Breaking News

কবুতরের খাবার উপাদান পরিচিতিঃ

কবুতরের খাবার উপাদান পরিচিতিঃ
কবুতর মূলত বীজ জাতীয় খাবার গ্রহন করে৷ বন্য কবুতরের কিছু প্রজাতীর খাদ্যতালিকায় ফলও রয়েছে। আর সব ধরনের কবুতরেরই সবুজ ঘাস বা পাতা বেশ প্রিয়। তবে এই ফল বা ঘাস পাতাকে আমরা তাদের মূল খাবার হিসেবে বিবেচনা করতে পারি না। আমাদের গৃহ পালিত কবুতর মূল খাবার হিসেবে বীজ এর ওপরেই নির্ভরশীল। এই পোস্টের আলোচনা আপাতত এই বীজ খাবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা থাকবে।

কবুতরের খাবারের তালিকায় সাধারনতঃ তিন ধরনের বীজ খাবার দেখা যায়ঃ

(১) কার্বোহাইড্রেট জাতীয় বীজ,
(২) প্রোটিন জাতীয় বীজ এবং
(৩) ফ্যাট জাতীয় বীজ।

(১) কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় শস্য দানাঃ সাধারনভাবে কবুতর শর্করা জাতীয় খাবার খুব পছন্দ করে।এ জাতীয় খাবারে শর্করার আধিক্যের সাথে নিম্ন মানের স্বল্প মাত্রার আমিষ এর উপস্থিতি দেখা যায়। শর্করা জাতীয় খাবারে সাধারনতঃ ভিটামিন কম থাকে। স্বল্প মাত্রার ভিটামিন এ থাকে কিন্তু অনুপস্থিত থাকে ভিটামিন ডি। কিছু পরিমান ভিটামিন বি১ এবং ই থাকলেও ভিটামিন বি২ থাকে স্বল্প মাত্রায়। ফসফরাসের এবং ক্যালশিয়ামের পরিমানও খুব কম থাকে। ধান, ভুট্টা, গম এ ধরনের খাবারের মধ্যে প্রধান।

(২) প্রোটিন বা আমিষ জাতীয় বীজ খাবারঃ
প্রোটিন বা আমিষ হচ্ছে প্রানী দেহের অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান। দেহ কোষ তৈরীর মূল উপাদান বা “বিল্ডিং-ব্লক” নামে পরিচিত আমিষ একই সাথে দেহের জ্বালানী শক্তি হিসেবেও কাজ করে। পুষ্টিমানের দৃষ্টিকোন থেকে আমিষের সব থেকে উল্ল্যেখযোগ্য দিক হচ্ছে এর এমিনো এসিডের সমাহার।
গুরুত্বপূর্ন এমিনো এসিডের ভেতর রয়েছে আর্জিনিন, ফেনাইলালিন, হিস্টাডাইন, ইসোলিউসাইন, লিউসাইন, লাইসিন, মিথাইওনিন, থ্রিওনিন, ট্রিপ্টোফেন, ভালিন ইত্যাদি।

কবুতরের জীবনচক্রের প্রতিটি ধাপে এসব এমিনো এসিড গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালনে করে। এদের ভেতর কিছু এমিনো এসিড আছে যেগুলো কবুতরের স্বাভাবিক খাদ্য তালিকার উপাদানগুলোতে একেবারেই অনুপস্থিত থাকে, যেমন মিথাইওনিন এবং লাইসিন। আবার সব খাদ্যোপাদানে সব এমিনো এসিড যথেষ্ট পরিমানে থাকে না। একারনে অনেক ধরনের আমিষ জতীয় খাদ্যোপাদানের উপস্থিতি কবুতর সুস্থ সবল রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরী।

সাধারনতঃ জন্ম নেবার পর প্রথম মাসে, মোল্টিং এবং ব্রীডিং কালীন সময়ে আমীষের চাহিদা থাকে সর্বোচ্চ। ব্রীডিং এবং মোল্টিং এর প্রয়োজন পুরনের জন্য খাবার মিক্সে নুন্যতম ৩০ থেকে ৩৫ % প্রোটিন জাতীয় খাবার উপাদানের সমাবেশ থাকা উচিত বলে মনে করি৷ ১ থেকে ৬ মাস কালীন বয়সের সময় (বাড়ন্ত অবস্থায়, আমিষের চাহিদা থাকে মাঝারী)। মোট খাবারের ২৫-৩০% থাকা উচিত।

এছাড়াও পার্ফর্মেন্স কবুতরের জন্য লম্বা সময় ফ্লাইয়িং এর পরে ক্লান্ত ডানা এবং দেহ কোষের পুনর্গঠন এবং সজীব করার জন্য প্রোটিনের প্রবল চাহিদার সৃষ্টি হয়।

(৩) ফ্যাট বা তেল জাতীয় বীজ খাবারঃ
কারো জন্য খুব দরকারী কারো জন্য বীষ 😇 আবার কারো জন্য সৌন্দর্য। ফেন্সি কবুতরের জন্য সৌন্দর্য বর্ধক, হাই ফ্লাইং গিরিবাজের বড় শত্রু আর রেসিং হোমারের ক্ষেত্রে মিড ডিস্ট্যান্স থেকে শুরু করে লং ডিস্ট্যান্স রেস করার জন্য অপরিহার্য৷

শীতের দিনে কবুতরকে গরম রাখতে কিছু ফ্যাট খুব উপকারী।

#কার্বোহাইড্রেট_বা_শর্করা_জাতীয়_শস্য_দানা

(১) #ভুট্টাঃ খুব সম্ভবতঃ কবুতরের সব থেকে ভালো খাবারগুলোর ভেতর অন্যতম। রঙ এবং সাইজ যাই হোক কবুতরের পছন্দ তালিকায় ১ নম্বরে থাকে ভুট্টা। কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবারের ভেতর সর্বোচ্চ ক্যালরীর যোগান এই পছন্দের একটা কারন হতে পারে। সহজে হজমযোগ্য হলেও এতে প্রোটিনের পরিমান খুবই কম এবং দুটি প্রধান এমিনো এসিডের অনুপস্থিতির কারনে এর মান অত্যন্ত নিম্ন। তবে শর্করা খাবারগুলোর ভেতর সব থেকে বেশী পরিমান ফ্যাট বা চর্বির যোগান দিতে সক্ষম।

আমাদের দেশে সাধারনতঃ হলুদ ভুট্টাই সচরাচর দেখা যায়। তবে লাল ভুট্টাতে ভিটামিন এ এর পরিমান অনেক বেশী থাকে।

ক্যালরীঃ ৩৬৫
কার্বোহাইড্রেটঃ ৭৪
প্রোটিনঃ ৯.৪৭
ফ্যাটঃ ৪.৭৪
ফাইবারঃ ৭.৩

সামগ্রিক পুষ্টিগুনের বিচারে সর্বোচ্চ, ২৫-৩০% পর্যন্ত ব্যবহার করা যেতে পারে।

ভুট্টাতে জন্ম নেয়া ছত্রাক এর প্রতি একটু সতর্ক থাকা দরকার। ব্যবহারের আগে চুলাতে হাল্কা গরম করে নিলে সাধারনত আর ভয় থাকে।

আমাদের দেশে পপকর্ন এবং ভুট্ট ভাঙ্গা খুব জনপ্রিয় হলেও শুকনা ভুট্টার তুলানায় পপকর্নের খাদ্যমান অনেক কম। অন্যদিকে ভুট্টা ভাঙ্গাতে জন্ম নেয়া ছত্রাক থেকে বিভিন্ন ধরনের রোগ সংক্রমন দ্রুত হয়। একারনে পপকর্ন এবং ভুট্টা ভাঙ্গা এড়িয়ে শুকনা ভুট্টা দেয়া শ্রেয়। যদিও অনেকে মনে করেন ফেন্সি এবং গিরিবাজ জাতীয় কবুতর আস্ত ভুট্টা খায় না বা খেতে পারে না। কিন্তু দুয়েকটি প্রজাতী ছাড়া অন্য সব কবুতরকে চেষ্টা করলেই ভুট্টা খাওয়ার অভ্যাস করা সম্ভব।

(২) #গমঃ কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় খাবার।

ক্যালরীঃ ৩২৭
কার্বোহাইড্রেটঃ ৭১
প্রোটিনঃ ১২.৬
ফ্যাটঃ ১.৫৪
ফাইবারঃ ১২.২

কবুতরের প্রিয়, দামে কম এই খাবারটি খুব সম্ভবত ফেন্সিয়ারদের ভেতর সব থেকে জনপ্রিয় খাবারগুলোর একটি। যদিও হাইফ্লাইয়ার ফেন্সিয়ারদের কাছে খুব একটা জনপ্রিয় নয় তথাপি সব ধরনের কবুতরের জন্য আদর্শ একটি খাবার। সহযলভ্য। সাধারন ভাবে সর্বোচ্চ ৩৫% পর্যন্ত ব্যবহার করা যেতে পারে।

শর্করা ছাড়াও উচ্চ পরিমান ফাইবার সমৃদ্ধ গম অনেক ধরনের ভিটামিন এবং মিনারেলস যোগান দিতে সক্ষম। তবে কি পরিমান এবং কি ধরনের ভিটামিন এবং মিনারেলস যোগান দিবে সেট মূলত নির্ভর করে এর চাষ ভূমি এবং অঞ্চলের ওপর। ভিটামিন এ, কে, প্যান্থোথেনিক এসিড, সেলেনিয়াম, ম্যাংগানিজ, ফসফরাস, কপার, ফোলেট ইত্যাদিতে সমৃদ্ধ।

লাল এবং সাদা এই দুই ধরনের গম বাজারে দেখা যায়। এছাড়াও একধরনের চিকন লাল গম পাওয়া যায় যা অনেক যায়গায় মুছি গম বা মাছি গম নামে পরিচিত। মুছি গমে ফ্যাট এর পরিমান কম থাকে।

সাদা গমে ধুলাবালি কম থাকার কারনে অনেকেই লাল গমের থেকে সাদা গমকে প্রাধান্য দেন। কিন্তু সাদা গমের তুলনায় লাল গমের পুষ্টিগুন অনেক বেশী।

(৩) #জবঃ কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় খাবার।

ক্যালরীঃ ৩৫৪
কার্বোহাইড্রেটঃ ৭৭
প্রোটিনঃ ৯.৯
ফ্যাটঃ ১
ফাইবারঃ ১৭

এটি কবুতরের পছন্দের তালিকায় সব থেকে নীচের দিকের একটি খাবার। কিন্তু উড়ানো যাদের নেশা তাদের পছন্দের তালিকায় ওপরের দিকে স্থান, বিশেষকরে উড়ানোর মৌসুম শুরু হবার আগে এর প্রচুর চাহিদা দেখা যায়। রেসের মৌসুমে রেসিং কবুতরের খাবার মিক্সে একটি অপরিহার্য উপাদান। অতি উচ্চ ফাইবার যুক্ত এই খাবারটি মৌসুম শুরুর দিকে কবুতরের দেহ থেকে বারতি মেদ ঝড়াতে এবং মৌসুম চলাকালীন সময় মেদ জমা নিয়ন্ত্রনে গ্রুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখে।

উচ্চ ফাইবার যুক্ত হবার কারনে এটি #ক্লিন্সিং আইটেম হিসেবেও গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখে। এছাড়াও এর ক্যালোরীর পরিমানো অনেক গুরুত্ব বহন করে। জবে আছে ক্যালশিয়াম, আয়রন, ভিটামিন বি৬, ম্যাগ্নেশিয়াম, থায়ামিন, নায়াসিন, ফসফরাস, জিংক, কপার এর মতো গুরুত্বপূর্ন ভিটামিন এবং মিনারেলস।

অনেকের মতে জব কবুতরের উৎপাদন ক্ষমতা কমিয়ে দেয় বা ক্ষতিগ্রস্থ করে। তাই ব্রীডিং মিক্সে এটা ব্যবহার না করাই ভালো।

আমাদের দেশে খোশা ছাড়ানো ওব খুব একটা দেখা যায় না।

সিজন ভেদে ৫ থেকে ২৫% পর্যন্ত ব্যবহার করা যেতে পারে।

সাধারনতঃ শীতের শুরুর দিকে ঢাকা এবং চিটাগাঙ এর বাজার গুলোতেই এটা পাওয়া যায়। অন্যান্য স্থানে খুবই দুর্লভ।

(৪) #বাকহুইটঃ কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় খাবার।

ক্যালরীঃ ৩৪৩
কার্বোহাইড্রেটঃ ৭১
প্রোটিনঃ ১৩.২৫
ফ্যাটঃ ৩.৪
ফাইবারঃ ১০

মূলতঃ আমাদের দেশে আমদানী নির্ভর এই খাবারটির খাদ্যমান সাধারন গমের থেকে ভালো এবং কবুতরের পছন্দনীয় হলেও দাম এর বিচারে খুব একটা জনপ্রিয় নয়। রেসিং কবুতরের খাদ্য মিক্সে বৈচিত্র আনার জন্যই মূলত রেসিং সিজনে এর কিছুটা চাহিদা দেখা যায়।

দামের বিবেচনায় বৈচিত্র আনার জন্য ১ থেকে ২.৫% দেয়া যেতে পারে। মূল খাদ্য বিবেচনায় সর্বোচ্চ ২৫% পর্যন্ত দেয়া যেতে পারে।

(৫) #ধানঃ কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় খাবার।

ক্যালরীঃ ৩৫৮
কার্বোহাইড্রেটঃ ৭৮
প্রোটিনঃ ৯
ফ্যাটঃ
ফাইবারঃ

দামে কম, সহজলভ্য এই খাবারটি খুব সম্ভবত ফেন্সিয়ারদের ভেতর সব থেকে জনপ্রিয় খাবার। হাইফ্লাইয়ার ফেন্সিয়ারদের কাছে শুধু অপরিহার্যই নয়, এটি ছাড়া প্রায় অচল। এর উচ্চ ফাইবার কবুতরের মেদ নিয়ন্ত্রনে এবং কবুতরকে হাল্কা রাখতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

হাইফ্লাইয়িং এর জন্য ৪০ থেকে ৭০/৮০% ধান ব্যবহার হতে দেখা যায়, অন্যদিকে রেসিং এর জন্য ৫ থেকে ২৫% পর্যন্ত ব্যবহার দেখা যায়। অভিজ্ঞ ভাইয়েরা ব্রীডিং এর কবুতরের জন্য ধান এড়াতে পরামর্শ দেন। তবে অনেক ফেন্সিয়ার গিরিবাজ ব্রীডিং এর ক্ষেত্রেও উচ্চ রেশিওতে ধান ব্যবহার থেকে পিছিয়ে থাকেন না।

বাজারে বিভিন্ন মানের, সাইজের এবং দামের ধান পাওয়া যায়।

(৬) #চালঃ কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় খাবার।

ক্যালরীঃ ৩৬২
কার্বোহাইড্রেটঃ ৭৬
প্রোটিনঃ ৭.৫
ফ্যাটঃ ২.৭
ফাইবারঃ

ধান এবং চালের ভেতর মূল পার্থক্য ফাইবারে। ধানে যেখানে উচ্চ মাত্রার ফাইবার উপস্থিত সেখানে চালে এর পরিমান কম।

২.৫% থেকে ১০% পর্যন্ত দেয়া যেতে পারে।

সিদ্ধ এবং আতপ দুই ধরনের চালই কবুতরের পছন্দ। রেসিং মিক্সে এমনকি বাঁশমতি চাল এর উপস্থিতিও দেখা যায়, যা সাধারন ফেন্সিয়ারদের জন্য অলীক কল্পনা 😇

(৭) #বাজরাঃ কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় খাবার।

ক্যালরীঃ ৩২৯
কার্বোহাইড্রেটঃ ৭৫
প্রোটিনঃ ১১.০৩
ফ্যাটঃ ৩.৩
ফাইবারঃ ৬.৩

আমাদের দেশে যা বাজরা নামে পরিচিত প্বার্শবর্তী দেশ ভারতে সেটা জোয়ার নামে পরিচিত। ভারতে বাজরা নামে যে খাবার পাওয়া যায় সেটা আমাদের দেশে পাওয়া যায় না। ভারতে যেটা বাজরা নামে পরিচিত সেটা জোয়ার (আমাদের দেশে বাজরা নামে পরিচিত) থেকে তুলনামূলকভাবে কিছুটা ভালো খাদ্যোপাদানের যোগান দিতে সক্ষম।

কম তেল এবং ধান, গম, ভুট্টার তুলনায় সামান্য বেশী পরিপান প্রোটিন এর উৎস। উড়ানোর কবুতরের জন্য গমের অপেক্ষা বেশী পছন্দনীয়। সকালের হাল্কা নাস্তার জন্য আদর্শ। রেসিং এর জন্য অন্যতম প্রধান খাবার। মোট খাবারের ১০ থেকে ২৫% পর্যন্ত ব্যবহার দেখা যায়।

সাদা, ঘিয়া এবং লাল এই তিন ধরনের বাজরা আমাদের এখানে দেখতে পাওয়া যায়। দাম ৪০/৪৫ থেকে ৬৫/৭৫ পর্যন্ত হতে পারে।

(৮) #চিনা_মিলেটঃ কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় খাবার।

ক্যালরীঃ ৩৭৮
কার্বোহাইড্রেটঃ ৭৩
প্রোটিনঃ ১১
ফ্যাটঃ ৪.২
ফাইবারঃ ৯

কবুতরের জন্য খুব উপকারী এবং পছন্দনীয় একটি খাবার। কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবারগুলোর ভেতর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ফ্যাট এবং প্রটিন যোগান দেয়। সাধারনতঃ ক্যালশিয়াম সমৃদ্ধ হয়। উড়ানোর কবুতরের জন্য অত্যাবশ্যক একটি খাবার। ৫ থেকে ১৫% এর বেশী সাধারনতঃ ব্যবহার করা হয় না।

আমাদের দেশী প্রজাতী চিনা নামে সুপরিচিত। বিদেশী প্রজাতীগুলো মিলেট নামে পরিচিত এবং বিভিন্ন রঙ এর হয়। লাল, কালো, হলুদ এবং সাদা রঙ এর বিদেশী মিলেট দেখা যায়।

চিনা ২৫/৩০ টাকা থেকে ৪৫/৫০ পর্যন্ত দাম দেখা যায়। বিদেশী মিলেট ৭০/৭৫ থেকে ১৪০/১৫০ পর্যন্ত দামে বিক্রয় হয়।

(৯) #ক্যানারীঃ কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় খাবার।

ক্যালরীঃ ৩১৫
কার্বোহাইড্রেটঃ ৫৬
প্রোটিনঃ ১৩.১৫
ফ্যাটঃ ৪.২৯
ফাইবারঃ

ক্যালোরী এবং শর্করার কম উপস্থিতি, উচ্চ মূল্য এসব কারনে খুব একটা জনপ্রিয় নয়। তবে ব্রোডিং এর মিক্সে খুব গ্রুরুত্ব বহন করতে সক্ষম কবুতরের প্রিয় এই খাবার। এছাড়াও রেসিং এর জন্য ছোটদানার মিক্সেও এর উপস্থিতি দেখা যায়। খাবারে বৈচিত্র আনতে পারে এর উপস্থিতি।

সর্বোচ্চ ২.৫% ব্যবহারযোগ্য।

#প্রোটিন_বা_আমিষ_জাতীয়_বীজ_খাবার_সমূহঃ

(১০) #ডাবলিঃ প্রোটিন জাতীয় খাবার।

ক্যালরীঃ ৩৪১
কার্বোহাইড্রেটঃ ৬০
প্রোটিনঃ ২৫
ফ্যাটঃ ১.২
ফাইবারঃ ২৬

কবুতরের সব থেকে বেশী পছন্দর খাবারের ভেতর একটি। স্বল্প মূল্য হবার কারনে একটি আদর্শ প্রটিন জাতীয় খাবার।

বড় এবং ছোট দুই ধরনের ডাবলি বাজারে পাওয়া যায়। সাধারনতঃ ছোট ডাবলিটা অধিকাংশ কবুতরের পছন্দ।

(১১) #এংকরঃ প্রোটিন জাতীয় খাবার।

ক্যালরীঃ ৩৪১
কার্বোহাইড্রেটঃ ৬০
প্রোটিনঃ ২৫
ফ্যাটঃ ১.২
ফাইবারঃ

ডাবলী থেকে উন্নত মানের এই খাবারটি ভালো প্রোটিনের উৎস হলেও দামের কারনে ফেন্সিয়ারদের ভেতর ততটা জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেনি। কবুতরের পছন্দের উপাদান। আদর্শ মিক্সে ৫ থেকে ২৫% পর্যন্ত উপস্থিত থাকতে পারে। অন্যান্য আমিষ জাতিয় খাবারের মতোই কম ফ্যাটযুক্ত।

(১২) #ছোলাবুটঃ প্রোটিন জাতীয় খাবার।

ক্যালরীঃ ৩৬৪
কার্বোহাইড্রেটঃ ৬১
প্রোটিনঃ ১৯
ফ্যাটঃ ৬
ফাইবারঃ ১৭

উচ্চ ক্যালরী আর তুলনামূলক বেশী ফ্যাট যুক্ত খাবার। ভালো প্রোটিনের উৎস। কবুতরের পছন্দের তালিকায় মাঝের দিকে। অভ্যাস তৈর করতে পারলে এটি একটি দাতুন খাবার, যদিও দামের হিসেবে ডাবলির থেকে পিছিয়ে।

সোডিয়াম এবং পটাশিয়াম ছাড়াও ক্যালশিয়াম, সামান্য ভিটামিন সি এর সাথে উচ্চ মাত্রায় আয়রন, ভিটামিন বি৬ এবং ম্যাগনেশিয়াম আছে।

বড় এবং দেশী ছোট এই দুই ধরনের ছোলা বুট বাজারে পাওয়া যায়।

(১৩) #মুগডালঃ প্রোটিন জাতীয় খাবার।

ক্যালরীঃ ৩৬৭
কার্বোহাইড্রেটঃ ৬৩
প্রোটিনঃ ২৪
ফ্যাটঃ ১.২
ফাইবারঃ ১৬

ছোট দানার এই খাবারটি কিবুতরের খুব প্রিয়। উচ্চ মূল্যের কারনে সাধারন মিক্সে এর উপস্থিতি খুব একটা দেখা যায় না। কিন্তু এতে বিদ্যমান এন্টি অক্সিডেন্ট, ভিটামিন বি, এবং অন্যান্য মিনারেলেস এর কারনে মিক্সে এর উপস্থিতি কবুতরের খাদ্যমান অনেক বাড়িয়ে দেয়।

(১৪) #মুশুরিঃ প্রোটিন জাতীয় খাবার।

ক্যালরীঃ ৩৫৩
কার্বোহাইড্রেটঃ ৬০
প্রোটিনঃ ২৬
ফ্যাটঃ ১.১
ফাইবারঃ ৩১

ডাল জাতীয় খাবারের ভেতর সর্বোচ্চ ক্যালরী এবং প্রটিনের যোগান দাতা। ছোলাযুক্ত আস্ত মুশুরী খিব পছন্দের একটি খাবার।

(১৫) #রেজাঃ প্রোটিন জাতীয় খাবার।

ক্যালরীঃ ১৫০*
প্রোটিনঃ ২৫*

স্বল্প মূল্য, সহয লভ্য এই খাবারটি খুব ভালো একটি খাবার। যদিও এর ব্যবহার নিয়ে ফেনসিয়ারদের ভেতর দ্বি-মত রয়েছে। অনেক ফেন্সিয়ার এর মতে রেজা খাওয়ালে কবুতরের সাল্মোনেলাসিস রোগ বেশী হয়। এসম্পর্কিত কোন বৈজ্ঞানিক গবেষনার অভাবে এর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব নয়। তবে আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে এই ধারনাটা সঠিক নয়। সাল্মোনেলার জীবানু কোন খাবারের ভেতর বেচে থাকতে পারে এমন কোন কিছু আমার জানা নেই। আমার ধারনা যদি কিছু সমস্যা থাকে তবে সেটা রেজার সাথে মিশে থাকা ধুলা বালির সাথে। আমি দীর্ঘ দিন ধরে রেজা খাওয়াচ্ছি কোন সমস্যা ছাড়াই।

(১৬) #সবুজ_মটরঃ প্রোটিন জাতীয় খাবার।

ক্যালরীঃ
প্রোটিনঃ

খাবারে বৈচিত্র আনতে খুব ভালো উপাদান। উচ্চ প্রোটিন, খুব সামান্য তেল এবং অল্প পরিমান কার্বোহাইড্রেট এর যোগান দেয়।

দামঃ ৪০/৪৫ থেকে ৫৫/৬০ টাকা দাম দেখা যায়।

(১৭) #ফেলনঃ প্রোটিন জাতীয় খাবার।

ক্যালরীঃ ৩৪৩
প্রোটিনঃ ২২

কবুতরের মাঝারি পছন্দের মধ্যে পড়ে। খাদ্যে বৈচিত্র আনার জন্য পছন্দনীয়।

(১৮) #কালিমটরঃ প্রোটিন জাতীয় খাবার।

ক্যালরীঃ ৩৩৯
প্রোটিনঃ ২১

কবুতরের পছন্দের তালিকায় নীচের দিকে থাকে। খাদ্যে বৈচিত্র আনার জন্য পছন্দনীয়।

(১৯) #খেসারীঃ প্রোটিন জাতীয় খাবার।

ক্যালরীঃ ৩৪৭
প্রোটিনঃ ২৪

কবুতরের প্রিয়। খাবারে বৈচিত্র আনার জন্য এবং ব্রীডিং মিক্সের জন্য আদর্শ একটি খাবার।

(২০) #মাষকলাইঃ প্রোটিন জাতীয় খাবার।

ক্যালরীঃ
প্রোটিনঃ

কবুতরের প্রিয়। খাবারে বৈচিত্র আনার জন্য এবং ব্রীডিং মিক্সের জন্য আদর্শ একটি খাবার।

#ফ্যাট_বা_তেল_জাতীয়_বীজ_খাবার_সমূহঃ

(২১) #তিসীঃ কবুতরের তেল জাতীয় খাবারের ভেতর সব থেকে গুরুত্বপূর্ন উপাদান।

ক্যালরীঃ ৫৩৪
ফ্যাটঃ ৪২

যদিও অনেকে কুসুম ফূলের বীজ, সূর্যমূখীর বীজ এবং সরিষাকে তেল জাতীয় খাবারের মূল উপাদান মনে করেন কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে যে তিসীতে অন্যান্য তেল বীজের মতো ওমেগা ৬ এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত ওমেগা ৩ আছে যা অন্য কোন তেল বীজে নেই। একারনে খাবারে পর্যাপ্ত পরিমান তিসীর উপস্থিতি ওমেগা রেশিওতে ভারসাম্য আনতে সব থেকে বেশী গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখে। ওমেগা ৬ এবং ওমেগ ৩ এর রেশীও বিভিন্ন ধরনের ক্রনিক রাওগ প্রতিরোধে গ্রুরত্বপূর্ন ভূমিকা রাখে। অনেকে অভিজ্ঞ ফেন্সয়ার তিসী এবং অন্যান্য তেল বীজের মিশ্রনকে ১ঃ১ অনুপাতে দেয়ার ওপর প্রাধান্য দেন।

এছাড়াও তিসী বীজ খুব উন্নত এমিনো এসিড সমৃদ্ধ প্রোটিনের যোগান দেয়।

মৌসুম, অঞ্চল এবং মান ভেদে ৮০/৯০ টাকা কেজি থেকে শুরু করে ১১০/১৩০ হতে পারে।

(২২) #সরিষাঃ কবুতরের খুব পছন্দর একটি তেল জাতীয় খাবার।

ক্যালরীঃ ৫০৮
ফ্যাটঃ ৩৬

শীতে অপরিহার্য। থরের কবুতরের অন্যতম পছন্দনীয় একটি খাবার। সহযে হজম যোগ্য। লাল সরিষা সাদা, হলুদ এবং কালো সরিষার থেকে বেশী উপকার পোয়ছায়।

দাম ৫৫/৬০ থেকে শুরু করে ৭০/৮০ পর্যন্ত হতে দেখা যায়।

(২৩) #কুসুম_ফুলের_বীজঃ তেল জাতীয় খাবার।

ক্যালরীঃ ৫১৭
ফ্যাটঃ ৩৮

পর্যাপ্ত ফাটের পাশা পাশি ভালো মানের প্রোটিন এবং সেই সাথে উচ্চ ক্যালরীর যোগান দেয়। মৌসুম, অঞ্চল এবং মান ভেদে ৬৫/৭০ টাকা কেজি থেকে শুরু করে ১০০/১১০ হতে পারে। বিদেশী গুলো আরো বেশী দামে বিক্রয় হতে পারে। শীতের মৌসুমে অত্যাবশ্যকীয় একটি উপাদান। কবুতরের খুব পছন্দের খাবার।

(২৪) #সূর্যমূখী_বীজঃ তেল জাতীয় খাবার।

ক্যালরীঃ ৫৮৪
ফ্যাটঃ ৫১

কবুতরের খাদ্য তালিকায় সব থেকে বেশী ক্যালরী এবং ফ্যাটের যোগান দিতে সক্ষম এই বীজ। অন্যান্য তেলবীজগুলোর তুলনায় মধ্যম পরিমান প্রোটিন যোগান দেয়।

কালো দেশী বীজের পাশাপাশি স্ট্রাইপ এবং সাদা রঙ এর বিদেশী বীজ বাজারে পাওয়া যায়।

মৌসুম, অঞ্চল এবং মান ভেদে ৮০/৯০ টাকা কেজি থেকে শুরু করে ১১০/১৩০ হতে পারে। বিদেশী গুলো আরো বেশী দামে বিক্রয় হতে পারে। বিদেশী বীজের দাম অপেক্ষাকৃত বেশী।

শীতের মৌসুমে অত্যাবশ্যকীয় একটি উপাদান। তবে বড় দানার এই খাবার এর অভ্যাস না থাকলে কবুতর খেতে চায় না।

(২৫) #হেম্পসীডঃ কবুতরের অতি প্রিয় এক অনন্য খাবার।

ক্যালরীঃ ৫৫৩
ফ্যাটঃ ৪৯

অতি উচ্চ মাত্রার ফ্যাটের যোগান দাতা হিসেবে হেম্পসীডকে তেলজাতীয় খাবার ধরা হলেও একমাত্র সয়াবীন ছাড়া আর অন্য কোন খাবার হেম্পসীডের প্রোটিন এর যোগানে সমকক্ষ নয়। পাশাপাশি ক্যালরী সরবরাহে হেম্পসীডের ওপরে আছে শুধুমাত্র সরিষা।

দামটা সেরকম। কেজি প্রতি ২৬০/২৭০ থেকে ৪৮০/৫০০ টাকা দেখা যায়।

(২৬) #সয়াবীনঃ মূলত প্রোটিন জাতীয় খাবার হিসেবে বিবেচিত হলেও এর ফ্যাট এর যোগান অধিকাংশ তেল বীজের তুলনায় খুব একটা কম নয়।

ক্যালরীঃ ৪৭১
প্রোটিনঃ ৩৫

ড্রপিংস নিয়ন্ত্রনে খাবারে কার্বোহাইড্রেট এবং প্রটিনের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরিত্বপূর্ন একটি উপাদান হিসেবে বিবেচিত। তবে কবুতরের প্রিয় খাবারের তালিকায় এর স্থান নেই। সাম্ভাব্য প্রতিটি ক্ষেত্রে কবুতর সয়াবীন এড়িয়ে যেতে চায় 😂। অন্যদিকে অন্যান্য খাবারের মতো সরাসরি সয়াবীন দেয়া যায় না। একে খাবারে মিক্স করার আগে হাল্কা ভেজে নিতে হয়, যে কারনে খাবারে মিশ্রিত সয়বীনকে #টোস্টেড_সয়াবীন বলা হয়।

দামঃ ৬৫/৭০ থেকে ৮০/৯০ পর্যন্ত হতে পারে।

(২৭) #কালিজিরাঃ তেল জাতীয় খাবার।

ক্যালরীঃ ৩৪৫
ফ্যাটঃ ১৫

তেল জাতীয় খাবারের ভেতর সব থেকে কম ফ্যাটের উপাদান। কিন্তুনের সামগ্রিক উপকারিতা প্রকাশ করতে হকে আলাদা পোস্টের প্রয়োজন হবে। একবার খেতে শুরুবকরলে পরবর্তীতে আর কোন সমস্যা হয় না।

(২৮) #তিলঃ তেল জাতীয় খাবার।

ক্যালরীঃ ৫৭৩
ফ্যাটঃ ৫০

ক্যলোরি, কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন এবং ফ্যাটের সামগ্রিক যোগান বিবেচনায় খুব সম্ভবত কবুতরের খাবার উপাদানগুলোর ভেতর খুব সম্ভবতঃ সব থেকে অবহেলিত খাবার। খুব সামান্য পরিমান তিলের উপস্থিতি খাবারের মানে ব্যপক পরিবর্তন আনতে পারে। শীতের দিনে অপরিহার্য একটি উপাদান।

(২৯) #গুজিতিলঃ তেল জাতীয় খাবার।

ক্যালরীঃ ৫১৫
ফ্যাটঃ ৩৯

দাম এবং খাদ্যমানের তুলনামূলক বিবেচনায় অপরিহার্য বলা যাবে ন। খাবারে বৈচিত্র আনতে দারুন ভুমিকা রাখতে পারে।

(৩০) #বাদামঃ তেল জাতীয় খাবার।

ক্যালরীঃ ৫৬৭
ফ্যাটঃ ৪৯

ক্যালরী এবং ফ্যাটের খনি বলা যেতে পারে কবুতরের অত্যন্ত প্রিয় এই খাবারটিকে। ভিটামিন বি এর উপস্থিতির কারনে ব্রীডিং মিক্সে এর উপস্থিতি দিতে পারে চতুর বুদ্ধি দীপ্ত বেবী। রেসের আগের দিনে কবুতর প্রতি একটি/দুটি করে বাদাম অনেক রেসারের খুব প্রিয় একটা রেসিপি।

এছাড়াও বিভিন্ন রোগে নার্ভাস সাইন প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে

——————————————————————

★★ খাবার মিক্সে কোন বিশেষ উপাদান প্রকৃতপক্ষে কি পরিমান ব্যবহার করা হবে সেটা ফেন্সিয়ারদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং পছন্দ অনুসারে পোস্টে উল্লেখিত পরিমান অপেক্ষা কম বেশী হতে পারে।

★★ পোস্টে উল্লেখিত খাদ্যমান ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত। আমাদের দেশে বাজারে পাওয়া যাওয়া খাবার এর খাদ্যমান এর থেকে ভিন্ন হতে পারে।

★★ কিছু খাবারের খাদ্যমান সম্পর্কে সন্দেহ আছে, সেগুলো * চিহ্ন দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে।

by Abdullah Wahidur Rahman

Please follow and like us:

About admin

Check Also

কবুতরের খাবার

কবুতরের খাবার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা

কবুতরের খাবার/খাদ্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা কবুতরের খাবার হচ্ছে গম, চাউল, কাউন, ধান, খুদ, চিনা সরিষা, …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »
error: Content is protected !!