাশে,
কখনও ভেতর বাহির করবে অনায়াসে ।
উদরের সংকোচনটা বৃদ্ধি পাবে যেই,
বাচ্চা প্রসব সফল হবে অনতিবিলম্বেই।
উদরের সংকোচন যেই কম হইয়া যায়,
ডাক্তার বা সহায়কের লাগবেই তথায়।
বাচ্চা যদি মৃত হয় ঝামেলা হইল এই,
হর্নের বাচ্চা প্রসব হয় তখন বিলম্বেই ।।

প্রসব বেদনার তৃতীয় ধাপে ফুল(placenta)পড়ে যায়,
বাচ্চা হওয়ার পরও আটচল্লিশ ঘণ্টা সংকোচন থাকায়।
দেহে হরমোন প্রবাহ ও পুষ্টি স্বাভাবিক র’লে,
ছ’ঘণ্টার মধ্যে ফুল তখন বাইরে আসে চলে।
বার ঘণ্টার (প্রসবের পর ) মধ্যে ফুল যদি না আসে,
ধরতে হবে গর্ভ ফুলের বাধা পড়ে(Retained placenta)গেছে।,

কোটিলেডন ও ক্যারাঙ্কলের এপিথেলিয়ামের মাঝে,
অকোষীয় আঠালো এক (প্রোটিন )স্তর(কোলাজেন ফাইবার)বিরাজে।
গ্লুলাইন (glue line)নাম ধরে এই স্তর,
এর পচনে(Lysis-এ)পৃথক করতে সম্ভব প্লাসেন্টার।
প্লাসেন্টার সাথে মায়ের সংযোগকে ক্যারাঙ্কল বলে,
প্লাসেন্টার সাথে ফিটাসের সংযোগই কোটিলেডন নামে চলে।
ক্যারাঙ্কল ও কোটিলেডনের (একত্র) সংযোগস্থলকে,
প্লাসেন্টম (placentome)নামে ডাক্তার স্মরণে রাখে।
প্লাসেন্টমকে প্লাসেন্টার কার্যকরী একক কয়,
যার মাধ্যমে ফিটাস- মায়ের সংযোগ রক্ষা পায়।

মায়ের ক্যারাঙ্কল কোটিলেডনে বিলীন দেখতে এমন,
হাতখানি দস্তানায় (গ্লোভ /glove) রাখলে দেখতে লাগে যেমন।
গাভীর প্লাসেন্টমগুলি সতত উত্তল(Convex),
ভেড়ীর প্লাসেন্টম দেখতে যেন ঠিক অবতল ((Concave)।
এক’শ থেকে এক’শ পঁচিশ থাকে প্লাসেন্টম,
ছাগলভেড়া গাভীর কথাই বলছি একদম।
হরিণের ক্ষেত্রে প্লাসেন্টম মাত্র চার থেকে ছয়,
ওই গুলি আকারে বড় দেখলেই বোঝা যায়।
ক্যারাঙ্কল গোলাকার (বা ডিম্বাকার)জরায়ুর মিউকোচা(পুরু),
সাবএপিথেলিয়াম কানেকটিভ টিসুর বৃদ্ধিতে বেশ উঁচা।
ফুল পড়িলে কটিলেডন সহজে দেখা যায়,
গুটিগুটি ক্যারাঙ্কল হর্ণে(জরায়ুর হর্ণ) হাতে অনুভব হয়।

গবাদিপশুর প্লাসেন্টা কোটিলেডনারি,
মানুষের প্লাসেন্টা বৃত্তাকার (Discoid/circular)ধরতে পারি।
কোটিলেডন স্পর্শ করে ক্যারাঙ্কলকে একদম,
ঢেকে দিয়ে ক্যারাঙ্কলকে গড়ে প্লাসেন্টম।
এই সংযোগ সুদৃঢ় হয় ভিলাই দিয়া,
কোটিলেডন হতে ঢুকে পড়ে ক্যারাঙ্কলে গিয়া।
কোরিয়ন হতে ভিলাইগুলির উৎপত্তি হয়,
ভিলাই থেকে মাইক্রোভিলাই জানাই বর্ণনায়।
কোটিলেডনারি ভিলাই ঢিলা হয় ক্যারাঙ্কল হতে,
প্রসব সময়ের খবর বিজ্ঞানীদের মতে।

প্লাসেন্টমের প্রসারণও একই সময় হয়,
ফুল পড়ার বিজ্ঞান বলি অতি সংক্ষেপনায়।
কোটিলেডনে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হইছে (ফিটাস নেই )তাই ,
ভিলাই মধ্যে ক্যাপিলারিগুলি চুপসানো(Collapse)পাই,
ক্যারাঙ্কল দণ্ড সংকুচিত (shrink)জরায়ুর সংকোচনে,
কোটিলেডনকে ক্যারাঙ্কল হতে পৃথক (seperation)করে আনে।
কোলাজিনেজ (Collagenase)এনজাইম প্রসবের সময়,
প্লাসেন্টা হতে নিঃসরিয়া( পলাসেন্টাকে )পৃথকে সহায়তা দেয়।
কোলাজেন ফাইবারকে রিলাকজিন (relaxin)লাইসিস(পচন) করে,
কর্পাস লিউটিয়াম থেকে ওই হরমোন যথেষ্ট নিঃসরে।।

Please follow and like us:

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »
error: Content is protected !!