Breaking News

মুরগির ব্রংকাইটিিসঃকারণ,লক্ষণ,পোস্ট মর্টেম,প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা

মুরগির ব্রংকাইটিিসঃকারণ,লক্ষণ,পোস্ট মর্টেম,প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা

১৯৩১ সালে Schalk and Hawan আমেরিকার ডাকোটায় ১ম আই বির রিপোর্ট করেন।১৯৩৬ সালে Beach and Schalm  আই বি আইডেন্টিফাই করেন এবং মাল্টিপল সেরোটাইপ রিপোর্ট করা হয় ১৯৫৬ সালে।নেফ্রোজেনিক আই বি ১৯৬০ সালে আইডেন্টিফাই করেন।

এতে প্রডাকশন প্রায় ২০-৩০% কমে যায় এবং বাচ্ছা আক্রান্ত হলে মৃত্যহার প্রায় ৯০% পর্যন্ত হতে পারে যদি নেফ্রোজেনিক আই বি হয় কিন্তু বয়স্ক মুরগির মৃত্যহার ৫% হতে পারে তবে তা বিরল.নেফ্রোজেনিক আই বি না হলে এত মর্টালিটি হয় না।অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে ক্ষতি করে আই বি।

গ্রোয়িং পিরিয়ডেই বেশি হয় এবং মাইকোপ্লাজমা,লেন্টোজেনিক রানিক্ষেত,ই-কলাই এর সাথে মিক্স ইনফেকশন হলে মর্টালিটি হয়।তবে ব্রয়লারেই সমস্যা বেশি হয়।নেফ্রোজেনিক আই বির ক্ষেত্রে কিডনি এবং শ্বাসনালী ২টি কেই আক্রান্ত করে।ব্রয়লারে নেফ্রোজেনিক ফর্মে আক্রান্ত হলে ৩০% মারা যায় এমন কি মিক্স ইনফেকশন হলে আরো বেশি মারা যায়।আক্রান্ত বাচ্চা প্রডাকশনে আসলে ডিম পাড়ে না ফলস লেয়ার হয় যেগুলোর ওভাম নস্ট হয়ে যায়।

প্রডাকশন মুরগিতে হলে মারা যায় না,ডিম কমে যায় তাছাড়া অধিকাংশ সময় মুরগি স্বাভাবিক প্রডাকশনে আসেনা।আক্রান্ত লেয়ারে ডিম সহজে বাড়ে না বা যদিও বাড়ে তাতে ৩০-৬০ দিন সময় লাগে যা অনেক খামারির পক্ষে সব সময় সম্ভব নয়,এটি অনেক ব্যয়বহুল কারণ খাবার খাবে কিন্তু সে অনুযায়ী ডিম দেয়না.

It is  sudden,rapid,highly contagious diseases of chickens characterized by abnormal respiratory sounds,coughing and sneezing.It is important diseases of young chicks,causing high mortality and Dramatically reduce production in layer.

পরিবেশঃ

আমাদের দেশে প্রায় ৫-১০% ফার্ম ব্রংকাইটিসে আক্রান্ত হয়.দেশি মুরগি থেকে বিদেশি মুরগি বেশি আক্রান্ত হয়.শীতকালে বেশি দেখা যায়.তবে এ আই বা কলেরার সাথে মিক্স ইনফেকশন হিসেবে বেশি হয় যা পরবর্তিতে শুধু আই বি হিসেবে থাকে।

এজেন্টঃ

সিঙ্গেল স্ট্যান্ডেড আর এন এ ভাইরাস।করোনা ভাইরাস,এটি মুরগির লোহিত রক্তকনিকাকে এগ্লুটিনেট করে না যা এন ডি ও এ আই করে।.এর কয়েকটি সেরোটাইপ আছে।IB is highly mutagenicএটি মুরগির বাহিরে কয়েক সপ্তাহে থেকে কয়েক মাস বেঁচে থাকে।প্রায় সব ধরণের জীবাণূ নাশক কাজ করে।পটাসিয়াম পারম্যাংগানেট ০.০১%,এলকোহল ৭০%,ফরমালিন ১% প্রয়োগে এ ভাইরাস নষ্ট হয়

হোস্টঃ

মুরগির  বাচ্চা ন্যাসারাল হোস্ট তবে যে কোন বয়সে হয় এবং সারা পৃথিবীতে দেখা যায়।বাচ্চা বেশি আক্রান্ত হয় এবং মারা যায়।সব বয়সের মুরগি আক্রান্ত হয় কিন্তু বাচ্চা মুরগি বেশি আক্রান্ত হয়.সাদা জাতের মুরগি বেশি আক্রান্ত হয়।আরোগ্য পাখি ১মাস পর্যন্ত বাহক হিসেবে কাজ করে.



প্যাথোজেনেসিসঃ

নাক দিয়ে ঢুকে সিস্টেমিকভাবে ইউরিনারী,রিপ্রডাক্টিভ এবং শ্বাসতন্ত্র আক্রমণ করে।প্রধানত প্রজনন,শ্বাসনালি ও মুত্রনালির প্রতি এ ভাইরাসের আসক্তি রয়েছে.কিডনি আক্রান্ত হলে পানি বেশি খায়,ফলে পানি পায়খানা করে।এতে লিটার ভিজে যায়।এটি মুরগির শ্বাসনালির উপরি অংশের(upper respiratory tract) একটি মারাত্মক ছোয়াচে রোগ ।এ সকল তন্ত্রের এপিথেলিয়াল কোষে আক্রমনের ১-৮ দিন পরে ভাইরাস বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়.

লক্ষণঃ

ইনকিউবেশন পিরিয়ড ১৮-৪৮ ঘন্টা যা ভাইরাসের পরিমাণ,বয়স,রুটের উপর নির্ভর করে

১।এটি প্রজননতন্ত্র,মুত্রতন্ত্র ও শ্বাসনালিকে আক্রান্ত করে.রোগের আক্রমন হঠাৎ করে হয় এবং প্রায় সকল মুরগি একসাথে আক্রান্ত হয়।শ্বাসনালির অভ্যন্তরীণ আবরণ এবং ফুসফুসের বা্যুকোষ আক্রান্ত হয় ফলে শ্বাসনালির সা সা শব্দ ও কষ্ট দেখা যায়.

বাচ্চার ক্ষেত্রে

২।হাচি,কাশি ও হ্যা করে শ্বাস নেয়.(pump handle breathing)নাক ও মুখ দিয়ে পানি  নিঃসৃত হয়,সকালে বা রাত্রে ঠান্ডায় লক্ষণ বেশি দেখা যায়.বাচ্চা তাপের দিকে চলে যায়।মর্বিডিটি ১০০% কিন্তু মর্টালিটি ভেরিয়েবল যদি অন্য রোগের আক্রমণ করে তাহলে মারা যায়।নেফ্রোজেনিক স্ট্রেইন হলে অনেক মারা যায়।

২ সপ্তাহের নিচে বাচ্চা যদি আক্রান্ত হয় তাহলে ওভিডাক্ট স্থায়ীভাবে নস্ট হয়ে যায় যা পরে ডিম পাড়ে না।

লেয়ার এবং ব্রয়লারের ক্ষেত্রে

৩. ডিম কমে যায় এবং ডিমের কালার,(লাল ডিম সাদা হয়ে যায়) আকার,আকৃতি খারাপ হয়ে যায়.ডিমের এলবুমিন পানির মত হয়ে যায় মানে কুসুম থেকে এলবুমিন আলাদা হয়ে যায়.ডিম আকাবাকা হয় এবং খোসা পাতলা হয়।ব্রয়লারে নেফ্রোজেনিক স্ট্রেইন হলে অনেক মারা যায়।

৪. খাবার কমে যায় ফলে ওজন কমে যায়.

৫. সাথে অন্য জটিলতা দেখা যায় যেমন মাইকোপ্লাজমা,ই-কলাই.রানিক্ষেত,পক্স দ্বারা আক্রান্ত হলে বেশি ক্ষতি হয় এবং পানির মত পায়খানা হয়.অনেক সময় আই বি (এন ডি,মাইকোপ্লাজ মা,আই এল টি,এ আই ই) এই রোগ গুলির সাথে কনফিউশন হতে পারে এতে টেস্ট করা লাগতে পারে।যদিও এমনিতে ডায়াগ্নোসিস করা যায়।

পোস্ট মর্টেমঃ

In young chicken : yellow Cheesy exudate in bifurcation of bronchi,causing asphyxia,preceded by severe respiratory distress.In older bird :mucus and redness in trachea,froth in airsacs.Airsac cloudy,thicked,yellow cheese like massIn severe case caseous plug at lower trachea or bronchi.

শ্বাসনালিতে প্রচুর শ্লেষ্মা,মৃধু রক্তক্ষরণ দেখা দেয়.Serous,hemorrhagic,catarrhal or caseous exudate in Trachea.শ্বাসনালির নিচের অংশে পনিরের মত সাদা পদার্থ (caseous plaque) জমা হয়.বায়ুথলি সাদা ঘোলাটে আবরণ দ্বারা আবৃত হয়.পাকস্থলির উপরের পর্দায়  (peritonitis) প্রদাহ দেখা যায়।ফুসফুস জমাটবদ্ধ (consolidate) হলে তা পানিতে ছাড়লে ডুবে যাবে.অস্বাভাবিক আকারের ওভারিয়ান ফলিকল বা ডিমের কুসুম দেখা যাবে.ওভিডাক্টের মিডল অংশ বেশি আক্রান্ত হয়,সিস্ট হয়,ইন্টার্নাল লেয়ার হয়।কিডনি আক্রান্ত হলে ইউরেট জমে কিডনি ফুলে যায় (kidney swollen,pale,distended tubules are white with urates.)ট্রাকিয়া যে স্থানে দুইভাগে ভাগ হয় সেখানে হলুদ পনিরের মত জমাট পদার্থ লেগে থাকে যা এ রোগের নির্দেশক।

কিভাবে ছড়ায়ঃ

আক্রান্ত মুরগির ফিসিস এবং নেজাল সিক্রেশন দিয়ে ছড়ায়।

১. বাতাসের মাধ্যমে ২. আক্রান্ত মুরগি
৩ লিটার,খাদ্য,পানি ৪.বন্য পাখি

প্রতিরোধঃ

এটি দমন করা কঠিন কারণ অনেক স্ট্রেইন আছে এবং তাদের মধ্যে মিউটেশন ঘটে এবং ক্রস প্রটেকশন দেয় না.১ম টিকা চোখে এবং দ্বিতীয় টিকা স্প্রে করা ভাল কিন্তু বাংলাদেশে তেমন  প্রচলিত নয় সি পি তে করে।
প্রথম টিকা লো পেথোজেনিক এবং দ্বিতীয় টিকা হাইপেথোজেনিক স্ট্রেইন দিয়ে দেয়া উচিত.প্রাথমিক এবং বুস্টার ভ্যাক্সিনেশনের জন্য একই টিকা ব্যবহার করা সঠিক নয় কা্রণ এতে পর্যাপ্ত পরিমানে এন্টিজেনের বিভিন্নতা না থাকায় মাঠ পর্যায়ে উচ্চ মাত্রায় ক্রস প্রটেকশন প্রদান করতে সক্ষম হবেনা.

বায়োসিকিউরিটি,পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা এবং জীবানূনাশক ব্যবস্থা ভাল হলে ভ্যাক্সিনেশন কর্ম সূচি কার্যকর হয়.

১ম দিন – ৫ম দিন আই বি + এনডি লাইভ (১দিন বয়সেও দেয়া যায় যদি ম্যাটারনাল ইমোনিটি কম থাকে) রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি হলে আই বি +এন ডির( এম এ ৫ ক্লোন ৩০ সাথে ৪/৯১ বা বি আই এল এর সাথে আই বার্ড মিক্স করে চোখে দেয়া যায়)

বা

১০-১২দিন আই বি ভ্যারিয়েন্ট(আই বি ৮৮)

৫৫-৫৬ তম দিন আই বি + এনডি লাইভ

১৬-১৮ সপ্তাহে আই বি + এনডি + ই ডি এস.কিল্ড

 রোগ নির্ণয়  পদ্ধতিঃ

লক্ষণ দেখে

পোস্ট মর্টেম

হিস্ট্রি দেখে

এইচ আই টেস্ট

এলাইজা টেস্ট

চিকিৎসা:

নিদিষ্ট কোন চিকিৎসা নেই তবে দ্বিতীয় পর্যায়ের সংক্রমন রোধ করার জন্য একটা এন্টিবায়োটিক দেয়া যায়.আই বি টিকা ডাবল ডোজে পানিতে বা চোখে ১ফোটা করে দিতে হবে.৫০% ফার্মের ক্ষেত্রে দেখা গেছে টিকা দেয়ার পর মুরগি ঠিক হয়ে যায়।

কফ দূর করার পাল্মোকেয়ার,এরোলিফ

ইমোনোস্টিমোলেটর।এডিই দেয়া যায়।প্রোটিন যুক্ত খাবার বন্ধ করে দিতে হবে যদি কিডনি আক্রান্ত হয়।

১গ্রাম খাবার লবন ১ লিটার পানিতে ১ বেলা দেয়া যায় কারণ পাতলা পায়খানায় অনেক লবণ বের হয়ে যায়।

অর্থনৈতিক গুরুত্বঃ

মুরগির ওজন কমে যায় এবং এফ সি আর বেড়ে যায়।মিক্স ইনফেকশন হলে এয়ার স্যাকোলাইটিস হয় ফলে ব্রয়লারের মাংসের মান খারাপ হয়।প্রডাকশন এবং ডিমের মান খারাপ হয়।

Please follow and like us:

About admin

Check Also

বাচ্চা মুরগিতে ১ম সপ্তাহে কেন রোগ কম হয়,২সপ্তাহের দিকে কেন বেশি হয়।

বাচ্চাতে ম্যাটার্নাল এম ডি এ নয়ে আসে যা প্রটেকশন দেয়।আবার ২ সপ্তাহে বা পরের দিকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Translate »
error: Content is protected !!