Breaking News
হাম্প সোর
হাম্প সোর

কাঁধে ঘা/হাম্প সোর HUMPSORE

কাঁধে ঘা/হাম্প সোর
HUMPSORE

গবাদিপশু গরুর হাম্প সোর বা কাঁধে ঘা রোগ এটি একটি গ্র্যানুলোমেটাস প্রকৃতির চর্মপ্রদাহ রোগ।

Stephanofilaria কৃমি দ্বারা এ রোগের সৃষ্টি হয়। এ রোগে গরুর হাম্প বা চুড়ায় ক্ষত হয় বলে এ রোগকে হাম্প সোর বলা হয়।

এ রোগে গরুর মৃত্যু হয় না, তবে ত্বকের স্থায়ী ক্ষতির জন্য চামড়ার মুল্য কমে আর্থিক ক্ষতি হয়।

বাংলাদেশের গবাদিপশুতে এ রোগ খুবই সাধারণ ঘটনা।

কারন

Stephanofilaria assamensis প্রজাতির কৃমি Humspore রোগের জন্য দ্বায়ী।

মাসকা কনডুলেন্স নামক এক ধরনের মাছি এ প্রজাতি কৃমির বাহক হিসাবে কাজ করে।

সংক্রমন

আক্রান্ত গরুর ক্ষত স্থানে এই কৃমি Microfilaria যুক্ত তরল নির্গত করে এবং উক্ত নির্গত তরল মাছি শোষন করে নেয়।

এই তরল পদার্থ মাছির দেহে তিন সপ্তাহ অবস্থান করার ফলে চুড়ান্ত (লাভা-৩) তে রুপান্তরিত হয় এবং সংক্রমনের জন্য প্রস্তুত থাকে।

যা পরবর্তিতে গবাদিপশুর চুড়ায়, কানে, শিং এর গোড়ায়, কাঁধে জোয়াল টানা বা দড়ি বাধার কারনে সৃষ্ট ক্ষত স্থানে রক্ত শোষন কালে সংক্রমন ঘটায়।

লক্ষন

> আক্রান্ত গরুর প্রচন্ড চুলকানি হয় যার ফলে সুযোগ পেলেই খুটি বা গাছ বা দেয়াল বা অন্য যেকোনো শক্ত বস্তুর সাথে ঘাড় ঘষতে দেখা যাবে।
> অত্যাধিক ঘর্ষনের ফলে কাধে, কানে, শিং এর গোড়ায় ক্ষতের সৃষ্টি হতে দেখা যাবে অথবা ঘর্ষন ছাড়াও উক্ত স্থান গুলোতে ক্ষতের সৃষ্টি হতে পারে।
> পরবর্তিতে ক্ষত স্থান হতে তরল নির্গত হবে এবং জীবানুর সংক্রমনের ফলে উক্ত ক্ষত স্থান হতে রক্ত, পুজ, মরা টিস্যু ইত্যাদি বের হতে পারে।
> ক্ষত স্থানে মাছির উপদ্রপ বেড়ে যাবে।
> আক্রান্ত গরু ব্যাথা অনুভব করবে, ক্ষুধামন্দা দেখা যাবে, দুগ্ধবতী গাভীর দুধের উৎপাদন কমে যাবে।
> ধীরে ধীরে ক্ষত স্থান বড় আকার ধারন করবে।
> ক্ষতের উপরের অংশে ক্যারোটিন জমে শক্ত হয়ে যাবে

রোগ নির্নয়

আক্রান্ত স্থান থেকে Skin scraping নিয়ে ল্যাবে পরীক্ষার মাধ্যমে এ রোগের জীবানু নির্নয় করা যায় অথবা এ রোগের ইতিহাস ও উল্লেখযোগ্য লক্ষন দেখে এ রোগ নির্নয় করা যায়।

সম্ভাব্য পদক্ষেপ
প্রানী চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রযোজ্য

® আইভারমেকটিন গ্রুপের inj: Clomectin-c 50ml (komipharma, korea) 1cc/50kg b wt হিসাবে ২৮ দিনের ব্যবধানে দুই ডোজ দিতে হবে।

® Pow: Nigotox vet 10gm (Chemist Lab: LTD) 5gm পাউডার এবং 50gm Vasline একত্রে মিশিয়ে মলম বানিয়ে ক্ষত স্থানে দিনে ২ বার ৩-৫ দিন লাগাতে হবে।
এবং ২ গ্রাম নিগোটক্স পাউডার এক লিটার পানিতে মিশিয়ে চোখ ও মুখ বাদ দিয়ে সারা শরীরে স্প্রে করতে হবে পরপর ৫-৭ দিন।
মলম লাগানোর পুর্বে ক্ষত স্থান কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে শুকনো কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে।

® এন্টিহিষ্টামিন inj: Niravet 10ml (Opsonin) 1cc/20-30kg b wt অনুযায়ী প্রতিদিন মাংশে ৩-৫ দিন দিতে হবে।

® ক্ষত স্থানে মাছি যাতে বসতে না পারে এজন্য ক্ষতের চারপাশে তারপিন তেল লাগিয়ে রাখতে হবে, প্রয়োজনে কাপড় বা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে।

প্রতিরোধ

> নিয়মিত ৩-৪ মাস পরপর গরুকে আইভারমেকটিন গ্রুপের injection প্রয়োগ করে এ রোগ প্রতিরোধ করা যায়।
> মাছির উপদ্রপ কমাতে হবে।

Information & treatment by Dr Jalal Uddin (DVM)

এস এম রাসেল( সততা ডেইরী ফার্ম )

About admin

Check Also

আমি ফ্যাসিওলা বলছি…(কলিজা কৃমি)

আমি ফ্যাসিওলা বলছি… 🙄🙄🙄🙄🙄🙄🙄   আমাকে চিনতে পারছেন? আমি লিভার ফ্লুক/কলিজা কৃমি। অন্ত্রে বসবাসকারী যত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Call Now