টার্কির রাইনোট্রাকিয়াইটিস
টার্কির রাইনোট্রাকিয়াইটিস

হিস্টোমোনিয়াসিস(ব্ল্যাক হেড ডিজিজ)

হিস্টোমোনিয়াসিসঃ টার্কির এক মরনঘ্যাতি রোগ
বর্তমানে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল শিল্প হিসেবে বিকাশ পাচ্ছে টার্কি পালন।টার্কি খুব দ্রুত বর্ধনশীল হওয়ায় খুব দ্রুত এই শিল্প  বিকাশ পাচ্ছে।
মোঃ মনিরুল ইসলাম হৃদয়
ডক্টর অফ ভেটেরিনারি মেডিসিন
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

হিস্টোমোনিয়াসিস(Histomoniasis):
হিস্টোমোনিয়াসিস হল টার্কির এক প্রকার প্রোটোজোয়াল রোগ যা Histomonas meleagridis নামক প্রোটোজোয়া দিয়ে হয় যা বাণিজ্যিক ভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ রোগের কারণে টার্কির সিকা এবং যকৃতে প্রদাহ দেখা যায় এবং মাথার ত্বক কালো হয়ে যায়। হিস্টোমোনিয়াসিস এর অন্য নাম এন্টারো হেপাটাইটিস(Entero Hepatitis) এবং ব্ল্যাকহেড(Black Head). Histomonas meleagridis নামক প্রোটোজোয়া পাখির সিকাল কৃমি Heterakis gallinarum এর মধ্যে দিয়া এই রোগ ছড়ায়।জীবাণু প্রথমে কৃমিতে প্রবেশ করে এবং কৃমির ডিমে অবস্থান করে।এইরূপ সংক্রমিত ডিম মলের সাথে বেড়িয়ে এসে খাদ্য এবং পানীয় কে দূষিত করে এবং দূষিত খাদ্য এবং পানীয় এর মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়। হিস্টোমোনিয়াসিস প্রায় সকল দেশেই পাওয়য়া যায়। হিস্টোমোনিয়াসিস টার্কি ছাড়াও মুরগি,হাস,কবুতর,কোয়েল,ময়ূর সহ বিভিন্ন গৃহপালিত এবং বন্য পাখিতে দেখা যায়।

ইতিহাসঃ
১৮৯৩ সালে রোড আইল্যান্ড এ টার্কিতে সর্বপ্রথম হিস্টোমোনিয়াসিস রোগ দেখা যায়।তারপর থেকে আমেরিকাতে টার্কির ভাল ব্যবস্থাপনায় এ রোগের সংক্রমণ কমতে থাকে। হিস্টোমোনিয়াসিস পৃথিবীর সর্বত্রই বিস্তৃত।
লক্ষনঃ
 প্রধাণত ৪ সপ্তাহ  থেকে  ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত অধিক সংবেদনশীল থাকে।
 আক্রান্ত পাখির ক্ষুধামন্দায় ভোগে।
 ঝিমানোভাব,ডানার পালক ঝুলে যায়।
 দৈহিক ওজন ও ডিম উৎপাদন হ্রাস পায়।
 মাথায় সায়ানোসিস(মাথার ত্বক নীলাভ-কালো) হয়।
 মল রক্ত মিশ্রিত হলুদ রঙের হয়।
 হলদে সবুজ রঙের মলত্যাগ করে যকৃতে আক্রান্ত হলে।
 সিকাম স্ফীত হয় এবং ক্ষত সৃষ্টি করে।যার ফলে ব্যথা অনুভব করে।
 তীব্র আক্রান্ত পাখি ৩দিনের মধ্যে মারা যায়।
পোস্ট-মর্টেমঃ
 জীবাণুর লক্ষণ সমুহ সিকাম এবং যকৃতে পাও্যা যায়।
 সিকাম স্ফীত হয় এবং ক্ষত সৃষ্টি করে।
 সিকাতে ক্যাজিয়াস ম্যাসেস থাকে।
 যকৃত গোলাকার হয়ে যায়।
 যকৃতে রক্তকরণ দেখা যায়।
 যকৃতে ১-২ সেমি ব্যাসের ন্যাক্রোটিক ক্ষত পরিলক্ষিত হয়।
চিকিৎসা ও প্রতিরোধঃ
 অসুস্থ টার্কি আলাদা করার মাধ্যমে এই রোগ খুব সহজেই প্রতিরোধ করা যায়।
 বন্য পাখি এবং মাইগ্রেটেডব পাখিকে নিয়ন্ত্রন করতে হবে।
 এন্টিপ্রোটোজোয়াল ড্রাগ ব্যবহার করতে হবে অসুস্থ পাখির ক্ষেত্রে।
 প্রতি কেজি ওজনের জন্য ৩০মিগ্রা করে ৫ দিন খাওয়াতে হবে একটা টার্কির ক্ষেত্রে।
 প্রতি লিটার পানিতে ৪০০ মিগ্রা ডাইমেট্রিডাজোল মিশিয়ে ১০ দিন খাওয়ালে ভাল ফল পাওয়া যাবে।
 ফুরাজোলিডন ৪ লিটার পানির সাথে ১০ গ্রাম মিশিয়ে এবং সাথে ভিটামিন প্রিমিক্স হিসিবে ভিটামিন এ,ডি,ই,কে ৩দিন খাওয়ালে ভাল ফলাফল এবং ৭দিন খাওয়ালে সম্পুর্ণ সুস্থ হয়ে যাবে।
 সিকাল কৃমির জন্য কৃমিনাশক ব্যবহার করতে হবে।
 আক্রান্ত হলে নিকটস্থ ভেটেরিনারি সার্জনের পরামর্শমত চিকিৎসা করান।
তথ্যসূত্রঃ
 Avian Medicine by Prof. Dr. M A Samad
 Poultry Science By McDougald
 Journal of Wild Life Diseases : Lund EE, Chute AM, Wilkins GC (1975). “The wild turkey as a host for Heterakis gallinarum and Histomonas meleagridis”

কারণ

প্রোটোজোয়া।

হিস্টোমোনাস মেলেগ্রিডস

কিভাবে ছড়ায়

দূষিত খাবার ও পানি

পায়খানা

হেটারেকিস গ্যালিনেরাম নামক কৃমি দিয়ে হয়।

কাদের আক্রান্ত করে

মুরগি,টারকি ন্যাসারাল হোস্ট

লক্ষণ

টার্কি বাচ্চায় অনেক মরটালিটি হয়।

বয়স্ক মুরগি থেকে মুরগির বাচ্চা বেশি আক্রান্ত হয়।

টার্কির মাথা কালো হয়ে যায়।

পোস্টমর্টেম

লিভারে বড় গোলাকার নেক্রোটিক এলাকা দেখা যায়।

Circular necrotic areas in liver with crater like center and cheesy cores in ceca.

চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

এন্টিপ্রোটোজোয়াল

কৃমি নাশক দিতে হবে।

About admin

Avatar

Check Also

কোন সিজনে কোন রোগ হয়

কোন সিজনে কোন রোগ হয় এবং কোন পি এইচে কোন রোগ হয়

কোন সিজনে কোন রোগ বেশি হয়: বেশির ভাব রোগ   যে কোন সময় হতে পারে তবে ...

Translate »
error: Content is protected !!