পোল্ট্রিতে ইন্ট্রাসেলুলার ও এক্সট্রাসেলুলার জীবাণু এবং ইমিউনোসাপ্রেসিভ ভাইরাসের কার্যপ্রণালী
পোল্ট্রির রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জীবাণু শরীরের কোষের ভিতরে (Intracellular) নাকি কোষের বাইরে (Extracellular) অবস্থান করে। কারণ এর উপর নির্ভর করে রোগের প্যাথোজেনেসিস, চিকিৎসা, অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা এবং রোগ প্রতিরোধের কৌশল।
এছাড়া কিছু ভাইরাস সরাসরি রোগ সৃষ্টি করার পাশাপাশি মুরগির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) ধ্বংস করে দেয়। এদেরকে ইমিউনোসাপ্রেসিভ ভাইরাস (Immunosuppressive Virus) বলা হয়।
ইন্ট্রাসেলুলার (Intracellular) ও এক্সট্রাসেলুলার (Extracellular) জীবাণু কী?
- ইন্ট্রাসেলুলার জীবাণু কোষের ভিতরে বংশবিস্তার করে।
- এক্সট্রাসেলুলার জীবাণু কোষের বাইরে টিস্যু বা শরীরের তরলে বৃদ্ধি পায়।
এই পার্থক্য চিকিৎসা ও রোগ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভাইরাস: সবই ইন্ট্রাসেলুলার
সব ভাইরাসই বেঁচে থাকার এবং বংশবিস্তার করার জন্য জীবন্ত কোষের উপর নির্ভরশীল। তাই সব ভাইরাসই Obligate Intracellular Parasite।
পোল্ট্রির গুরুত্বপূর্ণ ভাইরাসসমূহ:
- Newcastle Disease (ND)
- Avian Influenza (AI)
- Infectious Bronchitis (IB)
- Fowl Pox Virus
- Adenovirus
- Marek’s Disease Virus
- Infectious Bursal Disease Virus (IBD)
- Chicken Infectious Anaemia Virus (CIA)
- Reovirus
এক্সট্রাসেলুলার ব্যাকটেরিয়া
এসব ব্যাকটেরিয়া সাধারণত কোষের বাইরে বৃদ্ধি পায় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিকে ভালো সাড়া দেয়।
উদাহরণ:
- Pasteurella multocida (ফাউল কলেরা)
- Escherichia coli (E. coli)
- Avibacterium paragallinarum (কোরাইজা)
- Streptococcus spp.
- Staphylococcus spp.
ইন্ট্রাসেলুলার ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য অণুজীব
এরা কোষের ভিতরে অবস্থান করতে পারে, ফলে রোগ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং চিকিৎসা তুলনামূলক কঠিন হয়।
উদাহরণ:
- Coccidia (কক্সিডিওসিস)
- Salmonella spp.
- Mycoplasma spp.
- Listeria spp.
- Shigella spp.
- Brucella spp.
- Coxiella spp.
- Chlamydia spp.
- Yersinia spp.
দ্রষ্টব্য: Mycoplasma-এর কোষপ্রাচীর (Cell wall) নেই এবং এটি কোষের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থেকে সংক্রমণ ঘটায়। Salmonella এবং Chlamydia প্রকৃত অর্থেই গুরুত্বপূর্ণ Intracellular Pathogen হিসেবে পরিচিত।
ইমিউনোসাপ্রেসিভ ভাইরাস (Immunosuppressive Virus)
ইমিউনোসাপ্রেসিভ ভাইরাস মুরগির রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার বিভিন্ন কোষ ধ্বংস বা দুর্বল করে দেয়। ফলে অন্যান্য ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও পরজীবী সহজেই সংক্রমণ ঘটাতে পারে এবং ভ্যাক্সিনের কার্যকারিতাও কমে যেতে পারে।
বিভিন্ন ইমিউনোসাপ্রেসিভ ভাইরাস কোথায় কাজ করে?
| ভাইরাস | প্রধান টার্গেট |
|---|---|
| Infectious Bursal Disease (IBD) | Bursa of Fabricius-এর B-lymphocyte এবং Peripheral B-cell population ধ্বংস করে |
| Reovirus | B-lymphocyte আক্রান্ত করে |
| Marek’s Disease Virus | B ও T-lymphocyte উভয়কে আক্রান্ত করে |
| Chicken Infectious Anaemia (CIA) | B ও T-lymphocyte ধ্বংস করে |
| Newcastle Disease (ND) | Macrophage ও Tracheal epithelium ক্ষতিগ্রস্ত করে |
| Avian Influenza (AI) | Macrophage ও Tracheal epithelium আক্রান্ত করে |
ইমিউনোসাপ্রেশনের ফলাফল
ইমিউনোসাপ্রেসিভ ভাইরাস সংক্রমণের ফলে—
- ভ্যাক্সিন ফেল হতে পারে।
- E. coli সংক্রমণ বৃদ্ধি পায়।
- Mycoplasmosis তীব্র হয়।
- সালমোনেলোসিসের ঝুঁকি বাড়ে।
- কক্সিডিওসিস জটিল আকার ধারণ করে।
- Necrotic Enteritis হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।
- উৎপাদন ও ওজন কমে যায়।
- মর্টালিটি বৃদ্ধি পায়।
গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত রূপ
- B-Lymphocyte = অ্যান্টিবডি উৎপাদনকারী শ্বেত রক্তকণিকা
- T-Lymphocyte = কোষীয় রোগ প্রতিরোধে কাজ করে
- Macrophage = জীবাণু ধ্বংসকারী প্রতিরক্ষা কোষ
- PP (Peripheral Population) = লিম্ফয়েড অঙ্গের বাইরে থাকা প্রতিরোধী কোষসমূহ
- CIA = Chicken Infectious Anaemia
উপসংহার
পোল্ট্রির অধিকাংশ ভাইরাস কোষের ভিতরে বংশবিস্তার করে এবং কিছু ভাইরাস সরাসরি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ধ্বংস করে ইমিউনোসাপ্রেশন সৃষ্টি করে। অন্যদিকে কিছু ব্যাকটেরিয়া কোষের বাইরে এবং কিছু কোষের ভিতরে অবস্থান করে সংক্রমণ ঘটায়। তাই সঠিক রোগ নির্ণয়, উপযুক্ত ওষুধ নির্বাচন, কার্যকর ভ্যাক্সিনেশন এবং উন্নত বায়োসিকিউরিটি ছাড়া পোল্ট্রি খামারে রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।




