ভ্যাক্সিন সিডিউল ১৩টি ফ্যাক্টরের উপর নির্ভর করে।অথচ তা মানা হচ্ছে না তাই ভ্যাক্সিন ভাল কাজ করছে না।

পোল্ট্রির ভ্যাকসিন সিডিউল কেন এক রকম হওয়া উচিত নয়? ভ্যাকসিন সিডিউল নির্ভর করে ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর

অনেক খামারি মনে করেন, সব ফার্মের জন্য একটি ভ্যাকসিন সিডিউলই যথেষ্ট। বাস্তবে এটি সঠিক নয়। একটি ফার্মে কার্যকর যে ভ্যাকসিন সিডিউল, অন্য ফার্মে সেটি একইভাবে কার্যকর নাও হতে পারে।

ভ্যাকসিন সিডিউল সব সময় ফার্মভিত্তিক (Farm Specific) হওয়া উচিত। কারণ প্রতিটি খামারের রোগের ইতিহাস, ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ, বাচ্চার উৎস এবং ঝুঁকি এক নয়।

তবে একই এলাকার কাছাকাছি একাধিক ফার্মে যদি একই রোগের ঝুঁকি থাকে, তাহলে সমন্বিত ভ্যাকসিন কর্মসূচি অনুসরণ করলে ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে।


কেন একই ভ্যাকসিন সিডিউল সব খামারে প্রযোজ্য নয়?

অনেক সময় দেখা যায়—

  • অন্যের সিডিউল কপি করে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।
  • প্রয়োজন না থাকলেও অতিরিক্ত ভ্যাকসিন ব্যবহার করা হয়।
  • বুস্টার ডোজ সম্পূর্ণ করা হয় না।
  • রোগের ইতিহাস বিবেচনা করা হয় না।

ফলে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা কমে যায় এবং অপ্রয়োজনীয় খরচও বৃদ্ধি পায়।


খামারিদের সাধারণ ভুল

  • ব্রিডার ফ্লকের জন্য নির্ধারিত কিছু ভ্যাকসিন কমার্শিয়াল ফার্মে ব্যবহার করা।
  • ব্রয়লারের ভ্যাকসিন লেয়ারে ব্যবহার করা।
  • হ্যাচারিতে প্রয়োগকৃত ভ্যাকসিন পুনরায় অপ্রয়োজনীয়ভাবে দেওয়া।
  • রোগ না থাকলেও শুধুমাত্র অন্যের পরামর্শে ভ্যাকসিন ব্যবহার করা।
  • প্রয়োজনীয় বুস্টার ডোজ সম্পূর্ণ না করা।
  • ডিম উৎপাদন শুরু হওয়ার পর EDS ভ্যাকসিন দেওয়া।

ভ্যাকসিন সিডিউল নির্ধারণের ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

১। কোন কোন রোগের বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন প্রয়োজন

প্রথমেই নির্ধারণ করতে হবে কোন রোগের বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন প্রয়োজন এবং সেই ভ্যাকসিন দেশে সহজলভ্য কিনা।

২। এলাকার রোগের ইতিহাস

যে এলাকায় যে রোগ বেশি দেখা যায়, সেই রোগকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভ্যাকসিন পরিকল্পনা করতে হবে।

৩। দেশের সামগ্রিক রোগ পরিস্থিতি

দেশে কোন রোগ বেশি ছড়াচ্ছে, সেটিও ভ্যাকসিন সিডিউল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।

৪। ভ্যাকসিন দেওয়ার সঠিক সময়

সব ভ্যাকসিন সব বয়সে কার্যকর নয়। কিছু ভ্যাকসিন নির্দিষ্ট বয়সেই সর্বোচ্চ কার্যকারিতা দেখায়।

৫। বাজারে থাকা ভ্যাকসিনের ধরন ও স্ট্রেইন

একই রোগের জন্য বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন প্রযুক্তি ও স্ট্রেইনের ভ্যাকসিন থাকতে পারে। তাই উপযুক্ত ভ্যাকসিন নির্বাচন জরুরি।

৬। নিজের ফার্মের রোগের ইতিহাস

আগের ব্যাচে কোন রোগ হয়েছে, কখন হয়েছে এবং কতবার হয়েছে—এসব তথ্য ভবিষ্যৎ ভ্যাকসিন পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ।

৭। আশপাশের খামারের অবস্থা

পাশের খামারে কোন রোগ চলছে তা বিবেচনা করলে রোগ প্রতিরোধ সহজ হয়।

৮। ঋতু বা মৌসুম

শীত, বর্ষা ও গ্রীষ্মে রোগের প্রকোপ এক রকম থাকে না। তাই মৌসুমভিত্তিক ঝুঁকি বিবেচনা করা উচিত।

৯। ফিল্ড স্ট্রেইনের সঙ্গে ভ্যাকসিনের মিল

ভ্যাকসিনের স্ট্রেইন ও মাঠে চলমান রোগজীবাণুর স্ট্রেইনের মধ্যে মিল থাকলে কার্যকারিতা বেশি হয়।

১০। ভৌগোলিক অবস্থান

এক জেলা, এক দেশ বা এক অঞ্চলের রোগ পরিস্থিতি অন্য এলাকার থেকে ভিন্ন হতে পারে।

১১। মুরগির ধরন

ব্রিডার, লেয়ার, ব্রয়লার, সোনালী বা কালার বার্ড—প্রতিটির রোগের ঝুঁকি ও ভ্যাকসিন সিডিউল ভিন্ন হতে পারে।

১২। হ্যাচারিতে দেওয়া ভ্যাকসিন ও মাতৃপ্রদত্ত অ্যান্টিবডি (MDA)

হ্যাচারিতে কোন ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে এবং বাচ্চার MDA কতদিন থাকবে—এ তথ্য জানা থাকলে বিশেষ করে গাম্বোরো ভ্যাকসিনের সময় নির্ধারণ সহজ হয়।

১৩। কোম্পানির প্রযুক্তি ও নির্দেশনা

একই রোগের জন্য বিভিন্ন কোম্পানির ভ্যাকসিনের প্রযুক্তি, ডোজ, রুট ও সিডিউল ভিন্ন হতে পারে। তাই প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা এবং অভিজ্ঞ ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ অনুসরণ করা উচিত।


গাম্বোরো (IBD) ভ্যাকসিন দেওয়ার সময় কী কী বিষয় গুরুত্বপূর্ণ?

গাম্বোরো ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা প্রধানত চারটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে—

  • ফার্মে প্রচলিত IBD ভাইরাসের স্ট্রেইন
  • বাচ্চার Maternal Derived Antibody (MDA)
  • ব্যবহৃত ভ্যাকসিনের ধরন
  • ফার্মে সাধারণত কোন বয়সে গাম্বোরো দেখা যায়

MDA-এর মাত্রা না জেনে ভ্যাকসিন দিলে অনেক সময় প্রত্যাশিত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয় না।


ইন্টারমিডিয়েট ও ইন্টারমিডিয়েট প্লাস ভ্যাকসিন

ইন্টারমিডিয়েট ভ্যাকসিন

  • সাধারণত মৃদু স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে কার্যকর।
  • সাইড ইফেক্ট তুলনামূলক কম।
  • MDA বেশি থাকলে কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।

ইন্টারমিডিয়েট প্লাস ভ্যাকসিন

  • শক্তিশালী বা ভিরুলেন্ট স্ট্রেইনের বিরুদ্ধেও কার্যকর হতে পারে।
  • উচ্চ MDA ভেদ করার ক্ষমতা তুলনামূলক বেশি।
  • তবে এটি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত অবশ্যই রোগের ইতিহাস, MDA এবং ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ অনুযায়ী হওয়া উচিত।

উপসংহার

ভ্যাকসিন সিডিউল কখনোই কপি-পেস্ট হওয়া উচিত নয়। প্রতিটি খামারের রোগের ইতিহাস, এলাকার পরিস্থিতি, বাচ্চার উৎস, MDA, ব্যবস্থাপনা ও ল্যাবভিত্তিক তথ্য বিবেচনা করে ভ্যাকসিন পরিকল্পনা করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং অপ্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন ব্যবহারের ঝুঁকি কমে।

Scroll to Top