Breaking News

খুব কম খরচে মাংস উৎপাদনের একটা কৌশল

খুব কম খরচে মাংস উৎপাদনের একটা কৌশল . যেটা প্রান্তিক খামারীদের জন্য খুবই কার্যকরী হবে।
আপনাকে প্রথমে যেটা করতে হবে সেটা হলো মোটামুটি বয়স্ক কিছু গাভী বা বলদ/ষাঁড়(বলদ/ষাঁড়ের বয়স কিছুটা কম হলেও সমস্যা নেই,চার দাঁত বা ছয় দাঁত হলেও চলবে) সংগ্রহ করতে হবে যে গুলি খুব অযত্নে ছিল কিন্তু মোটামুটি সুস্থ। মনে রাখবেন এই ধরনের গরু সংগ্রহ করাটাই এই কর্মজজ্ঞের মূলমন্ত্র!
এবার গরু সংগ্রহ করার পর সেগুলিকে কৃমিনাশক দিয়ে কৃমিমুক্ত করে দুইটা ভ্যাক্সিন দিয়ে দিবেন। একটা হলো ক্ষুরা রোগের ভ্যাক্সিন আরেকটা হলো তড়কা বা এন্থ্রাক্স রোগের ভ্যাক্সিন।
এবার আসি গরুকে কি কি খাবার দিবেন সেই আলোচনা নিয়ে। শুধু মাত্র ৪ টা উপাদান দিয়ে গরুর দানাদার খাদ্য তৈরী করুন।
১। ঈস্ট ফার্মেন্টেটেড কর্ণ ৫০%।
২। দেশী মিলের কুড়া ৩০%।
৩। ছোলা/মটর/খেসারীর ভুষি১০%।
৪। সরিষার খৈল ১০%।
এবার প্রতি ১০০ কেজি লাইভওয়েটের গরুকে তৈরী করা দানাদার খাদ্য দেন ১ কেজি করে। আর ১০০ কেজি লাইভওয়েটের গরুকে ১ ইঞ্চি করে কাটা খড় ও ৫০ গ্রাম চিটাগুড় পানিতে ভিজিয়ে খেতে দিন। এর সাথে আরো যোগ করুন যে কোন কাঁচা ঘাস। ১০০ কেজি লাইভওয়েটের গরুকে ৪-৫ কেজি কাঁচা ঘাস দিন ছোট ছোট করে কেটে। এভাবেই প্রতিদিন গরুকে খাদ্য প্রদান করুন।
এবার আসি ফার্মেন্টেটেড কর্ণ কিভাবে তৈরী করবেন সেই বিষয়ে। আমি ১ কেজি ফার্মেন্টেটেড কর্ণ বানানোর প্রক্রিয়া বলে দিচ্ছি,আপনারা এটাকে থাম্বরুল ধরে বেশী লাগলে বেশী বানাবেন, কম লাগলে কম বানাবেন। ফার্মেন্টেটেড কর্ণ একবার তৈরী করার পর ১৮ ঘন্টার বেশী বাসি করবেন না।
ফার্মেন্টেটেড কর্ণ বানানোর প্রক্রিয়াঃ
***************************************
১ কেজি ভুট্টার গুড়া (সুজির দানার মতো হলে ভালো হয়) পানিতে মিশিয়ে মাখা মাখা করবেন।
এবার এককাপ কুসুম গরম পানিতে ১ চা চামচ চিনি বা মোলাসেস দিন,১ চা চামচ বেকারি ইস্ট (স্যাকারোমাইসিস সেরাভেসা) ঢালুন এবং ভালো করে সব মিশিয়ে ফেলুন। ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। দেখবেন কাপের ঈস্ট লাইভ হয়ে ফুলে উঠবে। এবার কাপের পানিতে মিশানো ঈস্ট আগে থেকে মাখা মাখা করে মেশানো ভুট্টার গুড়ার সাথে ভালো করে মিশিয়ে নিন এবং একটা বালতি বা পাত্রে এয়ারটাইট বা বায়ুনিরোধী করে রেখে দিন ৮-১০ ঘন্টা। এর পরে সেটা গরুকে খাওয়ানোর উপযোগী হয়ে যাবে। ব্যাস ফার্মেন্টেটেড কর্ণ তৈরী হয়ে গেলো।
উপরের নিয়মানুযায়ী যদি আপনি হাড্ডিসার বা কম স্বাস্থ্যসম্পন্ন গরুকে আড়াই থেকে তিন মাস খাওয়াতে পারেন তাহলে আপনার গরু অনেক মোটাতাজা হয়ে যাবে যা অবাক করার মতোই মনে হবে সাথে সাথে আপনি গরু বিক্রি করে যথেষ্ট লাভও করতে পারবেন। 

মুক্তি মাহমুদ ( পি ডি এফ)

Please follow and like us:

About admin

Check Also

কুকুরের ভ্যাক্সিনেশন

নতুন উদ্যোক্তা যারা ভাবছেন কোন জাত বা ব্রিডের গরু নিয়ে হৃষ্টপুষ্টকরন খামার করবেন.

নতুন উদ্যোক্তা যারা ভাবছেন কোন জাত বা ব্রিডের গরু নিয়ে হৃষ্টপুষ্টকরন খামার করবেন………… দেশে শিক্ষিত …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »
error: Content is protected !!